বড়দের লেখনী

বড়দের লেখনী উম্মাহর লেখকদের ভালোবাসুন।
এই পেজ তা?

30/05/2024

মনের আকাশে মেঘের ঘনঘটা। এই বুঝি কান্নারা ঝরবে অঝোর! অস্থিরতায় দিশেহারা আমি। এক দলা সুকূন যদি পেতাম, ইস!

কী করতে হবে বুঝতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড মন খারাপে পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে আসছিল আমার। নাহ। বেহায়া অশ্রুকে দমাতেই হবে। অতঃপর শুরু করলাম দরুদ !

কী আশ্চর্য! মনের আকাশের ঘন কালো মেঘ সরে গেলো মুহূর্তেই! অস্থিরতা? ছটফটানি? কষ্ট ? না। কিছুই নেই। আমার মালিক কী এক অদ্ভুত শান্তিতে যে হৃদয়ের আনাচে কানাচে হিল্লোল ছড়িয়ে দিয়েছিলেন আমি ঠিক বোঝাতে পারি না। লেখক যথার্থই বলেছেন_

বিপন্ন বুকে এক ফোঁটা আবেহায়াত। আল্লহু আকবার।‌ এটাই সত্যি।

(صلى الله عليه و سلم)

18/10/2022

গর্ভাবস্থায় প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।


সাধারণত শয়তানরা মুমিনদের দূর্বল সময়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করে।

অনেকেই গর্ভাবস্থায় জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত হয়। এবং সেটার ইফেক্ট সন্তানের ওপরও পড়ে। তবে মেক্সিমাম ক্ষেত্রেই দেখা যায় পূর্বে থেকেই শরীরে থাকা জ্বিনটা এ সময়টাতে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করতে চায়। তাই এ সময়ে যে কাজগুলো করতে হবে:

১. সকাল-সন্ধ্যার আমল। নিজের এবং বাচ্চার আফিয়্যাতের ( নিরাপত্তা, সুস্থতা) নিয়তে।

২. সকাল-বিকাল সূরা মারইয়্যাম তিলওয়াত করা,অপারগ হলে তিলওয়াত শোনা।

৩. নিয়মিত আয়াতুশ শিফা এবং আয়াতুস সাকিনার তিলওয়াত শোনা।

৪. অলিভওয়েলে দুরুদ, ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী এবং ফালাক নাস পড়ে ফু দিয়ে সেটা পুরো শরীরে মালিশ করা।

৫. নিজের এবং সন্তানের ওপর থেকে যেন বালা মুসিবত দূর হয়ে যায় এ নিয়তে সাদাকাহ করা।

৬. সার্বক্ষনিক যিকির আর দুরুদের হালতে থাকা।

আল্লাহ আমাদের আমলের তাওফিক দিন।

10/02/2022

কাফেরদের মৃত্যুতে আমাদের করনীয়।

কোন অমুসলিম কাফের সেলিব্রেটি মরতে দেরি হয়না। সাথে সাথেই আমাদের ভাইয়েরা শোক প্রকাশ করে লিখে ধুম ফেলে দেয় "ওপারে ভাল থাকুন"। আমাদের নামে মাত্র মুসলিম সমাজে এই সংস্কৃতি বহুবছর ধরেই চলে আসছে। আবার কেউ ভুলটা ধরে দিলে ভাইয়েরা তেড়েও আসছে। ভাইয়েরা বিষয়টা অত্যন্ত জটিল। এটা স্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়। যে ব্যক্তি নিশ্চিত কুফুরের উপর মারা গেছে তার জন্য পরকালে ভাল কামনা করা আল্লাহর উপর পোদ্দারি করার নামান্তর। আল্লাহ সুস্পষ্ট আয়াতের মাধ্যমে আপনার সেই অধিকার নাকোচ করেছেন। আর আপনি আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ করে সেই অধিকার চর্চা করছেন। একটু শান্ত মাথায় আল্লাহর দাসত্ব মেনে নিয়ে ভেবে দেখুন।

মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন,
"আত্মীয়স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও মু'মিনদের জন্য বৈধ নয়" [১]
কাফেরের মৃত্যু কোন নতুন বিষয় নয়। রাসলের যুগ থেকে শুরু থেকে আজও পর্যন্ত মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা আছে। কেউ দেখাতে পারবে না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কিংবা কোন সাহাবী অথবা কোন সালাফ মরার পর কোন কাফেরের জন্য দোয়া করেছেন। তারা জীবিত কাফেরের জন্য হেদায়েতের দোয়া করেছেন। কিন্তু কেউ কুফুরের উপর মৃত্যু বরণ করার পর তাদের জন্য রহমত কিংবা মাগফেরাতের দোয়া করেননি।

ইমাম নববী রহঃ বলেন, কাফেরের জানাযা পড়া, তার জন্য ক্ষমার দোয়া করা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার মাধ্যমে প্রমাণিত সুস্পষ্ট হারাম।[২]
ইবনে তাইমিয়া রহঃ ও এই ব্যাপারে ইজমার দাবি করেছেন। [৩]

কিছু ভাই খুব কিউট যুক্তি দেন। উনারা বলেন, "আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।" এই দাবি অবশ্যই ঠিক। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। পবিত্র কুরআনে এই মর্মে আয়াত রয়েছে। আবার পবিত্র কুরআনের অনেকগুলো আয়াতে এই কথাও বলা হয়েছে, মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাওয়ার অধিকার কারো নেই, যেই ব্যক্তি কুফুরের উপর মারা গেছে সে নিশ্চিত চিরস্থায়ী জাহান্নামে যাবে, আল্লাহর কুফর ও শিরক গোনাহ কখনোই মাফ করবেন না।[৪]

কুরআনের কিছু আয়াতের উপর আপনার অগাধ বিশ্বাস কিন্তু বাকি আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাস কোথায় গেল? যেই আল্লাহকে আপনি সর্বশক্তিমান মানছেন সেই আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণাকে কীভাবে অমান্য করছেন? নাকি আপনি আল্লাহর কিছু আয়াতকে বিশ্বাস করেন আর কিছু আয়াতকে বিশ্বাস করেন না? যদি এমনই হয়ে থাকে, তাহলে মনে রাখবেন এর ফলাফল খুবই ভয়াবহ। মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
তোমরা কি পবিত্র কুরআনের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তারা পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া অন্য কিছু পাবে না। আর কিয়ামতের দিনে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা কিছু করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন।"[৫]

