31/01/2023
নবী সাঃ এর বিরূদ্ধে বিগত কয়েক বছরেই 60 হাজার কিতাব লেখা হয়েছে। আর 1400সো বছর ধরে কতো কিতাব লেখা হয়েছে আল্লাহই ভালো জানেন।
নবী সাঃ পক্ষে আলহমদুলিল্লাহ লাখো কিতাব লেখা হয়েছে হচ্ছে হবে, এই পর্যন্ত কত কিতাব লেখা হয়েছে সেটা আল্লাহই ভাল জানেন।
তাই বেশি চাপ নেয়ার দরকার নেই প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে। নিয়ম কানুন সময় মেনে ও সাংগঠনিকভাবে।
বেশিরভাগ সময়ে এরা ইসলামকে ইউজ করে নিজেরা ফেমাস হওয়ার জন্য তসলিমাকে কেউ চিনত না যদিনা ইসলামের বিরুদ্ধে আলোচনা করতো। তসলিমা নাসরিন রাসূলুল্লা-হ্ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে যা লিখেছে তা অনেক মানুষের মনে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করবে। তাদের জন্য ছোট্ট করে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর-
★সে তার সাথে রাসূলুল্লাহর কিছু মিল দেখাতে গিয়ে বলেছে,
তার আর রাসূলের জন্ম নাকি একই তারিখে। ১২ই রবিউল আওয়াল। কিন্তু এর জন্ম ২৫শে আগষ্ট ১৯৬২ ইংরেজী।[উইকিপিডিয়া]
যা হিজরী মোতাবেক ২৪ শে রবিউল আওয়াল, ১৩৮২ হয়।
এখানেই বুঝা যায় ব্যত্তমিজটা কত বড় মিথ্যাবাদী কাজ্জাব।
★রাসূলুল্লাহ্ সমাজে নতুন বার্তা দিয়েছিলেন। সেও নাকি দিয়েছে।
আসলে সমাজে ফুলও গন্ধ ছড়ায়, পায়খানাও গন্ধ ছড়ায়।
এখন পায়খানা যদি বলে,
ফুল এবং আমি দুটাই গন্ধ ছড়াই; আমরা সমানে সমান। তাহলে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
★রাসূলুল্লাহর হিজরতকে সে তার নির্বাসনের সাথে মিলাতে চেয়েছে।
অথচ রাসূলুল্লাহর সেই সফর ছিল এক বিপ্লবের সূচনা।
মাত্র ১০বছরের ব্যবধানে পৃথিবীকে ঝকমক করে দিলেন। সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন হলেন। ফিরে আসলেন মক্কায়। বিজয়ী বেশে, কেউ বাঁধা দেবার সাহসটুকুও পেলোনা। তার বিরুদ্ধে একটা তরবারীও উঠলোনা।
আর আজ তসলিমার নির্বাসনের ২৯ বছর হতে চললো। ২৯ বছরে তার অর্জন একটা ফেসবুক আইডি, আর কমেন্টবক্স ভরা অভিশাপ।
★অভিশপ্তটা রাসূলুল্লাহর দন্তমোবারাক শহীদ হওয়ার সাথে, তার পঙ্গুত্ব বরণ করাকে গজব হিসাবে মিলাতে চেয়েছে।
কিন্তু জানেনা আমাদের রাসূল বীর যোদ্ধা ছিলেন। সেনাপতি ছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে একজন বীরের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া আর পায়জামায় প্যাচ খেয়ে পড়ে গিয়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মধ্যে এক পৃথিবী ফারাক।
খুব কাছের এক্সাম্পল দিয়ে বুঝাতে গেলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পঙ্গুত্ব বরণ করা অনেকেই আমাদের বীর খেতাবধারী। রাষ্ট্র তাদের কাছে ঋণী। জাতী তাদেরকে অনার করে।
★রাসূলুল্লাহ্ একাধিক বিয়ে করেছিলেন, আর সেও করেছে।
কিন্তু রাসূলুল্লাহর একসাথে একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেউ কখনো রাসূলুল্লাহ্কে ছেড়ে যাবার কথা চিন্তাও করেননি। মৃত্যুর পরও অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেননি। রাসূলের ব্যক্তিত্বে, প্রেমে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন।
কিন্তু তসলিমার তিনটা বিয়ে করেছিল। একটাও টিকেনাই। এখন সে খুব একা, নিঃস্ব। আসলে কোন মানুষ তার সাথে থাকতে পারেনা।
★সে বলেছে রাসূলুল্লাহর লাশ মোবারক দাফনে ৩ দিন বিলম্ব হয় এবং সেটা পঁচে যেতে শুরু করে। নাউযুবিল্লাহ্।
রাসূলুল্লাহ সোমবার দুপুরের পর ওফাত লাভ করেন। বুধবার ইশার পর দাফন হয়। আরবি হিসাবে সূর্যাস্ত হতে বার শুরু হয়।
ধরি,
সোমবারের বাকী ৪ ঘন্টা
মঙ্গলবার রাত+দিন ২৪ ঘন্টা
বুধবার সূর্যাস্ত হতে ইশা ২ ঘন্টা।
টোটাল ৩০ ঘন্টার মত হয়।
সেটা কখনোই তিনদিন নয়।
একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুর পর এতটুকু সময় প্রয়োজন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।
প্রিয় মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মানুষকে এটাই তো বুঝানো যাচ্ছিলোনা। মানানো যাচ্ছিলোনা।
উমর রদিইয়াল্ল-হু 'আনহু তো তরবারী হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বললেন, রাসূলের মৃত্যু হয়েছে এটা কেউ বললে, তাকে শেষ করে দিবো।
তার উপর রাষ্ট্রের পরবর্তী শাসক নির্বাচন, দাফনের স্থান নির্ধারণ এবং ওফাতের স্থানে দশজন দশজন করে অসংখ্য মানুষের জানাজা আদায় করা।
তসলিমা বলেছে,
অন্তত তার লাশ নিয়ে এতকিছু হবেনা। লাশ নিয়ে যাবে হসপিটাল। আসলে তার লাশ নিয়ে এতকিছু আয়োজনের মত সেরকম কেউ না সে।
তার মৃত্যুর ১৪ দিন পর তাকে কেউ স্মরণও করবেনা।
অথচ মৃত্যুর ১৪'শ বছর পর সেই একই উদ্দীপনা নিয়ে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ রাসূলুল্লাহকে ভালোবাসে।
আমি মাদীনায় থাকি। আমি দেখি,
প্রায় দেড় হাজার বছর, দেড় হাজার বছর আগে গত হওয়া মানুষটার রওজা কত প্রাণোচ্ছল। বছরে এমন কোন দিন নেই, যেদিন রাসূলের রওজা জিয়ারত করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে পৃথিবীর নানা প্রান্ত হতে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছেনা।
তারা রওজায় সালাম দিতে গিয়ে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চোখের পানি ছাড়ে। মানুষ বেরুতে চায়না সেখান হতে। বের করা যায়না।
মসজিদে নববীর প্রান্তরে আসলে দেখা যায়, কত মানুষ সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আছে এক পৃথিবী আবেগ নিয়ে।
এমন কোন সেকেন্ড নেই, যেই সেকেন্ডে পৃথিবীতে মুহাম্মাদের নাম ধ্বনিত হয়না। লাখো মানুষ তাঁর উপর দরূদ পড়েনা।
সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
@মাহদী ফয়সাল