prosanto khotrio

prosanto khotrio I want to inform everyone about their true identity through this page

09/05/2023

জানিনা কালো কেন এত প্রিয়

09/05/2023

কৃষ্ণ হচ্ছে নেলেওয়ালা ভগবান , অন্যরা দেনেওয়ালা ভগবান।

সকল প্রশ্নের উত্তর এই  এক পোস্টেই রয়েছে | কৃপা পূর্বক মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার ও শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছ...
19/12/2022

সকল প্রশ্নের উত্তর এই এক পোস্টেই রয়েছে | কৃপা পূর্বক মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার ও শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি ।🙏

▪️একাদশী কী❓
▪️ বছরে কয়টি একাদশী আসে ❓
▪️একাদশীর আবির্ভাব কিভাবে হলো❓
▪️একাদশী ব্রত পালনের মাহাত্ম্য কি ❓
▪️ একাদশী কিভাবে পালন করবেন ❓
▪️কি কি খাওয়া যাবে, কি কি খাওয়া যাবে না ❓
▪️কিভাবে একাদশী করলে বেশি ফল হবে❓
▪️ একাদশীর #শাস্ত্রীয় প্রমাণ কি❓
▪️আগেরদিন পরেরদিন থাকা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন।
▪️ বিদ্ধা একাদশী কি❓
▪️মহাদ্বাদশী কি ❓
▪️কি কি নিষেধ বা করা যাবে না ❓
▪️পারন মন্ত্র কি❓
▪️ সংকল্প মন্ত্র কি❓
▪️ মায়েদের মাসিক চলাকালীন কি তারা একাদশীর উপোস রাখতে পারে❓
▪️ একাদশী দিনে শ্রাদ্ধ করা যায় কি❓করলে কি অপরাধ হয়❓
▪️একাদশীতে ঔষধ খাওয়া যায় কি না❓

🌿একাদশী কী❓

একাদশী তিথিটি হচ্ছে অত্যাধিক বোনাসের দিন। অত্যাধিক পূণ্য অর্জনের দিন।ভগবান বদ্ধ জীবের প্রতি অত্যন্ত কৃপা পরবশ হয়েই এই তিথিটিকে উদযাপন বিধেয় করে মুক্তিলাভের পথ দেখিয়েছেন।এই দিন আহারে(পঞ্চশষ্যে) পাপপুরুষ অবস্থান করেন। তাই একাদশী তিথিতে উপবাস বিধেয়। উপবাস শব্দে উপ অর্থে নিকটে বাস অর্থে অবস্থান।অর্থাৎ ভগবানের নিকটে অবস্থান করার নাম একাদশী উপবাস। তাই একাদশী উপবাসকে বলা হয় হরিবাসর তিথি। একাদশী মানে শুধুকেবল না খেয়ে থাকা নয়,একাদশ ইন্দ্রিয়(৫ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও ৫ কর্মেন্দ্রিয় এবং মন) দিয়ে ভগবানের সেবা করার নামই হরিবাসর তিথি পালন।

কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ।

অতএব মায়া তারে দেয় সংসারদুঃখ।।

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই মায়া তাকে এ জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণ আদি শাস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন। ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ও ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়। শাস্ত্রে যে চৌষট্রি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বোত্তম।

শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগীতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য ও শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যেকোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচে কখনও একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা। দুর্লভ মানবজীবন লাভ করেও এই ব্রত অনুষ্ঠান না করলে বহু দুঃখে-কষ্টে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হয়

👉আরও পড়ুনঃ সকল একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য

অহংকারবশত একাদশী ব্রত ত্যাগ করলে যমযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যে ব্যাক্তি এই ব্রতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, জীবিত হয়েও সে মৃতের সমান। কেউ যদি বলে “একাদশী পালনের দরকারটা কি?” সে নিশ্চয় কুন্তিপাক নরকের যাত্রী। যারা একাদশী পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনির কোপে তারা বিনষ্ট হয়। একাদশীকে উপেক্ষা করে তীর্থ স্থান আদি অন্য ব্রত পালনকারীর অবস্থা গাছের গোড়া কেটে পাতায় জল দানের মতোই।

একাদশী বাদ দিয়ে যারা দেহধর্মে অধিক আগ্রহ দেখায়, ধর্মের নামে পাপরাশিতে তাদের উদর পূর্ণ হয়। কলহ-বিবাদের কারণেও একাদশী দিনে উপবাস করলে অজ্ঞাত সুকৃতি সঞ্চিত হয়। পুণ্যপ্রদায়িনী সর্বশ্রেষ্ঠ এই ব্রত শ্রীহরির অতি প্রিয়। একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, অশ্বমেধ, রাজসূয় ও বাজপেয় যজ্ঞদ্বারাও তা হয় না। দেবরাজ ইন্দ্রও যথাবিধি একাদশী পালনকারীকে সম্মান করেন। একাদশী ব্রতে ভাগবত শ্রবণে পৃথিবী দানের ফল লাভ হয়। অনাহার থেকে হরিনাম, হরিকথা, রাত্রিজাগরণে একাদশী পালন করা কর্তব্য।

👉বছরে কয়টি একাদশী আসে ❓

বছরে ছাব্বিশটি একাদশী আসে। সাধারণত বার মাসে চব্বিশটি একাদশী। এইগুলি হচ্ছে-

১. উৎপন্না একাদশী - ২. মোক্ষদা একাদশী

৩. সফলা একাদশী , - ৪. পুত্রদা একাদশী

৫. ষটতিলা একাদশী - ৬. জয় একাদশী

৭. বিজয়া একাদশী - ৮. আমলকী একাদশী

৯. পাপমোচনী একাদশী - ১০. কামদা একাদশী

১১. বরুথিনী একাদশী - ১২. মোহিনী একাদশী

১৩. অপরা একাদশী - ১৪. নির্জলা একাদশী

১৫. যোগিনী একাদশী - ১৬. শয়ন একাদশী

১৭. কামিকা একাদশী - ১৮. পবিত্রা একাদশী

১৯. অন্নদা একাদশী - ২০. পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব একাদশী

২১. ইন্দিরা একাদশী - ২২. পাশাঙ্কুশা একাদশী

২৩. রমা একাদশী - ২৪. উত্থান একাদশী

কিন্তু যে বৎসর পুরুষোত্তমাস, অধিমাস বা মলমাস থাকে, সেই বৎসর পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভাব হয়। যারা যথাবিধি একাদশী উপবাসে অসমর্থ অথবা ব্রতদিনে সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে অসমর্থ, তারা এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণ করলে অসীম সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।

👉একাদশীর আবির্ভাব কিভাবে হলো❓

পদ্মপুরাণে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! একাদশী কি? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়? একাদশী ব্রত করলে কি লাভ? একাদশী ব্রত না করলে কি ক্ষতি? এ সব বিষয়ে আপনি দয়া করে বলুন।

মহর্ষি ব্যাসদেব তখন বলতে লাগলেন-সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান এই জড় সংসারে স্থাবর জঙ্গম সৃষ্টি করলেন। মর্ত্যলোকবাসী মানুষদের শাসনের জন্য একটি পাপপুরুষ নির্মাণ করলেন। সেই পাপপুরুষের অঙ্গগুলি বিভিন্ন পাপ দিয়েই নির্মিত হল। পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ্যপান, মুখ স্বর্ণ অপহরণ, দুই কর্ণ-গুরুপত্নী গমন, দুই নাসিকা-স্ত্রীহত্যা, দুই বাহু-গোহত্যা পাপ, গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা, বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন,উদর-আত্মীয়স্বজন বধ, নাভি-শরণাগত বধ, কোমর-আত্মশ্লাঘা, দুই উরু-গুরুনিন্দা, শিশ্ন-কন্যা বিক্রি, মলদ্বার-গুপ্তকথা প্রকাশ পাপ, দুই পা-পিতৃহত্যা, শরীরের রোম-সমস্ত উপপাতক।

এভাবে বিভিন্ন সমস্ত পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল। পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ভগবান শ্রীবিষ্ণু মর্ত্যের মানব জাতির দুঃখমোচন করবার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। একদিন গরুড়ের পিঠে চড়ে ভগবান চললেন যমরাজের মন্দিরে। ভগবানকে যমরাজ উপযুক্ত স্বর্ণ সিংহাসনে বসিয়ে পাদ্য অর্ঘ্য দিয়ে যথাবিধি তাঁর পূজা করলেন। যমরাজের সঙ্গে কথোপকথনকালে ভগবান শুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্য জিবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন?

যমরাজ বললেন, হে প্রভু, মর্ত্যের পাপী মানুষেরা নিজ কর্মদোষে নরকযাতনা ভোগ করছে। সেই যাতনার আর্ত চীৎকার শোনা যাচ্ছে। যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শন করে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন-আমিই সমস্ত প্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেই ওরা কর্মদোষে দুষ্ট হয়ে নরক যাতনা ভোগ করছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যবস্থা করব। ভগবান শ্রীহরি সেই পাপাচারীদের সামনে একাদশী তিথি রূপে এক দেবীমুর্তিতে প্রকাশিত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশী ব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতের ফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ বৈকুন্ঠ ধামে গমন করল।

শ্রীব্যাসদেব বললেন, হে জৈমিনি! শ্রীহরির প্রকাশ এই একাদশী সমস্ত সুকর্মের মধ্যে শ্রেষ্ট এবং সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত। কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপপুরুষ এসে শ্রীহরির কাছে করজোড়ে কাতর প্রার্থনা জানাতে লাগল-হে ভগবান! আমি আপনার প্রজা! আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে, তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের দুঃখ দান করাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাদশীর প্রভাবে আমি কিছুই করতে পারছি না, বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি। কেননা একাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরা বৈকুন্ঠের বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে।

হে ভগবান, এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয় করে থাকব? সবাই যদি বৈকুন্ঠে চলে যায়, তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনি বা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন? পাপপুরুষ প্রার্থনা করতে লাগল- হে ভগবান, যদি আপনার এই সৃষ্ট বিশ্বে ক্রীড়া করবার ইচ্ছা থাকে তবে, আমার দুঃখ দুর করুন। একাদশী তিথির ভয় থেকে আমাকে রক্ষা করুন। হে কৈটভনাশন, আমি একমাত্র একাদশীর ভয়ে ভীত হয়ে পলায়ন করছি। মানুষ, পশুপাখী, কীট-পতঙ্গ, জল-স্থল, বন-প্রান্তর, পর্বত-সমুদ্র, বৃক্ষ, নদী, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সর্বত্রই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু একাদশীর প্রভাবে কোথাও নির্ভয় স্থান পাচ্ছি না দেখে আজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একাদশীই প্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমি কোথাও আশ্রয় পেতে পারছি না। আপনি কৃপা করে আমাকে একটি নির্ভয় স্থান প্রদান করুন। পাপপুরুষের প্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীহরি বলতে লাগলেন- হে পাপপুরুষ! তুমি দুঃখ করো না। যখন একাদশী তিথি এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করতে আবির্ভুত হবে, তখন তুমি অন্ন ও রবিশস্য মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তা হলে আমার মূর্তি একাদশী তোমাকে বধ করতে পারবে না।

👉একাদশী ব্রত পালনের মাহাত্ম্য কি ❓

ভদ্রশীলের কাহিনীঃ পুরাকালে গালব নামে এক মহান মুনি নর্মদা নদীর তীরে বাস করতেন। তাঁর ভদ্রশীল নামে এক বিষ্ণুভক্ত পুত্র ছিল। সে ছোটবেলা থেকে বিষ্ণুমূর্তি বানিয়ে পূজা করত। বালক হয়েও লোককে বিষ্ণুপূজার উপদেশ ও একাদশী পালন করতে নির্দেশ দিত, নিজেও পালন করত। পিতা একাদিন জিজ্ঞাসা করেন। আচ্ছা ভদ্রশীল! তুমি অতি ভাগ্যবান। তুমি বলো তো, রোজ শ্রীহরির পূজা করা, একাদশ তিথি পালন করা- এরূপ ভক্তি কিভাবে তোমার উদয় হল?”

উত্তরে ভদ্রশীল বলতে লাগল- বাবা! আমি পূর্বজন্মের কথা ভুলিনি। আগের জন্মে যমপুরীতে গিয়েছিলাম। সেখানে যমরাজ আমাকে এ বিষয়ে উপদেশ করেছিলেন। পিতা অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে বললেন- ভদ্রশীল, তুমি পূর্বে কে ছিলে? যমরাজ তোমাকে কি বলেছিল, সব কিছুই আমাকে বলো। ভদ্রশীল বলল- বাবা! আমি পূর্বে চন্দ্রবংশের একা রাজা ছিলাম। তখন আমার নাম ছিল ধর্মকীর্তি।

ভগবান দত্তাত্রেয় আমার গুরু ছিলেন। নয় হাজার বছর আমি পৃথিবী শাসন করেছিলাম। বহু ধর্ম-কর্ম করেছিলাম। পরে যখন আমার অনেক ধনসম্পদ হল তখন আমি পাগলের মতো অধর্ম করতে লাগলাম। কতগুলি পাষন্ড ব্যক্তির সেঙ্গ আলাপ করতাম। আর কেবল কথা আলাপের ফলেই আমার বহু দিনের অর্জিত পুণ্য নষ্ট হয়ে গেল। আমিও পাষন্ডী হলে গেলাম। সব প্রজারাও অধর্ম করতে লাগল। প্রজাদের প্রত্যেকের অধর্মের ছয় ভাগের এক ভাগ রাজাকেই গ্রহণ করতে হয়। তারপর একদিন আমি সৈন্যদের সঙ্গে বনে মৃগয়া করতে গেলাম।

বহু পশু বধ করলাম। তারপর আমি ক্ষুধঅ তৃষ্ণায় কাতর ও ক্লান্ত হয়ে রেবা নদীর তীরে গেলাম। প্রখর রোদে তপ্ত হয়ে নদীতে স্নান করলাম। কিন্তু তারপর আমার কোন সেনাকে দেখতে না পেয়ে চিন্তিত ও অতিশয় ক্ষুধার্ত হলাম। অন্ধকার হয়ে এল। আমি পথ ঠিক করতে পারলাম না। তারপর এক জায়গায় গিয়ে কয়েকজন তীর্থবাসীকে দেখলাম। জানলাম তারা একাদশী ব্রত করেছে। তারা সারাদিন কিছু খায়নি, জলপান পর্যন্তও করেনি। আমি তাদের সঙ্গে পড়ে রাত্রি জাগরণ করলাম। কিন্তু ক্লান্তি ক্ষুধা পিপাসায় কাতর হয়ে রাত্রি জাগরণের পর আমার মৃত্যু হল।