এই ক্ষেত্রে আরেকটা প্রধান আপত্তি হল, আমরা কি জানি লোকটা মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করেছে কিনা? না জেনে মন্তব্য করা কি উচিৎ হবে?
প্রথমত সবার কাছে যখন প্রমাণিত ও সুস্পষ্ট লোকটা কাফের ছিল, তখন তার ঈমানের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ লাগবে। প্রমাণ ছাড়া তার কুফুরের হুকুম রহিত হবে না। সুতরাং তার কুফুরিকে দূরকারী ঈমানের প্রমাণ আগে দিতে হবে। এখানে বরংচ প্রমাণ ছাড়া তার ঈমানের সম্ভাবনা দেখানোই শরীয়ার দৃষ্টিতে মারাত্মক অপরাধ বলে গণ্য হবে।
দ্বিতীয়ত পার্থিব জীবনে কারো উপর ঈমানের হুকুম প্রযোজ্য হওয়ার জন্য অন্তরের বিশ্বাস যথেষ্ট না। এজন্য আহলে সুন্নাত অথবা আল জামা'আতের কাছে ঈমানের অন্যতম রুকন হল মুখে স্বীকৃতি দেয়া। সুতরাং যখন কারো মৌখিক স্বীকৃতির কোন প্রমাণ নেই ইসলাম গ্রহণ করার, তখন আমরা তাকে কাফের বলেই গণ্য করব। এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তার সাথে মো'আমালা করব।

আরেকটা বিষয় হল আনন্দ কিংবা শোক প্রকাশ করা। এই বিষয়ে আমার একটা লেখা আছে আগের। কমেন্টে লিংক দিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ। সংক্ষিপ্তভাবে বললে, কোন কাফের ও অশ্লিলতার প্রচারক, হারাম ক্যারিয়ারিস্ট মারা গেলে আফসোসও করা যাবে আবার আনন্দিতও হওয়া যাবে। তবে দেখতে হবে এর পিছনে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? একজন কাফের ঈমান ছাড়া দুনিয়া থেকে চলে গেছে, চিরকাল সে জাহান্নামে শাস্তি পাবে- এই কথা ভেবে আপনি আফসোস করতে পারেন। আর পৃথিবীবাসী তার অশ্লিলতার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়েছে, তার উন্মাদনা থেকে তরুণ শ্রেণি রেহাই পেয়েছে- এই কথা ভেবে আপনি আনন্দিতও হতে পারেন।

কিন্তু আমরা শোক প্রকাশ করছি ঠিকই; শোকের পিছনে দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক নেই। আমরা যেই শোক প্রকাশ করছি তার পিছনে ঈমানের কোন কামনা নেই। আছে তার অভিনয় ও অশ্লিল এক্টিভিটি হারানোর বেদনা। আছে তার পাপময় ক্যারিয়ারকে মিস করার তাড়না। আছে তার উন্মাদনাকে উপভোগ করার তামান্না। আমরা এজন্য শোক প্রকাশ করি না যে, লোকটা ঈমান ছাড়া মারা গেছে এবং চিরস্থায়ী আযাব ভোগ করবে। বরং আমরা তার হারাম, উন্মাদ কিংবা অশ্লিল এক্টিভিটিকে মিস করে দুঃখ প্রকাশ করি।

অধিকন্তু এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঈমানি কামনার পাশাপাশি আমাদের আনন্দের মাত্রা হওয়া দরকার ছিল বেশি। কারণ সমাজে তাদের অশ্লিল ও উন্মাদ জীবনের প্রভাব থাকে। এরকম প্রকাশ্য ও প্রভাবক বিদ'আতীর মৃত্যুর সময়ই আমাদের সালাফরা শোকর আদায় করতেন। সমাজ কারো অশ্লিলতা, উন্মাদনা কিংবা বিদ'আত থেকে মুক্তি পেয়েছে- এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়। মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,"নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।"[৬]

১) সূরা তাওবা, আয়াত ১১৩
২) আল মাজমু- ৫/১১৯
৩) মাজমুঊল ফাতাওয়া- ১২/৪৮৯
৪) সূরা নিসা-১১৬, সূরা নিসা-১৩৭, সূরা মুহাম্মাদ-৩৪,
৫) সূরা বাকারা, আয়াত ৮৫
৬) সূরা নুর, আয়াত ১৯

~ ইফতেখার সিফাত হাফিজাহুল্লাহ

06/01/2021

ফেসবুকে নন মাহরামের সাথে চ্যাটিং করার হুকুম।

❒ জেনে রাখুন,পুরুষ মহিলার সঙ্গে বা মহিলা পুরুষের সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া এবং ফিতনার আশংকা মুক্ত হওয়া ব্যতীত কথা বলা যায়েজ নেই।তাছাড়া অপরিচিত নারী পুরুষের কথা বলার সময় কখনোই কোমল স্বরে কথা বলা যাবে না।দেখুন,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسۡتُنَّ کَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیۡتُنَّ فَلَا تَخۡضَعۡنَ بِالۡقَوۡلِ فَیَطۡمَعَ الَّذِیۡ فِیۡ قَلۡبِہٖ مَرَضٌ وَّ قُلۡنَ قَوۡلًا مَّعۡرُوۡفًا

হে নবী-পত্নিগণ, তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে।

[ সূরা আহযাব আয়াত নং ৩২ ]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের প্রতি যদি এই বিধান হয় ,তবে সাধারন নারীদের প্রতি এ বিধান কতটা গুরত্বপূর্ণ।উম্মতের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে তাকওয়াবান ছিলেন উম্মুল মু’মিনিনরা।আর উম্মতের পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান ছিলেন সাহাবীরা ( রাদি আল্লাহু তা’আলা আনহুম )।আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন,আপনি কি তাদের মত তাকওয়াবান?পুরো উম্মতের তাকওয়া একত্রিত করলে একজন সাহাবীর সমান তাকওয়া হবে না।তাই এ বিধানকে আঁকড়ে ধরুন,ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকুন।

❒ মেসেজগুলো সাধারনত দু ধরনের হয়ে থাকে।

১। শিক্ষামূলক সেবা সম্বলিত মেসেজ আদান-প্রদান।

যেমনঃ নারী-পুরুষদের পরষ্পর কোনো গবেষণা বা বইপত্র বিনিময়,অথবা কোন সমস্যার সমাধান। ( অর্থাৎ এমন জরুরত বিষয়ে মেসেজ করা যার সমাধান কেবল তার কাছেই আছে )

এসব মেসেজের বিধান ব্যক্তির নিজের উপর নির্ভর করে।নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ।সুতরাং যে নিজের ভেতর দুর্বলতা অনুভব করে এবং শয়তানের ফাঁদে পড়ে যাওয়ার আশংকা করে,তার জন্য এসব মেসেজ থেকেও বিরত থাকা এবং নিজেকে হিফাজত করা ওয়াজিব।অন্যদিকে যে ব্যক্তির নিজের উপর আস্থা এবং দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে তার জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে এ ধরণের মেসেজ আদান-প্রদান বৈধ।

প্রথম শর্তঃ কোন প্রকার ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যাবে না।যেমনঃ বয়স,বৈবাহিক অবস্থা,বাসস্থান,পড়াশোনা ইত্যাদি।

দ্বিতীয় শর্তঃ নির্ধারিত বিষয়বস্তু বহির্ভূত কোনো কথা বলা যাবে না।দুজনের মধ্যে কেউ যদি এমন কোনো কথা বলে,অপরজনের জন্য ওই বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাতে হবে।

