12/11/2025
ইসলাম কেন সালাত (নামাজ) এর মাধ্যমে সার্বিক সফলতা ও কল্যাণের আহবান করেছে?
লেখক:
ড. মুহাম্মাদ জয়নুল আবেদীন খান খাস মুজাদ্দিদী
সিনিয়র প্রভাষক
ইসলাম শিক্ষা বিভাগ
মাইলস্টোন কলেজ
উত্তরা, ঢাকা।
আল্লাহুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিঁও ওয়া 'আলা আলি মুহাম্মাদ, ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।
আমরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পাঁচবার আযানের ধ্বনি শুনতে পাই এবং জামাতে নামাজ পড়ার সময় ইকামতেও পাঁচবার এই আহবান গুলোর পূণরাবৃত্তি করতে হয়। এমনকি জুম'আর সানি (দ্বিতীয়) আজান ও ইকামতেও পূণরাবৃত্তি হয়। এভাবে সমগ্র বিশ্বে প্রতিদিন কোটি কোটি বার আযান-ইকামতে একই আহ্বান ধ্বনিতে হচ্ছে: "হাইয়্যা 'আলাস সালাহ" (সালাতের দিকে এসো) ২বার এবং "হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এসো) ২বার। এ আহ্বানদ্বয়ের মাঝে রয়েছে মানব ও জিন সম্প্রদায়ের সার্বিক সফলতা ও কল্যাণ।
কীভাবে সালাত আদায় করলে কল্যাণ ও সফলতা লাভ করা যাবে? অর্জন করা যাবে আল্লাহপাকের চরম নৈকট্য ও সন্তুষ্টি। বেঁচে থাকা যাবে সকল পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে। অর্জন করা যাবে চিরস্থায়ী যিকির। অর্জন করা যাবে আধ্যাত্মিক (কলবি) চোখে চিরস্থায়ীভাবে আল্লাহ পাকের দীদার বা দর্শন। হওয়া যাবে ইনসানে কামিল বা পরিপূর্ণ মানব। হওয়া যাবে আল্লাহ পাকের প্রকৃত বন্ধু (ওলি)। চলুন দেখি আল-কুরআন এ ব্যাপারে কী ঘোষণা করছে?
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
এবং ১. সালাত কায়েম কর। ২. সালাত অবশ্যই বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে। আর ৩. আল্লাহর যিকির (স্মরণ) ই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন। (সূরা 'আনকাবুত২৯:৪৬)
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে যে ১. পবিত্রতা (পরিশুদ্ধতা) অর্জন করে এবং ২. তাঁর প্রতিপালকের নামের যিকির (স্মরণ) করে ও ৩. সালাত
কায়েম করে। (সূরা আ'লা ৮৭:১৪-১৫)
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
অতএব আমার ইবাদত কর ও আমার যিকিরের (স্মরণের) জন্য নামায কায়েম কর। (সূরা তাহা ২০:১৩)
এজন্য রাসুল্লাহ (স.) বলেছেন- নামাজ হচ্ছে মুমিনদের মিরাজ। তাফসিরে মাযহারী, খন্ড-১০, পৃ. ২৩।
অনত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: কখনো নয় আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সিজদা করুন ও আমার নৈকট্য (দীদার-দর্শন)
অর্জন করুন। (সূরা আলাক ৯৬:১৯)
এখানে শর্ত হচ্ছে:
১. সর্ব প্রথম আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়া) অর্থাৎ জীবাত্মাকে পশুত্বের বৈশিষ্ট্যমুক্ত করে মানবাত্মার মৌলিক মানবীয় গুণাবলী অর্জন, ২. আল্লাহ নামের যিকির (স্মরণ) করা, ৩. অত:পর সালাত কায়েম (প্রতিষ্ঠা) বা আদায়।
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
সে-ই সফলকাম হবে যে নিজেকে পবিত্র (পরিশুদ্ধ) করবে এবং সে-ই ব্যর্থ হবে যে নিজেকে কলুষাচ্ছন্ন করবে। (সূরা শামস ৯১:৯-১০) এখানে শর্ত হচ্ছে: ১. আত্মশুদ্ধি অর্থাৎ জীবাত্মার কলুষতা থেকে মানবাত্মাকে মুক্তি দান করা।
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
এটা সে-ই কিতাব। এতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথনির্দেশ, ১. যাঁরা অদৃশ্যে (গায়বে) ঈমান আনে, ২. সালাত কায়েম করে, ও ৩. তাঁদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে এবং ৪. আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও আপনার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তাতে যারা ঈমান আনে এবং ৫. আখিরাতে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। তাঁরাই তাঁদের প্রতিপালক নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তাঁরাই সফলকাম। (সুরা বাকারা ০২:২-৫)
