হিলফুল ফুজুল

হিলফুল ফুজুল ❤️একটি ইসলামিক প্লাটফর্ম❤️

09/12/2025

The Best Quran reaction🥰🥰🥰

বিদায় হজ্বের ভাষন (বাংলায়)--------------------------------------------যতই পড়ি ততই  অন্য রকম ভালো লাগায় মন ভরে যায়। এর চে...
08/07/2023

বিদায় হজ্বের ভাষন (বাংলায়)
--------------------------------------------

যতই পড়ি ততই অন্য রকম ভালো লাগায় মন ভরে যায়। এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাষণ কিছু কি আর হতে পারতো!!! আমাদের নবী করিম (সাঃ) আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। হে রাব্বুল আলামীন, তাঁর দেখানো পথে আমাদের চলার তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম বুঝে মুসলমান হওয়ার তৌফিক দিন... আমিন।।

শুক্রবার ৯ জিলহজ্ব ১০ হিজরি, হজ্জের সময় আরাফা ময়দানে দুপুরের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) লক্ষাধিক সাহাবীর সমাবেশে এ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হামদ ও সানার পর তিনি বলেনঃ

🕋 হে মানুষ!
তোমরা আমার কথা শোনো, এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারবো কিনা জানিনা!

🕋 হে মানুষ!
আল্লাহ বলেন, হে মানবজাতি তোমাদেরকে আমি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি, যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পার, অতএব শুনে রাখো মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর কোনো অনারবের আর অনারবের উপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার উপর কালোর বা কালোর উপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশী সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে আল্লাহকে ভালোবাসে।

🕋 হে মানুষ!
শুনে রাখো অন্ধকার যুগের সকল বিষয় ও প্রথা আজ থেকে বিলুপ্ত হলো, জাহেলি যুগের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।

🕋 হে মানুষ!
শুনে রাখো, অপরাধের দায়িত্ব কেবল অপরাধীর ওপরই বর্তায়। পিতা তার পুত্রের জন্যে আর পুত্র তার পিতার অপরাধের জন্য দায়ী নয়।

🕋 হে মানুষ!
তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্য চিরস্থায়ী ভাবে হারাম অর্থাৎ পবিত্র ও নিরাপদ করা হলো যেমন আজকের এই মাস এই শহর সকলের জন্য পবিত্র ও নিরাপদ।

🕋 হে মানুষ!
তোমরা ঈর্ষা ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকবে ঈর্ষা ও হিংসা মানুষের সকল সৎগুনকে ধ্বংস করে দেয়।

🕋 হে মানুষ!
নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করোনা, তাদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের উপর তাদেরও অধিকার রয়েছে সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সবসময় খেয়াল রেখো।

🕋 হে মানুষ!
অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক হও, তোমরা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে, নিজেরা যা পরবে তাদেরও তা পরাবে, শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করবে।

🕋 হে মানুষ!
বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অন্যের সম্মান, ধন ও প্রাণ নিরাপদ, সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও তাই পছন্দ করে।

🕋 হে মানুষ!
বিশ্বাসীরা পরস্পরের ভাই, সাবধান ! তোমরা একজন আরেক জনকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হইও না।

🕋 হে মানুষ!
শুনে রাখো আজ হতে বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বা কৌলিন প্রথা বিলুপ্ত করা হলো। কুলীন বা শ্রেষ্ঠ সেই যে বিশ্বাসী ও মানুষের উপকার করে।

🕋 হে মানুষ!
ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে, বিশ্বস্ততার সাথে প্রত্যেকের আমানত রক্ষা করতে হবে, কারো সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয়। তোমরা কেউ দুর্বলের উপর অবিচার করো না।

🕋 হে মানুষ!
জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও মূল্যবান। জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরয, কারন জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে তোমরা চীন দেশে যাও।

🕋 হে মানুষ!
তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত করবে, নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রোজা রাখবে, হজ্ব করবে আর সংঘবদ্ধ ভাবে নেতাকে অনুসরণ করবে তাহলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।

🕋 হে মানুষ!
শুনে রাখো, একজন কুশ্রী-কদাকার ব্যক্তিও যদি তোমাদের নেতা মনোনীত হয়, যতদিন পর্যন্ত সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত
করবে ততদিন পর্যন্ত তার আনুগত্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য।