তৃতীয় শর্তঃ মেসেজগুলো সম্পর্কে অভিভাবকগণ অবগত থাকতে হবে।যেমনঃ স্ত্রীর মেসেজের ক্ষেত্রে স্বামী অবগত থাকা,মেয়ের মেসেজ সম্পর্কে বাবা/ভাই অবগত থাকা।

২।পরিচিতি মেসেজ।

ফেইসবুকের এ নীল দুনিয়ায় একদল বিভ্রান্ত যুবক যুবতীদের ফাঁদে ফেলার জন্য কখনো পরিচিতি মেসেজ লিখে থাকে।নারী-পুরুষের মধ্যে এ ধরনের মেসেজ আদান-প্রদান কখনো বৈধ নয়।ইসলামে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা হারাম।তেমনি প্রত্যেক ওই কাজ যা মানুষের হারাম পথে নিয়ে যায়,তাও হারাম।যদিও তা মুবাহ বা বৈধ কোন কাজ হয়।এ দিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ

হে মুমিনগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না।
[ সূরা নূর,আয়াত নং ২১ ]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“ সাবধান! কোন পুরুষ যেন অপরিচিত নারীর সাথে গোপনে মিলিত না হয়।কারণ এক্ষেত্রে শয়তান তাদের তৃতীয়জনরূপে হাজির হয়।”
[ মুসনাদে আহমাদ,হাদীস নং ১৫৬৯৬ ]

আতা ইবনে আবি রাবাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ আমি কোনো কুশ্রী দাসীর ক্ষেত্রেও নিজের কুপ্রবৃত্তিকে নিরাপদ মনে করি না। ”
[ সিয়ারু আলা নুবালা,৫/৮৮ ]

অনেক যুবক-যুবতী বলে থাকেঃ নিজের ব্যপারে আমার আস্থা আছে!তাদের জানা উচিত,ফিতনার স্থলে গিয়ে ঈমান পরিক্ষা করা মুসলমানের জন্য যায়েজ নেই।কারণ এতে ভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতির আশংকা থাকেই।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে দাজ্জালের আবির্ভাবের কথা শোনে সে যেন তার থেকে দূরে সরে যায়।কারণ দাজ্জাল যার কাছে আসবে ,সে তাকে দেখে মুমিন মনে করবে।ফলে সে তার সন্দেহজনক বিষয়গুলোর অনুসরণ করতে থাকবে।”

[ মুসতাদরাকে হাকেম, ৪/৫৭৬ ]

~ শাইখ আলী মুহাম্মদ শ্বাওকী হাফিজাহুল্লাহ।

25/11/2020

ম্যারাডোনা মারা গেছে, আবেগ এক জায়গায়, ইসলাম আরেক জায়গায়। হুশ ঠিক রেখে আবেগ প্রকাশ করি।

লিখেছেন Manzurul Karim ভাই

যখনই কোনো প্রসিদ্ধ কাফির বা মুশরিক মারা যায় তখনই বাংলার দামাল পোলাপান RIP লিখে ভরে ফেলে৷ আর তখনই এই আয়াত প্রাসংগিক হয়ে যায়:
مَا كَانَ لِلنَّبِیِّ وَٱلَّذِینَ ءَامَنُوۤا۟ أَن یَسۡتَغۡفِرُوا۟ لِلۡمُشۡرِكِینَ وَلَوۡ كَانُوۤا۟ أُو۟لِی قُرۡبَىٰ
"আত্মীয়স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও মু'মিনদের জন্য বৈধ নয়" [১]
শাইখ আব্দুল আযীয আত তারিফী(ফা.আ.) বলেন-
في هذه الآيةِ: تحريمُ الاستغفارِ لمَن مات على الشِّرْكِ،
"এই আয়াতে দলিল রয়েছে যে,যে ব্যক্তি শির্কে লিপ্ত অবস্থায় মারা যাবে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হারাম" [২]
বাই দ্য ওয়ে, বেঁচে থাকা অবস্থায় হিদায়াতের দু'আ করা জায়েয। কিন্তু মরে গেলে আর সুযোগ থাকেনা।

[ ১) সূরা তাওবাহ ১১৩
২) আহকামুল কুর'আন]

17/09/2020
17/09/2020

মানুষকে যথাযথ সম্মান দিলে খুব কম মানুষই সেটা মূল্যায়ন করতে জানে!

আপনি নিজের কাজকর্ম ফেলে অন্যের উপকারের জন্য সময় দেবেন, আর দিনশেষে সেই মানুষটিই আপনাকে অবমূল্যায়ন করবে...

#উপলব্ধি

যোজন আরিফ হাফিজাহুল্লাহ

02/09/2020

আপনি কি সময়ে বারাকাহ(বরকত) পাচ্ছেন না?আপনি কি লাইফের কোন কাজে -কর্মে বারাকাহ্ খুঁজে পাচ্ছে না?

আপনার জন্য একটা সমাধান আছে,সময়ে বারাকাহ্ খুঁজে পেতে নিয়মিত কুর'আন তিলাওয়তে অভ্যস্ত হয়ে যান।

ইবনে রজব হাম্বলী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ

একজন সালাফ বলেন,'আমার কুর'আন পড়ার অনুপাত যত বৃদ্ধি পেত আমার সময়ে বারাকাহ তত বাড়ত। আর আমি আমার তিলাওয়াত ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত রাখতাম যতক্ষন না এটি দশ পারা হয় অর্থাৎ কুর'আনের এক তৃতীয়াংশ হয়।'

কুর'আনের তিলাওয়াত বৃদ্ধি করো এবং এটাকে কখনো ছেড়ে দিও না। তুমি যা অর্জন করতে চাচ্ছ তোমার তিলাওয়াতের অনুপাতে তা হাসিল করা সহজ হবে।'

জনৈক সালাফ বলেন," আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম যে, আমি যখন কুর'আন তিলায়াত করতাম,এটি শুনতাম কিংবা অনেক হাদিস অধ্যায়ন, সংরক্ষণ করতাম। তখন আমার জন্য যেকোন জিনিস অর্জন করা তুলনামূলক ভাবে সহজ হয়ে যেত। আর যখনই আমি কুর'আন তিলাওয়াত, শোনা কিংবা হাদিস অধ্যয়ন করতাম না তখন যেকোন জিনিস অর্জন করা তুলনামূলক ভাবে আমার জন্য কঠিন হয়ে যেত।'

শাইখ আহমেদ মূসা জিবরীল (হাফিযাহুল্লাহ্) বলেনঃ
“আপনি যদি আপনার প্রতিদিনের জীবনে সময়ের অভাব বোধ করেন,তাহলে কুর'আন তিলাওয়তের জন্য কিছু সময় বের করে নিন।
এটি আপনার সময় কমিয়ে দেয় না;বরং আপনার সময়কে বরকতময় করে।”