এখানে বলা হচ্ছে এ কিতাব আল-কুরআন মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ। আর মুত্তাকীদের পরিচয়ে বিবৃত হচ্ছে নিম্নোক্ত শর্তাবলী যা সফলতার পূর্বশর্ত। মুত্তাকী (পরহেজগার) দের পরিচয়ে ঘোষিত হচ্ছে:
১. অদৃশ্যে (আমাদের বাহ্যিক দৃষ্টিতে অদৃশ্য কিন্তু প্রকৃত পক্ষে বর্তমান এমন বিষয়ের উপর) ইমান আনয়ন ২. সালাত কায়েম করা ৩. দান-সদকা করা এখানে যাকাত প্রদান উদ্দেশ্য ৪. সকল নবি-রাসূলদের প্রতি অবতীর্ণ সকল বিষয়ের প্রতি ইমান আনয়ন ৫. আখিরাতে
নিশ্চিত বিশ্বাসী হওয়া।
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
তোমরা সালাত কায়েম করো ও যাকাত দাও এবং যারা রুকু' করে তাদের সাথে রুকু' কর। (সূরা বাকারা ০২:৪৩)
এখানে শর্ত হচ্ছে: ১. সালাত কায়েম করা ২. যাকাত প্রদান ৩. জামাতে নামাজ আদায় ৪. ঐক্যবদ্ধ থাকা
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং এটা বিনীতগন (খশিয়িন) ব্যতীত আর সকলের নিকট নিশ্চিতভাবে কঠিন। তাঁরাই বিনীত যাঁরা বিশ্বাস করে যে তাঁদের প্রতিপালকের সাথে নিশ্চিতভাবে তাঁদের সাক্ষাতকার ঘটবে এবং তাঁর (আল্লাহর) দিকে তাঁরা ফিরে যাবে। (সূরা বাকারা ০২:৪৫-৪৬)
এখানে বিনীত হওয়ার শর্ত হচ্ছে: ১. সকল বিপদাপদে ধৈর্যশীল হওয়া ২. আখিরাতে (পরকালে) নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সাক্ষাতকার লাভএবং তাঁরই দিকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করতে হবে এ মর্মে বিশ্বাসী হওয়া।
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ যাঁরা ১. বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে, যাঁরা ২. অসার-ক্রিয়াকলাপ হতে বিরত থাকে, যাঁরা ৩. যাকাত দানে সক্রিয়, যাঁরা ৪. নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে, নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসিগণ ব্যতীত, এতে তাঁরা নিন্দনীয় হবে না।
এবং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী। এবং যাঁরা নিজেদের ৫. আমানত ও ৬. প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, এবং যাঁরা ৭. নিজেদের সালাতে যত্নবান থাকে, তাঁরাই হবে উত্তরাধিকারী (সফলতার), অধিকারী হবে জান্নাতুল ফিরদাওসের (সর্বোচ্চ জান্নাতের) যাতে তাঁরা চিরস্থায়ী হবে। (সূরা মু'মিনুন ২৩:১-১১)
এখানে প্রকৃত সফলকাম মু'মিন হওয়ার শর্ত হচ্ছে: ১. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সালাতে বিনয়-নম্র বা বিনীত হওয়া অর্থাৎ একমাত্র নিছক আল্লাহ ব্যতীত সকল প্রকার চিন্তাভাবনা, অহংকার, আমিত্ব-শ্রেষ্ঠত্ব বর্জন করে যারা প্রতি রাকাতে হাতজোড় করে দাঁড়ায় এবং মাটিতে
সিজদায় নাকে খড় দেয় অত:পর আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করে।
২. অলস সময় কাটায়না বা ইসলাম সমর্থন ছাড়া কোন কার্যক্রম করেনা।
৩. যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে (হালাল স্থানে হালাল পন্থায় ব্যবহার করে)
৪. বৈধ স্ত্রী (অধিকারভুক্ত দাসী যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়) ছাড়া অন্যত্র যৌন চাহিদা মেটাতে বিরত থাকে।
৫. যারা আমানত রক্ষা করে
৬. যারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে
৭. যারা নিজেদের সালাতে সকল প্রকার বাতিল মাবুদের দাসত্ব ও শিরক মুক্ত থাকে এমন কী শিরকে খফি (অপ্রকাশ্য) ও শিরকে আখফা (অতিগোপন) থেকেও মুক্ত থাকে।
এরাই পরম সফলতা লাভ করবে এবং আল্লাহর চরম নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হবে। এরাই সর্বোচ্চ জান্নাত-জান্নাতুল ফিরদাওসে চিরস্থায়ী ভাবে থাকবে।
