17/05/2026
❒ যুল হিজ্জাহ মাসের আমলসমূহঃ
যুল হিজ্জাহ মাসের (বাংলায় জিলহজ নামে পরিচিত) প্রথম দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সেরা এবং শ্রেষ্ঠ। এই মাসে আমরা কি কি আমল করবো তা খুব সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো, যথাঃ
◉ ০১. অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির (আল্লাহর স্বরণ) করা, বেশি বেশি তাকবির পাঠ করা অর্থাৎ আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা।
◉ ০২. পাপ কাজ করা হতে বেঁচে থাকা, বেশি বেশি একনিষ্ঠ মনে আল্লাহর নিকট অধিক তাওবাহ ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।
◉ ০৩. প্রতিদিনের ফরজ, সুন্নাহ এবং বিভিন্ন রকম নফল কাজগুলো অধিক গুরুত্বের সাথে করা এবং বেশি বেশি করে নেক আমল করার চেষ্টা করা। যেমনঃ ফরজ আমলগুলোর ব্যাপারে অধিক যত্নশীল হওয়া (যেমন: সালাত, পর্দা ইত্যাদি ছেলে-মেয়ে সবার উপর ফরজ), ফরজ নামাজগুলো সুন্দর ভাবে ইহসানের সাথে পড়া, ফরজ নামাজের পর বিভিন্ন আমল করা, সুন্নাহ/নফল নামাজগুলো পড়ার চেষ্টা করা (তাহাজ্জুদ/ক্বিয়ামুল লাইল, ইশরাকের নামাজ বা সালাতুদ দুহা/চাশতের নামাজ, সালাতুয যাওয়াল অথবা এমনই নিষিদ্ধ সময় গুলো বাদে নফল নামাজের মানের দিকে খেয়াল রেখে অধিক হারে নফল নামাজ পড়ার চেষ্টা করা।), দুয়া করা, সকাল-বিকালের দুয়াগুলো পাঠ করা, রাসুল ﷺ এর উপর দুরুদ পাঠ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, আযানের উত্তর দেওয়া, দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জায়গা হতে জ্ঞান অর্জন করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, যিকির করা, রোজা রাখা, সাধ্যানুযায়ী অধিক দান-সদাকাহ করা, যাকাতও চাইলে দিতে পারি, ঘুম যাওয়ার আগে যেসব কাজ আছে সেগুলো করা, রাসুল ﷺ এর সুন্নাহের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া ইত্যাদি কাজের দ্বারা অধিক ইবাদত করার চেষ্টা করা। এছাড়াও এই দশ দিনে আমরা আরো গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল করতে পারি, যেমনঃ মা-বাবার খেদমত করা, জীবনসঙ্গীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করা, সন্তানদের দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া, প্রতিবেশির হক আদায় করা, মুসলিম ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে কথা বলা, ছোট-বড় সবার সাথে সালামের আদান-প্রদান করা (নিজে সবসময় আগে দেওয়ার চেষ্টা করা), মানুষের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করা, মানুষের প্রয়োজন পূরণ করার চেষ্টা করা, লোকদের বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করা, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-সুশ্রূষা জন্য চেষ্টা করা, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ়করণ ও তাদের হক আদায় করা, সকল শ্রেণির মুসলিমদের (বিশেষ করে জুলুমের স্বীকার) জন্য দুয়া করা ইত্যাদি। ইবাদতের মৌসুম চলে গেলেও, সর্বদা আমলগুলো চালু রাখার চেষ্টা করা।
◉ ০৪. ০১ হতে ০৯ যুল হিজ্জাহ পর্যন্ত রোজা রাখার চেষ্টা করা ও বিশেষ করে আরাফার দিন রোজা রাখা। নিজে করার পাশাপাশি অন্যদের এই আমলের ব্যাপারে দাওয়াহ দেওয়া, সহযোগিতা করা ও পারলে ইফতার করানো (যাতে তার সিয়াম পালনের আমলের সমপরিমাণ সাওয়াব পেয়ে যাই।)।
◉ ০৫. সামর্থ্য থাকলে হজ্জ অথবা উমরাহ পালন করা।
◉ ০৬. চুল কাটা, গোঁফ কাটা, দাড়ি কাটা, নখ কাটা ও শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটা হতে বিরত থাকা। বিশেষ করে কেউ যদি কুরবানী দেওয়ার নিয়ত করে, তবে সন্ধ্যায়ের পর ০১ যুল হিজ্জাহ শুরু হয়ে গেলেই তিনি বিরত থাকবেন কুরবানী পশু কুরবানী না দেওয়ার আগ পর্যন্ত। আর যারা সামর্থ্যের অভাবে কুরবানী দিচ্ছেন না, কিন্ত দুর্বল আমলযোগ্য্য হাদিসটির উপর আমল করতে চান তারা নিজ নিজ এলাকাতে কুরবানী হয়ে গেলে কেঁটে ফেলবেন। কুরবানী যিনি দিচ্ছেন উনি কুরবানী দিয়ে অতঃপর কেঁটে ফেলবেন। যুল হিজ্জাহ মাস শুরু হওয়ার আগে এই ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া শেষ করে ফেলবেন।
◉ ০৭. যুল হিজ্জাহ এর প্রথম ১০ দিন বেশি বেশি তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) ও তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করা।
◉ ০৮. আরাফার দিবসের ফজরের পর থেকে ঈদের ৪র্থ দিন (১৩ যুল হিজ্জাহ) আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর (মোট ২৩ ওয়াক্ত সালাত) নারী-পুরুষ সকলে তাকবিরে তাশরিক (যেমনঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ) অন্তত একবার পাঠ করা।
◉ ০৯. সামর্থ্য থাকলে কুরবানী করা।
◉ ১০. ঈদুল আযহার দিন সব রকম সুন্নাহ পালন করার চেষ্টা করা।
◉ ১১. রিয়া (লোক দেখানো), বিদ'আত ও ভুল কাজগুলো থেকে বেঁচে থাকা।
◉ ১২. নিজে পালন করার চেষ্টা করা, অতঃপর অন্যদেরও কল্যাণকর ভাল কাজের দিকে আহবান করা এবং কাজগুলো করতে অনুপ্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করা (যদি তারা আমাদের কথা শুনে ঐ সব ভাল কাজগুলো করে, তবে আমরাও তাদের সমপরিমাণ প্রতিফল পাবো ইন শা আল্লাহ।)।
◉ ১৩. যেসব নারীদের মাসিক অথবা মা হতে চলেছেন অথবা যিনি অসুস্থ বা সামর্থ্য না থাকার কারণে কোন ইবাদত করতে পারছেন না, মন খারাপ করবেন না। আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বেশি আমল করুন।
❁ আল্লাহ ﷻ আমাদের সকলকে উত্তম ভাল কাজগুলো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সুন্দর ভাবে সম্প্রদান করতে সাহায্য করুক এবং আমাদের সত্যিকারের সফলতা দান করুক, আমিন।
- আশরাফুল আলম ইমন || Ideal Muslim Shop
(২৩ জুলাই ২০২০। রাত ০৯:৩০, ০৯ জুলাই ২০২১)