10/03/2026
৩০০ কোটি বা তার বেশি নেকি অর্জনের জন্য মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী। হাদিস অনুযায়ী, “আল্লাহুম্মাগফির লিল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাত” (اللَّهُمَّ اغفِر لِلمُؤمِنِينَ وَالمُؤمِنَاتِ) দোয়াটি একবার পাঠ করলে পৃথিবীর সমস্ত মুমিনদের সংখ্যার সমান নেকি পাওয়া যায় [১, ৩]।
দোয়া ও অর্থ:
দোয়া: اللَّهُمَّ اغفِر لِلمُؤمِنِينَ وَالمُؤمِنَاتِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লিল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাত।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন।"
ফজিলত:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মুমিনদের সংখ্যার সমান (অর্থাৎ কয়েকশ কোটি) নেকি দান করেন [১, ৩]।
এটি প্রতিদিন খুব অল্প সময়েই আমল করা সম্ভব।
এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ে অজস্র নেকি অর্জনের সুযোগ নেওয়া উচিত।
যে দোয়া ১০০ বার পড়লে তার চেয়ে বেশি সওয়াব সারাদিনে কেউ লাভ করতে পারবে না।
দোয়াটি হলো—لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (বুখারি: ৩২৯৩)
আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার উল্লেখিত দোয়াটি পড়বে, তার ১০টি গোলাম আজাদ করার সওয়াব হবে। তার জন্য ১০০ পুণ্য লেখা হবে এবং ১০০ গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে রক্ষিত থাকবে। কোনো মানুষ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে তার চেয়ে এই আমল বেশি পরিমাণে করবে।’ (বুখারি: ৩২৯৩)
, ‘যে ব্যক্তি সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে ১০০ বার বলবে ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ এবং সন্ধ্যায় উপনীত হয়েও অনুরূপ বলবে, সৃষ্টিকুলের কেউ তার সমপরিমাণ মর্যাদা ও সাওয়াব অর্জন করতে পারবে না। (আবু দাউদ ৫০৯১)
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ পড়া আমার কাছে সেসব বিষয়ের চেয়ে বেশি প্রিয়, যার ওপর সূর্য উদিত হয়েছে (দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছু থেকে বেশি প্রিয়)। (মুসলিম ৬৭৪০)
লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারি-কা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহইয়ু ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া হাইয়ু লা- ইউমিতু বি-ইয়াদিহিল খাইরু কুল্লুহু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার নিকৃষ্ট স্থান বাজারে প্রবেশের সময় উল্লেখিত দোয়াটি পড়ে গোনাহের পরিবর্তে অনেক ছাওয়াব লাভ এবং গোনাহমুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
যে ব্যক্তি নিজে ইবাদত করে এবং অন্যকে ইবাদতে সাহায্য বা উৎসাহিত করে, সে ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও কল্যাণকামী (দাঈ) [১১]। এমন ব্যক্তি নবী-রাসূলগণের সুন্নাত অনুসরণ করেন এবং সমাজকে ভালো কাজের দিকে পরিচালিত করেন, যা আল্লাহর কাছে উত্তম [১১]। কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী, নিজে আমল করে অন্যকে নসিহত করা বা ইবাদতে সাহায্য করা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য [১১, ১৪]।
নবীজির বিশেষ দোয়া: রাসূল (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ সেই ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল (মর্যাদাপূর্ণ) রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, তা মুখস্থ রেখেছে এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে" [১.৪.২]।
অব্যাহত সওয়াব (সাদাকায়ে জারিয়া): যদি কেউ কোনো ভালো জ্ঞান বা হাদিস প্রচার করে এবং তা শুনে কেউ আমল করে, তবে প্রচারকারী ব্যক্তি আমলকারীর সমান সওয়াব পাবেন । এমনকি মৃত্যুর পরেও এই সওয়াব জারি থাকে,
তবে হাদিস প্রচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—যে তথ্যটি পৌঁছানো হচ্ছে সেটি সঠিক কি না তা নিশ্চিত হওয়া.
যে ব্যক্তি কাউকে ভালো কাজের পথ দেখায়, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পায়। নিজে ইবাদত করুন এবং অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিন যাতে রহমতের এই রাতে সকলে আল্লাহ রহমত ও বরকতে নিজেরকে পূর্ণবান ঈমানদার বান্দা হিসেবে তৈরি করতে পারেন।
আল্লাহ আপনাদের সকলের মনের সকল নেক ইচ্ছা পূরণ করে দিক সকল সমস্যা দূর করে দিক এবং দুনিয়া আখেরাত উভয় স্থানে সম্মান মর্যাদা বৃদ্ধি করে ক্ষমা করে দিক। জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক আমিন।