27/08/2026
রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং খাদিজা (রা.)-এর দাম্পত্য ছিল বিশ্বাস, মমতা এবং চরম ত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য। মানুষের জীবনের কঠিনতম সময়ে একজন জীবনসঙ্গী কতটা বড় শক্তি হতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ তারা দুজনেই।
নবুয়তের সেই শুরুর দিনগুলোতে যখন রাসুল (সা.) হেরা গুহায় প্রথম ওহি লাভের পর প্রচণ্ড কাঁপছিলেন এবং ভয় পাচ্ছিলেন, তখন তিনি কোনো বন্ধুর কাছে না গিয়ে সরাসরি ছুটে গিয়েছিলেন তার প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজার কাছে। খাদিজা (রা.) কোনো প্রশ্ন না করেই তাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন এবং আশ্বস্ত করেছিলেন যে, একজন পরোপকারী ও সৎ মানুষকে আল্লাহ কখনো বিপদে ফেলেন না। ইতিহাসের সেই সন্ধিক্ষণে তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি রাসুল (সা.)-এর নবুয়তের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
খাদিজা (রা.) মক্কার সবচেয়ে ধনাঢ্য এবং মহীয়সী নারী হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের প্রসারে নিজের সমস্ত সুখ-শান্তি এবং সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। কুরাইশরা যখন মুসলিমদেরকে 'শেবে আবি তালিবে' তিন বছরের জন্য অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তখন এই বৃদ্ধ বয়সেও তিনি তপ্ত মরুভূমিতে গাছের পাতা খেয়ে জীবন পার করেছেন, কিন্তু রাসুল (সা.)-এর পাশ থেকে সরে যাননি।
তার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগের কারণে রাসূল (সা.) তাকে সারাজীবন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতেন। তিনি বলতেন, যখন মানুষ তাকে অস্বীকার করেছিল, তখন খাদিজাই তাকে বিশ্বাস করেছিলেন এবং যখন কেউ পাশে ছিল না, তখন খাদিজাই তার হাত শক্ত করে ধরেছিলেন।
এই অভাবনীয় ত্যাগের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তাআলা খাদিজা (রা.)-কে বিরল সম্মান দান করেছিলেন। একবার জিবরাঈল (আ.) রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জানালেন যে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা খাদিজাকে সালাম পাঠিয়েছেন।
একইসাথে তাকে জান্নাতে এমন একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেওয়া হয়, যা হবে খাঁটি মুক্তা দিয়ে তৈরি এবং যেখানে কোনো শোরগোল বা ক্লান্তি তাকে স্পর্শ করবে না। দুনিয়াতে ইসলামের জন্য তিনি যে অস্থিরতা ও ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, আল্লাহ তার বদলে তাকে দান করেছেন চিরস্থায়ী প্রশান্তি।
#জান্নাতের_সুসংবাদপ্রাপ্ত_নারী_সাহাবিদের_জীবনকথা