🕋 হে মানুষ!
শুনে রাখো আমার পর আর কোনো নবী নেই। হে মানুষ আমি তোমাদের কাছে দুটি আলোকবর্তিকা রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা এ দুটো অনুসরণ করবে ততদিন তোমরা সত্য পথে থাকবে এর একটি হলো- আল্লাহর কিতাব কুরআন আর দ্বিতীয়টি হলো- আমার জীবন দৃষ্টান্ত।

🕋 হে মানুষ!
তোমরা কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না কারণ অতীতে বহু জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।

🕋 হে মানুষ!
প্রত্যেককেই শেষ বিচারের দিনে সকল কাজের হিসেব দিতে হবে। অতএব, সাবধান হও।

🕋 হে মানুষ!
তোমরা যারা এখানে হাজির আছো, আমার এই বাণীকে সবার কাছে পৌঁছে দিও। এরপর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলেন, হে মানুষ আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি!
সকলে সমস্বরে উত্তর দিলোঃ হ্যাঁ, এরপর নবীজী (সাঃ) বললেন, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাকো! আমি আমার সকল দায়িত্ব পালন করেছি।।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর উম্মত হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব তাঁর এ শেষ বাণী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া, আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ দায়িত্ব পালন করার তৌফিক দান করুন... আমিন,
ছুম্মাহ্ আমিন।

05/07/2023

শেষ পর্ব
কলিজার টুকরা সুলতানুল ওয়ায়েজিন আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ আয়ুবি হুজুরের দরদ মাখা কন্ঠে একটি বয়ান যা হেদায়েতের গন্ধ পাওয়া যায়😭
মহান রব সকল মাজলুম আলেমদের হেফাজত করুন🤲😭
আর আমার পেজ টি ফলো করে পাশে থাকুন👍

05/07/2023

প্রথম পর্ব
আহ!কি দরদ মাখা কন্ঠ😑যেনো হেদায়েতের ঘ্রাণ পাওয়া যায়🤲😭মাজলুম সুলতানুল ওয়ায়েজিন আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবি দাঃবাঃ।
মহান রব মাজলুম কলিজার টুকরা আলেমদের রহম ও হেফাজত করুন।
আর আকর্ষনিয় ইসলামি জিনিস পেতে পেজ টি ফলো দিয়ে পাশে থাকুন👍

04/07/2023

আসসালামুআলাইকুম
নিত্য নতুন ও পূর্বের সকল ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য,ভিডিও,ইতিহাস ইত্যাদি জানতে পেজটিকে ফলো ও লাইক দিয়ে পাশে থাকুন।

বর্তমান নাম ইব্রাহিম রিচম্যান, টানা ১৫ বছর সাউথ আফ্রিকায় চার্চে প্রধান পাদ্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।ছিল লক্ষাধিক ফল...
02/07/2023

বর্তমান নাম ইব্রাহিম রিচম্যান,
টানা ১৫ বছর সাউথ আফ্রিকায়
চার্চে প্রধান পাদ্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছিল লক্ষাধিক ফলোয়ার।
একদিন স্বপ্নে দেখলেন কেউ তাকে
শুভ্র সফেদ কাপড় পরার জন্য বলছেন।
পরপর কয়েকবার একই স্বপ্ন দেখলেন।
সর্বশেষ তাকে স্বপ্নে ধমকই দেয়া হলো,
কেনো শুভ্র সফেদ সাদা কাপড় পরছেন না।
তিনি মিলিয়ে নিলেন স্বপ্নকে।
বুঝলেন, মুসলিমদের হজ্জের সফেদ কাপড়
পরতে তাকে বারংবার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।
চার্চের সকল অনুসারীদের নিয়ে ব্রড ডেলাইটে
শাহাদাহ নেন।
এবার হজ্জ করেছেন।
ঈমানের স্বাদ ও পরিতৃপ্তি পেয়ে
কেঁদেই পার করে দিচ্ছেন হাজ্জ এর পুরো মওসুম।
আসলে হিদায়াতটা এমনই।
কখন যে আসবে কেউ জানেনা।
আল্লাহ যাকে চান মাঠার টুটি ধরে
হিদায়াতের পথে নিয়ে আসেন।
আল্লাহকে খুঁজে পাওয়ার মজাই আলাদা।
যারা আল্লাহকে পেয়েছে
তারা দুনিয়ায়ই জান্নাতের স্বাদ পেয়েছে।
মহান আল্লাহ আমাদের সকল মুসলিমদের কে এমন হেদায়েত দান করুন🤲😢

