বিয়ে : অর্ধেক দ্বীন

বিয়ে : অর্ধেক দ্বীন “যে ব্যক্তি বিবাহ করলো, সে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করলো।”

এক আহাম্মক স্বামী তার বউকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল। এমন সময় তার পাশ দিয়ে এক লোক যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় সে তাকে (আহম্মককে) বলল—...
14/01/2026

এক আহাম্মক স্বামী তার বউকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল। এমন সময় তার পাশ দিয়ে এক লোক যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় সে তাকে (আহম্মককে) বলল—"মাইয়া মানুষরা লাঠি দিয়া মারতে নাই। লাঠি দিয়া মারে জন্তুজানোয়ার। মাইয়া মানুষরে মারতে হয় আরেক মাইয়া মানুষ দিয়া।"
(মানে লোকটি আরেকটা বিয়ের পরামর্শ দিচ্ছে।)
আহাম্মক স্বামী ঐ লোকের কথাটা ধরতে পারে নাই। সে লোকটার কাছে গেল। এবং তাকে ধরে জিজ্ঞেস করল—"তুমি এই কথা বইলা কী বুঝাইলা?"
এই সময় তার বউ তাকে টেনে এনে বলল—"আরে ওই বলদের কথা বাদ দেন তো, আপনি আমারে পিডাইতে থাকেন!"
—একটি আরবি গল্প

13/01/2026

বিয়ে: পার্টনারশিপ (শারিকানা) নাকি পোশাক?
আমরা যখন বলি, বিয়ে হলো একটি শারিকানা (partnership), তখন এর অর্থ দাঁড়ায়—স্বামী-স্ত্রী সবকিছু সমানভাবে ভাগ করে নেবে। দায়িত্ব, খরচ, দায়বদ্ধতা, অধিকার ও কর্তব্য সবকিছু সমানভাবে তাদের উপর বর্তাবে। এই ধারণাটি মূলত পাশ্চাত্য বা ইসলাম বহির্ভূত চিন্তাধারার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

‘শরিক’ বা partner শব্দটির ব্যবহার বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নারী-পুরুষ সমতার আন্দোলনের শুরুর দিকে। এটি মূলত পুঁজিবাদী দর্শন থেকে জন্ম নেওয়া একটি ধারণা, যা বস্তুবাদী জীবনে, বিশেষ করে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও ব্যক্তিগত মালিকানার ক্ষেত্রে বেশি প্রচলিত। পশ্চিমা সমাজে সামাজিক সম্পর্কগুলোও এই পুঁজিবাদী চিন্তা থেকে ‘পার্টনারশিপ’ শব্দটি ধার করেছে।

কিন্তু আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি না যে বিয়ে একটি পার্টনারশিপ, কিংবা স্বামী-স্ত্রী একে অপরের শরিক। কারণ যদি আমরা ‘শরিক’ শব্দটি অর্থাৎ সবকিছুতে সম্পূর্ণ সমতার ধারণা মেনে নিই, তাহলে তার মানে দাঁড়ায়: পরিবারে দুজন নেতা থাকবে, দু’জনেরই সমান ক্ষমতা থাকবে। এমনকি তারা চাইলে পরিবার পরিচালনায় তৃতীয় কোনো পার্টনারও যুক্ত করতে পারবে।

যার অর্থ হল, দুজনই নিজেদের ইচ্ছামতো জীবন পরিচালনার মানদণ্ড বেছে নিতে পারবে। কারণ সিদ্ধান্তের মালিক তারাই। সংসার গড়ার সময় দুপক্ষই সমানভাবে শ্রম ও অর্থ দেবে, আর বিচ্ছেদ বা তালাকের ক্ষেত্রে সম্পদ, মালামাল এমনকি সন্তানের অভিভাবকত্বও সমানভাবে ভাগ হবে।
এই সব ধারণাই ইসলামী পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে এমন এক ন্যায়ভিত্তিক কাঠামোয় সাজিয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের সামর্থ্য ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখা হয়।
দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে কুরআনের আয়াতগুলো গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখবেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে পোশাক (لباس), ভালোবাসা ( مودة), অনুগ্রহ (رحمة), প্রশান্ত আবাস ( سكن) ও ফসলের ক্ষেত ( حرث) এর মত ধারণা বা দৃষ্টান্তসমূহের ওপর।

এই শব্দগুলো ‘শরিকানা’র অর্থের সঙ্গে একেবারেই ভিন্নতা রাখে। কুরআন কখনো এই সম্পর্ককে ‘পার্টনারশিপ চুক্তি’ বলেনি। বরং একে বলেছে, “মিসাকান গলিজা ( ميثاقا غليظا)”। অর্থাৎ এক দৃঢ় ও গভীর অঙ্গীকার।
‘চুক্তি’ (contract) আর অঙ্গীকার ( মিসাক) এর মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। চুক্তি সহজেই ভেঙে ফেলা যায়, এর একটি শেষ সময় থাকে। কিন্তু ‘মিসাক’ শব্দটি অনেক গভীর। এর অর্থ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এক শক্ত ও মজবুত বন্ধন। এটি ভাঙা কঠিন, ত্যাগ করা কষ্টসাধ্য, এবং এর কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।

আর এই অঙ্গীকার সাধারণ নয়। কুরআন একে বলেছে গলিজা (দৃঢ় ও ভারী)। সুতরাং বিষয়টি কোনোভাবেই শরিকানার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে আল্লাহ পোশাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, “তারা তোমাদের জন্য পোশাক, আর তোমরা তাদের জন্য পোশাক”।
এটাই ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, পার্টনারশিপ নয়।

