AN NAHJA

AN NAHJA A great platform to show the way of guidance to the people who have turned away from Deen through the so-called modernity and propaganda of media.

26/11/2023
 #কেয়ামতের_আলামত
19/11/2023

#কেয়ামতের_আলামত

কুরআন শিক্ষা তো খুবই সহজ,মাত্র এক মাস চেষ্টা করলেই তো শিখা যায়,তাহলে মুসলিম হয়েও কেনো কুরআন শিখছেন না.?আমরা যেভাবে শেখ...
14/03/2023

কুরআন শিক্ষা তো খুবই সহজ,
মাত্র এক মাস চেষ্টা করলেই তো শিখা যায়,
তাহলে মুসলিম হয়েও কেনো কুরআন শিখছেন না.?

আমরা যেভাবে শেখাই
✅প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলি দ্বারা পাঠদান
✅বেসিক টু অ্যাডভান্স
✅নিজস্ব মেথডে শিক্ষাদান
✅সর্বোচ্চ সহজ পদ্ধতিতে শেখানোর প্রচেষ্টা
✅ক্লাস শেষে ক্লাসের শিট প্রদান
✅ক্লাসের পর রেকর্ডেড শর্ট ভিডিও প্রদান
✅ক্লাসের শুরুতে পূর্বের ক্লাসের পড়া জিজ্ঞাসাবাদ।
✅কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক ইসলাম শিক্ষা
✅প্রতি ব্যাচে শিক্ষার্থী সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ জন
✅ক্লাসের সময় ছাড়াও সাপোর্ট দেয়া হয়

কুরআন সহিহ না হলে যা হয়
১। নামাজ নষ্ট হয়ে যায়
২। ইবাদাত কবুল হয় না
৩। আল্লাহর কালামের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়
৪। সাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের সম্ভাবনা বেশি
৫। দোয়ার আয়াত পড়লে বদদোয়া হওয়ার আশংকা থাকে

কেন সহিহ কুরআন শিখবেন
১। মুসলিম হিসেবে এটা আপনার ইমানের দাবি
২। এটা নামাজ শুদ্ধ হওয়ার পূর্ব শর্ত
৩। হৃদয়ের প্রশান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম

আপনি কি সহিহ কুরআন শেখার বা নিজের শুদ্ধতা যাচাইয়ের কথা ভাবছেন
তাহলে আপনার জন্যই আমাদের আয়োজন
পবিত্র রমজানে পড়াশোনা ও কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি মাত্র ২৫ দিনে ঘরে বসেই কুরআন শিখার বিশেষ ব্যবস্থা

::::ক্লাস বিবরণ::::
🍀সবগুলো ক্লাস অনলাইনে হবে
🍀জুম অ্যাপে ক্লাস হবে
🍀ক্লাসের সময় ৪০ মিনিট
🍀বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে ক্লাস করার সুযোগ
🍀বয়স ভিত্তিক আলাদা আলাদা ব্যাচ

তাহলে আর দেরি কেন
ইমান আমল সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে সহিহ কুরআন শিখুন
আর এ যাত্রায় আমাদের সাপোর্ট পেতে আজই যুক্ত হোন আমাদের এই বিশেষ অনলাইন কুরআন শিক্ষা কোর্সে

বিস্তারিত জানতে ম্যাসেজ করুন অথবা যোগযোগ করুন
01853-551337

কুরআন শিখুন খুবই সহজ পদ্ধতিতে অল্প সময়েআমরা যেভাবে শেখাই✅প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলি দ্বারা পাঠদান✅বেসিক টু অ্যাডভ...
14/03/2023

কুরআন শিখুন খুবই সহজ পদ্ধতিতে অল্প সময়ে

আমরা যেভাবে শেখাই
✅প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলি দ্বারা পাঠদান
✅বেসিক টু অ্যাডভান্স
✅নিজস্ব মেথডে শিক্ষাদান
✅সর্বোচ্চ সহজ পদ্ধতিতে শেখানোর প্রচেষ্টা
✅ক্লাস শেষে ক্লাসের শিট প্রদান
✅ক্লাসের পর রেকর্ডেড শর্ট ভিডিও প্রদান
✅ক্লাসের শুরুতে পূর্বের ক্লাসের পড়া জিজ্ঞাসাবাদ।
✅কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক ইসলাম শিক্ষা
✅প্রতি ব্যাচে শিক্ষার্থী সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ জন
✅ক্লাসের সময় ছাড়াও সাপোর্ট দেয়া হয়

কুরআন সহিহ না হলে যা হয়
১। নামাজ নষ্ট হয়ে যায়
২। ইবাদাত কবুল হয় না
৩। আল্লাহর কালামের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়
৪। সাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের সম্ভাবনা বেশি
৫। দোয়ার আয়াত পড়লে বদদোয়া হওয়ার আশংকা থাকে

কেন সহিহ কুরআন শিখবেন
১। মুসলিম হিসেবে এটা আপনার ইমানের দাবি
২। এটা নামাজ শুদ্ধ হওয়ার পূর্ব শর্ত
৩। হৃদয়ের প্রশান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম

আপনি কি সহিহ কুরআন শেখার বা নিজের শুদ্ধতা যাচাইয়ের কথা ভাবছেন
তাহলে আপনার জন্যই আমাদের আয়োজন
পবিত্র রমজানে পড়াশোনা ও কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি মাত্র ২৫ দিনে ঘরে বসেই কুরআন শিখার বিশেষ ব্যবস্থা

::::ক্লাস বিবরণ::::
🍀সবগুলো ক্লাস অনলাইনে হবে
🍀জুম অ্যাপে ক্লাস হবে
🍀ক্লাসের সময় ৪০ মিনিট
🍀বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে ক্লাস করার সুযোগ
🍀বয়স ভিত্তিক আলাদা আলাদা ব্যাচ

তাহলে আর দেরি কেন
ইমান আমল সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে সহিহ কুরআন শিখুন
আর এ যাত্রায় আমাদের সাপোর্ট পেতে আজই যুক্ত হোন আমাদের এই বিশেষ অনলাইন কুরআন শিক্ষা কোর্সে

বিস্তারিত জানতে ম্যাসেজ করুন অথবা যোগযোগ করুন
01853-551337

 অসংখ্য কল্যাণ, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাতছানি দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসের অফুরন্ত...
04/03/2023


অসংখ্য কল্যাণ, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাতছানি দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসের অফুরন্ত কল্যাণ বুঝাতে গিয়ে চমৎকার দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন মুজাদ্দিদে আলফেছানি রহ.। তিনি বলেন, একটি বিশাল সমুদ্র। ওই সমুদ্র থেকে আঙ্গুলের ডগায় করে যদি এগার বারে এগার ফোঁটা পানি তোলা হয়। তাহলে এগার মাসের দৃষ্টান্ত হল, এগার ফোঁটা পানি। আর গোটা সমুদ্রটাই হচ্ছে রমজানের দৃষ্টান্ত। সুতরাং আমরা কল্পনাও করতে পারব না যে, এই মাসে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কী পরিমাণ কল্যাণ দিতে চান!

  বাঘ সম্পর্কে অজানা তথ্য।
03/03/2023

বাঘ সম্পর্কে অজানা তথ্য।

📖ইসলামই পৃথিবীর ভবিষ্যত🖋️উবায়দুর রহমান খান নদভী হাফি. ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। মহানবী হজরত ম...
21/02/2023

📖ইসলামই পৃথিবীর ভবিষ্যত
🖋️উবায়দুর রহমান খান নদভী হাফি.

ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় আল কোরআন নিয়ে এসেছেন মানব জাতিকে দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তির সন্ধান দিতে। তার সুন্নাহ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থা। মনীষী জর্জ বার্নাড ‘শ’ ঠিকই বলেছেন। তার উক্তির মর্মার্থ ছিল এই, ‘বিশ্বের সকল রাষ্ট্র ভেঙে যদি একটি রাষ্ট্র হয়, আর এর শাসনভার যদি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাতে তুলে দেয়া হয়, আর যদি তিনি একনায়কের মতো বিশ্ব শাসন করেন, তাহলেই পৃথিবীতে শান্তি ও মানবতার মুক্তি সম্ভব।’ আরেকজন পশ্চিমা চিন্তাবিদ বহু আগেই বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ইউরোপের ভবিষ্যত একমাত্র ইসলাম।’ ইউরোপের এক স্বনামধন্য বিজ্ঞানী যখন টিউব স্টেশনে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান, মৃত্যুর পর তার ওভারকোটের বুকপকেটে একটি হাদিসের বই পাওয়া যায়। ‘সেইংস অব প্রফেট মোহাম্মদ (সা.)’। ইসলাম ৬১০ খ্রি. থেকে ১৯১৭ খ্রি. পর্যন্ত ১৩ শ’ বছর বিশ্ব শাসন করেছে। মহানবী (সা.) থেকে তার চার খলিফা তথা- খোলাফায়ে রাশিদিন হয়ে তুর্কি খলিফা দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাস ছিল নাগরিক জীবনে শান্তি ও সুখের। ইসলাম কায়েমের জন্য ঈমানদার ও কাফের-মুশরিক সব মিলিয়েও ১১ শ’ মানুষের বেশি নিহত হয়নি। অথচ বিজয়ী ইসলামবিহীন গত ১০০ বছর পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ বিপ্লব ও রাজনীতির নামে শাসকদের হাতে নিহত হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, রাশিয়ার বিপ্লব, চীনের বিপ্লব ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকায় কত কোটি লোক মরেছে এর পরিসংখ্যান এক মিনিটেই বের করা সম্ভব। গত ২৫ বছরে দুনিয়াজুড়ে কেবল মুসলমানই হত্যা করা হয়েছে সোয়া কোটি। এসবই গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ও সামরিক তন্ত্রের ছদ্মাবরণে চেঙ্গিজি স্টাইল। ধর্ম ও নৈতিকতা, ঈমান ও আল্লাহর ভয়, পরকালে বিশ্বাস না থাকায় এসব হয়েছে। অথচ, সেক্যুলার পদ্ধতি দুনিয়াকে এ শিক্ষাটিই ভালোভাবে দিতে পেরেছে যে, রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করো। জীবনে ধর্ম যেন স্পষ্ট ও প্রকাশ্য না থাকে। প্রাচ্যের মহাকবি আল্লামা ইকবাল এ কথাটিই বলেছিলেন, ‘আলাগ হো দ্বীন সিয়াসত সে/তো রাহ জা-তি হে চেঙ্গিজি।’

সেক্যুলারিজম কথাটির অর্থ এর রূপকাররা বলেছেন, ‘নট রিলেটেড উইথ এনি স্পিরিচুয়াল এন্ড রিলিজিয়াস ম্যাটার।’ অর্থাৎ, যে আদর্শের সাথে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। সহজ অর্থে ধর্মহীনতা। এ মতবাদটি নাস্তিক মুরতাদদের অস্ত্র। ঈমান-ইসলামকে মোকাবেলার জন্য এর চেয়ে ধারালো আর কোনো অস্ত্র নেই। যদিও কুফর, শিরক, বিদাত ইত্যাদি বিষয়ে আলেম ও ইসলামি জ্ঞানী ব্যক্তিদের ধারণা বেশি। কিন্তু এই সেক্যুলারিজম সম্পর্কে তাদের অনেকরই জ্ঞান বা ধারণা চরম হতাশামূলক। ১৪ শ’ বছরের মুসলিম শাসন কর্তৃত্ব খেলাফত ধ্বংস করা হয় এই সেক্যুলারিজম দিয়ে। প্রথমে প্রায় ৭০০ বছরের উসমানি খেলাফতকে নাম দেয়া হয়, ‘সিকম্যান অব ইউরোপ’। এরপর দুনিয়ার ইহুদি-খ্রিস্টানেরা বহু বছরের তৈরি প্রাচ্যবিদ শ্রেণিকে কাজে লাগায় মুসলমানদের মনে ইসলাম সম্পর্কে ঘৃণা তৈরির কাজে। প্রাচ্যবিদ বলা হয়, সেসব ইসলামবিরোধী গবেষককে যারা ইসলামের ক্ষতি করার জন্য ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণ ও চর্চা করেন। প্রাচ্যবিদকে ইংলিশে বলে ‘ওরিয়েন্টালিস্ট’। তারা কোরআন-হাদিস, আরবি ভাষা ও ইসলামি সাহিত্য পড়েন এবং এ নিয়ে শত শত বই লিখেন। উদ্দেশ্য থাকে ইসলামের মধ্যে দ্বিধা, সংশয়, ক‚টতর্ক ও অমূলক প্রশ্ন সৃষ্টি করা। যা তারা বিশ্বের প্রতিটি সমাজে আধুনিক শিক্ষিত মুসলমানের মনে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। পাশাপাশি পশ্চিমা জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানরা সারা জগতের মুসলমান সমাজকে নিজেদের ভাবশিষ্য বানিয়ে ফেলেছে। মুসলমানরা কোরআন-সুন্নাহর শাসন বিচার ও সভ্যতা ভুলে গেছে। এ সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ। কারণ, তাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেক্যুলার। পশ্চিমারাই তাদের সর্ব বিষয়ে শিক্ষক ও গুরু। এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় বিপ্লব। দুনিয়ার কোথাও এ কাজ থেমে নেই। তবে তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে চলছে। করছেন আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ, ইমাম-খতিব, ধর্মীয় শিক্ষক ও বয়স্ক মুরুব্বিগণ। রাজনৈতিকভাবে কেউ এ কাজটি করতে চাইলে তাকে শুরুতেই শত্রুরা ধ্বংস করে দেয়। বহু কষ্টে নিজের আসল রূপ গোপন করে শত্রæর সাথে বাহ্যিক অনেক ক্ষেত্রে মিল দিয়ে কোনো কোনো নেতা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সচেতন মুসলমানরা কিছু আশাবাদী হয়, অনেকে তাদের সমর্থন ও দোয়া দিয়ে প্রাণপণে ওসব নেতার সফলতা কামনা করতে থাকেন। কিছু লোক তাদের খুঁতখুঁতে মেজাজ ও অতিশয় ক্ষুদ্র মানসিকতার জন্য এদের বিরোধিতা করেন। সার্বিক বিশ্ব পরিস্থিতি ও কঠিন বৈরী পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তারা এসব নেতার সংগ্রাম ও যুদ্ধটি সম্পর্কে কোনো ধারণাই করতে পারেন না। ঘরে বসে নিজ পরিমন্ডলে তাদের খুঁটিনাটি দোষত্রুটি খুঁজে বের করেন। সাধ্যমতো গিবত গান। আরেক শ্রেণি ইহুদি-নাছারাদের সাথে গলা মিলিয়ে তাদের সরাসরি বিরোধিতায় মেতে উঠে। মুসলিম বিশ্বের অবস্থা বর্তমানে প্রায় এরকম। একদল মানুষ এমনও আছেন তারা মুসলিম উম্মাহর কোনো বিষয়েই ভাবতে রাজি নন। অথচ মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগী নয় সে তাদের অন্তর্ভূক্ত নয়।’ বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঙ্গনে সেক্যুলারিজম তার শেকড় ও ডালপালা বিস্তার করছে। এর শুরু ও গত ১০০ বছর ধরে, এর নিষ্ঠুর ভয়াবহ রূপ মুসলমানদের জানা কর্তব্য। মুসলিম দেশে পশ্চিমা এজেন্ট রাজনীতিক, আমলা, আর্মি, এনজিওবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ইত্যাদি শ্রেণিকে হাত করে যে পরিমাণ জান-মাল ও ইজ্জতের ক্ষতি শত্রুরা করেছে, এ বিষয়ে মুসলমান প্রজন্মের অধ্যয়নও বিশেষ জরুরি। বিশেষ করে আলেম সমাজের জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান লাভ, এর মোকাবেলা, এর হাত থেকে নিজের দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা অন্যতম ফরজ। শতকরা ৯২ জন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশেও সেক্যুলারিজমকে হাতিয়ার করে এক শ্রেণির নাস্তিক মুরতাদ, ইহুদি-নাছারার দোসর, সংস্থা ও এনজিও যে স্লো পয়জন ঢুকাচ্ছে, সে বিষয়ে উলামা-মাশায়েখ ও ইসলামি চিন্তাবিদদের পূর্ণ সজাগ থাকতে হবে। ইসলামে বিশ্বাসী সরকার ও দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ যেভাবে বলে, ৯২ ভাগ মানুষকে সেভাবে চলতে দিতে হবে। মানুষের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। ক্ষমতা চিরদিন থাকবে না, আমরা কেউই চিরদিন দুনিয়ায় থাকব না। দুনিয়ায় কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু সর্বশক্তিমান দয়ালু আল্লাহর অস্তিত্ব। সুতরাং আল্লাহকে ভালোবেসে ভয় করে তার ওপর আশা ও বিশ্বাস রেখে আসুন সবাই পূর্ণরূপে ইসলামকে গ্রহণ করি। সুন্নাহকে অনুসরণ করি। কুফুরি নানা মতবাদ শত্রুরা এনে হাজির করলেও আমরা তা সচেতনভাবে বর্জন করি।

