Iqraʾ _ اقرأ

Iqraʾ _ اقرأ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Iqraʾ _ اقرأ, Religious Center, Dhaka.

31st Night !!New Year !!মুসলিম কি তা পালন করতে পারে ?আমরা আয়াতগুলো মশক করে নিতে পারি, কথা গুছিয়ে নিতে পারি।এরপর নেমে পরি...
29/12/2024

31st Night !!
New Year !!
মুসলিম কি তা পালন করতে পারে ?

আমরা আয়াতগুলো মশক করে নিতে পারি, কথা গুছিয়ে নিতে পারি।
এরপর নেমে পরি দাওয়াতের ময়দানে। কোমল ভাষায়, দরদের সাথে বুঝাই।

আল্লাহর বড়ত্ব ও মৌলিক আকিদার কথাও বলি। অনেকে ফিরে আসবে, অনেকে ফিরে না আসলেও অপরাধবোধ জন্মাবে যা পরে ফিরে আসার কারণ হবে।

দাওয়াতের এই স্পেসকে কাজে লাগাই।
একটা গুণাহ থেকে ফিরে আসা অনেকের জন্য দ্বীনের পথে ফিরে আসার মাধ্যম হয়ে যাবে
ইন শা আল্লাহ।
courtesy - Youth Intifada Muhammadpur

25/10/2024

নূহ আ.
গত পর্বের পর...

আমি তোমার সম্প্রদায়ের লোকদের এক মহাপ্লাবনে ভাসাবো। এই প্লাবনে পুরো পৃথিবী প্লাবিত হবে৷ তারা কোথাও আশ্রয় পাবেনা। সেই প্লাবন থেকে বাঁচার জন্য তুমি আমার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী একটা নৌকা বানাবে। তবে এই নৌকার ব্যাপারে তুমি কাফেরদের কিছু বলবেনা, আমি তাদেরকে মহাপ্লাবনে হাবুডুবু খাওয়াবো।
..

আমি যখন তোমাকে আদেশ দিব, সমুদ্র যখন উত্তাল হবে, তখন তুমি গাছপালা, পশুপাখি থেকে একজোড়া করে নৌকায় তুলে নিও, যারা পানিতে বাঁচতে পারবেনা।
..
প্লাবনের পর এরা পৃথিবীতে বিচরন করবে, বংশবিস্তার করবে।
..
যারা তাওহীদের দাওয়াত অস্বীকার করেছে, তাদেরকে নৌকায় উঠাবেনা। প্লাবন যখন শুরু হবে তখন তুমি কাফেরদের ব্যাপারে আমাকে কোন সুপারিশ করো না। তাদের প্রতি কোন দয়া প্রদর্শন করো না। তারা প্লাবনে হাবুডুবু খেয়ে মরবে[১৬]।
..
আল্লাহর আদেশের পর নূহ তার অনুসারীদের নিয়ে বিশাল নৌকা বানাতে লাগলেন। সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন এই নৌকা তৈরীর কর্মযজ্ঞের সীমানা অতিক্রম করতো, তখন তারা হাসাহাসি করতো, উপহাস করতো[১৭]।
..
তারা বলতো- নূহ, এই মরুভূমিতে তোমরা কিসের নৌকা বানাচ্ছো? তোমরা বরং নৌকার সাথে একটা সাগরও বানিয়ে নাও নৌকা ভাসানোর জন্য।
..
কাফিরদের ঠাট্টা উপহাসকে উপেক্ষা করে নূহ (আ.) এবং তার অনুসারীরা নৌকা বানিয়ে ফেললো।
..
আল্লাহ নূহকে (আ.) জানিয়ে দিলেন এই প্লাবন চল্লিশ দিন স্থায়ী হবে। পুরো পৃথিবী এতে প্লাবিত হবে।
..
আল্লাহ বললেন- নূহ, তুমি এই প্লাবনের জন্য অপেক্ষা করো। তুমি যখন দেখবে চুলার ভেতর থেকে ভুদভুদ করে পানি বের হচ্ছে, তখন বুঝবে প্লাবনের সময় হয়ে গেছে[১৮]।
..
চুলা থেকে পানি বের হতে শুরু করলো। নূহ (আ.) তার অনুসারীদের নৌকায় আরোহন করতে বললেন। তিনি আল্লাহর আদেশমতো প্রত্যেক প্রাণী থেকে নারী-পুরুষ জোড়া মিলিয়ে নৌকায় উঠালেন।
..
নূহ (আ.) তার অনুসারীদের বললেন- তোমরা এতে আরোহন করো। এই নৌকা চলবে এবং থামবে আল্লাহর নামে, আল্লাহর আদেশে[১৯]।
..
আসমান থেকে বৃষ্টি নামলো। জমিন থেকে পানি বের হতে লাগলো। সমুদ্র উত্তাল হলো। মুহূর্তেই মরুভূমি, স্থলভুমিতে পাহাড়সম উত্তাল ঢেওয়ের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো। নূহের (আ.) নৌকা ভাসতে শুরু করলো।
..
নূহের (আ.) চারজন পুত্র ছিলো। হাম, সাম, ইয়াফাজ, কানান।
..
নূহের (আ.) স্ত্রী এবং তার পুত্র কানান ঈমান আনে নি, বাকী তিন পুত্র ঈমান এনেছিলো।
..
প্লাবন শুরুলগ্নে নূহ (আ.) তার পুত্রকে ডাক দিয়ে বললো- কানান, তুমি ফিরে এসো। এখনও সময় আছে, তুমি কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত থেকো না[২০]।
..
কানান ফিরে এলো না। সে বললো- আমি খুব শীঘ্রই বড়ো একটা পাহাড়ে উঠে যাব। পানি আমাকে ছুঁতে পারবেনা।
..
নূহ (আ.) বললেন- কানান, আজ তোমাকে কোন পাহাড়, কোন শক্তি বাঁচাতে পারবেনা। আল্লাহ যাদের প্রতি রহম করেছেন, আজ কেবল তারা সুরক্ষা পাবে।
..
পিতা-পূত্রের কথোপকথন চলাকালীন উত্তাল এক তরঙ্গ এসে কানানকে ভাসিয়ে নিলো। কানান অদৃশ্য হয়ে গেলো। পিতা-পুত্রের মধ্যে চুড়ান্ত পার্থক্য হয়ে গেলো। কানান প্লাবনে ভেসে কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো[২১]।
..
চল্লিশ দিন মহাপ্লাবন স্থায়ী হলো। এই চল্লিশ দিনে আল্লাহ সকল কাফির এবং তাদের সকল চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। এক চুড়ান্ত পরিসমাপ্তির পর নতুন করে শুরুর অপেক্ষা।
..
চল্লিশ দিন পর আল্লাহ আদেশ করলেন-
যমীন, তুমি তোমার পানি চুষে নাও।
আসমান, তুমি বৃষ্টিবর্ষন বন্ধ করো।
..
জমিন পানি চুষে নিলো, আসমান বৃষ্টি বর্ষন বন্ধ করলো। প্লাবনের পানি হ্রাস পেতে শুরু করলো। নূহ (আ.) এবং তার অনুসারীদের বহনকৃত নৌকা জুদি পাহাড়ে নোঙর করলো[২২]।
..
জুদি পাহাড়ের অবস্থান নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়–
১. জুদি পাহাড় ইরাকের মাওসেল নামক শহরের নিকটে অবস্থিত। নূহের (আ.) সম্প্রদায় সেই পাহাড়ের নিকট বসবাস করতো।

২. জুদি পাহাড় আর্মেনিয়ায় অবস্থিত।

৩. জুদি পাহাড়া তুরষ্কে অবস্থিত।
..
নৌকায় নূহের (আ.) তিনপুত্র ছিলো। নৌকা থেকে অবতরনের পূর্বক্ষণে পুত্রশোক নূহের (আ.) পিতৃসুলভতাকে নাড়া দিলো। তিনি আল্লাহকে বললেন- হে প্রভু, আমার পুত্র কানান। সে আমারই পরিবারভুক্ত ছিলো। তবে কাফিরদের ব্যাপারে আপনার ওয়াদা সত্য এবং আপনি সেরা বিচারক[২৩]।
..
আল্লাহ বললেন- নূহ, সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে ঈমানদার ছিলো না। তোমার পরিবারভুক্ত তো তারা হবে, যারা সৎকর্মশীল, ঈমানদার।
..
তুমি আমার কাছে এমন কোনকিছুর আবদার করোনা, যা সম্পর্কে তোমার ধারনা নেই। তুমি জ্ঞানহীন, অজ্ঞ লোকদের মতো আচরন করো না। তোমার প্রতি এটা আমার উপদেশ[২৪]।
..
নূহ (আ.) আল্লাহর উপদেশে নম্রতা প্রদর্শন করলেন। অহেতুক আবদার করা থেকে বিরত রইলেন, ক্ষমা চাইলেন[২৫]।
..
আল্লাহ বললেন- নূহ, তোমরা নৌকা থেকে জমীনে অবতরন করো। তোমার এবং তোমার অনুসারীদের জন্য আমার পক্ষ থেকে জমীনে কল্যান থাকবে[২৬]।
..
পৃথিবীতে এখন কোন কাফির নেই, মুশরিক নেই, পৌত্তলিকতা নেই। সকল মানুষ ঈমানদার। পুরো প্রজন্মই তাওহীদের প্রজন্ম।
..
হাম, সাম এবং ইয়াফাজ থেকে পৃথিবীতে নতুন করে প্রজন্মকরন শুরু হলো। নতুন সভ্যতার শুরু হলো।
..
হাম তার পরিবার নিয়ে আফ্রিকায় বসবাস শুরু করলেন। আফ্রিকায় তাদের প্রজন্ম বৃদ্ধি পেতে লাগলো।
..
সাম তার পরিবার নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এরিয়ায় বসবাস করতে শুরু করলেন। সেখানে তাদের বংশ বৃদ্ধিপেতে লাগলো।
..
ইয়াফাজ তার পরিবার নিয়ে এশিয়া মাইনরের বর্তমান চীন বা তদসংশ্লিষ্ট এরিয়ায় বসবাস করতে শুরু করলেন। সেখানে তার বংশবৃদ্ধি পেতে লাগলো।
..
আল্লাহর পক্ষ থেকে নূহের উপর আরোপিত তাওহীদের মিশন শেষ হলো। সময় হলো প্রিয় রবের সান্নিধ্যে লাভের। তিনি মৃত্যুবরন করলেন।
..
নূহকে (আ.) কোথায় দাফন করা হয়েছে, তা নিয়ে দুটি মতামত পাওয়া যায়-
১. তাকে মক্কায় দাফন করা হয়েছে।
২. তাকে লেবাননের কারক নামক এলাকায় জাবালে দ্বীর নামক পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়েছিলো।
..
চিরসুখের বাগানের দিকে যাত্রা করলেন তাওহীদের আরেকজন সীপাহসালার। একজন দৃঢ়চেতা রাসূল।

আলাইহিস সালাম।
..
শিক্ষা:
১. দাওয়াতি কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। সম্ভাব্য সকল উপায়ে দাওয়াহ দিতে হবে। নতুন পথ আবিষ্কার করতে হবে দাওয়াহ'র জন্য।

২. সময়, স্থান এবং শ্রোতার সামর্থ্য, যোগ্যতা অনুযায়ী দাওয়াহ দিতে হবে।

৩. দাওয়াহ’র কাজে কখনও হতাশ হওয়া যাবে না।

৪. যাকে দাওয়াহ দিব, তার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করতে হবে।

৫. আল্লাহর নিকট অহেতুক দোয়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর থেকে পাওয়ার আশা নিয়ে দোয়া করতে হবে। তাই অহেতুক, অগুরুত্বপূর্ণ এবং অমর্যাদাকর দোয়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র:
[১৬] সূরা মুমিনুন- ২৭
[১৭] সূরা হুদ- ৩৮
[১৮] সূরা হুদ- ৪০
[১৯] সূরা হুদ- ৪১
[২০] সূরা হুদ- ৪২
[২১] সূরা হুদ- ৪৩
[২২] সূরা হুদ- ৪৪
[২৩] সূরা হুদ- ৪৫
[২৪] সূরা হুদ- ৪৬
[২৫] সূরা হুদ- ৪৭
[২৬] সূরা হুদ- ৪৮

