Sanatan Philosophy and Scripture - SPS

Sanatan Philosophy and Scripture - SPS Official Page of Sanatan Philosophy & Scripture (SPS)
(2)

ভগবান সূর্য নারায়ণ: বৈদিক ও উপনিষদীয় দৃষ্টিতে ব্রহ্মতত্ত্বের এক প্রত্যক্ষ প্রতীকসনাতন ধর্মে সূর্যকে আমরা ‘প্রত্যক্ষ দেবত...
23/05/2026

ভগবান সূর্য নারায়ণ: বৈদিক ও উপনিষদীয় দৃষ্টিতে ব্রহ্মতত্ত্বের এক প্রত্যক্ষ প্রতীক

সনাতন ধর্মে সূর্যকে আমরা ‘প্রত্যক্ষ দেবতা’ ও ‘জগতের চক্ষু’ বলে জানি। গায়ত্রী মন্ত্র দ্বিজদের নিত্যপাঠ্য। কিন্তু শাস্ত্রের গভীর পর্যালোচনায় দেখা যায়, সূর্য কেবল জ্যোতির্ময় দেবতা নন; তাকে বহু ক্ষেত্রে ব্রহ্মতত্ত্বের প্রত্যক্ষ প্রকাশ বা উপাসনার প্রতীকরূপেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই লেখায় শাস্ত্রের বিভিন্ন স্তরের প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে – যেখানে বেদ ও উপনিষদের মন্ত্র থেকে শুরু করে পুরাণ ও পরবর্তী স্তোত্রপরম্পরা পর্যন্ত সূর্যের মহিমা বর্ণিত হয়েছে।

১. বেদের সাক্ষ্য ও শ্রুতি প্রমাণ

ঋগ্বেদ ১.১৬৪.৪৬ – একমেবাদ্বিতীয়ম্ ভাবনার ভিত্তি

“একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি” – পরম সত্তা এক; পণ্ডিতেরা তাঁকে নানা নামে ডাকেন – কেউ অগ্নি, কেউ বায়ু, কেউ যম। এই মন্ত্রটি সনাতন দর্শনের অদ্বৈত ভাবনার প্রাচীনতম ভিত্তি। একই সাথে স্বগুণ ব্রহ্মের প্রকাশ যে কেবল নির্দিষ্ট নাম বা ভাবে সীমাবদ্ধ নেই তাঁরও জোরদার প্রমাণ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ।

সূর্য বিশ্বের আত্মা ভাব আমরা দেখি ঋগ্বেদের ১.১১৫.১ মন্ত্রে , যেখানে ঘোষণা করা হয়েছে – “সূর্য আত্মা জগতস্তস্থুষশ্চ”। অর্থাৎ সূর্য স্থাবর ও জঙ্গম – সমগ্র জগতের আত্মাস্বরূপ। এই মন্ত্রটি বৈদিক সাহিত্যে সূর্যকে কেবল দেবতা না বলে বিশ্বাত্মা হিসেবে চিহ্নিত করার ভিত্তি। যা পরবর্তী বৈদান্তিক ভাষ্যগুলোতে এই মন্ত্রের ব্যাখ্যায় সূর্যকে অন্তর্যামী চৈতন্যের প্রতীক রূপে দেখা হয়েছে।

গায়ত্রী মন্ত্র ও ‘ভর্গ’ তত্ত্ব (ঋগ্বেদ ৩.৬২.১০) – “তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ”। ‘সবিতা’ হলো সূর্যের প্রসবকারী সত্ত্বারূপী দিক। ‘ভর্গ’ শব্দের অর্থ তেজ। বৈদান্তিক ব্যাখ্যায় ‘ভর্গ’ শব্দকে ‘ব্রহ্মতেজ’ বা দিব্য আলো বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ গায়ত্রী মন্ত্রের ধ্যান কেবল সূর্যের জ্যোতির নয়, বরং সেই পরম ব্রহ্মের তেজেরই ধ্যান। এই কারণেই গায়ত্রী জপকে ব্রহ্মোপাসনার একটি রূপ গণ্য করা হয়।

একই সত্তার বহুরূপ প্রকাশ - শুক্ল যজুর্বেদের ৩২.১ মন্ত্রে বলা হয়েছে – “তদেবাগ্নিস্তদাদিত্যস্তদ্বায়ুস্তদু চন্দ্রমাঃ”। অর্থাৎ একই ‘তৎ’ (পরম সত্তা) অগ্নি, আদিত্য (সূর্য), বায়ু ও চন্দ্ররূপে প্রকাশিত। সায়ানাচার্যে মতো বৈদান্তিক ও ভাষ্যকারদের ব্যাখ্যায় এই মন্ত্রকে বহুরূপে এক সত্তার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। সূর্য এদের মধ্যে প্রধান ও প্রত্যক্ষতম।

সূর্য অগ্নি ও প্রাণের উৎস - ঐতরেয় ব্রাহ্মণের প্রথম অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির পর সর্বপ্রথম অগ্নি উৎপন্ন হয়, এবং সেই অগ্নির তেজ থেকেই সূর্যের উৎপত্তি। অগ্নি ও সূর্যকে একই তেজের দুই রূপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী বেদান্ত ব্যাখ্যায় এই তেজকে ব্রহ্মতেজ বলে উল্লেখ করা হয়।