পোশাক মানে হলো: ঐক্য, পরিপূরকতা, সামঞ্জস্য, সৌন্দর্য, শোভা, আচ্ছাদন, সুরক্ষা, পবিত্রতা, সতীত্ব এবং স্বভাবজাত স্বাভাবিকতা। এই অর্থগুলো পার্টনারশিপ কখনোই পূরণ করতে পারে না।
পোশাকের ভিত্তি হলো নৈকট্য, সহযোগিতা ও একাত্মতা। আর শরিকানার ভিত্তি হলো স্বার্থ, লাভ-ক্ষতির হিসাব। দুটির মাঝে পার্থক্য আকাশ-পাতাল।
এভাবেই ক্বাওয়ামা (দায়িত্বপূর্ণ অভিভাবকত্ব) ও আনুগত্য সবই পোশাকের ধারণার অধীনেই আসে। ক্বাওয়ামা মানে রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা, দায়িত্ব নেওয়া, প্রয়োজন পূরণ করা এবং কল্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর আনুগত্য হবে মারুফ অর্থাৎ ন্যায়সঙ্গত ও কল্যাণকর বিষয়ের মধ্যে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ন্যায় ও জুলুমবিহীনতা। তাদের সম্পর্কের মানদণ্ড নিজেদের খেয়ালখুশির চুক্তি নয়; বরং আল্লাহ তাআলা কুরআনে যে বিধান দিয়েছেন এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আদর্শ রেখে গেছেন, সেটিই তাদের পথনির্দেশক।
দাম্পত্য জীবনের আসল ভিত্তি হলো বোঝাপড়া, ত্যাগ, সহযোগিতা ও সওয়াবের আশা। এখানে সম্পর্কের ভিত্তি এটা নয় যে, বিয়ের প্রথম দিন থেকেই কথোপকথন হবে: “এটা আমার অধিকার, ওটা তোমার অধিকার” বা “এটা আমার দায়িত্ব, ওটা তোমার দায়িত্ব।”

অধিকার ও কর্তব্যের আলোচনা আসে তখনই, যখন বিরোধ দেখা দেয়। সম্পর্কের শুরুটা সেগুলোর হিসাব দিয়ে হয় না। শুরুটা হয় বোঝাপড়া, ত্যাগ আর সহযোগিতা দিয়ে।

আজ আমাদের সমাজে বিয়ে নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। কারণ আমরা পাশ্চাত্য ধারণা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছি এবং কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরে সরে গেছি।
আমাদের সন্তানরাও সোশ্যাল মিডিয়া, নাটক ও চলচ্চিত্রে প্রচারিত এমন সব ধারণার প্রভাবে আটকে আছে, যেগুলোর নির্মাতা ও প্রযোজকদের আমাদের দীন ও সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে তাদের সামনে বিয়ের ধারণা বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর হয়ে আছে।
দাম্পত্য সম্পর্ক এখন অনেকের কাছে ক্ষমতার লড়াই, সংঘর্ষ ও প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। কে জিতবে, কে হারবে এর মত অবস্থা। এর ফলেই তালাক বেড়ে গেছে।

কিন্তু স্বামী-স্ত্রী যদি পোশাকের ধারণায় জীবন যাপন করত, তাহলে তারা নিজেদের বিয়েতে বরকত, সুখ ও মানসিক স্বস্তি খুঁজে পেত।
( আরবী থেকে অনুদিত)

লেখায়: ইফতেখার সিফাত (হাফি.)

এক ভাই এসেছিলেন কাজের খোঁজে। কাজ নেই, অভাবে আছেন। উনাকে বললাম - আলহামদুলিল্লাহ যতই দরিদ্রতা যাক, এটা একটা প্লাস পয়েন্ট য...
06/04/2025

এক ভাই এসেছিলেন কাজের খোঁজে। কাজ নেই, অভাবে আছেন। উনাকে বললাম - আলহামদুলিল্লাহ যতই দরিদ্রতা যাক, এটা একটা প্লাস পয়েন্ট যে আপনার নিজের বাড়ি আছে। নাহলে এখন বাড়ি ভাড়া অনেক। আল্লাহ আপনাকে বাসস্থানের নেয়ামত দিয়েছেন। অনেক খরচ বাঁচছে৷

তিনি বললেন - আসলে আমার বাড়ির থেকেও বড় নেয়ামত, সম্পত্তি আমার স্ত্রী সন্তান। বললেন,

"আমার উপার্জন যখন ১৮০০০ ছিল (এখন ৪০০০ টাকা) আমার স্ত্রী কয়েকদিন ধরে আমার কাছে ঘুর ঘুর করত, কিছু একটা বলতে যেয়েও বলত না। একদিন অভয় দিলাম বলো। তো একটা ওড়না কিনবে, মূল্য ১৪০ টাকা আমার পকেটে টাকা আছে কিনা তাই সাহস করতে পারছেনা। আমি বললাম - ১৮০০০ উপার্জন করি ! ১৪০ টাকা পকেটে থাকবেনা !! আজ বিকেলেই কিনে দিব। আমি ব্যাংকের চাকরি ছাড়তে চেয়েছিলাম আর ২ মাস পরে, আমার স্ত্রী বলেছে - তুমি ২ মাস বাঁচবে গ্যারান্টি আছে? আজই রিজাইন দাও। দিয়েছি"

