17/09/2025
AI ফটো ফিতনা” — আধুনিক যুগের ডিজিটাল মূর্তিপূজা?
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, অনেক মুসলমান— এমনকি কিছু আলেম ও দ্বীনদার মানুষও— AI (Artificial Intelligence) দিয়ে বানানো ছবি প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে সুফি বা দরবেশ সাজে, ঝলমলে কল্পনাপ্রসূত মুখাবয়বে নিজেকে উপস্থাপন করছেন।
একদিকে মুখে বলা হয় “পশ্চিমা সংস্কৃতি আমাদের ধ্বংস করছে”,
অন্যদিকে সেই পশ্চিমাদের বানানো প্রযুক্তি দিয়ে নিজের “ডিজিটাল মূর্তি” বানিয়ে পোস্ট দিচ্ছি।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটা কতটা সমর্থনযোগ্য?
কুরআন বলছে:
وَلَا تُصَوِّرُوا الْأَشْخَاصَ فَإِنَّ ذَلِكَ مِمَّا يُعَذِّبُ بِهِ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“তোমরা জীবন্ত প্রাণীর ছবি এঁকো না; কিয়ামতের দিন আল্লাহ এসব ছবির কারণে মানুষকে শাস্তি দেবেন।”
সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫২২৬)
অনেক হাদীসে দেখা যায়, ছবি আঁকা, মূর্তি নির্মাণ ও অহংকারপূর্ণ আত্মপ্রদর্শনকে গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
AI দিয়ে বানানো হলেও তা যদি চেহারাভিত্তিক, আত্মপ্রশংসামূলক বা বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যে হয়, তা ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফতোয়া ও ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি:
১. AI বা ডিজিটাল আর্ট ব্যবহার যদি বাস্তবিক ছবি হুবহু হয়, তাহলে এটি অনেক আলেমের দৃষ্টিতে
“তাসওয়ীরের হুকুমে পড়বে” — অর্থাৎ, মূর্তি বা জীবন্ত প্রাণীর ছবি আঁকার মতো। (দেখুন: دار الإفتاء، جامع الفقه الإسلامي، দারুল উলূম দেওবন্দ ফতোয়া,
২. যদি উদ্দেশ্য হয় অহংকার, ফ্যাশন, বা নিজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা —
তাহলে সেটা শুধু হারাম নয়, বরং রিয়ার (আত্মপ্রদর্শনের) মতো মারাত্মক রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে:
আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছেন এই ছবিতে?
“AI ভার্সনে আমি অনেক স্মার্ট?”
নাকি আপনি বলছেন, আল্লাহর দেওয়া চেহারার চেয়ে কল্পনার ছবিই ভালো?
এটা কেবল দৃষ্টিভ্রান্তি নয় — বরং আত্মপ্রশংসা, আত্মবিস্মৃতি, এবং ইসলামী পরিচয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
একদিকে বলছেন — “পশ্চিমা ফিতনা, পশ্চিমা সংস্কৃতি ধ্বংস করছে”
আরেকদিকে…
পশ্চিমাদের তৈরি AI টুল, তাদের ফ্যাশন ও ছবির ট্রেন্ডে নিজেকে সাজিয়ে প্রমোট করছেন।
এটাই কী তাওহীদের দাবি, না দ্বিচারিতা?
সতর্কবার্তা মুসলিম ভাই ও বোনদের প্রতি:
1. AI ফটো ফিতনা” — আধুনিক যুগের ডিজিটাল মূর্তিপূজা?