ছান্দোগ্য উপনিষদের ১.৬.৬ মন্ত্রে বলা হয়েছে – “আদিত্যো ব্রহ্মেত্যাদেশঃ” – অর্থাৎ ‘আদিত্যই ব্রহ্ম’ – এই উপদেশ। আরও স্পষ্ট করে ৩.১৯.১ মন্ত্রে বলা হয়েছে – “আসৌ ব আ আদিত্যো ব্রহ্ম” – অর্থাৎ এই যে আকাশের সূর্য, তিনি ব্রহ্ম। বৈদান্তিক ভাষ্যগুলোতে এই উক্তিগুলোকে সগুণ ব্রহ্মের উপাসনার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ দৃশ্যমান সূর্যকে অবলম্বন করে অদৃশ্য ব্রহ্মে পৌঁছানোর পথ।

মৈত্রী উপনিষদের ৬.৩৫ মন্ত্রে বলা হয়েছে – “যোঽসাবাসৌ আদিত্যে পুরুষঃ সোহসাবহমস্মি”। অর্থাৎ আদিত্যের মধ্যে যে পুরুষ (চৈতন্যস্বরূপ) বিরাজমান, তিনিই আমি। এটি ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ মহাবাক্যের সূর্য সংস্করণ। এখানে উপাসনার চূড়ান্ত অবস্থা বর্ণিত – যেখানে উপাসক নিজেকে সূর্য ও ব্রহ্ম থেকে পৃথক মনে করেন না। এই মন্ত্রটি সর্বসম্মত।

এছাড়াও সূর্যোপনিষদ প্রচলিত সংস্করণে প্রথম মন্ত্রে বলা হয়েছে – ওঁ সূর্যদেবো ব্রহ্ম। সূর্যদেবো বিষ্ণুঃ। সূর্যদেবো রুদ্রঃ। সূর্যদেবঃ সাক্ষান্নারায়ণঃ।” দ্বিতীয় মন্ত্রে – “সূর্যাত্মকমিদং সর্বং। সূর্যাদেব নান্যদস্তি।” পঞ্চম মন্ত্রে – “সূর্যএব পরং ব্রহ্ম। সচ্চিদানন্দমাত্রম্।”

তাঁরপরে কঠোপনিষদের সেই ২.২.১১ মন্ত্রটি যা অত্যন্ত বিখ্যাত – “ন তত্র সূর্যো ভাতি ন চন্দ্রতারকং নেমা বিদ্যুতো ভান্তি কুতোঽয়মগ্নিঃ। তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং তস্য ভাসা সর্বমিদং বিভাতি॥”

অর্থাৎ সেই ব্রহ্ম-সত্তায় সূর্য ভাসেন না, চন্দ্র-তারাও না, বিদ্যুৎও না, অগ্নি তো দূরের কথা। যিনি ভাসেন, তাঁর পশ্চাতে সব ভাসে; তাঁর আলোয় এই সব আলোকিত। এই মন্ত্র সূর্যকে ব্রহ্মের আলোর অধীনস্থ করলেও, সৌর উপাসনা পদ্ধতিতে সূর্যকে সেই ব্রহ্মের প্রত্যক্ষতম প্রতীক ও উপাস্য বিগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

তাঁর পরে আসে তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ১০.১.১ মন্ত্রটি যা সূর্যগায়ত্রী নামে পরিচিত – “ওঁ আসাবাদিত্যো ব্রহ্মেতি ব্রহ্ম”। অর্থাৎ ওঁ, এই সূর্যই ব্রহ্ম, তিনি ব্রহ্ম। ‘ইতি ব্রহ্ম’ শব্দের পুনরাবৃত্তি জোর দিয়ে বোঝাচ্ছে যে এতে কোনো সংশয় নেই। এই মন্ত্র প্রতিদিনের সন্ধ্যোপাসনায় ব্যবহৃত হয়।

ব্যাকরনিক দিক থেকে দেখলেও ‘সূর্য’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি – ‘সু’ ধাতু থেকে, যার অর্থ প্রসব করা বা চালিত করা। সেই সূত্রে ‘সূর্য’ অর্থ – যিনি সমস্ত কিছু প্রসব করেন ও গতিশীল রাখেন। নিরুক্তকার যাস্ক (নিরুক্ত ১২.২০) বলেছেন – “সূর্যো ভবতি সর্বস্য প্রসবিতৃ” – সূর্য সবকিছুর প্রসবকারী। ‘আদিত্য’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি – ‘অদিতি’ থেকে, যার অর্থ বন্ধনহীনতা, সীমাহীনতা। ‘আদিত্য’ অর্থ – যিনি সীমাহীন ও সর্বব্যাপী। এটি ব্রহ্মেরই লক্ষণ। ‘সবিতা’ মানে প্রসবকারী, ‘ভর্গ’ মানে দীপ্ত তেজ – বৈদান্তিক ব্যাখ্যায় ব্রহ্মতেজ। এই শব্দগত বিশ্লেষণ সূর্যকে সৃষ্টির মূল কারণ ও চৈতন্যস্বরূপের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

২। পুরাণ ও ধর্মশাস্ত্রে সূর্য

শুরু করছি আমাদের সবার প্রিয় আদিত্য হৃদয়ম্ স্তোত্র দিয়ে বাল্মীকি রামায়ণের যুদ্ধকাণ্ডের অন্তর্গত। ঋষি অগস্ত্য যুদ্ধক্ষেত্রে রামকে এই স্তোত্রটি শেখান। সেখানে স্পষ্ট উক্তি – “এষ ব্রহ্মা চ বিষ্ণুশ্চ শিবঃ স্কন্দঃ প্রজাপতিঃ”। অর্থাৎ তিনিই ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, স্কন্দ ও প্রজাপতি। এই স্তোত্রটি সূর্যের মধ্যে সমস্ত দেবতার সমাবেশ দেখায় এবং সূর্যকে পরমব্রহ্মের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। স্তোত্রটির প্রামাণ্যতা ও অখণ্ডতা সর্বজনস্বীকৃত।

