রহমানের বান্দা - Slave Of Ar-Rahman

রহমানের বান্দা - Slave Of Ar-Rahman একমাত্র অবিশ্বাসীরা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়না। [ সূরা ইউসুফ : ৮৭]

04/09/2023

দুনিয়াতে লোহা পরিমাপ করা হয় টন হিসেবে, খাবারদাবার কেজিতে, সোনাদানা গ্রামে আর ডায়মন্ড ক্যারেট হিসেবে। কিন্তু আমার আপনার আমল আল্লাহ’র কাঠগড়ায় পরিমাপ করা হবে অণু হিসেবে।
'অতএব, কেউ অণু পরিমাণ ভালকাজ করলে তা সে দেখবে। আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলে তাও সে দেখবে।' (সূরা যিলযাল, ৯৯: ৭-৮)
কিয়ামতের দিনের সেই দাঁড়িপাল্লা হবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নিখুঁত। এতটাই নিখুঁত যে, অণু পরিমাণ কাজও সে শনাক্ত করতে পারবে।
কাজেই কোনো নেক আমলকে ছোট করে দেখবেন না।
তেমনি কোনো গুনাহের কাজকেও ছোট করে দেখবেন না।
— উস্তাদ আলী হাম্মুদা (হাফিজাহুল্লাহ)

এক দ্বীনি ভাই৷ তারসঙ্গে ঘটে যাওয়া আল্লাহর নুসরতের তরতাজা কাহিনী শুনালেনবাবা অসুস্থ৷ একমাত্র ব্যবসাটা নেই৷ অনেক জায়গায় সি...
02/09/2023

এক দ্বীনি ভাই৷ তারসঙ্গে ঘটে যাওয়া আল্লাহর নুসরতের তরতাজা কাহিনী শুনালেন

বাবা অসুস্থ৷ একমাত্র ব্যবসাটা নেই৷ অনেক জায়গায় সিভি দিয়েও চাকরি হচ্ছে না৷ এদিকে বাসা ভাড়া জমা হয়ে গেছে কয়েকমাসের৷ ধারদেনা করে কোনো মতে পরিবার নিয়ে চলছেন৷ লক্ষাধিক টাকার ঋণের বোঝা মাথায়৷ চোখে অন্ধকার দেখছেন৷

এক বুযুর্গের বয়ানে শুনেছেন লাগাতার ৪০দিন তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ দিবেন৷ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বললেন৷ আল্লাহওয়ালা মানুষের কথা৷ তার দিলে বিশ্বাস জন্মেছে৷

ক্যালেন্ডার ধরে তাহাজ্জুদ শুরু করেছেন৷ একমাসের মাথায় সিলেটের নামকরা প্রতিষ্ঠানে চাকরি হয়ে গেছে৷ ৪০ দিনের মাথায় আরেক ভাই স্বেচ্ছায় তার বাসা ভাড়ার সব টাকা কর্জে হাসানা হিসেবে দিয়ে দিছেন৷

চাওয়ার মতো চাইতে হবে৷ সাথে ইয়াকিন রাখতে হবে পরিপূর্ণ৷ অপরদিকে আসবাবও তথা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা যতটুকু করার, তাও করতে হবে৷ সাহায্য আসবেই৷ আজ হোক কিংবা কাল৷ হতাশার কিছু নেই৷

- জিয়াউর রহমান (হাফিজাহুল্লাহ)

03/09/2022

একদিন আমার এক কাজিন আমাকে জিজ্ঞেস করছিলো, "ভাইয়া তুমি এই গান শুনসো? আর ঐটা? আর সেটা?" যেহেতু লেটেস্ট গান, তাই প্রায় সবগুলোর জবাবই দিলাম "না" দিয়ে। সামনেই বসে ছিলো তার বাবা। তিনি আমার কাজিনকে বললেন, "আরেহ! মাবরুরকে কেন এসব জিজ্ঞেস করতেসো। ও হুজুর তো। ও এগুলো শোনে না।"
আমার দ্বীনের প্রতি গ্বাইরাতটা একটু বেশি। আমার সামনে দ্বীন নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বললে টলারেট করতে পারি না। আমি ধাম করে বলে বসলাম, "কেন আমার জন্য শরীআহ আলাদা নাকি? যা আমার জন্য হারাম সেটা আপনার সন্তানদের জন্য যায়িজ নাকি? হুজুরের জন্য এক বিধান, মুসলমানের জন্য আরেক বিধান?"
তারপর থেকে আঙ্কেল আমাকে আর হুজুর বলেন না।

- ইরফান সাদিক

03/08/2022

মিশরের অন্যতম প্রধান ইমাম শায়খ ইয়াসির সালামাহ 'When will I see you as a haafidh' নামে একটি অডিও সিরিজ তৈরি করেছিলেন। এই সিরিজে তিনি মুহাম্মাদ নামক এক ভাইয়ের হিফযের বিস্ময়কর এক গল্প বর্ণনা করেন। ভাই মুহাম্মাদ কুরআন হিফযের উপর একটি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের পর ৫০ দিনের মধ্যে তাঁর হিফয সম্পন্ন করেন।

তিনি বলেন: “আমি আমার আত্মার উপর জিহা%দ ঘোষণা করেছি এবং আমার চোখের সামনে মৃত্যুকে রেখেছি। আমি হিফয করার জন্য কঠিন নিয়ত করলাম। তাই আমি টেলিফোন কল এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত পরিত্যাগ করেছিলাম। আমি হিফযের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাগুলিকে ইতিবাচক এবং বাস্তবিক ও ব্যবহারিক চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন করেছি। যেমন - যখন আমার মনে চিন্তা আসত যে 'আমি বোধহয় পারবনা!' আমি নিজেকে বলতাম, 'আমি পারব'। কখনো মনে হত, 'আমার স্মৃতিশক্তি দুর্বল!' আমি বলতাম 'আমি প্রখর স্মৃতিশক্তি অর্জন করবো।' ইনশা আল্লাহ।

আমি মসজিদকে আমার হিফযের স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছিলাম কারণ এটি তিনটি ইন্দ্রিয়কে সংরক্ষণ করে:

১. চোখ
২. কান
৩. জিহ্বা

আমি খেজুর,ফল এবং মধুর আধিক্য রেখে ডায়েট প্ল্যান তৈরি করলাম যেন খাবার নিয়ে বিশেষ চিন্তা করতে না হয়। এবং সিয়াম এক্ষেত্রে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি ফজরের আড়াই ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠতাম এবং এশার দুই ঘণ্টা পর ঘুমাতাম। আমি তাহাজ্জুদ এর জন্য জেগে উঠতাম, আমার সিজদাহ দীর্ঘায়িত করতাম। আমি হিফযের ক্ষেত্রে সহজতা চেয়ে সিজদাহতে আল্লাহর কাছে দুয়া করতে থাকতাম। এছাড়া এসময় আমি একশতবার ইস্তেগফার পড়তাম।

এরপর আমি পাঁচ পৃষ্ঠা মুখস্থ করতাম এবং ফজরের সুন্নতে এই পাঁচ পৃষ্ঠা পড়তাম। ফজরের পর আমি নতুন পাঁচ পৃষ্ঠা মুখস্থ করা শুরু করতাম এবং শেষ হলে সালাতুদ্দুহার দুই রাকাআতে নতুন পাঁচ পৃষ্ঠা পড়তাম। মুখস্থ করাটা সহজ করার জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতাম।

