Spread To ISLAM

Spread To ISLAM We work to spread the knowledge of Islam among the people.

30/09/2022

আল্লাহর কাছে দোয়াকারী বান্দাগন দুইবার কাঁদেন ।
একবার দোয়া করার সময় কাঁদেন।
আরেকবার দোয়া কবুল হতে দেখে আনন্দের আতিশয্যে কাঁদেন।.

শায়খ আতিক উল্লাহ

24/09/2022

মাকে সন্তষ্ট কর, দুনিয়া-আখেরাতের কোথাও তুমি আটকাবে না: মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ।

আজ তোমাদেরকে শুধু একটি কথা বলার জন্য একত্র করেছি। এই সফরে হারামে নববীতে বসে আমার বন্ধু মাওলানা ইয়াহইয়াকে বললাম, ‘এখন আমি কী ভাবছি জানো?

আমি ভাবছি, কীভাবে আমার ছেলেদেরকে বোঝাতে পারি যে, মায়ের দোয়ার ফযীলত কী; মায়ের দোয়া থাকলে কী হয় আর দোয়া না থাকলে কী হয়।

আমি জানি না, কীভাবে বললে, কোন ভাষায় বললে আমার ছেলেরা বুঝতে পারবে এবং মায়ের জন্য জান কোরবান করবে। ওরা যদি বলে যে, আপনার কলিজাটা বের করে দেন, আমরা ওটা চিবিয়ে খাব, তারপর বুঝব, তাহলে আমি আনন্দের সাথে আমার কলিজাটা বের করে টুকরো টুকরো করে সবাইকে খাইয়ে দিব।’ এর অর্থ এই নয় যে, আমি খুব বুঝে গিয়েছি।

তবে এতটুকু বুঝেছি যে, মা ছাড়া সন্তানের কোনো গতি নেই। মা যেমনই হোক মায়ের দোয়া যারা পাবে জীবনে তাদের কোনো ভয় নেই। মানুষ তো মূল্যবান সম্পদ অনেক পয়সা খরচ করে অর্জন করে। আমরা সবাই যেন মায়ের সন্তুষ্টিকে মূল্যবান সম্পদ মনে করি এবং যেকোনো মূল্যে তা অর্জন করার চেষ্টা করি।

এই হজ্বের সফরে আল্লাহর কাছ থেকে যা কিছু পেয়েছি, তা সবই আমার মায়ের দোয়ার বরকত। এটা আমাকে আল্লাহ তাআলা হাতে ধরে ধরে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সফরে একজন আমাকে বলল, ‘আপনি শুধু মায়ের কথা বলছেন, বাবার কথা কেন বলছেন না?’ বললাম, ‘ভাই! আমি কী করব? আমার আল্লাহই শুধু মায়ের কথা বলেছেন’- ووصينا الانسان بوالديه احسانا حملته امه كرها ووضعه كرها ‘মা-বাবার প্রতি সদাচরণ কর কারণ মা কষ্ট করে তোমাকে গর্ভে ধারণ করেছেন …।’

দেখুন, মা-বাবা দু’জনের সাথেই সদাচরণের আদেশ করেছেন এরপর আর বাবার কথা নেই, আছে শুধু মায়ের কথা। এর দ্বারা বোঝা যায়, বাবা যা কিছু পাচ্ছেন মায়ের সঙ্গে থাকার কারণে পাচ্ছেন। যেহেতু তিনি মাকে অর্থ দিয়ে, শক্তি দিয়ে সাহায্য করেছেন তাই তিনি কিছু পাচ্ছেন।

সুতরাং আমার বাবা যদি আমার মায়ের সাথে ভালো আচরণ না করেন তাহলে তিনি আমার মুহাব্বত পাবেন না। তবে রক্তের হক আছে তাই বেআদবী করব না, আদব রক্ষা করব এবং কোরআন যে আনুগত্যের কথা বলেছে সে আনুগত্য করব। কিন্তু মুহাব্বত আর করব না। আমার মুহাব্বত পেতে হলে আমার বাবাকে আমার মায়ের মাধ্যমে আসতে হবে।

এই কথাটা আমি নিজেকেও বলছি। আমি যদি আমার সন্তানের মুহাব্বত পেতে চাই তাহলে তার মায়ের সাথে আমাকে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তোমরা যদি মায়ের মর্যাদা বুঝতে পার তাহলে আমি আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারি যে, দুনিয়াতে এবং আখেরাতে কোনোখানে ইনশাআল্লাহ তোমরা আটকাবে না।