30/08/2020

অযথা অনলাইনে ঘুরাঘুরি করা,লাগামহীন
ইউটিউব ব্রাউজিং, মাত্রারিক্ত ফেইসবুকে স্ক্রল,অতিরিক্ত হাসি-তামশাতুচ্ছ বিষয় ট্রলে করা - এসব থেকে বেঁচে থাকুন।
আমরা যারা অন্তত নিজেদের দ্বীনের বুঝ আছে বলে দাবি করি, তাদের কোনভাবেই উচিত নয় এসবে নিজেদের জড়িত করা। এসব অহেতুক কর্মকান্ডের একটা সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ে আমাদের দেহ এবং মনের উপর।অযথা-অহেতুক এসব কাজ কর্মে আমাদের অন্তর শক্ত হয়ে যায়।

যে আপনি এক সময় হাত তুললেই চোখে অশ্রুর প্লাবণ আসতো সেই আপনি দেখবেন এক সময় জোরে করেও আল্লাহর দরবারে কান্না করতে পারছেন না।সারাক্ষণ উম্মাতের চিন্তায় ফিকির করা আপনি এক সময় খেয়াল করবেন আগের মত আর নির্যাতিত উম্মাহর প্রতি আপনার দরদ আসছে না।কিয়ামুল লাইলে অভ্যস্ত আপনি দেখবেন এক সময় রাতে
আপনি আর সজাগ পাচ্ছেন না!

এসবের ফলে ফরজ ইবাদাতে অলসতা,অনীহা সৃষ্টি হয়! সালাতে খুশু-খুযু নষ্ট হয়। যিকর সহ অন্যান্য নফল আমলে অনীহা আসে। আমলে ঘাটতি তৈরি হয়।

একজন সত্যিকারের মুসলমানের পরিচয় বা নির্দশন হলো- সে কথা কম বলবে ও কম হাসবে, বেশি আ’মাল করবে ও বেশি কাঁদবে।বেশি কথা বলা এবং অপ্রয়োজনীয় অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করা, নিরর্থক হাসি নিজের ব্যক্তিত্বকে খাটো করে দেয়।

হাদিসে এসেছে রাসুল ﷺ বলেছেন," আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা কম হাসতে এবং বেশি পরিমানে কাঁদতে।

ফেমিনিস্টিদের ঈমান ভঙ্গের ১০ টি কারণঃফেমিনিজম তথা নারী বাদ বলতে শরীয়তে কিছু নেই। এর আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সবই ভ্রান্তি।ত...
29/08/2020

ফেমিনিস্টিদের ঈমান ভঙ্গের ১০ টি কারণঃ

ফেমিনিজম তথা নারী বাদ বলতে শরীয়তে কিছু নেই। এর আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সবই ভ্রান্তি।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তদের গোমরাহ বলা গেলেও কাফের বলা যায়না আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীয়তের অকাট্য ও সুস্পষ্ট কোন বিষয়কে অস্বীকার করা, অভিযোগ করা ও বিদ্রুপ করার কারণে তাদের ঈমান চলে যাবে।
বিয়ে করে থাকলে সাথে সাথে বিয়ে ভেঙ্গে যাবে। ঐ অবস্থায় বাচ্চা হলে তা হারামযাদা হবে! এবং তাওবা না করলে ইসলামী রাষ্ট্রে তাকে মুরতাদ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

সেসব বিষয় গুলোর মাঝে অন্যতম হচ্ছে-

১) সকল বিষয়ে নারী পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। তাদের মাঝে কেবল লিঙ্গ ও গঠনাকৃতির ব্যবধান রয়েছে! বাকী সব ক্ষেত্রে পুরুষ যা করতে পারবে নারীরাও তাই করতে পারবে, এতে বাধা দেওয়া ধর্মান্ধতা ও মধ্যযুগীয় কুসংস্কার বললে ঈমান চলে যাবে।

২) বোরকা পরিধান করা ও পর্দা প্রথা একটি সেকেলে ও মধ্যযুগীয় প্রথা। অনুরুপ নারীদের হিজাব ও পর্দার বিধানকে ব্যাঙ্গাত্মক ও বিদ্রুপাত্মক ট্যান্ট/তাবু, ক্ষেত, জঙ্গী, ঝোপঝাড় ও জঙ্গল বললেও ঈমান চলে যাবে।

৩) আল্লাহ কুরআনে উত্তরাধিকার হিসেবে ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ পাওয়ার বিধান রেখেছেন তা বে ইনসাফ! এক্ষেত্রে কুরআন ও আল্লাহ মেয়েদের অবহেলা করেছে!!

৪) পুরুষরা নারীর উপর কর্তৃত্ববান হবে কেন? কেনই বা নারী তার স্বামীর আনুগত্য করবে? নারীরা স্বাধীন থাকবে তাদের স্বাধীনতা থাকবে কারো কর্তৃত্ব ও আনুগত্য মেনে নারী পরাধীন থাকবেনা।

৫) পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা অযৌক্তিক ও অন্যায় ব্যবস্থা ও ধর্মীয় গোড়ামি বৈ কিছুইনা।

৬) দেশ পরিচালনায় নারীর নেতৃত্ব হারাম এ কথা অস্বীকার করলে।

৭) মুখে মুখে তালাক দিলে তালাক হবেনা এবং মুখে তালাক দিলে তা পতিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মানবতা বিরোধী ও বর্বর। অনুরুপ তিন তালাক দিয়ে দেওয়ার পর স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য আর হালাল থাকেনা এ বিষয় অস্বীকার করলে ঈমান চলে যাবে।

৮) পুরুষরা যেহেতু একাধিক বিয়ে করতে পারে তাহলে নারীর একাধিক বিয়ে করা ও লিভ ইন করা তার অধিকার। তাই নারীর একাধিক বিয়ের অধিকার রয়েছে। অথচ সে জানে আল্লাহ তা'আলা স্বামী থাকা অবস্থায় অন্যের সাথে বিয়ে করা হারাম ঘোষণা দিয়েছেন।

৯) পুরুষদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একাধিক বিয়ের অধিকার দেওয়া জানা সত্ত্বেও কেউ তা অস্বীকার করলে কিংবা 'আল্লাহর এ আইন আমি মানি না', 'আল্লাহর এই আইন নারীর সাথে অন্যায়' বললে ঈমান চলে যাবে।

(তবে স্বামীর একাধিক বিয়ের উপর আল্লাহর আইন মেনে নিয়ে কেউ নারীদের স্বভাব সুলভ আচরণ থেকে ইর্ষা করা কিংবা স্বামীকে একাধিক বিয়ে না করতে অনুরোধ করা এগুলো ঈমান ভঙ্গের কারণ বলে বিবেচিত হবেনা।)

১০) কুরআনে লেনদেনের ক্ষেত্রে দুইজন নারীর সাক্ষী একজন পুরুষের সাক্ষী হিসেবে যেই তুলনা করা হয়েছে তা অস্বীকার করে সাক্ষীর ক্ষেত্রে নারী পুরুষ এক তাদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই এগুলো মোল্লাদের বানানো নীতি বললে ঈমান চলে যাবে। অনুরুপ আল্লাহর এই বিধানকে অযৌক্তিক ও অনৈতিক বললেও ঈমান চলে যাবে।

যদিও সব ক্ষেত্রে দু'জন নারীদের সাক্ষ্য এক পুরুষের সমান হয়না। কিন্তু উল্লেখিত ক্ষেত্রে বিষয়টি কুরআনে সুস্পষ্ট।

বিষয়গুলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে অকাট্য ভাবে প্রমানিত হওয়ার দলিলঃ

১) আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وليس الذكر كالأنثى

'মেয়েরা তো ছেলেদের মত নয়'

[সূরা আলে ইমরানঃ৩৬]

ইমাম কুরতুবী রহঃ ইবনে ইসহাক থেকে এর ব্যাখ্যায় আনেন-

لأن الذكر هو أقوى على ذلك من الأنثى .