তখন দেখলাম বড় বড় দাঁত বিশিষ্ট দুজন ভয়ংকর যমদুত এসে আমাকে দড়ি দিয়ে বাঁধল। আর ক্লেশময় পথ দিয়ে আমাকে টেনে নিয়ে চলল। তারপর যমপুরীতে পৌছালাম। যমরাজও দেখতে তখন ভয়ংকর। যমরাজ চিত্রগুপ্তকে ডেকে আমাকে দেখিয়ে বললেন-পন্ডিত! এই ব্যক্তির যেরূপ শিক্ষাবিধান তুমি তা বলো। চিত্রগুপ্ত কিছুক্ষণ বিচার করে ধর্মরাজ যমকে বললেন-হে ধর্মপাল! এই ব্যক্তি পাপকর্মেই রত ছিল সত্য, কিন্তু তবুও একাদশীর উপবাসের জন্য সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে।

তীর্থবাস ও রাত্রি-জাগরণও করেছে। তাই ওর সব পাপ নষ্ট হয়েছে। চিত্রগুপ্ত এই কথা বললে যমরাজ খুব চমকে উঠলেন, তিনি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভুমিতে দন্ডবৎ প্রণাম জানিয়ে আমাকে পূজা করতে লাগলেন। তারপর তাঁর দূতদের আহ্বান করে বলতে লাগলেন- হে দূতগণ! তোমরা ভাল করে আমার কথা শোনো। তোমাদের মঙ্গলজনক কথা আমি বলছি। যে সব মানুষ মর্ধরত, তোমরা তাদেরকে এখানে আনবে না। যাঁরা শ্রীহরির ভক্ত, পবিত্র, একাদশীব্রত পরায়ণ, জিতেন্দ্রিয় এবং যাঁদের মুখে সর্বদা ‘হে নারায়ণ, হে গোবিন্দ, হে কৃষ্ণ, হে হরি, উচ্চারিত হয়, যাঁরা সকল লোকের হিতকারী ও শান্তিপ্রিয়, তাদেরকে তোমরা দূর থেকেই পরিত্যাগ করবে।

কারণ, সেই সব ব্যক্তিকে আমার শিক্ষা দেবার অধিকার নেই। যাঁরা সর্বদা হরিনামে আক্ত, সর্বদা হরিকথা শ্রবণে আগ্রহী, যাঁরা পাষন্ডগণের সঙ্গ করে না, ভক্তদের শ্রদ্ধা করে, সাধুসেবা অতিথিসেবা পরায়ণ, তাঁদেরকে পরিত্যাগ করবে। হে দূতগণ! তোমরা শুধু তাদেরকেই আমার কাছে ধরে আনবে যারা উগ্রস্বভাব, ভক্তদের অনিষ্ট করে, লোকদের সঙ্গে কলহ বাধায়, একাদশী ব্রত পালনে একান্ত পরাঙ্মুখ, পরনিন্দুক, ব্রাহ্মণের ধনে লোভ, পরতন্ত্র, হরিভক্তি বিমূখ, যারা ভগবদ্ বিগ্রহ দেখে শ্রদ্ধাবত হয় না, মন্দির দর্শনে যাদের আগ্রহ নেই, অন্যের অপবাদ করে বেড়ায়, তাদের সবাইকে বেঁধে এখানে নিয়ে আসবে।’

যমরাজের মুখে এসব কথা শুনে আমি পাপকর্মের জন্য অত্যন্ত অনুশোচনা করতে থাকি। তারপর আমি সূর্যের মতো উজ্জ্বল দেহ লাভ করলাম। একটি দিব্য বিমানে চড়িয়ে আমাকে যমরাজ দিব্যলোকে পাঠিয়ে দিলেন। কোটি কল্প সেখানে অবস্থান করার পর এই পৃথিবীতে এসে সদাচারী মহান ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার জাতিস্মরতা হেতু এসব ঘটনা আমার হৃদয়ে জাগ্রত আছে।

আমি পূর্বে একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য জানতাম না। অনিচ্ছাকৃতভাবে যখন একাদশী পালনে এত ফল লাভ করেছি। তাহলে ভক্তি সহকারে একাদশী ব্রত উপবাস করলে কি প্রকার ফল লাভ হয় তা জানি না। তাই বৈকুন্ঠধামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছায় আমি পবিত্র একাদশীব্রত ও প্রতিদিন বিষ্ণুপূজা করব এবং অন্যদেরও এসব পালন করতে উৎসাহী করব। পুত্রের কথা শুনে গালব মুন অতি সন্তুষ্ট হয়ে ভাবলেন, আমার বংশে এই পরম বিষ্ণুভক্তের জন্ম হয়েছে, তাই আমার জন্ম সফল, আমার বংশও পবিত্র।

🌿 একাদশী কিভাবে পালন করবেন❓

▪️১। সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, ও দ্বাদশীতে একাহার করিবেন ।
▪️২। তা হতে অসমর্থ পক্ষে শুধুমাত্র একাদশীতে অনাহার।
▪️৩। যদি উহাতেও অসমর্থ হন, একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বর্জন করোন ফল মূলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রহিয়াছে ।
▪️সমর্থ পক্ষে রাত জাগরণের বিধি আছে ,গোড়ীয় ধারায় বা মহান আচার্য্যবৃন্দের অনুমোদিত পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা ( জল ব্যতীত ) পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। সেগুলি সেমতে করলে সর্বোওম হয়। নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে নিরাহার থাকতে অপারগ হলে নির্জলাসহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু — সবজি , ফলমূলাদি গ্রহণ করতে পারেন ।

👉 যেমন — গোল আলু , মিষ্টি আলু , চাল কুমড়ো , পেঁপে , ফুলকপি, কাঁচা কলা ইত্যাদি সবজি ঘি অথবা বাদাম তৈল দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার করতে পারেন, লবণ(সন্ধুক), গোলমরিচ, গোটা জিরা, আদা, নারিকেল ব্যবহার্য কিন্তু অন্য কোন রকম ফোরন বা মসলা ব্যবহার করা যাবে না।

👉আবার অন্যান্য আহায্য যেমন — দুধ ,কলা , আপেল , আঙ্গুর, আনারস, আখঁ,আমড়া, তরমুজ, বেল, মিষ্টি আলু , বাদাম ও লেবুর শরবত ইত্যাদি ফলমূলাদি খেতে পারেন ।

👉 বাহিরের মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য খাওয়া যাবে না তবে নিজের হাতে লেবু দিয়ে ছানা তৈরি করে যদি মিষ্টি তৈরি করা হয় তাহলে গ্রহণ করা যাবে।

👉শ্যামা চাওল খাওয়া যাবে না। বড় মোটা দানার সাবু খাওয়া যাবে যেটা মন্দিরে পাওয়া যায়।

👉 অবশ্যই সন্ধুক লবণ ব্যবহার করতে হবে, এটা সব উপবাসের জন্য প্রযোজ্য।

🌿 একাদশীতে পাচঁ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছেঃ—-

👉১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন –
চাউল,মুড়ি, চিড়া,সুজি, পায়েশ, খিচুড়ি, চাউলের পিঠা, খৈ ইত্যাদি।

👉২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন –আটা,ময়দা, সুজি ,বেকারীর রূটি , বা সকল প্রকার বিস্কুট ,হরলিকস্ জাতীয় ইত্যাদি ।

👉৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন ;-ছাতু ,খই , রূটি ইত্যাদি।

👉৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — মুগ মাসকলাই , খেসারী , মসুরী, ছোলা অড়রহ , ফেলন, মটরশুটি, বরবঢী ও সিম ইত্যাদি ।

👉৫। সরিষার তৈল , সয়াবিন তৈল, তিল তৈল ইত্যাদি । উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যেকোন একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয় ।।