এদের অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে এরা আল-কুরআন ও ঈমানী নূর (দীপ্তি) অর্জনকারী। এদের সম্পর্কে আল্লাহপাক হিদায়াতের অমীয়বাণী ইরশাদ করেন। এভাবে আমি আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ (ওহি) করেছি রূহ তথা আমার নির্দেশ; আপনি তো জানতেন না কিতাব (আল-কুরআন) কি এবং ঈমান (প্রকৃত ঈমান) কি? পক্ষান্তরে আমি একে (উভয়কে) করেছি আলো (জোতি) যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করি; আপনি তো হিদায়াত করেন সরল পথে। (সূরা শুরা ৪২:৫২)
নামাজ কে আল্লাহ পাক এর সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির (স্মরণ) হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কেননা নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ পাকের অতি নিকটে পৌঁছে যায়। এ কারণে নামাজ মু'মিনের মিরাজ বা দীদার (আল্লাহ দর্শন)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
হে মু'মিনগণ। জুমু'আর দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর জিকিরে (স্মরণে) ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয়। ত্যাগ কর। ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিযিক-খাদ্য) অনুসন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক যিকির
( স্মরণ) করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমু'আ৬২:০৯-১০)
এ আয়াতে জুমু'আর সালাতের আযান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সকল পার্থিব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।
আবার সালাত শেষে পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য জামে মসজিদে বসে থাকতেও নিষেধ করা হয়েছে। ইহা তো মানব কল্যাণে চমৎকার বিধান।
আল্লাহ পাক অন্যত্র ইরশাদ করেন:
আল্লাহ পাক শান্তির আবাসের দিকে (দারুস সালামে) আহবান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে পরিচালিত করেন। (সূরা ইউনুস ১০:২৫)
দারুস সালাম জান্নাতের একটি নাম। এদিকেই আল্লাহ তায়ালা আহ্বান করছেন।
সুতরাং সার্বিক সফলতা ও কল্যাণের দিকে ধাবিত হতে হলে অবশ্যই সালাতের দিকে আসতে হবে। সালাতের পূর্বে বাহ্যিকভাবে ওযু-গোসল যেমন আবশ্যক অনুরূপভাবে অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা বা আত্মশুদ্ধিও আবশ্যক। যারা আত্মশুদ্ধি করতে অক্ষম তারা ইহকালে চোখ থাকতেও অন্ধ।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: তারা কি দেশ ভ্রমণ করে নি? তবে তারা জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন কলব (আল্লাহর যিকিরে জিন্দা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গোশতপিন্ড) ও শ্রবণ শক্তিসম্পন্ন শ্রবণের (কানের) অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয় বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত
কলব (যা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অবিভাজ্য গোশতপিন্ড হিসেবে অবস্থিত)
(সূরা হাজ্জ ২২:৪৬)।
অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: এবং আমি তোমাদের মধ্যেও (আছি) তোমরা কি অনুধাবন করবে না? (সূরা যারিয়াত ৫১:২১)।
এ আয়াতদ্বয়ে লতিফায় কলবে আল্লাহর যিকিরে পরিশুদ্ধ ও নফস পরিশুদ্ধতায় ইলহাম (ঐশি বিজ্ঞপ্তি) প্রাপ্তির উপযোগী বৈশিষ্ট্য বুঝানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন: "আল্লাহ বলেন: জমিনে ও আসমানে আমার স্থান সংকুলান হয় না কিন্তু মুমিন বান্দার কলবের মধ্যে হয়।” (হাদিসে কুদসি, মাবদা-অ মা'আদ, পৃ.২৮)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আরো ঘোষণা করেন:
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট হতে তাঁদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাত-এর বিনিময়ে। তাঁরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে নিধন করে ও নিহত (শাহাদাত বরণ করে) হয়।তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে তাঁদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে? তোমরা যে বস্তু (জান্নাত) ক্রয় করেছ সে-বস্তুর জন্য আনন্দিত হও এবং এটাই তো মহাসাফল্য।
এঁরা ১. তাওবাকারী ২. ইবাদতকারী ৩. আল্লাহর প্রশংসাকারী ৪. সিয়াম পালনকারী ৫. রুকু'কারী ৬. সিজদা কারী ৭. সৎকাজের নির্দেশদাতা ৮. অসৎকাজে নিষেধকারী এবং ৯. আল্লাহর নির্ধারিত সীমা রেখা সংরক্ষণকারী এ-বৈশিষ্ট্যধারী মু'মিনদেরকে তুমি শুভ সংবাদ দাও।
(সূরা তাওবা ০৯:১১১-১১৩)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর যিকিরে যাদের কলব প্রশান্ত; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকিরেনা কল প্রশান্ত (রোগ-ব্যাধিমুক্ত) হয়। (সূরা রা'আদ ১৫:২৮)
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে, "তোমরা মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুবরণ কর।" এ বক্তব্যে জীবাত্মার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। সুতরাং সরাসরি যুদ্ধে নিহত হওয়া যেমন শাহাদতের মর্যাদা প্রাপ্ত অনুরুপ আত্মীক কঠোর সাধনায় পশুত্বের মৃত্যুও শাহাদাতের মর্যাদার অর্ন্তভুক্ত।
২২. বেশ, আল্লাহ্ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, সে তাঁর প্রতিপালক প্রদত্ত দীপ্তিতে (নূরের মধ্যে) অবস্থান করে। কিন্তু (এর বিপরীতে) সেসব লোকের জন্যে দুর্ভোগ যাদের কলব (বক্ষস্থিত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অবিভাজ্য গোশত পিন্ড) আল্লাহর স্মরণে (জিকিরে) অক্ষমতায় কঠোর হয়ে গিয়েছে। এরাই সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে।
২৩. আল্লাহই অবতীর্ণ করেছেন উৎকৃষ্ট বাক্য, এক কিতাব যার কথাগুলো (ছন্দে ও অর্থে) পারস্পরিক সাদৃশ্যপূর্ণ, (যার আয়াতসমূহ) বার বার পাঠ করা হয়; এতে যাঁরা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের দেহ ও কলব প্রকম্পিত হয়, অতঃপর তাঁদের দেহ ও কলব বিনম্র হয়ে আল্লাহর স্মরণে (যিকিরে) ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি যাকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে পথপ্রদর্শন (হিদায়াত) করেন। আর আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন (অথবা পথভ্রষ্ট অবস্থায় ছেড়ে দেন) তার জন্যে কোনো হিদায়াতকারী (মুরশিদ) নেই।
(সূরা যুমার ৩৯:২২-,২৩)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
আল্লাহর নিকট হতে এক নূর (জ্যোতি) ও সুস্পষ্ট কিতাব (আল-কুরআন) তোমাদের নিকট এসেছে। যারা আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভকরতে চায় এ দ্বারা তিনি তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার হতে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং আপনি এদেরকে সরল পথে- (সিরাতাল মুস্তাকিমে) হিদায়াত করেন।
(সূরা মায়িদা ৫: ১৫-১৬)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করেন (তিনি হিদায়াত প্রাপ্ত)। আর যাকে তিনি হিদায়াত দান করেন না সে তার জন্য কখনও খুঁজে পাবে-না কোন সাহায্যকারী ওলি-মুরশিদ (হিদায়াত দানকারী বন্ধু)
(সূরা কাহফ ১৮:১৭আয়াত)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: অতএব যে তার রব আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাত কামনা করে সে যেন নিজেকে সংশোধন (আমলে সালেহ) করে এবং আল্লাহ তাআলার সাথে অন্য কাউকে অংশিদার না করে। (সূরা কাহফ ১৮:১১০ আয়াত)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