বিষ্ণু পুরাণের দ্বিতীয় অংশের অষ্টম অধ্যায়ে সূর্যকে বিষ্ণু বা নারায়ণের প্রকাশরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে সূর্যমণ্ডলের মধ্যে বিষ্ণুশক্তির অবস্থান এবং সূর্যের সর্বদেবময় রূপের ধারণা পাওয়া যায়। পরবর্তী সৌর ও বৈষ্ণব পরম্পরায় এই ভাবধারা “সূর্য নারায়ণ” ধারণাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে সূর্যকে বিশ্বজীবনের ধারক, কালচক্রের নিয়ন্তা এবং ভগবানের দৃশ্যমান শক্তিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষত পঞ্চম স্কন্ধে সূর্যমণ্ডল, তার গতি ও জগতের উপর তার প্রভাবের বিশদ আলোচনা পাওয়া যায়। যদিও ভাগবতে সূর্যকে সরাসরি ‘পরব্রহ্ম’ বলা হয়নি, তথাপি তাঁকে বিশ্বব্যাপী চৈতন্য ও ঈশ্বরীয় শক্তির এক প্রত্যক্ষ প্রকাশরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের সৌর-মাহাত্ম্য বর্ণনাকারী অংশে সূর্যকে পরম জ্যোতি ও ব্রহ্মস্বরূপ বলে বন্দনা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শ্লোকের পরিবর্তে পুরাণের সামগ্রিক বর্ণনার ভিত্তিতে এই উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।একই ভাবে কূর্মপুরাণের পূর্বভাগে সূর্যকে ‘বিশ্বাত্মা’ ও ‘সর্বগত’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে – যিনি আত্মা, তিনিই সূর্যরূপে বিরাজমান। এটি সূর্য ও ব্রহ্মের অভেদের ইঙ্গিত দেয়।

৩। বিবিধ স্ত্রোত্র ও মান্য আচার্যের উক্তি

ভগবতপাদ শঙ্করাচার্যের বিরচিত‘ব্রহ্মজ্ঞানাবলীমালা’ স্তোত্রে আত্মাকে ‘সচ্চিদানন্দরূপ’, ‘পরমজ্যোতি’ ও ‘স্বয়ংজ্যোতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও সেখানে সূর্যের সরাসরি উল্লেখ নেই, তথাপি বৈদান্তিক ব্যাখ্যায় এই আত্মজ্যোতি ও ব্রহ্মতেজের ধারণাকে সৌর প্রতীকের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়েছে।

পরবর্তী সৌর স্তোত্রসাহিত্যে সূর্যকে ‘সকলভুবননেত্র’ ও ‘বিশ্বদীপ’ রূপে বন্দনা করা হয়েছে। প্রচলিত ‘সূর্য পঞ্জর স্তোত্রম্’-এর প্রথম শ্লোকে সূর্যকে সমগ্র জগতের চক্ষু ও বিশ্বপ্রদীপরূপে কল্পনা করা হয় — যা বৈদিক ‘সূর্য আত্মা জগতস্তস্থুষশ্চ’ ভাবনারই এক ভক্তিমূলক সম্প্রসারণ।

ভবিষ্য পুরাণের ব্রাহ্মপর্বে সূর্য সহস্রনামের বর্ণনা আছে। বিভিন্ন সংকলনে এই সহস্রনামে ‘পরব্রহ্মণে’, ‘ব্রহ্মরূপায়’, ‘সচ্চিদানন্দরূপায়’, ‘সর্বাত্মনে’, ‘নিরাকারায়’, ‘ওঁকারবাচ্যায়’ ও ‘বিশ্বরূপায়’ – এই নামগুলি সূর্যকে পরমব্রহ্মের প্রতীক হিসেবে বন্দনা করে।
---

৪। সৌর সম্প্রদায় ও সৌরদর্শন প্রসঙ্গ

প্রাচীনকালে সৌর সম্প্রদায় নামে একটি স্বতন্ত্র ধারা বিদ্যমান ছিল – যারা সূর্যকে পরমসত্তার প্রতীক বা উপাস্য দেবতা হিসেবে পূজা করত। এই সম্প্রদায়ের উল্লেখ মহাভারত, পুরাণ ও তন্ত্রগ্রন্থে পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে মগধ, উজ্জয়িনী ও কাশ্মীরে সৌর মন্দির বিশেষভাবে বিখ্যাত ছিল। মুলতান ও কোণার্কের সূর্য মন্দির বিশ্ববিখ্যাত। বর্তমানে স্বতন্ত্র সৌর সম্প্রদায় অনেকটাই লুপ্ত, তবে গায়ত্রী জপ, সূর্যনমস্কার ও আদিত্য হৃদয়ম্-এর মাধ্যমে সৌর উপাসনা আজও জীবিত।

সৌর উপাসনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বতন্ত্র ধর্মদর্শন ও সাধনাপদ্ধতি গড়ে উঠেছিল। এই দর্শনের মতে উপনিষদের ‘তত্ত্বমসি’ মহাবাক্য এখানে ‘সূর্য ত্বমসি’ রূপ নেয়। ভক্ত যখন সূর্যের ধ্যান করে, তখন সে নিজের আত্মার মধ্যেই সেই সূর্যকে দেখতে পায়। বাহিরের সূর্য আর ভেতরের আত্মা – একই সত্তার দুই রূপ।

