দা'ওয়াহ

দা'ওয়াহ Our endeavour is to call people in the peaceful way of Islam. May Allah accept us.

27/08/2023

এই পেজের কথা কারও মনে আছে? নতুন করে আবার চালু করলে কারও উপকারে আসবে? পেজের নাম চেঞ্জ করার চিন্তাভাবনা ছিলো, কারও এ ব্যাপারে কিছু বলার আছে?

31/12/2020

আমাদের সমাজে ফ্রিমিক্সিং একটি বৈধ ও স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অথচ ইসলামী শরীয়তে এটি অকাট্য হারাম বিষয়। একটা সময় মুসলিম সমাজে ফ্রি মিক্সিংয়ে অভ্যস্ত এবং এতে লিপ্ত হতে চাওয়া মেয়েকে পাত্রী হিসেবে প্রত্যাখ্যানযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হত। ফলে পাত্রী পূর্ব থেকে ছেলেদের সাথে মেলামেশায় অভ্যস্ত থাকলেও ছেলের পরিবারের কাছে বিষয়টি সর্বোচ্চ গোপনীয় রাখার চেষ্টা করত। আর এখন বিবাহ পূর্ববর্তী একটি চাহিদায় পরিণত হচ্ছে এই ফ্রি মিক্সিং।

বর্তমানে ফ্রিমিক্সিং চর্চার একটি ভয়াবহ ক্ষেত্র হল টুরিস্ট গ্রুপগুলো। বিগত কয়েকবছরে বাংলাদেশে ট্যুর একটি ফিৎনা এবং মতবাদে রূপ নিচ্ছে। এবং জেনারেল শিক্ষাব্যবস্থা থেকে এর প্রভাব মাদ্রাসায়ও ঢুকে পড়েছে। এই ট্যুর এমন এক নেশায় পরিণত হচ্ছে যেখানে দ্বীন, নৈতিকতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কোন কেয়ার থাকে না। উন্মাদ এক নেশা কাজ করে এই সমস্ত ট্যুর গ্রুপগুলোতে। সুযোগ পেলে একদিন ইসলামে ভ্রমণনীতি ও বর্তমান ট্যুরিজম নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে।

দেখা যাচ্ছে, হিজাব, বোরকা, দাড়ি, টুপি পরিধান করেও অনেকে ফ্রিমিক্সিংয়ে লিপ্ত হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বাধ্য হয়ে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে। এটা সত্য। কিন্তু অধিকাংশই হচ্ছে ইচ্ছাকৃত, স্বপ্রণোদিত এবং জাহেলিয়ায় গাঁ ভাসিয়ে দেয়ার তাড়না থেকে।

তিনচারটা ছেলের সাথে একটা মেয়ে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে চলে যাচ্ছে। লঞ্চের কেবিনে করে বরিশাল ট্যুর দিচ্ছে। দূর দূরান্তে গিয়ে হোটেল ভাড়া করে থাকছে। এর মধ্যে অনেক হিজাব ও বোরকা পরিহিত বোনকেও দেখা যায়। প্রথমত মাহরাম ছাড়া সফর করাই মেয়েদের জন্য নিষিদ্ধ। সেখানে এই বোনেরা মাহরাম ছাড়া ফ্রি মিক্সিংয়ের পরিবেশ সাথে নিয়ে ঘুরছে ফিরছে।

এই কাজগুলো সমাজকে খুব এগিয়ে নাচ্ছে তাও না। বরং সমাজে নানারকম জটিলতা সৃষ্টি করছে। ধর্ষণ, হত্যা, পরকীয়া, বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল, ডিভোর্স, বিবাহ বিড়ম্বনা ইত্যাদি সামাজিক অপরাধকে সংস্কৃতি বানিয়ে দিচ্ছে। কদিন আগেও লঞ্চে তিন ছেলের সাথে একলা এক মেয়ে ট্যুরে বের হয়। তারপর কেবিনে যৌনক্ষুধার শিকার হয়ে লাশে পরিণত হয়। এরকম কিংবা কাছাকাছি ঘটনাগুলো নিয়মতই ঘটছে। কিন্তু সমস্যা হল, আমরা ও আমাদের অভিভাবকরা এখান থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না। পরে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কপাল মারা শুরু করি।

একটি সভ্যতা, একটি সমাজকে ধ্বংস করার জন্য এই ফ্রি মিক্সিং সংস্কৃতিই যথেষ্ট। এর প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবাই এর প্রভাবে ধ্বসে নামতে থাকে। সমাজে ফ্রিমিক্সিংয়ের ব্যাপারটা যতই স্বাভাবিক এবং ব্যপক হয় ততই সমাজের সভ্যতা ও সংস্কৃতি ধ্বসে পড়তে থাকে। নিউ ওয়াল্ড অর্ডারের সময়কালে ফ্রিমিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে বলা অনেকের কাছেই মধ্যযুগীয় পশ্চাতপদতা মনে হতে পারে। কিন্তু তারা যদি মুসলিম হয়, তবে বুঝতে হবে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে সেই মধ্যযুগীয় পশ্চাতপদতার দিকেই ফিরে যেতে হবে। সেটাই আমাদের স্বর্ণযুগ।

লিখেছেন Iftekhar Sifat ভাই

05/12/2020

কুফরের (আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা) কে অস্বীকার বা তাঁদের দেয়া সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করা) সীমায় ঢুকে পরেও অনেকেই বুঝেন না যে তিনি অমুসলিম (কাফির) হয়ে গিয়েছেন।

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা)"

"আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ (সা) তাঁর রাসুল (দূত)"

এই কথা বলাকেই অনেকে মুসলিম হওয়ার জন্য যথেষ্ট মনে করেন। তারা মনে করেন যে কেবল এই কথা বললেই কেউ "কুফর" থেকে মুক্ত, সে আর কাফির (অমুসলিম) না।

না! বরং এই কথার মৌখিক স্বীকৃতি দিলেও, জেনে বা না জেনে, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে, অনেকেই, অনেকেই ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন, যাচ্ছেন।

কুফরের অন্যতম একটা দিক হলো আল্লাহ বা তাঁর রাসুলের (তাঁর উপর আল্লাহ শান্তি ও দয়া দান করুন) দেয়া কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করা।

প্রায় আমরা সবাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সিদ্ধান্ত কম বেশি লঙ্ঘন করি।
যখন আমরা লঙ্ঘন করি, কিন্তু স্বীকার করি যে আমরা অন্যায় করেছি, তখন আমরা হই ফাসিক - পাপী। কিন্তু ইসলাম থেকে বের হয়ে যাই না। কাফির হয়ে যাই না।

কিন্তু আমরা যদি আল্লাহ বা তাঁর রাসুলের কোনো বিধান অমান্য নাও করি, কিন্তু আমরা যদি আল্লাহ বা তাঁর রাসুলের (সা) নিষিদ্ধকৃত (হারাম) কোনো কিছুকে মনে করি যে সেই বিষয়টা নিষিদ্ধ না, বা যেটাকে আল্লাহ বা তাঁর রাসুল খারাপ বলেছেন, সেটাকে মনে করি যে সেটা খারাপ না, তখন আসলে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধানকে অস্বীকার (কুফর) করছি।