সুইডেনের অব্যাহত ইসলামফোবিয়া গোটা মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। ✊✊সুইডিশদের এই নাশকতা বিশ্বের কোরআন প্রেমীদ...
30/06/2023

সুইডেনের অব্যাহত ইসলামফোবিয়া গোটা মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। ✊✊
সুইডিশদের এই নাশকতা বিশ্বের কোরআন প্রেমীদের অন্তরে ঈমানের বারুদ জ্বালিয়েছে। 😡😡

ঈদের দিন সু*ই*ডে*নে কোরআন পুড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

কোরআন প্রেমীরা এক হও
কোরআন বিদ্বেষীরা নিপাত যাক।
মহান রবের কথা সত্য
কুরআন তিনি নাযিল করেছেন আর হেফাজত ও তিনি করবেন।
অচিরেই আমরা দেখতে পাবো ইনশাআল্লাহ।




🚫🚫🚫হত্যা করে গরু কুরবানী করছেন না তো?🚫🚫⛔""একটি ছোট্ট ভুল এবং বাতিল হয়ে যাওয়া কুরবানী।"" ♦সকল কুরবানী দাতাদের জন্য অত্যন্...
25/06/2023

🚫🚫🚫হত্যা করে গরু কুরবানী করছেন না তো?🚫🚫⛔

""একটি ছোট্ট ভুল এবং বাতিল হয়ে যাওয়া কুরবানী।""
♦সকল কুরবানী দাতাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়।

১০-১৫ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে আমাদের করা, ছোট্ট একটি ভুলের কারনে সম্পূর্নরুপে বাতিল হয়ে যেতে পারে আমাদের অত্যন্ত যত্নের সাথে আদায়কৃত আল্লাহর মহান হুকুম কুরবানী।

★পশু জবেহ সম্পন্ন হবার পর, একটি ছোট তীক্ষ্ণ ছুড়ি দ্বারা জবেহের স্থানে খোঁচা দেয়ার একটা সিস্টেমের সাথে আমরা কমবেশি প্রায় সবাই পরিচিত, আমাদের অনেকেরই ধারনা এই কাজটার মাধ্যমে পশু দ্রুত মারা যায় এবং কষ্ট কম পায়।
এই ছোট্ট একটা ভুলই আমাদের কুরবানী বরবাদ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।

★পশু জবেহ সহীহ হবার শর্ত হলো:-
পশুর অন্তত মূল তিনটি রগ কেটে দেয়া। আর মূল তিনটি রগ কেটে দিলে, রক্তক্ষরনের স্বাভাবিক ফলস্বরুপ পশুটি খুব দ্রুত মারা যায়।

★আমরা একটু অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে, পশুটার মেরুদন্ডের ভেতর তীক্ষ্ণ ছুড়ি ঢুকিয়ে "মেরুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড" বিচ্ছিন্ন করে দ্রুত মেরে ফেলার চেষ্টা করি। স্পাইনাল কর্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পশুর মস্তিষ্ক, দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আর এর ফলে পশুটি হার্ট এটাক করে এবং মারা যায়।
অনেক সময় এভাবে দ্রুত পশুটিকে শান্ত করতে গিয়ে, কুরবানীর উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং পশুটি জবেহ না হয়ে, হত্যা হিসেবে পরিগনিত হয়।

★চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এই পন্থা অত্যন্ত গর্হিত এবং বিপদজনক। স্পাইনাল কর্ড কেঁটে গেলে পশুর দেহের মাংশপেশিতেই রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং ফলশ্রুতিতে গোশত দূষিত হয়ে পরে। এই গোশত ভক্ষনে ক্যান্সার, এইচবিএএস, সহ অন্তত ১৮ প্রকার জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

অতএব,
কুরবানী দাতা সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে, ১০-১৫ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে, দয়া করে আপনার কুরবানী কে বরবাদ হয়ে যাবার সুযোগ দিবেন না।

23/06/2023

এসো ছন্দে ছন্দে আরবি শিখি❤️

Send a message to learn more

❤️❤️ নবী প্রেম ও ওয়াদা রক্ষার বিরল দৃষ্টান্ত!ভালোবাসার খোলা জানালা!!রওজা শরীফের পাশে যে জানালা ১৪০০ বছর ধরে খোলা রয়েছে...
22/05/2023

❤️❤️ নবী প্রেম ও ওয়াদা রক্ষার বিরল দৃষ্টান্ত!
ভালোবাসার খোলা জানালা!!