তবে বর্তমানে প্রচলিত সৌর উপাসনার পদ্ধতির মধ্যে আছে:
- গায়ত্রী জপ – প্রতিদিন সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় সূর্যকে প্রণাম ও গায়ত্রী মন্ত্র জপ।
- সূর্যনমস্কার – বার বার প্রণাম করে সূর্যের বারোটি নাম (মিত্র, রবি, সূর্য, ভানু, খগ, পূষণ, হিরণ্যগর্ভ, মরীচি, আদিত্য, সাবিত্র, অর্ক, ভাস্কর) উচ্চারণ।
- পঞ্চদেবতার সৌর ধ্যান – সূর্যকে লাল ও সোনালি রঙের, হাতে পদ্ম ও চক্র ধারণকারী, সপ্ত অশ্বের রথে আরোহী রূপে কল্পনা করে ধ্যান।
- ত্রাটক যোগ – উদীয়মান সূর্যের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে একাগ্রতা ও তৃতীয় নয়নের জাগরণ।

যোগশাস্ত্রে সূর্যকে প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। হঠযোগপ্রদীপিকা অনুসারে, পিঙ্গলা নাড়ি সৌরশক্তির বাহক এবং মণিপুর চক্র সূর্যের আবাস। সূর্যনমস্কার ও ত্রাটক ভগবান সূর্যের আধ্যাত্মিক চেতনাকে জাগ্রত করার জন্য বিধৃত। এগুলো সূর্যকে কেবল বাহ্যিক দেবতা না বলে অন্তরের চৈতন্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করে।

৫। বিশ্বসাহিত্যে সূর্যের প্রাসঙ্গিকতা

শুধু ভারতীয় শাস্ত্রই নয়, প্রাচীন পারস্যের জরাথুস্ট্রবাদে সূর্যকে ‘আহুর মাজদা’র জ্যোতির প্রতীক মনে করা হতো। গ্রিক পৌরাণিক কাহিনিতে অ্যাপোলো ছিলেন আলো ও জ্ঞানের দেবতা। প্রাচীন মিসরে সূর্য দেবতা ‘রা’ কে সৃষ্টির মূল কারণ বলে পূজা করা হতো। তবে সনাতন ধর্মের বিশেষত্ব হলো – এখানে সূর্যকে কেবল দেবতা না বলে স্বয়ং ‘তৎ’ বা ‘ব্রহ্ম’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যা তাকে অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে।

বেদ ও উপনিষদের মন্ত্র, পুরাণের বর্ণনা, বা ভগবৎপাদ শঙ্করাচার্যের স্তোত্র এবং সৌর উপাসনা পদ্ধতি – সর্বত্র সূর্যকে পরমব্রহ্মের প্রত্যক্ষ প্রতীক বা বিশ্বাত্মার দৃশ্যমান রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ‘আদিত্য’, ‘সবিতা’, ‘ভর্গ’, ‘আত্মা’ – প্রতিটি নামেই ব্রহ্মের দ্যোতনা বহন করেন। বেদ ও উপনিষদ (শ্রুতি) সর্বোচ্চ, পুরাণ ও ইতিহাস (স্মৃতি) দ্বিতীয় স্তরে, আর পরবর্তী স্তোত্র ও সম্প্রদায় গ্রন্থগুলি তৃতীয় স্তরে। তবু সব মিলিয়ে একটি স্পষ্ট ধারা ফুটে ওঠে – সূর্য নারায়ণ কেবল দেবতারুপী জগতের চক্ষু নন, তিনি সচ্চিদানন্দ পরমব্রহ্মের প্রত্যক্ষ প্রতীক।

ॐ সূর্যদেবায় নমঃ।

সম্পাদনা – শ্রী রবিন দে
(পঞ্চদেবতার ব্রহ্মত্ব সিরিজ চলবে , অনুমতি ব্যতীত অনুলিপি বর্জনীয়)

তথ্যসূত্র ও নির্দেশিত গ্রন্থাবলি

- ঋগ্বেদ ১.১১৫, ১.১৬৪, ৩.৬২, ১০.৯০
- শুক্ল যজুর্বেদ ৩২.১
- ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১.১
- ছান্দোগ্য উপনিষদ ১.৬, ৩.১৯
- তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১০.১
- মৈত্রী উপনিষদ ৬.৩৫
- কঠোপনিষদ ২.২
- সূর্যোপনিষদ (মুক্তিকা তালিকার ৩৯তম – প্রচলিত পাঠ)
- সূর্য পুরাণ (পদ্মপুরাণের সূর্যখণ্ড)
- ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ – সৌর-মাহাত্ম্য প্রসঙ্গ
- স্কন্দপুরাণ (সূর্য খণ্ড)
- কূর্মপুরাণ (পূর্বভাগ)
- শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ
- বিষ্ণু পুরাণ ২.৮ (প্রচলিত বর্ণনা)
- আদিত্য হৃদয়ম্ (বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড)
- ভবিষ্য পুরাণ (ব্রাহ্মপর্ব – সূর্য সহস্রনাম প্রচলিত পাঠ)
- সৌর সম্প্রদায় ও উপাসনা প্রসঙ্গে: সৌর সংহিতা, সূর্যসিদ্ধান্ত (দার্শনিক ভূমিকা)
- আদি শঙ্করাচার্য – সূর্যপঞ্চরত্নম্ ও ব্রহ্মজ্ঞানাবলীমালা
- পাণিনি – অষ্টাধ্যায়ী (৩.১.১৪০ প্রসঙ্গে)
- যাস্ক – নিরুক্ত (১২.২০)
- হঠযোগপ্রদীপিকা (পিঙ্গলা নাড়ি ও মণিপুর চক্র প্রসঙ্গ)

আইন যখন একেকজনের জন্য একেক।
23/05/2026

আইন যখন একেকজনের জন্য একেক।

23/05/2026

হিন্দু শিক্ষকদের মিথ্যা অভিযোগ এনে চাকুরিচ্যুত করার এই মব কালচার শুরু হয়েছিল ইন্টেরিমের সময় থেকে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন বন্ধ ছিলো। কিন্তু গতো দুই সপ্তাহ ধরে আবার শুরু হয়েছে এই সাম্প্রদায়িক আগ্রা-সন।