কন্টিনিউ করলেন,

"আমার স্যালারী পেয়ে আগে আমার বাবা মা কে ৫০০০ টাকা পাঠাতে হয়। আমার স্ত্রী বলেছে এটা। আগে ৫০০০ টাকা পাঠিয়ে যেন ১৩০০০ টাকা নিয়ে তবেই বাসায় ঢুকি। আমি বললাম আমাদের তো আর পাঁচ ভাই আছে, জরুরী না টাকা পাঠানো। আমার স্ত্রী কড়াভাবে বললেন - যতদিন আমি উনাদের (বাবা মা) পাচ্ছি আমি যেন একাই চেষ্টা করি উনাদের খরচ বেয়ার করতে"

কন্টিউনিউ করলেন,

"আমার ছেলে হিফয পড়ছে। সকালে কড়া রোদে দেখি ছাদে চলে গেছে। ওর মা কে বললাম, এই গরমে কোথায় গেলো। ওর মা বলল - ছাদে যেয়ে কুরআন পড়ছে। ঘরে পড়লে লাইট ফ্যান এর বিল উঠবে তাই৷ যেহেতু আমাদের অর্থনৈতিক পরীক্ষা যাচ্ছে"

-Shah Mohammad Tonmoy..

ঈদ-কুরবানির ছুটিতে সাধারণত আমরা অনেকেই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাই, অনেক আত্মীয়স্বজনও আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে থাকেন। খালু-ফ...
01/04/2025

ঈদ-কুরবানির ছুটিতে সাধারণত আমরা অনেকেই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাই, অনেক আত্মীয়স্বজনও আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে থাকেন। খালু-ফুপা-চাচা-মামা এবং চাচাতো-মামাতো-ফুফাতো-খালাতো ভাইবোনেরা একত্রিত হন। এ ছাড়াও নানারকম নিকট-দূরের অনেক আত্মীয়স্বজন আমাদের বাসায় বেড়াতে আসেন, আমরাও যাই। এ-সময় ঘুমানোর জায়গা নিয়েও অনেক পরিবারে সংকট দেখা যায়। স্থান সংকুলান না করতে পেরে ছেলেমেয়েদেরকে অনেক সময় আমরা এমন মানুষদের সাথে ঘুমাতে দিয়ে থাকি, যেটা ইসলামি মূল্যবোধের সাথে যায় না। মেহমানদের আপ্যায়ন, নানারকম ব্যস্ততার কারণে ছেলেমেয়েরা কোথায় থাকে, তার খোঁজ রাখতে মায়েরা ভুলে যান। আর এই সুযোগেই অনেক সময় আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনে ঘটে যায় অনেক ভয়াবহ ঘটনা।

দাম্পত্য ও পারিবারিক কাউন্সেলিংয়ের কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে আমার। আমি প্রফেশনাল কাউন্সেলর নই, নিজের জানাশোনা লোকদের মধ্যে অনেক সময় অনেকে এসেছেন কাউন্সেলিংয়ের জন্য। আমার যতটুকু জ্ঞানবুদ্ধি আল্লাহ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

আজ তেমনই একটা কাউন্সেলিংয়ের ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

বেশ অনেক বছর আগের কথা। এক ভদ্রলোক আমাকে ইনবক্স করেছেন, তিনি আমার সাথে দেখা করতে চান। পারিবারিক বিষয়ে তার পরামর্শ প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে না-চেনার কারণে সাক্ষাতে আগ্রহবোধ করছিলাম না। তিনি জানালেন—বিষয়টি খুবই মানবিক এবং তাকে একজন নির্ভরযোগ্য লোক আমার সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করতে বলেছে।

পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতির কারণে আমি তারপরও সাক্ষাতের ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখালে তিনি সমস্যার কথা ইনবক্সেই বললেন। সমস্যা হলো তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চান। মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন। শেষবারের মতো তিনি একটু বুঝতে চান; আর এজন্যই আমার শরণাপন্ন হয়েছেন। একটি সংসার রক্ষা করার কথা চিন্তা করে অবশেষে তাকে অফিসে আসতে বললাম।

ডিভোর্সের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, বিছানায় যেতে চাইলেই তার স্ত্রী রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। কিছুতেই তাকে শান্ত করা যায় না। এরপর এক পর্যায়ে অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়েন। তখন কাউকে সহ্য করতে পারেন না—বিশেষ করে পুরুষ কাউকে। মারাত্মকরকম অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

আমি তার কাছে জানতে চাইলাম—এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন। তিনি খুব নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারলেন না। তবে পরিবারের অন্যান্যরা বলে—তার স্ত্রীর নাকি অন্য কারও সাথে রিলেশন আছে, তার কাছ থেকে ডিভোর্স নেওয়ার জন্য এসব অভিনয় করে। আর স্ত্রীর পরিবার থেকে কে নাকি বলেছে তার ‘উপরি ভাব’; অর্থাৎ জিনের আছর আছে। কারণ যা-ই হোক, বেচারা স্বামীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। নতুন বিয়ে করে কোথায় একটু সুখ-আনন্দ করবে, তার তো উপায় নাই-ই, উলটো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। তবে ভদ্রলোক নিজে এর কোনোটায় বিশ্বাস করেন বলে মনে হলো না; বরং স্ত্রীর প্রতি তিনি যথেষ্ট আন্তরিক, তবে পরিস্থিতি এতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, তিনি একরকম অসহায় বোধ করছেন।