একজন ক্বারীর টেপ শুনে আমার তিলাওয়াত শুদ্ধ করার চেষ্টা করতাম।

যুহরের সালাতের পরে, আমি আমার মুখস্থ করা প্রথম পারা থেকে শুরু করে সর্বশেষ যে পারা মুখস্থ করেছি তার আগে পর্যন্ত পড়তাম। আসরের পর আজকের মুখস্থ করা নতুন অংশ এবং সর্বশেষ যে পারা মুখস্থ করেছিলাম সেটা পড়তাম।

মাগরিবের সালাতের পর, আমি নতুন দশ পৃষ্ঠার তিলাওয়াত প্রস্তুত করতাম যেটা কাল ফজরের আগে ও পরে মুখস্থ করবো ইনশা আল্লাহ। ইশার সালাতের পরে আমি আমার শিক্ষককে পড়া শোনাতে বসতাম। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।

বিছানায় যাওয়ার আগে, আমি ক্যাসেট থেকে দিনে যা মুখস্থ করেছি সব শুনতাম। ১ম সপ্তাহে, আমি একটানা ৬ ঘন্টা বসে মুখস্থ এবং রিভিশন করেছি। ২য় সপ্তাহে আমি একটানা ৮ ঘন্টা পড়েছি। ৩য় সপ্তাহে এটি ছিল ১০ঘন্টা, ৪র্থ সপ্তাহে ১২ ঘন্টা। শেষ দশদিনে আমি একটানা চৌদ্দ ঘন্টা মুখস্থ এবং রিভিশন করেছি।

আমার জন্য খাওয়া এবং ঘুমের সময়টুকু ছিল কষ্টকর সময়। আমি মন থেকে চাইতাম যেন ঘুমের সময়টা দ্রুত শেষ হয়ে যায় যাতে আমি আমার পবিত্র কুরআনের হিফয শুরু করতে পারি। যতবারই আমি কুরআন পড়তে এবং মুখস্থ করতে বসতাম আমার অন্তরে এমন আনন্দ ও প্রফুল্লতা অনুভব করতাম যা আগে কখনো অনুভব করিনি। দু'আ আমার জন্য হিফযের আগে এবং পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। আমাকে উৎসাহিত করা, তিলাওয়াত সংশোধিত করা, রিভিশনে সাহায্য করা এসকল ক্ষেত্রে আমার শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সর্বশেষ সপ্তাহের প্রথম দিন ছিল ২০ রামাদানের রাত। হিফয শেষ হতে আমার সাড়ে চার পারা বাকি। তাই আমার পথ খুলে দেওয়ার জন্য এবং আমার জন্য সহজ করার জন্য আমি আল্লাহর দিকে ফিরে গেলাম। আল্লাহর রহমতে ৬ দিনে আমি শেষ করলাম।

ক্বদরের রাত এলো আমার জন্য সৌভাগ্য ও অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে। মসজিদের ইমাম ও ইতিকাফকারীদের সাথে মাগরিব ও ইশার মধ্যে আমার হিফয সমাপ্ত হয়। এরপর আমরা খতম শুরু করলাম (কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত)। সব শেষে দু'আর সময়, আমার হৃদয় খুলে গেল এবং আমি এমনভাবে কাঁদতে লাগলাম যেভাবে আমি এর আগে কখনো কাঁদিনি৷ এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল। আল্লাহ তায়ালা আমাকে তাঁর কিতাব মুখস্থ করার তাওফীক দিয়ে সম্মানিত করেছেন।

যখন দুয়া করছিলাম তখন আমার একটা স্বপ্নের কথা মনে পড়ল যেটা আমি দেখেছি দশ বছরের বেশি হয়েছে।… আমি একটি মসজিদের মুয়াযযিন ছিলাম এবং ফজরের সালাতের পর আমি মসজিদে বসে যিকর করছিলাম। আমার অনেক ঘুম ঘুম লাগছিলো তাই আমি মসজিদেই শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর আমি নিজেকে এক সমাবেশের মাঝে আবিষ্কার করলাম। আমি দেখলাম আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল আলোকধারা মসজিদের মাঝখানে নেমে এসেছে৷ সেই আলোর মধ্য থেকে ফেরেশতাগণ বেরিয়ে আসছেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন ছিলেন প্রধান। তাঁদের একজন আমার দিকে ঘুরে আমাকে আলোর কাছে নিয়ে গেল। আমি দুইজন ফেরেশতাসহ প্রবেশ করলাম। আমি তখন নিজেকে একটি বড় সবুজ গাছের উপরে দেখতে পেলাম। আমি ফেরেশতা দুজনের সাহচর্যে তাতে আরোহণ করতে লাগলাম। এভাবে প্রথম আসমানে পৌঁছে গেলাম। আমি প্রথম আসমানের দরজায় ফেরেশতাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। তাঁরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কোথায় যাচ্ছো?" তারা একটা বই খুলে আমাকে বলল, "এখানে তোমার নাম নেই, তুমি গাছ বেয়ে উঠতে থাকো।" এভাবে একে একে ছয়টা আসমানের দরজা দেখতে পেলাম এবং সবকটি দরজায় ফেরেশতাগণ আমাকে একই কথা বললেন৷

সপ্তম আসমানে গিয়ে আমরা গাছের চূড়ায় পৌঁছে গেলাম। আমি দেখলাম দরজায় ফেরেশতাগণ দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি মুহাম্মাদ?"
-হ্যাঁ।

-প্রবেশ করো। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে দেখতে চেয়েছেন।

-আমার সাথে আপনারা আসুন? আমার সাথে থাকা দুজন ফেরেশতাকে বললাম আমি।

-আমাদের যাওয়ার অনুমতি নেই। তবে আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করবো৷

আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং তা-ই দেখতে পেলাম যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো অন্তর কল্পনাও করেনি।

ফেরেশতাগণ আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন।

আমি একটি দরজা দেখতে পেলাম যার উপরে লেখা ছিল - لاإله إلا الله محمد رسول الله.
جنة الفردوس

ফেরেশতাগণ দরজাটি খুললেন এবং আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। আমার সামনে তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম৷ তিনি সর্বোচ্চ আসনে বসে আছেন তাঁর পাশে কিছু লোক যাদের কয়েকজনকে আমি চিনতে পারলাম। তাঁর সামনে ছিল অনেক অনেক পুরুষ, মহিলা আর শিশু। তাঁরা সংখ্যায় এত বেশি ছিল যে তাঁদের শুরু দেখতে পাচ্ছিলাম আমি কিন্তু শেষ দেখা যাচ্ছিল না। সবার পরনে ছিল সাদা পোশাক। তাঁদের প্রত্যেকে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ডাকলেন, আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি তাঁকে চুমু খেলাম, তিনি আমাকে তাঁর পাশে বসালেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "ইয়া রসুলুল্লাহ! এরা কারা?"
তিনি বললেন, "এরা আল্লাহর কালাম হিফয করেছে।"

আল্লাহর ইচ্ছায়, আমার স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। যে রাতে আমি আমার হিফয শেষ করেছি তার আগে পর্যন্ত আমি আমার এই স্বপ্নের কথা কাউকে বলিনি।

আল্লাহু আকবার!
এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা তাওফীক ব্যতীত আর কিছুই নয়।