তখন কিন্তু আমরা ফাসিক না কেবল, কাফিরও হব।

কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেকেই নিজেকে মুসলিম দাবি করা সত্ত্বেও এমন অনেক বিষয়কেই বৈধ মনে করছে যেগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই। তারা অবৈধ জিনিসের বৈধতা নিয়ে রাজপথও কাপিয়ে দিচ্ছে।

দেখুন, আপনি যদি ইসলামে নিষিদ্ধ কিছু করতেই চান, করেন (সেই অনুযায়ী প্রতিদান ভোগের জন্যও প্রস্তুত থাকেন)। আপনাকে এই দেশে কেউ বাঁধা দিচ্ছে না। এটা ইসলামিক রাষ্ট্র না।

কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা) যেগুলোকে হারাম (নিষিদ্ধ) করেছেন সেগুলোকে হালাল (বৈধ) বলে দাবি করার পর নির্লজ্জের মত এই আশা রাখবেন না যে আপনাকে মুসলিম বলে গণ্য করা হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাপ, ও কুফর উভয় থেকেই বেঁচে থাকার সৌভাগ্য দিন। আমিন।

16/11/2020

সেকুলারিজমঃ নিরপেক্ষ নাকি একটি স্বতন্ত্র পক্ষ?

✓✓Asif Mahmud✓✓

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড়ভাইয়ের বায়োতে একটি চমৎকার লাইন লেখা, ‘আমি নিরপেক্ষ নই, আমি জয় বাংলার লোক’। এই ধরণের স্ট্রেটফরোয়ার্ড স্ট্যান্ড আমার ভালোলাগে। আসলেই এই পৃথিবীতে নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। সবাই-ই কোনো না কোনো দল বা মতের প্রতি সক্রিয় বা প্রচ্ছন্নভাবে সংবেদনশীল। নিরপেক্ষতা বা সুশীলতা হলো এক ধরণের হিপোক্রিসি। মানুষের মন সবসময়ই বায়াজড। লেখক ক্যাটি জয়েস বলেন,

“We constantly evaluate our world throughout our day. We have to; its part of human nature and its survival. However, too often evaluation becomes judgment. Judgment becomes bias. Bias leads us down the path of whatever emotion is tied to that bias, be it resentment, guilt or even joy.”

ধর্মনিরপেক্ষতাও কোনো নিরপেক্ষতা নয়। এটি মূলত স্বতন্ত্র একটি পক্ষ। অনেকেই হয়তো ভাববেন আমি ক্যাটাগরি এরর করছি। বলবেন, মানুষের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে আমি একটি স্বতন্ত্র বস্তুগত তত্ত্বকে তূলনা করছি। কিন্তু, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ তত্ত্বটি কি মানুষ থেকে আসেনি? নাকি এটি মহাকাশে উড়ে বেড়াচ্ছিলো, সেখান থেকে খপ করে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে? উত্তর সহজ, এই তত্ত্ব মানুষের মাথা থেকেই এসেছে। তাই একে ঢালাওভাবে নিরপেক্ষ বলা চলে না। এখন হয়তো বলতে পারেন, এটা কোনো প্রমাণ নয়। এক্সেপশনাল কেইস আছে, যেখানে মানুষ তূলনার মাধ্যমে নিরপেক্ষতা অর্জন করতে পারে। নিশ্চয়ই পারে, তবে সেটা তাত্ত্বিকভাবে। প্র্যাক্টিকালি সেটা সম্ভব নয়। লেখার বাকি অংশে আমি দেখাবো, তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক কোনো দিক থেকেই সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা ‘নিরপেক্ষ’ নয়।

সেকুলারিজমের সংজ্ঞাঃ

সেকুলারিজম শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘saecularis’ থেকে উদ্ভুত, যার অর্থ বৈষয়িক, অস্থায়ী, প্রাচীন। ‘পাশ্চাত্য সভ্যতার দার্শনিক ভিত্তি’ বইয়ে মাওলানা আবদুল রহিম (রহ) বলেন, ‘মানব জীবনের বিভিন্ন উপাদান ঝোঁক প্রবণতা, রসম-রেওয়াজ এবং অন্যান্য সামাজিক রূপ তথা স্বয়ং মানুষের জীবনকে কোনো ধর্মবিশ্বাসের ওপর ভিত্তিশীল না করাকেই বলা হয় সেকুলারিজম।’ ক্যামব্রিজ ডিকশনারিতে ‘secularism’ এর ডেফিনিশনে লেখা ‘the belief that religion should not be involved with the ordinary social and political activities of a country.’ এ থেকে বোঝা যায়, সেকুলারিজম নির্দিষ্ট কোনো ধর্মবিশ্বাস লালন করে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সেকুলারিজম কোনো বিশ্বাসই লালন করে না। বরং এটি একটি জাগতিক এবং বস্তুগত সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিশ্বাস করে যেটা নিজেই একটা ‘বিশ্বাস’।

সেকুলারিজম ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে। মাওলানা ইফতেখার সিফাতও তাঁর ‘হিউম্যান বিয়িং’ বইয়ে সেকুলারিজমের প্রিমিস দেখাতে গিয়ে লিখেছেন, ‘সেকুলারিজম ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করে। এই পৃথক করার অর্থ হলো ধর্মীয় নির্দেশনা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকা। ব্যক্তিগত জীবন কেবলি ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। যদি ব্যক্তির জীবনাচারের পরিধি নিজ সত্তা পেরিয়ে সন্তান, বউ, মা-বাবা, ভাই-বোনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়, তখন তা আর ব্যক্তিগত থাকেনা; সমষ্টিগত জীবন হয়ে যায়। এই সীমা অতিক্রম করলেই ব্যক্তির উপর হিউম্যান রাইটস এর বিধান প্রয়োগ শুরু হয়ে যায়।’ তিনি রাষ্ট্রকে ধর্ম থেকে আলাদা করার ব্যাপারটিকে খানিকটা টেনে লম্বা করে দেখিয়েছেন রাষ্ট্রকে ধর্ম থেকে আলাদা করার অর্থ আসলে কী। এখান থেকে ‘ইন্ডিভিজুয়ালিজম’ ব্যাপারটি চলে আসে। এই ইন্ডিভিজুয়ালিজম বা ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ জীবন, এটাও একটা মতাদর্শ, একটা বিশ্বাস।

সেকুলারিজমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্সিপাল হচ্ছে, ‘সকল ধর্ম ও মতাদর্শকে সমান চোখে দেখা ও ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেয়া’। শুনতে বেশ উপাদেয় হলেও এটি স্রেফ একটা তত্ত্ব, ইউটোপিয়ান ধারণা। ব্যবহারিক সেকুলারিজম অংশে আমরা দেখবো, কীভাবে সেকুলারিজম এই নিয়মটি নিয়মিত ভায়োলেট করে যাচ্ছে। অবশ্য সেকুলারিজমের দুটো প্রিমিস ভালো করে বুঝলে এটা বোঝা সহজ হয় যে, প্রথম প্রিমিসকে রক্ষার স্বার্থেই দ্বিতীয় প্রিমিসটা ভাঙতে হয়।
পাশ্চাত্যের লেখকদের কাছে যাওয়া যাক। এন্ড্রু কপসনের ‘সেকুলারিজম- এ শর্ট ইন্ট্রোডাকশন’ বইয়ে সেকুলারিজমের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে তিনটি প্রিমিস উল্লেখ আছে।

1. separation of religious institutions from the institutions of the state and no domination of the political sphere by religious institutions;
2. freedom of thought, conscience, and religion for all, with everyone free to change their beliefs and manifest their beliefs within the limits of public order and the rights of others;
3. no state discrimination against anyone on grounds of their religion or non-religious world view, with everyone receiving equal treatment on these grounds.

১ নং প্রিমিস খেয়াল করলে দেখবেন এখানে লেখা আছে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ডমিনেশন চলবে না’। ৩ নং প্রিমিসে লেখা আছে, ধর্মীয় ফিল্ডে রাষ্ট্রীয় ডমিনেশন চলবে না। এখানে ব্যাপারটা একটু সমস্যাজনক। ধর্মের কিছুর ‘moral rules’ আছে। আবার রাষ্ট্র চালাতে গেলেও কিছু ‘moral rules’ এর প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্র যে নৈতিক নির্দেশনাগুলো ফলো করবে সেগুলো তো অবশ্যই ধর্ম থেকে মুক্ত থাকবে, সেটা প্রথম প্রিমিসেই বোঝা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ধর্ম কি রাষ্ট্রের মোরাল ডমিনেশন থেকে মুক্ত থাকবে? রাষ্ট্রের নিয়মাবলি তো সব মানুষ- ইনক্লুডিং ধার্মিক মানুষ মানতে বাধ্য, তাহলে রাষ্ট্রের কোনো নিয়ম ধর্মের বিরুদ্ধে গেলেও সেটা তারা মানতে বাধ্য থাকবে? ব্যবহারিক সেকুলারিজম অংশে আমরা দেখবো, ধর্মের বাইরে গেলেও মানুষ রাষ্ট্রের নিয়ম মানতে বাধ্য। তাহলে ৩নং প্রিমিসটির সত্যতা কোথায়? তাহলে কি এই প্রিমিসটি নামেমাত্র? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড?

সেকুলারিজমের উৎপত্তিঃ

সেকুলারিজম ধারণাটি সর্বপ্রথম কে এনেছিলেন এই নিয়ে অসংখ্য মত আছে। কেউ কেউ বলেছেন ফেরাউন (রেমেসিস ২) নিজেই একটি স্রষ্টাবিহীন সেকুলার সোসাইটি গঠন করেছিলো খ্রিস্টের জন্মের হাজার বছর আগে। কেউ কেউ বলেন সক্রেটিস এবং তাঁর সময়কার গ্রিক দার্শনিকগণ, যারা দেব-দেবী এবং অন্যান্য ধারণার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তারা সেকুলারিজমের ধারণা এনেছেন। তবে সন্দেহ নেই সেকুলারিজম ধারণাটি এনলাইটেনমেন্ট পিরিয়ডে এসে জনপ্রিয় হয়।

এনলাইটেনমেন্ট থিংকারদের মধ্যে জন লক, ভলটেয়ার, জেমস ম্যাডিসন, টমাস জেফারসন এরা সেকুলারিজম ধারণায় বেশ ভালো কন্ট্রিবিউট করেছেন। ধারণাটি পুরনো হলেও ‘secularism’ শব্দটি প্রথম নিয়ে আসেন জর্জ জ্যাকব হলিওক। ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট পিরিয়ডে যখন চার্চের বিরুদ্ধে প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলন শুরু হয়, তখনি এই মতবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। অবশ্য চার্চের সীমাহীন দুর্নীতি, অনাচার এই মতবাদ বিস্তারের জ্বালানি যোগান দিয়েছিলো এই কথা বলা ভুল হবেনা। আর তাই ‘separate state from church’ আন্দোলনই একটা সময়ে সেকুলারিজমে ফর্ম করে। লক্ষ্যনীয় যে, এই আন্দোলনকারীরাও কিন্তু একটা ‘পক্ষ’। এই পক্ষ আন্দোলন করেছিলো চার্চের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ছিলো ক্যাথলিকরা, যারা চেয়েছিলো রাষ্ট্র ক্ষমতা চার্চের হাতে থাকুক। তাহলে ‘separate state from church’ আন্দোলনকারী ‘পক্ষ’ কী করে নিজেদেরকে ‘নিরপেক্ষ’ দাবী করতে পারে? উত্তর হচ্ছে, পারে না এবং করেও না। আপনি পাশ্চাত্যে কাউকে দেখবেন না সেকুলারিজমকে ‘নিরপেক্ষ’ বলে দাবী করতে। কারণ, এটা স্পষ্টতই একটা পক্ষ। একটা রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনকারী পক্ষ, যারা ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে হটাতে চেয়েছিলো। পরবর্তীতে এই সেকুলারিজমই ‘এথেইজম’, ‘লিবারেলিজম’ সহ অন্যান্য ‘পক্ষ’কে নিজের করা শুরু করে আর জন্ম দেয় তথাকথিত আধুনিকতার।

সেকুলারিজম একটা ধর্মঃ

টাইটেলটি দেখতে অদ্ভুত হলেও এটা সত্যি। এতোক্ষণ আমরা বলেছি, সেকুলারিজম নিরপেক্ষ কিছু নয় বরং একটা পক্ষ। এখন বলছি, সেকুলারিজম কেবল একটা পক্ষই নয়, এটা একটা ধর্ম।

প্রথমত, ধর্মের সংজ্ঞা কী? ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস এবং কর্মের সমষ্টি। স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস এবং স্রষ্টা প্রণীত আইনে জীবন পরিচালনা করাই ধর্ম। সেকুলারিজমও একটা জীবনব্যবস্থা, এটার কিছু আইন আছে, নৈতিক নিয়মাবলী আছে, ‘কী করা যাবে-কী করা যাবেনা’ অর্থাৎ বিধিনিষেধের একটা সেট আছে, ধর্মেরই মতো।

এখন পাঠক বলতে পারেন, সেকুলারিজমে স্রষ্টা কে? উত্তর হচ্ছে, সে নিজে। ফেরাউন যেমন স্রষ্টাকে অস্বীকার করে নিজেই স্রষ্টা বনে গিয়েছিলো, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ বা ইন্ডিভিজুয়ালিজমে যেমন ব্যক্তি তার ‘নফস’ বা চাহিদাকে নিজের খোদা বানিয়ে ফেলে, সেকুলারিজমও তেমনি অন্য সব স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করে নিজেকেই নিজে খোদা বানায় এবং কিছু নিয়ম জারি করে।