আমি তাকে আরেকটু ধৈর্য ধরতে বললাম। বললাম আপনি ডিভোর্স দিলে তো যেকোনো সময়েই দিতে পারবেন, তবে তার এ-আচরণের কারণ উদ্‌ঘাটন না করে যদি ডিভোর্স দেন, তা বোকামি হবে। কারণ উদ্‌ঘাটন করে যদি দেখেন তা সমাধান সম্ভব, তাহলে সমাধানের চেষ্টা করেন আর যদি সমাধানের অযোগ্য হয়, তাহলে আপনি তখন যা খুশি, সিদ্ধান্ত নিয়েন। পরামর্শ দিলাম স্ত্রীর বাবা-মা, ভাইবোন কারও সাথে একান্তে বসে তাদের থেকে জানতে চেষ্টা করুন এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না!

কিছুদিন পর ভদ্রলোক আবার এলেন। তিনি জানালেন যে এবার তিনি কারণ উদ্ধার করতে পেরেছেন। কারণটা হলো, তার স্ত্রী কিশোরী বয়সে তাদের বাসায় বেড়াতে আসা এক দূর সম্পর্কের মামা বা চাচা টাইপের এক আত্মীয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তাদের বাসার লোকজন তেমন ধর্ম-কর্ম করতেন না, পর্দা-পুশিদার ধার ধারতেন না। দশ-এগারো বছর বয়স। বাচ্চা মেয়ে। ‘আরে উনি তো তোমার মামা লাগেন, এখানেই ঘুমাও, কী হবে!’ এভাবে নাকি একই রুমে ঘুমাতে দিয়েছিলেন বাবা মা।

সেই দুর্ঘটনা তার কিশোরী মনে এত গভীর রেখাপাত করেছিল যে, এখন তার জীবনটাই ধ্বংসের মুখে। যখন তার স্বামী তার কাছে আসতে চায়, তখন তার মানসপটে কৈশোরের সেই ভয়ংকর দৃশ্য ভেসে ওঠে। তার স্বামীকে সে তখন চিনতে পারে না, মনে হয় সেই ধর্ষক তার দিকে এগিয়ে আসছে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করে বাঁচতে। সে চিৎকার করে ওঠে। দৌড় দেয়। ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর প্রলাপ বকতে থাকে।

একটু অসচেতনতা, একটু অসতর্কতা, একটি ঘটনা। আজ একজন পুরুষের, একজন নারীর ও দুটি পরিবারের জীবন এমন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা থেকে কোনো দিন উত্তরণ হবে কিনা, কেউ জানে না।

আহ! বাবা, মা! কেন মহান স্রষ্টা মানুষকে বাবা-মা বানিয়েছেন! কেন মানবপ্রজন্ম রক্ষার জন্য এই নিয়ম দিয়েছেন? তিনি চাইলে তো আকাশ থেকে মানুষ বৃষ্টি করতে পারতেন। তিনি চাইলে মাটি থেকে গাছের মতো মানুষ গজাতে পারতেন। তিনি চাইলে নদী থেকে মাছের মতো জলজ্যান্ত মানুষ উঠে আসত; কিন্তু মানুষ তো মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব। তার জন্ম, প্রতিপালন, আচার-ব্যবহার, আদব-কায়দা, নিরাপত্তা, আবাসন তো সৃষ্টির সেরা জীবের মতই হওয়া চাই।

আপনি কেমন বাবা-মা হলেন, আপনার যে সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়া ছিল আপনার দায়িত্ব, আপনি তাকে ধর্ষিতা হওয়ার জন্য তুলে দিলেন অন্যের বিছানায়!

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষও আছেন; যারা নিজেরা নামাজ-কালাম করেন, অনেক মহিলা আছেন; যারা বাইরে যাওয়ার সময় যথারীতি মুখ-ঢাকা বোরকা পরে যান; কিন্তু ঘর-বাড়িতে পর্দার ব্যাপারে মোটেই সচেতন নন। চাচাত, মামাত আর পাড়াত ভাই-বোনদের সাথে এমনভাবে চলেন, যেন তারা পর্দার হুকুমের বাইরে।

মনে রাখবেন, রাস্তার একজন মানুষ হঠাৎ এসে আপনার মেয়ের ওপর, আপনার ছেলের ওপর চড়াও হবে না। যারা আপনার বাড়িতে থাকে কিংবা আসা-যাওয়া করে, তাদের দ্বারাই এ-ধরণের অঘটন ঘটার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি; অথচ বাইরে বেরোবার সময় সাতপাট্টা পরে বের হলেও বাড়ি-ঘরে নারী-পুরুষদের পৃথকীকরণ ও পর্দার ব্যাপারে আমরা সবচে বেশি উদাসীন।

প্রত্যেক মানুষের একটি পাবলিক চেহারা আছে, যেটা সবাই প্রকাশ করে। এখানে কেউই নিজেকে খারাপভাবে প্রকাশ করে না। নিজের চারিত্রিক, নৈতিক যত খারাপ দোষ আছে, তার ওপর অনেকগুলো পর্দা ঝুলিয়ে তা ঢেকে রাখে। নিজে যতটুকু ভালো, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো সাজিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে। এ-কারণে আমাদের মনে আমাদের চারপাশের মানুষদের সম্পর্কে একটা সাধারণ নিষ্পাপ ধারণা থাকে। আরে ও আমাদের অমুক, আরে এ তো আমাদের...।

