13/05/2026
আওয়ামিলীগ সরকারে থেকে দুর্নীতি লুটপাট এবং প্রতিপক্ষের প্রতি দমন নীতি অবলম্বন করেছিলো এটা যেমন সত্যি, তেমনি অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে সেটাও মিথ্যা নয়।স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে হাসিনা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দেশপ্রেমিক সেকথা ভুল না।চব্বিশের মেটিকুলাস ডিজাইনড অভ্যুত্থান পরবর্তী তথাকথিত দেশপ্রেমিকরা হাসিনা সরকারের এমন কোনো কর্ম কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করে কোনো চুক্তি করেছে এমন প্রমাণ দেখাতে পারে নি।ইউনুস সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে অসম চুক্তি করেছে বিএনপি এবং জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে, সেরকমটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও ঘটে নি,এমনটাই বলা হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই চুক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় বসেছে একথা বলা যায় কারণ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ গুরুত্ব পায় নি এবং মোটাদাগে দেশ ইজারার এই চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা না করে চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছে।দেশের সাধারণ মানুষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিমরাজি থাকার কারণ ছিলো, দেড় দশক আওয়ামী শাসনামলের লুটপাট, দুর্নীতি এবং দমন নীতিকে প্রত্যাখ্যান করার জায়গা থেকে। কিন্তু অভ্যুত্থানের ডিজাইনার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিভৎস ভাবে।রাষ্ট্র কাঠামো যেভাবে সরকারের কবলে পড়ে বিধ্বস্ত রূপ পেয়েছে, সেখান থেকে পুনরুদ্ধারে অভ্যুত্থান পরবর্তী ক্ষমতাসীনদের কোনো প্রচেষ্টা তো দেখা যায়ইনি বরং আরও বিধ্বস্ত করে,বিএনপির ঘাড়ে রেখে গেলেন।বিএনপি আওয়ামী দমন পীড়নের প্রতিশোধ নিতে ক্ষমতায় যাবার উপায় হিসেবে মেটিকুলাস ডিজাইনারের সঙ্গে আতাত করেছে। এবং এখনও অবধি সেই ছন্দে রাজনীতি করে যাচ্ছে। রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারে বর্তমান সরকার তেমন সফলতা দেখাতে পারবে না, কারণ মেটিকুলাস ডিজাইনে আটকে গেছে বিএনপি। মোটাদাগে চব্বিশ রাষ্ট্র বা জাতির জন্য কোনো কল্যাণ না এনে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের লাভ হয়েছে, যারা মেটিকুলাস ডিজাইনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে সচেতন ভাবে এবং বিএনপির মতো বাধ্য হয়ে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে দলীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে। সুতরাং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে একরকম আরো পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে গেলো।আত্মঘাতী হিসেবে বাঙালি আবারও প্রতারিত হলো।বিএনপি একাত্তর অনুসারী হলেও তাদের সঙ্গে বর্তমান বাদবাকি রাজনৈতিক শক্তি একাত্তর বিরোধী এই বাস্তবতায় বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি।