07/06/2026
বাংলাদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের প্রায় ৯৬% সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী। এদেশের মোট জনসংখ্যার ৯১.০৪% হলো মুসলিম এবং তাদের সিংহভাগই হানাফি মাযহাবের অনুসারী সুন্নি মুসলিম।
সংখ্যা নয়, সত্যই মাপকাঠি
সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন:
কুরআন ৬:১১৬
وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
আর যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নাও, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়—আল্লাহর বাণীই সত্যের মানদণ্ড।
যা কুরআনে নেই, তা যত জনপ্রিয়ই হোক—আল্লাহর পথ নয়।
নবী মুহাম্মদ (সা:) মুসলিম ছিলেন এবং কোনো মাজহাবের অনুসারী ছিলেন না।
সত্য নির্ধারণের মাপকাঠি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়—এটি কুরআনের বহু আয়াতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আল্লাহ বলেন:
"আর যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নাও, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।"
— কুরআন ৬:১১৬
এছাড়াও কুরআনে এসেছে:
"আর তাদের অধিকাংশই কেবল অনুমানের অনুসরণ করে। নিশ্চয়ই অনুমান সত্যের কোনোই উপকারে আসে না।"
— কুরআন ১০:৩৬
সুতরাং কুরআনের দৃষ্টিতে কোনো মত, বিশ্বাস বা আমল সত্য কি না, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মানদণ্ড মানুষের সংখ্যা নয়; বরং আল্লাহর অবতীর্ণ নির্দেশনা।
আর নবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে:
"বলো, আমাকে আদেশ করা হয়েছে যে আমি মুসলিমদের প্রথমজনদের অন্তর্ভুক্ত হই।"
— কুরআন ৬:১৪
এবং,
"তিনি পূর্বেও তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম এবং এই কিতাবেও।"
— কুরআন ২২:৭৮
কুরআনে নবী বা তাঁর অনুসারীদের জন্য "হানাফি", "শাফেয়ি", "মালেকি", "হাম্বলি", "সুন্নি" বা "শিয়া" নামে কোনো ধর্মীয় পরিচয় গ্রহণের নির্দেশ পাওয়া যায় না। কুরআনে যে পরিচয়টি স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে তা হলো "মুসলিম"।
একই সঙ্গে কুরআন দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে:
"আর তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রত্যেক দলই যা তাদের কাছে আছে তা নিয়ে আনন্দিত।"
— কুরআন ৩০:৩১–৩২
তবে কোনো ব্যক্তির ঈমান, গ্রহণযোগ্যতা বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর এখতিয়ার। কুরআন মানুষের পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ঈমান, সৎকর্ম, তাকওয়া এবং আল্লাহর নির্দেশনার অনুসরণকে (২:৬২, ৪৯:১৩)।
সুতরাং কুরআনের আলোকে বলা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিজে সত্যের প্রমাণ নয়; সত্য যাচাইয়ের মানদণ্ড হলো আল্লাহর বাণী। আর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কুরআনিক পরিচয় ছিল "মুসলিম"।