বিশেষত ভাইবোনের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে। তাদের প্রতি যেহেতু একটা সন্তানসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, তাই তাদেরকে আমরা স্বতন্ত্র একটি ছেলে বা মেয়ে, একজন নারী বা পুরুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে উঠতে পারি না। এভাবে আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিই। আসলে আমরা মানুষদেরকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে চিনি না। সঠিকভাবে কেবল তিনিই চেনেন; যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনি তাদের জীবন পরিচালনার জন্য যে নিয়ম দিয়েছেন, তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আর আমরা যে এভাবে হালকাভাবে দেখিয়ে নিজেদেরকে ভালো মানুষ সাজাতে চাই, এটাও আসলে ভালো মানুষ সাজানো নয়।

আমরা মনে করি—আহ! আমার বোনের ছেলেকে, ভাইয়ের ছেলেকে যদি ভেতরঘরে ঢুকতে নিষেধ করি, ড্রয়িংরুমে বসিয়ে রাখি, তাহলে তারা মাইন্ড করবে, আমার ভাইবোনেরা মনে কষ্ট পাবে। পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে যদি ঘরে অবাধে প্রবেশ করতে না-দেওয়া হয়, তারা মনে মনে ক্ষিপ্ত হবে।

আমাদের মেয়েদের ক্ষতি হবার চিন্তা করে আমরা তাদেরকে পর্দার মধ্যে না লুকালেও সেই একই লোকেরা যখন আমাদের বাড়িতে আসে, আমরা আমাদের টাকাপয়সা, সোনাদানা ও মূল্যবান জিনিসপত্র কিন্তু ঠিকই লুকিয়ে রাখি। তখন আমরা ঈমান রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হয়ে যাই। বলি, মাল যায় যার ঈমান যায় তার। কিন্তু আমাদের ইজ্জত, আমাদের মেয়েদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হলে আমাদের ঈমান যায় না!

যে লোকদের ওপর আপনি সামান্য টাকাপয়সার ব্যাপারে আস্থা রাখলেন না, আপনার অমূল্য সম্পদ কন্যাটির ব্যাপারে তাদেরকে কীভাবে ফেরেশতা ভাবলেন? অথচ অর্থের প্রতি লোভের চেয়ে নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণের মাত্রা অনেক বেশিই থাকে।

পর্দার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিলে যে বহিরাগতদের সাথে পরিবারের লোকদের অবাধ মেলামেশা বাধাগ্রস্ত হয়, তারা অনেক সময় এমন কথা নিয়ে উপস্থিত হন যে, এর দ্বারা তাদেরকে অপমান করা হয়েছে। তারা বোঝাতে চান যে, তাদেরকে এর দ্বারা চরিত্রহীন সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, তাহলে একই ব্যক্তি যখন তার টাকাপয়সা সোনাদানা সুরক্ষিত স্থানে লুকিয়ে রাখেন, তখন কি আপনারা আপনাদেরকে চোর সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে অপমান বোধ করেন? করেন না; অথচ ওটা করলে এটা মনে করাও যৌক্তিক ছিল!

আসলে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে যেসব সাবধানতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার উদ্দেশ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে অপরাধী মনে করা নয়। আপনি বাইরে গেলে আপনার ঘরে তালা দিয়ে যান—এর অর্থ আপনার প্রতিবেশীরা সব চোর তা নয়। আপনার বাড়িতে ঘরের টাকাপয়সা, সোনাদানা বিশেষভাবে আলমারি সিন্দুকে লুকিয়ে রাখেন—এর অর্থ এই নয় যে, আপনার বাড়িতে আগত মেহমানরা সবাই চোর!

যে-কারণে তারপরও আমরা এসব সতর্ক থাকি তা হলো, আমরা তো সবাইকে নিশ্চিতভাবে চিনি না, কারও একটু হাতটানের স্বভাব থাকতে পারে। কারও চুরির স্বভাব থাকতেও পারে। আর এ-ধরনের লোকেরা যদি অরক্ষিত কিছু পায়, তা নিয়ে যেতেও পারে। একইভাবে পর্দা-ব্যবস্থা গ্রহণ করা দ্বারা সবাইকে চরিত্রহীন সাব্যস্ত করা হয় না। তবে অবাধ মেলামেশা হলে নারী-পুরুষের কারও সাথে কারও অনৈতিক কিছু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে।

তাই আপনার প্রাণপ্রিয় কন্যাটির ব্যাপারে, ছেলেটির ব্যাপারে আরও একটু সচেতন হোন। আপনি তার অভিভাবক। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার। আপনার সামান্য অবহেলা তার গোটা জীবনটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

আপনি কি তা চান?