এবার টার্গেট করা হয়েছে অত্যন্ত সৎ ও সজ্জন মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কণিকা রানী দাসকে। এই মবের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মিথ্যা ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এবং মিথ্যা অনিয়মের অভিযোগ। আসলে হিন্দু শিক্ষকদের সরিয়ে দিতে পারলেই আগামী প্রজন্মকে অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় ডুবিয়ে দেওয়া সহজ হবে।

আপনাদের মতামতও দিন। তবে অশিক্ষি-তরা দূরে থাকবেন।

22/05/2026

হিন্দুধর্মের আলোকে এসব প্রশ্ন বা বক্তব্যের উত্তর দিতে হলে প্রথমেই একটা বিষয় বুঝতে হবে; হিন্দুধর্ম কেবল কিছু আচার নয়; এটি একদিকে যেমন দর্শন, অন্যদিকে তেমন এক পরিপূর্ণ জীবনপদ্ধতি। এখানে ভক্তি, জ্ঞান, কর্ম ও মানবতা সবই ধর্মের অংশ। সেই আলোকেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

১। “আসল ধর্ম হলো মানবতা।”
হিন্দুধর্মও মানবতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ঈশোপনিষদে বলা হয়েছে; "ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ” অর্থাৎ, সমগ্র বিশ্বই ঈশ্বর দ্বারা পরিব্যাপ্ত। তাই সকল প্রাণীর প্রতি দয়া ও সম্মান হিন্দুধর্মের মূল শিক্ষা। আবার ভগবদ্গীতায় (৫।১৮) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন; "জ্ঞানী ব্যক্তি ব্রাহ্মণ, গরু, হাতি, কুকুর কিংবা চণ্ডাল- সবার মধ্যেই একই আত্মাকে দেখেন।"

হিন্দুধর্ম বলে, মানবতা ও ধর্ম একে অপরের বিরোধী নয়।
যদি কেউ সত্যিই ধর্ম পালন করে, তবে তার মধ্যে দয়া, সহমর্মিতা, সত্যবাদিতা ও আত্মসংযম আসবেই যদি তা কেবল নির্দিষ্ট কোন মতবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে সার্বজনীন হয়। তাই শুধুমাত্র “মানবতা” শব্দটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্মকে অস্বীকার করা সনাতন ধর্মে একটি অসম্পূর্ণ ভাবনা। বরং ধর্মই মানবতাকে শক্তিশালী করে।

২। “ধর্ম কি আমাদের ভাত দেয়?”
ভাত দেয় মূলত কর্ম, পরিশ্রম ও সমাজব্যবস্থা। কিন্তু ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা, মানসিক শক্তি, ধৈর্য ও জীবনের উদ্দেশ্য শেখায়। হিন্দুধর্ম কখনো কর্মবিমুখতা শেখায় না। বরং গীতায় (২।৪৭) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, "কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।” অর্থাৎ, মানুষের অধিকার কর্মে, ফলে নয়। ধর্ম মানুষকে অলস না বানিয়ে ন্যায়পথে পরিশ্রম করতে শেখায়।

৩। "মাটির মূর্তির উপাসনা করে কিসের লাভ?”
হিন্দুধর্মে মূর্তি নিজে “ঈশ্বর” নয়; মূর্তি হলো ঈশ্বরকে স্মরণ ও অনুভব করার একটি মাধ্যম। যেমন জাতীয় পতাকা শুধু কাপড় নয়, কিন্তু মানুষ সেটিকে দেশের প্রতীক হিসেবে সম্মান করে। তেমনি মূর্তি ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু। উপনিষদে নিরাকার ব্রহ্মের কথাও আছে, আবার ভক্তিধর্মে সাকার উপাসনাও আছে। কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে নিরাকার তত্ত্ব উপলব্ধি করা সহজ নয়। তাই ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক স্তরভেদে হিন্দুধর্ম উভয় পথকেই গ্রহণ করেছে। ঈশ্বরের উপাসনায় ভক্তের স্বাধীন ভাবনা থাকা উচিত, সেই স্বাধীনতা একমাত্র হিন্দুধর্মেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈশ্বরও সেই স্তরভেদেই নিজেকে প্রকাশিত করেন। বৃহদারণ্যক উপনিষদের একটি (২/৫/১৯) মন্ত্রে বলা হচ্ছে, "ইন্দ্রো মায়াভিঃ পুরুরূপ ঈয়তে" অর্থাৎ (নিরাকার হওয়া সত্ত্বেও) মায়াবশত ইন্দ্র (ব্রহ্ম) বহুরূপ প্রাপ্ত হন। ব্রহ্মসূত্র (৩/২/১৫) এ বলা হয়েছে, "প্রকাশবচ্চাবৈর্য়থ্যাৎ...." শঙ্করভাষ্যানুযায়ী অনুবাদঃ এবং আলোক যেমন নিরাকার হওয়া সত্ত্বেও রূপবিশিষ্ট বস্তুর সান্নিধ্যে এসে আকার ধারণ করে সেরূপ মায়ারূপ উপাধিবিশিষ্ট হয়ে নিরাকার ব্রহ্মও আকার ধারণ করেন কারন শাস্ত্রে ব্রহ্মের সাকার ভাবের উপদেশ নিরর্থক নহে।

