17/05/2026
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
কুরআন ৩:১৬,১৭. যারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”
তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, শ্রদ্ধাশীল, দানশীল এবং প্রভাতে ক্ষমাপ্রার্থী।
এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ মুমিনদের কিছু মৌলিক গুণ একসাথে তুলে ধরেছেন। শুধু মুখে ঈমানের দাবি নয়, বরং জীবনে তার বাস্তব প্রকাশ কেমন হওয়া উচিত—সেটা দেখানো হয়েছে।
কুরআন ৩:১৬
“হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা ঈমান এনেছি; সুতরাং আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”
এখানে প্রকৃত ঈমানদারদের প্রথম পরিচয় হলো—
তারা নিজেদের নির্দোষ মনে করে না,
বরং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়,
এবং আখিরাতের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
অর্থাৎ ঈমান মানুষকে বিনয়ী করে, অহংকারী নয়।
কুরআন ৩:১৭
এখানে আল্লাহ তাদের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বলেছেন:
১. ধৈর্যশীল (الصَّابِرِينَ)
সত্যের পথে স্থির থাকা।
কষ্টে,
পরীক্ষায়,
মানুষের বিরোধিতায়,
নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে।
ধৈর্য মানে শুধু কষ্ট সহ্য নয়, বরং আল্লাহর পথে অবিচল থাকা।
২. সত্যবাদী (الصَّادِقِينَ)
কথায় সত্য,
কাজে সত্য,
ঈমানে আন্তরিক।
অর্থাৎ বাহ্যিক ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে অন্তরের সততা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. শ্রদ্ধাশীল / অনুগত (الْقَانِتِينَ)
এরা বিনয়ের সাথে আল্লাহর আনুগত্য করে।
অহংকার করে না,
নিজেদের বড় মনে করে না,
আল্লাহর নির্দেশের সামনে নত থাকে।
৪. দানশীল (الْمُنفِقِينَ)
আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় করে:
অভাবগ্রস্তদের জন্য,
সত্যের কাজে,
মানবকল্যাণে।
দান শুধু অর্থ নয়;
সময়, শ্রম, সহায়তাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
৫. প্রভাতে ক্ষমাপ্রার্থী (وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ)
রাতের শেষভাগে বা ভোরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
এটা খুব গভীর একটি ইঙ্গিত:
যখন মানুষ ঘুমায়,
তখন তারা আল্লাহর দিকে ফিরে যায়,
নিজেদের ভুল স্বীকার করে।
এতে আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি প্রকাশ পায়।
এই দুই আয়াতে ঈমানদারের একটি পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়:
ঈমান,
বিনয়,
ধৈর্য,
সত্যবাদিতা,
আনুগত্য,
দানশীলতা,
এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা।