Deen Islam

Deen Islam I AM A MUSLIM

15/10/2025

গাজায় শহীদ সালেহ আল জাফারাওউই(রহি) সু - মধুর কোরআন তেলওয়াত

31/08/2025

★ আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত (মক্কা, জেদ্দা)
আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি (OIC) তাদের বিভিন্ন সেশনে স্পষ্ট করেছে:

ডাক্তার যদি ঔষধ কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন, সুবিধা বা উপহার গ্রহণ করে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন, এটি রিশওয়া (ঘুষ) এবং হারাম।

কারণ এতে রোগীর উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং চিকিৎসা পেশার আমানত নষ্ট হয়।
(সূত্র: مجمع الفقه الإسلامي الدولي، قرار رقم 10/6/2)

★ দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত) এর ফতোয়া
প্রশ্ন: ডাক্তাররা কোম্পানি থেকে কমিশন খাওয়া কি জায়েজ?
উত্তর:
এটি জায়েজ নয়। এটি রোগীর প্রতি খিয়ানত ও ঘুষ। চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর হিতের জন্য প্রেসক্রিপশন দেওয়া, কমিশনের জন্য নয়।”
(ফতোয়া নং: ۳۸۷۳۵، Darul Ifta, Darul Uloom Deoband)

★আল-আজহার শরীয়াহ্‌ রিসার্চ একাডেমি (মিশর)
আল-আজহার মুফতিয়াত থেকে একাধিক ফতোয়ায় বলা হয়েছে:
“الأموال التي يأخذها الطبيب من شركات الأدوية مقابل وصف أدويتهم هي من الرشوة المحرمة شرعاً”
অর্থাৎ: ডাক্তার যদি কোম্পানির ওষুধ লিখে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেন, এটি শরীয়তে হারাম ঘুষ।

★পাকিস্তান জামিয়াতুল উলূম ইসলামিয়া (বান্নুরি টাউন, করাচি)
ফতোয়া:
ঔষধ কোম্পানির কমিশন গ্রহণ হারাম উপার্জন।
ডাক্তার কেবল রোগীর মঙ্গলের কথা ভেবে ওষুধ লিখবেন, কোনো প্রকার লোভ বা কমিশনের ভিত্তিতে নয়।
(ফতোয়া: دارالافتاء جامعہ العلوم الاسلامیہ کراچی)
সারসংক্ষেপঃ
আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি, দারুল উলুম দেওবন্দ, আল-আজহার এবং পাকিস্তানের বড় বড় দারুল ইফতা—সবাই একবাক্যে বলেছেন:
কোম্পানি থেকে কমিশন নিয়ে ডাক্তারি করা শরীয়তে হারাম, এটি রিশওয়া ও খিয়ানত।
- আহমাদ শাওকি আফিফি

10/05/2025

শেষ জামানার একটা নিদর্শন হলো রিদ্দা বা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়া মহামারি আকার ধারণ করবে। মানুষ জানতেও পারবে না সে আর মুসলিম নেই, অথচ সে নিজেকে মুসলিম দাবি করবে। আমাদের চারপাশেই এরা ঘুরবে, ফিরবে, একই টেবিলে বসে খাবে, আমাদের মেয়ে, বোনেদের সাথে এদের বিয়ে হবে, অথচ এরা মুসলিম নয়।

আবু মূসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন :

“নিশ্চয় তোমাদের পরবর্তী যুগে ফিতনা হবে গভীর অন্ধকার রাতের ন্যায়। মানুষ সে সময় সকালে মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, সকালে কাফির হয়ে যাবে।”

[মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবাহ : ১৩/৩৮৫, যুহদ লি ইমাম আহমাদ : ১৯৯ ]

এজন্য আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারবার এই দুআটা করতেন, “ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুব সাব্বিত ক্বালবি আ'লা দ্বীনিক- হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর অটল রাখো।”

আল্লাহ যেন এই ফিতনার জামানায়, আমাদেরকে মুরতাদের মিছিলে শামিল হওয়া থেকে হিফাযত করেন। দিনশেষে যে ঈমানটুকু হারিয়ে গেলে, সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যাবে, সেই ঈমানটুকু নিয়ে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার তাওফিক দেন। আমীন।

বই : যে জীবন ফড়িঙের, যে জীবন জোনাকির।

#সীরাহ

17/04/2025

পাঁচ দুর্ভাগা নারী: আমার প্রিয় ইসলামি বোনদের জন্য এক সতর্কবার্তা

প্রিয় ইসলামি বোনেরা, হযরত মাওলা আলী (রাঃ) বলেছেন:
“কিছু ধরণের নারীর নিকটবর্তী হয়ো না, কেননা তারা আল্লাহর অভিশপ্ত। আর যারা তাদের সংস্পর্শে আসে, তারাও অভিশপ্ত হয়।”
তুমি নিজেকে প্রশ্ন করো: তুমি কেমন নারী? তোমার ইবাদত কি শুধুই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে? তোমার আমল কি তোমার ঈমানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?

আসো, আমরা সেই পাঁচ দুর্ভাগা নারীর কথা স্মরণ করি যারা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, এমনকি তাহাজ্জুদের সালাতেও দাঁড়ায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তাদের ইবাদত আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। কেন? কারণ তারা পাঁচটি গুরুতর পাপে লিপ্ত থাকে, যা তাদের সেজদাকে অর্থহীন করে তোলে এবং আল্লাহর রহমত থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেয়।

---

প্রথম নারী: যে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখে না
হযরত আলী (রাঃ) বলেন:
“পবিত্রতা হল আল্লাহর দরবারে প্রবেশের প্রথম দরজা।”
যে নারী নিজের কাপড়, দেহ ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখে না, তার নামাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। বাহ্যিকভাবে সে যতই সুন্দর হোক না কেন, যদি অন্তর অপবিত্র থাকে, তাহলে তার দোয়া ও সেজদা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায় এবং তা ফেরত দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় নারী: যে স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাইরে যায়
হযরত আলী (রাঃ) বলেন:
“যে নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হয়, তার সাথে বিবাহ করো না; সে আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশপ্ত।”
আজকাল অনেক নারী নিজেকে স্বাধীনতা ও শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে, অথচ শরীয়তের সীমারেখা লঙ্ঘন করে। যখন সে অহেতুক বাইরে যায়, তখন জমিন কাঁদে, ফেরেশতারা অভিশাপ দেয় এবং আসমান তার দোয়া ফিরিয়ে দেয়।

তৃতীয় নারী: যার জিহ্বা দুষিত
এই নারী অন্যদের নিন্দা করে, গীবত করে, হিংসা রাখে অথচ নিজেকে ধার্মিক মনে করে। তার ইবাদত পরিমাণে যতই হোক না কেন, তার কলুষিত ভাষার কারণে আল্লাহর দরবারে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-কে বলেছিলেন:
“তার জিহ্বা মানুষকে কষ্ট দেয়, তাই আমি তার দোয়া গ্রহণ করি না।”
একটি অপবিত্র জিহ্বা বহু বছরের ইবাদতকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

চতুর্থ নারী: যে তার পিতামাতার অবাধ্য
আল্লাহ বলেন:
“তোমার পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা ইসরা: ২৩)
যে নারী তার মা-বাবাকে বোঝা মনে করে, তাদের সেবাকে বিরক্তির সাথে করে বা অবজ্ঞা করে—সে নিজেই আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। হযরত আলী (রাঃ) বলেন:
“যে নারী তার পিতামাতার সম্মান করে না, তার সাথে বিবাহ করো না; কারণ সে তার স্বামীকেও সম্মান করবে না।”

পঞ্চম নারী: যে দ্বিমুখী জীবন যাপন করে
এই নারী বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় আচরণে নিজেকে মেলে ধরলেও, তার অন্তরে থাকে অহংকার, হিংসা ও কপটতা। তার ইবাদত মানুষ দেখার জন্য হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়। সে মানুষের প্রশংসায় খুশি হয়, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে উপেক্ষা করে। এমন নারী সমাজে ধর্মের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং একটি ভ্রান্ত প্রতিচ্ছবি।

তওবার কাহিনী: আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না
একবার হযরত মূসা (আঃ)-এর সময় এক ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। সবাই মিলে নামাজ আদায় করে, কিন্তু বৃষ্টি আসে না। আল্লাহ বলেন:
“তোমাদের মধ্যে এক পাপী নারী রয়েছে। যতক্ষণ সে তওবা না করবে, আমি বৃষ্টি দেব না।”
যে মুহূর্তে সেই নারী অন্তর দিয়ে লজ্জিত হয়ে তওবা করে, আল্লাহ সাথে সাথে বৃষ্টি দেন।

মূসা (আঃ) জানতে চান, কে সেই নারী?
আল্লাহ বলেন:
“হে মূসা, আমি ‘সাত্তার’। যেমন আমি তার পাপ গোপন রেখেছি, তেমনি তার তওবাও গোপনে কবুল করেছি।”

প্রিয় বোনেরা, যদি তোমার জীবনে শারীরিক বা আত্মিক অপবিত্রতা এসে থাকে, তবে এখনই ফিরে এসো। আল্লাহর দরজা এখনও খোলা আছে। তবে বারবার এই সুযোগ সবাই পায় না।

27/03/2025
04/09/2024

পরকিয়া করেছে তো কি হইছে? একজন নারীকে এভাবে মারা ঠিক হয়নি??

“যদি আমি আমার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে দেখি, তাহলে তরবারি দ্বারা তার শিরশ্ছেদ করে ফেলবো।”
- সাদ বিন উবাদা (রা.)
এ কথা রসূল (সাঃ) এর কাছে পৌছলে তিনি বললেন,
“তোমরা কি সা'দের গায়রত দেখে আশ্চর্যবোধ করছ? আল্লাহ্‌'র কসম, আমি ওর থেকেও বেশী গায়রতবান এবং আল্লাহ্‌ আমার থেকেও বেশী গায়রতবান। আর এ জন্যই তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য সকল অশ্লীলতাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ”
- | সহীহ বুখারী, হাদীস-৭৪১৬ |

গায়রত কী?
সাহাবীরা তাদের স্ত্রী'র নাম পর্যন্ত পরপুরুষকে বলতো না।
এটাই গায়রত।
একজন গায়রতহীন পুরুষ বড়ই ভয়ংকর।
এখনকার সময়ের পুরুষদের গায়রত থাকবে তো দূর, তারা তাদের স্ত্রীর বেপর্দা ছবি ফেসবুকে আপলোড দেয়!!
আল্লাহুম্মাগফিরলী..!

ঘটনা ১
একদিন এক ব্যাক্তি আলি ইবনু আবি তালিব (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন তার স্ত্রী কেমন আছে?
তিনি উত্তর দিলেন:
" যদি তোমার রক্ত হালাল হতো,তাহলে আমি তরবারি দিয়ে তোমার মাথা কেটে ফেলতাম।"
[ ইবনে কাসীর,আল- বিদায়া ওয়ান- নিহায়া]

ঘটনা ২
মক্কার এক মুশরিক তার উটকে জবেহ
করে দিচ্ছিলো। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি উট টি জবেহ কেন করলেন?
আপনার টাকার প্রয়োজন হলেত বিক্রি করে দিতে পারতেন।
তখন লোকটি বললো,
এই উটের উপর আমার মহিলারা বসতো, বিক্রি করে দিলে এই উটের উপর অন্যপুরুষ বসবে এটা আমার সহ্য হবে না,
তাই এই উটই আমি রাখবো না।
একজন মুশরিক হওয়া সত্বেও তার কত গায়রত!!!
আর আমাদের ভাই- বোনদের কি দশা??
আস্তাগফিরুল্লাহ্

গায়রতহীন পুরুষরা সবাই দাইয়ুজ। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তারা জান্নাত তো পাবেই না, জান্নাতের গন্ধও পাবে না।

وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ ﴿۲۰﴾
আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।
(সুরা হাদীদ-২০)

এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে!
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?
(সূরা ফাজর,আয়াত-২০)
স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বন্ধুদের সাথে হাসি তামাসা আড্ডায় ব্যস্ত থাকে!!
বউয়ের চুল দেখা যাবে তাতে কষ্ট পাবে তো দূর, বিয়ের সময় বন্ধুকে নিজের বউকে দেখিয়ে পরে আবার শোনে, মেয়েটা কেমন রে!!
বন্ধুদের চোখের খোরাক বানিয়ে তারপর সে বিয়ে করে!
আর এটাই নাকি এখনকার ভদ্র সমাজের ট্রেন্ড!

আল্লাহুম্মাগফিরলী
আর এখনকার পুরুষদের গায়রত থাকবে তো দূরের কথা,,,
অনেকে গায়রত কি সেটাও জানেনা
হায় আফসোস!

--সংগৃহীত

15/08/2024

#কুরআন_কারীমের_১১৪_সূরা_অর্থসহ
(যা সবারই জানা উচিৎ)
১। আল- ফাতিহা (সূচনা)
২। আল-বাক্বারা (বাছুর)
৩। আলি-’ইমরান (ইমরানের পরিবার)
৪। আন নিসা (নারী)
৫। আল-মায়িদাহ (খাদ্য পরিবেশিত টেবিল)
৬। আল-আন’আম (গৃহপালিত পশু)
৭। আল-আ’রাফ (উঁচু স্থানসমূহ)
৮। আল-আনফাল (যুদ্ধে-লব্ধ ধনসম্পদ)
৯। আত-তাওবাহ (অনুশোচনা)
১০। ইউনুস (নাবী ইউনুস আঃ)

১১। হুদ (নাবী হুদ আঃ)
১২। ইউসুফ (নাবী ইউসুফ আঃ)
১৩। আর-র‘দ (বজ্রনাদ)
১৪। ইবরাহীম (নাবী ইবরাহীম আঃ)
১৫। আল-হিজর (পাথুরে পাহাড়)
১৬। আন-নাহল (মৌমাছি)
১৭। বানী ইসরাঈল (ইসরাঈলের বংশধর)
১৮। আল-কাহফ (গুহা)
১৯। মারইয়াম (নবী ঈসা (আঃ) এর মা)
২০। ত্ব-হা (ত্ব-হা)

২১। আল-আম্বিয়া (নবীগণ)
২২। আল-হাজ্ব (হজ্ব)
২৩। আল-মু‘মিনুন (মুমিনগণ)
২৪। আন-নূর (আলো)
২৫। আল-ফুরকান (সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণকারী গ্রম্থ)
২৬। আশ-শু'আরা (কবিগণ)
২৭। আন-নামল (পিপীলিকা)
২৮। আল-কাসাস (কাহিনী)
২৯। আল-আনকাবুত (মাকড়সা)
৩০। আর-রূম (রোমান জাতি)

৩১। লুক্বমান (একজন জ্ঞানী ব্যাক্তি)
৩২। আস-সাজদাহ (সিজদা)
৩৩। আল-আহযাব (জোট)
৩৪। আস-সাবা (রানী সাবা/শেবা)
৩৫। আল-ফাতির (আদি স্রষ্টা)
৩৬। ইয়া সীন (ইয়া সীন)
৩৭। আস-স--ফফাত (সারিবদ্ধভাবে দাড়ানো)
৩৮। স-দ (আরবি বর্ণ)
৩৯। আয-যুমার (দল-বদ্ধ জনতা)
৪০। আল-মু‘মিন (বিশ্বাসী) / গাফির (ক্ষমাকারী)

৪১। হা-মীম আস সাজদাহ/ ফুসসিলাত (সুস্পষ্ট বিবরণ)
৪২। আশ-শূরা (পরামর্শ)
৪৩। আয-যুখরুফ (সোনাদানা)
৪৪। আদ-দুখান (ধোঁয়া)
৪৫। আল-জাসিয়াহ (নতজানু)
৪৬। আল-আহক্বফ (উপত্যকা)
৪৭। মুহাম্মাদ (মুহাম্মাদ স.)
৪৮। আল-ফাতহ (বিজয়)
৪৯। আল-হুজুরাত (বাসগৃহসমুহ)
৫০। ক্ব-ফ (আরবি বর্ণ)

৫১। আয-যারিয়াত (বিক্ষেপকারী বাতাস)
৫২। আত-ত্বূর (একটি পাহাড়ের নাম)
৫৩। আন-নাজম (তারা)
৫৪। আল ক্বমার (চন্দ্র)
৫৫। আর-রহমান (পরম করুণাময়)
৫৬। আল-ওয়াকিয়াহ (নিশ্চিত ঘটনা)
৫৭। আল-হাদীদ (লোহা)
৫৮। আল-মুজাদিলাহ (অনুযোগকারিণী)
৫৯। আল-হাশর (সমাবেশ)
৬০। আল-মুমতাহিনা (নারী যাকে পরীক্ষা করা হবে)

৬১। আস-সফ (সারবন্দী সৈন্যদল)
৬২। আল-জুমু'আহ (সম্মেলন/শুক্রবার)
৬৩। আল-মুনাফিকুন (কপট বিশ্বাসীগণ)
৬৪। আত-তাগাবুন (মোহ অপসারণ)
৬৫। আত-ত্বলাক (তালাক)
৬৬। আত-তাহরীম (নিষিদ্ধকরণ)
৬৭। আল-মুলক (সার্বভৌম কতৃত্ব)
৬৮। আল-ক্বলম (কলম)
৬৯। আল-হা--কক্বাহ (নিশ্চিত সত্য)
৭০। আল-মা'আরিজ (উন্নয়নের সোপান)

৭১। নূহ (নাবী নূহ আঃ)
৭২। আল-জ্বিন (জ্বিন সম্প্রদায়)
৭৩। আল মুযযাম্মিল (বস্ত্রাচ্ছাদনকারী)
৭৪। আল মুদ্দাসসির (পোশাক পরিহিত)
৭৫। আল-কিয়ামাহ (পুনরুত্থান)
৭৬। আল-ইনসান (মানুষ) / আদ-দাহর (সীমাহীন কাল)
৭৭। আল-মুরসালাত (প্রেরিত পুরুষগণ)
৭৮। আন-নাবা (মহাসংবাদ)
৭৯। আন-নাযি’আত (প্রচেষ্টাকারী)
৮০। আবাসা (তিনি ভ্রুকুটি করলেন)

৮১। আত-তাকউইর (অন্ধকারাচ্ছন্ন)
৮২। আল-ইনফিত্বার (বিদীর্ণ করা)
৮৩। আল-মুত্বাফফিফীন (ওজনে কম প্রদানকারী)
৮৪। আল-ইনশিক্বাক (খন্ড-বিখন্ড করণ)
৮৫। আল-বুরূজ (নক্ষত্রপুন্জ)
৮৬। আত-ত্ব-রিক (রাতের আগন্তুক)
৮৭। আল-আ’লা (সর্বোন্নত)
৮৮। আল-গাশিয়াহ (আচ্ছন্নকারী)
৮৯। আল-ফাজর (ভোরবেলা)
৯০। আল-বালাদ (নগর)

৯১। আশ-শামস (সূর্য)
৯২। আল-লাইল (রাত্রি)
৯৩। আদ-দুহা (পূর্বাহ্নের সুর্যকিরণ)
৯৪। আল-ইনশিরাহ (প্রশস্তকরণ)
৯৫। আত-তীন (ডুমুর)
৯৬। আল-’আলাক (রক্তপিন্ড)
৯৭। আল-ক্বদর (মহিমান্বিত)
৯৮। আল-বাইয়্যিনাহ (সুস্পষ্ট প্রমাণ)
৯৯। আয-যিলযাল (ভূমিকম্প)
১০০। আল-আদিয়াত (অভিযানকারী)

১০১। আল-ক্ব-রি’য়াহ (মহাসংকট)
১০২। আত-তাকাসূর (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা)
১০৩। আল-আসর (সময়)
১০৪। আল-হুমাযাহ (পরনিন্দাকারী)
১০৫। আল ফীল (হাতি)
১০৬। আল-কুরাইশ (কুরাইশ গোত্র)
১০৭। আল-মাউন (সাহায্য-সহায়তা)

১০৮। আল-কাওসার (প্রাচুর্য)
১০৯। আল-কাফিরুন (অবিশ্বাসী গোষ্ঠী)
১১০। আন-নাসর (স্বর্গীয় সাহায্য)
১১১। লাহাব (জ্বলন্ত অংগার)
১১২। আল-ইখলাস (একনিষ্ঠতা)
১১৩। আল-ফালাক (নিশিভোর)
১১৪। আন-নাস (মানবজাতি)