রওজা শরীফের পাশে যে জানালা ১৪০০ বছর ধরে খোলা রয়েছে। একটিবারের জন্যও বন্ধ হয়নি কখনো।

কী সে জানালার ইতিহাস?
কেন সেটি খোলা শতাব্দীর পর শতাব্দী?

যখন আপনি রওজা শরীফের দিকে মুখ করে সালাম পেশ করছেন, তখন ঠিক আপনার পিঠের পেছনের দেয়ালে রয়েছে এই খোলা জানালাটি। যার ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। আমিও আজ প্রথম জানলাম।

নবীজি সা. যেখানে শুয়ে আছেন, যা নবীজী সা. এর রওজা শরীফ, সেটি ছিল আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. হুজরা মোবারক। ঠিক তার বিপরীত দিকে যেখানে জানালাটি অবস্থিত সেটি ছিল হযরত ওমর রা. এর কন্যা আম্মাজান হযরত হাফসা রা. এর হুজরা মোবারক।

সংকীর্ণ যেই গলি পথ দিয়ে সারা দুনিয়ার মানুষ নবীজি সা. এর রওজায়ে আতাহারে সালাম পেশ করে, চাইলে অপর পাশের দেয়াল ভেঙে সেই গলি পথ কে আরো চওড়া করা যেত। কিন্তু সেটি করা হয়নি। কারণ! অপর পাশের খোলা জানালা সমৃদ্ধ এই দেয়ালটি হল আম্মাজান হযরত হাফসা রা. এর হুজরার দেয়াল।

মসজিদে নববীর পূর্ব পাশে সারিবদ্ধভাবে নবীজি সা. এর স্ত্রীদের হুজরা নির্মিত ছিল। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. এবং আম্মাজান হযরত হাফসা রা. এর হুজরা দু'টি মুখোমুখি ছিল। মাঝে ছিল একটি গলিপথ। যে পথ দিয়ে এখন আমরা রওজায়ে আতাহারে সালাম করি।

নবীজি সা. এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এর যুগ সমাপ্ত হলো। অতঃপর হযরত ওমর রা. এর খেলাফত কালে ১৭ হিজরীতে মসজিদে নববী সম্প্রসানের প্রয়োজন দেখা দিল।

বিশেষ করে রওজায়ে আতাহারে সালাম দেয়ার সুবিধার্থে আম্মাজান হযরত হাফসা রা. এর হুজরাটি সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন দেখা দিল। যে হুজরায় তখনো তিনি অবস্থান করছিলেন।
নবীজি সা. ভূপৃষ্ঠে নেই তো কি হয়েছে! চোখের সামনেই তো রয়েছে নবীজি সা. এর রওজা মোবারক।

রওজায়ে আতাহারের পাশেই এই হুজরা খানায় তিনি নবীজি সা. এর স্মরণ নিয়ে বসবাস করতেন। আর যখনই মন চাইতো এই জানালা দিয়ে প্রাণপ্রিয় স্বামীর রওজার দিকে তাকিয়ে আত্মাকে প্রশান্ত করতেন। মন ভরে দুরুদ ও সালাম পেশ করতেন। আর অনুভব করতেন এইতো কয়েক হাতের দূরত্বে নবীজি সা. এর পাশে নবীজি সা. এর সঙ্গেই তিনি আছেন।

হযরত ওমর রা. বড় চিন্তায় পড়ে গেলেন। কিভাবে তিনি হাফসাকে অনুরোধ করবেন! এই হুজরাটি ছেড়ে দেয়ার জন্য? একদিন তিনি বাবার ভালোবাসা নিয়ে মেয়ের সাথে দেখা করতে গেলেন। খোঁজখবর নেয়ার পর কথাচ্ছলে বিষয়টি তাঁর সামনে তুলে ধরলেন।

দীর্ঘ ৭ বছর যাবত প্রানাধিক প্রিয় স্বামীর বিরহ যন্ত্রণায় যিনি ছটফট করছেন। জীবনের যে ক'টি দিন বাকি আছে অন্ততঃ রওজায়ে আতাহারের পাশে থেকে কিছুটা সান্তনায় বাঁচবেন। এখানে এসে নবীজি সা তাঁর পাশে বসতেন। তাঁর সাথে সময় কাটাতেন। এই হুজরার প্রতিটি কোনায় নবীজির স্পর্শ ও স্মৃতি মেখে রয়েছে। এটিও তাঁকে ছাড়তে হবে! বিষয়টি তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না। তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তাঁর কান্না দেখে সেদিনের মতো হযরত ওমর রা. ফিরে গেলেন।

পরদিন হযরত ওমর রা. আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. কে তাঁর কাছে পাঠালেন। আরো অনেকে তাঁকে অনুরোধ করলো। কিন্তু তিনি অনড়। ওমর রা. এর পক্ষ থেকে যখনই কেউ তার কাছে এই হুজরা সরানোর আবেদন নিয়ে আসতো তখনই তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠতেন। তখন তাঁকে বলা হলো, এই হুজরার বিনিময়ে মদিনার সবচেয়ে বড় বাড়িটি তাকে উপহার স্বরূপ দেওয়া হবে। তাতেও তিনি রাজি হলেন না। এমনকি সারা পৃথিবীর সব সম্পদের বিনিময়েও যদি কেউ তাঁকে এই হুজরা ছাড়তে বলতো তবুও তিনি কিছুতেই তাতে রাজি হতেন না।

কিছুদিন পর হযরত ওমর রা. স্বীয় ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. কে সাথে নিয়ে পুনরায় তাঁর (আম্মাজান হযরত হাফসা রা.) কাছে এলেন। এবার ভাই আব্দুল্লাহ সবিনয়ে বোনের কাছে আবেদন রাখলেন, যেন তিনি উম্মতে মুসলিমার কল্যাণার্থে এ হুজরাটি ছেড়ে দেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর বাড়িও আম্মাজান হযরত হাফসা রা. এর হুজরার সাথেই লাগোয়া ছিল। তিনি বোনকে অনুরোধ করলেন, হুজরাটি ছেড়ে দিয়ে তার বাড়িতে এসে ওঠার জন্য। তিনি বোনের জন্য এই বাড়ি ছেড়ে অন্যখানে চলে যাবেন। আর এ বাড়িটিও তো তাঁর হুজরার সাথেই। সুতরাং তিনি নবীজি সা. এর কাছেই অবস্থান করবেন।

এবার আম্মাজান হযরত হাফসা রা. এর মন নরম হলো। তিনি তাঁর হুজরা ভেঙে পথ সম্প্রসারণের অনুমতি দিলেন। তবে তিনি শর্ত রাখলেন, ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের যে বাড়িতে তিনি উঠছেন রওজা শরীফ বরাবর তার দেয়ালে একটি জানালা খুলতে হবে। আর এই জানালাটি কখনো বন্ধ করা যাবে না। যেন মন চাইলেই তিনি এই জানালা দিয়ে রওজা পানে তাকিয়ে থাকতে পারেন। হযরত ওমর রা. ওয়াদা করলেন যে, কখনোই এ জানালাটি বন্ধ করা হবে না।

হযরত ওমর রা. এর খেলাফত শেষ হলো। ওসমান ও আলী রা. এর যুগও সমাপ্ত হলো। আম্মাজান হযরত হাফসা রা.ও ইন্তেকাল করলেন। আরো কত শত খলিফা ও রাজা বাদশা গত হলো! কতবার মসজিদে নববীর পুনঃনির্মাণ ও সম্প্রসারণ হল! কিন্তু কেউই হযরত ওমর রা. এর কৃত সেই ওয়াদা ভঙ্গ করলেন না।

১৪০০ বছর যাবত এই খোলা জানালাটি নবী ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এবং ওয়াদা রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

মাহমুদ টেলিকম

03/03/2023

ঐ রব্বে কা'বার কসম যদি এই দিন পর্যন্ত ছুটি পেতাম,,তাহলে আজ নবীর পক্ষে শহীদি মৃত্যু পেয়ালা পান করতাম😭
হে রব্বে কা'বা শহীদি মৃত্যু চাই🤲

Address

Dhaka

Telephone

+8801944550801

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হিলফুল ফুজুল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to হিলফুল ফুজুল:

Share