- Muslim Day Planner

24/02/2022

জীবনকে দুনিয়ার সব মোহ এবং বানানো মন্ত্র-তন্ত্র থেকে টেনে বের করে পুরো জীবনকে আল্লাহর বিধানে সঁপে দেয়ার নাম ঈমান।

আল্লাহর বিধানের বিপরীত কোনো বিধানে ইচ্ছাকৃতভাবে জড়িয়ে যাওয়া এবং সেটাকে আল্লাহর বিধান থেকে উত্তম ভাবা কুফরি।

ঈমানের সাথে কুফর মিশ্রিত হলে কুফরের বিজয় হয়। কুফরের সাথে ঈমানের সহাবস্থান অকল্পনীয়।

সুতরাং দ্বীন শেখার ক্ষেত্রে সবার আগে ঈমান ভঙের কারণগুলো একটি একটি করে মুখস্থ করে নেয়া উচিত। অজু ভাঙার কারণ জানার আগে ঈমান ভঙের কারণ জানা প্রয়োজন।

ঈমানকে যখন চিনে ফেলবেন তখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, কোন দল ছেড়ে কোন দলে যুক্ত হবেন। কী ত্যাগ করবেন, কী গ্রহণ করবেন। কাউকে বলে দিতে হবে না।

- নজরুল ইসলাম

29/11/2021

পূর্ববর্তী উলামাদের মাঝে কেউ কেউ বলতেন, "তোমরা যখন নতুন ধরণের গুনাহ করবে, আল্লাহও নতুন ধরণের শাস্তি পাঠাবেন তোমাদের ওপর।" - ইমাম ইবনুল কায়্যিম।
(الداء والدواء)

এটা পড়ার পর থেকে কেমন যেন লাগছে। চারপাশে যদি আমরা তাকাই এখন, কী দেখি? নতুন, অভাবনীয়, বিকৃত সব গুনাহ, আর অভাবনীয় সব কষ্টকর পরিস্থিতি!

আল্লাহ যেন আমাদের ক্ষমা করে দেন।

- উস্তাজা নায়লা নুযহাত

13/04/2021

||আলোকিত রমাদান||

১. রমাদানে বান্দার জন্য তিনটি সুযোগ আসে। সিয়াম, কিয়াম, কদর। বান্দা যদি এই তিনটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে রবের দিকে এগুতে পারে, তবে তার জন্য রয়েছে ক্ষমা পাওয়ার অকল্পনীয় সুযোগ।

২. আল্লাহর দিকে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি এগুলেই রব আমার কাছে আসবেন। যে পথ এখন মনে হচ্ছে অনেক দূরের, শীঘ্রই তিনি সেই পথ নিকটে করে দিবেন। যে পথকে ভাবছি বন্ধুর ও দুর্গম, রব সে পথে এগুনো আমার জন্য সহজ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আমাকে তাই হিম্মত করতে হবে। সাহসে ভর করে এগিয়ে যেতে হবে।

৩. গোপন আমলের শ্রেষ্ঠ সময় রমাদান। ইলম অর্জন করি গোপনে, আমল করি গোপনে, কিয়াম করি গোপনে। শুধু রব জানুক, আর কেউ না।

৪. আমাদের রব আল্লাহ বলেছেন, সিয়াম তাঁর জন্য এবং তিনিই এর প্রতিদান দিবেন। এই ঘোষণার পর আর কী লাগে আমাদের জন্য। এই এক ঘোষনাই যথেষ্ট আমাদের আমলের গতি বাড়ানোর জন্য। সাওম আল্লাহর নিকট প্রিয় ইবাদত। এটি একই সাথে তাকওয়া, আল্লাহর প্রতি প্রেম এবং আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি করে। সাওমের মাধ্যমে তিন ধরণের ধৈর্য অর্থাৎ, আল্লাহর আনুগত্যের ধৈর্য, হালাল-হারাম মেনে চলার ধৈর্য, এবং আল্লাহর বিধান ও নির্ধারিত তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। ফলে সাওমের প্রতিদান অনেক বেশী তা সহজেই অনুমেয়। সাওম এমন এক ইবাদত যার মাঝে শিরকের সম্ভাবনা নেই।

৫. রমাদানে বোনেরা দুঃখকষ্টে ভোগেন তাদের কিছু শরয়ী ওজরের কারণে। তারা ভাবতে থাকেন, তাদের কাছে নেক আমল করার সুযোগ নেই। ফলে তারা টিভির সামনে বসে থাকেন এবং বিরাট নিয়ামত হতে নিজেকে বঞ্চিত করেন। বস্তুত রামাদানে সিয়াম না করার মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ পালন করে বোনেরা সারাদিন সওয়াবের সুযোগ পান। সুস্থ অবস্থায় সিয়াম আদায় করা যেমন রবের আদেশ, বিশেষ অবস্থায় সিয়াম আদায় না করাও রবের আদেশ। ফলে তাদের হতাশার কিছু নেই।

৬. রমাদান এমন এক মৃদুমন্দ বাতাস, যা শরীর ও মনন শীতল করে দেয়। তাই এই বাতাসের পরশে, মিষ্টি ঘ্রাণ নিয়ে জীবন গোছানো আমাদের জন্য অপরিহার্য। সময়ের সদ্ব্যবহার করে, নিজের চেয়ে উত্তম আমল, আখলাকওয়ালা বান্দার সোহবতে এসে, গোপনে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই রামাদানের সুবাস নেওয়া যায়। তাছাড়া নেক আমল করার আগে প্রস্তুতি নেওয়া, (যেমন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ পড়ার আগে দুই রাকাত নফল সালাত পড়তেন প্রস্তুতি হিসেবে), নেক আমল ছুটে গেলে হৃদয় বিগলিত হওয়া, কাফফারা হিসেবে আরও কিছু নেক আমল করা আমাদের রমাদানের সুবাস পেতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

৭. সালাফদের মত আমল না করে আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে, সালাফদের মত আমরা একই জান্নাতে প্রবেশ করব? সালাফদের মত একই জান্নাত পেতে চাইলে আমাদের সালাফদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে হবে। নেক আমলের গতি বাড়াতে হবে।

৮. আল্লাহ মুনিব ব্যক্তিকে পছন্দ করেন। যে ব্যক্তি তাওবাহর পর নিজেকে বদলে ফেলে, আল্লাহর দিকে একধাপ এগিয়ে যায়, বিরতিহীন তাওবাহ করে আল্লাহর দিকে ছুটে যায়, গুনাহের ছাপে মরচে পড়া অন্তরটাকে কোমল করার কসরত করে, অনুনয় বিনয় করে কাঁদে, নিজেকে ইসলামের ছাঁছে পরিশুদ্ধ করে, তার চেয়ে উত্তম আর কে আছে? রামাদান হোক ইনাবার শুরু। চলতে থাকুক আজীবন।

৯. দোয়ায় লেগে থাকা জরুরি। আমাদের রব চান আমরা যেন দোয়া করি। আমরা যদি দোয়া করতে থাকি, তবে এই দোয়া কবুল হয়ে আমাদের জরুরত পুরা হওয়ার পাশাপাশি দোয়া করার জন্যও আমরা সাওয়াব পাব।