23/10/2024

নূহ (আ.)।
তিনি ছিলেন আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা। কুরআনে ঘোষিত দৃঢ়চেতা পাঁচজন রাসূলের মধ্যে তিনি অন্যতম। ইরাকের কূফা নগরীর নিকটবর্তী একটা শহরে আল্লাহ নূহকে (আ.) প্রেরণ করেছিলেন।
..
আদম (আ.) থেকে নূহ (আ.) পর্যন্ত প্রায় একহাজার বছর পৃথিবীতে কোন শিরক হয়নি। নূহের (আ.) যুগে প্রথম শিরকের সূচনা হয়েছিল। ইবলিশ প্রথম নূহের (আ.) সম্প্রদায়ের লোকদের দিয়ে শিরকের সূচনা করেছিল।
..
নূহের (আ.) কওমের মধ্যে পাঁচজন আল্লাহভীরু লোক ছিলো। ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক এবং নাসের।
..
ইবলিশ তাদের নিকট এসে বললো, তোমরা এসব কি ইবাদাত করছো? তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যেভাবে ইবাদাত করে নিজেদেরকে আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছিলো, সেই তুলনায় তো তোমাদের ইবাদাত কিছুই না।
..
তোমরা একটা কাজ করো। তোমাদের সেই পাঁচজন আল্লাহভীরু লোকদের মূর্তি তৈরী করে তোমাদের ইবাদাতগৃহে রাখো। এতে তোমরা ইবাদাত করার সময় তাদের দেখলে তোমাদের ইবাদাতের প্রতি স্পৃহা বাড়বে।
..
ইবলিশের এমন মুখরোচক প্ররোচনায় তারা প্রলুব্ধ হলো। তারা সেই পাঁচজন ইবাদাতগুজার লোকের মূর্তি বানিয়ে ইবাদাতগৃহে স্থাপন করলো।
..
মূর্তীকে সামনে রেখে তারা আল্লাহর ইবাদাত করতে লাগলো। অনেক সময় অতিবাহিত হলো। সময়ের প্রবাহে তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোর ইবাদাত শুরু করে দিলো, মূর্তিগুলোর নিকট মানত করতে শুরু করলো, চাওয়া-পাওয়া সব মূর্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হলো।
..
নূহের (আ.) সম্প্রদায় আল্লাহর ভয়, তাযকিয়া, তাসাউফ ভুলে গেলো। এভাবেই নূহের (আ.) যুগে শিরকের সূচনা হলো।
..
নূহ (আ.) তার সম্প্রদায়ের লোকদের সতর্ক করলেন। তিনি বললেন, তোমাদের কাজগুলো সঠিক নয়। তোমরা যা করছো, তা শিরক। তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোর ইবাদাত শুরু করে দিয়েছো। আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি, উপদেশ দিচ্ছি- তোমরা এসব থেকে ফিরে এসো।
..
সম্প্রদায়ের লোকেরা নূহকে (আ.) মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, তিরস্কার করলো। তারা পরস্পরকে বললো, তোমরা নূহের কথায় তোমাদের এই উপাস্যদের ছেড়ে দিও না। এরাই তোমাদের উপাস্য।
..
বারবার প্রত্যাখ্যাত হবার পরও নূহ (আ.) তার সম্প্রদায়ের লোকদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দেওয়া থেকে অবসর নেন নি। তিনি বললেন- হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তোমরা কি আল্লাহকে ভয় পাও না?[১]। তোমাদের এমন কাজের জন্য আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয়াবহ শাস্তির আশঙ্কা করছি [২]। তোমরা শিরক, পৌত্তলিকতা ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো।
..
কোনপ্রকার দাওয়াত নূহের (আ.) সম্প্রদায়ের লোকদের তাওহীদের পথে আনতে পারেনি। তারা নূহের (আ.) প্রতি যুক্তি উত্থাপন করে বললো- তোমার আহ্বানে আমরা কেন সাড়া দিব? আমরা তো দেখতে পাচ্ছি সমাজের নিন্মশ্রেনির লোকেরা তোমার অনুসারী। আমাদের থেকে তোমাদের কোন বিশেষ গুন, শ্রেষ্ঠত্ব তো দেখছিনা। তোমাদেরকে তো আমাদের মিথ্যাবাদী মনে হচ্ছে [৩]। তুমি মনে হয় স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছো [৪]।
..
তুমি প্রথমে তোমার আশপাশ থেকে নিন্মশ্রেনির লোকদের সরাও, তাহলে আমরা তোমাকে বিবেচনা করবো। তুমি যে এই নিন্মশ্রেনির লোকদের নিয়ে সমাজে একটা প্রভাবিত, মোহনীয় অবস্থা তৈরী করতে চাচ্ছো, তা হবে না।
..
নূহ (আ.) তার সম্প্রদায়ের বিত্তশ্রেনির লোকদের বললেন- তারা নিন্মশ্রেনির হলেও ঈমানদার। আমি তাদের তাড়াতে পারিনা। তারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দিয়েছে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। বরং আমি দেখতে পাচ্ছি তোমরা এক অজ্ঞ, নির্বোধ জাতি [৫]।
..
তোমাদের কথামতো আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দিই, তাহলে আমি আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখি হবো। তখন আমাকে কে সাহায্য করবে?
..
আমি তো নিশ্চিত বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর খাজানা বা ধনভাণ্ডার আছে। আমি কোন গায়েব জানিনা, আমি কোন ফেরেশতাও না।
..
তোমরা যাদের নিন্মশ্রেনির লোক বলছো, তাদের তাকদীর, অন্তরের খবরও আমি জানিনা। আল্লাহ তাদের কোন কল্যান দিবেন কি দিবেন না, তাও জানিনা [৬]। তবে যারা তাওহীদের পথে থাকেন, আল্লাহ তাদের পুরষ্কার দিবেন। আল্লাহ কখনও ওয়াদা ভাঙ্গ করেন না।
..
সম্প্রদায়ের লোকেরা নূহকে (আ.) এবারও হতাশ করলো। তারা বললো- তুমি তো আমাদের সাথে পাগলামি করছো[৭]। তুমি আমাদের সাথে অযথা বাদানুবাদ করছো, বিবাদ করছো[৮]।
..
