15/11/2025
-------রাম চন্দ্র গরুর মাংস খেতেন???-----------
রাম গরুর মাংস খেলেও আমার সমস্যা নাই না খাইলেও নাই!!
তবে হিন্দুদের অনেক সমস্যা।
আমি যেহেতু দেখিনি প্রত্যক্ষদর্শী নয় সেহেতু নিরপেক্ষ থাকায় উচিত এমন জটিল প্রশ্নে!!
বাস্তবে তিনি খেতেন কিনা এটা সে এবং সে যুগের মানুষই ভালো জানতেন!!
তবে শাস্ত্রে যেসব কথা বলা আছে তাতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়!!
সরাসরি কোথাও বলা নেই যে তিনি গরুর মাংস খেতেন!!
তবে তিনি মাংস খেতেন এটা পরিষ্কার !!
তৌ তত্র হত্বা চতুরো মহা মৃগান্।
বরাহম্ ঋশ্যম্ পৃষতম্ মহা রুরুম্।
আদায় মেধ্যম্ ত্বরিতম্ বুভুক্ষিতৌ।
বাসায় কালে যয়তুর্ বনস্পতিম্।। (২.৫২.১০২)
বাংলায় ভাবার্থ:
"ক্ষুধার্ত হয়ে তাঁরা (রাম এবং লক্ষ্মণ) সেখানে চার প্রকারের বৃহৎ মৃগ—একটি বরাহ (শূকর), একটি ঋশ্য (এক প্রকার শ্বেতপাদ মৃগ), একটি পৃষত (চিতল হরিণ) এবং একটি মহারুরু (কালো ডোরাকাটা হরিণ)—হত্যা করলেন। তাঁরা তাড়াতাড়ি সেই পবিত্র মাংস (মেধ্যম্) সংগ্রহ করে খাবার জন্য দিনের শেষে একটি বৃক্ষমূলে আশ্রয় নিলেন।"
এখন প্রশ্ন এই শ্লোক গুলি প্রক্ষিপ্ত কিনা সেটা যাচাইয়ের!!
যদি প্রক্ষিপ্ত হয় তাহলে রামের চরিত্রে তো দাগ লাগছে যে তিনি মাংসাশী!!
রামায়ন থেকে প্রক্ষিপ্ত শ্লোক সরিয়ে ফেলতে হবে না হলে তো রাম কলঙ্কিত হচ্ছে!!
আর প্রক্ষিপ্ত না হলে মাংস খাওয়া পাপ নয় হিন্দু ধর্মে!!
আর তবুও যদি পাপ হয় তাহলে রামায়ন ত্যাগ করুন ,রামায়ন কে শুধু একটা কাব্য গ্রন্থ নয়ত একটা সাধারণ মানুষের ইতিহাস জীবনী হিসেবে গ্রহণ করুন!!
না হলে তো হিন্দু ধর্মে জীব হত্যা মহাপাপ এটা মিথ্যা প্রলাপ!!
আরও একটা শ্লোক,,
ইদং মেধ্যমিদং স্বাদু নিষ্টপ্তমিদমন্বিনা"
(অর্থাৎ, এই মাংস পবিত্র, সুস্বাদু এবং আগুনে ভালোভাবে ঝলসে নেওয়া হয়েছে)।
এখন যদি এই শ্লোক গুলি প্রক্ষিপ্ত হত তাহলে।
বাল্মীকি রামায়ণের সবচেয়ে প্রামাণিক এবং সর্বজনীনভাবে গৃহীত সংস্করণ হলো বরোদা ক্রিটিক্যাল এডিশন (Baroda Critical Edition)। এই সংস্করণটি বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে প্রাচীন পাঠটি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে।
যদি শ্লোকগুলি প্রক্ষিপ্ত হতো, তবে সেগুলিকে এই প্রামাণিক সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হতো। তাই, পাঠের দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলি সত্যি বলে ধরে নেওয়া হয়।
এখন সত্যি মিথ্যা যাচাই এটা নিয়ে হিন্দু পন্ডিত রা মাথা ঘামাক!!
একজন মানুষ যদি হরিণের মাংস খেতে পারেন,সে তো গরুর মাংস ও খেতে পারেন ??
হরিণ খাইলে পাপ নেই আর গরু খাইলে পাপ হবে এমন তো হতে পারেনা!!
বাঘ মাংসাশী প্রাণী ,এটা বলতে বাঘ মশায় কোন মাংস খায় আর কোন মাংস খায়না এটা কিন্তু বোঝায় না!!
সে খুদা নিবারণে স্বীকার করে মাংস খায় মানুষও খেতে পারেন!!
এখন রাম জি সেই কালে খুদা নিবারণে গরুও খেতে পারতেন??
আবার নাও খেতে পারতেন ,,
আবার ,হতে পারে মা হিসেবে পূজাও করতে পারতেন !!
আরও একটি মাংস ভক্ষণের প্রমাণ:
"নিহত্য পৃষতং চান্যং মাংসমা দায় রাঘবঃ। ত্বরামাণে জনস্থানং সসারাভিমুখস্তদা।।"
(অর্থাৎ, রাম হরিণ বধ করে মাংস কাঁধে নিয়ে তাড়াতাড়ি আশ্রমে ফিরছিলেন।)
রাম চন্দ্র যে গরু খেতেন না ,এটার একরকম প্রমাণ পাওয়ায় যায় শাস্ত্র হতে!!!
কারণ,রামায়ণে গরু হত্যাকে যা বলা হয়েছে;
“গোঘ্নঃ চৈব সুরাপে চ, চৌরে ভগ্নব্রতে তথা।”
ভাবার্থ: গোহত্যাকারী (গোঘ্ন), মদ্যপানকারী, চোর এবং ব্রতভঙ্গকারীরা (যদি সীতাকে খুঁজে না পাও তবে তোমাদেরও এই পাপ হবে)।
এখানে 'গোঘ্ন' শব্দটি একটি গুরুতর পাপী বা অপরাধীকে নির্দেশ করছে।
এই গোঘ্ন শব্দটি নিয়েই রামের গরু খাওয়া প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ হয় হিন্দুরা!!
তবে এই শব্দটি দ্বারা যা বুঝানো হয়েছে;
গোঘ্ন' শব্দটি যে প্রথাকে নির্দেশ করে, অর্থাৎ অতিথি সেবায় গরু হত্যা করে মাংস পরিবেশন করা, তা মূলত প্রাচীন ধর্মসূত্র এবং গৃহ্যসূত্র-এর মতো গ্রন্থগুলোতে এবং বৈদিক সাহিত্যের ব্যাখ্যায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
পরিশেষে, কি বলব এখানে যে তথ্য গুলো তুলে ধরা হয়েছে!!
এগুলো আমার প্রশ্ন আর সমাধান আপনাদের হাতে!!
সঠিক তথ্য দিয়ে আমাকে সাহায্য করবেন
আমি জানতে আগ্রহী,হিন্দু,মুসলিম কোনো ধর্ম বিদ্বেষী আমি নয়!!
শুধু সত্যি জানতে চায় গাঁজাখুরি ,ধর্মান্ধ,নিজের ধর্মকে যে কোনো মুল্যে সত্য প্রমাণ !!
এমন হিন্দু,মুসলিম,খ্রিস্টান কোনো ধর্মের মানুষেরই আমার পছন্দ নয়।
শুধু সত্য চায়!!