১০. গোপন আমল করা। যতটুকু পারা যায়। যত গভীরভাবে আমল গোপন করা যায়। আল্লাহ বান্দার গোপন আমলের উসিলায় বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তার দোয়া কবুল করেন। শেষরাতের কিয়াম এমন এক তীর যা কখনও লক্ষভ্রষ্ট হয় না। আজ বিশ্বব্যাপী মজলুম উম্মাহর উপর হওয়া জুলুমের ব্যাপারে আমি আপনিও সমান দায়ী। আমাদের দোয়া থেকে যেন তাদের কথা বাদ না পড়ে। অন্তত আল্লাহকে বলতে তো পারব, ইয়া আল্লাহ! আমি দোয়া করেছিলাম।

১১. হারিয়ে যাওয়া আমলগুলো নিয়ে সময় কাটানো হতে পারে রমাদানে উত্তম করণীয়।
-ফজরের আগে ইস্তেগফার করা। আশেপাশে সবাই যখন ব্যস্ত, সাহরীতে কিংবা অন্য কাজে। রহমানের বান্দারা তখনই চট করে এককোণে বসে পাঁচ, সাত মিনিট ইস্তেগফার করে নেয়।
-আগে যেসব আমল করতাম না, সেসব আমল শুরু করা।
-তাফাক্কুর করা। এ বিষয়টা যেন আমাদের জীবন থেকে হারিয়েই যাচ্ছে। আমরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা আখিরাত নিয়ে কল্পনা করি না। জান্নাত, জাহান্নাম নিয়ে চিন্তা করি না। অথচ গুনাহের ফলে আমাদের মননে যে মরচে পড়েছে তা ধুয়ে মুছে সাফ করতে তাফাক্কুরের জুড়ি নেই।
-তাবাত্তুল করা, তথা সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আল্লাহর জন্য সমর্পণ করা। সাধারণত আমরা তিন ধরণের তাবাত্তুল দেখতে পাই।
*গৃহসংসার থেকে বিরাগ হয়ে যেভাবে খ্রিষ্টান ধর্মযাজকেরা গীর্জায় নিজেকে আবদ্ধ করে রাখে। ইসলাম আমাদের এই তাবাত্তুলের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে।
*দিনের নির্দিষ্ট অংশে নিজেকে দুনিয়া থেকে পৃথক করে নেওয়া। পাঁচ-দশ মিনিট একমনে দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত, আযকারে রত হওয়া এর অংশ। এই তাবাত্তুলের উত্তম সময় হলো রাতের শেষ একতৃতীয়াংশে সবকিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রবের নিকট পড়ে থাকা।
*তৃতীয় প্রকার তাবাত্তুল তাবাত্তুলের সর্বোচ্চ ধাপ। এটা হলো মনকে পুরোপুরি আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে দেওয়া। এ নিয়ামত উম্মাহর খুব কম মানুষ পায়। তারা আমাদের সাথেই থাকে। শারীরিকভাবে আমাদের মাঝেই থাকে। কিন্তু তাদের মন ঘোরাফেরা করে আসমানী বিষয়াদির ভাবনায়। প্রতিটা কাজ করার সময় তারা চিন্তা করে সে কাজে রব খুশি হবেন কিনা।

১২. রমাদান কুরআন নাজিলের মাস। সালাফরা রমাদানে হাদিস, ফিকহের দারস পর্যন্ত স্থগিত করে দিতেন যেন রাতদিন কুরআনকে সময় দিতে পারেন। হতাশ হই, দুঃখে জর্জরিত হই, অশান্তিতে থাকি, সুখে ভাসি, আনন্দিত হই, আমরা যেন কুরআন পড়ি। সব কাজের ফাঁকে, কুরআন আমাদের ঠোঁটে লেগে থাকুক। একমাত্র কুরআনকে বন্ধু বানালেই আমরা সফল হবো। কুরআন ছাড়া আমাদের উৎকৃষ্ট কোনও বন্ধু নেই। হতে পারে না। এটা তো সেই কুরআন যা অমুসলিম মুশরিকদের হৃদয়েও প্রভাব ফেলে। এটা সেই বন্ধু যা আমাদের হাত ধরে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আমাদের জন্য সুপারিশ করে।

১৩. প্রথম ধাপেই টার্গেট বড় না করি। আমাদের সালাফরা এক রাতে দুইবারও কুরআন খতম দিয়েছেন। এখন সেটা দেখে শুরুতেই যদি আমরা নির্ধারণ করি, অবশ্যই একরাতে দুই খতম দিবো, এতে বিপত্তি বাঁধতে পারে। শয়তান আমাদের ওয়াসওয়াসা দিয়ে এক ইবাদতে অনেকক্ষণ আটকে রেখে সব শক্তি নিঃসৃত করে ফেলে। পরবর্তীতে এমন হয়ে যায় যে, খতম তো পরের কথা, আমরা প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াতই ছেড়ে দিই। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ সেসব আমল পছন্দ করেন যা নিয়মিত করা হয়। কাজেই আমাদের দরকার অল্প আমল হলেও এমন পরিমাণে নির্ধারণ করা যা আমরা নিয়মিত করতে পারব।

১৪. সদাকাহ। রমাদানের উৎকৃষ্ট আমল। সালাফরা লুকিয়ে, গোপনে, ছোট, বড় সদাকায় মেতে থাকতেন। সদাকাহর মাধ্যমে আমরাও আমাদের রমাদানে সুশোভিত করতে পারি। এ রমাদানে যাকাত দেওয়ার অথবা সদাকাহ করার সবচেয়ে ভালো খাত হচ্ছে এমন একটি পরিবারকে খুঁজে বের করা, যেখানে কারো স্বামী জেলখানায় আছে। যে মহিলার স্বামী জেলখানায় আছে, তাকে বিধবার মতই বলা চলে।

১৫. আমরা অনেকেই রমাদান শেষ হওয়ার আগে রমাদানের স্বাদ হারিয়ে ফেলি। আমরা গতানুগতিকভাবে সিয়ামরত হই, তাই আমাদের মধ্য থেকে রমাদানের মিষ্টতা চলে যায়। যদি আমরা মনের মাঝে গেঁথে ফেলতে পারি এই সিয়াম কেবল আল্লাহর জন্য, তবে রমাদান আমাদের নিকট সুপেয় মিষ্টি পানির মত মনে হবে। ইবাদাতের মাঝে আনন্দ সবাই পায় না। তারাই পায়, যাদের প্রতি আল্লাহ ইহসান করেছেন। আমরা যদি আল্লাহকে প্রচণ্ড ভালবেসে, আল্লাহকে খুশি করতে সিয়ামরত হই, ঠিকই আমরা সাওমে আনন্দ, প্রশান্তি খুঁজে পাব। আমাদের হৃদয় যদি এসবের উপর গভীর মনোনিবেশ ও তাফাক্কুর করার পরও পুলকিত না হয়, আমরা যদি সাওমের মিষ্টতা অনুভব না করি, আফসোস! আমাদের দূর্ভাগ্য।