তোমার প্রতিপালককে মনে মনে (নফসের মাধ্যমে) সুবিনয়ে ও সশংকচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষ্যে (ফজর) ও সন্ধ্যায় (মাগরিবে) যিকির করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না।
(সূরা আ'রাফ ০৭:২০৫)
এখানে ফজর-মাগরিব নামাজ, মুরাকাবা-মুশাহাদা
(তন্ময়তা-মেডিটেশন) ও যিকিরে খফি (অপ্রকাশ্য) বা সংগোপন যিকিরের কথা ব্যক্ত হয়েছে।
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: প্রকৃত মু'মিন তো তাঁরাই যাঁদের ১.কলব (বক্ষস্থিত গোশত পিন্ডটি) প্রকম্পিত হয় যখন আল্লাহ কে যিকির (স্মরণ) করা হয় এবং যখন তাঁর আয়াত তাঁদের নিকট পাঠ করা হয় তখন তা তাঁদের ২. ঈমান (জ্যোতি-নূর) বৃদ্ধি করে এবং তাঁরা
৩. তাঁদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে এবং ৪.আমি যা দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে। তাঁরাই প্রকৃত মুমিন। তাঁদের প্রতিপালকের নিকট তাঁদের জন্য রয়েছে ১. মর্যাদা ২. ক্ষমা এবং ৩. সম্মানজনক জীবিকা।
(সূরা আনফাল ০৮: ২-৫ আয়াত)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
আপনি (হে মুহাম্মাদ স.) নিজকে ধৈর্য সহকারে আবদ্ধ রাখবেন তাদেরই সংসর্গে যারা সকাল ও সন্ধ্যায় আহবান করে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আপনি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের উপর হতে আপনার দৃষ্টি (চোখের পলক) সরিয়ে নিবেন না। আর আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার কলব গোশতপিন্ড) কে আমি আমার যিকিরে (স্মরণে) অমনোযোগী (গাফিল) করে দিয়েছি তার অলসতার জন্য, সে তার খেয়াল-খুশীর (কুপ্রবৃত্তির) অনুসরণ করে ও তার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে (শরিয়ত বিবর্জিত)। (সূরা কাহাফ ১৮:২৯ আয়াত)
এখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়তম বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর সাধারণ উম্মতের উপর সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে উম্মতে মুহাম্মাদি কত কঠিন ও অটুটভাবে তাঁকে সার্বক্ষণিক খেয়াল করবে এটার গুরুত্ব এখানে ব্যাখ্যার আর প্রয়োজন হবে না।
এখানে রাবেতা- তাসাওউরে মুরশিদ ও পাঁচ আনফাস যিকির তথা সার্বক্ষণিক শ্বাস-প্রশ্বাসে রিয়াযাত ও যিকিরের অপরিহার্যতা নির্দেশ করে।
যার কলব আল্লাহ তাআলার জিকিরে (স্মরণে) অক্ষম সে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণকারী, তার সকল কার্যক্রম শরিয়ত বিবর্জিত বিধায় তার আনুগত্য নিষিদ্ধ।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন: বলুন, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই তবে আমি ভয় করি মহা দিবসের শাস্তির।
বলুন, আমি ইবাদত করি আল্লাহরই তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রেখে।
আর তোমরা আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ইবাদত কর।
বলুন ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জেনে রাখ ইহাই সুস্পষ্ট ক্ষতি, তাদের জন্য থাকবে তাদের উর্ধ্বদিকে অগ্নির আচ্ছাদন এবং নিম্নদিকেও আচ্ছাদন। এতদ্বারা আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। হে আমার বান্দাগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর। যারা তাগুতের পূজা হতে দূরে থাকে
এবং আল্লাহর অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে। যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং এর মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে এদেরকে আল্লাহ হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেন এবং এরাই বোধশক্তি সম্পন্ন।