🟥ইসলামী পরিবার গঠনে মাহরাম-গায়ের মাহরামের জ্ঞান থাকাটা অত্যাবশ্যক। নিচের ছবিগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের নিকট আত্নীয়দের ...
20/05/2024

🟥ইসলামী পরিবার গঠনে মাহরাম-গায়ের মাহরামের জ্ঞান থাকাটা অত্যাবশ্যক। নিচের ছবিগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের নিকট আত্নীয়দের মধ্যে কে মাহরাম আর কে গায়ের মাহরাম তা দেখিয়েছি।

🟦মাহরাম কারা?
যাদের সাথে আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবনা ‌অর্থাৎ যাদেরকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম সেই সব ব্যক্তিদেরকে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক মাহরাম বলে।

🟧গায়ের মাহরাম কারা?
যাদের সাথে আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারব অর্থাৎ যাদেরকে বিবাহ করা জায়েয সেই সব ব্যক্তিদেরকে গায়ের মাহরাম বলে।
উল্লেখ্য যে, মাহরাম ছাড়া সকল ব্যক্তিই আমাদের জন্য গায়ের মাহরাম।তাদের সামনে পর্দা করা ফরজ।

বি:দ্র: এখানে সবুজ রঙের মাধ্যমে মাহরাম ও লাল রঙের মাধ্যমে গায়ের মাহরাম বোঝানো হয়েছে।

28/04/2024

"পাবনা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার পাবনা। আরবী প্রভাষক আব্দুর সাকুর স্যার আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন"

31/03/2024

দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (৫) আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ আল-উছায়মীন ইসলামহাউজ.কম ৫ টি

প্রশ্ন: সূদানে অনেকগুলি দল আছে, যেগুলির কোনো কোনো দল একজন করে দলীয় ‘আমীর’ নির্ধারণ করে এবং তাঁর অনুসরণ অপরিহার্য গণ্য করে। এই ইমারতের হুকুম কি? উল্লেখ্য যে, তারা এই ইমারতকে সফর অবস্থার ইমারতের উপর কিয়াস করে।
উত্তর: সফরের ইমারতের দলীল পাওয়া যায়। কিন্তু মুক্বীম অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষের আমীর নির্বাচনের প্রমাণে কোনো দলীল পাওয়া যায় না; বরং এই ইমারত মুসলিমদের দলাদলি ও বিভক্তি অবধারিত করে দেয়। মুসলিমদের উচিৎ, সবাই এক হয়ে যাওয়া। প্রত্যেক দলের ভিন্ন ভিন্ন আমীর নিম্নোক্ত আয়াতটির পরিপন্থী:

﴿ وَٱعۡتَصِمُواْ بِحَبۡلِ ٱللَّهِ جَمِيعٗا وَلَا تَفَرَّقُواْۚ ﴾ [ال عمران: ١٠٣]

‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (আলে ইমরান ১০৩)।([1])

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আমীরের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কিছু পাবে, সে ধৈর্য্য ধারণ করবে। কেননা যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে সামান্য পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যু বরণ করবে, তার মৃত্যু হবে জাহেলী মৃত্যু’। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, হাদীছে রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে বলা হয়েছে। নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে মিলেঝুলে থাকলে গোটা জাতি একক জাতিতে পরিণত হতে পারবে। পক্ষান্তরে জাতি যদি রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বিরোধ করে প্রত্যেকটি দল পৃথক পৃথক অনুসরণীয় নেতা বানিয়ে নেয়, তাহলে জাতি বিভক্ত হয়ে যাবে। সুতরাং যারা একজনকে আমীর বানিয়ে তার হাতে বায়‘আত করে তার অনুসরণ করে চলে, তাদের একাজ মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হয়। শুধু তাই নয়; বরং তাদের একাজ এক দিক বিবেচনায় যেমন বিদ‘আত, তেমনি অন্যদিক বিবেচনায় তা সরকারের বিরোধিতার শামিল।

তবে সফর অবস্থায় আমীর নির্বাচনের বিষয়টি ভিন্ন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন তিনজন সফরে বের হবে, তখন তারা তাদের একজনকে আমীর বানাবে’। হাদীছটিতে ইমারত বলতে বিশেষ ইমারতের কথা বলা হয়েছে।...

আমি আবারও বলছি, মুক্বীম অবস্থায় আমীর হিসাবে কারো বায়‘আত গ্রহণ করে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের মত তার অনুসরণ করা বিদ‘আত।([2])

([1]) ‘কতিপয় সূদানীদের সাথে শায়খ ইবনে বাযের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ’ ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত।

([2]) শারহু ছহীহিল বুখারী, পৃ: ৪৮৮-৪৮৯ (আল-মাকতাবা আল-ইসলামিইয়া, প্রথম প্রিন্ট)।
প্রশ্ন: ইসলামে জামা‘আতের গুরুত্ব কতটুকু? কোনো মুসলিমের নির্দিষ্ট কোনো জামা‘আতে যোগদান করা কি শর্ত?
উত্তর: ইসলামে জামা‘আত হচ্ছে দ্বীনের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জামা‘আত সম্পর্কে বলেন, ‘আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে। তাদের বিরোধীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কিয়ামত এসে যাবে, তবুও তারা ঐরূপই থাকবে’। হাদীছটিতে উল্লেখিত এই জামা‘আতের সাথেই সবার থাকা উচিৎ।

