26/04/2026
চলুন এক টুকরো জান্নাতে হারাই...
হাওদা বদলের সেই ভালোবাসার কাহিনী।
একবার নবীজি সাঃ এক সফরে যাওয়ার ইচ্ছে করলেন।
নবীজি সাঃ প্রতিটি সফরে কোনো একজন স্ত্রী কে নিয়ে যেতেন।
কিন্তু এবার একটু ব্যতিক্রম, এবার দুজন স্ত্রী যাওয়ার বায়না ধরলে, নবীজি সাঃ দু'জনকেই যাওয়ার অনুমতি দিলেন।
একজন হলেন হযরত আয়েশা রাঃ অপরজন হলেন হযরত হাফসা রাঃ।
কাফেলা সফরের জন্য প্রস্তুত করার সময় দুটি হাওদা বানানো হলো।
(হাওদা মানে হলো উটের পিঠে ছোট ঘরের মতো করে বানানো, যেখানে একজন মানুষ থাকা যায় পর্দার সাথে।)
যাহোক কাফেলা রওনা হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলো, হাফসা রাঃ ও আয়েশা রাঃ এর খুশির আর অন্ত রইলো না।
দু'জনের মনের ভালোবাসার এক অদ্ভুত ঢেউ খেলে গেলো। কলিজার অংশ প্রিয় স্বামীর সাথে সফরে যাচ্ছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে! মাঝে মাঝে যাত্রাবিরতিতে নবীজি সাঃ এর হাত ধরে
হাটা। স্বামীর মুখ থেকে অমূল্য বাণী শোনা। আর মাঝে মাঝে খুনসুটি, অভিমান, পাহাড়ের চূড়ায় হাতে হাত রেখে দু'জন পাশাপাশি দ্বীন বিজয়ের গল্প করা।
এগুলো ভাবতে ভাবতেই আয়েশা রাঃ ও হাফসা রাঃ চললেন উটের পিঠে হাওদার অন্দরমহলে।
যাত্রাবিরতি হলেই নবীজি সাঃ স্ত্রীদের হাওদায় চলে যেতেন, এবং খোশগল্প করতেন দুষ্টুমি করতেন।
তবে হযরত আয়েশা রা. এর সাথে একটু বেশি সময় থাকতেন। কারণ আয়েশা রা. ছিলেন সবচেয়ে ছোটো এবং প্রাণবন্ত হাসিখুশি।
হঠাৎ হযরত হাফসা রাঃ এর মাথায় একটু দুষ্টুমি চিন্তা আসলো। তিনি আয়েশা রাঃ কে বললেন আয়েশা চলো আজকে আমরা হাওদা বদল করি, অর্থাৎ তুমি আমার হাওদায় যাও আর আমি তোমার হাওদায়। দেখি নবীজি সাঃ কি করেন।
আয়েশা রা. রাজি হয়ে গেলেন, আয়েশা রা. ভাবলেন নবীজি সাঃ যখন দেখবে যে আমার হাওদায় আমি নেই তখন সে এখানে আমার কাছে চলে আসবে।
অতএব হাওদা বদল করা হলো। এখন একজন আরেকজনের হাওদায়।
বিরতির সময় নবীজি সাঃ প্রথমে আয়েশা রা. এর হাওদায় আসলেন, কিন্তু সেখানে তো হাফসা রাঃ।
নবীজি সাঃ মনে করলেন ভিতরে আয়েশা রা. তাই একটু কমল স্বরে মজা করে কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু যখন দেখেন ভিতরে হযরত হাফসা রাঃ নবীজি সাঃ হাসিমুখেই কথা বলতে থাকেন কারণ দুজনেই ছিলো নবীজি সাঃ এর একান্ত ভালোবাসার মানুষ।
কিন্তু হযরত আয়েশা রা. অভিমান করে বসলেন,
তিনি অনেকসময় অপেক্ষা করার পরে যখন দেখেন যে, কলিজার টুকরা স্বামী আসেনা তখন তিনি হাওদা থেকে পা বের করে জমিনে রেখে বলেন,
ইয়া আল্লাহ আমি তো আর তাকে কিছু বলতে পারবো না, কিন্তু তুমিও কি দেখোনা...?
তুমি তাকে আমার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করো।
আর বললেন, হায় কেন আমি হাফসার সাথে এই দুষ্টুমি করতে গেলাম।
পরে যখন নবীজি সাঃ আয়েশা রা. এর কাছে আসলেন। দেখলেন তিনি পাহাড় পরিমান অভিমান নিয়ে বসে আছেন।
নবীজি সাঃ একটা মুচকি হাসি দিয়ে কাছে বসে প্রিয়তমার রাগ ভাঙান।
আহ্ কেমন সেই ভালোবাসা।🖤❤️