👉উল্লেখ্য যারা সাত্ত্বিক আহারী নন এবং চা , বিড়ি / সিগারেট পান কফি ইত্যাদি নেশা জাতীয় গ্রহণ করেন, একাদশী ব্রত পালনের সময়কাল পর্যন্ত এগুলি গ্রহণ না করবেন না ।

🌿একাদশী করলে যে কেবলমাত্র নিজের জীবনের সদ্গতি হবে তা নয় । একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা / মাতা নিজ কর্ম দোষে নরকবাসী হন , তবে সেই পুত্র ই (একাদশী ব্রত ) পিতা – মাতাকে নরক থেকে উদ্ধার করতে পারে । একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন নরকবাসী হবে , অন্যকে ভোজন করালেও নরকবাসী হবে। কাজেই একাদশী পালন করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য ।।

🔘একাদশী পারণঃ (একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙ্গার পর নিয়ম )পঞ্জিকাতে একাদশী পারণের ( উপবাসের পরদিন সকালে ) যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে , সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে, প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত দরকার । নতুবা একাদশীর কোন ফল লাভ হবে না ।

▪️একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস করা নয় , নিরন্তর শ্রীভগবানের নাম স্মরণ , মনন ও শ্রবণ কীর্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয় । এদিন যতটুকু সম্ভব উচিত । একাদশী পালনের পরনিন্দা , পরিচর্চা, মিথ্যা ভাষণ, ক্রোধ দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ ।।

🌿বিঃ দ্রঃ:- নিমোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়ঃ —

👉একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২ টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোওম। ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাঁশ করে দাঁত ও মুখ গহব্বরে লেগে থাকা সব অন্ন পরিষ্কার করে নেওয়া সর্বোওম । সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি ও স্নান করতে হয় ।।

👉একাদশীতে সবজি কাটার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোথাও কেটে না যায় । একাদশীতে রক্তক্ষরণ বর্জনীয়। দাঁত ব্রাশঁ করার সময় অনেকের রক্ত ক্ষরণ হয়ে থাকে। তাই একাদশীর আগের দিন রাতেই দাঁত ভালো ভাবে ব্রাশঁ করে নেওয়াই সর্বোওম ।

👉একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ন্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তি সহকারে পাঠ করতে হয় ।

👉যারা একাদশীতে একাদশীর প্রসাদ রান্না করেন , তাদের পাচঁ ফোড়ঁন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিৎ ।কারণ পাঁচ ফোড়ঁনে সরিষার তৈল ও তিল থাকতে পারে যা বর্জনীয় ।

👉একাদশীতে শরীরে প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ । তৈল( শরীরে ও মাথায় ) সুগন্ধি সাবান শেম্পু ইত্যাদি বর্জনীয় ।

👉সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম — শেভ করা এবং চুল ও নখ কাটা নিষিদ্ধ ।।

🌿 একাদশীর সমস্ত শাস্ত্রীয় প্রমাণ✅

বৈদিক শাস্ত্রে কোথায় একাদশী ব্রত থাকার নির্দেশ আছে?🙏

🙏বর্তমানে কিছু কৌশলী ব্যক্তি মহান একাদশী ব্রত নিয়ে সাধারণ লোক মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এই বলে যে - বৈদিক শাস্ত্রে কোথাও একাদশী ব্রত থাকার উল্লেখ নেই! এই সব ব্যক্তিদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আজ বৈদিক স্মৃতি শাস্ত্র হতে প্রমান দেওয়া হলো-

▪️একাদশী ব্রত আদিকাল হতে সনাতনী ভক্তদের জন্য অবশ্য বিধেয় এক ব্রত আচরণ।🙏

▪️ #বিষ্ণুস্মৃতির ৪৯ অধ্যায়ের ১-৪ নং শ্লোকে একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য অতি সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে-

অগ্রহায়ণমাসের শুক্লপক্ষীয় একাদশী তিথিতে উপবাসী থাকিয়া দ্বাদশীদিনে গন্ধ,পুষ্প,ধূপ,দীপ নৈবেদ্য ও ব্রাহ্মণ ভোজন দ্বারা ভগবান বাসুদেবের অর্চনা করিবে। এই ব্রত করিলে অর্থাৎ অগ্রহায়ণমাসের শুক্লাদ্বাদশীতে আরম্ভ করিয়া কার্ত্তিক শুক্লাদ্বাদশী পর্য্যন্ত,এ নিয়মে #একাদশী_ব্রত করিলে,পাপরাশি হইতে মুক্তিলাভ করিবে। #যাবজ্জীবন এই মহান #একাদশী_ব্রত করিলে,বিষ্ণুর অধিষ্ঠানক্ষেত্র, পুরাণাদি-প্রসিদ্ধ শ্বেতদ্বীপ (বৈকুন্ঠের রাজধানী) প্রাপ্ত হয়।
(রেফারেন্স- বিষ্ণুসংহিতা ৪৯/১-৪)

▪️মহাবিপদ হোক বা আনন্দ উৎসব, জননাশৌচ, মরণাশৌচ, শ্রাদ্ধ― যা-ই থাকুক না কেন সব কিছুতেই একাদশী পালন করতে হবে।
পরমাপদমাপন্নে হর্ষে বা সমুপস্থিতে ন ত‍্যাজাৎ ব্রত।
( বিষ্ণুরহস‍্য)

▪️একাদশীর দিন যে অন্ন আহার করে সে মাতা, পিতা, ভাই ও গুরু হত্যাকারী। -স্কন্দ পুরাণ

▪️"যে সকল মনুষ্য শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, রাম-নবমী, শিবরাত্রি, একাদশী ও হরিবাসরে এই পুন্যজনক পঞ্চপর্বদিনের নিয়ম পালন করেন না, তাহারা চন্ডাল অপেক্ষা অধিক পাপী হয়। বিশেষ করে এই সমস্ত নরাধম ব্রহ্মহত্যা জনিত পাপে সমাক্রান্ত হইয়া থাকে।"
রেফারেন্সঃ [ব্রহ্মবৈবর্তপুরান-প্রকৃতিখন্ড, অধ্যায়-৩০, শ্লোক-১৫৩,১৫৪]

▪️" একাদশীতে অন্ন ও তজ্জাতীয় বস্ত্ত ভোজনে মাতা, পিতা, ভ্রাতা ও গুরুহত্যা জনিত পাপ সঞ্চয় হেতু, পঞ্চশষ্যাদি ভোজনকারী ব্যক্তিগণ অন্যান্য পুণ্য কর্ম্মাদি আচরণ করিলেও শ্রীবিষুলোকে বা বৈকুণ্ঠে গমন করিতা পারেন না ।
(শ্রীহরিভক্তি বিলাস ১২/২১)

▪️ " ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ অথবা সন্ন্যাসী প্রভুতি যে আশ্রমীই হউক্ না কেন, একাদশী-ব্রত দিনে অন্নাদি বক্ষণ করিলে গোমাংসই ভক্ষণ করা হইয়া থাকে ।
(হরি ভক্তি বিলাস ১২/২৫)

▪️ " হে মহাদেবি ! যাহারা 'শ্রীহরিবাসর-ব্রত' দিনে অন্ন ভোজন করে, যমদূতগণ তাহাদের মুখে তপ্ত লোহাস্ত্র ক্ষেপণ করিয়া থাকে । "
(স্কন্দ পুরাণে উমা-মহেশ্বর সংবাদ)

▪️ একাদশীব্রত বর্জ্জন করিয়া অন্যব্রত অনুষ্ঠান করিলে হস্তগত মণি বর্জ্জন করিয়া পাথর কুড়ানোই সার হয় ।
(তত্ত্বসাগর)