(সূরা যুমার ৩৯: ১৩-১৮আয়াত)
সুতরাং মহাসফলতা লাভ করতে, সত্যবাদী হতে, বিনয়ী হতে, তাগুত (অবাধ্য-দুষ্ট জিন সম্প্রদায়) থেকে বেঁচে থাকতে ও নফসকে কু প্রবৃত্তি ও কুপ্রভাব মুক্ত করতে, কলবি যিকির অর্জন অপরিহার্য-ফরজ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়তের পূর্বাপর সকল সময় সকল ক্ষেত্রে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সংরক্ষিত-নিষ্পাপ ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহি। এরপরও আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে আল্লাহ তাআলা তাঁর "ওপেন চেষ্ট (প্রচলিত হার্ট) সার্জারি" বা "শরহে সদর এর মাধ্যমে কলব নামক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অবিভাজ্য গোশত পিন্ডটি চারবার অর্থাৎ ১. দুই বছরের সময় ২.দশ বছরের সময় ৩. নবুয়ত লাভের সময় এবং ৪. মি'রাজের সময় পরিশুদ্ধ ও জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে ধৌত করে সকল জৈবিক বৈশিষ্ট্য তথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য এর ত্রুটি সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেখিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ। তাহলে আমাদের কত লক্ষ কোটিবার কলব সার্জারি বা "শরহে সদর করার প্রয়োজন ছিল? কখনও কি কাউকে জিজ্ঞাসা করেছেন?
আমাদের জীবনে কী একবারও সার্জারি হয়েছে? বা এর প্রয়োজন অনুভব করেছেন?
কখনও কী ভেবে দেখেছেন? ভাষাগত দৃশ্যমান বাহ্যিক কুরআন-হাদিসের মহা পান্ডিত্য বা নফস পূজারী স্কলার-জ্ঞানী বা ইমাম সাহেবদের দিয়ে কী কলব নামক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অবিভাজ্য গোশতপিন্ড
১। আল্লাহর যিকিরে জিন্দা করতে এবং ২। পাপের কালিমা, ৩। ইবলিশ শয়তান ও দুষ্ট জিন (তাগুত) এর কুমন্ত্রনা ও ৫। জীবাত্মার (নফসের) কুমন্ত্রণা অপসারণ করে প্রকৃতভাবে মাকবুল নামাজ আদায়ে সার্জারি সম্ভব???????????????????????????
না, কখনোই সম্ভব নয়।
সাধারণত আমাদের চোখের সমস্যা হলে চোখের ডাক্তারের কাছে যাই, কানের সমস্যা হলে ইএন্ডটি ডাক্তারের কাছে যাই, অর্থোপেডিক (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গভাঙ্গলে) সমস্যা হলে অর্থোপেডিক ডাক্তারের কাছে যাই, নিউরো (স্নায়ু) সমস্যা হলে নিউরোলজিস্ট এর কাছে যাই। গ্যাস্টোলিভার সমস্যা হলে গ্যাস্ট্রোলিভার ডাক্তারের কাছে যাই, স্কীন সমস্যা হলে ডার্মাটোলজিস্ট এর নিকট যাই, হরমোন সমস্যায় এন্ড্রোক্রাইনোলজিস্টের কাছে যাই, গাইনি সমস্যা হলে গাইনি ডাক্তারের কাছে যাই, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডায়াবেটিস ফিজিশিয়ান এর নিকট যাই, ক্যান্সার হলে ক্যান্সার চিকিৎসকের নিকট গিয়ে তার চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলতে হয়; এভাবে বিভিন্ন রোগ চিকিৎসায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ চিকিৎসা গ্রহণ করি; তবে আমার পারলৌকিক মুক্তি ও সফলতার জন্য চিরারোগ্রন্থ জীবাত্মা (পশুত্বের কু-স্বভাব) পরিশুদ্ধতার জন্য, জান্নাত লাভের জন্য, মহাসফলতা লাভ তথা চিরস্থায়ীভাবে আল্লাহর যিকির এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য-দীদার (দর্শন) লাভের জন্য এবং দিব্য দৃষ্টি অর্জনে-কলব পরিশুদ্ধিতার জন্য, কলব-নফসের অদৃশ্য ক্যান্সার সহ গোটা দেহ পরিশুদ্ধিতার জন্য এবং শয়তান ও দুষ্ট জিন সম্প্রদায়ের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য প্রকৃত নায়িবে নবি বা পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি (প্রচলিত ভাষায় মুকাম্মিল-মুরশিদ) ডাক্তারের চিকিৎসায় যাচ্ছিনা কেন? এ ধরনের সার্বক্ষণিক অপারেশন ও চিকিৎসা কী কিতাবী আলিম করতে সক্ষম?