কেননা ছেলেরা সেই ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়।

[তাফসীরে কুরতুবী ৬/৩৩৫]

২) আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

[সূরা নূরঃ৩১]

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরো বলেন-

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاء الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

[সূরা আহযাবঃ৫৯]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন-

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ

‘আর তোমরা যখন তাদের কাছ থেকে কিছু চাইবে, তখন পর্দার পিছন থেকে চেয়ে নাও’।

[সূরা আহযাব ৫৩]

৩) আল্লাহ তা'আলা বলেন-

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ

আল্লাহ তা'লা তোমাদের সন্তানদের মীরাস বন্টনের ক্ষেত্রে ওসীয়ত করছেন যে, ছেলেরা মেয়েদের দ্বিগুণ পাবে।

[সূরা নিসাঃ১১]

৪ ও ৫)
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন-

ٱلرِّجَالُ قَوَّٲمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٍ۬ وَبِمَآ أَنفَقُواْ مِنۡ أَمۡوَٲلِهِمۡ‌ۚ فَٱلصَّـٰلِحَـٰتُ قَـٰنِتَـٰتٌ حَـٰفِظَـٰتٌ۬ لِّلۡغَيۡبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُ‌ۚ وَٱلَّـٰتِى تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهۡجُرُوهُنَّ فِى ٱلۡمَضَاجِعِ وَٱضۡرِبُوهُنَّ‌ۖ فَإِنۡ أَطَعۡنَڪُمۡ فَلَا تَبۡغُواْ عَلَيۡہِنَّ سَبِيلاً‌ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيًّ۬ا ڪَبِيرً۬ا

পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। [সূরা নিসাঃ৩৪]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন-

وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ.

'নারীদের উপর পুরুষদের একধাপ বেশি শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।'

[সূরা বাক্বারাহঃ২২৮]

৬)
হযরত আবু বাকরা রাদিঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-যখন কিসরা পদানত হল তখন তাকে বলতে শুনেছি-কে তার পরবর্তী খলীফা? বলা হল-তার মেয়ে। তখন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-সে জাতি সফলকাম হয় না, যাদের প্রধান হল নারী।

لما هلك كسرى قال من استخلفوا ؟ قالوا ابنته فقال النبي صلى الله عليه و سلم لن يفلح قوم ولو أمرهم امرأة

[সহীহ বুখারীঃ৬৬৮৬; সুনানে তিরমিযীঃ ২২৬২; সুনানে নাসায়ী কুবরাঃ ৫৯৩৭; সুনানে বায়হাকী কুবরাঃ ৪৯০৭]

হযরত আবু হুরায়রা রাদিঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

যখন তোমাদের নেতারা তোমাদের মাঝের বদলোক হয়। আর তোমাদের ধনীরা হয় কৃপণ, আর তোমাদের কর্মকর্তা হয় মহিলা। তাহলে জমিনের পেট তার পিঠের তুলনায় তোমাদের জন্য উত্তম।
[অর্থাৎ মৃত্যু তোমাদের জন্য উত্তম জমিনের উপরে বেঁচে থাকার চেয়ে।]

وإذا كان أمراؤكم شراركم وأغنياؤكم بخلاءكم وأموركم إلى نسائكم فبطن الأرض خير لكم من ظهرها

[সুনানে তিরমিযীঃ২২৬৬]

হযরত আবু বকরাহ রাদিঃ বর্ণনা করেন, রাসূলে করীম ﷺ একবার কোথাও সৈন্যদল প্রেরন করলেন। সেখান থেকে এক ব্যক্তি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে এলে বিজয়ের সুসংবাদ শুনে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। সিজদা’র পর তিনি সংবাদ বাহকের কাছ থেকে বিস্তারিত বিবরণ শুনছিলেন। সংবাদদাতা বিস্তারিত বর্ণনা দান করলেন-

‘উক্ত বিবরণে শত্রুদের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি বিষয় এও ছিল যে, একজন নারী তাদের নেতৃত্ব করছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ একথা শুনে বললেন-

‘পুরুষরা যখন নারীদের অনুগত্য করা শুরু করে দিবে, তখন তারা বরবাদ- ধ্বংস হয়ে যাবে’।

عن أبي بكرة - رضي الله عنه - : أن النبي - صلى الله عليه وآله وسلم - أتاه بشير يبشره بظفر خيل له ، ورأسه في حجر عائشة - رضي الله عنها - ، فقام ، فخر لله - تعالى - ساجدا . فلما انصرف ، أنشأ يسأل الرسول ، فحدثه ، فكان فيما حدثه من أمر العدو - وكانت تليهم امرأة - ، فقال النبي - صلى الله عليه وآله وسلم - : " هلكت الرجال حين أطاعت النساء " .

[মুসতাদরাকে হাকীম- ৪/২৯১, হাদিস ৭৮৭০;আখবারু আসবাহান ২/৩৪; মুসনাদে আহমাদ ৫/৪৫- ইমাম হাকেমের মতে এর সনদ সহীহ এবং যাহাবী একে সমর্থন করেছেন। ]

ইমাম ইবনে হাযাম রহ. (মৃঃ ৪৫৬ হিঃ) বলেন-

و اتفقوا أن الإمامة لا تجوز لإمرأة

‘সকল ওলামায়ে কেরাম এব্যপারে একমত যে, কোনো নারীর জন্য ‘রাষ্ট্র প্রধান’ হওয়া জায়েয নয়’।

[মারাতিবুল ইজমা, ইবনে হাযাম- ১২৬ পৃষ্ঠা]

৭)
কুরআনের পরিস্কার নির্দেশ-

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ.