লিখেছেন, আবু তাসমিয়া আহমদ রফিক
প্রধান সম্পাদক, সিয়ান পাবলিকেশন

[ সিয়ান । বিশুদ্ধ জ্ঞান । বিশ্বমান ]

❝বিবাহ আপনার খরচ আমাদের❞আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেখানে তারা বিয়েকে সহজ এবং সুন্...
08/01/2025

❝বিবাহ আপনার খরচ আমাদের❞

আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেখানে তারা বিয়েকে সহজ এবং সুন্নাহসম্মত করার জন্য অসাধারণ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আমাদের সমাজে দেনমোহরের বিশাল অঙ্ক এবং যৌতুকের চাপে অনেক পরিবার বিয়েকে কঠিন করে তুলছে। কিন্তু এই ফাউন্ডেশন দেখিয়ে দিচ্ছে, বিয়ে সহজ এবং সুন্নাহ অনুযায়ী করাও সম্ভব।

যা যা তারা দিচ্ছে:
১. বর-কনের জন্য বিয়ের পোশাক।
২. কনের সাজসজ্জার সকল সামগ্রী।
৩. বিবাহ রেজিস্ট্রির খরচ।
৪. বর-কনের ১০০ জন অতিথির জন্য খাবারের ব্যবস্থা।
৫. কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া।
৬. প্রয়োজনে পরবর্তী কাউন্সেলিং সেবা।
৭. কক্সবাজারে ফ্রি হানিমুন প্যাকেজ!

বিয়ের তারিখ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫
রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ: ১০ জানুয়ারি ২০২৫

তবে এর জন্য দু’টি শর্ত আছে:
১. যৌতুক নেওয়া যাবে না।
২. ধার্য্য দেনমোহর সম্পূর্ণ আদায় করতে হবে।

আমি সত্যিই তাদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করছি। যারা এমন একটি বিয়ে করতে চান, তাদেরকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উৎসাহিত করছি।

যোগাযোগের জন্য: 01841040549
রেজিস্ট্রেশনের লিংক: কমেন্টে দেওয়া হয়েছে।

আমাদের উচিত এমন ভালো উদ্যোগগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ তাদের এই মহৎ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং আমাদের সমাজকে আরও সহজ ও সুন্দর করে তুলুন। আমিন।

রেজিষ্ট্রেশন লিংক: কমেন্টে

✒️ দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী সহজে খুঁজে পেতে ভিজিট করুন— Al-Yaqeen Marriage Media তে।

স্বামীর মোবাইলে স্ত্রীর ছবিঅনেকেই মোবাইলে নিজের স্ত্রীর ছবি তুলে রাখেন। অন্যদের মতো তা হয়তো মোবাইলের স্ক্রিনে দিয়ে রাখেন...
13/12/2024

স্বামীর মোবাইলে স্ত্রীর ছবি
অনেকেই মোবাইলে নিজের স্ত্রীর ছবি তুলে রাখেন। অন্যদের মতো তা হয়তো মোবাইলের স্ক্রিনে দিয়ে রাখেন না; কিন্তু ছবির ফোল্ডারে তো তা থাকেই। ফলে নিজের বন্ধু বা ভাই যখন মোবাইল ধরে তখন সে ছবি তারা দেখে ফেলে। অথচ এই নারী পর্দানশীন। কখনো পরপুরুষের সামনে নিজের চেহারা খোলেন না। পর্দার অন্যান্য অনুষঙ্গও যথাযথ মেনে চলেন। কিন্তু এই একটি শিথিলতার জন্য পর্দার একটি বড় রোকন নষ্ট হয়। সুতরাং এ বিষয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সতর্ক হতে হবে এবং পরস্পর সহযোগিতা করতে হবে। একজনের মাঝে শিথিলতা দেখা দিলে অপরজন তা শুধরে দেবে ও সতর্ক করবে।

বই : পর্দা গাইডলাইন

বিধ্বস্ত ঘরখানা ছেড়ে প্রিয়তমাকে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় দেওয়ালে লিখে গিয়েছিলেন— ‘আমরা ফিরব, হে হাওয়া।’তাতে তারিখ লেখা ছিল...
10/12/2024

বিধ্বস্ত ঘরখানা ছেড়ে প্রিয়তমাকে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় দেওয়ালে লিখে গিয়েছিলেন— ‘আমরা ফিরব, হে হাওয়া।’

তাতে তারিখ লেখা ছিল - ২০১৬ সাল। আট বছর পর আজ সত্যিই তারা ফিরে এসেছেন...

ভালোবাসার মানুষটিকে বুকে জড়িয়ে স্মৃতিচারণ করছেন সেই বি'ভী°ষি'কাময় দিনগুলোর

— আবুল হাসানাত কাসিম (হাফি.)

#স্বাধীনসিরিয়া

দামেস্ক, সিরিয়ার রাজধানী, বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে একটি এবং ইসলামের ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে। আরবিতে ...
08/12/2024

দামেস্ক, সিরিয়ার রাজধানী, বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে একটি এবং ইসলামের ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে। আরবিতে এই শহরকে বিলাদ আশ-শাম (بلاد الشام) বলা হয়।
[ শা*ম হলো বর্তমান সি*রিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ফিলি*স্তিন অঞ্চল ]

এই শহরটির ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব ৩য় সহস্রাব্দে ফিরে যায় এবং মধ্যযুগে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর, দামেস্ক পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে, যা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামেও পরিচিত। ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি বাইজেন্টাইনের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং পরবর্তীতে খুলা*ফায়ে রাশে*দি*ন এর সময় সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) দামেস্ক দখল করেন। পরে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ খলিফা আলি (রা.) এর মৃ*ত্যু*র পর মুআবিয়া (রা.) এর খিলাফাতের সময় দামেস্ককে রাজধানী করেন এবং পরবর্তীতে নির্মিত হয় বিখ্যাত উমাইয়া মসজিদ।

অনেক তাফসিরবিদদের মতে নবী ইব্রাহিম (আ.) স্বল্প সময়ের জন্য দামেস্কে অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি নক্ষত্র পূজারীদের মধ্যে দীন প্রচার করেছিলেন।