তবে দলাদলির জামা‘আত, যে হক বা বাতিলের তোয়াক্কা না করে যে কোনো মূল্যে নিজের মতামতের বিজয় কামনা করে, সেই জামা‘আতে যোগদান করা জায়েয নয়। কেননা এই ধরনের দলে যোগ দেওয়া মুসলিম জামা‘আত থেকে বের হয়ে দলাদলিতে যোগ দেওয়ার শামিল। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمۡ وَكَانُواْ شِيَعٗا لَّسۡتَ مِنۡهُمۡ فِي شَيۡءٍۚ إِنَّمَآ أَمۡرُهُمۡ إِلَى ٱللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ١٥٩ ﴾ [الانعام: ١٥٩]

‘নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় আল্লাহ তা‘আয়ালার নিকট সমর্পিত’ (আল-আন‘আম ১৫৯)। তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ ۞شَرَعَ لَكُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِۦ نُوحٗا وَٱلَّذِيٓ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ وَمَا وَصَّيۡنَا بِهِۦٓ إِبۡرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰٓۖ أَنۡ أَقِيمُواْ ٱلدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُواْ فِيهِۚ كَبُرَ عَلَى ٱلۡمُشۡرِكِينَ مَا تَدۡعُوهُمۡ إِلَيۡهِۚ ٱللَّهُ يَجۡتَبِيٓ إِلَيۡهِ مَن يَشَآءُ وَيَهۡدِيٓ إِلَيۡهِ مَن يُنِيبُ ١٣ ﴾ [الشورا: ١٣]

‘তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারণ করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না’ (আশ-শূরা ১৩)। তিনি অন্যত্র আরো বলেন,

﴿ وَلَا تَكُونُواْ كَٱلَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَٱخۡتَلَفُواْ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٞ ١٠٥ ﴾ [ال عمران: ١٠٥]

‘আর তাদের মত হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বিরোধ করেছে। আর তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি’ (আলে ইমরান ১০৫)।

একটি কথা বলা ভাল, ইসলামী দলগুলি যদি সত্যিকার অর্থে ইসলামের বিজয় চায়, তাহলে পরস্পরে বিচ্ছিন্ন না হয়ে তাদের শুধুমাত্র একটি দলে সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ, যে দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের পথের দল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এই উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং একটি ছাড়া সবগুলিই জাহান্নামে যাবে। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! জান্নাতী সেই দল কোন্‌টি? তিনি বললেন, যে আমার এবং আমার ছাহাবার পথে থাকবে’।

এই দলগুলি মুসলিম উম্মাহ্‌র মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে এবং তাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে শত্রুতা। এমনকি একজন আরেক জনকে যম শত্রু মনে করে; অথচ তারা সবাই মুসলিম এবং সবাই তার নিজের দ্বারা ইসলামের বিজয় কামনা করে। কিন্তু এত বিরোধ আর বিভক্তি নিয়ে ইসলামের বিজয় কি করে সম্ভব?! যাহোক, আমি আমার ভাইদের প্রতি হকের উপর এক হয়ে যাওয়ার এবং কুরআন ও আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে যেয়ে বিরোধের সমস্ত দিক পরিহার করার আহ্বান জানাই।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম যুবকেরা আজ এই বিভক্তির শিকারে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা একেক জন একেক দলে যোগ দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে গালাগালি ও নিন্দা করে, যা মুসলিম যুবকদের জাগরণে চরম বাধা। যাহোক, আমি আবারও মুসলিমদেরকে দলাদলি পরিহার করার নছীহত করছি। আমি মনে করি, গোটা মুসলিম উম্মাহকে পরস্পরে বিচ্ছিন্ন না হয়ে এক হয়ে যাওয়া উচিৎ। প্রত্যেকটি দল অন্যান্য দলের বিপরীতে নতুন নাম দিয়ে আরেকটি দল গঠন করা উচিৎ নয়।([1])

তিনি ‘হিল্‌ইয়াতু ত্বলিবিল ইল্‌ম’ পুস্তিকার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘দলীয় ভিত্তির উপর কোনো প্রকার মিত্রতা ও শত্রুতা চলবে না’ শিরোনামের মধ্যে বলেন, এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, দ্বীনী শিক্ষার প্রত্যেকটি শিক্ষানবিশকে সর্বপ্রকার দলাদলিমুক্ত থাকতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো দলের উপর ভিত্তি করে মিত্রতা বা বৈরীতা গড়ে তোলা যাবে না। মনে রাখতে হবে, নিঃসন্দেহে এটি সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি বিরোধী। সালাফে ছালেহীনের নিকট কোনো প্রকার দলাদলি ছিল না, তাঁরা সবাই একটিমাত্র দলের অন্তুর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁরা সবাই নিম্নোক্ত আয়াতের ভাষ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন,