তালাক( তথা তালাকে‘রাজঈ’ হ’ল) দু'বার পর্যন্ত, তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে।

[সূরা বাক্বারাহঃ২২৯]

হযরত হাসান রাঃ বলেন,হযরত ইবনে উমর রাদিঃ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি আপন স্ত্রীকে ‎হায়য অবস্থায় এক তালাক দিয়েছিলেন, অতঃপর ইচ্ছা করলেন যে, দুই তুহুরে [হায়য থেকে ‎পবিত্র অবস্থায়] অবশিষ্ট দুই তালাক দিয়ে দিবেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ‎বিষয়ে অবগত হওয়ার পর বলেন-ইবনে ওমর! এভাবে আল্লাহ তা‘য়ালা তোমাকে হুকুম ‎‎দেননি। তুমি সুন্নাতের বিপরীত কাজ করেছ [হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছ]।

তালাকের ‎শরিয়ত সমর্থিত পদ্ধতি হল,‘তুহুর’ পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। প্রত্যেক ‘তুহুরে’ এক ‎তালাক দেয়া। তার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রুজু’ করার নির্দেশ ‎দিলেন। এ জন্য আমি ‘রুজু’ করে নিয়েছি। অতঃপর তিনি বললেন,সে পবিত্র হওয়ার পর ‎‎তোমার এখতিয়ার থাকবে। চাইলে তুমি তালাকও দিতে পারবে,বা তাকে নিজের কাছে রাখতে পারবে।

হযরত ইবনে উমর রাঃ বলেন-তারপর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ‎ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম-ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি যদি তিন তালাক দেই তখনও কি ‎‘রুজু’ করার অধিকার থাকবে? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- না। তখন স্ত্রী ‎‎তোমার কাছ থেকে পৃথক হয়ে যাবে। এবং তোমার এই কাজ (এক সাথে তিন তালাক ‎‎দেয়া) গুনাহের কাজ সাব্যস্ত হবে।

عن الحسن قال نا عبد الله بن عمر أنه طلق امرأته تطليقة وهي حائض ثم أراد أن يتبعها بتطليقتين أخراوين عند القرئين فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال : يا بن عمر ما هكذا أمرك الله إنك قد أخطأت السنة والسنة أن تستقبل الطهر فيطلق لكل قروء قال فأمرني رسول الله صلى الله عليه و سلم فراجعتها ثم قال إذا هي طهرت فطلق عند ذلك أو أمسك فقلت يا رسول الله رأيت لو أني طلقتها ثلاثا أكان يحل لي أن أراجعها قال لا كانت تبين منك وتكون معصية
[সুনানে দারা কুতনী ২/৪৩৮ হাঃ৮৪ ; যাদুল মাআদ ২/২৫৭; সুনানে বায়হাকী কুবরাঃ ১৪৭৩২]

হযরত মুজাহিদ রহঃ. বলেন,আমি ইবনে আব্বাস রাঃ-এর পাশে ছিলাম। সে সময় এক ব্যক্তি ‎এসে বলেন-‘সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ চুপ করে রইলেন। আমি ‎মনে মনে ভাবছিলাম-হয়ত তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কথা বলবেন (রুজু করার হুকুম দিবেন)। কিছুক্ষণ ‎পর ইবনে আব্বাস রা. বলেন,তোমাদের অনেকে নির্বোধের মত কাজ কর;[তিন তালাক দিয়ে দাও!] তারপর ‘ইবনে ‎আব্বাস! ইবনে আব্বাস! বলে চিৎকার করতে থাক। শুনে রাখ আল্লাহ তা‘য়ালা বাণী-“যে ‎ব্যক্তি আল্লাহ তা‘য়ালাকে ভয় করে আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্য পথকে খুলে দেন। তুমিতো স্বীয় রবের নাফরমানী করেছো [তিন তালাক দিয়ে]। এ কারণে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে পৃথক হয়ে গেছে।

عن مجاهد قال كنت عند ابن عباس فجاء رجل فقال إنه طلق امرأته ثلاثا. قال فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه ثم قال ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول يا ابن عباس يا ابن عباس وإن الله قال (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا) وإنك لم تتق الله فلم أجد لك مخرجا عصيت ربك وبانت منك امرأتك

[সুনানে আবু দাউদ ১/২৯৯ হাঃ২১৯৯; সুনানে বায়হাকী কুবরাঃ ১৪৭২০; সুনানে দারা কুতনীঃ১৪৩]

عن مالك أنه بلغه أن رجلا قال لعبد الله بن عباس إني طلقت امرأتي مائة تطليقة فماذا ترى علي فقال له ابن عباس طلقت منك لثلاث وسبع وتسعون اتخذت بها آيات الله هزوا

হযরত ইমাম মালেক রহঃ এর কাছে এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ এর ‎কাছে জিজ্ঞাসা করল-“আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়েছি,এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? ‎তখন ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তুমি যা দিয়েছ তা থেকে তিন তালাক তোমার স্ত্রীর উপর ‎পতিত হয়েছে,আর সাতানব্বই তালাকের মাধ্যমে তুমি আল্লাহ তা‘য়ালার সাথে উপহাস ‎করেছ।

[মুয়াত্তা মালেকঃ ২০২১]

একবার রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হল যে, জনৈক এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একসাথে ৩ তালাক দিয়েছে, একথা শুনে আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব রাগান্বিত হয়ে দাড়ালেন এবং বললেন-

আমি জীবিত থাকাবস্থায় আল্লাহর কিতাব নিয়ে কি খেল-তামাশা হচ্ছে!?

أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثَ تَطْلِيقَاتٍ جَمِيعًا ، فَقَامَ غَضْبَانًا ثُمَّ قَالَ : أَيُلْعَبُ بِكِتَابِ اللَّهِ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ ؟

[সুনানে নাসাঈঃ৩৩৮৪;ফাতহুল বারী ৯/২৭৪]

উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস গুলো দ্বারা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এখানে মৌখিক তালাকের কথা বলা হচ্ছে নতুবা ইহা লিখিত হলে সংখ্যার কথা উল্লেখ থাকত না। এবং এও প্রমান হয় যে তিন তালাক দেওয়ার পর বৈবাহিক সম্পর্ক আর হালাল থাকেনা।

৮)

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ

'তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া কোন সতীসাধ্বী বিবাহিতা নারীও তোমাদের জন্য হারাম।'

[সূরা নিসাঃ২৪]

ইমাম ইবনু কাসীর রহঃ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-

وقوله تعالى ( والمحصنات من النساء إلا ما ملكت أيمانكم ) أي : وحرم عليكم الأجنبيات المحصنات وهن المزوجات.