সেকুলারিজমের অনুসারীদের এসব নিয়ম মেনে চলতে হয়, সেটা তার ধর্মের বিরুদ্ধে গেলেও মানতে হয়, নয়তো সেকুলারিজম (সেকুলার স্টেট) তাকে শাস্তি দেয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির থেকে তার ঈশ্বরের আনুগত্যের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়। তার ঈশ্বরকে সরিয়ে দিয়ে, ‘সেকুলারিজম’কে বসিয়ে দেয়া হয়। এগুলো আমার মুখের কথা নয়, ব্যবহারিক সেকুলারিজম অংশে আমার কথার পক্ষে আমি তথ্যপ্রমাণ দেবো।

ব্যবহারিক সেকুলারিজমঃ

সেকুলারিজম নিরপেক্ষ নয়, এটি একটি পক্ষ। এমনকি এটি একটি ধর্ম, এর নিজস্ব আইনকানুন আছে, বিধিনিষেধ আছে। ধর্মীয় আইনের বিপক্ষে গেলেও সেকুলার আইন মানতে হবে। না মানলে বাধ্য করা হবে। অর্থাৎ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যাপারটি ভুয়া।
জনপ্রিয় লেখক আসিফ আদনান তাঁর চিন্তাপরাধ বইয়ে ‘পূজারী ও পূজিত’ অধ্যায়ে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। সংক্ষেপে উল্লেখ করছি।

স্কুলে কিশোর-কিশোরী একসাথে সাঁতার শেখা বাধ্যতামূলক ক্লাসে নিজেদের ১২ ও ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে তুর্কী বংশোদ্ভূত সুইস নাগরিক বাবা-মাকে প্রায় ষোল’শ পাউণ্ড জরিমানা করে সুইজারল্যান্ডের স্কুল। তারা দাবি করে সাঁতার শেখা স্কুলের কারিকুলামের অংশ, তাই ক্লাসে না পাঠানোর এখতিয়ার অভিভাবকের নেই। ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই দম্পতি ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস এ মামলা করলে আদালত সুইস স্কুলের পক্ষেই রায় দেয়। ২০১৬ তে জার্মান আদালতেরও এক রায়ে বলা হয়, মুসলিম কিশোরীরা ছেলেদের সাথে সাঁতারের ক্লাস করতে বাধ্য। ২০১৬ তেই এক সুইস মুসলিম পরিবারকে ৫০০০ সুইস ফ্র্যাঙ্ক জরিমানা করা হয় তাদের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ছেলে স্কুলের মহিলা শিক্ষিকার সাথে হাত মেলাতে রাজি হয়নি বলে। ইউরোপের ৭ টি সহ মোট ১৩ টি দেশে নিক্বাব নিষিদ্ধ। (চিন্তাপরাধ, পৃ-৫১)

এরকম ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছে। উদয়ন স্কুলে ছাত্রী ফুল হাতা জামা পরায় তার হাতা কেটে দেয়া হয়েছিলো। ক’দিন আগে ঢাবি শিক্ষক ‘স্লামালেকুম’ না বলে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলাকে জঙ্গিবাদের চিহ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই ঘটনাগুলো খুবই পপুলার বলে আমি রেফারেন্স উল্লেখ করলাম না।

ব্যাপার হচ্ছে, এই ঘটনাগুলো সেকুলার স্টেটেই ঘটছে। সুইজারল্যান্ডের ঘটনাটিই খেয়াল করুন। ধর্মীয়ভাবে ছেলে-মেয়ের একসঙ্গে সাঁতার কাটা ইসলামে বৈধ নয়। কিন্তু সেকুলার স্টেট ইসলাম ধর্মে অবৈধ কাজটিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বলে বৈধ করেছে। এটা কি সরাসরি ৩নং প্রিমিসটির বিরোধী কাজ হলো না? নিক্বাবের স্বাধীনতা হরন কিংবা হ্যান্ডশেক না করায় জরিমানা, এই সবই তো ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। তবে কি সেকুলার আইন ইউটোপিয়ান? অর্থাৎ, এর প্রকৃত বাস্তবায়ন নেই, ব্যাপারটা কি এমন? আসলে ব্যাপারটা এমন না। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যেই প্রিমিসটি, আসলে সেটি সম্পূর্ণই ‘লোক দেখানো’। এই প্রিমিস বাস্তবায়নের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। কেননা তারা তো আদতে নিরপেক্ষ নয়, তারা হচ্ছে একটা পক্ষ। অতীতের চার্চবিরোধী পক্ষ আজ ‘ধর্মবিরোধী পক্ষ’। এটাই বাস্তবতা এবং এটাই সত্য।

ইসলামী দৃষ্টিকোণঃ

এই বিষয়ে মাওলানা ইফতেখার সিফাত তাঁর হিউম্যান বিয়িংঃ শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব বইয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন স্কলারের বরাত দিয়ে লিখেছেন, সেকুলারিজম একটি কুফুরী জীবনব্যবস্থা। যে সেকুলারিজমকে মেনে নেবে, সে কুফুরী করবে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,

‘আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম’। (সূরা আল ইমরানঃ ১৯)

আর, সেকুলারিজম হলো মানবসৃষ্ট দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা। ইসলামের জায়গায় অন্য কোনো জীবনব্যবস্থাকে গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর উবুদিয়্যাত ও হাকিমিয়্যাতিকে অস্বীকার করা। আর এটা হলো কুফর ও শির্ক। সূরা মায়িদার ৫০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
“তারা কি জাহিলিয়্যাতের শাসনব্যবস্থা কামনা করে? বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য শাসন-পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে আছে?”

মাওলানা ইফতেখার সিফাত তাঁর বইয়ের ১১৪-১১৬ পেজে সেকুলারিজমকে একটি কুফুরী মতবাদ হিসেবে দলীল দিয়ে প্রমাণ করেছেন।

কেন?

এই কুফুরী মতবাদ আমরা কেন গ্রহণ করেছি আমাদের দেশে? অনেকেই বলবেন, আমাদের দেশ স্বাধীন করেছে সব ধর্মের মানুষ মিলে। তাদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই আমরা সেকুলারিজম গ্রহণ করেছি। যেসব মুসলিম ভাইবোনেরা এই কথা বলেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, তবে কি আপনি মনে করেন ইসলাম ভিন্ন ধর্মালম্বীদের প্রাপ্য অধিকার দেয় না?
এই কথার পরপরই আপনারা ইউটার্ন নেবেন। বলবেন, আমাদের কাছে অবশ্যই ইসলাম বেস্ট। কিন্তু, অন্য ধর্মালম্বীরা কি মানবে? তারা তো ভাববে তারা বৈষম্যের স্বীকার। এক্ষেত্রে আমি বলবো, ১০% বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে, তা আপনার কাছে দুঃখজনক (যদিও এই বৈষম্য তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে), কিন্তু এখন যে ৯০% মানুষ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে- তাদের আকাঙ্খিত ইসলামী শাসন পাচ্ছেনা, সেটা আপনার কাছে গুরুত্ববহ নয়?