﴿هُوَ سَمَّىٰكُمُ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ﴾ [الحج: ٧٨]

‘তিনিই তোমাদের নাম মুসলিম রেখেছেন’ (আল-হজ্জ ৭৮)। অতএব, কুরআন ও সুন্নাহ্‌র বক্তব্যের বাইরে অন্য কোনো কিছুর উপর ভিত্তি করে দলাদলি, মিত্রতা ও বৈরীতা চলবে না। দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি দলের সাথে জড়িত, ফলে সে ঐ দলের মূলনীতি সমর্থন করে চলে এবং তার সমর্থনের পক্ষে এমন কিছু দলীল পেশ করে, যা কখনই তার পক্ষে নয়; বরং তার বিপক্ষের দলীল হতে পারে। দলীয় কর্মপদ্ধতি ও মূলনীতি সমর্থন না করার কারণে এমনকি তার নিকটতম মানুষটিকেও পথভ্রষ্ট গণ্য করতে সে ইতস্তত বোধ করে না। সে বলে, তুমি আমার পথে না চললে তুমি আমার বিরোধী।…অতএব, ইসলামে কোনো প্রকার দলাদলি চলবে না। মুসলিমদের দলাদলির কারণে আজ বিভিন্ন পথের জন্ম হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ তারা পরস্পরকে পথভ্রষ্ট গণ্য করছে এবং তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করছে।([2])

([1]) শায়খের নিজস্ব ওয়েবসাইট http//www.ibnothaimeen.com–এর নিম্নোক্ত লিঙ্ক থেকে ১০/১২/২০১২ তারিখ দুপুর ১৩:২৮ টায় সংগৃহীত:

http://www.ibnothaimeen.com/all/noor/article_994.shtml

([2]) আত-তালীক্ব আছ-ছামীন আলা শারহে ইবনে উছায়মীন লিহিল্‌ইয়াতি ত্বলিবিল ইল্‌ম, পৃ: ৪০৬-৪০৮।
প্রশ্ন: কুরআন ও হাদীছের কোথাও কি দল সৃষ্টির প্রমাণ মিলে?
উত্তর: কুরআন ও হাদীছে দল তৈরীর প্রমাণ মিলা তো দূরের কথা; বরং এতদুভয়ে দলাদলির কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمۡ وَكَانُواْ شِيَعٗا لَّسۡتَ مِنۡهُمۡ فِي شَيۡءٍۚ إِنَّمَآ أَمۡرُهُمۡ إِلَى ٱللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ١٥٩ ﴾ [الانعام: ١٥٩]

‘নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি তাদেরকে তাদের আমলের হিসাব দিয়ে দিবেন’ (আল-আন‘আম ১৫৯)। তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿كُلُّ حِزۡبِۢ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُونَ ٥٣ ﴾ [المؤمنون: ٥٣]

‘প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত’ (আল-মুমিনূন ৫৩)। নিঃসন্দেহে এসব দলাদলি আল্লাহ্‌র নির্দেশের পরিপন্থী। তিনি এরশাদ করেন,

﴿ إِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمۡ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ وَأَنَا۠ رَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُونِ ٩٢ ﴾ [الانبياء: ٩٢]

‘তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, আমারই ইবাদত কর’ (আল-আম্বিয়া ৯২)।

এসব দলাদলির ফলাফলও কল্যাণকর নয়। কেননা প্রত্যেকটি দল অপর পক্ষকে নানাভাবে গালাগালি করে থাকে।

প্রশ্ন: কেউ কেউ বলে, কোনো দল বা সংগঠনের অধীনে না থাকলে দা‘ওয়াতী কার্যক্রম শক্তিশালী হয় না। এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি?
উত্তর: এ ধারণা সঠিক নয়: বরং কুরআন ও হাদীছের অধীনে থেকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর চার খলীফার নীতি অনুসরণ করে চললে দা‘ওয়াতী কার্যক্রম আরো বেশী বেগবান হবে।([1])

([1]) ‘আব্দুর রহমান আব্দুল খালেক্ব সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের মন্তব্য’ ক্যাসেটের দ্বিতীয় পিঠ থেকে সংগৃহীত।
প্রশ্ন: বর্তমান ইসলামী বিশ্বে আমরা লক্ষ্য করছি যে, বহু দল ইসলামের পথে মানুষকে আহ্বান করছে এবং প্রত্যেকেই বলছে, আমি সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি অনুসরণ করে চলছি এবং আমার সাথেই রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহ। এক্ষণে, এসব দল সম্পর্কে আমাদের ভূমিকা কি হবে? এসব দলের আমীরগণের মধ্যে যে কোনো একজনের হাতে বায়‘আত করার বিধান কি?
উত্তর: যেসব দল দাবী করছে যে, তারা হকের উপরে আছে, তাদের সম্পর্কে মন্তব্য করা খুবই সহজ। আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করব, হক কাকে বলে? জবাব, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ সমর্থিত বক্তব্যই হচ্ছে হক। যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে মুমিন, কুরআন ও সুন্নাহ্‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করলে তার যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিরসন হওয়া সম্ভব। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, কোনো কিছুই তার উপকারে আসবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ﴾ [النساء: ٥٩]