তুমি তো আমাদের মতই মানুষ। রাসূল হওয়ার মতো বিশেষ কিছু তো তোমার মধ্যে দেখছিনা। আল্লাহ তার বানী প্রচার করতে চাইলে তো ফেরেশতাদের পাঠাতেন। তোমার মতো অনর্থক কথা তো আমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও বলেন নি[৯]। তাহলে কি তুমি বলতে চাচ্ছো, আমাদের পূর্বপুরুষরা সত্যের উপর ছিলেন না?
..
নূহ (আ.) তার সম্প্রদায়ের এমন একগুঁয়েমি আচরনের বিপরীতে নয়শো পঞ্চাশ বছর তাওহীদের দাওয়াত দিলেন। দীর্ঘ এই দাওয়াতী মিশনে তিনি ধৈর্য্য হারান নি, নিজ সম্প্রদায় থেকে তিরস্কার, তীর্যক প্রশ্নবান, অপমানিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পুরো জনপদের ধুলো মাড়ালেন তাওহীদের বানী প্রচারে।
..
দীর্ঘ দশ শতাব্দীর দাওয়াতে নারী-পুরুষ মিলে মাত্র আশি জন লোক নূহের (আ.) প্রতি ঈমান এনেছিলো।
..
নূহ (আ.) আল্লাহর সকাশে আরজ করলো। তিনি বললেন- আল্লাহ, আমি দিন-রাত এক করে তাদের দাওয়াত দিয়েছি। আমি তাদেরকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করি, তারা পালিয়ে বেড়ায়।
..
আমি তাদেরকে আপনার বানি শুনাই, দুআ করি, আর তারা পালিয়ে বেড়ায়। তারা আমাকে দেখলে নিজেদের লুকিয়ে ফেলে। তারা আপনার অবাধ্যতায় লিপ্ত। তারা অহংকার করে, ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে[১০]।
..
আমি তাদেরকে ব্যাক্তিকেন্দ্রিক গোপনীয় দাওয়াত দিয়েছি। প্রকাশ্য দাওয়াত দিয়েছি। বাজার, সভা, সেমিনারে দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু তারা সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
..
আমি তাদেরকে উৎসাহ প্রদান, জান্নাতের নিয়ামত, সুসংবাদ প্রদান, জাহান্নামের ভয়, আপনার সত্য ওয়াদা, আখিরাত, আপনার পুরষ্কার, আপনার কুদরতের বর্ণনা দিয়ে তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছি। কোনকিছুতেই তারা সাড়া দেয়নি। বরং তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।
..
নূহের (আ.) সম্প্রদায় তাদের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালো। তারা বললো- নূহ, অনেক হয়েছে। এবার তুমি থামো। তুমি যদি না থামো, তাহলে আমরা পাথর মেরে তোমাকে মেরে ফেলবো[১১]।
..
তুমি আমাদের সাথে অনেক তর্ক করেছো, বাড়াবাড়ি করেছো। তুমি আমাদেরকে যে আযাবের ভয় দেখাচ্ছো, পারলে সেটা দেখাও[১২]। তুমি যে ধ্বংসলীলার ভয় দেখাচ্ছো, পারলে সেটা আমাদের সামনে উপস্থাপন করো।
..
নূহ (আ.) হতাশ হলেন। যে সম্প্রদায়ের লোকদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি বিনা পারিশ্রমিকে নয়শো পঞ্চাশ বছর তাওহীদের দাওয়াত দিলেন, সে সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে হত্যার হুমকি দিলেন।
..
নূহ (আ.) আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন- আল্লাহ, আপনি আমার আর আমার সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে একটা মীমাংসা করে দিন।
..
আমাকে এবং আমার দাওয়াতে যারা সাড়া দিয়ে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আপনি তাদের রক্ষা করুন [১৩]।
..
হে প্রভু, আপনি যমীনের উপর আর কোন কাফিরকে অবশিষ্ট রাখবেন না। যদি অবশিষ্ট রাখেন, তবে তারা মুমিনদের পথভ্রষ্ট করবে, পাপাচারী, কাফিরদেরই জন্ম দিবে[১৪]।
..
হে প্রভু, আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে, আমর ঘরে যারা ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে এবং মুমিনদের আপনি ক্ষমা করুন।
..
আমার পূর্বের দশজন পূর্বপুরুষ মুমিন ছিলেন। আমার পিতার পূর্বে কোন পূর্বপুরুষ কোনরুপ কুফরী, শিরক করেন নি। এই কুফরী, শিরক আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমার সময়েই শুরু করেছে।
..
সম্প্রদায়ের প্রতি নূহের (আ.) অভিশাপ, বদদোয়া আল্লাহ কবুল করলেন। আল্লাহ নূহকে (আ.) আশ্বস্ত করলেন, তিনি এবার এটার মীমাংসা করবেন।
..
তবে তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমার নিকট যে আযাব দেখতে চেয়েছিলো, তারা তা দেখবে, উপভোগ করবে। কিন্তু বর্ণনা করার সুযোগ পাবেনা, তাদের প্রত্যাশিত আযাবই তাদের শেষ দেখা হবে।
..
আমি তোমার সম্প্রদায়ের লোকদের এক মহাপ্লাবনে ভাসাবো। এই প্লাবনে পুরো পৃথিবী প্লাবিত হবে৷ তারা কোথাও আশ্রয় পাবেনা। সেই প্লাবন থেকে বাঁচার জন্য তুমি আমার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী একটা নৌকা বানাবে। তবে এই নৌকার ব্যাপারে তুমি কাফেরদের কিছু বলবেনা, আমি তাদেরকে মহাপ্লাবনে হাবুডুবু খাওয়াবো[১৫]।
..
তথসূত্র:
[১] সূরা মূমিনুন- ২৩
[২] সূরা আরাফ- ৫৯
[৩] সূরা হুদ- ২৭
[৪] সূরা আরাফ- ৬০
[৫] সূরা হুদ- ২৯
[৬] সূরা হুদ- ৩০,৩১
[৭] সূরা মূমিনূন- ২৫
[৮] সূরা হুদ- ৩২
[৯] সূরা মুমিনুন- ২৪
[১০] সূরা নূহ- ৫-৯
[১১] সূরা শুয়ারা- ১১৬
[১২] সূরা হুদ- ৩২
[১৩] সূরা শুয়ারা- ১১৮
[১৪] সূরা নূহ- ২৬,২৭
[১৫] সূরা হুদ- ৩৭

পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার...

23/10/2024

আদম এবং হাওয়ার (আ.) এই পৃথিবীর জীবন পরিক্রমা কেমন ছিলো? পুরো পৃথিবীতে মাত্র তারা দুজন মানুষ। আশপাশে কেউ নেই, কোন স্বজন নেই, প্রতিবেশি নেই, স্থাপনা নেই, বাজার নেই, মসজিদ নেই।
..
সবকিছুই তাদের জন্য অপরিচিত। কি খাবে, কি করবে, কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে- এসবের কোন সিডিউলও নেই তাদের কাছে।
..
মানব ইতিহাসের মূল সূত্রতা তাদের সাথে। তাদেরকে দিয়েই পৃথিবীতে মানুষের উৎপত্তি, বিচরন। তাদের জীবনপদ্ধতি আমাদের থেকে কিছুটা ভিন্ন ছিলো। এক আল্লাহর ইবাদাত ছাড়া তাদের প্রধানতম দায়িত্ব ছিলো মানবসম্পদ উন্নয়ন, সন্তান জম্মদান, লালন-পালন এবং চাষাবাদ।
..
তারা যদি নতুন প্রজন্ম তৈরী না করতেন, সভ্যতা তৈরী না করতেন, চাষাবাদ না করতেন, তাহলে তো পৃথিবীতে মানবসভ্যতার সূচনা হতো না।
..
আল্লাহ তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন, কিভাবে গাছ রোপন করতে হবে, চাষাবাদ করতে হবে।
..
মূলত আদমের (আ.) উপর যেসকল সহীফাগুলো নাজিল হয়েছিলো, সেগুলোতে শরয়ী বিধানের চেয়ে পৃথিবী আবাদ করার নীতিমালা বা শিক্ষা বেশি স্থান পেয়েছিলো।
..
পৃথিবীতে আগমনের কিছু সময় পর তাদের থেকে নতুন প্রজন্ম আসতে শুরু করলো। তাদের মাধ্যমে যেসকল সন্তানরা পৃথিবীতে আসতো, তারা জমজ বা টুইন বেবি হিসেবে আসতো বেশি। একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে।
..
সর্বপ্রথম তাদের কোল আলোকিত করে পৃথিবীর প্রথম নবজাতক হিসেবে আগমন ঘটে কাবিল এবং আকলিমার। কাবিল পৃথিবীর প্রথম নবজাতক ছেলে, আকলিমা পৃথিবীর প্রথম নবজাতক মেয়ে।
..
পরের বছর তাদের গুরফাতে আরও দুজন সন্তানের আগমন ঘটে। এবার পৃথিবীতে আগমন ঘটে হাবিল এবং লাবুদা'র।
..
সে সময়ে, পৃথিবীর একদম প্রাক্কালে ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে জায়েজ ছিলো। এটা কেবল সেই বিশেষ সময়ের জন্য নির্ধারিত ছিলো। কারন, তখন মানুষ'ই ছিলো তারা কয়েকজন। সিষ্টেম টা ছিলো, এ বছর যে ছেলে জন্মগ্রহন করবে, তার বিয়ে হবে পরের বছর জন্ম নেওয়া মেয়ের সাথে। একই সাথে জন্ম নেওয়া ছেলে-মেয়ে বিয়ে করতে পারবেনা। ক্রসিং পদ্ধতিতে বিয়ে হতো।
..
স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে নির্ধারিত হলো, কাবিলের সাথে বিয়ে হবে লাবুদার, হাবিলের সাথে বিয়ে হবে আকলিমার।
..
আকলিমা এবং লাবুদার মধ্যে আকলিমা বেশি সুন্দরী ছিলো। কাবিলের জন্য নির্ধারিত হওয়া লাবুদাকে কাবিল মেনে নিতে পারেনি। সে আপত্তি জানালো এবং আদমের (আ.) কাছে দাবি পেশ করলো এই মর্মে যে, সে আকলিমাকে বিয়ে করবে। আদম (আ.) কাবিলের দাবি মানলেন না। তিনি কাবিলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, এটা আল্লাহর আদেশ।
..
আল্লাহ পৃথিবীর প্রথম মানুষদের কর্মকাণ্ড দেখলেন। আদমকে (আ.) বললেন, হাবিল এবং কাবিলকে কুরবানী করতে হবে। তাদের মধ্যে যার কুরবানী কবুল হবে, সে আকলিমাকে বিয়ে করবে।
..
তখনকার কুরবানীর সিষ্টেম ছিলো, কুরবানির পর আসমান থেকে একটা অগ্নিখন্ড এসে কুরবানী করা বস্তুকে ভস্ম করে দিবে। যে বস্তু আসমানী অগ্নিখন্ডে ভস্ম হতো, তা কবুল হয়েছে বলে বিবেচিত হতো। কুরবানির যে বস্তু আসমানী অগ্নিখন্ডে ভস্ম হতোনা, তা কবুল হতো না।
..
কাবিল একজন চাষী ছিলেন। সে এক বস্তা গম কুরবানী করলো। হাবিল মেষ/বকরি চরাতো। সে একটা বকরি কুরবানী করলো।
..
আল্লাহ শুধু তাদেরকে বললেন, তোমরা কুরবানী করো। কিন্তু কুরবানীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট করে দেননি। তাই তারা নিজেদের পেশা সংশ্লিষ্ট প্রিয় বস্তু কুরবানী করলো। কুরবানীর পর তারা অপেক্ষায় ছিলো, আসমান থেকে অগ্নিখন্ড এসে কার কুরবানী ভস্ম করে।
..
কিছুক্ষণ পর আসমান থেকে অগ্নিখন্ড এসে হাবিলের কুরবানিকৃত বকরিকে ভস্ম করলো, কাবিলের গমের স্তুপ ভস্ম করেনি। প্রমানিত হলো, হাবিলের কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হলো এবং সে আকলিমাকে বিয়ে করবে।
..
এতকিছুর পরও কাবিলের রাগ কমলোনা। সে আকলিমাকে বিয়ে করতে অনড়। সে হাবিলকে বললো, আমি তোমাকে হত্যা করবো [২৬]।
..
কাবিলের হত্যার হুমকিতে বিচলিত না হয়ে হাবিল জবাব দিলো, আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকে কুরবানী কবুল করেন। তুমি যদি আমাকে হত্যা করার জন্য তোমার হাত প্রসারিত করো, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য আমার হাত প্রসারিত করবো না। নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহকে ভয় করি। তুমি আমাকে হত্যা করলে তুমি আমার ও তোমার পাপ নিয়ে জাহান্নামের অধিবাসী হবে। আর এটিই হচ্ছে যালিমদের প্রতিদান[২৭]।
..
কাবিল হাবিলের কথায় কোন ভ্রুক্ষেপ না করে হাবিলকে হত্যা করতে উদ্বত হলো।
..
প্রতিহিংসায়, শয়তানের কুমন্ত্রণায় কাবিল হাবিলকে হত্যা করলো।
..
কাবিল এবং হাবিলের মধ্যকার এই বিবাদটিই পৃথিবীর প্রথম বিবাদ, প্রথম হত্যাকান্ড।
..
এই পৃথিবীর প্রথম হত্যাকারী কাবিল। অন্যায়ভাবে প্রথম হত্যার শিকার হাবিল।
..
কাবিল হাবিলকে হত্যা করার পর হাবিল লাশ হয়ে পড়ে রইলো। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর হাবিল আঘাতের প্রচন্ডতায়, ব্যাথায়, রক্তক্ষরনে ছটফট করতে করতে মারা গেলো।
..
হাবিলের রক্তক্ষরণ, ছটফট করা, মারা যাওয়া কাবিলের জন্য একদম নতুন বিষয় ছিলো। কাবিল বুঝতেই পারেনি হাবিলকে আঘাত করলে সে ব্যাথা পাবে, ছটফট করবে, রক্তক্ষরণ হবে, মারা যাবে।
..
মৃত্যু জিনিসটা তখন একদমই নতুন। কাবিল লক্ষ্য করলো সে তার ভাই হাবিলের সাথে একটু আগেও কথা বলেছিলো, ঝগড়া করেছিলো, সে এখন একদম নিথর, নিস্তব্ধ।
..
কাবিল হাবিলের লাশ কাঁধে নিয়ে ঘুরতে লাগলো। এই নিথর দেহ, নিস্তব্ধ হাবিলকে সে কি করবে, বুঝতে পারছিলো না।
..
কাবিলকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ দুটো কাকের অবতরন করালো কাবিলের সামনে। কাবিল দেখতে পেলো একটি কাক অন্য কাককে মেরে ফেললো। হত্যাকারী কাকটি তার ঠোঁট এবং পা দিয়ে একটা গর্ত খনন করলো। নিহত হওয়া কাককে গর্তে রেখে গর্তটি মাটি দিয়ে ভরে দিলো।
..
কাবিল কাকের কর্মকাণ্ড দেখতে পেলো। সে লজ্জিত হলো। নিজেকে প্রবোধ দিয়ে বললো, ‘আহ! আমি এই কাকটির মত হতেও অক্ষম হয়েছি যে, আমার ভাইয়ের লাশ গোপন করবো[২৮]।'
..
এটাই পৃথিবীর প্রথম কবর খনন। প্রথম কবর খননকারী কাবিল। প্রথম কবরবাসী হাবিল।
..
হাবিল হত্যাকান্ডের সময় আদম (আ.) ছিলেন মক্কায়। তিনি সেখানে কাবা নির্মান বা হজ্জের কাজে কর্মরত ছিলেন। মক্কা থেকে ফিরে ঘটনা শুনে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেলেন। তিনি কাবিলকে ভর্ৎসনা করলেন।
..
আরও কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আদম ও হাওয়ার (আ.) কোলজুড়ে আরও একজোড়া মানব-মানবীর আগমন ঘটলো। শীষ এবং হাজোরা। আদমের (আ.) পরে তার পুত্র শীষ (আ.) নবী হিসেবে মনোনীত হলেন।
..
আদম-হাওয়া (আঃ) এর মোট কতজন পুত্র- কন্যা সন্তান ছিল তা নিয়ে মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
..
তবে যে মত গুলো সর্বোত্তম তা হলোঃ ইমাম আবু জাফর ইবন জাবীর আত তাবারীর মত। তিনি তার ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আদমের (আঃ) ঔরসে হাওয়া (আঃ) ২০ বার গর্ভধারন করেছিলেন। হাওয়া (আ.) চল্লিশটি সন্তানের মা হয়েছিলেন। ইবনে ইসহাক এই বক্তব্য সমর্থন করেছিলেন।
..
অন্য বর্ণনা মতে হাওয়া (আঃ) ১২০ জোড়া সন্তানের জন্ম দেন।
..
সন্তান লালন-পালন, প্রজন্মের প্রসার, মানবসভ্যতা বিনির্মান এবং আল্লাহর দেওয়া বিধান প্রতিষ্ঠায় জীবন অতিবাহিতে আদম বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়লেন। তার নির্ধারিত এক হাজার বছর শেষ হলো। তিনি মৃত্যুবরন করলেন।
..
তাকে কোথায় কবরস্থ করা হয়েছিলো, এব্যাপারেও ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
১. তাকে মক্কায় কবরস্থ করা হয়েছিলো।
২. তাকে বায়তুল মাকদিসে কবরস্থ করা হয়েছিলো।
..
পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন প্রথম মানব, প্রথম নবী, প্রথম স্বামী, প্রথম পিতা।