মাদরাসাতুল মদীনার সাথে যদি তোমাদের সম্পর্ক থাকে তাহলে শোন! তোমরা মাদরাসাতুল মদীনার তালিবুল ইলম তখনই হতে পারবে যখন তোমরা মায়ের অনুগত হবে এবং তোমার মা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন। এবার সফরের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। আম্মাকে বললাম, আম্মা! আমি কী নিয়ে আল্লাহর ঘরে যাব? আমার ভিতর তো একেবারে খালি।

আম্মা বললেন, ‘আল্লায় দিব।’ মায়ের এই দোয়াটা নিয়ে আমি আল্লাহর ঘরে গিয়েছি। আল্লাহ এত দিয়েছেন যে, আমি আল্লাহর প্রতি খুশি হয়ে গিয়েছি। আল্লাহ পদে পদে এত দয়া, এত মায়া, এত মুহাব্বতের আচরণ করেছেন যে, ঐ হাদীসটি বার বার মনে পড়েছে-‘মায়ের চেয়েও আল্লাহর মুহাব্বত বেশি।’

ওখান থেকেই আমার নিয়তে এসেছে, আমি গিয়েই আমার ছেলেদেরকে জমা করব এবং মায়ের দোয়া দিয়ে কী পাওয়া যায় তা বলব। এটা যদি আমার ছেলেদেরকে না বলি তাহলে আর কাদেরকে বলব? আমার ছেলেদের চেয়ে প্রিয় আমার আর কে আছে? এবারের এ আয়োজনটাও (সবাইকে খেজুর ও যমযম পান করানো) মায়ের দোয়ার বরকত।

মাদরাসাতুল মদীনায় তোমাদের কিছু পাওয়ার দরকার নেই। সবাই মাকে খুশি রাখ। মা যদি না পড়লে খুশি হন পড়ো না, আর পড়লে খুশি হলে পড়। মূল উদ্দেশ্য হল, মাকে খুশি করা। আর মাকে কেন খুশি করবে? আল্লাহ বলেছেন তাই। মায়ের খেদমত করা, মাকে খুশি রাখা অর্থাৎ খিদমাতুল ওয়ালিদাইন ও ইহসান ইলাল ওয়ালিদাইন হল মাদরাসাতুল মদীনার নেসাব। এটায় যে পাশ করল সে মাদরাসাতুল মদীনা থেকে পাশ করে গেল।

আর এই নেসাবে যে পাশ করল না সে মাদরাসাতুল মদীনার ছাত্র পরিচয় দেওয়ার-আমি মনে করি-অধিকার রাখে না। আল্লাহ যেন আমার সকল ছেলেকে, এখন যারা আছে তাদেরকে, পিছনে যারা ছিল তাদেরকে, এবং সামনে যারা আসবে তাদেরকে মায়ের খেদমত করার এবং মাকে খুশি করার তাওফীক দান করেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেকে বাঁচানোর জন্য মায়ের মমতাকে জাগিয়ে দিয়েছিলেন। মৃত্যুর সময় মুখে কালিমা জারি হচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, এ ব্যক্তি হয়তো মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাই কালিমা জারি হচ্ছে না। ওর মাকে নিয়ে আস। মাকে বললেন, তুমি তোমার ছেলেকে মাফ করে দাও। মা বললেন, না আমাকে ও অনেক কষ্ট দিয়েছে, আমি ওকে মাফ করব না। মাফ করবে না? আচ্ছা এক কাজ কর, লাকড়ি জোগাড় করে আগুন জ্বাল। এরপর ছেলেটাকে আগুনে ফেলে দাও।

তখন মা বলে কি, আল্লাহ! আল্লাহ! এটা করবেন না! এটা করবেন না! আমি মাফ করে দিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার সন্তান দুনিয়ার আগুনে জ্বলুক-এটা সইতে পারছ না, কিন্তু তোমার বদ দোয়ার কারণে সে যখন জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে তখন সহ্য করবে কীভাবে?

