13/02/2025
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ৮ দফা বাস্তবায়নে
সংবাদ সম্মেলন
সম্মিলিত সনাতনী জাগরনী জোট
(Bangladesh United Sanatani Awakening Alliance)
১৩/০২/২০২৫
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অচিরেই বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্রশ্রীমৎ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রক্ষচারীসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের মুক্তি প্রদান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ০৮ (আট) দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন, ৫ ই আগষ্টের পর থেকে এখনো অব্দি চলমান পরিকল্পনা মাফিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অমানবিক নির্যাতন, লুটপাট, ঘরবাড়ি-মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, হত্যা, মা-বোনদের শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ রোধ, পরিকল্পনা মাফিক ধর্ম অবমাননার যে ছক তৈরি হয়েছে সেটির বিরুদ্ধে আইন প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ, পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক ও এই দেশের ভূমি পুত্র হিসাবে নিজেদের অধিকার আদায়ে বাঁধা সৃষ্টি না করে আইন প্রশাসনের সহায়তা প্রদান প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
০৫ ই আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ সরকার পতন ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরেই যখন সবাই আন্দোলন উল্লাসে মগ্ন ঠিক তখনই বরাবরের ন্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন, লুটপাট, ঘরবাড়ি-মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, হত্যা, মা-বোনদের শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জগন্য কাজে লিপ্ত হয় একটি মহল। তার প্রেক্ষিতে ০৯ ই আগস্ট ও ১০ ই আগস্ট শাহবাগে আন্দোলন হয়।আন্দোলন থেকে ০৮ দফা দাবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টা মন্ডলীর কাছে পেশ করা হয়। কিন্তু এখনো অব্দি আট দফা দাবি পূরণ না করে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ সংখ্যালঘুদের উপর মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে সংখ্যালঘুদের কারাগারে পাঠানো হয় ও হয়রানি করা হচ্ছে। যাতে করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রীমৎ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রক্ষচারীকে মিথ্যা পতাকা অবমাননার নামে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় ও এখনও অব্দি তাঁকে জামিন প্রদান না করে হয়রানি করার জন্য বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন।
বন্ধুগণ,
নিন্মে বিগত বছরের নভেম্বর মাস থেকে শুরু করে ১০ ই ফেব্রুয়ারি অব্দি সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি সামষ্টিক চিত্র তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো-
২ মাসের তথ্য অনুযায়ী সংগঠিত ঘটনার বিররণ:
১) মন্দির ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ১১ টি।
২) বাড়ি ঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ০৫ টি।
৩) ভূমি দখল ০৩ টি।
৪) ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ী দোকানে হামলা-৪৭ টি।
৫) পারিবারিক নির্যাতন ও ধর্ষণ ৫টি।
৬) খুন হত্যা ও আত্নহত্যা ০৮ টি।
সম্প্রতি ৪১ দিনের মোট ঘটনা ঘটেছে ৭০ টি (জানুয়ারী ০১ থেকে ফেব্রুয়ারী ১০)
এখানে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে সকল তথ্য প্রাথমিক যাচাইকৃত।
বন্ধুগণ,
উপরোক্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা চাই যেন সমস্ত নির্যাতনের সঠিক বিচার হয় এবং আপামর জন সাধারণ যেন আপনাদের মাধ্যমে এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই প্রয়াসে আপনাদের সকলকে পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট থেকে কথা বলেন
১) লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের অন্যতম প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ কুমার হালদার।
২) পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষনা করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের অন্যতম প্রতিনিধি প্রদীপ কান্তি দে।
৩) চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী হিসাবে তার এবং ভুক্তভোগীদের নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের অন্যতম প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট সুমন কুমার রয়।
৪) সঞ্চলনা করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের অন্যতম প্রতিনিধি রাজেশ নাহা।
৫) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি তন্ময় মৌল্লিক।
৬) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি সৌরভ গাঙ্গলী সকাল।
৭) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি সাজেন কৃষ্ণ বল।
৮) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি রাজ ঘোষ।
৯) বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি ডা. সৌরভ সরকার।
১০) আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট উপদেষ্টা প্রফেসর চন্দন সরকার।
১১) লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর হিরেনময় বিশ্বাস।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে পরবর্তী যে কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়ছে তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
১) ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে সমগ্র বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে প্রতিটি মন্দির সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন হবে বাংলাদেশ জাতীয় মন্দির "ঢাকেশ্বরী মন্দির"
২) ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে ০৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন' বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রীমৎ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রক্ষচারীসহ অন্যান্যদের মুক্তি প্রদান ও সম্প্রতি সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর চলমান নির্যাতন ও নিপিড়ন বন্ধ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট কতৃক আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান আইনের সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি।বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট থেকে কেন্দ্রীয় ভাবে ঢাকেশ্বরী মন্দির করা হবে।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট থেকে ঘোষিত ০৮ দফা নিচে উল্লেখ করা হলো:
দাবীসমূহ:
১. সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের জন্য "নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন"গঠনের মাধ্যমে "দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল" গঠনপূর্বক দোষীদের দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।। (To ensure justice for minority persecution, a " Free Investigation Commission" should be formed to establish a "Speedy Trial Tribunal" for the swift punishment of the perpetrators. Appropriate compensation and rehabilitation must be provided to the victims.)