এর অর্থ, তোমাদের জন্য হারাম হচ্ছে বেগানা সতীসাধ্বী বিবাহিতা নারী।

[তাফসীরে ইবনু কাসীর ১/৪২৯]

ইমাম ত্ববারী রহঃ তার তাফসীরে ইবনে আব্বাস রাদিঃ থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন-

ابن عباس في قوله : { والمحصنات من النساء إلا ما ملكت أيمانكم } يقول : كل امرأة لها زوج فهي عليك حرام
'প্রত্যেক মহিলা যার স্বামী রয়েছে সে তোমার উপর হারাম।'

আল্লামা শানক্বিতি রহঃ তার আদ্বওয়াউল বায়ানে এর ব্যাখায় বলেন-

المراد بـ (المحصنات) المتزوجات؛ وعليه فمعنى الآية: وحرمت عليكم المتزوجات؛ لأن ذات الزوج لا تحل لغيره
'এখানে আল্লাহ 'মুহসনাত' দ্বারা বিবাহিত হওয়া বুঝিয়েছে। সুতরাং আয়াতের অর্থ হল- তোমাদের উপর বিবাহিত নারীদের হারাম করা হল, কেননা স্বামী ওয়ালী মহিলা অন্যের জন্যে হালাল নয়।

এই আয়াত থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে নারী স্বামী থাকা অবস্থায় একাধিক বিয়ে করতে পারবেনা।

৯)

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تُقْسِطُواْ فِي الْيَتَامَى فَانكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تَعْدِلُواْ فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلاَّ تَعُولُواْ

আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই (বিবাহ কর) অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে।

[সূরা নিসাঃ৩]

১০)
আল্লাহ পাক জাল্লা শানূহ বলেন-

وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى

অতঃপর তোমাদের নিজেদের মধ্যের দুজন পুরুষকে সাক্ষী বানাও। তখন যদি দুজন পুরুষের আয়োজন না করা যায়, তাহলে একজন পুরুষ ও যাদের সাক্ষীর ব্যাপারে তোমরা আস্থাশীল এমন দুজন নারী বেছে নাও যে একজন ভুল করলে অন্যজন স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।

[সূরা বাকারাঃ২৮২]
উপরে উল্লেখিত ১০ টি বিষয় রয়েছে যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমানিত। ইসলামের এধনের অকাট্য ভাবে প্রমানিত বিষয়াবলী ও ইসলামের শি'আর তথা নিদর্শানাবলী অস্বীকার করলে অথবা তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে ঈমান চলে যাবে। এটিই ৪ মাযহাব সহ সকল উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ মত।

মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ لاَ تَعْتَذِرُواْ قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ

"আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক-ঠাট্টা করেছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? তোমাদের কোন ওজর চলবে না, তোমরা ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ।''

[সুরা আত তওবাঃ ৬৫-৬৬]
ইমাম ইবনুল হুমাম আল হানাফী রহঃ বলেন-

"مناط التكفير هو: التكذيب أو الاستخفاف بالدين"

'তাকফীরের মূল উপাদানই হচ্ছে দ্বীনি কোন বিষয় মিথ্যা প্রতিপন্ন করা অথবা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।'

[আল মাসাঈরাহঃ৩১৮]

ইমাম ইবনু নুজাইম আল হানাফী রহঃ বলেন-

من تكلم بكلمة الكفر هازلا، أو لاعبا، كفر عند الكل، ولا اعتبار باعتقاده، كما صرح به قاضي خان في فتاواه. ومن تكلم بها مخطئا، أو مكرها، لا يكفر عند الكل، ومن تكلم بها عالما عامدا، كفر عند الكل.

কেউ কোন কুফরি কথা ঠাট্টা করে, দুষ্টুমি কিংবা খেল তামাশা করে করেছে সে সকলের ঐক্যমতে কুফুরী করেছে। এক্ষেত্রে তার ঈমান ও আক্বীদা ধর্তব্য হবেনা। যেমনটি কাযী খান রহঃ তার ফাতাওয়ায় স্পষ্ট করেছেন।

তবে কেউ যদি ভুলঃবশত কিংবা অন্তরে ঘৃণা রেখেই (বাধ্য হয়ে) বলে থাকে তাকে সকলের ঐক্যমতে তাকফীর করা হবেনা।

তবে আবার কেউ জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে বললে সকলের ঐক্যমতে তাকে কাফের সাব্যস্ত করা হবে।

[আল বাহরুর রায়েক্ব ৫/২১০]

ইমাম ইবনু রজব আল হাম্বলী রহঃ'এর মতে মুসলিম ও ঈমানদার ব্যক্তি ইসলামের কোন একটু রুকন কে অস্বীকার করলে ও ঈমানহীন হয়ে যাবে।
فقد يترك دينه، ويفارق الجماعة، وهو مقر بالشهادتين، ويدعي الإسلام؛ كما إذا جحد شيئاً من أركان الإسلام، أو سب الله ورسوله، أو كفر ببعض الملائكة، أو النبيين، أو الكتب المذكورة في القرآن مع العلم بذلك

[আল জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম ১/৩৪৪]

ইমাম ইবনু নুজাইম আল হানাফী রহঃ এর মতে শরীয়তের কোন অকাট্য ভাবে প্রমানিত হারামকে হালাল মনে করলে তাকে কাফের সাব্যস্ত করতে হবে।

والأصل أن من اعتقد الحرام حلالاً، فإن كان حراماً لغيره كمالِ الغيْرِ لا يكفر، وإن كان لعينه فإن كان دليله قطعياً كفر، وإلا فلا، وقيل التفصيل في العالم، أما الجاهل فلا يُفرّق بين الحلال والحرام لعينه ولغيره، وإنما الفرق في حقه إنما كان قطعياً كفر به، وإلا فلا، فيكفر إذا قال: الخمر ليس بحرام، وقيده بعضهم بما إذا كان يعلم حرمتها، لا بقوله: الخمر حرام، ولكن ليست هذه التي تزعمون أنها حرام، ويكفر من قال: إن حرمة الخمر لم تثبت بالقرآن، ومن زعم أن الصغائر والكبائر حلال، وباستحلاله الجماع للحائض

[আল বাহরুর রায়েক্ব ৫/১৩২]

মুল্লা আলী কারী আল হানাফী রহঃ বলেন-

"إن استحلال المعصية صغيرة أو كبيرة كفر إذا ثبت كونها معصية بدلالة قطعية وكذا الاستهانة بها كفر، بأن يعدها هينة سهلة، ويرتكبها من غير مبالاة بها، ويجريها مجرى المباحات في ارتكابها" .

'যখন অকাট্য ভাবে কোন গুনাহ গুনাহ হিসেবে প্রমানিত হবে চাই সেটা সগীরাহ হোক কিংবা কবীরাহ গুনাহ তখন তাকে হালাল মনে করা এবং এমনিভাবে তা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা সুস্পষ্ট কুফুরী।....'