তো তিনি মায়ের মমতাকে জাগ্রত করে সন্তানকে রক্ষা করেছেন। প্রত্যেক হজ্বের সফরে আমি সঙ্গীদেরকে বলার চেষ্টা করি যে, ‘হজ্ব করতে এসেছেন তো হজ্ব থেকে ফায়দা হাসিল করারও চেষ্টা করুন। হজ্ব থেকে ফায়দা হাসিল করতে হলে আপনার সাথে যে কয়জন নারীর সম্পর্ক আছে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে।

আপনার সাথে মায়ের সম্পর্ক আছে, বোনের সম্পর্ক আছে, মেয়ের সম্পর্ক আছে, স্ত্রীর সম্পর্ক আছে। তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করলে আপনি হজ্বের ফায়দা পাবেন, হজ্বের বরকত পাবেন।’ দেখ, আল্লাহ তাআলাও আমাদেরকে যমযম দান করার জন্য হাজেরা আ.-এর মাতৃত্বকে অসীলা বানিয়েছেন। তাঁর তড়প ও বে চায়নী না হলে যমযম আসত না।

অনেক বছর আগে একটা গজল শুনেছিলাম-‘যমযম ক্যায়্যা হ্যায়, এক মা কি তড়প।’ ‘যমযমের হাকীকত কী? শুধু একজন মায়ের ব্যাকুলতা।’ যখনই যমযমের একটা ঢোক পান করি তখনই আমার মনে হয় আমি যেন মাতৃত্বের দান গ্রহণ করছি। সাফা ও মারওয়ার যে সাঈ এটা তো আসলে মায়ের তড়প।

বলতে গেলে পুরো হজ্বটাই নারী সমাজের একটা অবদান পুরুষ সমাজের উপর। মোটকথা, মায়ের প্রতি, বোনের প্রতি, স্ত্রীর প্রতি, কন্যার প্রতি এবং নারী সমাজের প্রতি সদয় হওয়া হজ্বের শিক্ষা। মদীনায় পৌঁছে ভিতরটা খুব অন্ধকার মনে হল। যিয়ারতে যাওয়ার সাহস হচ্ছিল না। সবাই গেলেন, কিন্তু আমি যেতে পারলাম না।

হারামে নববীতে শুয়ে আছি, হঠাৎ শেষ রাত্রে মনে হল, আল্লাহ আমাকে ডাক দিয়েছেন, মিয়া! তোমার না মা আছে। তুমি এত চিন্তা করছ কেন? তোমার মায়ের থেকে দোয়া নাও। মায়ের থেকে দোয়া নিলেই আমি তোমার রাস্তা খুলে দিব। মনে হল, আমি এই সম্বোধনটা আমার আল্লাহর কাছ থেকে শুনতে পেলাম।

আসমানের দিকে তাকিয়ে বললাম, আল্লাহ! তোমার শোকর, তুমি দিলের মধ্যে ঢেলে দিয়েছ। তোমার সম্বোধন আমি বুঝতে পেরেছি। তোমার শোকর। আমি তো কোনো সফরের মধ্যে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলিনি, কিন্তু তুমি দিলে ঢেলে দিয়েছ তাই আমি মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলব। মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিব। এরপর কিন্তু তুমি আর আমাকে না দিয়ে পারবে না।

এরপর ফোন করে মায়ের সাথে কথা বললাম, আম্মা! আমার অবস্থা খুব খারাপ। আমি সাহস পাচ্ছি না আল্লাহর নবীর সামনে যেতে। আপনিও তো সালাম পেশ করার দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু আমি তো যেতে সাহস পাচ্ছি না।

আপনি আমার জন্য দোয়া করেন। আমি এখন রওনা দেব। মা বললেন, ‘আচ্ছা।’ একটিমাত্র শব্দ। আমার মনে হল, ঠাণ্ডা পানি পান করলে যেমন গলা-বুক শীতল করে পানিটা নেমে যায়, তেমনি আচ্ছা শব্দের শীতলতাও আমার প্রতিটি শিরায় উপশিরায় প্রবাহিত হচ্ছে। সমগ্র সত্তাকে শীতল ও স্নিগ্ধ করে দিল একটি শব্দ।

আমি অনুভব করলাম, আচ্ছা শব্দের আলোটা আমার ভেতর প্রবেশ করছে আর আমার অন্ধকারগুলি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। আমার সর্বসত্ত্বা পূর্ণ আলোকিত হয়ে গেল মায়ের একটি ‘আচ্ছা’ শব্দ দ্বারা। একজন প্রশিক্ষিত সৈনিক যেমন অস্ত্র হাতে পেলে নির্ভীক হয়ে যায় আমি তেমনি ‘আচ্ছা’ শব্দের অস্ত্রটা পেয়ে নির্ভীক হয়ে গেলাম।