এবার হয়তো বলবেন, সবাই কি ইসলামী শাসন চায়? চায়না, কারণ তারা পাপাচারে লিপ্ত। কেন পাপাচারে লিপ্ত? কারণ ইসলামী শাসন নেই। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে সার্কুলার আর্গুমেন্ট মনে হলেও এটা লিনিয়ার হওয়া সম্ভব যদি ইসলামী শাসন ইনপুট দেয়া যায়। এখন বলতে পারেন, কেন ইসলামী শাসন ইনপুট দিতে হবে? উত্তর সহজ- এটা আল্লাহর হুকুম। আল্লাহর হুকুম হচ্ছে তাঁর জমিনে তাঁর দ্বীন কায়েম করতে হবে। এবার আপনি ঠিক করুন, আপনি কি আল্লাহর দ্বীন কায়েমে কাজ করবেন? নাকি কুফুরী দ্বীন পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবেন?

উপসংহারঃ

সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হোক কিংবা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, সেকুলারিজম একটি ‘পক্ষ’, একটি স্বতন্ত্র ধর্ম। এই ধর্মের নিজস্ব নিয়মকানুন আছে, সেগুলো মানবসৃষ্ট কিংবা কিছুক্ষেত্রে কোনো ধর্ম থেকে চুরি করা। যেমনই হোক, সেই নিয়মকানুন মানতে সেকুলার স্টেটের নাগরিক বাধ্য। না মানলে মুখোমুখি হতে হবে শাস্তির। তাহলে কেন এই ‘নিরপেক্ষ’ নামধারণ? কেন এই ডাবল স্ট্যান্ডবাজি? ভাবনার দুয়ার যদি খুলে না যায়, তবে আপনার জন্য কুফুরির এই কারাগারই উপযুক্ত।

28/10/2020

জরুরি না যে সবসময় সকল পরিভাষার একদম সঠিক ব্যবহারই করতে হবে, কেউ আসলে বাধ্যও নয়। যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরিভাষাগুলোর ব্যবহার করতেই পারে। এখানে আসলে বলার কিছুই নাই। কিন্তু তবুও বলতে হচ্ছে। কেন? কারণ পরিভাষাটা ইসলামের, আর বিষয়টা আমার মত অনেক অসহায়দের একমাত্র সহায়। কিসের কথা বলছি জানেন? দু’আ!

নবীজি(ﷺ) বলেছেন, “দু’আ-ই হচ্ছে ইবাদাত।” [তিরমিজি:৩৩৭২]

দু’আ কেমন ইবাদাত জানেন? এটার গভীরতা সম্পর্কে ধারণা রাখেন? তাহলে শুনুন–

আবূ হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু'আনহু) থেকে বর্ণিতঃ

নবীজি(ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু’আর চেয়ে সম্মানিত আর কিছুই নেই। [তিরমিজি:৩৩৭০-হাসান]

বিশ্বচরাচরের অধিপতির কাছে এই জিনিসটা সম্মানিত। এই ‘দু’আ’ টা আল্লাহ্ তা’আলার কাছে সম্মানিত, আর আপনি এটাকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করছেন?



আমি যখন দু’আ করি, মানে আমি যখন আল্লাহ্-র কাছে দুই হাত তুলে কোনো কিছু চাই, তার দুটো অর্থ –

১. আমি আসলে অসহায়, আমার নিজের কোনো ক্ষমতা নেই।

২. আমার আল্লাহ্-কে প্রয়োজন।

দেখুন, এই দুটো জিনিস আমার মনের ভেতর খেলা করে, যখন আমি আল্লাহ্-র কাছে দু’আ করি। যদিও আমরা তা উপলব্ধি করি না। এবার নিচের কয়েকটি বাক্য খেয়াল করুন –

• আমাদের রিলেশানশিপ যেন টিকে, দু’আ করবেন।

• আদাব স্যার, পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। দু’আ করবেন।

• ভাবি, আমার মেয়ে ডান্স/সিংগিং প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে, দু’আ করবেন।

কথাগুলো বুঝতে পারছেন? চেনা চেনা লাগে না? হয়তো জীবনের নানান পর্যায়ে এগুলো আপনি ব্যবহার করেছেন...করছেন। ঠিক? কিন্তু কেন?



দু’আ কে বলা হয়ে থাকে মুমিনের অস্ত্র। যেই অস্ত্র ব্যবহার করে সে নিজের নফসের বিরুদ্ধে, কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে। জীবনের সামান্য একটি কাজ থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে জিহাদ করা– সর্বক্ষেত্রে তার কার্যক্রমের পেছনে দু’আ-টা কাজ করে।

আচ্ছা, আপনি যখন কারও কাছে দু’আ চান, এর মানে কি? যার কাছে দু’আ চান, সে তো আর আপনাকে আপনার চাওয়া জিনিসটা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। সেই ক্ষমতা রাখেন একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা।

“আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো তার কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। অতএব, তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।” [সূরা আল বাকারাহ:১৮৬]

সুতরাং, দু’আ কবুলের মালিক আল্লাহ। তিনি বলেই দিয়েছেন তিনি দু’আ কবুল করবেন। কিন্তু, আল্লাহ-র কাছে যা চাইবেন তা-ই উনি দিয়ে দেবেন? এমনকি যা উনি স্বয়ং নিষিদ্ধ করেছেন?

কেন? কেন আপনি এমন কিছু আপনার রবের কাছে চাইবেন যা তিনি নিষিদ্ধ করেছেন? কেন আপনি এমন কিছু চাইবেন যা স্বয়ং উনারই অপছন্দ? আপনার এই দ্বিমুখীতা টা ধরতে পারছেন তো? যার কাছে দু’আ চাচ্ছেন সে কি আপনাকে কিছু দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? নাকি সে নিজেও আল্লাহ-র কাছেই মুখাপেক্ষী? যদি তা-ই হয়, তাহলে কেন নিজের রবকে ফাঁকি দিতে চান?

– আরে ভাই, আপনার সমস্যা কি? মানুষকে স্বাধীনভাবে দু’আও করতে দিবেন না নাকি? সবকিছুতেই এত বাড়াবাড়ি কেন আপনার?

– আল্লাহ-র অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ-র কাছেই তৌফিক চাওয়াটা কি সীমালঙ্ঘন নয়? তাহলে কেন আপনি এমন করেন? আপনি নিজেও মনে মনে জানেন, আপনার করা কাজটা ঠিক না, তবুও আপনি করেন। সেটার জন্য আবার দু’আর মত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইবাদাতকে ব্যবহার করছেন? কেন?