১৬. মানুষ যখন কাউকে ভালবাসে, তখন সে চায় তার সাথে একাকী সময় কাটাতে। রহমানের বান্দারাও তেমন। তারা আল্লাহর সাথে একাকী সময় কাটাতে ভালবাসে। আর একাকী সময় কাটানোর জন্য, কেবল আল্লাহর দিকেই মনোনিবেশ করার জন্য ইতেকাফের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সুযোগ আর হতে পারে না। নবিজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত কক্ষনো ইতেকাফ ছাড়েন নি। আফসোস আজ মুসলিম হয়ে আমরা ইতেকাফ ছেড়ে দিই, ইতেকাফকে মাজলুম, হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহয় পরিণত করেছি। রামাদানের শেষ দশদিনকে নবিজি এতই গুরুত্ব দিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের সময় দেওয়ারও সুযোগ পেতেন না। কেবল আল্লাহর সাথে, আল্লাহর মাঝে মশগুল থাকতেন। আমাদেরও তেমনই হওয়া চাই। সালাত, যিকির, তিলাওয়াত, প্রশংসা, সাদাকাসহ যত ধরণের ইবাদতের কথা আমাদের মনে পড়ে, আমাদের উচিত তত ধরণের ইবাদত নিয়েই আল্লাহর কাছে চলে আসা, নিজের সবটুকু উজাড় করে ঝাঁপিয়ে পড়া। আল্লাহকে ভালবেসে, আল্লাহর মাঝে, আল্লাহর সাথে সময় কাটানো। নিজেকে পাপমুক্ত করে আল্লাহর প্রিয় বান্দার তালিকাভুক্ত করার এখনই সময়।

১৭. লাইলাতুল কদর। আমাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান রাত। এই রাতের ইবাদত হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। আমাদের জীবনের সবচেয়ে খুশির রাত হওয়া উচিত লাইলাতুল কদর। কেননা, এ রাতে আমাদের কাঁধ থেকে আমাদের গুনাহ সরিয়ে নেওয়া হয়। এ রাতে অল্প কয়েকঘন্টার আমল করে আমরা হাজার রাতের সমান সওয়াব পেয়ে যাই। একবার আলহামদুলিল্লাহ বললে আমরা হাজার রাতের সমান আলহামদুলিল্লাহ বলার সওয়াব পাই। একবার তাওবা করলে হাজার রাত একনাগাড়ে তাওবাহর সওয়াব পাই। ওয়াল্লাহি আমার জানা নেই আর কোন রাত এ রাত অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। এ রাত যে গাফলতে কাটিয়ে দেয়, আল্লাহর কসম, সে নিজের প্রতি নিজে জুলুম করে, নিজেকে নিজে ধোঁকায় রাখে।

১৮. রমাদানে আমাদের মাঝে ইযযাহ বৃদ্ধি করে। রমাদানে আমরা কামনা, বাসনা, নিচ, জঘন্য কাজ, পাপাচার থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে সম্মান অর্জন করি। আমরা যখন সাদাকাহ করি, আল্লাহ আমাদের সম্মান বাড়িয়ে দেন। কেননা, নিচের হাত অপেক্ষা উপরের হাত উত্তম। নবিজি আমাদের মানুষের কাছে না চেয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে বলেছেন। এই রামাদান ইযযাহের মাস।
আমরা মুসলিমরা বড় একটা সমস্যায় ভুগি। ইযযাহের অভাবে ভুগি আমরা। দেখা যায় আমরা কোনো মজলিশে থাকলে যদি সেখানে গীবত, পরচর্চার আড্ডা চলে তবে তা ভেঙে দেওয়ার সাহস করি না, সালাতের সময় হলে দাঁড়িয়ে যাই না। সামনের জন কী ভাববে তা নিয়ে চিন্তা করি। ইসলামের সব বিধান নিয়ে গর্ববোধ করি না, সম্মানিত বোধ করি না। পশ্চিমা নোংরা যুক্তির কবলে পড়ে দ্বীনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলি। একজন মুসলিমের চরিত্র কীভাবে এমন হতে পারে? আমরা কীভাবে আমাদের দ্বীন নিয়ে, ধর্মীয় বিধান নিয়ে সম্মানিত বোধ করি না? আমরা কীভাবে আমাদের শারীয়াহ নিয়ে গর্ববোধ না করে থাকতে পারি!

১৯. আমাদের জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোট্ট মাংসপিণ্ডের জিহ্বাই যথেষ্ট। গীবত, পরনিন্দা, কুৎসা রটানো, গালিগালাজ, মিথ্যাচার, ফন্দি আঁটাসহ যাবতীয় গুনাহ আমরা জিহ্বার মাধ্যমেই করি।

-সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কল্যাণে অনেকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখির ব্যাপারে সতর্ক হই না। আমরা মনে করি যেহেতু জবানের মাধ্যমে আমরা কিছু বলছি না, তাই এটা হিফাযতের দরকারের নেই। বস্তুত এটা ভুল। গীবত গীবতই, মিথ্যাচার মিথ্যাচারই। যেখানেই হোক, যেভাবেই হোক।
-নবিজি এই ব্যাপারে আমাদের মূলনীতি শিখিয়ে গেছেন। হয় আমরা চুপ থাকবো, নয় ভাল কথা বলবো।
-মুখের কথাকে নিছক হারাম হালালের সাথে তুলনা করা যাবে না। অকল্যাণকর কথা থেকে বিরত তো থাকতেই হবে, বরং যেসব কথার মাঝে কল্যান নেই, অকল্যানও না, সেসব থেকেও দূরে থাকতে হবে। খায়েশ মেটাতে কিংবা বাচালতার দরুণ জিহ্বা চালিয়ে যেতে হবে না। যদিও চালাতে হয়, তবে যেন তা কল্যাণ বয়ে আনে।
-যদিও সিয়ামরত অবস্থায় জবানের হেফাযত না করলে আমাদের সিয়াম ভেঙে যায় না, তবে অনবরত সওয়াব আসা থেমে যায়, পুরষ্কারপ্রাপ্তি থেমে যায়।
-একমাত্র জিহ্বার সংযম না করার কারণে আমরা আমাদের ভাল আমলগুলো অন্যকে দিয়ে দিই। আমরা হয়তো হজ করি, উমরা করি, কিয়ামুল লাইল করি, কিন্তু অল্প একটু গীবত, মিথ্যাচার, সমালোচনা, গালি দেওয়ার কারণে আমরা আমাদের সব আমল অন্যকে বিলিয়ে দিই।

-গীবত শ্রবণকারীও গুনাহের ভাগিদার। তাই কোথাও গীবতের পসরা বসলেই আমাদের অনতিবিলম্বে সেই মজলিশ ভেঙে দিতে হবে। যদি আমাদের সামনে কেউ পরনিন্দা করে, তবে যাকে নিয়ে করা হচ্ছে, তার সম্মান রক্ষার্থে আমরা প্রতিবাদ করে উঠি আল্লাহ আমাদের জাহান্নাম হতে হেফাযত করবেন ইনশাআল্লাহ।
-যদি আমরা কারো ব্যাপারে জবানের খিয়ানত করে ফেলি, তবে আমাদের কর্তব্য হলো প্রথমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, জবানের খেয়ানত সম্পর্কে সর্বোচ্চ সচেতন থাকা এবং যার ব্যাপারে খেয়ানত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। যদি ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আমাদের কর্তব্য হলো সে ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, সাদাকা করা, তার ব্যাপারে ভাল কথা বলা।

২০. রমাদান আত্মশুদ্ধির মাস, তাকওয়া অর্জনের মাস। এই রামাদানে আমরা গুনাহ থেকে বিরত হওয়ার পর, আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিষ্পাপ হওয়ার পর যেন আমরা আবার গুনাহে না জড়াই।