আলাইহিস সালাম।
..
শিক্ষা:
১. আদমকে (আ.) আল্লাহ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী করেছিলেন। আমরা সাধারণত আমাদের মা-বাবা থেকে তৈরী হই। তাদের শুক্রানু এবং ডিম্বানু থেকে।
..
পুরুষ-নারীর এই শুক্রানু এবং ডিম্বাণু আমাদের খাবারের একটা নির্যাস বা শক্তিরস। আমাদের খাবারগুলো তৈরী হয় মাটির নির্যাস থেকে। তাই আমরা আদমের (আ.) মতো তৈরী না হলেও আমাদের সৃষ্টি প্রক্রিয়া মাটি থেকেই, মাটির নির্যাস থেকে।
..
২. সৃষ্টির জন্য ইবলিসের মতো অহংকার করা শোভনীয় নয়, এটা স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য।
..
৩. শয়তানের প্রথম মিশন হলো মানুষকে বস্ত্রহীন করা, যেমনটা আদম-হাওয়ার (আ.) ক্ষেত্রে সে করেছিলো। নগ্নতা হচ্ছে শয়তানের বড়ো ফাঁদ। পর্দা করা, সতর ঢাকা, আবৃত থাকা/রাখা মুমিনের কাজ।
..
৪. অস্থিরতা এবং লোভ/চাহিদা কমানো। শয়তান আমাদেরকে শুধু অভাব দেখায়, অস্থির রাখে।
..
৫. বিপদে, সুসময়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করা, শুকরিয়া আদায় করা।
..
৬. ভুল/গুনাহের পর অনুতপ্ত হওয়া।
..
৭. আমাদের জীবন সংগ্রামমুখর। জীবনের সুখগুলো, সুন্দর মুহুর্তগুলো অর্জন করে নিতে হয়। কোন কিছু পূর্ব থেকে তৈরী হয়ে থাকেনা।

তথ্যসূত্র:
[২৬] সূরা মায়েদা- ২৭
[২৭] সূরা মায়েদা- ২৭,২৮,২৯
[২৮] সূরা মায়েদা- ৩১

"দুনিয়ার আবেশে
আসমানের আয়োজনে"

23/10/2024

গত পর্বের পর...
আদমকে (আ.) সবাই সিজদাহ করলো, কিন্তু ইবলিশ করেনি [১০]। সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করলো।

ইবলিশ কে?......

