Dua Therapy

Dua Therapy Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dua Therapy, Religious Center, Dhaka.

22/08/2026

ঘটনাটি পড়ছিলাম আর কাঁদছিলাম। মানুষের হিসাবে অসম্ভব মনে হলেও এমন দুয়া কবুলের ঘটনাগুলি সত্যই কাঁদিয়ে দেয়। আমাদের অনেকের জীবনে এমন ছোট বড় নানা ঘটনা আছে দুয়া কবুলের।
..
মক্কার একজন আলেম ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হলেন।

রাস্তায় খুঁজে পেলেন একটি ব্যাগ। ব্যাগটা নিয়ে ঘরে আসলেন। খুলে দেখলেন সেটাতে একটি হীরার নেকলেস!

তিনি বলেন, এমন নেকলেস আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক!

কিছুক্ষণ পর দরজায় একজন নক করলো। তিনি দরজা খুললেন। একজন বৃদ্ধ বললো, "আমি আমার একটি ব্যাগ হারিয়ে ফেলছি। সম্ভবত আশেপাশের কোথাও পড়েছে। কেউ যদি ব্যাগটি পেয়ে থাকেন, তাকে আমি ৫০০ দিনার দেবো।"

৫০০ দিনার মানে কয়েক কোটি টাকা!

যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় বের হলেন, তিনি হীরা পেলেন, হীরা ফেরত দেবার বিনিময়ে কোটি টাকার অফার পেলেন, সেই ব্যক্তি আমাদের কাছে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না?

কিন্তু, তিনি ভাবলেন অন্য কিছু। তিনি ভাবলেন, এই হীরার মালিক আমি নই, এগুলোর বিনিময়ে ৫০০ দিনার গ্রহণ করা আমার জন্য ঠিক হবে না।

ফলে, বৃদ্ধকে হীরার থলেটি ফিরিয়ে দিলেন।

মক্কায় জ্ঞানার্জন করতে লাগলেন। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।

একবার তিনি কয়েকজনের সাথে ভ্রমণে বের হলেন। নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। মাঝপথে ঝড় ওঠে। নৌকা ডুবে যায়, প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে।

সেই আলেম কোনোরকম একটা তীরে ফিরেন। অপরিচিত দ্বীপে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন নামাজের সময় হলো।

একজন তার পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলো, "আপনি নামাজ পড়াতে পারবেন?"

তিনি বললেন, "হ্যাঁ, পারবো।"

তার তেলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ। তাকে তারা ইমাম হিশেবে রেখে দিলো। তিনি কুরআন পড়তে পারতেন। সেখানকার বাচ্চাদের কুরআন শেখাতে লাগলেন।

প্রতিদিন নানান উপহার-উপঢৌকন আসতে থাকে। দ্বীপের লোকেরা ইমাম সাহেবকে ছাড়তে রাজি না। এমন ইমাম পেয়ে তারা খুব খুশি।

তিনিও ভাবতে লাগলেন, কই থেকে কই আসলেন? একেবারে অপরিচিত এলাকার মানুষ তাকে আপন করে নিলো। আল্লাহ তার রিযিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন!

ইমাম সাহেব যেন তাদেরকে ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তারা একজন ইয়াতিম মেয়ের সাথে ইমামের বিয়ে দিতে চাইলো। অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলো!

ইমাম সাহেব বাসর রাতে স্ত্রীকে দেখে অবাক। তিনি দেখতে পেলেন স্ত্রীর গলায় সেই হীরার নেকলেস, যেটা তিনি মক্কায় ফেরত দিয়েছিলেন বৃদ্ধকে!

পরদিন লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?

লোকজন চিৎকার করে বললো, "আল্লাহু আকবর!"

এমন চিৎকারে ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।

লোকজন বললো, "কয়েকবছর আগে আমাদের এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মক্কা থেকে ফিরে একটি ঘটনা শুনান। সেখানে এক যুবক তার হারিয়ে যাওয়া হীরের নেকলেস ফেরত দিয়েছে, যা তিনি নিজের মেয়ের জন্য কিনেছিলেন।

এলাকায় ফিরে তিনি আফসোস করতে থাকেন সেই যুবকের জন্য। তিনি ইচ্ছাপোষণ করেন সেই যুবকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন।

কিন্তু, তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন!

দেখুন, আপনার তাকদীর, সেই সম্ভ্রান্ত লোকের দু'আ আপনাকে এখানে নিয়ে আসলো। আপনি সেই মেয়েকেই বিয়ে করেন, যার জন্য সেই মেয়ের বাবা দু'আ করে যান। যেই হীরার নেকলেস আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এখন সেই নেকলেস আপনার ঘরে!"

সেই মহান আলেমের নাম ছিলো কাদিল মারিস্তান।

তার মনে পড়লো কুরআনের একটি আয়াত:

"ধৈর্যধারণ করো। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রতিদান নষ্ট করেন না!" [সূরা হুদ: ১১৫]

- আরিফুল ইসলাম

21/08/2026

আল্লাহুমা সাল্লি আ'লা মুহাম্মদ

20/08/2026

দরুদ পড়েছেন তো⁉️

দরুদ পড়ুন : اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
(আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ)

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমত ও শান্তি দান করুন।

— সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ১/২৭৩

বোনেরা যারা সুন্দর বাসা, উত্তম বাসস্থান চান তারা এই আমলটি করতে পারেন ইন শা আল্লহ... অজু করার সময় এ দোয়াটি পড়তে থাকা- الل...
19/08/2026

বোনেরা যারা সুন্দর বাসা, উত্তম বাসস্থান চান তারা এই আমলটি করতে পারেন ইন শা আল্লহ...

অজু করার সময় এ দোয়াটি পড়তে থাকা-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি, ওয়া ওয়াসসিলি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফি রিযক্বি। (নাসাঈ)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার গোনাহ মাফ করে দাও। আমার জন্য আমার বাসস্থান প্রশস্ত করে দাও। এবং আমার রিযিক্বে বরকত দিয়ে দাও।’

কলমে ~ইফফাত সাইফুল্লাহ

#সুন্দর #বাসা

মাদিনার কোনো এক রাস্তায় এক বালক আমার পথ আগলে দাঁড়াল। বয়স ১২/১৩,  নাদুসনুদুস, সবুজ চোখের মনি, সোনালী চুলের ধবধবে ফর্সা বা...
16/08/2026

মাদিনার কোনো এক রাস্তায় এক বালক আমার পথ আগলে দাঁড়াল। বয়স ১২/১৩, নাদুসনুদুস, সবুজ চোখের মনি, সোনালী চুলের ধবধবে ফর্সা বালক।

জিগেস করে: তুমি কোন দেশি?
- কেন?
- আমি ফিলিস্তিনি, গাজ্জা!

মূহুর্তেই তার প্রতি আমার দৃষ্টিতে আবেগ চলে আসে। বালক একটা আতরের ঝুড়ি সামনে ধরে বলে পাঁচ রিয়াল, একটা নাও?
আমি বললাম: আমি আতর নিতে চাচ্ছি না৷
বালক সাথে সাথে একটা আতর আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল: গাজ্জার তরফ থেকে হাদিয়া নাও।
আমি অপ্রস্তুত হয়ে তাকালাম বালকের দিকে, আমার অজান্তেই আমি হাত বাড়ালাম গাজ্জার হাদিয়া নিতে, বালক একটা আমার হাতে দিয়ে আরেকটা বাড়িয়ে দিল আমার পাশে দাঁড়ানো আমার বোনের দিকে। সেও নিল।
আতর দিয়েই বালক অন্য দিকে হাঁটা দিল। মূহুর্তেই আমি ভীষণ কনফিউজড হয়ে গেলাম, জীবিকার প্রয়োজনে সে আতর বিক্রি করছে কিন্তু আমি কিনতে রাজি না হওয়ায় সে হাদিয়া দিল। আবার আমি কিনতে চাইলাম না অথচ হাদিয়া নিয়ে নিলাম। এ বালক অতি চালাক না অতি ভাল বুঝলাম না, উদার মনে হাদিয়া দিল না আমাকে লজ্জা দিল তাও বুঝলাম না।

আমি মূহুর্তেই বালককে ডাকলাম। বালক ফিরে চাইল। বললাম: আতিনি খামসা (আমাকে পাঁচটা দাও)
সে বুঝল আমি তার থেকে পাঁচ রিয়াল চেয়েছি। সে পকেট থেকে পাঁচ রিয়াল বের করে আমার হাতে দিয়ে আবার চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ালো! আমি আরেক দফা আশ্চর্য হলাম !!! এত কষ্ট করে পথে পথে হেঁটে আতর বিক্রি করছ, কিন্তু বিক্রি না করে হাদিয়াও দিবা আবার রিয়ালও দিবা!!