-রামাদানজুড়ে শয়তান থাকে শেকলে বাঁধা, বন্দী। তাই বন্দীত্ব থেকে ছোটার পরপরই সে আমাদের সামনে গুনাহের পসরা সাজাবে। রঙবেরঙের গুনাহ। আমরা যেন সেই পাতা ফাঁদে পা না দিই। আমরা যেন রামাদানে সিজনাল মুসলিম না হই।
-রামাদান আমাদের ঈমানদার মুসলিম তৈরি হওয়ার সময়। আমরা যেন এই সময়কে চূড়ান্তভাবে কাজে লাগাই এবং রামাদান শেষে গুনাহে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিফাকে না পতিত হই।
-শয়তান একমাত্র মুমিন ছাড়া বাকি সবার উপর প্রভাব বিস্তার করে। আমরা যেন শয়তানকে পরাজিত করি। মুমিন হয়ে যাই। মুমিনদের দলে ভিড়ি। অন্তত মুমিন হওয়ার পেছনে কসরত করতে থাকি, আঠার মত লেগে থাকি।
-রামাদানের পর আমরা যেন প্রতিদিন অল্প কিছু আয়াত কুরআন পড়া, শেষরাতটুকু আল্লাহকে দেওয়া, সাদাকা করা, মাসের অন্তত দুই তিনটা দিন সিয়াম পালন করায় ব্যস্ত থাকি। অল্প থেকে শুরু করি। যাতে আল্লাহর পছন্দের বান্দা হতে পারি। আল্লাহ বান্দার নিয়মিত আমল পছন্দ করেন। আমরা যেন আমাদের আমলে নিয়মিত হই।

-ইবাদত করলেই তা কবুল হবে এই ব্যাপারে গ্যারান্টি কার্ড আমাদের কাছে নেই। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন, অন্তত রামাদানের শেষ দশদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করা, তিনি যেন আমাদের ইবাদত, আমাদের রামাদান কবুল করে নেন। আমাদের ইস্তিকামাতের ওপর রাখেন।
-যাদের সাথে আমরা সম্পর্ক ছিন্ন করেছি, অবিলম্বে তাদের সাথে আপোস করা উচিৎ। রামাদান শেষ হওয়ার আগেই। দোষ যারই হোক, আপোসের ক্ষেত্রে নিজে এগিয়ে গিয়ে আল্লাহর পছন্দের বান্দা আমাদেরই হতে হবে। নুন্যতম সালামের বিনিময় করি।
-অন্তর থেকে রাগ, ক্ষোভ, ঘেন্না ঝেড়ে ফেলি। সকলকে ক্ষমা করে দিই। সব ক্ষোভ মুছে ফেলি। আমাদের রবের সন্তুষ্টিই আমাদের জন্য উত্তম বিনিময় হবে।

রামাদান চলে যাবে। আমরা জানিনা আমরা আগামী রামাদান পাব কিনা। আমরা জানিনা আমরা এই রামাদান পুরা করতে পারব কিনা। আমরা যেন আল্লাহর নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই। আল্লাহ আমাদের উপর রাজিখুশি থাকুন। এবং আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউসে মিলিত করুন।

#নির্মল_জীবন
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

লেখাঃ ইমরান রায়হান [শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিলের লেকচারসিরিজের অনুবাদ ‘ধূলিমলিন উপহার রমাদান’ অবলম্বনে]
(আল্লাহ্‌ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

শেয়ার করে বন্ধুদের জানিয়ে দিবেন ইং শা আল্লাহ 📣

26/07/2020

|| কুরবানির ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত মিথ্যা গল্প ||

বেশির ভাগ মুসলিম যে গল্পটি সত্য বলে জানে

কুরবানি সংক্রান্ত ওয়াজ করার সময় অনেক ওয়াজেয়ীনরা একটি গল্প বলে থাকেন। স্বপ্নের মাধ্যমে কিভাবে কুরবানীর সূচনা হলো গল্পটি সে সংক্রান্ত। গল্পটি মুসলিম মাত্রই শুনে থাকবেন। এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যারা এটি শুনেন নাই। আজ এই পরিচিত গল্পের সত্যতা কুরআনের কষ্টিপাথরে আমরা যাচাই করব ইনশাআল্লাহ।

কুরবানীর ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত গল্পটি এরকমঃ
ইবরাহীমকে (আ) স্বপ্নে দেখানো হলো "তোমার প্রিয় বস্তুকে কুরবানী কর"। তখন তিনি ১০০ উট কুরবানি করলেন। আবার একই স্বপ্ন দেখানো হলে তিনি ১০০ দুম্বা কুরবানী করলেন। আবারও একই স্বপ্ন দেখানো হলে তিনি গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখলেন তার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে তার সন্তান ইসমাঈল (আ)। তখন ইবরাহীম (আ) তার স্ত্রী হাজেরাকে (আ) বললেন ছেলেকে গোসল করে সাজিয়ে গুছিয়ে দেয়ার জন্য। বললেন তিনি ছেলেকে নিয়ে দাওয়াত খেতে যাবেন। জবাইয়ের আগে ইসমাঈল (আ) তার পিতা হযরত ইবরাহীমকে (আ) বলেন তিনি যেন তাকে শক্ত করে বেধে নেন। যেন বাবার গায়ে হাত পা ছুটাছুটির সময় পা লেগে না যায়। আর তার রক্তে মাখা জামা-কাপড়গুলো যেন তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। যেন তার মা কাপড়গুলো নিয়ে সান্ত্বনা পান। ইসমাঈল (আ) আরো বলেন তাকে কাত করে শোয়াতে। যেন ইবরাহীম (আ) তার চেহারা দেখে মায়ার বশবর্তী হয়ে কুরবানী করা থেকে বিরত না হন। বলা হয় ইবরাহীম (আ) বারবার ছুরি চালাচ্ছিলেন কিন্তু কিছুতেই জবাই হচ্ছিল না। ইত্যাদি... ইত্যাদি... ইত্যাদি...

উপরের এই গল্পটি কোনো কোনো ওয়াজেয়ীন হুজুর হয়ত কয়েক ঘন্টা দীর্ঘ করেও বলতে পারবেন। গল্প বলার সময় এর সাথে আরো ডালপালা ছড়িয়ে হৃদয় বিদারক আর আবেগী পরিবেশ তৈরি করেন। দুঃখজন ব্যাপার হলো "এই গল্পটি ডাহা মিথ্যা"। একজন নবীর ব্যাপারে সরাসরি মিথ্যাচার। কুরআনের বাণীর বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান! উপরের গল্পটি সরাসরি কুরআনের বাণীর বিরুদ্ধে। চলুন জেনে নিই কুরবানীর ইতিহাস সম্পর্কে কুরআন কী বলে।

॥॥ কুরআনের আলোকে কুরবানীর ইতিহাস ॥॥

কুরআন মাজীদের সূরা সফফাতের ১০২ থেকে ১০৮ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْىَ قَالَ يٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرٰى فِى الْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرٰى ۚ قَالَ يٰٓأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ اللَّهُ مِنَ الصّٰبِرِينَ

অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কী? সে বললঃ পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।

فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ

অতঃপর যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং পিতা পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন,

وَنٰدَيْنٰهُ أَن يٰٓإِبْرٰهِيمُ

তখন আমি তাকে ডেকে বলামঃ হে ইব্রাহীম!

قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْيَآ ۚ إِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِينَ

তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে প্রমাণ করলে। আমি এরূপেই খাঁটি বান্দাদেরকে পুরস্কার দিয়ে থাকি।

إِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْبَلٰٓؤُا الْمُبِينُ

নিশ্চয়ই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।

وَفَدَيْنٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ

আর আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান জবেহ (জান্নাতী দুম্বা) এর বিনিময়ে।

(সূরা সফফাত, আয়াত ১০২-১০৮)

চলুন এবার দেখে নিই কুরআনের সাথে প্রচলিত গল্পটির কী কী বৈপরীত্য আছে।

॥ প্রিয় বস্তু কুরবানী করা ॥

সূরা সফফাতের ১০২ নং আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে ইবরাহীম (আ) স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, ইসমাঈলকে (আ) তিনি কুরবানি করছেন। কিন্তু প্রচলিত গল্পে বলা হয় তিনি বারবার "প্রিয় বস্তু" কুরবানি করার স্বপ্ন দেখেছেন। এরপর অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বুঝতে পারেন যে ইসমাঈলকে (আ) কুরবানি করতে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রিয় বস্তু কুরবানীর বিষয়টি কুরআনের এই আয়াতের বিরুদ্ধে যায়। এই "প্রিয় বস্তু কুরবানীর" মিথ্যাকে কেন্দ্র করে কিছু অতি উৎসাহী মানুষ বলে থাকে হাট থেকে কেনা গরু ছাগলে কুরবানী হয় না। কারণ সেগুলো নিজের পালা পশু না। নিজে পাললে তার প্রতি মায়া জন্মে। এজন্য এগুলো দিয়ে কুরবানী হবে না। একটা বানোয়াট কথার উপর ভিত্তি করে আরেকটা বানোয়াট কথার উদ্ভব। আল্লাহ এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা থেকে মুসলিমদের রক্ষা করুন।

॥ দাওয়াত খাওয়ার মিথ্যা কথা বলে কুরবানি করতে নিয়ে যাওয়া ॥

গল্পে বলা হয়েছে ইবরাহীম (আ) তার স্ত্রীকে বলেছিলেন "ছেলেকে সাজিয়ে গুছিয়ে দেয়ার জন্য। কারণ হিসাবে বলা হয় দাওয়াত খেতে যাবেন বা বেড়াতে যাবেন"। নাউযুবিল্লাহ! আল্লাহর একজন নবী ইবরাহীম (আ) মিথ্যা কথা বলে আল্লাহর একটি নির্দেশ পালন করবেন!!! নাউযুবিল্লাহ!

যেই ওয়াজেয়ীনগণ বা সমাজে যারা এ গল্প প্রচার করেন তারা সরাসরি একজন নবীকে (আ) মিথ্যাবাদী বানিয়ে দিচ্ছেন! আল্লাহ মাফ করুন।

কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে "ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কী? সে বললঃ পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। (সূরা সফফাত ১০২)"

এখানে পিতা-পুত্র দুইজনই আল্লাহর নবী (আ)। পিতা সরাসরি পুত্রকে আল্লাহর আদেশের কথা বলেছেন। পুত্রও সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য। সেখানে আমরা মিথ্যাচার করে বানোয়াট গল্প প্রচার করে থাকি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই গল্প প্রচার হয়ে আসছে। আমাদের মধ্য থেকে অনেক হতভাগা হয়ত এ লেখা পড়ে বলে উঠবেন "বাপ দাদার আমল থেকে এসব শুনে আসছি। তারা কি সব ভুল আছিলো? নতুন নতুন হাদীস আবিষ্কার করে এখনকার হুজুররা!" আল্লাহ এসকল লোকদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

॥ কাত করে শোয়ানোর ব্যাপারে ॥

এছাড়াও হাত-পা বাধা বা কাত করে শোয়ানোর ব্যাপারে বলা হয় ইসমাঈল (আ) কাত করে শোয়াতে বলেছিলেন। যেন ইসমাঈলের (আ) চেহারা দেখে মায়া জন্মে ইবরাহীম (আ) কুরবানী থেকে ফিরে না আসে। এটাও ভিত্তিহীন কথা। কুরআনের বাণী থেকে জানতে পারি ইবরাহীম (আ) কাত করে ইসমাঈলকে (আ) শুইয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামাঈল (আ) এমন কথা বলেছিলেন এটা কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। গল্পের এই কথা দ্বারাও নবীর (আ) প্রতি বেয়াদবী হয়। কারণ এখানে সংশয় প্রকাশের অবকাশ তৈরি করা হয় যে ইবরাহীম (আ) তার পুত্রের মায়ায় আল্লাহর হুকুম থেকে যেন ফিরে না আসেন। এটা খুবই অন্যায় কথা।

॥ রক্ত মাখা জামা মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়া ॥

গল্পে বলা হয় ইসমাঈল (আ) তার রক্তাক্ত জামা-কাপড় তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন। যেন তার মা হাজেরা (আ) সেই কাপড়গুলো নিয়ে সান্তনা পান। এ কথাও কুরআন বা হাদীস থেকে পাওয়া যায় না। গল্পকারদের মস্তিষ্ক প্রসূত এসব কথা তাই বিশ্বাস করা বা প্রচার করা যাবে না।

কুরবানী সংক্রান্ত অনেক কথা বা ঘটনা ইহুদীদের বা ইসরাঈলী রেওয়ায়েত থেকে পাওয়া যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে যে কথাগুলো কুরআন-হাদীসের সাথে মিলে যায়, আমরা সেগুলো সেখান থেকে গ্রহণ করব। আর যে কথাগুলোর সত্যতার ব্যাপারে কুরআন-হাদীসের কোনো দলীল পাব না সেগুলোকে গ্রহণ করব না।

যখনই আমরা কোনো ভুল ধারনা বা হাদীসের নামে জালিয়াতির ব্যাপারে পোস্ট করি। একদল লোক এসে প্রশ্ন তুলেন "আমাদের পূর্ব পুরুষরা কি সবাই ভুল ছিল?" আমাদের পূর্ব পুরুষগণ কী বিশ্বাস করতেন, কী জানতেন সেটা আমাদের দলিল হতে পারে না। আর আমাদের বাপ-দাদাগণ কোনো ভুল করতে পারেন না এমন আক্বিদাও পোষণ করা যাবে না। নবী-রাসূলগণ একমাত্র ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত। বাকি সকলেরই কম-বেশি ভুল হয়। আমাদের দাদা, পর-দাদাদের আমলে কুরআন হাদীসের সঠিক ইলম বেশির ভাগের পর্যন্তই পৌঁছে নি। তাই তারা যতটুকু জেনেছেন তা বিশ্বাস করেছেন, আন্তরিক ভাবে ইসলামকে ভালবেসে সেগুলো আমল করেছেন। আল্লাহ তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলোকে ক্ষমা করে দিন। কিন্তু আজকের এই তথ্য প্রযুক্তি আর ইলমের সহজলভ্যতার সময়েও যদি আমরা সঠিক ইলম গ্রহন না করে আগের থেকে জেনে আসা ভুলগুলোর উপর অটল থাকি তাহলে সেটি হবে চরম দুর্ভাগ্যের কারণ।

আল্লাহ আমাদেরকে সত্য গ্রহণ করার সৎ সাহস দান করুন। সত্যের উপর অবিচল রাখুন। সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

_________________________

হাদিসের নামে জালিয়াতি
- খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহিমাহুল্লাহ)

Copied from Muslims Day Android Apps.
[Download link in comment box]