৪। “সবার আগে আমরা মানুষ, তারপর ধর্ম।”
হিন্দুধর্ম ত এটাকে অস্বীকার করে না। বরং কেবল হিন্দুধর্মেই এই ভাবটি শক্তিশালী হয়, কারণ আমাদের জন্য সকল মানুষই সমান। তাই আমরা প্রার্থনা করার সময় বলতে পারি; "সর্বেষাম্ মঙ্গলম্ ভূয়াৎ..." অর্থাৎ, সকলের মঙ্গল হোক। মানুষের দেহ পেলেই ত হলো না, অবশ্যই সত্যিকার মানুষ হওয়া জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—“ভালো মানুষ” হওয়ার শিক্ষা কোথা থেকে আসবে? ধর্মই মানুষ হবার সেই নৈতিক ভিত্তি গড়ে দেয়। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ধর্মকে সমাজ ও জীবনের শৃঙ্খলার ভিত্তি বলেছেন। দু'জন নারীর মধ্যে কে বোন হবে আর কে স্ত্রী এবং বোনের সাথে কেমন আচরণ হবে আর স্ত্রীর সাথে কেমন আচরণ তা ত আমাদেরকে ধর্মই শেখায়। তাই মানুষ ও ধর্মকে আলাদা করে দেখার বদলে বলা যায়; ধর্ম মানুষকে উন্নত মানুষ হতে সাহায্য করে।

৫। “মূর্তিকে ভোগ দেওয়ার চেয়ে কোনো গরিবকে খেতে দেওয়া অনেক ভালো।”
হিন্দুধর্মে দানকে অত্যন্ত মহৎ কাজ বলা হয়েছে। ক্ষুধার্তকে অন্নদান ত বড় পুণ্য। উপনিষদে বলা হয়েছে; "অতিথি দেবো ভব....", অর্থাৎ অতিথিকে দেবতার মতো সম্মান করো। আবার গীতায় (৯।২৬) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "পত্রং পুষ্পং ফলং তোयं যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি…" অর্থাৎ ভক্তিভরে অর্পণ করা সামান্য পত্র-পুষ্পও তিনি গ্রহণ করেন। তাই ভোগ দেওয়া ও মানুষকে খাওয়ানো; দুটিই ধর্মের অংশ। মন্দিরের প্রসাদও কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের মাঝেই বিতরণ করা হয়। আসলে ভক্তি ও মানবসেবা দুটোই থাকা উচিত। শুধু আচার, কিন্তু দয়া নেই; তা অসম্পূর্ণ। আবার শুধু সামাজিক কাজ, কিন্তু কোনো আত্মিক চেতনা নেই; সেটাও হিন্দু দর্শনে পূর্ণতা নয়।

৬। “ভগবান বলে কিছু নেই, মানুষ নিজের প্রয়োজনে ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে।”
এটি মূলত নাস্তিক্যবাদী একটি মত। তবে হিন্দুধর্মে এমন প্রশ্ন করার স্বাধীনতাও আছে এবং নাস্তিক্যবাদকে ধ্বংস কর‍তে বলা হয় নি। উপনিষদ, বেদান্ত, যোগ—সবই চেতনা, আত্মা ও সৃষ্টির গভীর অনুসন্ধান করেছে। বহু ঋষি ধ্যান ও সাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরীয় সত্য উপলব্ধির কথা বলেছেন। কেউ বিশ্বাস করবে কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে হিন্দুধর্ম ঈশ্বরে বিশ্বাসকে কেবল অন্ধ ভয় নয়, বরং আত্মজিজ্ঞাসা ও উপলব্ধির পথ হিসেবে দেখে। এমনকি ঈশ্বরকে বাইরে কোথাও নয়, নিজের আত্মার মধ্যেও উপলব্ধি করার কথা বলা হয়েছে। বৃহদারণ্যক উপনিষদে ত বলা হয়েছে; "অহং ব্রহ্মাস্মি” অর্থাৎ আমি ব্রহ্ম।

৭। “ধর্ম হলো মানুষকে ভয় দেখিয়ে ব্যবসা করার একটা ফন্দি মাত্র।”
কিছু মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে নিজ নিজ স্বার্থসিদ্ধি করতে পারে, কিন্তু তাই বলে হিন্দুধর্মের মূল শিক্ষা মিথ্যা হয়ে যায় না। গীতায় (১৮।৬৩) ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে স্পষ্টই বলেছেন; "বিমৃশ্যৈতদশেষেণ যথেচ্ছসি তথা কুরু...." অর্থাৎ, সব বিচার-বিবেচনা করে তারপর নিজের সিদ্ধান্ত নাও। এই শ্লোকে ত স্পষ্ট যে; হিন্দুধর্ম অন্ধ অনুসরণ নয়; জ্ঞান, বিচার ও আত্মউপলব্ধিকে গুরুত্ব দেয়। তাহলে ভয়ের পরাকাষ্ঠায় ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করার সুযোগ ত অন্তত হিন্দুধর্মে নেই। হিন্দুধর্মের মূল শিক্ষা ভয় নয়; বরং আত্মজ্ঞান, কর্মফল, ধর্মাচরণ ও মোক্ষের পথ।

পরিশেষে উপনিষদের একটি সার্বজনীন প্রার্থনা;
"অসতো মা সদ্গময় ।
তমসো মা জ্যোতির্গময় ।
মৃত্যোর্মা অমৃতং গময় ॥”

অর্থাৎ; অসত্য থেকে সত্যের দিকে, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে আমাদের নিয়ে চলো।