আমি আবার ডেকে বললাম আমাকে পাঁচটা আতর দাও৷ পরে সে খুব খুশি হয়ে পাঁচটা আতর দিল, আমি তাকে পঁচিশ রিয়াল দিলাম, সে খুশি হয়ে গুiনে নিল, এরপর হাদিয়াটার দামও দিলাম সে খুব খুশি হয়ে সেই নোটটাও নিল। আমার বোনও তাকে দেওয়া হাদিয়ার আতরের পাঁচ রিয়াল দিল, সে সেটাও খুব খুশি হয়ে নিয়ে এরপর হাঁটা দিল।

আমি আর আমার বোন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হাসলাম! বালক আর যাই হোক এই ট্রিকস ধরে রাখলে একদিন ভাল তাজের হবে বটে!!



কলমে: Zainab Al Gazi

কথা হচ্ছিল বাংলাদেশী ভাইয়ের সাথে...মদীনার তাইয়্যেবা সেন্টারে...দোকানটা নিজের...কুশল বিনিময় শেষে কথা হলো তার ওমরা হজ্জ্বে...
14/08/2026

কথা হচ্ছিল বাংলাদেশী ভাইয়ের সাথে...
মদীনার তাইয়্যেবা সেন্টারে...দোকানটা নিজের...কুশল বিনিময় শেষে কথা হলো তার ওমরা হজ্জ্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে...আমিও ওমরা হজ্জ্বে এসেছি। এটার চেয়েও তার কাছে গুরুত্ব পেল মাকে নিয়ে এসেছি।
তিনিও মাকে নিয়ে হজ্জ্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন একবার। সেজন্যে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। মুহুর্তেই একটু আনমনা হয়ে ঢুকে গেলেন সেই দিনটাতে।
রিয়াদুল জান্নাহতে প্রবেশ করতে হলে নারী পুরুষ আলাদা সময় যেতে হয়। তিনি মাকে সে পথে এগিয়ে দিলেন। দূর থেকে মায়ের দিকে নজর রাখলেন। মহিলাদের ভীড়ে বৃদ্ধ মা একসময় অদৃশ্য হয়ে গেলেন। অতপর অপেক্ষা।
মা ফিরবেন। একটু জড়িয়ে ধরবেন। এক সাথে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন। জান্নাতের এক টুকরো বাগানে প্রবেশ করে মায়ের কেমন লাগল জানতে চাইবেন।
মনে পাহাড় সমান এক শান্তি আর কিছু উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় ছেলে। কত সৌভাগ্যমান মা তার! রিয়াদুল জান্নাহতে নামাজের সুযোগ পেয়েছেন!
আগে চাইলেই এখানে ঢোকা যেত। এখন একটু কঠিন। চাইলেই পাওয়া যায় না। এ্যাপসের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ভাগ্য ভাল হলে অনুমতি আসে।
আহা! রিয়াদুল জান্নাত!
হজরত মুহাম্মদ সা: নিজেই বলে গেছেন এই রিয়াদুল জান্নাতের কথা।
“আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।”�(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এখানে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া তাই অসীম সওয়াবের কাজ।
কালের পরিক্রমায় হযরত মোহাম্মদ সা: এর রওজামুবারক এখন মসজিদে নববীর অংশ। খুবই ছোট্ট একটা জায়গা। একদিকে মিম্বর, অন্যদিকে রওয়াজামুবারক
মাঝে আপনি নামাজ পড়ছেন। দু'হাত তুলে প্রার্থনা করছেন। বন্ধ চোখে পানি ঝরছে। চোখের সামনে ভাসছে জান্নাতের দৃশ্য। দেহে হিমশীতল পরশ। এত দ্রুত সময় চলে যায় এখানে। এক সেকেন্ডেই যেন এক ঘন্টা চলে যায়।
বাংলাদেশী ভাইটি অপেক্ষায় আছেন অপরপ্রান্তে। নামাজ শেষে মা ফিরবেন। কিন্তু মা আর ফিরে না। খুঁজেও পাওয়া যায় না মাকে।
এত বিশাল জায়গা! এত মানুষ! এর মাঝে বৃদ্ধ মাকে কোথায় খুঁজে পাবেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর। সূর্য হেলে তখন পশ্চিম আকাশে। খুঁজতে খুঁজতে চলে এলেন জান্নাতুল বাকীর দিকে।
কবুতর গুলো উড়ছে। সূর্যের আলো তীর্যকভাবে পড়ছে। আলো আধারী ছেয়ে ফেলেছে জান্নাতুল বাকীর শুণ্য আকাশকে। অনেকে দাঁড়িয়ে কবরের পাশে। মোনাজাতে কাদছেন।
কাদছেন ভাইও।সারাদিন মাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত তিনি। আল্লাহ আমার মাকে এনে দাও। আমার জান্নাতকে এনে দাও। আল্লাহ প্রার্থনা শুনলেন। এক কোণায় বিমর্ষ এক বৃদ্ধার কাছে যেতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। এই কান্না প্রাপ্তির। আনন্দের।মাকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার।
সেদিনের অভিজ্ঞতা বলতে বলতে চোখ ভিজে গেল ভাইয়ের। আমার ঘাড়ে হাত রেখে বললেন, আপনি মাকে নিয়ে আসছেন শুনে খুব ভাল লাগল। ভাগ্যবান আপনি।
জান্নাতকে সাথে নিয়ে জান্নাতের বাগানে যাবেন!
রাত ১০.৩০ টা। ডান শক্ত করে ধরে রেখেছেন মা। কিভাবে ঢুকতে হবে। হারিয়ে গেলে কোন জায়গায় এসে থাকবে। কিভাবে অন্যের হেল্প নিবে সব বুঝিয়ে দিলাম।
মা অভয় দিলেন। তুই চিন্তা করিস না।
আমি ইনশাআল্লাহ সুন্দরভাবে ফিরে আসব।
চারিদিকে অসংখ্য মানুষ। আলোর ঝলকানিতে রাতের অন্ধকার এখানে পরাজিত। জোরে বাতাস বইছে। চারিদিকে ফ্যানগুলো ঘুরছে। সেগুলো থেকে বের হওয়া বাস্প গায়ে এসে শীতল পরশ বুলাচ্ছে।
মা ই তো সন্তানের জান্নাত। সে জান্নাতকে সাথে নিয়ে আমি এগিয়ে যাচ্ছি রিয়াদুল জান্নাতের দিকে। এক পৃথিবীকে পিছনে ফেলে!

