29/05/2026
মূসা বিন সোলায়মান আল-হাশেমী নামক এক রাজপুত্র বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় কোটি দিরহাম, যা তিনি দাস-দাসী, মদ্যপান এবং নাচ-গানের পেছনে উড়িয়ে দিতেন।তিনি ছিলেন আখেরাতের ব্যাপারে সম্পূর্ণ গাফেল।
এক রাতে মদ্যপ অবস্থায় তিনি দাসীদের নিয়ে গানের আসরে মত্ত ছিলেন। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসা এক করুণ ও হৃদয়বিদারক সুর তাকে চমকে দিল। সুরটি এতই বেদনাদায়ক ছিল যে, তার নেশা কেটে গেল এবং মন অস্থির হয়ে উঠল।
তিনি হুকুম দিলেন, "সব গান-বাজনা বন্ধ করো! এই আওয়াজ কোত্থেকে আসছে, তা খুঁজে বের করো এবং সেই ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।"
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কাছের এক মসজিদে এক দুর্বল ও শীর্ণকায় যুবক আল্লাহর ভয়ে কাঁদছে এবং তিলাওয়াত করছে। তাকে রাজপুত্রের সামনে আনা হলো।
রাজপুত্র বললেন, "তুমি যা পড়ছিলে, তা আমাকে শোনাও। তোমার সুর আমার অন্তরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।"
যুবকটি তখন সূরা আল-মুতাফফিফিনের ২২-২৮ নম্বর আয়াতগুলো তিলাওয়াত করল। যার অর্থ,
“পুণ্যবান লোকেরা থাকবে অফুরন্ত নিয়ামাতের মাঝে। উচ্চ আসনে বসে তারা (চারদিকের সবকিছু) দেখতে থাকবে।তুমি তাদের মুখে আরাম আয়েশের উজ্জ্বলতা দেখতে পাবে।
তাদেরকে পান করানো হবে সীল-আঁটা উৎকৃষ্ট পানীয়।তার সীল হবে মিশকের, প্রতিযোগীরা এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করুক।তাতে মেশানো থাকবে ‘তাসনীম,ওটা একটা ঝর্ণা, যা থেকে (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে।”
এই আয়াতগুলো শোনার সাথে সাথে রাজপুত্র অস্থির হয়ে গেলেন। জান্নাতের নিয়ামত এবং আখেরাতের সুখের কথা শুনে তার অন্তর কেঁপে উঠল। তিনি ওই যুবকের সাথে মাটিতে বসে পড়লেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
সেই রাতেই তিনি খাঁটি তওবা করলেন। তিনি তার সব সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিলেন, দাস-দাসীদের আজাদ করে দিলেন এবং রাজকীয় পোশাক খুলে সাধারণ চটের কাপড় পরলেন।
তিনি খালি পায়েই ওই যুবকের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। হজ করলেন এবং সেখানেই থেকে গেলেন। আল্লাহর প্রেমে তিনি এতটাই দিওয়ানা হলেন যে, একদিন কাবা শরীফ তাওয়াফ করার সময় তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং ইন্তেকাল করলেন।
ইন্তেকালের পূর্বে তার শেষ কথা ছিল,
"হে আমার মালিক! আমি তোমার খবর জানতাম না, তাই নাফরমানি করেছি। হে মহান রব! গোলাম ভালো হোক বা মন্দ, দিনশেষে মালিকের কাছেই ফিরে আসে। আমাকে ক্ষমা করে দাও, এছাড়া আমার আর কোনো চাওয়া নেই।"