আমি রওয়ানা দিলাম। এত তৃপ্তি! এত শা্ন্তি! গিয়ে যখন দাঁড়ালাম মনে হল, আমি যেন দুনিয়ার সবচেয়ে আপন জায়গায় এবং সবচে প্রিয় জায়গায় এসে পড়েছি। জীবনে এমন সুন্দর সালাম মনে হয় আর কখনো পেশ করার তাওফীক হয়নি। আমি আল্লাহকে বললাম, আল্লাহ! আমি মায়ের দোয়া নিয়ে এসেছি। এখন তুমি আমাকে খালি হাতে কীভাবে ফিরিয়ে দিবে!

খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে চাইলে তো তুমি মায়ের কথাটা মনে করিয়ে দিতে না। তো আলহামদুলিল্লাহ, ঐ দুরুদ ও সালামের বরকত খুব অনুভব করেছি। তখনই মনে হয়েছে যে, আমার সন্তানদেরকে এটা বোঝাতে হবে। দেখ, আল্লাহ কেমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মায়ের দিকে মুহাব্বতের নযরে তাকালে তুমি মাকবুল হজ্বের সওয়াব পাবে।

কিন্তু মানুষের তো ঐ হজ্বের দরকার নেই, তাদের শুধু দরকার দুই লাখ তিন লাখ টাকা খরচ করে এই হজ্ব করা! তোমরা মায়ের হয়ে যাও। মায়ের হয়ে গেলে আল্লাহর হয়ে যাবে। আর আল্লাহর হয়ে গেলে আল্লাহও তোমাদের হয়ে যাবেন। মাকে কখনো কষ্ট দিয়ো না।

যে মায়ের অবস্থা এমন যে, সন্তান অসুস্থ হলে তাঁর আর কোনো অসুস্থতা থাকে না, নিজের সকল অসুস্থতার কথা ভুলে যান সন্তানের চিন্তায়-সেই মাকে মানুষ কীভাবে কষ্ট দেয়! আমি অনেক সময় অনেকের জন্য দোয়া করি যে, আল্লাহ তাআলা যেন তোমার প্রতি তোমার মায়ের মুহাব্বত কমিয়ে দেন।

কারণ মায়ের অন্তরে যদি তোমার প্রতি বেশি মুহাব্বত থাকে তাহলে জ্বলনও বেশি হবে। আর তুমি যেহেতু তার মুহাব্বতের মর্যাদা রক্ষা করছ না সুতরাং জ্বলনটা যত বেশি হবে তোমার পক্ষ থেকে অমর্যাদাও তত বেশি হবে।

ফলে তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকবে। তারচে তোমার প্রতি যদি তোমার মায়ের মুহাব্বতটা কমে যায় তাহলে জ্বলনটাও কমে যাবে। ফলে তুমি একটু রক্ষা পাবে। কিংবা আল্লাহ যেন তোমাকে মুহাব্বতের মর্যাদা রক্ষা করার তাওফীক দান করেন। যাই হোক, তোমরা যদি বাঁচতে চাও তাহলে মায়ের বিষয়টা খেয়াল রাখার চেষ্টা কর। এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট রাস্তা।

এই রাস্তায় আমাদের বড় বড় সৌভাগ্য আসতে পারে। আবার এটা আমাদের বরবাদিরও কারণ হতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- هما جنتك أو نارك মা-বাবা হল তোমার জান্নাত কিংবা জাহান্নাম। অর্থাৎ মা-বাবার মর্যাদা রক্ষা করে কেউ জান্নাতে যাবে আবার মা-বাবার অমর্যাদা করে কেউ জাহান্নামে যাবে।

আর আল্লাহ তাআলা তো মুশরিক মা-বাবার সঙ্গেও সদাচরণ করার আদেশ দিয়েছেন। এই পৃথিবীতে তোমাকে নিয়ে ভাববার কেউ নেই। এমনকি বাবাও তোমাকে নিয়ে তেমন ভাবেন না যেমন ভাবেন তোমার মা। ঘরে ভালো কিছু রান্না হলে তুমি নেই তাই নিজেও খেতে পারেন না। এমন মাকে ভালবাসবে না, সম্মান করবে না তো কাকে করবে!

