28/02/2025
শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখুন!
মানুষ যখন একটা খারাপ জিনিস প্রথম বার দেখে, সে আঁতকে উঠে বলে, “আস্তাগফিরুল্লাহ! একি দেখলাম! ছি ছি!” এরপর সে যখন আবার সেটা দেখে, সে ভাবে, “নাহ! এরকম করা উচিত না।” তারপর আবার যখন দেখে, “কী আর করা যায়। সবসময় কি ভালো হয়ে চলা যায়? এই জীবনে চলতে গেলে একটু-আকটু পাপ সহ্য করতে হবেই।”
তারপর একদিন সে সেই খারাপ কাজ নিজে করার জন্য উসখুস করতে থাকে। একসময় সে সেটা করে ফেলে এবং সাথে সাথে অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর সে আবার করে। এবার তার অনুতাপ কমে যায়। তারপর আবার, এবং আবার। একসময় সেই খারাপ কাজ করাটা তার জন্য স্বাভাবিক হয়ে যায়। কেউ তখন তাকে বার বার বোঝালেও সে শোনে না। বরং উল্টো রেগে গিয়ে বলে, “আপনারা সব তালেবান হয়ে যাচ্ছেন। এই সব মান্ধাতা আমলের চিন্তা ভাবনা আজকের যুগে চলে না। আমি একা না করলে কী হবে, এটা আজকে সবাই করছে।”
সাইকোলজির ভাষায় এভাবে ধীরে ধীরে প্রতিক্রিয়াহীন, অনুভূতিহীন হয়ে অন্তর শক্ত হয়ে যাওয়াকে ‘ডিসেন্সিটাইজেশন’ বলে। ডিসেন্সিটাইজেশনের ফলে মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যায়। আজকালকার টিভিতে এমন সব অশ্লীল, ভায়োলেন্ট ব্যাপার অহরহ দেখানো হয়, যা ২০ বছর আগে দেখলে আমরা আঁতকে উঠতাম। কিন্তু আজকে আমাদের কাছে এগুলো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ২০ বছর আগের টিভি প্রোগ্রামগুলো সরাসরি কাউকে মাথায় গুলি করে মেরে ফেলা দেখানো হতো না। অথচ আজকে সেই মাথা, হাত, পা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে, রক্তের ফোয়ারা বের করে দেখানো হয়। আর আমাদের কিশোর-তরুণরা ভাবলেশহীনভাবে হাই তুলতে তুলতে সেই দৃশ্যগুলো তাকিয়ে দেখে।
আজকাল তারা এই ধরনের জঘন্য কাজ শুধু টিভিতে বসে দেখে-ই না, কম্পিউটার ছেড়ে ভিডিও গেমে গিয়ে এই কাজগুলো তারা নিজের হাতে করে। এরপর তারা যখন বড় হয়ে রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোতে যোগ দেয়, মারামারি, ধর্ষণ করে, এমনকি খুনও করে — আমরা তখন অবাক হয়ে ভাবি: কীভাবে তারা এত খারাপ কাজ করতে পারল?
মনোবিজ্ঞানীরা একবার কয়েকজন ৮-১০ বছর বয়েসি বাচ্চাদের নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। বাচ্চাদের এক দলকে তারা ২০ মিনিট ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলতে দেন। আরেক দলকে তারা সাধারণ ভিডিও গেম খেলতে দেন। তারপর উভয় দলকে ১০ মিনিট ধরে সংবাদ চ্যানেলগুলো থেকে নেওয়া বাস্তব জীবনের যুদ্ধ, মারামারির কিছু ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়। তারপর তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখা গেল: যেই দল ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলেছিল, তাদের রক্ত চাপ, চামড়ায় ঘামের পরিমাণে সে রকম কোনো পরিবর্তন হলো না। কিন্তু অন্য দলটি, যারা ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলেনি, তাদের উত্তেজনায় রক্ত চাপ বেড়ে গেল, আতংকে ঘেমে গেল। এ থেকে বোঝা গেল, ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলার ফলে প্রথম দলের বাচ্চাদের যুদ্ধ, মারামারি, খুনাখুনি দেখে আর সেরকম প্রতিক্রিয়া হয় না। তাদের কাছে সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে যায়। এই হলো মাত্র ২০ মিনিট ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলার ফলাফল!
এরপর এই দুই দলের বাচ্চাদের প্রত্যেককে একটা রুমে নিয়ে তাদের সাথে কিছু আলাপ করা হলো। আলাপের ফাঁকে হঠাৎ করে টেবিল থেকে কিছু একটা ফেলে দেওয়া হলো। যারা ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলেনি, তারা প্রায় সবাই ভদ্রতা বশত উঠে গিয়ে সেটা তুলে নিয়ে আবার টেবিলে রেখে দিলো। কিন্তু যারা মাত্র ২০ মিনিট ভায়োলেন্ট ভিডিও গেম খেলেছে, তাদের বেশির ভাগই সেটা দেখেও না দেখার ভান করল! মাত্র ২০ মিনিটের ভায়লেন্স তাদের ভেতরের সৌজন্যবোধ, অন্যদেরকে সন্মান করা অনেকখানি নষ্ট করে দিল!
(সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিমার্জিত )