07/12/2021
আজ দূপুরের ঘটনা সময় ঠিক মনে নেই। যোহর এর সালাত থেকে এসেই ছোট আপুকে গেলাম নামাযে পড়া সূরা গুলো মশক করাতে (যদিও হাফেজ না আমি, তবুও মুখস্ত করা সুরাগুলো তিলওয়াত সহিহ আছে)। আমি বিছানায় বসার সাথে সাথেই আপু বললো "শুরু করার আগে আজকে সকালের কাহিনি শোন ****"। কাহিনি আবার কিসের?,আমি বললাম। বাকি লিখাটা আপুর ভাষায় -
আজ সকালে মামি এসেছিলেন বাসায় আমিও আম্মুর সাথে ড্রয়িং রুমে বসেছিলাম, ফোন টিপছিলাম। মামি বসে বেশ কিছু সময় কথা বলার পর হঠাৎ বললো " আপা তোমার ছেলে যে পড়াশুনা টা বাদ দিলো,পরীক্ষাও দিল না, বাসায় বসে আছে পড়াশুনাও করে না কোনো কাজও করে না, কিছু বলো না ওরে? এভাবে তো ওর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।" পরে জানিস আম্মু কি বলছে? শুনলে তো তুই লাফ দিবি। আম্মু পরে মামি'কে বলছে "ভাবী, মানুষ ছেলে-মেয়ে চায় কেনো? যাতে দেখে শান্তি পায়? তাদের নিয়ে গর্ব করতে পারে তাই না? সেদিন **** আমাকে কুরআন এর এক দুয়া শিখাইলো যেই দুয়ার মধ্যে নাকি আছে, আল্লাহ তুমি আমাদের চক্ষুশীতলকারী সন্তান দান করো। এইযে ও যখন মসজিদ থেকে ঘরে ফিরে, ফজরে নামাযে যাওয়ার আগে আমাকে সুন্দর করে ডেকে উঠায় দিয়ে যায়, আমার যে কি আনন্দ লাগে ওকে দেখে বুঝাতে পারবো না, ও যখন ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করতো তখনও আমার এমন আনন্দ লাগতো না। এই যে ভাবী আমার ছেলে কে দেখে যে আমার চোখ জুড়াচ্ছে আর অন্তর প্রশান্তি পাচ্ছে সন্তানের কাছে এর চেয়ে বেশি আর কিই বা চাইতে পারি? আর ভবিষ্যৎ এর কথা যে বললেন, ওতো ভাবী বাসায় অনেক বই পড়ে। স্কুল কলেজে থাকতেও এতো পড়তো না। শুনেন ভাবী, যে তার ভবিষ্যৎ এর চিন্তা বাদ দিয়ে উম্মতের ভবিষ্যৎ এর কথা ভাবে তার ভবিষ্যৎ আল্লাহই সুন্দর করে দেয়, এটা ওরই বলা কথা। আমার ছেলে যেমন আছে তাতেই ওর উপর আমি অনেক খুশি উলটো আমিই ওর সব কথা শুনতে পারি না। যে আল্লাহ আমার ছেলেকে ভূল পথ থেকে সঠিক পথ দেখায় দিছে সেই আল্লাহই ওর ভবিষ্যৎ ঠিক করে দিবে, এর জন্য যদি ওর কোনো পরিশ্রম করতে হয় সেই চিন্তাও আল্লাহই ওর মাথায় ঢুকায় দিবে। আমি মা হিসেবে যতটা করে দিতে পারি করে দিয়ে যাবো।"
আপুর কথা শেষ হতেই সেদিন সাথে সাথে আমার রুমে চলে আসি, চোখের কোণায় জমা জলগুলো সেদিন আর থামায় নি, বেরিয়ে আসতে দিয়েছিলাম, অযুর পানির মতো দাড়ি বেয়ে চোখের পানি পরছিলো। মায়েরা ভালো কাজ করলে নাকি ভালো সন্তান পায় কিন্তু আমি আমার কোন কাজের জন্য এমন মা পেয়েছি জানিনা। আল্লাহ আমার মা'কে নেক হায়াত দান করুন। উনাকে সর্বদা খুশি রাখুন,আমাকেও উনার সেবা করে জান্নাত হাসিল করে নেওয়ার তৌফিক দান করুন।
~ ০৬/১২/২০২০ ইং