© মুসলিম বাংলা

আমরা অনেকেই এভাবে চিন্তা করে বসে থাকি যে, ‘রমজান আসুক, তখন তাওবা করব। এর আগে ইচ্ছে মত যত পারি গুনাহ করে মজা লুটে নেই।’ ক...
19/02/2023

আমরা অনেকেই এভাবে চিন্তা করে বসে থাকি যে, ‘রমজান আসুক, তখন তাওবা করব। এর আগে ইচ্ছে মত যত পারি গুনাহ করে মজা লুটে নেই।’ কী জঘন্য চিন্তা! এর অর্থ হল, আল্লাহ তাআলার রহমতের আশাটাকে নিজের গুনাহ করার হাতিয়ার বানিয়ে ফেললাম। এটা আল্লাহর রহমতের সঙ্গে এক প্রকার তামাশা নয় কি? এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার অহংকারে লাগে। এজন্য খবরদার, এমন চিন্তা করবেন না; বরং এখন থেকেই অধিকহারে তাওবা-ইস্তেগফার-কান্নাকাটি শুরু করে দিন। অন্যথায় দেখবেন, উক্ত নেগেটিভ চিন্তার কারণে যদি আল্লাহ তাআলার বড়ত্বে আঘাত লেগে যায় তাহলে তিনি রহমতের মাসে রহমতের পরিবেশেও আপনাকে তাওবা করার তাওফিক দিবেন না।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস–অবাধ যৌনাচার দিবস...বিশ্বাস করুন, এই চিত্রটা অত্যন্ত করুণ। এই করুণ চিত্রের মাঝেই বর্তমান পশ্চিমাদের ...
12/02/2023

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস–অবাধ যৌনাচার দিবস...

বিশ্বাস করুন, এই চিত্রটা অত্যন্ত করুণ। এই করুণ চিত্রের মাঝেই বর্তমান পশ্চিমাদের বসবাস। তাই তারা চাচ্ছে, তারা যে আযাব ও গজবের শিকার হয়েছে, আমাদের তরুণ তরুণীরাও যেন তার শিকার হয়। অথচ এর বিপরীতে মহান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন এক পবিত্র জীবনবিধান। তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা যৌবনের পবিত্রতা রক্ষার জন্য বিয়ে কর, যৌবনকে পবিত্র রাখো। আর আল্লাহ বলেছেন,

وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً

তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সূরা বনী ইসরাইল ৩২)

এ হল আল্লাহর নির্দেশ। মনে রাখবেন, যে দেশে যে সমাজে যে শহরে যে এলাকায় পর্দাহীনতা গানবাজনা টিভিভিসিয়ার ডিশক্যাবল অবাধ ইন্টারনেট ও নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশা ব্যাপক হয়ে পড়ে, সেখানে ব্যভিচার ডেকে আনতে হয় না; বরং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আল্লাহ বলেছেন, জীবন ও যৌবনকে পবিত্র রাখতে হলে তোমরা لَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ এসব নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। (সূরা আনআ’ম ১৫১)

ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা তথাকথিত বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও এমনই একটি নির্লজ্জতার দিবস–যা তরুণ-তরুণীকে অবাধ যৌনাচারের প্রতি ঠেলে দেয়। এজন্য আমরা বলব, এটা ভালোবাসা দিবস নয়; বরং মূলত এটা অবাধ যৌনাচার দিবস। এটি কপোত-কপোতির অবৈধ রোম্যান্স চর্চার নোংরা দিবস।

:::::দিবস নয়; আগ্রাসন...
আরো স্পষ্ট বললে বলতে হয়, প্রকৃতপক্ষে এটা দিবস নয়; বরং আগ্রাসন। আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য চারিত্রিক মাধুর্য ও সামাজিক কাঠামো ভেঙ্গে দেয়ার জন্য পশ্চিমাদের এক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নামই হল–ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা তথাকথিত বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

প্রশ্ন জাগে, ১- এ দিবসের ইতিবৃত্ত কী? কোত্থেকে শুরু হয় এ দিবস উদযাপন? ২- দিবসটি পালনের মূল ইন্ধনদাতা কারা? ৩- দিবসটি পালন করা যাবে না কেন? ৪- দিবসটি পালনের প্রভাব ও পরিণাম কী?

আজ আপনাদের সামনে এই চারটি পয়েন্ট নিয়ে পর্যালোচনা করব–ইনশা আল্লাহ।

•••••ভ্যালেন্টাইন্স ডে‘র সূচনা...
প্রথম প্রশ্ন হল, দিবসটির ইতিবৃত্ত কী? বা এটি কিভাবে শুরু হয়? মূলত এর সূচনা নিয়ে অনেক গল্প আছে। সবচে’ বহুল প্রচলিত গল্প হল, ক্লডিয়াসের সেনাবাহিনীকে নিয়ে। তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের শখ হল, বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তোলার। কিন্তু জনগণ পরিবারপরিজনের প্রতি দুর্বলতার কারণে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাইত না। সম্রাট তখন বের করলেন নতুন পথ। আইন জারি করলেন, বিয়ের উপর। তরুণপ্রজন্ম বিষয়টি মেনে নিতে পারল না। তখন এগিয়ে এল, সম্রাটের পাদ্রী, যার নাম ছিল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। গোপনে তরুণ-তরুণীদের প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ করত সে। সম্রাট খবর পেয়ে ক্রূব্ধ হয়ে ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়ে দিলেন। জেলে থাকা অবস্থায় সে জেলারের কন্যার প্রেমে পড়ে। জেলের মধ্যে সে মেয়েটির সঙ্গে গল্প করত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এরই মধ্যে শাস্তি হিসেবে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল। মৃত্যুর আগে সে প্রেমিকদের উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লিখে। চিরকুটটিতে লেখা ছিল–লাভ ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন। এই ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর দিনটিই ভালোবাসা দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

----ভিন্ন বক্তব্য
কিছু গবেষকের লেখায়, অন্য রকম ইতিহাস পাওয়া যায়। যীশু খ্রিস্টের জন্মের আগে পৌত্তলিকদের মাঝে বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজার প্রচলন ছিল। পশু পাখির জন্য একটি দেবতা, গ্রীস্মকালের জন্য আলাদা দেবতা, শীতকালের জন্য ভিন্ন দেবতা, ঝড় বৃষ্টির জন্য স্বতন্ত্র দেবতা–এভাবে তাদের বিভিন্ন দেবতা ছিল। লুপারকালিয়া নামক একটি দেবতা ছিল ধান গম শস্য ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য। এ দেবতার নামে তারা একটি পূজার অনুষ্ঠান করত। অনুষ্ঠানে যুবতী-তরুণীদের মাঝে লটারি দেয়া হত। লটারিতে যে যুবতী যে যুবকের ভাগে পড়ত এক বছর পর্যন্ত সে তাকে ভোগ করত। অনুষ্ঠানে যুবকটি দেবতার নামে একটি পশু জবাই করত। জবাইকৃত পশুটির চামড়া যুবতীর গায়ে জড়িয়ে দেয়া হত। যুবক একটি চাবুক নিয়ে যুবতীর গায়ে চামড়ার উপর দিয়ে আঘাত করত। আর মনে করত, এর মাধ্যমে যুবতীটি সন্তানদানের উপযুক্ত হবে। আর এই পুরো অনুষ্ঠানটি উদযাপিত হত ১৪ ফেব্রুয়ারী।

এরপর এল খ্রিস্টধর্ম। খ্রিস্টধর্ম ছিল ওই যুগের সত্য ধর্ম–আসমানি ধর্ম। তাই খ্রিস্টধর্ম পৌত্তলিকদের এ অনুষ্ঠান সমর্থন করল না। খ্রিস্টধর্মের পাদ্রীরা জনগণকে বুঝালো, এটা মূর্তির ধর্মের অনুষ্ঠান; খ্রিস্টধর্মের নয়। কিন্তু অধিকাংশই এই অনুষ্ঠান বর্জন করতে রাজি হল না। তাই পাদ্রীরা এই অনুষ্ঠানকে বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করল। তবে চেষ্টাটা ছিল ভুল পথে। তারা বলল, অনুষ্ঠানটি দেবতার নামে না হয়ে পাদ্রীদের নামে হোক। লটারিও যুবতীর নামে না হয়ে পাদ্রীদের নামে হোক। অবশেষে পাদ্রীদের নামে লটারি চালু করা হল। লটারিতে যে যুবক বা যুবতী যে পাদ্রীর ভাগে পড়ত সে তার সংস্পর্শে এক বছর থাকত, যাতে তার চরিত্র ভাল হয়।

৪৭৬ সনে পোপ জেলিয়াস বলল, অনুস্থানের ধরণ যেহেতু পরিবর্তন করা হয়েছে সুতরাং এর নামও পরিবর্তন করা হোক। আগে দেবতার নামে অনুষ্ঠানটি চলত এখন একজন পাদ্রীর নামে চলবে। অবশেষে ভ্যালেন্টাইন ছিল সে পাদ্রী যার নামে অনুষ্ঠানটি নতুন রূপে আসে। শেষ পর্যন্ত ৪৭৬ সনের পোপ জেলিয়াসের প্রস্তাবটি আরো বিশ বছর পর অর্থাৎ ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে এটি আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়।

-----ইতিহাসের সারকথা...
ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা তথাকথিত বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসের সার আমরা কী পেলাম? আমরা এখানে কয়েকটি বিষয় পেয়েছি।

১- দিবসটি একজন খ্রিস্টান পাদ্রী বা পোপের আবিস্কার; যা একজন মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস কখনও সমর্থন করতে পারে না। অথবা বলতে পারি–

২- দিবসটি মূলত মূর্তিপূজার ধর্ম ও খ্রিস্টধর্মের যৌথ আবিস্কার; যার সঙ্গে ইসালমের কোনো আপোস নেই।

৩- দিবসটি যুবক ও যুবতীর অবাধ যৌনাচারের মাধ্যমে অস্তিত্বে আসে; যা একজন মুসলমানের আত্মমর্যাদাবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

•••••দিবসটি উদযাপনের মূল ইন্ধনদাতা কারা..?
এটা পর্যালোচনার দ্বিতীয় পয়েন্ট। আসলে মুসলমানদের চরিত্র নষ্ট করার পাশাপাশি এর মধ্যে পুঁজিবাদীদের স্বার্থও নিহিত আছে। ভালোবাসা দিবসের আড়ালে এটা তাদের রমরমা বাণিজ্যও বটে। দৈনিক প্রথম আলো ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ একজন কলামিস্ট লিখেছেন, ‘বিশ্বে প্রতি বছর দিবসটিতে এক বিলিয়নের অধিক কার্ড বিক্রি হয়। ফুল বিক্রি হয় ১১০ মিলিয়ন।’ এছাড়াও নতুন কাপড় ( লাল রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবী বিশেষ করে ) রেস্তোরা , ক্যান্ডি এর যে বিশাল বানিজ্য হয় সেই কথা কারো অজানা নয়। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো তো আরও এক ধাপ এগিয়ে। এমনকি বিমানেও থাকে বিভিন্ন ভ্যালেন্টাইন্স অফার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হবে, তাদের কাছে এটি যেন কর্পোরেট বানিজ্য দিবস।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, দিবসটি পুঁজিবাদীদের জন্য শোষণের একটি হাতিয়ারও। মুসলিম বিশ্বকে শোষণ করার অসংখ্য হাতিয়ারের মধ্যে এটিও একটি হাতিয়ার। মার্কিন সমাজের ইয়াংকি ব্যবসায়ীরা এজন্যই ১৮৪০ সনে দিবসটিকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়। এটি উদযাপনের মূল ইন্ধনদাতা এই মার্কিন সমাজ।

•••••দিবসটি উদযাপন করা যাবে কি? এটা পর্যালোচনার তৃতীয় পয়েন্ট। এক কথায় এর উত্তর হল, না এবং না এবং না। কেননা, যে দিবসটির সঙ্গে মূর্তিপূজার সংস্কৃতি জড়িত, লটারি জড়িত, অবাধ যৌনাচার জড়িত, পৌত্তলিক সংস্কৃতির সঙ্গে খ্রিষ্টানদের আপোসকামিতা জড়িত, বিজাতীয় সংস্কৃতি জড়িত এবং যে দিবসটির কারণে আমরা শোষণের পাত্র হচ্ছি; এমন একটি নোংরা জঘন্য দিবস উদযাপনের অনুমতি ইসলাম আপনাকে মোটেও দিতে পারে না। এমনকি মজা করার উদ্দেশ্যেও এটি উদযাপন করা যাবে না। কারণ, এক বছর হয়ত মজা করলেন, পরের বছর দেখা যাবে তা বাস্তবতার পোশাক পরে আপনার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। বরং যারা দিবসটি উদযাপন করে তাদেরকে সাধ্যমত বাধা দেয়া আপনার জন্য ফরজ। এটি ভালোবাসা দিবসের নামে ঈমান বিধ্বংসী দিবস বিধায় কোনোভাবেই এটি উদযাপন করা যাবে না। কোনো মুসলমান এটি গ্রহণ করতে পারে না। ঈমান-আকিদা তো ফুটবল বা ক্রিকেট নয় যে, এ নিয়ে খেলা করা হবে!

তাছাড়া দিবসটি বিবাহপূর্ব ভালবাসার প্রতি যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করে। আর বিবাহপূর্ব ভালবাসা মানেই হল, বিভিন্ন হোটেলে, পার্কে, রেস্তোরাঁয়, শিক্ষাঙ্গনে ও বিভিন্ন বিনোদন স্পটে যুবক-যুবতীর চ্যাটিং-ডেটিং-ইটিং-সেটিং ও অবশেষে চিটিং করা। আর এ ভাবেই উন্মুক্ত হয় ব্যভিচারের পথ। অথচ আল্লাহ বলেছেন

, وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً

তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সূরা বনী ইসরাইল ৩২) তিনি আরো বলেছেন,

لَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ

তোমরা অশ্লীল কাজের কাছেও যেওনা। (সূরা আনআ’ম ১৫১)

অশ্লীল কাজ বলা হয়, যে সকল কর্ম ও আচরণ মানুষকে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও ব্যভিচারের প্রতি আকৃষ্ট করে তাকেই অশ্লীল কর্ম বলা হয়। বিবাহপূর্ব প্রেম যেখানে থাকবে সেখানে ব্যভিচার, ধর্ষণ এমনকি হত্যার মত অপরাধ সেখানে ঘটবেই। তাই আল্লাহ নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থেকে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। অন্যত্র তিনি বলেছেন,

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ – وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ...
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। (সূরা নূর ৩০,৩১)

একবার এক যুবক রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খেদমতে এসে বলল, ائْذَنْ لِي بِالزِّنَا ‘আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন।’ যুবকটির এমন আপত্তিকর আবদার শুনে সাহাবায়ে কেরাম ক্ষিপ্ত হলেন। তারা যুবকটিকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘চুপ, একদম চুপ।’ কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ যুবকটিকে কাছে ডেকে নিজের কাছে বসালেন এবং বললেন, أَتُحِبُّهُ لأُمِّكَ؟ ‘কাজটা তোমার মায়ের সঙ্গে কেউ করুক; তুমি কি এটা পসন্দ করবে?’ যুবক উত্তর দিল, ‘আল্লাহর কসম, আমি কখনই তা পসন্দ করব না।’ রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, وَلا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لأُمَّهَاتِهِمْ ‘তুমি কেন; বরং কোনো সন্তানই নিজের মায়ের ব্যাপারে কক্ষনও এরকম কামনা করবে না।’ রাসুলুল্লাহ ﷺ পুনরায় বললেন, أَفَتُحِبُّهُ لابْنَتِكَ؟ ‘তোমার মেয়ের সঙ্গে কাজটা হোক; এটা কি তুমি কামনা করবে? যুবক এবারও আগের মতই উত্তর দিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ এবারও বললেন, وَلا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِبَنَاتِهِمْ ‘তুমি কেন; বরং কোনো মানুষই নিজের মেয়ের ব্যাপারে এরকম কল্পনাও করতে পারে না।’ পুনরায় রাসুলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, أَفَتُحِبُّهُ لأُخْتِكَ؟ ‘তোমার বোনের ব্যাপারে কি এরূপ চাইবে?’ যুবক আগের মতই উত্তর দিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও আগের মতই উত্তর দিলেন, وَلا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لأَخَوَاتِهِمْ ‘আর কোনো মানুষই নিজের বোনের ব্যাপারে এরূপ কল্পনা করতে পারে না।’ পুনরায় রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, أَفَتُحِبُّهُ لِعَمَّتِكَ؟ ‘তোমার ফুফুর ব্যাপারে কি তুমি এরূপ কামনা করবে? যুবকটি আগের উত্তরটাই ব্যক্ত করল। রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও তাকে বললেন, وَلا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِعَمَّاتِهِمْ ‘কোনো মানুষই নিজের ফুফুর ব্যাপারে এরূপ চাইতে পারে না।’ তারপর রাসুলুল্লাহ ﷺ যুবকটির মাথার উপর রাখলেন এবং দোয়া করলেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ ، وَطَهِّرْ قَلْبَهُ ، وَحَصِّنْ فَرْجَهُ ‘হে আল্লাহ! এর গুনাহ মাফ করুন। এর অন্তর পবিত্র করে দিন এবং এর যৌনাঙ্গ পবিত্র পবিত্র রাখুন।’ ( মুসনাদে আহমাদ ২১৭০৮)
অপর হাদিসে এসেছে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন যৌবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। যৌবনের আনন্দের দিনগুলো, উচ্ছলতার দিনগুলো কোন পথে ব্যয় করেছ? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া ছাড়া কোনো মানুষ এক কদমও নড়তে পারবে না। অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, কেয়ামতের দিন নবী ও রাসুলদের সঙ্গে আল্লাহর আরশের নীচে ওই সমস্ত যুবককে তিনি স্থান দিবেন, যারা নিজেদের যৌবনকে পবিত্র রেখেছে।

•••••দিবসটির কুপ্রভাব...
এটা পর্যালোচনার ৪র্থ পয়েন্ট। দিবসটি উদযাপনের কারণে ব্যক্তি সমাজ ও পরিবারে এর কী প্রভাব পড়ে। এ প্রসঙ্গে ইসলামের বক্তব্য হল, বিবাহপূর্ব প্রেম বৈধ নয়; বরং হারাম। আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী আছে, এদের বিবেকে পচন ধরেছে। এরা বিবাহপূর্ব প্রেমকে ‘পবিত্র’ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়! তাই তারা দিবসটি উদযাপনের প্রতি যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। ফলে আমাদের যুবসমাজের কাছে এখন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ভাল লাগে না, প্রেম ভাল লাগে। চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোই এখন তাদের কাছে অধিক প্রিয়। স্কুল-কলেজের ড্রেস পরে বই-কলম হাতে নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আজকাল এগুলোতেই সময় কাটায়। ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তা নেই; আছে শুধু প্রেমের চিন্তা। অবৈধ ভালবাসা আজ তাদেরকে উন্মাদ করে দিয়েছে। ভালবাসা দিবস সেই উন্মাদনাকেই উসকে দিচ্ছে। ঠিক আগুনে পেট্রোল ঢালার মত। যার ফলে আমাদের যুবসমাজ আজ লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে বিজাতীয়দের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হচ্ছে। চ্যাটিং-ডেটিং-ইটিং-সেটিং নিয়েই তারা এখন বেশির সময় পড়ে থাকে। শিক্ষা ও যৌনতাকে আজ তারা একাকার করে ফেলেছে। এর পরিণাম নিশ্চয় অত্যন্ত ভয়াবহ। ধর্ষণ, গুম, হত্যা এখনকার সমাজের সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণ কী? এর জন্য কি আমাদের বিশেষ করে যুবসমাজের চারিত্রিক অবক্ষয় দায়ী নয় কি? তাই এখনি যদি আমাদের এই চলতি প্রজন্মকে যদি টেনে না ধরি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পিতৃ-পরিচয় হারিয়ে বসবে। আমাদের পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে পড়বে। জীবনের শৃঙ্খলা বোধ বিক্ষিপ্ততায় হারিয়ে যাবে। আমরা লক্ষ্য করেছি, ইতিমধ্যে তা শুরুও হয়েছে। এজন্য আসুন, সকল অশ্লীলতাকে আমরা ‘না’ বলি। এজাতীয় দিবস পরিহার করার ব্যাপারে একে অপরকে সচেতন করে তুলি। সকল সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আমাদের যুবশক্তিকে ধ্বংসের এই অতল সমুদ্র থেকে উদ্ধার করি। আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।

© মুসলিম বাংলা

📖সহীহ হাদীসের আলোকে মিরাজুন্নবীর ঘটনা🖋️মুহাম্মাদ ত্বহা হুসাইন[ইসরা ও মিরাজের ঘটনা নবী জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়,  ন...
08/02/2023

📖সহীহ হাদীসের আলোকে মিরাজুন্নবীর ঘটনা
🖋️মুহাম্মাদ ত্বহা হুসাইন

[ইসরা ও মিরাজের ঘটনা নবী জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, নবীজীর রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা আর উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি বড় নিয়ামত। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলা যেমন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি তাঁর উচ্চ মর্যদা সম্পর্কে অবগত করেছেন সৃষ্টিজগৎকে। এই ঘটনা যেভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও সীরাতের সাথে সম্পর্কিত, সেভাবে তা ইসলামী আক্বীদা ও বিশ্বাসেরও অংশ। এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও নির্দেশনা, অন্যদিকে সেখানে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ইলাহী হিকমত ও রহস্য। কিন্তু নবীজীর সশরীরে ইসরা ও মিরাজের বাস্তবতার উপর ঈমান আনার পর মুমিনের জন্য যে প্রয়োজনটি সর্বাগ্রে অনুভূত হয় তা হল কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীসের আলোকে ইসরা ও মিরাজের পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ইলম হাসিল করা। এই প্রয়োজনটি আরো প্রকটভাবে দেখা দেয় যখন অনির্ভরযোগ্য কিছু পুস্তিকা ও চটি বই, দায়িত্বহীন অনেক বক্তা ও তাদের দায়িত্বজ্ঞানশূণ্য কতক লেকচারের কল্যাণে (!) অনেক মানুষকে ইসরা ও মিরাজের সঠিক ইলম থেকেও দুঃখজনকভাবে বঞ্চিত হতে দেখা যায়। ফলে তাদের মন ও মননে দিনদিন ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনাই গ্রথিত হয়ে যাচ্ছে।

এখানে সহীহ হাদীসের আলোকে ইসরা ও মিরাজের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ একটি বিবরণ পাঠকদের উপহার দেওয়ার তাকিদ অনুভব করছি। এই অনুভূতি থেকে লেখক সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৮৮৭ এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৪ ও ২৫৯-এ সাহাবী হযরত মালেক ইবনে সা‘সাআ রা. ও হযরত আনাস রা. -এর বর্ণনাদু‘টিকে মূল হিসেবে অবলম্বন করে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যবহুল এই ঘটনার মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ একটি প্রবন্ধে আনতে প্রয়াস পেয়েছেন। নির্ভরযোগ্য অন্যান্য বর্ণনায় বিদ্যমান বিষয়গুলোও তার সাথে জুড়ে দিয়েছেন এবং হাদীসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলী থেকে তার উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা লেখককে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।

হিজরতে মদীনার আগের কথা। বাধা আর সফলতার মাঝে এগিয়ে চলছিল ইসলামের অগ্রযাত্রা। কাফির-মুশরিকদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ আর অকথ্য নির্যাতনে শানিত হচ্ছিল মু‘মিনের ঈমান, জ্বলে উঠছিল মুসলমানের দ্বীনী জযবা। এমনি সময়ে কোনো এক রাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ইশার নামায আদায় করলেন। অতঃপর খানায়ে কাবা সংলগ্ন ‘হাতীমে’ শুয়ে বিশ্রাম নিতে লাগলেন। এই সেই ‘হাতীম’, যা এক সময়ে খানায়ে কাবারই অংশ ছিল। মক্কার কাফেররা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখানে সমবেত হত, পরস্পর শপথ ও মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হত। সংকটাপন্ন মুহূর্তে দুআর জন্য প্রসারিত করত দু’হাত। মক্কার সর্দারেরা এখানে প্রায় বিশ্রাম নিত। নবীজীও মাঝে মাঝে আরাম করতেন। ওই রাতেও নবীজী সেখানে তন্দ্রাবিষ্ট ছিলেন; নিদ্রা তখনও আসেনি। আর নবী-রাসূলগণের নিদ্রা তো এমনই হয়; চোখ দুটো তাঁদের মুদে আসলেও ক্বলব থাকে জাগ্রত। জিবরীল আমীন আ. নেমে এলেন। নবীজীকে জাগ্রত করলেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে গেলেন আবে যমযমের নিকটে। তাঁর বক্ষের অগ্রভাগ হতে চুল পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হল। বের করা হল তাঁর হৃৎপিণ্ড। তা আবে যমযম দ্বারা শোধন করা হল। ঈমান ও প্রজ্ঞায় ভরপুর স্বর্ণের একটি পেয়ালা এনে তা দিয়ে ভরে দেয়া হল নবীজীর বক্ষ মুবারক। অতঃপর হৃৎপিণ্ড যথাস্থানে রেখে দিয়ে উপরিভাগ সেলাই করে দেয়া হল। হযরত আনাস রা. বলেন, আমি এর চিহ্ন নবীজীর বুকে প্রত্যক্ষ করেছি।

‘বুরাক’ নামক ক্ষিপ্রগতির একটি সওয়ারী আনা হল, যা ছিল গাধার চেয়ে বড় ও খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং দীর্ঘদেহী। রং ছিল শুভ্র। এমনই ক্ষিপ্র ছিল তার চলার গতি যে, দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে গিয়ে পড়ত তার পায়ের খুর। তার পিঠের উপর জিন আঁটা ছিল, মুখে ছিল লাগাম। নবীজী রেকাবে পা রাখবেন এমন সময় ‘বুরাক’ ঔদ্ধত্য দেখাল। জিবরীল তাকে থামিয়ে বললেন, হে বুরাক! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করছ? তুমি কি জান, আল্লাহর কাছে তার চেয়ে মহান ও প্রিয়তম কোনো ব্যক্তি কখনও তোমার উপর সওয়ার হয়নি। একথা শুনতেই বুরাক ঘর্মাক্ত হয়ে গেল।১
অতঃপর নবীজী বুরাকে আরোহণ করলেন। মুহূর্তেই এসে উপস্থিত হলেন জেরুজালেম নগরীর বায়তুল মাকদিসে। জিবরীল একটি পাথর ছিদ্র করে বুরাককে বেঁধে রাখলেন।২
এটা সেই বৃত্ত, যেখানে নবীগণও নিজেদের বাহন বেঁধে রাখতেন।৩
বায়তুল মাকদিসে ঢুকে তিনি দেখেন, হযরত মূসা আ. নামাযরত আছেন। তিনি ছিলেন ছিপছিপে ও দীর্ঘ দেহের অধিকারী। তাঁর চুল ছিল কোঁকড়ানো, যা ছিল কান পর্যন্ত ঝুলন্ত। দেখে মনে হবে যেন ‘ শানওয়া’ গোত্রেরই একজন লোক। হযরত ঈসা আ.-কেও দণ্ডায়মান হয়ে নামায পড়তে দেখা গেল। তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের, সাদা ও লাল রং বিশিষ্ট। তাঁর চুল ছিল সোজা ও চাকচিক্যময়। তাঁর আকার-আকৃতি সাহাবী উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফী রা.-এর সাথে অধিক মেলে। হযরত ইব্রাহীম আ.-কেও নামাযরত অবস্থায় দৃষ্টিগোচর হল। নবীজী বলেন, তাঁর দেহাবয়ব আমার সাথে অধিক সামঞ্জ্যশীল।৪
ইতিমধ্যে জামাত প্রস্তুত হল। তিনি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। সকল নবী-রাসূলগণ নবীজীর পিছনে ইক্তেদা করলেন। ওখান থেকে বের হয়েই দেখলেন, জিবরীল আ.-এর হাতে দুটি সুদৃশ্য পাত্র। একটি শরাবের, অপরটি দুধের । পাত্রদুটি পেশ করা হলে নবীজী দুধেরটিকেই বেছে নিলেন। এতদ্দর্শনে জিবরীল আ. তাঁকে বললেন, আপনি ও আপনার উম্মত স্বভাবজাত ফিত্রাতকেই বেছে নিয়েছেন। আপনি যদি শরাব পছন্দ করতেন, তাহলে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।৫
এরপর শুরু হল ঊর্ধ্বজগতের সফর। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুরাকের উপরই ছিলেন। একে একে প্রতি আকাশের দ্বার তাঁর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হল। প্রথমে দুনিয়ার দৃশ্যমান আসমানে এসে জিবরীল আ. দ্বার উন্মুক্ত করতে অনুরোধ করেন। অপর প্রান্ত হতে প্রশ্ন হয়, কে আপনি? তিনি বললেন, আমি জিবরীল।

প্রশ্ন করা হয়, কে আছেন আপনার সাথে? বললেন, মুহাম্মাদ।

প্রশ্ন হয়, আপনি কি তাঁর কাছে প্রেরিত হয়েছেন? বললেন, হাঁ

অতঃপর প্রথম আসমানের দ্বার খুলে দেওয়া হয়। তাঁরা এর উপরে উঠে আসেন। নবীজী বলেন, ওখানে এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম, যার ডানদিকে রূহের একটি ঝাঁক দেখা গেল, বামদিকেও তেমনি একটি ঝাঁক।

ওই ব্যক্তি ডানদিকে তাকালে হাসেন আর বামদিকে তাকালে ক্রন্দন করেন। তিনি আমাকে দেখে অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেন, মারহাবা হে মহান পুত্র! মারহাবা হে মহান নবী!!

নবীজী জিবরীলকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? তিনি বললেন, তিনি আদম আ.। তাঁর ডান ও বামদিকে যাদের দেখলেন তারা তাঁর আওলাদ। ডানদিকে যারা তারা জান্নাতী; আর বামদিকে যারা, তারা দোযখী। আর তাই তিনি ডানদিকে তাকিয়ে হাসেন এবং বামদিকে তাকিয়ে কাঁদেন।৬
এরপর জিবরীল আ. নবীজীকে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশের পানে ছুটলেন। সেখানেও দ্বার উন্মুক্ত করতে বলা হলে জিজ্ঞাসা করা হল, কে? তিনি জবাব দিলেন, জিবরীল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি উত্তর দিলেন, মুহাম্মাদ। আবার প্রশ্ন হল, তিনি কি আহূত হয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তাঁকে আনার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি। দ্বার উন্মুক্ত করা হলে সেখানে দু’খালাত ভাই অর্থাৎ হযরত ঈসা আ. ও ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আ.-এর সাথে সাক্ষাৎ হল। তাঁরা উভয়ই নবীজীকে মারহাবা বলে দুআ করলেন।

এরপর জিবরীল তাঁকে তৃতীয় আকাশে নিয়ে গিয়ে পূর্বের মতো প্রশ্নোত্তর পর্বের পর দ্বার উন্মুক্ত হলে সেখানে হযরত ইউসুফ আ.-এর সাথে মুলাকাত হল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে গোটা রূপ-সৌন্দর্যের অর্ধেকটাই দান করেছিলেন। তিনিও নবীজীকে মারহাবা বলে উষ্ণ অভিবাদন জ্ঞাপন করলেন।

একই পদ্ধতিতে চতুর্থ আকাশে পৌঁছালে সেখানে হযরত ইদরীস আ.-এর সাথেও শুভেচ্ছা বিনিময় হল। নবীজী বলেন, আমরা যখন সেখান থেকে সম্মুখে অগ্রসর হচ্ছিলাম, তখন হযরত মূসা আ. ক্রন্দন করতে লাগলেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এই যুবক আমার পরে প্রেরিত হয়েছে। তদুপরি তাঁর উম্মত আমার উম্মতের চেয়েও অনেক বেশি জান্নাতে যাবে। একথা ভেবেই আমি কাঁদছি। সেখান থেকে নবীজীকে সপ্তম আকাশে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিনি হযরত ইব্রাহীম আ.-কে দেখলেন, তিনি বায়তুল মা‘মুরে ঠেস দিয়ে উপবিষ্ট। বায়তুল মা‘মুর সেই স্থান যেখানে প্রত্যহ এমন সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদত করার জন্য প্রবেশ করে, যাদের পালা এরপর আর কখনও আসে না।

হযরত ইব্রাহীম আ.ও নবীজীকে দেখে অভ্যর্থনা জানালেন। অতঃপর তিনি নবীজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতকে আমার সালাম বলুন এবং তাদেরকে অবগত করুন যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র, এর পানি সুমিষ্ট। জান্নাত হচ্ছে খুব পরিচ্ছন্ন ও সমতল। এর বৃক্ষ হচ্ছে-

سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله، الله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله العلى العظيم. ৭

অতঃপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল। পৃথিবী থেকে যেসকল বস্তু অথবা রূহ উপরে আরোহণ করে, সেগুলো এখানে পৌঁছে থেমে যায়। তদ্রƒপ ঊর্ধ্বজগৎ থেকে নিম্নে আগমনকারী সব কিছু এখানে এসে থেমে যায়। নবীজী বলেন, সিদরাতুল মুনতাহার পাতা ছিল হাতির কানের মতো, আর ফল ছিল বড় মটকার মতো। আল্লাহ তাআলার নির্দেশ যখন বৃক্ষটিকে ঘিরে নিল, তখন সে এক অপরূপ সাজে সজ্জিত হল। কোনো মানুষের সাধ্য নেই সে সৌন্দর্য বর্ণনা করার। নবীজী বলেন, সিদরাতুল মুনতাহা পেরিয়ে এত ঊর্ধ্বে পৌঁছে যাই, যেখান থেকে আমি আল্লাহ্র হুকুম-আহকাম লিপিবদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত ফেরেশতাদের ‘কলমের’ আওয়াজ শুনতে পেলাম।

অতঃপর, আল্লাহ নবীজীকে যা দিবার ছিল তা দিলেন। তিনি দিনরাত্রিতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করলেন। ফিরে আসতে হযরত মূসা আ.-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি নবীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করেছেন? নবীজী বললেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায। তিনি বললেন, আপনি মহান রবের কাছে ফিরে যান এবং আরও হ্রাস করার আবেদন করুন। এতটুকু পালনের সাধ্য আপনার উম্মতের নেই। আমি তো বনী ইসরাঈলকে এর চেয়ে অনেক কম ফরয দিয়ে খুব পরীক্ষা করে দেখেছি। নবীজী ফের মহান রবের কাছে ফিরে গেলেন এবং বললেন, রাব্বুল আলামীন! আমার উম্মতের জন্য নামায আরও হ্রাস করুন। আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায কমিয়ে দিলেন। ফিরে আসার সময় পঁয়তাল্লিশ ওয়াক্ত নামাযের কথা হযরত মূসা আ.-কে জানালে তিনি বললেন, আপনার উম্মতের এতটুকু পালন করার সামর্থ্য নেই। অতএব আরও হ্রাস করার আবেদন করুন। নবীজী বললেন, আমি এমনিভাবে বারবার আপন রব ও মূসা আ.-এর কাছে আসা-যাওয়া করতে থাকলাম। আর প্রতিবারই পাঁচ-পাঁচ করে কমতে থাকল। অবশেষে আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন, মুহাম্মাদ! দিবা-রাত্রির মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই মাত্র। প্রত্যেক নামাযের জন্য দশ নামাযের সওয়াব, ফলে সেই পঞ্চাশ নামাযই হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি সৎকাজের ইচ্ছা করবে, এরপর তা আমলে পরিণত করবে না, তার জন্যও একটি নেকী লেখা হবে। আর যে ইচ্ছা করার পর আমলেও পরিণত করবে, সে দশটি নেকী পাবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মন্দ কর্মের কেবল ইচ্ছা করে, আমলে পরিণত করে না, তার কোনো গুনাহ লেখা হবে না। আর যদি আমলেও পরিণত করে তবে একটি মাত্র গুনাহ লিপিবদ্ধ হবে।

নবীজী বলেন, এরপর আমি নেমে এসে হযরত মূসা আ.-এর কাছে গেলাম। তাঁকে সবকিছু অবগত করলে তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে গিয়ে আরও হ্রাস করার আবেদন করুন। আমি বললাম, মহান প্রভুর কাছে অনেকবার গিয়েছি, আবেদন করেছি। এখন আমার লজ্জা হচ্ছে। অবশেষে জান্নাত, জাহান্নাম ও সপ্তাকাশের দীর্ঘ সফর করে মহান মাওলার ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়ে নবীজী ফিরে এলেন মক্কায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পবিত্র রজনীতে মুসলমানদের জন্য তিনটি বিষয় হাদিয়াস্বরূপ নিয়ে এসেছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ এবং পুরো উম্মতের মধ্যে শিরক থেকে আতœরক্ষাকারী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও ক্ষমার ঘোষণা। এ ছিল উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য মিরাজের পুরস্কার।৮

এ ছিল মিরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র। এর মাঝে জান্নাত ও জাহান্নামসহ বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ করেছেন নবীজী।৯

বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত বর্ণনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য বিচিত্র ঘটনাবলি থেকে নির্ভরযোগ্য ঘটনা উল্লেখ করলে বিবরণ পূর্ণতা পাবে বলে মনে হয়। যেমন...........

১। এ রাতে নবীজী জাহান্নাম পরিদর্শনে গেলে মালেক নামক জাহান্নামের প্রধান রক্ষী নবীজীকে সালাম ও অভ্যর্থনা জানান।১০

২। তিনি দাজ্জালকেও দেখেছিলেন।১১

৩। এমন এক দল লোকের পাশ দিয়ে নবীজী গমন করেছিলেন, যাদের নখ ছিল তামার। এই নখ দ্বারা তারা স্বীয় মুখম-ল ও বক্ষ আচঁড়াচ্ছিল। এদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জিবরীল নবীজীকে জানালেন, এরা সেই লোক, যারা দুনিয়াতে মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। অর্থাৎ একে অপরের গীবত ও মানহানি করত। অন্য এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, বরং দুনিয়াতে গীবতকারী এসব লোকদেরকে মৃত ভক্ষণ করতে দেখেছিলেন নবীজী।১২

৪। এই মহান রাতে নবীজী এমন কিছু লোককে দেখতে পেয়েছিলেন, যাদের ঠোঁট কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল, ঠোঁট কাটা মাত্র তা পুনরায় জোড়া লেগে পূর্ববৎ হয়ে যেত। এদের স¤পর্কে প্রশ্ন করলে জিবরীল নবীজীকে উত্তর দিলেন, এরা এমন বিষয়ে বক্তৃতা ও ওয়ায করত, যা তারা নিজেরা আমল করত না।১৩

৫। শবে মেরাজে নবীজী এমন লোকদের দেখলেন, যাদের পেট ছিল এক একটি গৃহের মতো। পেটের ভেতরটা ভর্তি ছিল সর্পে, যা বাইরে থেকেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। প্রশ্ন করা হলে জিবরীল জানালেন, এরা সুদখোর।১৪

৬। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাত দেখার সৌভাগ্যও লাভ করেছিলেন।১৫