এটাই হিন্দুধর্মের মূল চেতনা; জ্ঞান, ভক্তি, কর্ম ও মানবতার সমন্বয়।

© অনিক কুমার সাহা

22/05/2026

SPS এর প্রস্তাবিত দ্বিতীয় গুরুকুল "শ্রীব্যাসদেব গুরুকুল" এর নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিক ধাপে টীন, সিমেন্টের খুঁটি, কাঠ, পালা, গাছের খুড়ি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলোর ইন্সটলেশনও শুরু হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় ধাপে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ফ্যান, লাইট ও বাদবাকি। এই প্রজেক্টে আমরা কোন ক্রাউড ফান্ডিং করতেছি না।

তবে SPS Tripura Welfare Trust এর আওতায় আমরা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ত্রিপুরা পাড়ায় মন্দির, গুরুকুল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য সোলার ও দুর্গম পাহাড়ে বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্থা করবো। তাই SPS এর জনমুখী মহান উদ্যোগে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন অংশীদার হতে চাইলে SPS এর অফিশিয়াল বিকাশ/নগদে ১০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ৫০০০ টাকা বা ১০০০০ টাকা যেকোনো পরিমাণ সহায়তা পাঠাতে পারেন। কেউ যদি নিজের মা-বাবার নামেও পাঠাতে চান তবে সেটাও আমরা যেকোনো প্রজেক্টে নামফলকে যুক্ত করে দিবো।

বিকাশ/নগদ: 01736360041

ধন্যবাদান্তে,
SPS Tripura Welfare Trust
SPS কল্যাণ ট্রাস্ট
Sanatan Philosophy and Scripture (SPS)
সনাতনী ১০ টাকার প্রজেক্ট

22/05/2026

গুরুকুল নির্মাণে বদ্ধপরিকর রথিচন্দ্র কারবারি পাড়ার বাসিন্দারা। পাশে আছে SPS পরিবার। বাস্তবায়নে: SPS Tripura Welfare Trust.

SPS Tripura Welfare Trust এর আওতায় আমরা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ত্রিপুরা পাড়ায় মন্দির, গুরুকুল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য সোলার ও দুর্গম পাহাড়ে বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্থা করবো। তাই SPS এর জনমুখী মহান উদ্যোগে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন অংশীদার হতে চাইলে SPS এর অফিশিয়াল বিকাশ/নগদে ১০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ৫০০০ টাকা বা ১০০০০ টাকা যেকোনো পরিমাণ সহায়তা পাঠাতে পারেন। কেউ যদি নিজের মা-বাবার নামেও পাঠাতে চান তবে সেটাও আমরা যেকোনো প্রজেক্টে নামফলকে যুক্ত করে দিবো।

বিকাশ/নগদ: 01736360041

ধন্যবাদান্তে,
SPS Tripura Welfare Trust
SPS কল্যাণ ট্রাস্ট
Sanatan Philosophy and Scripture (SPS)
সনাতনী ১০ টাকার প্রজেক্ট

22/05/2026

একে একে পরিকল্পিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দেশের হিন্দু শিক্ষকদের ফাঁসানো চলছে। পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মিঠু মন্ডলের জোরপূর্বক জবানবন্দী নেওয়ার চেষ্টা করছে উ-গ্রবাদীরা। এরপর টার্গেট কে? বিদ্যালয়গুলো থেকে বিজ্ঞানশিক্ষা তুলে দেওয়া হোক। ওখানেই ত সমস্যা তাই না?

21/05/2026

রামিসার পর এবার চট্টগ্রামের ফারিয়া। চট্টগ্রামের ৪ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষ-ণের পর গলাকে-টে হ-ত্যাচেষ্টা! একদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে অর্ধ সহস্রাধিক শিশুর অকালমৃত্যু, অন্যদিকে ট্রেন্ড করে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের ধর্ষ-ণের পর হ-ত্যা!

এতো এতো নিষ্পাপ শিশুর অভিশাপ সইবে কিভাবে এই মাটি!

ছবিটি ডাকরা কালী মন্দিরের। মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে যেখানে শত শত মানুষকে জ*/বাই করে হ*/ত্যা করেছিলো রজ্জব আলী ফকিরের নেত...
21/05/2026