▪️এই ব্রত বর্জ্জন করিয় অন্যসব ব্রতাচরণে প্রকৃতপক্ষে সুখি না হইয়া পরিশেষ ঐ সমস্ত ব্রতফল হইতে দুংখ অঙ্কুরই উদিত হয় ।
(হরি ভক্তি বিলাস -১২/১৭)

▪️হরিবাসর ব্যাতীত দান তপস্যা তীর্থ স্নান কিংবা কোনরূপ পুণ্যাচরণদ্বারা মুক্তিলাভ হয় না ।
(স্কন্দঃপুরান)

▪️দাবানল হইলে যেমন কিশুষ্ক কি আর্দ্র সকল কাষ্ঠ ভস্মীভুত হইয়া যায় তদ্রূপ শ্রীহরিবাসর ব্রতে জীবের পূর্ব্বাপর সকল পাপ বিনষ্ট হয় ।
(ব্রক্ষবৈবর্ত্ত পুরাণ)

▪️শ্রীযমদেব পর্যন্ত তাঁহার দুতগণকে সাবধান করিয়া দেন যদি আমার ভাল চাহ তবে শত পাপ কলিলেও একাদশী ব্রতোপবাসকারীগণকে তোমরা পরিহার করিয়া চলিবে ।
(স্কন্দ পুরান)

▪️ #একাদশ্যামুপোষ্যৈব যঃ পূজয়তি মাং নিশি।
সোমবারে বিশেষেণ স মে ভক্ত ন নশ্যতি।।
(শিবগীতা ১৫/৩২)
পদার্থ- একাদশ্যাম(একাদশী তিথিতে) উপোস( উপবাস) এব(থেকে/রেখে) যঃ(যে) পূজয়তি(পূজা করে,অর্চনা করে) মাং(আমাকে) নিশি(রাত্রিকালে)
সোমবারে(সোমবারে) বিশেষেণ(বিশেষতঃ) স(সে) মে(আমার) ভক্ত(ভক্ত) ন(নেই) নশ্যতি(বিনাশ প্রাপ্ত/ আপদ স্পর্শ হওয়া অর্থে)।।

অনুবাদ- #একাদশী_তিথিতে উপবাসী হইয়া রাত্রিকালে যে আমার পূজা করে এবং বিশেষত সোমবারে যে তা( উপবাসী হইয়া পূজা) করে, আমার সে ভক্তকে কোন আপদ স্পর্শ করিতে পারে না।

🌿 #একাদশী তিথি যদি পঞ্জিকাতে দুই দিন উল্লেখ থাকে,কোন দিন পালন করবেন, আগের দিন, না পরের দিন?

গৌ‌ড়িয় বৈষ্ণব সম্প্রদায় কেন দশমী সংযুক্ত একাদশী পালন ক‌রে না এবং দ্বাদশী সংযুক্ত একাদশী পালন ক‌রে ?

অনেকে বলে #ইসকন তো আবার নতুন নিয়ম বের করছে, আমরা পালন করি আগের দিন, #ইসকন পালন করে পরের দিন।

~ ইসকন/গৌড়ীয়রা সঠিকটাই পালন করছে।নিচে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হল👇

🌿 #বিদ্ধাএকাদশী

অনেক সময় অন্যান্য পঞ্জিকাগুলোতে ‘গোস্বামীমতে পরাহে’ কথাটি লেখা থাকে। বৈষ্ণবগণ সেক্ষেত্রে পরদিন একাদশী ব্রত পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় যে, পরদিন নামেমাত্র একাদশী তিথি থাকে কিংবা নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে অনেকে সন্দিহান থাকেন। নিন্মোক্ত আলোচনায় তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে #শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাসধৃত #গরুড়পুরাণ ও #শিবরহস্য বচনে বলা হচ্ছে-

উদয়াৎ প্রাক্ যদা বিপ্র মুহূর্তদ্বয় সংযুতা।

সম্পূর্ণৈকাদশী নাম তত্রৈবাপসেদগৃহী ॥

(হ.ভ.বি ১২/১২১)

- “হে দ্বিজ! সূর্যোদয়ের পূর্বে দুই মুহূর্ত (৪৮x২=৯৬ মিনিট) একাদশী থাকলে তাকে সম্পূর্ণা একাদশী বলে। এ দিনেই উপবাস করা বিধেয়।”

#ভবিষ্যপুরাণ বচন-

অরুণোদয় বেলায়াং দশমী সংযুতা যদি।

অত্রোপোষ্যা দ্বাদশী স্যাৎ ত্রয়োদশ্যান্তু পারণম্ ॥

(হ.ভ.বি ১২/১২৪)

- “অরুণোদয় সময়ে দশমীবিদ্ধা একাদশী উপস্থিত হলে দ্বাদশীতে উপবাসপূর্বক ত্রয়োদশীতে পারণ করতে হয়।”
একাদশীতে সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যোদয়কালে (১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে) যদি দশমী স্পর্শ হয়, তাকে দশমী বিদ্ধা বলে। দশমী বিদ্ধা একাদশী বাদ দিয়ে দ্বাদশী সংযুক্তা একাদশী ব্রত পালন করতে হয়। এটাই সর্বশাস্ত্রসম্মত বিধি

🌿 #বিদ্ধাএকাদশী পালনের ফল

শ্রীগরুড় পুরাণের পূর্ব্বখণ্ডে একাদশী মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে ১২৫তম অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-