৭। মোতি জমরদের প্রাসাদে ঘেরা একটি নহর দেখতে পেলেন, যার পানি ছিল মেশক-এর চেয়ে বেশি সুগন্ধিময়। এটা কী- নবীজী জানতে চাইলে জিবরীল আ. বললেন, এর নাম ‘কাওসার’, যা আপনার প্রতিপালক একমাত্র আপনার জন্যই সুরক্ষিত করে রেখেছেন।

৮। মহানবী চারটি নদীও দেখেছিলেন। এর মধ্যে দু’টি জাহেরী আর দু’টি বাতেনী। বাতেনী দু’টি জান্নাতে প্রবাহিত আর জাহেরী দু’টি হচ্ছে নীল ও ফোরাত।

৯। নবীজী জান্নাতে প্রবেশ করে একপাশে একটি হালকা আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের আওয়াজ? জিবরীল বললেন, মুয়াযযিন বেলালের কণ্ঠ। মিরাজ থেকে ফিরে নবীজী সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশে বললেন, বেলাল সাফল্য অর্জন করেছে, আমি তার জন্য এমন সব মর্তবা দেখেছি।১৬

১০। শবে মিরাজে নবীজী এক পবিত্র খোশবুর কাছ দিয়ে গেলেন। তিনি সুধালেন, এটা কীসের খোশবু? ফেরেশতারা বলল, এটা ফেরাউন-তনয়ার কেশ বিন্যাসকারিনী ও তার সন্তানদের খোশবু। কোনো একদিন চুল আচঁড়াতে গিয়ে তার হাত থেকে চিরুনী পড়ে গেলে সে বিসমিল্লাহ বলেছিল। ফেরাউন-তনয়া বলল আমার পিতা? মহিলা বলল, আমার রব তিনি, যিনি আপনার ও আপনার পিতার প্রতিপালক। ফেরাউন-তনয়া বলল, আমার পিতা ছাড়া কি তোমার অন্য কোনো রবও আছে? মহিলা বলল, হাঁ। এ খবর ফেরাউনের কানে গেলে সে মহিলাকে ডেকে বলল, আমি ছাড়া তোর আরও রব আছে? সে বলল, হাঁ, আমার ও আপনার প্রতিপালক তো মহান আল্লাহ তাআলা। শুনে অগ্নিশর্মা হয়ে ফিরাউন তামায় নির্মিত একটি বড় পাত্রে তেল ভরে খুব গরম করার আদেশ দিল। ওই মহিলা ও তার সন্তানদের এতে নিক্ষেপের হুকুম হল। ফিরাউনের লোকেরা এক এক করে সবাইকে তাতে নিক্ষেপ করতে লাগল। সবার শেষে মায়ের কোলে থাকা নিষ্পাপ শিশুটির পালা এল। ছোট্ট শিশু মুখ ফুটে মাকে অভয় দিল। বলে উঠল, মা নেমে পড়ো, পিছপা হয়ো না। আখিরাতের আযাবের তুলনায় দুনিয়ার আযাব তো অতি তুচ্ছ।১৭

১১। বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মাকদিসে যাওয়া বা আসার পথে মক্কার কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলাও দেখতে পেয়েছিলেন।১৮

শবে মিরাজের সকাল বেলা। নবীজী হাতীমে কাবায় চিন্তিত মন নিয়ে একান্তে বসে আছেন। মনে মনে ভাবছেন, রাত্রে সংঘটিত মিরাজ ও ইসরার কথা প্রকাশ করলে মানুষ আমাকে মিথ্যুক ঠাওরাবে না তো? ইতিমধ্যে কাছ দিয়ে যাচ্ছিল আবু জাহল। নবীজীর কাছে বসে বিদ্রƒপের ছলে বলল, কোনো ব্যাপার আছে নাকি? নবীজী বললেন, হাঁ। সে বলল কী? তিনি জবাব দিলেন, আজ রাতে আমার মিরাজ হয়েছে। সে বিস্ময়ের সাথে সুধাল, কতদূর পর্যন্ত যাওয়া হয়েছিল? নবীজী বললেন, বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত। সে আরও ঠাট্টা করে বলে উঠল, চমৎকার তো! এরপর সকালেই তুমি আমাদের কাছে এসে গেলে? তিনি দৃঢ়তার সাথে বললেন, হাঁ। এরপর আবু জাহল কথা না বাড়িয়ে তাঁকে বলল, আচ্ছা! আমি যদি পুরো কওমকে ডেকে নিয়ে আসি তাহলেও কি তুমি একই কথা বলতে পারবে? নবীজী আরও সুদৃঢ় হয়ে বললেন, অবশ্যই। আবু জাহল লুয়াই ইবনে কা‘ব গোত্রের নাম ধরে ডাকতে লাগল। আর তারাও দলে দলে খানায়ে কাবায় সমবেত হতে লাগল। সকলে এসে উপস্থিত হলে আবু জাহল বলল, আমাকে যা কিছু তুমি শুনিয়েছিলে, পারলে তা এদের কাছেও ব্যক্ত করো। নবীজী পুনরায় একই ঘটনা তাদের সম্মুখে ব্যক্ত করলে কিছু লোক বিস্ময়ে হাতের উপর হাত রাখল। আবার অনেকেই হতবাক হয়ে মাথায় হাত দিল। তারা বলল, তাহলে তুমি কি আমাদের কাছে বায়তুল মাকদিসের অবস্থা বর্ণনা করতে পারবে? উল্লেখ্য, উপস্থিত অনেকেই বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল।১৯

নবীজী বলেন, আমি তাদের কাছে বায়তুল মাকদিসের অবস্থা বর্ণনা করতে লাগলাম। কিছু বিষয় আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল। মনে মনে আমি খুব চিন্তিত হচ্ছিলাম। আমি তখনও কাবার হাতীমে পুরো কওমের সামনে দ-ায়মান, ইতিমধ্যেই পুরো বায়তুল মাকদিস আমার চোখের সামনে উদ্ভাসিত করা হল। আকীলের ঘরের উপর উদ্ভাসিত বায়তুল মাকদিস আমি স্বচক্ষে দেখে দেখে সব কিছু নিসংকোচে বলতে লাগলাম। শুনে উপস্থিত লোকেরা মন্তব্য করল, মানচিত্র ও অবস্থা তো সঠিকই বর্ণিত হয়েছে।

মক্কার কোনো পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন হযরত আবু বকর রা.। মক্কার কাফেররা তাকে এ বিস্ময়ের কথা বলে সুধাল, তবুও কি তুমি তাকে বিশ্বাস করবে? হযরত আবু বকরের হৃদয়ে ঈমানের বহ্নিশিখা জ্বলে উঠল। তিনি এক আকাশ আস্থা নিয়ে সুদৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠলেন, আমি তো এর চেয়েও আরো দূরের অনেক জটিল বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। তাঁর কাছে আসা আসমানী বার্তাসমূহের উপর রয়েছে আমার অটল বিশ্বাস ও সুদৃঢ় ঈমান। অতএব...২০

তথ্যসূত্র : ১. তিরমিযী. হাদীস ৩১৩১, ২. প্রাগুক্ত, হাদীস ৩১৩২, ৩. মুসনাদে আহমাদ ২/৫২৮, ৪. মুসলিম, হাদীস ১৬৭, ৫. প্রাগুক্ত, হাদীস ১৬৮, ৬. বুখারী, হাদীস ৩৪৯, ৭. তিরমিযী, হাদীস ৩৪৬২, ৮. মুসলিম, হাদীস ২৭৯, ৯. আহমাদ ৫/৩৮৭, ১০. মুসলিম, হাদীস ১৬৫, ১১. প্রাগুক্ত, ১২. আহমাদ ৩/২২৪, ১৩. প্রাগুক্ত ৩/১৮১, ১৪. প্রাগুক্ত ২/৩৫৩, ১৫. তিরমিযী, হাদীস ৩১৪৭, ১৬. আহমাদ ১/২৫৭, ১৭. প্রাগুক্ত ১/৩০৯-৩১০, ১৮. মুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩২৩৫৭, ১৯. তিরমিযী, হাদীস ৩৪৬২, ২০. মুসতাদরাক ২/৩৬১

©আল কাউসার

Address

Dhaka

Telephone

+8801853551337

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AN NAHJA posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to AN NAHJA:

Share