[শারহু ফিক্বহিল আকবারঃ১০৬]

ইমাম ইবনুল আরাবী আল মালেকী রহঃ এই প্রকৃতি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কুফর ও রিদ্দাহ (ধর্মচ্যুত) হওয়ার হুকুম লাগিয়েছেন এবং যতক্ষণ না তা খালেস তাওবা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ মাফ করবেন না বলেছেন। এবং এ ব্যাপারে তিনি ইজমার দাবী করেছেন।

لا يخلو أن يكون ما قالوه من ذلك جداً أو هزلاً، وهو كيفما كان كفر، فإن الهزل بالكفر كفر لا خلاف فيه بين الأمة، فإن التحقيق أخو العلم والحق، والهزل أخو الباطل والجهل، فإذا حصل الاستهزاء بالله أو بالرسول صلى الله عليه وسلم أو بالدين من شخص عاقل غير مكره فإنه يكفر بذلك ويعتبر ذلك ردة عن الإسلام، فعليه أن يتوب إلى الله تعالى توبة نصوحاً، فإن الله تعالى إذا علم منه صدق التوبة والرجوع إليه قبل توبته وتاب عليه

[আল জামে লি আহকামিল কুরআন, কুরত্ববী ৮/১৯৭]

ইমাম নববী(রহিমাহুল্লাহ) বলেন-

الردة هي قطع الإسلام بنية، أو قول كفر، أو فعل، سواء قاله استهزاء، أو عنادا، أو اعتقادا

রিদ্দাহ তথা ইসলামচ্যুত হওয়া হচ্ছে- সেচ্ছায় ইসলাম ত্যাগ করা, কুফুরী কথা বলা বা কুফুরী কাজ করা যদিও মজা করে কিংবা বিদ্বেষ করে অথবা অন্তর থেকে সায় দিয়েই বলে থাকুক না কেন।

[মুগনী আল মুহতাজ ৪/১৩৩-১৩৪]

ইমাম নববী(রহিমাহুল্লাহ) আরও ব্যাখ্যা করে 'কুফর' ঘোষণা করেন-

هي قطع الإسلام، ويحصل ذلك تارةً بالقول الذي هو كفرٌ، وتارةً بالفعل، والأفعال الموجبة للكفر هي التي تصدر عن تعمُّد واستهزاءٍ بالدِّين صريح, كالسُّجود للصَّنم, أو للشمس، وإلقاء المصحف في القاذورات.

[রাওদ্বাতুত তালেবীন,কিতাবুর রিদ্দা ১০/৬৪]

ইমাম ইবনু কুদামাহ(রহঃ) বলেন-

ومن سبَّ الله تعالى كفر، سواءً كان مازحاً أو جادًّا وكذلك من استهزأ بالله تعالى، أو بآياته أو برسله، أو كتبه.

'যে ব্যক্তি আল্লাহ কে গালি দেয়, হোক মজা করে কিংবা সেচ্ছায় অনুরূপভাবে কেউ আল্লাহ কিংবা তার আয়াত ও রাসূলগন অথবা তার কিতাব সমূহ নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে সে কুফরি করল।'

[আল মুগনী,কিতাবুল মুরতাদ ১২/২৯৮-২৯৯]

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ একে কুফর বলেছে-

إن الاستهزاء بالله وآياته ورسوله كفر ، يكفر به صاحبه بعد إيمانه

মহান আল্লাহ তার আয়াত ও তার রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা মশকারা করা (সুস্পষ্ট) কুফর। এধরনের ব্যক্তিকে ঈমান আনয়নের পরেও কাফির ঘোষণা করা হবে।

[মাজমূউল ফাতাওয়া ৭/২৮৩,১৫/৪৮]

ইমাম ক্বাযী ইয়ায আল মালেকী রহঃ ও একই ফতোয়া দেন।

وكذلك أجمع المسلمون على تكفير كل من استحل القتل، أو شرب الخمر، أو الزنا مما حرم الله، بعد علمه بتحريمه، كأصحاب الإباحة من القرامطة وبعض غلاة الصوفية.

[আশ শিফা ২/১০৭৩]

মালেকী মাযহাবের ইমামগন এ ব্যাপারে একমত।

[বিস্তারিতঃ আশ শারহুস সগীর ৬/১৪৮-১৪৯; হাশিয়াতুদ দাসূক্বী ৪/৩০৪; বুলগাতুস সালেক, সাউই ২/৪১৮; হাশিয়ায়ে খিরাশি আলা মুখতাসারিল খলীল ৭/৬৫]

ইমাম ইবনু কুদামা রহঃ বলেন-

من اعتقد حلّ شيء أجمع على تحريمه وظهر حكمه بين المسلمين وزالت الشبهة فيه للنصوص الواردة فيه كلحم الخنزير والزنا وأشباه هذا مما لا خلاف فيه كفر.

যে ব্যক্তি এমন একটু একটি হারাম বিষয়কে হালাল করল যার হারাম হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা রয়েছে ও তার বিধান সুস্পষ্ট এবং 'নস' থাকার কারণে উক্ত বিধান সন্দেহ মুক্ত যেমনঃ শুকরের মাংস ও যিনা ইত্যাদি বিষয় যে হালাল করবে তার কুফুরীর ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই।

[আল মুগনী ৮/১৩১]

আল্লামা বুহুতী আল হাম্বলী রহঃ ও একই কথা বলেন-

أو أحل الزنا ونحوه كشهادة الزور واللواط، أو أحل ترك الصلاة، أو جحد شيئاً من المحرمات الظاهرة المجمع على تحريمها كلحم الخنزير والخمر وأشباه ذلك، أو شك فيه ومثله لا يجهله، كفر؛ لأنه مكذب لله ولرسوله وسائر الأمة

[কাশশাফুল ক্বিনা ৬/১৩৯-১৪০; আল মুক্বনি, ইবনু কুদামাহ ৩/৫১৬]

ইমাম আবূ ইয়ালা এ ব্যাপারে ইজমা উল্লেখ করেন-

ومن اعتقد تحليل ما حرم الله بالنص الصريح من الله، أو من رسوله، أو أجمع المسلمون على تحريمه فهو كافر، كمن أباح شرب الخمر، ومنع الصلاة والصيام والزكاة، وكذلك من اعتقد تحريم شيء حلله الله وأباحه بالنص الصريح، أو أباحه رسوله، أو المسلمون مع العلم بذلك فهو كافر كمن حرم النكاح والبيع والشراء على الوجه الذي أباحه الله عز وجل، والوجه فيه أن في ذلك تكذيباً لله تعالى، ولرسوله في خبره، وتكذيباً للمسلمين في خبرهم، ومن فعل ذلك فهو كافر بإجماع المسلمين

[আল মু'তামাদ ফী উসূলিদ দ্বীনঃ
২৭১-২৭২]

আল্লামা শাওকানী রহঃও শরীয়তে অকাট্য ভাবে প্রমানিত কোন বিষয় অস্বীকার করলে কিংবা তার হারাম হুকুমকে হা,,লাল জ্ঞান করলে সে কাফের হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন-

قد تقرر في القواعد الإسلامية: أن منكر (الإجماع) القطعي وجاحده، والعامل على خلافه تمرداً، أو عناداً، أو استحلالاً، أو استخفافاً كافر بالله، وبالشريعة المطهرة التي اختارها الله لعباده

[আদ দাওয়াউল আ'জিল ফী দফয়িল আদুউইস সয়িলঃ৩৪]
লেখা- আব্দুল্লাহ আল মামুন

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বড়দের লেখনী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to বড়দের লেখনী:

Share