আরেকজনের কাছে দু’আ চাওয়ার জন্য আপনার আওড়ানো বুলিগুলো কি ফাঁকা বুলি নয়? আপনি নিজেও জানেন না, যার কাছে দু’আ চাচ্ছেন তার রবের সাথে তার সম্পর্ক কেমন, আদৌ সম্পর্ক আছে কি না...তবুও আপনি চাচ্ছেন, তা-ও আবার এমন ক্ষেত্রে যেগুলো আপনার আমার রব স্পষ্ট নিষিদ্ধ করেছেন!

কেন? আল্লাহ’র কাছে কেন হারাম জিনিস চাইতে হবে আমাকে? তিনিই তো বলেছেন, তিনি আমার দু’আ কবুল করবেন। তাহলে কেন তার কাছে আমি এমন কিছু চাইতে পারি না যা আমার দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য কল্যানকর হবে? কেন আমি হালাল রিজিকের জন্য আমার দু হাত উঠাই না? কেন একজন নেককার আহলিয়ার জন্য দু চোখ ভেজাই না? কেন নিজের বাবা-মায়ের দ্বীনে ফেরার জন্য মনের আকুতি জানাই না? কেন আমার রাসুলের(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবমানকারীদের আমি দু’আর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করতে পারি না? কেন? কেন আমাকে শুধু তাঁর কাছে তাঁর হারাম করে দেওয়া বিষয়গুলো চাইতে হবে?
..

আমাদের সস্তা বুলিগুলোর আঘাতে দু’আর মত একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিভাষাকে আমরা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছি। মূল্যবান একটি বিষয়কে আরও সস্তা বানিয়ে ছাড়ছি। সে সস্তা বিষয়গুলো নিত্যদিনের জীবনে প্রয়োগ করে নিজেকেও লজ্জিত করছি, দু’আর মতো একটা বিষয়কেও অপমানিত করছি।

আচ্ছা, আল্লাহ'র কাছে চাওয়াটাকে অপমানিত করে আসলেই আমরা স্বয়ং আল্লাহ’র সাথে ঠাট্টা করছি না তো?

তাহলে, পরেরবার থেকে যখন দু'আ করবেন/চাইবেন, জাস্ট নিজেকে দুটো প্রশ্ন করুন,

১. কার কাছে চাইছি?
২. কি চাইছি?

আল্লাহ আমাদের সবাইকে দু’আর যথাযথ প্রয়োগ করার এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক মজবুত করার তৌফিক দান করুন।

"আল্লাহ" (আরবি : ألله) এই শব্দের পরিবর্তে "ঈশ্বর", "God" বা "ভগবান" ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করা যায় কিনা, বা এসবগুলো শব্দ...
27/09/2020

"আল্লাহ" (আরবি : ألله) এই শব্দের পরিবর্তে "ঈশ্বর", "God" বা "ভগবান" ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করা যায় কিনা, বা এসবগুলো শব্দই সৃষ্টিকর্তাকে বোঝানোর জন্য উপযুক্ত কি?

প্রথমত কোনো সত্তাকে সেই নামেই নামাঙ্কিত করা উচিত যে নাম তার বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়কে সুস্পষ্ট, পরিপূর্ণ ও অদ্বিতীয় ভাবে প্রকাশ করে।

সুস্পষ্টভাবে প্রকাশের মানে হলো, নামের দ্বারা তার বৈশিষ্ট যেন প্রকাশ পায়। নাম শুনলেই যেন বুঝা যায় যে এই নামের সত্তার প্রকৃত পরিচয় কী।

পরিপূর্ণভাবে প্রকাশের মানে হলো, নামের দ্বারা যেন তার সত্তার সমগ্র বৈশিষ্ট্যের ধারণা পাওয়া যায়।

আর অদ্বিতীয়ভাবে প্রকাশের মানে হলো, এই নামের দ্বারা যেন কেবল তাকেই বোঝানো হয়।

"আল্লাহ" শব্দটি গঠিত হয়েছে "ইলাহ" (إله) এই শব্দের সামনে নির্দিষ্টকরণ উপসর্গ "আল" (ال) যুক্ত হয়ে।

"আল + ইলাহ = আল্লাহ" (আরবি : ال+ إله = الله )। আরবি এই "আল" (ال) উপসর্গ ইংরেজি "The" এর কাজ করে।

"ইলাহ" বলতে যার উপাসনা করা হয় সেরকম কিছু বা কাউকে বোঝায়। তাই আরবিতে বিভিন্ন দেব-দেবী হোক, বা মানুষ হোক, বা আর যা কিছুই হোক, যদি তার উপাসনা করা হয় তবে সেটাকে বোঝাতে "ইলাহ" শব্দটা ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে "ইলাহ" আর ইংরেজি "God" একই রকম। "ইলাহ" এর বহুবচনও হয়, আর তা হলো "আ-লিহাহ" (আরবি : آلهة ) যা "Gods" এর অর্থ প্রকাশ করে।

কিন্তু যখন "ইলাহ" এর আগে "আল" উপসর্গ থাকার ফলে হয় "আল্লাহ" (ইংরেজি: THE GOD) তখন এই শব্দ দিয়ে রেন্ডমলি কোনো (মিথ্যা) উপাস্যকে বোঝায় না। বরং তখন এই শব্দ দিয়ে সেই একক সত্তা, একক স্রষ্টাকে বোঝানো হয় যিনি সর্বোচ্চ, অদ্বিতীয়। আরবে একসময় বিভিন্ন দেব দেবীর উপাসনার প্রচলন ছিল। তখন ঐসব দেব দেবীদের "ইলাহ" বলা হতো। কিন্তু কখনোই সেসব দেব দেবীদের কোনোটিকে "আল্লাহ" (আল+ইলাহ) বলা হতো না। বরং সর্বদাই "আল্লাহ" শব্দটি দ্বারা পরম সত্তা ও একক স্রষ্টাকে বোঝানো হতো।

আল্লাহ শব্দের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য একে ইংরেজি God বা ঈশ্বর, ভগবান, এসব থেকে আলাদা করেছে।

★★★ প্রথমত "আল্লাহ" শব্দ দ্বারা আমাদের স্রষ্টার পরিচয় সুস্পষ্ট হয়। কারণ, সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ছাড়া আর কাউকেই আরবি এই "আল্লাহ" শব্দ দিয়ে বোঝানো যায় না।

কিন্তু ইংরেজিতে God এর দ্বারা অনেককে এবং অনেক কিছুকেই বোঝানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, মিশরীয় কোনো দেবতাও God আবার ভারতীয় কোনো দেবতাও God। তাই God শব্দের দ্বারা সেই একক সত্তার পরিচয় সুস্পষ্ট করা যায় না। শুধু যদি আমি বলি, God তখন আর নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না আমি কোন God বা দেবতাকে বোঝাচ্ছি। তাই God শব্দটা পরম স্রষ্টাকে অনন্যভাবে প্রকাশে অক্ষম।

ঠিক তেমনি "ঈশ্বর" শব্দটাও অক্ষম অনন্যভাবে স্রষ্টাকে বোঝাতে। যদিও বর্তমানে অনেক সময় এই শব্দটা দিয়ে "আল্লাহ" কে বোঝানো হয়, কিন্তু ব্যুৎপত্তিগত ও প্রাচীন ভারতে এর ব্যবহারের দিক দিয়ে "ঈশ্বর" শব্দটার বিভিন্ন অর্থ হয়।

প্রাচীন এবং মধ্যযুগের সংস্কৃত ধর্মীয় বইয়ের ধারণা থেকে ঈশ্বর এর নানাবিধ অর্থ পাওয়া যায়, যেমন: সৃষ্টিকর্তা, মহান সত্তা, পরমাত্মা, প্রভু, মহাবিশ্বের শাসক, ★ ধনী শ্রেষ্ঠী , ★ একাদশ রুদ্রগণের মধ্যে একজন,★ স্বামী, ★ দেবতা-শিব, দয়াময় এবং রক্ষাকর্তা।

ঋগ্বেদে ঈশ্বর শব্দটি কখনো আসে নি। তবে ঈশ্ ক্রিয়াপদটি ঋগবেদে এসেছে, যার অর্থ কিছু করতে সক্ষম, যোগ্য। ঈশ্বর শব্দটির উপস্থিতি সামবেদ, অথর্ববেদ এবং যজুর্বেদ-এর সংহিতায় দেখা যায় না। ★ প্রাচীন ভারতীয় ব্যাকরণবিদ পাণিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, "ঈশ্বর শব্দের আভিধানিক অর্থ আর যাই হোক; কোনোভাবে সৃষ্টিকর্তা বা মহান সত্তা নয়"★।

ধর্মসূত্রের অনেক প্রাচীন গ্রন্থে ঈশ্বর শব্দটি পাওয়া যায়। প্যাট্রিক অলিভেলে ঈশ্বর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেন, ★ "এই শব্দ দ্বারা বেদকে বুঝায়, সৃষ্টিকর্তাকে নয়।"★

দেশপাণ্ডে এ প্রসঙ্গে বলেন, ঈশ্বরের বিকল্প অর্থ রাজা।

(★) স্টার চিহ্ন দেয়া অর্থগুলো আমাদের অনন্য-অদ্বিতীয় স্রষ্টাকে না বুঝিয়ে অন্যদেরও বোঝায়। তাছাড়া পাণিনি তো বলেছেই যে "ঈশ্বর" আর যাই হোক কোনোভাবে সৃষ্টিকর্তাকে বোঝায় না।

তথ্যসূত্র : https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%88%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0_(%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81_%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8)

আর "ভগবান" এই শব্দের একটা অর্থ এতটাই বিদঘুটে যে তা দিয়ে স্রষ্টাকে সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ বোঝাবে না। "ভগবান" অর্থ "যে ভগের অধিকারী"। আর এই ভগের একটা অর্থ হলো, "স্ত্রী যোনি"। মানে "যে স্ত্রী যোনির অধিকারী সেই ভগবান"।

যাই হোক এই "ভগবান" দ্বারা "সম্পদ, শক্তি ইত্যাদির অধিকারীকেও বোঝায়"। সেদিক থেকে হয়ত স্রষ্টাকে ভগবান ডাকা হয়। কিন্তু আমি যদি বলি "ভগবান" তাহলে স্রষ্টাকে না বুঝিয়ে "নারীর যোনির অধিকারী" এমন কাউকেও কিন্তু বোঝানো যায়। তাই "ভগবান" শব্দটিও আসলে স্রষ্টাকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশে অক্ষম।

তাই, "আল্লাহ" শব্দটা দিয়েই স্রষ্টাকে অদ্বিতীয় ও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়। আমাদের হাতে থাকা বাকীগুলো দিয়ে যা করা যায় না।

★★★ দ্বিতীয়ত, "আল্লাহ" শব্দটাই স্রষ্টার বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ। স্রষ্টা ছেলেও নন, মেয়েও নন, যেহেতু তাঁর সাথে তুলনীয় ও তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। (সুরাতুল ইখলাস, আয়াত ৪; সুরাতুশ শু'রা, আয়াত ১১) তিনি একক, লিঙ্গভেদ, বচনভেদ তাঁর সত্তার পরিপন্থি।

ঠিক তেমনি এই "আল্লাহ" শব্দটি একবচনের, এই শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না, বহুবচনও হয় না।

কিন্তু God, ঈশ্বর, ভগবান এই শব্দগুলোর লিঙ্গান্তর হয়, যথাক্রমে, Goddess, ঈশ্বরা, ভগবতী। আবার God এর বহুবচনও হয় - Gods। তাই এই শব্দগুলো স্রষ্টার বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ ও সঠিক প্রকাশ করতে পারে না।

এসকল দিক আমরা বিবেচনা করলে দেখতে পাই, "আল্লাহ" শব্দটিই আমাদের প্রতিপালক, সর্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, অদ্বিতীয়, অতুলনীয়, এক এবং একমাত্র উপাসনার যোগ্য সৃষ্টিকর্তার নাম হওয়ার জন্য যোগ্য।

কিন্তু আন্তঃধর্মীয় আলোচনায় অনেক সময় বোঝার ও বোঝানোর সুবিধার্থে God, ঈশ্বর এই শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু যদি আপনার স্রষ্টাকে যথাযথ নামে ডাকতে চান,

তবে তাঁকে ডাকুন,

"হে আল্লাহ, আপনি মহিমান্বিত, সমস্ত প্রশংসা আপনার, আপনার নামসমূহ কল্যাণময়, আপনার সত্তা অতি উচ্চ, আর আপনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই।"

হিযবুত তাওহীদের ভ্রান্ত মতবাদ - ১======================== #বর্তমানের_ইসলাম_প্রকৃত_ইসলাম_নয় #হিযবুত_তাওহীদের_বক্তব্যঃ বর্...
16/09/2020

হিযবুত তাওহীদের ভ্রান্ত মতবাদ - ১
========================
#বর্তমানের_ইসলাম_প্রকৃত_ইসলাম_নয়
#হিযবুত_তাওহীদের_বক্তব্যঃ বর্তমান অমরা যে ধর্মটিকে এসলাম হিসেবে দেখছি,যেটাকে ধর্মপ্রাণ মানুষ অতি যত্ন সহকারে পালন করার চেষ্টা কোরছেন, যে এসলামটাকে সর্বত্র স্কুল,কলেজ মাদ্রাসায় ও পীরের খানকায় শেখানো হোচ্ছে সেটা প্রকৃত এসলাম নয়"।(সূত্রঃ এসলাম শুধু নাম থাকবে- পৃঃ ৯)
"যাত্রাদলের বন্দুকের সঙ্গে আসল বন্দুকের যতটা পার্থক্য, প্রকৃত এসলামের সঙ্গে বর্তমান এসলামের ততটাই পার্থক্য। এদু'টির চলার পথ সম্পূর্ণ বিপরীত"।(সূত্রঃ এসলাম শুধু নাম থাকবে- পৃঃ ৯)
#হাদীসের_বক্তব্যঃ আল্লাহ পাকের মনোনিত দ্বীন ইসলামের হেফাযত তিনি নিজেই করবেন।
যেদিন ইসলাম এবং মুসলিম থাকবে না সেদিন কেয়ামত সংগঠিত হয়ে যাবে।

