03/04/2026
হাম রোগ থেকে সন্তানকে বাঁচাতে সকাল-বিকাল এই দোয়াটি পড়ে ফুঁ দেওয়ার আমল।
বিশেষ করে হাম (measles) রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় অনেক ইসলামিক স্কলার, হাফেজ ও মাওলানা (যেমন হাফেজ, মাওলানা, মুফতি ) এই দোয়াটি সন্তানদের জন্য সকাল-বিকাল পড়ে ফুঁ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এটি নবীজি ﷺ-এর শেখানো একটি দোয়া, যা সকল ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে হেফাজতের জন্য।
➡️ দোয়াটির পূর্ণাঙ্গ রূপ:
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহিল লাজী লা য়াদুররু মা‘আ ইসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়া হুয়াস সামী‘উল আলীম।
বাংলা অর্থ:
“আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যাঁর নামের সঙ্গে পৃথিবীতে বা আসমানে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।”
➡️ কীভাবে পড়বেন (বিস্তারিত নিয়ম):
১। সময়: প্রতিদিন সকাল (ফজরের নামাজের পর) এবং বিকাল (আসর বা মাগরিবের নামাজের পর)।
২। কতবার: প্রতিবার ৩ বার করে পড়ুন।
৩। পদ্ধতি:
▪️দোয়াটি পড়ার পর আপনার সন্তানের মাথা, বুক বা সম্পূর্ণ শরীরের দিকে ফুঁ দিন (হালকা করে নিঃশ্বাস ছেড়ে ফুঁ দিন)।
▪️ফজরের পর ৩ বার + বিকালের নামাজের পর আবার ৩ বার।
৪। অতিরিক্ত আমল (অনেকে করেন): কিছু স্কলার বলেন, এই দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সন্তানকে খাওয়াতে পারেন, তবে মূল আমল হলো সরাসরি শরীরে ফুঁ দেওয়া।
➡️ এই দোয়ার গুরুত্ব ও হাদিসের ভিত্তি:
এটি নবীজি ﷺ-এর শেখানো দোয়া। হাদিসে এসেছে যে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দোয়া ৩ বার করে পড়বে, আল্লাহ তাকে সকল প্রকার ক্ষতি, বিপদ ও রোগ-ব্যাধি থেকে হেফাজত করবেন (ইনশাআল্লাহ)। এটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য হাম, জ্বর, সংক্রামক রোগ ইত্যাদি থেকে সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।
➡️ গুরুত্বপূর্ণ নোট:
▪️এই আমল আল্লাহর উপর ভরসা ও দোয়ার অংশ। ইসলামে দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি। হাম রোগ হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন, টিকা দিন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ান।
▪️শুধু দোয়া নয়, সন্তানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
এই আমল করলে আল্লাহ যেন আপনার সন্তানকে হেফাজতে রাখেন — আমিন।
✅ চিকিৎসা :
অনেক অভিভাবক সকাল-বিকাল সন্তানকে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে সুরক্ষা চান। এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানসিক শান্তির অংশ। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে দোয়া হাম রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে না। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা টিকা ছাড়া আটকানো যায় না।
➡️ হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়
▪️টিকা (MR/MMR টিকা): বাংলাদেশে EPI কর্মসূচিতে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। দুই ডোজ টিকা প্রায় ৯৭% সুরক্ষা দেয়।
▪️যদি আপনার সন্তান এখনো টিকা না নিয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যান। বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ বেড়েছে, তাই টিকা না নেওয়া শিশুরা ঝুঁকিতে।
➡️ হাম হলে চিকিৎসা কী? (সম্পূর্ণ সাপোর্টিভ চিকিৎসা)
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসা মূলত লক্ষণ কমানো, জটিলতা এড়ানো এবং শিশুর শরীরকে সাহায্য করার উপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
➡️ বাড়িতে যা করবেন (চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসারে):
▪️পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শিশুকে আলাদা ঘরে রাখুন, অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখুন (কমপক্ষে ৪ দিন র্যাশ বের হওয়ার পর পর্যন্ত)।
▪️তরল খাবার: প্রচুর পানি, ফলের রস, স্যুপ, ডাবের পানি। ডিহাইড্রেশন এড়াতে জরুরি।
▪️জ্বর কমানো: প্যারাসিটামল (ডোজ বয়স ও ওজন অনুসারে চিকিৎসকের পরামর্শে)। অ্যাসপিরিন দেবেন না।
➡️ ভিটামিন এ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সুপারিশ করে—হামে আক্রান্ত সব শিশুকে ২ দিন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হয় (বয়স অনুসারে ডোজ):
▪️৬ মাসের নিচে: ৫০,০০০ IU
▪️৬-১১ মাস: ১০০,০০০ IU
▪️১২ মাসের উপরে: ২০০,০০০ IU
চোখের সমস্যা থাকলে ১৪ দিন পর আরেকটি ডোজ। এটি জটিলতা কমায় এবং মৃ'ত্যুর ঝুঁকি কমায়।
▪️পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার (গাজর, পালংশাক, মিষ্টি আলু) এবং সুষম খাবার দিন। বুকের দুধ চালিয়ে যান।
▪️চোখ ও নাকের যত্ন: চোখে আলো কমিয়ে রাখুন, পরিষ্কার রাখুন।
➡️ হাসপাতালে নেওয়ার লক্ষণ (দেরি করবেন না):
▪️শ্বাসকষ্ট, বুকে শব্দ, নিউমোনিয়া
▪️বারবার বমি, ডায়রিয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
▪️খিঁচুনি, চোখ ঘোলা বা দেখতে অসুবিধা
▪️খুব দুর্বল হয়ে পড়া
এসব ক্ষেত্রে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হয়।
➡️ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
▪️হাম হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
▪️সবসময় শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না।
▪️আপনার সন্তানের টিকার কার্ড চেক করুন এবং আশপাশের শিশুদেরও টিকা দিন।
▪️যেকোনো লক্ষণ দেখলে তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখান। সুস্থ থাকুন!