মান্ধাতা চক্রবর্ত্ত্যাসীদুপোষ্যৈকাদশীং নৃপঃ।

একাদশ্যাং ন ভূঞ্জীত পক্ষয়োরুভয়োরপি ॥১॥

দশম্যেকাদশীমিশ্রা গান্ধার্য্যা সমুপোষিতা।

তস্যাঃ পুত্রশতং নষ্টং তস্মাত্ত্যং পরিবর্জ্জয়েৎ ॥২॥

দশম্যেকাদশী যত্র তত্র সন্নিহিতোহসুরঃ।

দ্বাদশ্যেকাদশী যত্র তত্র সন্নিহিতো হরিঃ ॥৩॥

বহুর্বাক্যবিরোধেন সন্দেহো জায়তে যদা।

দ্বাদশী তু তদা গ্রাহ্যা ত্রয়োদশ্যান্ত পারণম্ ॥৪॥

একাদশী কলাপি স্যাদুপোষ্যা দ্বাদশী তদা ॥৫॥

একাদশী দ্বাদশী চ বিশেষেণ ত্রয়োদশী।

ত্রিমিশ্রা সা তিথিগ্রাহ্যা সর্ব্বপাপহরা শুভা ॥৬॥

একাদশীমুপোষ্যৈব দ্বাদশীমথবা দ্বিজ।

ত্রিমিশ্রাঞ্চৈব কুর্ব্বীত ন দশম্যা যুতাং কচিৎ ॥৭॥

রাত্রৌ জাগরণং কুর্ব্বন্ পুরাণশ্রবণং নৃপঃ।

গদাধরং পূজয়াশ্চ উপোষ্যৈকাদশীদ্বয়ম্।

রুক্মাঙ্গদো যযৌ মোক্ষমন্যে চৈকাদশীব্রতম্ ॥৮॥

অনুবাদ: ব্রহ্মা বললেন, - প্রাচীনকালে মান্ধাতা নামে এক রাজা ছিলেন; তিনি একাদশীতে উপবাস করার ফলস্বরূপ সসাগরা ধরার একমাত্র অধীশ্বর হয়েছিলেন; অতএব শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের একাদশীতে কেউ ভোজন করবে না। গান্ধারী দশমীসংযুক্তা একাদশীতে উপবাস করেছিলেন, এজন্য গান্ধারীর শত পুত্র বিনষ্ট হয়; অতএব দশমীযুক্তা একাদশী বর্জন করবে। তাতে কেউ উপবাস করবে না। দশমীযুক্তা একাদশীতে অসুর সন্নিহিত থাকে, দ্বাদশীযুক্ত একাদশীতে হরি সন্নিহিত থাকেন, তবে নানাবিধ শাস্ত্রের বাক্য-বিরোধ দৃষ্টে সন্দেহ উপস্থিত হলে, অর্থাৎ একদিনেই যদি দশমী একাদশী ও দ্বাদশীর যোগ হয়, তবে তখন দ্বাদশীতে উপবাস করে ত্রয়োদশীতে পারণ করবে। যদি দ্বাদশী দিনে এক কলা মাত্র একাদশীও থাকে, তবুও দ্বাদশী দিনেই উপবাস করা কর্তব্য। যেদিন একাদশী, দ্বাদশী ও ত্রয়োদশী এই তিথিত্রয়ের মিশ্রণ হয়, সে দিনে উপবাস করলে সর্বপ্রকার পাপ নাশ হয়। যেদিন শুদ্ধ একাদশী থাকে সে দিনেই উপবাস করা কর্তব্য, কিংবা দ্বাদশীযুক্ত একাদশীতেও উপবাস করতে পারে; অথবা যদি একদিন একাদশী, দ্বাদশী ও ত্রয়োদশী এই তিথিত্রয়ের মিলন হয়, তবে উপবাস করবে, উপরন্তু কখনও দশমীযুক্তা একাদশীতে উপবাস করবে না। রাত্রি জাগরণ, পুরাণশ্রবণ ও গদাধরের অর্চনা করে একাদশীর উপবাস করবে; রুক্মাঙ্গদ রাজা এরূপ একাদশীতে উপবাস করে মোক্ষপদ পেয়েছিলেন।

🌿 #মহাদ্বাদশী প্রসঙ্গ

একাদশী ব্রত প্রসঙ্গে মহাদ্বাদশী সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন। মহাদ্বাদশীর আগমন ঘটলেও শাস্ত্রমতে পরদিন ব্রত পালন করা বিধিসম্মত। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আটটি মহাদ্বাদশীর উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে উন্মীলনী, ব্যঞ্জুলী, ত্রিস্পৃশা, পক্ষবর্ধিনী - এ চারটি তিথি ঘটিত এবং জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী - এ চারটি নক্ষত্রঘটিত। সম্পূর্ণা একাদশী যদি বৃদ্ধি পেয়ে পরদিন সকালকে স্পর্শ করে তবে তাকে উন্মীলনী মহাদ্বাদশী বলে। সূর্যোদয় থেকে আরম্ভ করে একাদশী সম্পূর্ণা হলে এবং দ্বাদশীও পূর্ণ হয়ে তার পরের দিন ত্রয়োদশীতে কিছু অংশ থাকলে এ দ্বাদশীকে ‘ব্যঞ্জুলী’ বলা হয়। দিবাভাগের প্রথমে একাদশী তারপর সমস্ত দিন দ্বাদশী এবং শেষরাত্রিতে ত্রয়োদশী যুক্ত হলে তা ‘ত্রিস্পৃশা’ নামে অভিহিত হয়ে থাকে। অমাবস্যা বা পূর্ণিমা সম্পূর্ণ হয়ে প্রতিপদে কিছুমাত্র থাকলে তার পূর্বের দ্বাদশী তিথির নাম ‘পক্ষবর্ধিনী’ মহাদ্বাদশী। শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে ‘পুনর্বসু’ নক্ষত্র যোগে ‘জয়া’, ‘শ্রবণা নক্ষত্র যোগে ‘বিজয়া, ‘রোহিণী’ নক্ষত্র যোগে ‘জয়ন্তী’ এবং ‘পুষ্যা’ নক্ষত্র যোগে ‘পাপনাশিনী’ মহাদ্বাদশী সংঘটিত হয়। এছাড়া হরিভক্তিবিলাসে শ্রাবণ ও গোবিন্দ দ্বাদশী নামে আরো দুটি দ্বাদশী ব্রতের উল্লেখ রয়েছে।

🌿 একাদশী পালন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়🌼

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর লীলাবিলাসের প্রথম থেকেই একাদশীর উপবাসের গুরূত্ব আরোপ করেছিলেন। শ্রীল জীব গোস্বামী তাঁর ভক্তিসন্দর্ভ গ্রন্থে স্কন্দ পুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, “যে মানুষ একাদশীর দিন পঞ্চশস্য আহার করে, সে সেই খাদ্যের সাথে সাথে তার পিতা, মাতা, ভ্রাতা, আত্মীয়স্বজন, ব্রাহ্মণ এমনকি গুরু হত্যার পাপও ভক্ষণ করে। যদি সে বৈকুণ্ঠলোকেও উন্নীত হয়, তবুও তার অধঃপতন হয়।” একাদশীর দিন বিষ্ণুর জন্য সবকিছু রন্ধন করা হয়, এমনকি অন্ন এবং ডালও, কিন্তু শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সেদিন বিষ্ণুর প্রসাদ (অন্ন) পর্যন্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। বিধবা না হলেও শাস্ত্র অনুসারে একাদশীর ব্রত পালন করার প্রথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তন করেছিলেন।

(দ্রষ্টব্য- ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত” আদিলীলা, (১৫/৮-১০)

👉মায়েদের মাসিক চলাকালীন কি তারা একাদশীর উপোস রাখতে পারে❓

এক্ষেত্রে শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাস _এ শ্রীল সনাতন গোস্বামীপাদ মহর্ষি শৃঙ্গির বচন উদ্ধৃত করে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন__
" একাদশ্যাং ন ভূঞ্জিথাঃ নারী দৃষ্টা রজস্যাপি "
অর্থাৎ নারী যদি রজস্বলাও হয় তথাপি একাদশীতে ভোজন করবে না ।
মানে মাসিক হলেও একাদশী কর্তব্য।

👉একাদশী দিনে শ্রাদ্ধ করা যায় কি❓করলে কি অপরাধ হয়❓

প্রশ্নঃ-১১দিনে শ্রাদ্ধ কি শুধু বৈষ্ণবদের ভেতর সীমাবদ্ধ, নাকি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
যারা মাছ- মাংস ভক্ষণ করে তাদের শ্রাদ্ধ কি ১১দিনে করা যাবে?
বর্তমান ব্রাহ্মনরা, বৈষ্ণব কিংবা মাছ - মাংসভোজী (আমিষভোজী) সবার ক্ষেএে যে ১৩ দিনে শ্রাদ্ধের অনুমতি দিচ্ছে, আসলে কি তারা আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করছে?