আবু দাউদ এর হাদিস (নং ৪৩২১) অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন দাজ্জালের সাথে যু*দ্ধের জন্য হজরত ঈসা (আ.) সি*রিয়ার দামেস্কের পূর্ব দিকে অবস্থিত সাদা মিনারের কাছে নামবেন।
আর সিরিয়ার ‘লুদ’ নামক স্থানে তিনি দা*জ্জা*লকে হ*ত্যা করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯৩৭)

এছাড়াও এই অঞ্চলের মর্যাদা সম্পর্কে বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে।

১/ শা*মের অধিবাসীদের জন্য সু সংবাদ।
কেননা রহমানের ফিরিশতারা সেখানে তাদের ডানা বিছিয়ে রেখেছেন। (তিরমিযি:৩৯৫৪)

২/ নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা শা*ম ও তার অধিবাসীদের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। (সিলসিলাহ সহিহা:৭/১২৬০)

শামের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন।
একটি হাসান হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
" আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা আমার পক্ষ থেকে শা*মের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন।"
(আবু দাউদ:৩৪৮৫)

শা*মে ফি*তনার অবসান হলে এর পরপরই আসবে ইসলামের বি*জয়, ঈমা*নের প্রতিষ্ঠা, নি*ফা*কের উ*চ্ছেদ।

—মুহাম্মাদ সিয়াম

পাত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যাওয়া:—ছেলেপক্ষের মহিলারা পাত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যান পরিবারের অন্যান্য মহিলা বা ছেলেকে দেখানোর জন্য...
20/10/2024

পাত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যাওয়া:

ছেলেপক্ষের মহিলারা পাত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যান পরিবারের অন্যান্য মহিলা বা ছেলেকে দেখানোর জন্য। শুধু এটুকুতে কোনো সমস্যা নেই। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা এটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এই ছবি পরিবারের অন্যান্য পুরুষের কাছেও চলে যায়, তারাও দেখে। তাই ছবি তোলাই উচিত না। তবে কোনো পরিবারের দ্বীনদারির ওপর যদি আস্থা হয়, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। আর পাত্রপক্ষেরও বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত, শুধু পাত্র বা মহিলাদের ব্যতীত অন্য কাউকে ছবি দেখানো জায়েয নেই। এটা সুস্পষ্ট আমানতের খেয়ানত হয়। একজন মেয়েকে অন্যের কাছে পর্দাহীন করে দেয়ার দায়ভারও মাথায় নিতে হবে।
—•— পর্দা গাইডলাইন

পাত্রীদের ছবি না তোলাই উত্তম।

🌸 দ্বীনদার পাত্র—পাত্রী সহজে খুঁজে পেতে ভিজিট করুন— Al-Yaqeen Marriage Media পেইজে।

09/10/2024

একাধিক বিয়ে করা সুন্নাহ না। এর কোন স্বতন্ত্র ফযীলত নেই। বরং ইনসাফ রক্ষার শর্তে মূলত এটা নিছক বৈধ একটা কাজ। উপরন্ত দ্বিতীয় বিবাহের ইচ্ছা, প্রয়োজন ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোন পুরুষ যদি প্রথমাকে মনোকষ্ট না দেয়া এবং তার মানসিক প্রশান্তির আকাঙ্খায় মাসনা[1] করা থেকে বিরত থাকে এবং সঠিকভাবে সবর করতে পারে তাহলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব (উত্তম প্রতিদান) পাবে। কারন এটা স্ত্রীর প্রতি ইহসানের একটা প্রকার।
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কোমল হয় আল্লাহ তার প্রতি কোমল হন। আর যে মানুষের প্রতি দয়াশীল না আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেননা। এছাড়া কোরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তিনি ইহসানকারীদেরকে ভালোবাসেন। الله أعلم بالصواب

إذا ترك أن يتزوج كيلا يدخل الغم على زوجته اللتي كانت عنده كان مأجورا. مجمع الأنهر - ١/٤٨٤

আল কুরআন, সূরা নিসা, আয়াত - ৮৫
সহীহ বুখারী, হাদীস নং - ৫৯৯৭
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং - ২৩১৮
আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং - ২৮৫
কানযুল উম্মাল - ৩/৪৮
রদ্দুল মুহতার - ৪/১৩৭
বাহরুর রায়েক - ৩/১৮৭
দুররুল মুখতার - ১৮১
মাজমাউল আনহুর - ১/৪৮৪
ফতহুল কাদীর - ৩/২২৯

[1] মাসনা দ্বারা উদ্দেশ্য একজন স্ত্রী বহাল থাকা আবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করা। সুলাছা হলো দুই স্ত্রী থাকা আবস্থায় তৃতীয় এবং রুবাআ হলো তিন স্ত্রী বহাল থাকা অবস্থায় চতুর্থ বিবাহ।

আফফান বিন শরফুদ্দীন
নায়েবে মুহতামিম ও মুফতী, জামিয়া উসমান রা., নিকুঞ্জ-২, খিলখেত, ঢাকা - ১২২৯

সীরাত মাহফিল একটা ইসলামিক প্রোগ্রাম, তাই এটা বুয়েটে আয়োজন করা যাবে নাঃ DSW আল-আমিন সিদ্দিক।গত শনিবার ৫ অক্টোবর শিক্ষার্থ...
08/10/2024

