18/04/2026
নামাজের ওয়াজিব বলতে ঐ সব কাজকে বোঝায় যা পালন করা আবশ্যক।
নামাজের ওয়াজিব মোট ১৪টি। নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ ভুলবশত বাদ পড়লে 'সিজদায়ে সাহু' বা ভুলের সিজদা দিতে হয়, অন্যথায় নামাজ শুদ্ধ হয় না।
নামাজের ১৪টি ওয়াজিব হলো:
১. সুরা ফাতিহা পড়া: প্রত্যেক রাকাতের শুরুতে সম্পূর্ণ সুরা ফাতিহা পাঠ করা।
২. কিরাত মেলানো: সুরা ফাতিহার পর অন্য একটি সুরা বা ছোট কমপক্ষে তিন আয়াত তিলাওয়াত করা।
৩. প্রথম দুই রাকাত নির্ধারণ: ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পড়া।
৪. ক্রম অনুসরণ: কিরাত, রুকু এবং সিজদার সঠিক ধারাবাহিকতা বা তারতিব বজায় রাখা।
৫. ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়া: রুকু, সিজদা ও দাঁড়ানোসহ সব ক্ষেত্রে ধীরস্থির থাকা (তাদিলে আরকান)।
৬. রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো: রুকু শেষ করে সোজা হয়ে দাঁড়ানো (কাওমা)।
৭. দুই সিজদার মাঝে বসা: দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে সোজা হয়ে বসা (জলসা)।
৮. প্রথম বৈঠক: তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের দুই রাকাত শেষে বসা।
৯. তাশাহহুদ পড়া: প্রত্যেক বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা।
১০. কুনুত পাঠ: বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়া।
১১. ঈদের তাকবির: দুই ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির বলা।
১২. শব্দ করে বা চুপে কিরাত পড়া: ইমামের জন্য ফজরের মতো নামাজে উচ্চস্বরে এবং জোহর-আছরের মতো নামাজে নিঃশব্দে কিরাত পড়া।
১৩. সালাম ফেরানো: 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ' বলে নামাজ শেষ করা।
১৪. ফরজ ও ওয়াজিবের ধারাবাহিকতা: প্রত্যেক রাকাতে ফরজ ও ওয়াজিবগুলোর ক্রম ঠিক রাখা।
সিজদায়ে সাহু দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি:
১. নামাজের শেষ রাকাতে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) শেষ করার পর কেবল ডান দিকে সালাম ফেরাতে হবে।
২. এরপর আল্লাহু আকবার বলে পরপর দুটি সিজদা দিতে হবে।
৩. সিজদা শেষ করে আবার বসে শুরু থেকে পুরোটা অর্থাৎ— তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়তে হবে।
৪. সবশেষে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
মনে রাখা জরুরি:
ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াজিব বাদ দিলে সিজদায়ে সাহু দিলেও নামাজ হবে না, পুনরায় পড়তে হবে।
নামাজের ফরজ কাজ (যেমন: রুকু বা সিজদা) বাদ পড়লে সিজদায়ে সাহু দিয়ে নামাজ হবে না, পুরো নামাজটি আবার পড়তে হবে।