সবচে বড় দৌলত হলো, ইমান। যার ইমান নেই, তার কিছুই নেই। যার ইমানের মত মহাদৌলত আছে, তার সবই আছে।আমরা তো জন্মসূত্রে মুসলমান, ...
19/05/2020

সবচে বড় দৌলত হলো, ইমান। যার ইমান নেই, তার কিছুই নেই। যার ইমানের মত মহাদৌলত আছে, তার সবই আছে।
আমরা তো জন্মসূত্রে মুসলমান, এজন্য ঈমানের প্রতি আমাদের অতো গুরুত্ব নেই। তাছাড়া আমাদের সমাজব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থা এতোটাই নষ্ট যে, সাধারণ মানুষজন অজু ও নামাজ ভঙ্গের কারণ কোনভাবে জেনে গেলেও, ইমান ভঙ্গের কারণ অধিকাংশ মুসলমানেরা জানে না।

দিনদিন মূর্খতা-অজ্ঞতা বা নফসের পূজা করে অনেকেই ইরতিদাদের দরজায় প্রবেশ করছে। এজন্য আমাদের উচিত সমাজের সর্বত্র ইমান ভঙ্গের কারণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা ও এই সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য বইপত্র পৌঁছে দেয়া।

আজকে আমরা যে বইটি আপনাদের সামনে পেশ করছি– তাতে ইমান ভঙ্গকারী দশটি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা বলা হয়েছে। আশাকরি আপনারা উপকৃত হবেন।
- সংগ্রহিত

বইয়ের নামঃ নাওয়াকিদুল ইসলাম

পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক কমেন্টে -

ইবনু রজব (রহ.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে যে, রাসূল (ﷺ) শেষ দশদিন এমনভাবে ইবাদাতে মশগুল থাকতেন, যা তিনি বছরের অন্য কোনো সময়ে...
16/05/2020

ইবনু রজব (রহ.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে যে, রাসূল (ﷺ) শেষ দশদিন এমনভাবে ইবাদাতে মশগুল থাকতেন, যা তিনি বছরের অন্য কোনো সময়ে থাকতেন না। শেষ দশদিন তিনি রাত জেগে সালাত আদায় করতেন, যিকিরে মশগুল থাকতেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কাজেই আপনিও যে ইবাদাত করে প্রশান্তি অনুভব করেন এবং যে ইবাদাত করলে আপনার মনে হয় যে, আপনি আল্লাহর কাছাকাছি আসতে পারছেন—সেই ইবাদাতেই মশগুল হয়ে যান। যদি মনে করেন যিকির করে প্রশান্তি পান, তবে যিকিরে মশগুল হন। যদি কুরআন তিলাওয়াতে প্রশান্তি পেয়ে থাকেন, তবে কুরআন তিলাওয়াতে নিজেকে ঢেলে দিন। যদি সালাত আদায় এবং কুরআন তিলাওয়াতে প্রশান্তি পান, তবে এই দুই ইবাদাতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

লাইলাতুল ক্বদরের কিছু বিশেষ দুআ আছে, যা আমরা পড়তে পারি। লাইলাতুল ক্বদরে সারারাত জেগে ইবাদাতে মশগুল হয়ে থাকাটা নবিজি (ﷺ)-এর সুন্নাহ, সুতরাং আমরা নিজেরা এবং নিজেদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই সুন্নাহটুকু পালন করব ইনশাআল্লাহ্‌। সুফিয়ান আস-সাওরি (রহ.) বলেছেন, “যখন রামাদানের শেষ দশ রাতের আবির্ভাব হয়, তখন যেন আমরা নিজেরা ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ্‌র ইবাদাত করি এবং নিজেদের পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে তুলি যেন তারাও এই ইবাদাতে শামিল হতে পারে, কারণ এই কাজের জন্য আল্লাহ্‌র কাছ থেকে আমরা পুরস্কৃত হব।”

রামাদানের শেষ দশ রাতের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। আমাদের সালাফরা যৌবনে থাকতেই বলতেন যে, “আল্লাহর ইবাদাতের জন্য আমরা দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছি।” এমন নয় যে তাঁরা বৃদ্ধ বয়সের উপনীত হওয়ার পর আল্লাহর ইবাদাতে মনোনিবেশ করেছেন, বরং যুবক থাকতেই তাঁরা নিজেদের সবকিছু দিয়ে আল্লাহর ইবাদাতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। সালাত, আল্লাহর যিকির ও প্রশংসা, কুরআন তিলাওয়াত, সাদাকা সহ কুরআন-হাদিস অনুযায়ী যত ধরনের ইবাদাতের কথা আপনার মাথায় আসবে, সেই সকল ইবাদাতে নিজের সব কিছু উজাড় করে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। রামাদানের শেষ দশ রাতের মধ্যেই আছে সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত রাত—যা হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম—যে রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছিল। নিজের বিশ্রাম এবং ঘুম সংক্ষিপ্ত করুন, অলসতা ঝেড়ে ফেলুন এবং আল্লাহর ইবাদাতের জন্য বিনয়ের সাথে উঠে দাঁড়ান। নিজের উৎসাহ আর উদ্দীপনাকে উজ্জীবিত করুন আর সব ধরনের ঢিলেমিকে বিদায় জানান, কারণ আপনি এখন ইবাদাতের ক্ষেত্রে সাহাবিদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামবেন। আমরা চাই, জান্নাতে যখন সাহাবিদের সাথে আমাদের দেখা হবে, তখন যেন তাঁরা আমাদের দেখে বুঝতে পারেন যে, তাঁদের পরেও দুনিয়াতে এমন বান্দা ছিল যারা ইবাদাতে তাঁদের সমকক্ষ হয়েছিল।

রামাদানের শেষ দশ দিন যেন রামাদানের প্রথম বিশ দিনের মতো না হয়। আপনার রামাদান যেন বছরের অন্যান্য আর সাধারণ দিনের মতো চলে না যায়। শেষ দশ দিনে আপনাকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে পূর্বের সকল মাইলফলক অতিক্রম করতে হবে, অর্থাৎ রামাদানের শেষ দশ দিনে, রামাদানের প্রথম বিশ দিনের সম্মিলিত ইবাদাতের থেকেও বেশি ইবাদাত করতে হবে।

আমরা কেউই জানি না আমরা পরের রামাদান পাব নাকি তার আগেই আমাদের অন্ধকার কবরে আশ্রয় নিতে হবে। আমরা তো এটাও জানি না কবরে আমাদের অবস্থা কেমন হবে! রামাদানের এই সময়গুলোর মতো আমাদের জীবনও এভাবেই শেষ হয়ে যাবে। মুমিন এবং পাপী উভয়েই চলে যাওয়া সময় নিয়ে আফসোস করবে। মুমিনরা এই ভেবে আফসোস করবে যে, কেন সে আরও বেশি ইবাদাত করল না, আর পাপী আফসোস করবে কেন সে আল্লাহর দিকে ফিরে এলো না। কাজেই আল্লাহর ইবাদাতে দ্রুততার সাথে এগিয়ে আসুন, তাহলে আল্লাহও আপনার দিকে দ্রুততার সাথেই এগিয়ে আসবেন।
ধূলিমলিন উপহার: রামাদান
শাইখ আহমাদ মূসা জিবরীল
সীরাত পাবলিকেশন

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রহমানের বান্দা - Slave Of Ar-Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share