কলমে : Dr Saklayen Russel

12/08/2026

Quiz 1.মসজিদে প্রবেশের সময় কোন পা আগে দিতে হয় এবং কোন দোয়াটি পড়া সুন্নত?

A. বাম পা এবং 'আল্লাহুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা'।

B. ডান পা এবং শুধু 'বিসমিল্লাহ'।

C. ডান পা এবং 'আল্লাহুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা'।

D. বাম পা এবং 'বিসমিল্লাহ'।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যখন আপনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন "আল্লাহু আকবার"...তখন আল্লাহ ঠিক কোথায় থাকেন?এই প্রশ্নটা হয়তো...
12/08/2026

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যখন আপনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন "আল্লাহু আকবার"...তখন আল্লাহ ঠিক কোথায় থাকেন?

এই প্রশ্নটা হয়তো কখনো মাথায় আসেনি।
অথবা এসেছে; কিন্তু উত্তর খোঁজার সাহস হয়নি।

কিন্তু চৌদ্দশত বছর আগে, এক সাহাবী এই প্রশ্নের উত্তর জেনেছিলেন। এবং সেই উত্তর শুনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

আজ সেই ঘটনাটি শেয়ার করবো।

একটি রাতের ঘটনা, মদিনার অলিতে গলিতে মদিনার রাত। চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে পথঘাট।

মসজিদে নববীতে তখনো প্রদীপ জ্বলছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসে আছেন।

সেদিন হযরত আবু যর গিফারী (রা.) রাসূলের ﷺ কাছে এসে বসলেন।

মনের ভেতর একটা প্রশ্ন অনেকদিন ধরে ঘুরছে।
লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে পারছেন না। কিন্তু আজ আর থাকা গেল না।

আস্তে আস্তে বললেন,
"ইয়া রাসূলাল্লাহ... নামাজে যখন আমি দাঁড়াই... আল্লাহ তখন কোথায় থাকেন?"

মসজিদে একটু নীরবতা নামল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দিকে তাকালেন। সেই চোখে ছিল অসীম মায়া।

তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
"আল্লাহ তা'আলা বান্দার দিকে মুখ করে থাকেন যতক্ষণ সে নামাজে থাকে এবং অন্যদিকে মনোযোগ না দেয়।"
(সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১১৯৫)

আবু যর (রা.) কথাটা শুনলেন।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
তারপর হঠাৎ
তাঁর চোখে পানি
পা কাঁপতে শুরু করল।
বুকের ভেতর কী যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

আল্লাহ... নামাজে... আমার দিকে মুখ করে থাকেন?

সেই মহান মণিব, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের মালিক;
যাঁর একটি "কুন" বলায় পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র সহ সকল কিছু সৃষ্টি হয়েছে তিনি... আমার মতো একজন সামান্য বান্দার দিকে মুখ করে থাকেন?