মাকে ভালবাসলে, মাকে সম্মান করলে নিজেই লাভবান হবে। লেখাপড়া শিখতে মেধা লাগে, শ্রম লাগে, অনেক কিছু লাগে, কিন্তু মাকে ভালবাসতে, মাকে সম্মান করতে, মাকে খুশি করতে কিছুই লাগে না। তো বাবারা! মাকে ভালবাস, মাকে সম্মান কর, মাকে সন্তুষ্ট কর এবং মায়ের দোয়া হাসিল কর। তাহলে দেখবে দুনিয়া ও আখেরাতের কোথাও তুমি আটকাবে না। তোমার সন্তান হবে মর্যাদার শীর্ষে। আল্লাহ সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

23/09/2022

আহা!! কি মধুর!কতই না মায়া জড়িয়ে আছে এই কথা গুলোতে!!🌻❤️

ইয়া রাব্বি! ভীষণ কষ্টে আছি।
অজানা এক আতঙ্কে সমস্ত মন আচ্ছন্ন হয়ে আছে। আপনার নিরবতার ভাষা বুঝতে পারছিনা।
দয়া করে সাড়া দিন। দয়া করুন। কিছু তো বলুন।
হে অসীম রহমতের মালিক! আপনার অপার করুনায় আমার অন্তরের সমস্ত ক্ষত মুছে দিন। আপনার অসীম দয়ায় আমার সমস্ত শূন্যতা পূর্ণতায় বদলে দিন। আপনি নীরব থাকলে নিজেকে খুব অসহায়, শক্তিশূণ‍্য মনে হয়। দয়া করে নীরব থাকবেন না। আমি নিঃস্ব এক ভিখারী আপনার দুয়ারে দু'হাত পেতে বসে আছি আপনার রহমত লাভের আশায়। কল‍্যাণ ও বরকত লাভের আশায়। আমার সকল নেক আশা পূরণ করে দেবেন, সেগুলো বুকে চেপে আজীবন আপনার দুয়ারে বসে শুকরিয়া করে যাব সে আশায়।

হে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের বাদশা! অসীম ভান্ডারের মালিক! আল হাইয়‍্যু আল কইয়‍্যুম! ইয়া যুল জালালি ওয়াল ইকরম! আপনি বিমুখ হয়ে থাকলে কোথায় যাব! কার কাছে চাব! আমি ছাড়াও আপনার অনেক বান্দা আছে। আপনি ছাড়া আমার তো আর কোনো রব নেই। যাওয়ার যায়গা নেই। চাওয়ার যায়গা নেই। আমার আর কোনো পুঁজি নেই, শুধু এই চোখের পানি ছাড়া। কবুল করুন। দয়া করে আর মুখ ফিরিয়ে থাকবেন না। নীরব থাকবেন না। ক্ষমা করুন। মনের সমস্ত নেক আশা পূরণ করে দিন। আমার সমস্ত কষ্ট দুর করে দিন। অশান্ত অন্তরটাকে শীতল করে দিন। আপনিই তো বলেছেন ভিক্ষুক দুয়ারে এসে হাত পাতলে আমরা যেন খালি হাতে ফিরিয়ে না দিই। আপনি কি তবে এ ভিক্ষুককে খালি হাতে ফেরাবেন হে সুমহান দাতা??
আমার মত আরো অনেক ভাই-বোন নীরবে কষ্ট পাচ্ছে। আপনার সাড়া ও রহমত লাভের আশায় নীরবে চোখের পানি ফেলে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে কবুল করুন। সবার নেক হাত ও চোখের পানির উছিলায় আমাদের সবার সমস্ত কষ্ট দুর করে দিন।
সবার মনের সমস্ত নেক আশা পূরণ করুন।

আমীন ইয়া রাব্বে কারীম ❤️

© সংগ্রহীত

22/09/2022

❛❛আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া'সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ❜❜ ﷺ💓💓💓

03/09/2022

ইয়া আল্লাহ! আমাদের এমনভাবে পরিবর্তন করে দিন যেভাবে থাকলে আপনি আমাদের উপর সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন!🖤

আমিন!🥺🤲

30/08/2022

🧡🧡যে আমলে মানুষের প্রয়োজন পূরণ হয়🧡🧡

🔲আল্লাহ পাকের ১০ টি গুণবাচক নামের আমলের ফযিলত🔲

১- يا مليك (ইয়া-মালিকু) -যে গরিব ব্যক্তি প্রত্যহ ৯০ বার পাঠ করবে ৷ ইন শা আল্লাহ দারিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভ করবে ৷