ছবিটি ডাকরা কালী মন্দিরের। মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে যেখানে শত শত মানুষকে জ*/বাই করে হ*/ত্যা করেছিলো রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে রা/জা/কা/রেরা।
যে ভ/য়াবহ ও পৈ/শাচিকতার গণহ//ত্যা ভুলে গেছে সবাই। প্রজন্মের জানা নেই আজ। রা/জা/কার দ্বারা সংগঠিত দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ গ/ণহ/ত্যা ছিলো ডাকরা গণহ//ত্যা।
ডাকরা মূলত বাগেরহাটের রামপালের পেড়িখালি ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
মে মাসের ১১ তারিখ থেকে ডাকরা ও পেড়িখালি ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেশত্যা/গ করতে শুরু করলে ডাকরা গ্রামের কালীবাড়ির প্রধান সেবায়েত বাদলচন্দ্র চক্রবর্তী ভক্তদের এখনই যেতে নিষেধ করেন। এরপর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন ২২ মে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ভারতে যাওয়ার। ডাকরা গ্রামের কালীবাড়ি ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম পূজনীয় স্থান এবং সেবায়েত বাদলচন্দ্র চক্রবর্তীকে সবাই ভীষণ শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ মের কয়েক দিন আগ থেকে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর অসংখ্য হিন্দু পরিবার ডাকরা কালীবাড়ির আশেপাশে মংলা নদী, মাদারতলা নদী ও কুমারখালী খালের তীরে শতাধিক নৌকায় অবস্থান নেয়। ২১ তারিখের মধ্যে ডাকরা কালীবাড়ি ও চারপাশে জায়গা হয়ে উঠে অনেকটা ছোট শরণার্/থী শি/বিরের মতো। ডাকরা গ্রামের ইনাম আলী শেখ, জোনাব আলী শেখ ও দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। বাঁশতলী গ্রামের শান্তি কমিটির সদস্য আফসার উদ্দিনও এ সময়ে পাকিস্তানি বা/হি/নী কোনো সমস্যা করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলো।
এ দিকে তারাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মানুষদের হ/*ত্যার জন্য মেডিকেল ছাত্র লিয়াকত আলী গজনবীর মাধ্যমে বাগেরহাটের রা/জ/াকার কমান্ডার রজ্জব আলী ফকিরের কাছে একটি চিঠি পাঠায়।
২১ মে দুপুর ১টার দিকে রা/জা/কার রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে একেএম ইউসুফ, সিরাজ মাস্টার, আকিজ উদ্দিন, ইসহাকসহ রা/জা/কারের একটি দল বড় দুটি ছিপওয়ালা নৌকায় ডাকরায় পৌঁছে। প্রতিটি নৌকায় ছিল ১৫ থেকে ২০ জন রা/জা/কার। রা/জা/কারদের প্রথম নৌকাটি কালীগঞ্জ বাজার অতিক্রম করে মাদারতলী খালের দিকে অগ্রসর হয়। দ্বিতীয় নৌকা কুমারখালী খাল বরাবর অগ্রসর হয় এবং তারপর মাদারতলী বরাবর চলে আসে।
দ্বিতীয় নৌকা থেকে রা*/জাকাররা নেমেই ভিড়ের মধ্যে নির্বিচারে গু*/লি চালাতে শুরু করে। ইতোমধ্যে প্রথম নৌকা থেকেও রা*জা/কাররা নিচে নেমে কালী মন্দিরের দিকে এগিয়ে ভিড়ের মধ্যে নির্বিচারে গু*/লি চালায়। এ সময় বৃষ্টির মতো দুদিক থেকে গু//লির শব্দ শুনে নৌকা ও তীরে অবস্থানরত নিরীহ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে থাকেন। দুদিক থেকে গু*/লিবিদ্ধ হয়ে বহু মানুষ মারা যান। যারা গু*/লিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে ছিলেন, তাদেরকে জ*/বা/ই করে হ*/ত্যা করে রা*জা/কারেরা।
অনেকে কালীবাড়িতে তাদের গুরুর কাছে হাজির হন। এ সময়ে রা*/জা/কারেরাও দুদিক থেকে গু*/লি চালাতে চালতে কালীবাড়িতে এসে হাজির হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত নারী ও পুরুষদের আলাদা করা হয়। এরপর আরও পুরুষ আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য কয়েকজন রা*জা/কার ঘরের ভেতরে ঢুকে শাড়ি পরা অবস্থায় কয়েকজন পুরুষকে খুঁজে পায়। তাদের টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে মন্দির চত্বরে লাইন ধরে ব্রা/শ/ফা/য়ার ও জ*/বাই করে হ*/ত্যা করে।
মাত্র দুই ঘন্টায় সংগঠিত এই গণহ*/ত্যায় শহীদ হয়েছিলেন প্রায় ৯০০ মানুষ। যদিও শহীদদের তালিকায় পাওয়া যায় ৬৪৬ জন নিরীহ ভক্ত ও গ্রামবাসীর নাম।
গণহ//ত্যা শেষে কয়েকজন তরুণীকে অ*/পহরণ করে রা*জা/কার কমান্ডার রজ্জব আলীর নৌকায় তুলে নেয় রা*/জাকারেরা। স্থানীয় রা*জা/কারদের সঙ্গে নিয়ে রজ্জব আলী ফকির বাগেরহাটে ফিরে যায়।
ছবিটি ডাকরা কালী মন্দিরের‌। এই মন্দির চত্বরেই শত শত নিরীহ ভক্ত ও গ্রামবাসীকে জ*/বাই করেছিলো রজ্জব আলী ফকির ও রা*/জাক/রেরা।
আজ ২১ মে, ডাকরা গণহ*/ত্যা দিবস। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই শহীদদের প্রতি। 🙏

সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র/ ইশতিয়াক

গত ন'দিনে চার জন শিশু একই ভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যদিকে হামে অর্ধ-সহস্রের উপর শিশু মারা গেছে। শিশুদের উপর এই নির্মমতার ...
21/05/2026

গত ন'দিনে চার জন শিশু একই ভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যদিকে হামে অর্ধ-সহস্রের উপর শিশু মারা গেছে। শিশুদের উপর এই নির্মমতার শেষ কোথায়! শিশুদেরই কেন টার্গেট করা হচ্ছে?

রামিসার বাবা ঠিকই বলেছেন যে আপনারা কিছু করতে পারবেন না, আপনাদের রেকর্ড নেই। কিছুদিন আমার মেয়ের ছবি নিয়ে আপনার পোস্ট করবেন কথা বলবেন, কিন্তু ১৫/২০ দিন পরে যখন আমার মেয়ের থেকে আরো বড় কোনো ঘটনা ঘটবে তখন আপনারা আমার মেয়ের কথা ভুলে যাবেন।

কথাটা একদমই সত্যি; একের পর এক ঘটনা ঘটছে আমরা কি আসলে কিছু করতে পারছি? কেন পারছি না? বাঁধাটা কোথায়? কোন পথে হাঁটছি আমরা?

চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করছে;
রামিসা! রামিসা! রামিসা!

"এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়"; বানীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন বিপ্লবী শিক্ষক।
21/05/2026

"এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়"; বানীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন বিপ্লবী শিক্ষক।

Address

27 Ramakrishna Mission Road,
Dhaka
1203

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sanatan Philosophy and Scripture - SPS posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share