এবং আমি... নামাজে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকাই?
মাথায় সংসারের চিন্তা ঘোরে? ব্যবসায়ের হিসাব করি?

এই ভাবনা এসে আঘাত করল বুকের মাঝখানে।
আর সেই আঘাত সহ্য করতে পারলেন না আবু যর (রা.)। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন।

আল্লাহ কি সত্যিই এতটাই কাছে থাকেন? এটা কি শুধু একটা গল্প? না।

কুরআনে আল্লাহ নিজেই বলেছেন,
"আমি তোমার শাহরগ (গলার শিরা) থেকেও বেশি কাছে।"
(সূরা ক্বাফ: ১৬)

আরেক হাদিসে আছে, "বান্দা যখন নামাজে দাঁড়ায়, আমি তার সামনে থাকি। সে যদি ডানে তাকায়, আমিও তার ডানে। বামে তাকালে আমিও বামে। সরাসরি সামনে তাকালে আমি তার সামনে।"
(মুসনাদে আহমাদ)

একটু থামুন।

এই কথাটা আবার পড়ুন।
আল্লাহ আপনার সামনে থাকেন, নামাজে।
তিনি আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন।
আপনার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখছেন।
আপনার চোখের পানি দেখছেন।
আপনার বুকের কান্না শুনছেন।

আমরা কি জানি, নামাজে কাকে পাচ্ছি?

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন বললেন,
"তোমরা কি জানো, নামাজে বান্দা কার সাথে কথা বলে?"

সাহাবীরা চুপ।
রাসূল ﷺ বললেন,
"সে তার রবের সাথে কথা বলে। তাই সে যেন ভালো করে ভাবে সে কীভাবে কথা বলছে।"
(মুস্তাদরাকে হাকিম)

ভাবুন একবার।

দুনিয়ার কোনো বড় নেতার সাথে দেখা হলে আমরা কতটা প্রস্তুতি নিই!
পোশাক ঠিক করি।
কথা গুছিয়ে নিই।
উনার কথায় মনোযোগ দিই।

কিন্তু....
আল্লাহর সাথে কথা বলার সময়, মন থাকে বাজারে আর নামাজের পর ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে।

আবু যর (রা.) অজ্ঞান হননি ভয়ে।
তিনি অজ্ঞান হয়েছিলেন লজ্জায়।
সারাজীবন নামাজ পড়েছেন।
কিন্তু কখনো ভাবেননি
এই নামাজে আল্লাহ নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এই ব্যাপারটি ভাবতেই তাঁর হৃদয় আর নিতে পারেনি।

আর আমরা?

আমরা প্রতিদিন পাঁচবার এই সুযোগ পাচ্ছি।
প্রতিদিন আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ করে অপেক্ষা করছেন।

এবং আমরা মোবাইল রেখে উঠি।
কোনরকম নামাজ শেষ করে উঠে যাই।
পুরো নামাজে মনোযোগ থাকে কার ব্যাপারে কি প্ল্যান, নিজের ব্যবসার হিসাব আর অফিসের মাসিক মিটিং-এ কি হবে!

শেষ কথা, আজকে থেকে নামাজটা একটু আলাদা হোক। আজ যখন নামাজে দাঁড়াবেন, একটু থামুন।
চোখ বন্ধ করুন।

মনে করুন, মহা মুনিব আল্লাহ এখন আপনার সামনে।
তিনি আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি সব শুনছেন।

শুধু এটুকু মনে রাখুন। দেখবেন আপনার চোখও ভিজে আসবে।
হয়তো আবু যর (রা.)-এর মতো না, কিন্তু বুকের ভেতর কিছু একটা নড়ে উঠবে।
সেটাই ঈমান। সেটাই নামাজের প্রাণ।

"যে ব্যক্তি এমনভাবে নামাজ পড়ে যেন সে আল্লাহকে দেখছে এটাই হলো ইহসান।"
(সহিহ মুসলিম; হাদিসে জিবরাঈল)

এই লেখাগুলো আপনি পড়ুন, আপনার স্ত্রী-সন্তান কিংবা ভাই-বোন অথবা বন্ধুকে পড়ে শুনান, হয়তো আজ থেকে আপনার নামাজ দীর্ঘ হবে, সিজদাহ্ যতো চাওয়া সব কবুল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

10/08/2026

Address

Dhaka

Telephone

+8801519778664

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dua Therapy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Dua Therapy:

Shortcuts

Share