সীরাত মাহফিল একটা ইসলামিক প্রোগ্রাম, তাই এটা বুয়েটে আয়োজন করা যাবে নাঃ DSW আল-আমিন সিদ্দিক।

গত শনিবার ৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা বুয়েটে সীরাত মাহফিল আয়োজনের অনুমতির জন্য ছাত্রকল্যাণ পরিষদের (DSW) প্রধান প্রফেসর আল-আমিন সিদ্দিক এর নিকট যায়। সীরাত মাহফিলের প্রধান আলোচক হিসাবে শাইখ আহমাদুল্লাহর থাকার কথা। তিনি বলেন এ ধরণের প্রোগ্রামের অনুমতি তার হাতে নেই। ছাত্ররা অডিটোরিয়ামে আয়োজনের প্রস্তাব দিলে তিনি জানান, বুয়েটে এমন ধর্মীয় প্রোগ্রাম সাধারণত হয় না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দিলে, তিনি বলেন বুয়েটকে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করা যাবে না। তার যুক্তি বাইরের কোনো মানুষ এনে প্রোগ্রাম করা যাবে না।

শিক্ষার্থীরা কনসার্টে বাইরে থেকে আসা ব্যান্ডের বিষয় তুলে ধরলে তিনি বলেন এটা আগে থেকেই চলে আসছে। তিনি যুক্তি দেন যে এসব শিল্পীরা সকলের দ্বারা স্বীকৃত, কিন্তু ইসলামিক বক্তারা তেমন স্বীকৃত নন। আর অনেকেই ধর্মীয় প্রোগ্রামের বিরোধিতা করতে পারে এবং ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। সেদিন স্যারের কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছিলো তিনি নিজেই অনুমতি দিতে চাচ্ছেন না। সেদিন বলেন যে সোমবার মানে আজ সিদ্ধান্ত জানাবে।

আজ সোমবার পুনরায় সীরাত মাহফিলের আয়োজন করার অনুমতির জন্য যাওয়া হয়। তিনি বলেন অথোরিটি থেকে কোনো পজিটিভ রেজাল্ট আসে নি। তিনি প্রথমে যুক্তি দেন সীরাত মাহফিলে তো সব সবাই যুক্ত হতে পারবে না। ছাত্ররা যুক্তি খণ্ডন করে বলে সীরাত মাহফিল একটি মুক্ত অনুষ্ঠান, এখানে সব ধর্মের মতের মানুষ অংশ নিতে পারবে। তিনি আবার যুক্তি দেন এখানে তো কোনো এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটি হচ্ছে না। ছাত্ররা বলে যে কুইজ থাকবে অনুষ্ঠানে। এরপর ছাত্ররা কনসার্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে যে এটা কি এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটির মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন কনসার্ট যদি বুয়েটে না করতে চাও তাহলে অথোরিটির কাছে দরখাস্ত করো কনসার্টের বিষয়ে। কিন্তু ছাত্ররা স্পষ্ট জবাব দেয়, ‘বুয়েটে সব চিন্তাধারার বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে। কারও কনসার্ট করতে ইচ্ছা করলে কনসার্ট করবে, আমরা কেন অন্যের বিষয়ে নাক গলাবো’ (যদিও কনসার্টে উচ্চশব্দে গান বাজানোর জন্য অনেকবার অথোরিটিকে কমপ্লেইন জানানো হয়েছে, কিন্তু উদাসীনতা দেখিয়েছে প্রতিবার)। এছাড়া ছাত্ররা মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বিষয়ে কথা তুললে তিনি বলেন আগের স্যার সেটা অনুমোদন করেছেন, তিনি আর ইসলামিক প্রোগ্রাম অনুমোদন করবেন না। শেষমেষ তিনি ছাত্রদের যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে বলেন যে তার পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। শেষে স্যারের কাছে ছাত্ররা অনুমতি না দেওয়ার মূল কারণ বা ভিত্তি জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি কোনো কৈফিয়ত দিতে বাধ্য না তোমাদের কাছে"। আগের DSW বলেছিলেন ছাত্রদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার না!!!
এরপর শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। স্যার বলেন, তিনি অথোরিটির সাথে কথা বলে দেখবেন। অথচ ভিসি স্যার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ডিএসডব্লিউ কেই বলে দিয়েছেন।

এরপরও তিনি ভিসি, প্রো ভিসি বাদে আর কোন অথরিটির সাথে কথা বলবেন? উনাকে কি অন্য কোনো সংগঠন বা কেউ প্রভাবিত করছেন?

আল-আমিন সিদ্দিক একজন স্পষ্ট ইসলামবিদ্বেষী। বুয়েটে এখনও ৫ আগস্ট হয়তো আসেনি। সারা দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে সীরাত মাহফিল হচ্ছে সেখানে বুয়েটে মাহফিল করতে না দেয়া মানে ইসলামবিদ্বেষ ছাড়া অন্য কিছু নির্দেশ করে না।
উল্লেখ্য আল-আমিন সিদ্দিক খুনি হাসিনার আমলের শেষের দিকে নিয়োগপ্রাপ্ত DSW, এর আগে তিনি সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিলেন। ইসলামবিদ্বেষী আল-আমিন সিদ্দিকি কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে ও পদত্যাগ করতে হবে।

#বিতর্কিত_আলো

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00
Friday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 11:59
14:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিয়ে : অর্ধেক দ্বীন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to বিয়ে : অর্ধেক দ্বীন:

Share