ইবলিশ ছিলো জ্ঞানী, ইবাদাতগুজার এক সত্ত্বা। সে জ্বিন জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলো [১১]। সে অধিক সময় ইবাদাতে মশগুল থাকতো। অধিকতর ইবাদাতের কারনে আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তার সম্মান এতই বৃদ্ধি পায় যে, সে ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকার সুযোগ পায়।
..
ইবলিশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করায়
আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘হে ইবলীস, আমার দু’হাতে আমি যাকে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি নিজেকে অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করো?[১২]’
..
ইবলিশ আল্লাহর প্রশ্নে ভীত না হয়ে, বিনয়ী না হয়ে আল্লাহর সাথে যুক্তিতর্ক শুরু করে দিলো। সে বললো- ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।[১৩]’
..
আল্লাহর সাথে ইবলিশের অহমিকাপূর্ন যুক্তিতর্কের কারনে আল্লাহ ইবলিশকে মর্যাদাশূন্য করলেন, লাঞ্ছিত করলেন, বিতাড়িত করলেন। কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ ইবলিশের উপর লা'নত বর্ষন করবেন [১৪]।
..
আল্লাহ কতৃক লাঞ্ছিত হবার পর ইবলিশ আল্লাহর নিকট কিয়ামত পর্যন্ত জীবন চাইলো, অবকাশ চাইলো। আল্লাহ তাকে অবকাশ দিলেন একদম কিয়ামত দিবস পর্যন্ত [১৫]।
..
আল্লাহর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ পেয়ে ইবলিশ আল্লাহর সম্মানের প্রতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললো- যে আদমকে সিজদাহ না করার কারনে আমি আজ বিতাড়িত হলাম, সেই আদম এবং তার সন্তানদের আমি বিপথগামী করবো [১৬]। আমি তাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ থেকে বিচ্যুত করবো। তাদেরকে আমি ডানে-বামে, সামনে-পিছনে থেকে ধোঁকা দিব। আপনি তাদেরকে কৃতজ্ঞ বান্দাদের দলে পাবেন না [১৭]।
..
আল্লাহ বললেন- 'আমি যা বলি, সত্য বলি। তোমাকে এবং তোমার অনুসারীদের দিয়ে আমি জাহান্নাম পূর্ণ করবো [১৮]'
..
ইবলিশ এতই শক্তিশালী কুমন্ত্রণাদাতা, যে মানুষের রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে যেতে পারে[১৯]।
..
জান্নাতে আদম (আ.) একা বসবাস করতে লাগলেন। তার কোন সঙ্গী নেই, সাথী নেই। মানুষ হিসেবে তিনি একদমই একা। তার প্রতিটি মুহুর্ত একাকীত্বে ষোলকলা পূর্ণ ছিলো।
..
আল্লাহ তার একাকিত্ব বুঝতে পারলেন। আল্লাহ আদমের (আ.) জন্য তার বাম পাঁজরের হাড় থেকে একজন সঙ্গীনি তৈরী করলেন। তিনি এই পৃথিবীর প্রথম মানবী, বনী আদমের প্রথম মা। তিনি হচ্ছেন হাওয়া (আ.)। আল্লাহ আদম এবং হাওয়া (আ.) থেকে সমগ্র পৃথিবীর মানবমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন।
..
হাওয়া শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ 'হাই'/ 'حي' থেকে। এর অর্থ হচ্ছে- জীবন্ত, উজ্জীবিত। যেহেতু জীবিত আদম থেকে ওনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই ওনাকে হাওয়া বলা হয়। অথবা আদম (আ.) হাওয়ার সঙ্গ পেলেই উজ্জীবিত হয়ে উঠতেন, তাই তাকে হাওয়া বলা হয়।
..
আদম এবং হাওয়াকে (আ.) সৃষ্টির পর আল্লাহ তাদেরকে বললেন- ‘হে আদম, তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং তা থেকে আহার কর স্বাচ্ছন্দ্যে, তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী সময় কাটাও। কিন্তু এই গাছটির নিকটেও যাবে না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে [২০]।'
..
আল্লাহ আদম এবং হাওয়াকে জান্নাতে থাকতে দিলেন। জান্নাতে থাকার জন্য কি করতে পারবে, কি করতে পারবেনা- তাও বাতলে দিলেন। কিন্তু আল্লাহর বেঁধে দেওয়া বিধিনিষেধ আদম এবং হাওয়ার (আ.) বিচ্যুতি রোধ করতে পারেনি। ইবলিশ তার ওয়াদামতো আদমকে (আ.) পদস্খলিত করতে জান্নাতে ঢুকলো।
..
ইবলিশ জান্নাতে ঢুকে আদম-হাওয়াকে (আ.) বললেন- আল্লাহ আমাকে অনেক আগে সৃষ্টি করেছিলেন। তোমাদের সৃষ্টি করার আগে আল্লাহ আমাদের জানিয়েছিলেন, তিনি তোমাদের এই জান্নাতে রাখতে চান না। তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিবেন।
..
এই জান্নাতে যারা চিরকাল থাকবে, তারা হচ্ছে ফেরেশতাগন। তোমরা তো ফেরেশতা না, তাই তোমরা এখানে থাকতে পারবেনা।
..
তবে তোমরা ইচ্ছে করলে এখানে চিরকাল থাকতে পারবে। সেক্ষেত্রে একটা নিয়ম মানতে হবে তোমাদের। ঐ গাছের ফল খেতে হবে। তোমরা ঐ গাছের ফল খেলেই কেবল জান্নাতের চিরস্থায়ী বাসিন্দা হবে। তোমাদের কখনও পৃথিবীতে যেতে হবেনা[২১]।
..
ইবলিশের প্রতি আদম এবং হাওয়ার বিশ্বাস পাকাপোক্ত করার জন্য সে এবার কসম খেয়ে বললো- আমি তো তোমাদের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী[২২]। আমি তোমাদের কু-বুদ্বি কেন দিব?
..
ইবলিশের প্ররোচনায় আদম এবং হাওয়ার (আ.) পদস্খলন হলো। তারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা ভুলে ঐ গাছের ফল খেয়ে ফেললো। ফল খাওয়ার সাথে সাথেই তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক খসে পড়লো। তারা তড়িঘড়ি করে জান্নাতের বিভিন্ন লতাপাতা দিয়ে যতটুকু সম্ভব নিজেদের সতর ঢাকলেন। আচমকা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তারা বুঝতে পারলেন যে, তারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছেন।
..
আল্লাহ তাৎক্ষণিক তাদের উদ্দেশ্যে বললেন- আমি কি তোমাদের ঐ গাছের ফল খেতে নিষেধ করিনি? আমি কি তোমাদের বলিনি, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?[২৩]
..
আদম এবং হাওয়া (আ.) অনুতপ্ত হলেন, নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেন, আল্লাহর দরবারে নত হলেন। তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব [২৪]।
..
আল্লাহ তাদেরকে বললেন, তোমরা যেহেতু আমার আদেশ অমান্য করেছো, তোমাদের পৃথিবীতে চলে যেতে হবে। পৃথিবী তোমাদের আবাসস্থল হবে। পৃথিবীতে তোমাদের জীবনধারণের উপকরন থাকবে। তোমরা সেখানে মৃত্যুবরন করবে এবং পৃথিবীতেই তোমাদের কবরস্থ করা হবে। পৃথিবীর কবর থেকেই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে[২৫]।
..
আদম এবং হাওয়াকে (আ.) আল্লাহ পৃথিবীতে প্রেরন করলেন। তাদেরকে পৃথিবীর কোথায় প্রেরন করা হয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
..
কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, আদমকে (আ.) মক্কা এবং তায়েফের মাঝখানে 'দাহরা' নামক স্থানে প্রেরন করা হয়েছিলো।
..
অন্য একটি ঐতিহাসিক মতে, আদমকে (আ.) শ্রীলঙ্কার সৃংহাল নামক পাহাড়ে প্রেরণ করা হয়েছিলো। সেখানে আদমের (আ.) পায়ের চাপ আছে বলে ঐতিহাসিকগন মনে করেন।
..
হাওয়াকে (আ.) সৌদি আরবের জেদ্দা নগরীতে প্রেরন করা হয়েছিলো বলে মতামত রয়েছে। মূলত তাদের দুজনকেই পৃথিবীর দু'প্রান্তে প্রেরণ করা হয়েছিলো। অনেকদিন একে অপরকে খোঁজার পর তারা জাবালে রহমত তথা আরাফার ময়দানে একত্রিত হলেন।
আদম এবং হাওয়ার (আ.) এই পৃথিবীর জীবন পরিক্রমা কেমন ছিলো? পুরো পৃথিবীতে মাত্র তারা দুজন মানুষ। আশপাশে কেউ নেই, কোন স্বজন নেই, প্রতিবেশি নেই.......

তথ্যসূত্র:
[১০] সূরা সোয়াদ- ৭৪
[১১] সূরা কাহাফ- ৫০
[১২] সূরা সোয়াদ- ৭৫
[১৩] সূরা সোয়াদ- ৭৬
[১৪] সূরা সোয়াদ- ৭৭,৭৮
[১৫] সূরা সোয়াদ- ৭৯,৮০,৮১
[১৬] সূরা সোয়াদ- ৮২
[১৭] সূরা আরাফ- ১৬,১৭
[১৮] সূরা সোয়াদ- ৮৪,৮৫
[১৯] বুখারী- ৩২৮১
[২০] সূরা বাকারা- ৩৫
[২১] সূরা আরাফ- ২০
[২২] সূরা আরাফ- ২১
[২৩] সূরা আরাফ- ২২
[২৪] সূরা আরাফ- ২৩
[২৫] সূরা আরাফ- ২৪,২৫

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ইনশাআল্লাহ...

23/10/2024

আদম (আ.)।
তিনি হচ্ছেন আবুল বশার। মানবজাতির আদি পিতা। তিনি এই পৃথিবীর প্রথম মানুষ, প্রথম নবী। সমগ্র মানবজাতির মধ্য থেকে আল্লাহ তাকে প্রথম নবী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। আমরা পৃথিবীবাসী বনী আদম বা আদম সন্তান।

আল্লাহ আদমকে (আ.) সৃষ্টি করার অনেক আগে এ পৃথিবীতে জ্বীন সৃষ্টি করেছিলেন[১]। কিন্তু তারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিলো, খুনোখুনি করে পরস্পরের রক্ত প্রবাহিত করেছিলো [২]।

আল্লাহ যখন আদমকে (আ.) সৃষ্টি করবেন বলে মনস্থির করলেন, তখন তিনি তার সিদ্ধান্ত ফেরেশতাদের জানালেন। ফেরেশতারা পূর্বের পৃথিবীবাসীর কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকে জবাব দিলেন- ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।'