উওরঃ-
শ্রাদ্ধ দিনের নির্ঘন্ট নিয়ে নানা জনের নানা মত। ১১,১২,১৩,১৫, ২০ অথবা ৩০ দিন ইত্যাদি, বিভিন্ন দিনে শ্রাদ্ধ করার কথা শোনা যায়। ভ্রম, প্রমাদ, বিপ্রলিপ্সা, করণাপাটব। ঈশ্বরের বাক্যে নাহি দোষ এইসব। ( চৈ চ. আ. ৭/১০৭) তাই যেখানে সিদ্ধান্তের জটিলতা, সেখানে ভগবদ্বাক্যই একমাত্র প্রমান।

একমাত্র সিদ্ধান্ত - সকল বর্ণের জন্য ১০ দিন অশৌচ পালন করতে হবে। ১০ দিনে গ্রামের বাইরে গিয়ে কেশ, শ্মশ্রু, নখ ছেদন করবে এবং স্ননান্তে পবিত্র হবে ( গরুড় পুরাণ, উত্তর, ৬/২৮)। গরুড় পুরাণে (উত্তর, ৬/৫১) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চরম সিদ্ধান্ত দিলেন,- "একাদশে দ্বাদশে বা দিন আদ্যং প্রকীর্তিতম্ " অর্থাৎ, ১১ বা ১২ দিন শ্রাদ্ধের দিন। ১১ দিনের দিন যদি একাদশী থাকে, সেজন্য ১২ দিনের কথা বলা হয়েছে। গরুড় পুরাণ, উত্তর, ৬/৭৭- এ বলা হয়েছে, একাদশে চ দিবসে একোদিষ্টং যথাবিধি।।

আগামী ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার শ্রীশ্রী গীতা জয়ন্তী। পারিবারিক মঙ্গল ও পূর্বপুরুষদের আত্মার কল্যাণের জন্য গী...
29/11/2022

আগামী ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার শ্রীশ্রী গীতা জয়ন্তী।
পারিবারিক মঙ্গল ও পূর্বপুরুষদের আত্মার কল্যাণের জন্য গীতা দান করুন

♨৫২৪৫ তম_দামোদর মহোসবঃ━️━━️━━️━━️━━️━━️━━️━━️━চাতুর্মাস্যের চর্তুথ মাস অর্থাৎ কার্তিক মাসকে বলা হয় দামোদর মাস, কেননা এই ...
13/10/2022

♨৫২৪৫ তম_দামোদর মহোসবঃ
━️━━️━━️━━️━━️━━️━━️━━️━

চাতুর্মাস্যের চর্তুথ মাস অর্থাৎ কার্তিক মাসকে বলা হয় দামোদর মাস, কেননা এই মাসটি ভগবান দামোদর রূপের আরাধনার জন্য নির্দিষ্ট। মা যশোদা শিশু কৃষ্ণকে দাম বা রজ্জুর দ্বারা বন্ধন করেছিলেন-- সেজন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি নাম হল দামোদর।
#সৃষ্টিকাল: দামোদর লীলা সংগঠিত হয়েছিল আজ থেকে ৫২৪৪ বছর পূর্বে এবং সেদিন ছিল দীপাবলি মহোৎসব। দামোদর লীলায় শ্রীকৃষ্ণের বয়স ছিল ৩ বছর ৪ মাস।

🎊 #অন্যান্য_উৎসবঃ দামোদর মাসে দামবন্ধন লীলা ছাড়াও অন্নকূট মহোৎসব, রাধাকুন্ড ও শ্যামকুন্ডের আবির্ভাব তিথি (বহুলাষ্টমী), তুলসী-শালগ্রাম বিবাহ, গোপাষ্টমী, বলিদৈত্যরাজপূজা, ভীষ্মপঞ্চক, গিরি-গোবর্ধন পূজা ও দীপাবলি লীলাও সংগঠিত হয়েছিল।

⏰ #সময়সূচি: আজ ৯ অক্টোবর লক্ষ্মীপূর্ণিমা তিথি থেকে শুরু হচ্ছে দামোদর ব্রত, চলমান থাকবে আগামী ৮ নভেম্বর, ২০২২ রাসপূর্ণিমা পর্যন্ত।

#ব্রত_পালনের_সুফলঃ
━️━━️━━️━━️━━️━━️━━️
🔹দামোদর মাসে অন্নাদি দান, হোম, তপস্যা, জপ করলে তা অক্ষয় ফলপ্রদা হয়।

🔹সর্বতীর্থে যে স্নান, সর্বদানের যে ফল তা দামোদর মাসের কোটি অংশের একাংশেরও সমান হয় না।

🔹যে মানব দামোদর মাসে শ্রীবিষ্ণু মন্দির প্রদক্ষিণ করার ফলে সে পদে পদে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফলভোগী হয়।

🔹দামোদর মাসে শ্রীহরির সম্মুখে নৃত্য, গীত, বাদ্যধ্বনি এবং ভক্তিসহকারে কীর্তন করার ফলে অক্ষয়পদ বিষ্ণুধাম প্রাপ্ত হওয়া যায়।

🔹হে মুনিবর! পবিত্র দামোদর মাসে যিনি হরিকথা শ্রবণ করেন, তিনি শতকোটি জন্মের আপদসমূহ হতে নিস্তার পান।

🔹দামোদর মাসে নিমেষার্দ্ধকাল দীপদান করার ফলে সহস্রকোটি কলা অর্জিত বহু পাপ বিনষ্ট হয়।

[ #দামোদর_ব্রত_মাহাত্ম্য, স্কন্দপুরাণ]


# দামোদর ব্রত পালন না করার কুফলঃ
━️━━️━━️━━️━━️━━️━
🔸যে গৃহী দামোদর ব্রত পালন না করেন, তার অন্যান্য ধর্মাচরণ বৃথা হয়, কল্পকাল নরকবাসী হয় এবং পিতৃমাতৃ ঘাতক সমতুল্য ও পশু-পাখি যোনিতে জন্ম লাভ করে।

🔸হে মুনিবর! যে মানব দামোদর ব্রত না করে, সে ব্রহ্মঘাতী, গোঘাতী, স্বর্ণচোর ও সর্বদা মিথ্যাবাদী।

বৈকুণ্ঠ ধাম প্রাপ্তির টিকিট (হানডেট পারসেন্ট ডিসকাউন্ট) দামোদর মাস বা কার্তিক মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মাহাত্ম্যধর্মী মাস...
12/10/2022

বৈকুণ্ঠ ধাম প্রাপ্তির টিকিট (হানডেট পারসেন্ট ডিসকাউন্ট)