যুক্তিখণ্ডন: বিশেষ আইন কিংবা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে দৃষ্টান্তমূলক দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল গঠন করে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত হবার মর্মে বিধান প্রণয়ন করা হলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার নিরসন।
২. অনতিবিলম্বে "সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন" প্রণয়ন করতে হবে( Enact the "minority protection law" immediately).
যুক্তি খন্ডনঃ সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবিধানসমূহ স্পষ্টতর করে আদালতে বলবৎযোগ্য করা।
৩.সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন (Establish a Ministry of Minority affairs)
৪. সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কে হিন্দু ফাউন্ডেশনে উন্নত করতে হবে বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কে ও ফাউন্ডেশনে উন্নীত করতে হবে ( Update the Hindu religious welfare trust to a "Hindu foundation" and similarly elevate the Buddhist and Christian religious Welfare Trusts to foundations)
যুক্তিখন্ডনঃ সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ও ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট কে ফাউন্ডেশনের উন্নীত করার মাধ্যমে সারাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া ও বিশ্লেষণপূর্বক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৫. "দেবত্তোর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন" প্রণয়ন এবং "অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ" আইন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।(Formulate a "law for the recovery and preservation of endowed property" and ensure the proper implementation of the "vested property return" act).
যুক্তিখন্ডনঃ দেবত্তোর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন পাস করে যে সকল ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি বেদখল হয়েছে তাদের দাবী সাপেক্ষে সে সকল সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬. সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ এবং প্রতিটি হোস্টেলের প্রার্থনা কক্ষ বরাদ্দ করতে হবে (Construct worship places for minorities in every Government and private Universities and University colleges and allocate prayer rooms in every hostel)
যুক্তিখন্ডনঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা প্রার্থনা কক্ষ নির্মান করে তাদের নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে সচেতন ও উৎসাহিত করা।
৭. সংস্কৃত পালি শিক্ষা বোর্ড আধুনিকায়ন করতে হবে (Modernize the Sanskrit and Pali Education Board)
যুক্তি খন্ডনঃ সংস্কৃত ও পালি বোর্ডের আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই ভাষাদ্বয়ের বিলুপ্তি সাধন রোধ ও যারা এই ভাষায় পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে আগ্রহী তাদেরকে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করা।
৮. শারদীয় দুর্গাপূজায় পাঁচ দিন ছুটি দিতে হবে পাশাপাশি প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রয়োজনীয় ছুটি প্রদান করতে হবে (Declare a 5 day public holiday during the Sharadiya Durga Puja Festival. Along with necessary leave might be provided for the major religious festivals of each minority community)
যুক্তি খন্ডনঃ শারদীয় দূর্গা পূজায় পাঁচ দিনের ছুটির মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটিকে সনাতন সম্প্রদায়ের জন্য নিবিড়ভাবে উপভোগের সুযোগ করে দেয়া।এছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিবিড় ভাবে পালনের ব্যবস্থা করা।