রাসুলল্লাহ (স.) এর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয়দিকে পরিপূর্ণ অনুসারী- উত্তরাধীকার নায়িবে নবি (মুকাম্মিল-মুরশিদ) এর সোহবতে তাওবা-বায়আত-তারবিয়াত এর বাস্তবিক অনুশীলন- প্রশিক্ষণ ছাড়া কী সম্ভব?
ঠান্ডা মাথায় চিন্তা গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
তিনি উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে যে ১. তাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁর আয়াতসমূহ:
২. তাদেরকে পবিত্র (পরিশুদ্ধ-তাযকিয়া) করে এবং শিক্ষাদেয় ৩.কিতাব ও ৪.হিকমত। ইতিপূর্বে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে। (সূরা
জুম'আ ৬২:০২ আয়াত)
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন: জেনে রাখ মানবদেহে একটি গোশতপিও আছে যা সংশোধিত থাকলে সম্পূর্ণ দেহই সংশোধিত থাকে। আর যা খারাপ হলে সম্পূর্ণ দেহই খারাপ হয়ে যায়। সাবধান এটাই কলব (বক্ষস্থিত গোশত পিন্ড)। ইমাম বুখারী, সহীহ বুখারী, ১মখ, হাদিস নাম্বার ৫২, ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, ২য় খন্ড, হাদিস নাম্বার ৩১৭৩।
অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন: শয়তান মানুষের কলব নামক গোশত পিন্ডের উপর ঘাঁটি করে বসে থাকে। যখন ঐ কলব আল্লাহ তায়ালার যিকির করে শয়তান পালিয়ে যায়। আর যখন আল্লাহ তাআলার যিকির বন্ধ করে তখন কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। (মিশকাতুল মাসাবিহ খন্ড: ২. পৃ. ২২৮১)
প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: যাদের কলবে ব্যাধি আছে, সেটা তাদের কলুষের সাথে আরও কলুষ যুক্ত করে এবং তাদের মৃত্যু ঘটে কাফির অবস্থায়। (সূরা তাওবাহ ৯:১২৫)। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: আর যে মৃত ছিল (কাফির ছিল) অতঃপর আমি তাকে জীবিত (ঈমানের নূর দিয়ে) করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি (ইমানি নূর) যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে নিমজ্জিত সেখান থেকে বের হতে পারছে না। এমনিভাবে কাফিরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজ-কর্মকে সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে। (সুরা আনআম ৬:১২)।
অতএব, গ্রহণযোগ্য (মাকবুল) সালাতের দিকে-সফলতার ও কল্যাণের দিকে আসতে লতিফায় কলব-নফস ও সম্পূর্ণ দেহ পরিশুদ্ধ করতে হবে। সার্বক্ষণিকভাবে কলব, নফস ও সমগ্র দেহ দ্বারা আল্লাহর যিকির করাতে হবে। তবেই পাপাচার্য ও পশুত্বের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হয়ে ঈমানি নূরে জিন্দা মুমিন- মুত্তাকি ওলি- আল্লাহ হওয়া যাবে। যাবে উভয় জগতে মহাসফলতা অর্জন করা। হতে পারবে ইনসানে কামিল। সুতরাং সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা লাভে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে নামাজ আদায় করতে হবে।
আল্লাহুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিঁও ওয়া 'আলা আলি মুহাম্মাদ, ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।
Dr Mohammad Jaynul Abedin khan Khas Mujaddidee
KHADIM/THE VICEGERENT OF THE TARIQA E KHAS MUJADDIDIA
E Mail:[email protected]
What's app:+8801716 633 502