দামোদর মাস বা কার্তিক মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মাহাত্ম্যধর্মী মাস। ভক্তি ভরে স্বল্প পরিমান ভাগবত শ্রবণ করলেও ভগবান শ্রী হরি সন্তুষ্ট হন। বিশেষ করে কার্তিক মাসে এই রকমই একটি ভাগবত সেবা হচ্ছে ভগবানের মন্দিরে বা গৃহ মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো। পুরাণ শাস্ত্রে রয়েছে যে এই কার্তিক মাসে মন্দিরে দীপ দান করলে তাকে আর এই জন্মে মৃত্যু লোকে ফিরে আসতে হয় না। শ্রী হরির ভক্তিবিলাস গ্রন্থের ষোলোশবিলাস অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে কার্তিক মাসে মন্দিরে ভক্তি ভরে দীপ দান, আকাশ প্রদীপ জ্বালানো ইত্যাদি কাজ গুলি করলে অনন্তকাল বৈকুন্ঠ লোকে অবস্থান করতে পারবেন।
স্কন্দ পূরানে বলা হয়েছে যে যদি কেউ ঘি এর প্রদীপ বা তিল তেলের প্রদীপ ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে প্রজ্বলিত করেন তাহলে তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ করেন। কারোর সন্তান যদি কার্তিক মাসে দীপ দান করার মাধ্যমে বিষ্ণুর প্রীতি সাধনে উদ্যত হয় তাহলে বংশের সকলেই মুক্তি লাভের অধিকারী হয়। যদি কোনো ব্যাক্তি সারা জীবন পাপ কাজ করে এবং সৌভাগ্যবশত কার্তিক মাসে শ্রী মন্দিরে যদি প্রদীপ জ্বালায় তাহলে সেই ব্যাক্তিও মুক্তি লাভ করতে পারেন ।স্কন্দ পূরানে ব্রহ্মা ও নারদ সংবাদে বলা হয়েছে যিনি কুটি সহস্র পাতকে পাতকী তিনিও যদি দামোদর মাসে দামোদর গোপালকে প্রদী প নিবেদন করেন তাহলে তিনিও বৈকুন্ঠ লোকপ্রাপ্ত হতে পারবে ।
প্রকৃতপক্ষে স্কন্দপুরাণ ও অন্যান্য পুরাণ থেকে আমরা জানতে পারি যে যদি আমরা শ্রীবিগ্রহগণকে প্রদীপ নিবেদন করি তাহলে সেজন্য আমরা ১০০০ গুণ সুফল লাভ করি এবং অন্যান্য কাজের জন্য ১০০ গুণ সুফল লাভ করি। কিন্তু শ্রীবিগ্রহগণকে প্রদীপ নিবেদন সত্যিই ভীষণ শুভ। প্রকৃতপক্ষে এটি আপনার পিতৃপুরুষদের মুক্ত করতে পারে। 🙏পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের দামোদর মাস উপলক্ষে যে ডিসকাউন্ট প্রদান করছেন তা আমাদের সকলের উচিত গ্রহণ করা বিশেষ করে আমরা যারা নতুন করে ভক্তি জীবনে যুক্ত হয়েছি।
দামোদর মাসে কেউ যদি ভগবানকে একটি প্রদীপ দান করে তাহলে সে এক হাজার প্রদীপ দানের সমান ফল পাবে এবং বাকি সকল পূর্ণ কর্মের ক্ষেত্রে ১০০ গু ণ ফল পাবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত দামোদর মাস কে বিশেষভাবে গ্রহণ করে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণ কমলে নিজেকে নিবেদন করে। সময় থাকতে আমাদের কৃষ্ণ ভজনা করা উচিত কেননা যখন আমরা কৃষ্ণ ভজন করতে চাইবো তখন হয়তো আমাদের সময় থাকবে না ।

08/10/2022

দীপদান’ এবং ‘আকাশ দীপ’ এর মহিমা
স্কন্দপুরাণে পূর্বকালে দ্রাবিড়দেশে বুদ্ধ নামে এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ছিল খুবই দুষ্টা প্রকৃতির এবং দুরাচার সম্পন্না। ঐ স্ত্রীর সংসর্গে থাকার ফলে ব্রাহ্মণের আয়ু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হলেন। পতির মৃত্যুর পরেও ঐ স্ত্রীলোকটি আরও বিশেষভাবে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো।
এমনকি লোকনিন্দার ভয় না করে সে নির্লজ্জের মতো ব্যবহার করতে লাগল। তার কোনো পুত্র বা ভাই ছিল না। সে সর্বদাই ভিক্ষার অন্ন ভোজন করত। নিজের হাতে প্রস্তুত না করে সর্বদাই ভিক্ষার অন্ন ভোজন করত। নিজের হাতে প্রস্তুত না করে সর্বদাই পরের বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে বাসি অন্ন খেত এবং অনেক সময় অপরের বাড়িতে রান্না করতে যেত। তীর্থযাত্রা আদি থেকে সর্বদাই দুরে থাকত। সে কখনও কোনো ভালো কথায় কর্ণপাত করত না।
একদিন এক বিদ্ধান তীর্থযাত্রী ব্রাহ্মণ তার গৃহে আগমন করল। যার নাম ছিল কুৎস। তাকে (ঐ স্ত্রীকে) ব্যভিচারে আসক্ত দেখে সেই ব্রহ্মর্ষি কুৎস বললেন- ওরে মুর্খ নারী! মনোযোগে সহকারে আমার কথা শ্রবণ কর। পৃথ্বি আদি পঞ্চভূত দ্বারা তৈরী এই রক্তমাংসের শরীর, যা কেবল দুঃখেরই কারণ, তুই তাকে যত্ন করছিস? এই দেহ জলের বুদবুদের মতো, একদিন যা অবশ্যই বিনষ্ট হবে। এই অনিত্য শরীরকে যদি তুই নিজ বলে মানিস্্ তাহলে নিজের বিচার পূর্বক এই মোহ পরিত্যাগ কর।
ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ কর এবং তাঁর লীলাকাহিনী শ্রবণ কর। এখন কার্তিক মাস আগত হবে, তখন ভগবান দামোদরের প্রীতি বিধানের জন্য, স্নান, দান আদি কর্ম করে গৃহে বা মন্দিরে বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে দীপ নিবেদন করে শ্রীবিষ্ণুকে পরিক্রমা করবে এবং তাঁকে প্রণাম করবে। এই ব্রত বিধবা এবং সৌভাগ্যবতী নারী উভয়েরই অবশ্য পালনীয়। যার ফলে সমস্ত প্রকারের পাপের শাস্তি তথা সকল উপদ্রব নষ্ট হয়। কার্তিক মাসে দীপদান নিশ্চিতরূপে ভগবান বিষ্ণুর প্রীতি বর্ধন করে। এই কথা বলে ব্রাহ্মণ কুৎস অপর একটি গৃহে গমন করলেন। তখন ঐ ব্রাহ্মণী ব্রহ্মর্ষি কুৎসের এই রকম উপদেশ শ্রবণ করে নিজ কর্মের জন্য অনুতাপ করতে লাগল এবং সে স্থির করল যে সে অবশ্যই কার্তিক মাসে এই ব্রত পালন করবে।
তারপর যখন কার্তিক মাস আগত হলো তখন সে পুরো মাস সূর্যোদয়ের সময় প্রাতঃস্নান তথা বিষ্ণুকে দীপদান সহ নিষ্ঠা সহকারে এই ব্রত পালন করল। তারপর কিছুকাল বাদে আয়ু শেষ হলে তার মৃত্যু হলো। তখন সে স্বর্গলোকে গমন করল এবং পরে মুক্তি লাভ করল। সে সমস্ত মানুষ কার্তিক ব্রত পালন ও দীপদান আদি সম্পন্ন করে তারা যদি এই ইতিহাস শ্রবণ করে তাহলে তারাও মোক্ষ লাভ করে।
ব্রহ্মা এরপর বললেন- নারদ! এখন আকাশ দীপের মহিমা শ্রবণ কর। কার্তিক মাস আগত হলে যিনি নিয়মিত ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান করে আকাশদীপ দান করেন তিনি সমস্ত লোকের প্রভু এবং অন্তে মোক্ষ লাভ করেন। এই জন্য কার্তিক মাসে স্নান, দান আদি কর্ম করার সাথে সাথে ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে এই একমাস দীপদান করা অবশ্য কর্তব্য। মহারাজ সুনন্দ চন্দ্রশর্মা নাম ব্রাহ্মণের পরামর্শ অনুসারে এই একমাস বিধিপূর্বক ব্রত অনুষ্ঠান করেছিলেন। কার্তিক মাসে প্রতিদিন প্রাতঃস্নান করে পবিত্র হয়ে কোমল তুলসীদল দ্বারা ভগবান বিষ্ণুর পূজা এবং রাত্রিতে আকাশ দীপ দিতেন। দীপ প্রদানের সময় তিনি এই মন্ত্র পাঠ করতেন-

দামোদরায় বিশ্বাস বিশ্বরূপধরায় চ।
নমস্কৃত্যা প্রদাস্যামি ব্যোমদীপং হরিপ্রিয়ম্॥

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when prosanto khotrio posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to prosanto khotrio:

Share