‘অতঃপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক’ (আন-নিসা ৫৯)।

সুতরাং এসব জামা‘আতের লোকজনদের আমরা বলব, তোমরা একতাবদ্ধ হয়ে যাও; প্রত্যেকেই তার প্রবৃত্তির পূজা ছেড়ে দাও এবং কুরআন-সুন্নাহ্‌র বক্তব্যকে আঁকড়ে ধরার পাকাপোক্ত নিয়্যত কর।
..তবে রাষ্ট্রপ্রধান বা দেশের সরকার ছাড়া অন্য কারো হাতে বায়‘আত করা বৈধ নয়। কেননা আমরা যদি প্রত্যেকের পৃথক পৃথক বায়‘আতের কথা বলি, তাহলে মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হয়ে যাবে এবং প্রত্যেকটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত আমীর সৃষ্টি হবে। মূলত: এটিই হচ্ছে বিভক্তি।

কোনো দেশে ইসলামী বিধান চালু থাকলে, সেখানে অন্য কারো হাতে বায়‘আত জায়েয নেই। তবে কোনো দেশের সরকার যদি আল্লাহ্‌র বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা না করে, তাহলে তার কয়েকটি অবস্থা হতে পারেঃ সরকারের কিছু কিছু কর্মকাণ্ড কখনো কুফরী হতে পারে, কখনো যুলম হতে পারে, আবার কখনো ফাসেক্বীও হতে পারে। কুরআন-হাদীছের আলোকে যখন স্পষ্ট প্রমাণিত হবে যে, কোনো দেশের সরকার স্পষ্ট কুফরীতে অনঢ় রয়েছে, তাহলে আমাদেরকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। তবে তার মোকাবেলায় নামা যাবে না এবং শক্তি প্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধাচরণ করা যাবে না। তার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করলে তা হবে শরী‘আত ও হিকমত পরিপন্থী। আর সে কারণে মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিহাদের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কেননা সে সময় তাঁর এমন কোনো শক্তি ছিল না, যার মাধ্যমে তিনি মক্কার মুশরিকদেরকে মক্কা থেকে বের দিতে পারবেন বা তাদেরকে হত্যা করতে পারবেন। সুতরাং সরকারের অস্ত্র-শস্ত্রের তুলনায় যাদের কোনো অস্ত্র নেই বললেই চলে এবং যাদের সংখ্যা নিতান্তই কম, তাদের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাওয়া হিকমত পরিপন্থী বৈ কিছুই নয়।
..সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য হাদীছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা বলা হয়েছে; আর তা হচ্ছে, ব্যক্তিকে নিজেই সরকারের কুফরীর বিষয়টি স্বচক্ষে দেখতে হবে, অন্যের কাছ থেকে শুনলে চলবে না। কারণ অনেক সময় মিথ্যা প্রচার করা হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, তার ভেতরে কুফরী অবশ্যই থাকতে হবে; ফাসেক্বী নয়। সে যদি বড় ধরনের ফাসেক্বীও করে বসে, তথাপিও তার বিরুদ্ধে মাঠে নামা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি সে যেনা করে বা মদ পান করে অথবা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে মাঠে নামা যাবে না। তবে সে যদি কারো রক্ত হালাল মনে করে তাকে হত্যা করে, তাহলে সেক্ষেত্রে হুকুম আলাদা হবে। হাদীছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা বলা হয়েছে; তা হচ্ছে, সরকারের কুফরী স্পষ্ট হতে হবে, যেখানে কোনো প্রকার ব্যাখ্যার অবকাশ থাকবে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, সরকারের কুফরীর ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্‌র স্পষ্ট দলীল থাকতে হবে, এখানে কিয়াসী দলীল চলবে না।

এই হচ্ছে চারটি শর্ত। সরকারের বিপক্ষে মাঠে নামার পঞ্চম শর্ত হচ্ছে, শক্তি ও সামর্থ্য থাকা। শেষোক্ত এই শর্তটি যে কোনো ওয়াজিবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ ﴾ [البقرة: ٢٨٦]

‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না’ (আল-বাক্বারাহ ২৮৬)। তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ ﴾ [التغابن: ١٦]

‘অতএব, তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর’ (আত-তাগাবুন ১৬)।

এক্ষণে, যেসব ভাই তাদের দৃষ্টিতে তাদের ইসলামী সরকার নেই মনে করে বিভিন্ন দল গঠন করে প্রত্যেকটি দলের একজন করে আমীর নির্ধারণ করতে চায়, আমি তাদেরকে বলব, এটি তোমাদের মারাত্মক ভুল, প্রত্যেকটি দলের আলাদা আলাদা আমীর বানিয়ে মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করে দেওয়া তোমাদের জন্য আদৌ বৈধ নয়। বরং যে সরকারকে হটানোর সবগুলি শর্ত পাওয়া যায়, তাকে হটানোর জন্য তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা করতে হবে।([1])

([1]) মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ আল-উছায়মীন, লিক্বাআতু বাবিল মাফতূহ, ২/১৪১-১৪৩, প্রশ্ন নং ৮৭৫ (দারুল বুছায়রাহ, মিশর)।

Address

I AM A MUSLIM
Dhaka
6600

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Deen Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Deen Islam:

Share