আল্লাহ ফেরেশতাদের কথায় ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তিনি ফেরেশতাদের বললেন- 'আমি যা জানি, তোমরা তা জানোনা [৩]। আল্লাহ আদমকে (আ.) মাটি থেকে তৈরীর জন্য মনস্থির করলেন। তিনি ফেরেশতাদের দিয়ে পৃথিবীতে যত ধরনের মাটি আছে, সকল ধরনের মাটি থেকে কিছু কিছু অংশ আনালেন।

আল্লাহ আদমকে (আ.) তিনটি ধাপে সৃষ্টি করেছিলেন-
১. আল্লাহ মাটিগুলোকে এঁটেল মাটিতে রুপ দিলেন।

২. এঁটেল মাটিতে বৃষ্টি বর্ষন করালেন এবং তা কাদামাটিতে রুপান্তর করলেন।

৩. কাদামাটিতে রোদ বা তাপ দিয়ে শুকালেন এবং তাতে রুহ দিলেন।

আল্লাহ যখন শুকনো নতুন সৃষ্টির ভিতর রুহ দিলেন, তখন প্রথম জীবিত মানুষ হিসেবে আদমের (আ.) আবির্ভাব হলো। তিনি আকৃতিতে ষাট বিগত/হাত লম্বা ছিলেন[৪]। রুহ দ্বারা জীবিত হওয়ার পর আল্লাহর আদেশমতো তিনি ফেরেশতাদের সালাম দিলেন। তিনি বললেন-
'আসসালামু আলাইকুম'
ফেরেশতারা জবাব দিলেন-
'আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ'

ফেরেশতাদের প্রতি আদমের (আ.) উচ্চারিত প্রথম বাক্যটিই আমাদের পরষ্পরের সাক্ষাতের জন্য আল্লাহ সম্ভাষন হিসেবে নির্ধারন করে দিয়েছিলেন।

আল্লাহ আদমকে (আ.) শুক্রবারে সৃষ্টি করেছিলেন, শুক্রবারে তাকে বেহেশতে প্রবেশ করালেন, শুক্রবারেই বেহেশত থেকে দুনিয়ার সফরে বের করা দেওয়া হয়েছে [৫]।

আল্লাহ আদমকে (আ.) সৃষ্টি করে সকল কিছুর নাম শিক্ষা দিয়ে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। আদমকে (আ.) উপস্থিত রেখে আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে কতগুলো জিনিস পেশ করে বললেন- 'তোমরা এগুলোর নাম বলো [৬]'

ফেরেশতারা অপারগতা প্রকাশ করলেন [৭]।

এবার আল্লাহ আদমকে (আ.) বললেন- 'হে আদম, ফেরেশতাদের এগুলোর নাম বলো। আদম (আ.) একে একে সবকিছুর নাম বললেন।

আল্লাহ ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য করে বললেন- 'আমি কি তোমাদের বলিনি, আমি আসমান ও যমীনের সকল গায়েব জানি?[৮]'

আল্লাহ ফেরেশতা এবং আদম (আ.) থেকে একটা মৌখিক পরিক্ষা নিলেন। এই পরিক্ষায় আদম (আ.) সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ হলেন। অসংখ্য ফেরেশতার সামনে তিনি সম্মানিত হলেন। ফেরেশতাদের সামনে আল্লাহর সেরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেলো। আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করলেন- 'তোমরা আদমকে (আ.) সিজদাহ করো [৯]'

আল্লাহর আদেশের সাথে সকল ফেরেশতারা আদমকে (আ.) সিজদাহ করলো। এই সিজদাহ কেমন ছিলো, তা আমরা জানিনা। আমরা সাধারণত মাটিতে মাথা স্পর্শ করে সিজদাহ দিই, পৃথিবীর মানুষেরা এভাবেই দেয়। ফেরেশতা এবং জ্বিনদের কার্যক্রম আমাদের সেন্স অনুযায়ী ভাবা সমীচীন নয়। কারন, তারা আমাদের দৃষ্টি সীমার বাহিরে। আমরা তাদের কোন কাজই দেখিনা। তাদের সম্পর্কে আমরা যতটুকু শুনি, জানি ঠিক ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।

ফেরেশতারা আদমকে (আ.) আল্লাহর উপস্থিতিতে সেভাবেই সিজদাহ করেছিলো, যেভাবে সিজদাহ করলে আল্লাহর শান ক্ষুন্ন না হয়। ফেরেশতারা আদমকে (আ.) ইবাদাতের সিজদাহ করেনি। ফেরেশেতাগন এবং আদমের (আ.) মধ্যে আল্লাহ কতৃক একটা মৌখিক পরিক্ষায় আদমের (আ.) শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হওয়ায় আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা আদমকে (আ.) একটা সম্মানসূচক সিজদাহ করেছিলো। এই সিজদাহর ঘটনা একবারই হয়েছে। ঘটনাটি আসমানে সংগঠিত হয়েছিল। এটা ইসলামের কোন বিধান হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি, কখনও সাব্যাস্ত করাও যাবেনা। কারন, ইসলামের সকল বিধান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (স.) এর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়ে গেছে।

আদমকে (আ.) সবাই সিজদাহ করলো, কিন্তু ইবলিশ করেনি [১০]। সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করলো।

ইবলিশ কে?......


তথ্যসূত্র:
[১] সূরা হিজর- ২৭
[২] সূরা বাকারা- ৩০
[৩] সূরা বাকারা- ৩০
[৪] বুখারী- ৬২২৭
[৫] রিয়াদুস সালেহীন- ১১৫৪
[৬] সূরা বাকারা- ৩১
[৭] সূরা বাকারা- ৩২
[৮] সূরা বাকারা- ৩৩
[৯] সূরা বাকারা- ৩৪
[১০] সূরা সোয়াদ- ৭৪

পরবর্তী পর্ব বৃহস্পতিবার ইনশাআল্লাহ....

#নবী_গণের_জীবন_কথা_আসমানের_আয়োজন

ইব্রাহীম (আঃ) এর বন্ধ্যা স্ত্রী মা সারা (আঃ) তার খাদেমা হাজেরাকে (আঃ) প্রাণপ্রিয় স্বামী ইবরাহীমকে (আঃ) উৎসর্গ করলেন। ইবর...
21/10/2024

ইব্রাহীম (আঃ) এর বন্ধ্যা স্ত্রী মা সারা (আঃ) তার খাদেমা হাজেরাকে (আঃ) প্রাণপ্রিয় স্বামী ইবরাহীমকে (আঃ) উৎসর্গ করলেন। ইবরাহীম (আঃ) তাকে স্ত্রীত্বে বরণ করে নিলেন।

পরে দ্বিতীয়া স্ত্রী হাজেরার (আঃ) গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন তার প্রথম সন্তান ইসমাঈল (আঃ)।
এই সময় ইবরাহীমের বয়স ছিল অন্যূন ৮৬ বছর। নিঃসন্তান পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। শুষ্ক মরুতে যেন প্রাণের জোয়ার এলো।
বস্তুত: ইসমাঈল ছিলেন নিঃসন্তান ইবরাহীমের দো‘আর ফসল। কেননা তিনি বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর নিকটে ‘নেককার সন্তান’ কামনা করেছিলেন উক্ত দো'আর মাধ্যমে!!

'



ীদের_দুআ
ীদের_দুআ_১৮

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Iqraʾ _ اقرأ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share