⏹عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ اللَّهُ الله
অর্থাৎ আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন- যেদিন দুনিয়াতে কোনো আল্লাহ আল্লাহ বলনেওয়ালা মুমিন থাকবে না সেদিন কেয়ামত সংগঠিত হয়ে যাবে।(সহীহ মুসলিম হাদিস নং- ১৪৮;তিরমিযি হাদিস-২২০৭)

⏹عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي عَلَى ضَلَالَةٍ ، وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ বলেন রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন আমার সকল উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা কখনও ভ্রান্ত (বিকৃত) বিষয়ের উপর ঐক্য করবেন না।
(তিরমিযি হাদিস-২১৬৭;আবু দাউদ হাদিস-৪২৫৩)

⏹عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ
সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। এমন কি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ কিয়ামত এসে পড়বে আর তারা যেমনটি ছিল তেমনটই থাকবে। (সহীহ মুসলিম-ইঃফা,হাদীস নং-৪৭৯৭)
-----
সুতরাং হাদীসের ভাষ্য হচ্ছে উম্মতের একটি দল সবসময় হক্বের উপর থাকবে ।যদি ইসলাম বিকৃত হয়ে যায় তাহলে এ হাদীসকে ভুল বলতে হয়(নাউযুবিল্লাহ)
হিযবুত তাওহীদের সমর্থকদের নিকট প্রশ্ন রইল- আপনি কার দিকে ফিরে যাবেন?
▶রাসূল সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের দিকে, নাকি
▶পন্নি সাহেবের হাদীস বিরোধী বক্তব্যের দিকে?
লেখকঃ Abdur Rahman Masum
#সত্যকথন_৩২১

[ আমরা আস্তে আস্তে হেজবুত তাওহীদের ভ্রান্ত মতবাদ নিয়ে সত্যকথন পেজ থেকে প্রকাশিত সবগুলো পর্ব এখানে প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যাতে সবাই এই দল থেকে সতর্ক হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে সকল ভ্রান্ত দল থেকে হিফাযত করুন, আমীন ]

দা'ওয়াহ ★ #অপার্থিব_মুক্তির_পথের_মুসাফির★

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপের রাজ্যগুলো ব্যস্ত ছিল নিজেদের মধ্যে একের পর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। নিরন্তর যুদ্ধের প্রয়োজনে...
19/07/2020

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপের রাজ্যগুলো ব্যস্ত ছিল নিজেদের মধ্যে একের পর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। নিরন্তর যুদ্ধের প্রয়োজনে ধীরে ধীরে তাদের গড়ে ওঠে সমীহ জাগানিয়া সামরিক শক্তি, অস্ত্র, রণকৌশল। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বারুদ এবং শক্তিশালী কামানের ব্যবহারে অগ্রগতি। নতুন এ প্রযুক্তির সুবাদে শুরু হওয়া সামরিক বিপ্লবের মাধ্যমে অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশলে বাকি পৃথিবীকে ছাড়িয়ে যায় ইউরোপ।

ইউরোপীয় শক্তিগুলো যখন বুঝতে পারল তাদের ছোট্ট মহাদেশের বাইরে বিশাল এক অপ্রস্তুত পৃথিবী দখল হবার জন্য বসে আছে, তখন সাময়িকভাবে নিজেদের মধ্যেকার লড়াই বন্ধ করে মানচিত্রজুড়ে তারা ছড়িয়ে পড়ল ঔপনিবেশিক লুটপাটে। সামরিক অগ্রগতি এবং নৈতিকতার বাঁধন থেকে মুক্ত হবার কারণে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ আগ্রাসী ফিরিঙ্গিরা দখল করে নিল পৃথিবীর প্রায় ৮৫% এলাকা।

সভ্যতা ফেরি করা সাদা মানুষের চালানো অভূতপূর্ব মাত্রার লুটপাটে উপনিবেশগুলো থেকে সব সম্পদ গিয়ে জমা হতে লাগল ইউরোপে। দিন দিন বাড়তে থাকল ফিরিঙ্গিদের সম্পদের পাহাড়, দরিদ্র হতে থাকল বাকি বিশ্ব। [১] উপনিবেশগুলোকে শুষে ছিবড়ে বানানোর পর যখন লুট করার মতো আর কিছু কিংবা কাউকে পাওয়া গেল না, তখন ফিরিঙ্গিরা আবারও মনোযোগ দিলো নিজেদের মধ্যেকার যুদ্ধে। দুই বিশ্বযুদ্ধের নামে পৃথিবীকে উপহার দিলো প্রায় ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু।

মাত্র এক শ বছর আগেও যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে সারা পৃথিবীর সম্পদ ছিনিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিল, আজ কেন তারা ধনী এবং বাকি সবাই গরিব, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন কিছু না। মুসলিম বিশ্বসহ, এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশগুলোর সাথে ইউরো-অ্যামেরিকার যে সম্পদের বৈষম্য আজ আমরা দেখতে পাই সেটা সরাসরি এই ঔপনিবেশিক লুটপাটের ফসল।

একটা সহজ উদাহরণ দেখা যাক। ফিরিঙ্গিদের আগ্রাসনের আগে উপমহাদেশের জিডিপি ছিল বৈশ্বিক অর্থনীতির ২৪.৪%।[২] সেটা ফিরিঙ্গিদের আসার আগের কথা। আর ১৯৫২ সালে ব্রিটেন বিদায় নেয়ার সময় ভারতীয় উপমহাদেশের জিডিপি ছিল পৃথিবীর মোট জিডিপির ৩.৮%। [৩]

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি থেকে বিশ্ব অর্থনীতির ৩.৮% এ পরিণত হবার মাঝের গ্যাপটা হলো অসভ্য বাদামি নেটিভদের জাতে তোলার জন্য সাদা মানুষের ফী। বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন এয়ার টয়লেটে পরিণত হওয়া হলো ফিরিঙ্গির কাছ থেকে সভ্যতা শেখার দাম।
ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক

বইঃচিন্তাপরাধ (লেখকঃ আসিফ আদনান)
বইটি অনলাইনে অর্ডার করার লিঙ্ক -

১। ওয়াফি - https://tinyurl.com/y2rh7dh6
২। রকমারি - https://tinyurl.com/yb4839wt

'যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস...

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দা'ওয়াহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to দা'ওয়াহ:

Share