২- يا سلام (ইয়া-সালামু) ১১১ বার পাঠ করে অসুস্থ ব্যক্তির উপর ফু দিলে ইন শা আল্লাহ সে সুস্থ হয়ে যাবে ৷

৩- يا مهيمن (ইয়া-মুহাইমিনু) কোন চিন্তাগ্রস্থ ব্যক্তি প্রতিদিন ২৯ বার পাঠ করলে ইন শা আল্লাহ তার দুশ্চন্তা দূর হবে এবং বিপদ আপদ হতে নিরাপদে থাকবে ৷

৪- يا عزيز (ইয়া-আযিযু) ৪১ বার পাঠ করে কোন বিচারক বা অফিসারের নিকট নিজের জায়েজ উদ্দ্যেশ্য পূরণের জন্য গিয়ে থাকলে ইন শা আল্লাহ সে তার প্রতি দয়া দেখিয়ে তার কাজ করে দেবে ৷

৫- يا بارى (ইয়া-বারিয়ু) প্রতি শুক্রবার যে ১০বার পাঠ করবে ইন শা আল্লাহ সে পুত্র সন্তান লাভ করবে ৷

৬- يا قهار (ইয়া-কাহহারু) যদি হঠাৎ কোন বিপদ এসে থাকে তখন ১০০ বার পাঠ করে নিলে ইন শা আল্লাহ বিপদ দূর হবে ৷

৭- يا فتاح (ইয়া ফাত্তাহু) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর দুই হাত বুকের উপর রেখে ৭০ বার পাঠ করলে ইন শা আল্লাহ অন্তরের মরিচিকা ও ময়লা দূর হবে ৷

৮- يا قابض (ইয়া কাবিদ্বু) যে প্রতিদিন ৩০ বার পাঠ করবে ইন শা আল্লাহ সে শত্রুর উপর বিজয় লাভ করবে ৷

৯- يا اول (ইয়া আওয়ালু) যে প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করবে ইন শা আল্লাহ তার স্ত্রী তাকে খুব ভালোবাসবে ৷

১০- يا نافع (ইয়া- নাফিয়ু) কোন কাজ শুরু করার পূর্বে ২০ বার পাঠ করলে ঐ কাজটি ইন শা আল্লাহ তার কাজটি তার ইচ্ছে অনুযায়ী পূরণ হবে ৷

28/08/2022

#চুপ_থাকা

🟢 ঈমানদার ব্যক্তি অনর্থক কথা বলে না

আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে; নতুবা চুপ থাকে।’ (সহিহ বুখারি : ১০২)

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে; নচেৎ চুপ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮; মুসলিম, হাদিস : ১৮২)

আবু মুসা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সর্বোত্তম মুসলিম কে?’ তিনি বললেন, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১১, মুসলিম, হাদিস : ১৭২)

★রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে নিরাপদ থাকতে চায় তার চুপ থাকা অতি জরুরী ।
(মুসনাদ আবী ইয়া`লা)

★রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জিহ্বা মানুষের অধিকাংশ পাপের মূল।

★চুপ থাকা হলো আলেমের সৌন্দর্য আর জাহেলের পর্দা।
(জামেউস সগীর)

★চুপ থাকা আখলাক সমূহের সরদার।
(মুসনাদুল ফিরদাউস)

★তোমার ওপর, নেকীর কথা বলা ছাড়া (বাকি সময়ে) বেশি চুপ থাকা জরুরি করে নাও। কারণ, এটি শয়তানকে তোমার নিকট থেকে দূর করে দেবে। আর ইসলামের কাজে তোমার সহায়তাকারী হবে। (ইবনে হিব্বান)

★হিকমতের ১০টি অংশ আছে। ৯টি অংশ একাকীতে আর ১টি অংশ চুপ থাকাতে আছে। (মুসনাদুল ফিরদাউস)

★হজরত সুলাইমান (আ.) বলেন, যদি কথা বলা রুপা হয় তাহলে চুপ থাকা স্বর্ণ ।

★হজরত দাউদ (আ.) বলেন, "আমি কথা বলে অনেক বার লজ্জিত হয়েছি কিন্তু চুপ থেকে কখনো লজ্জিত হইনি।

★হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন, যদি আল্লাহ পাকের কাজ করার কথা বলা রুপা হয় তাহলে তাঁর নাফরমানীমূলক কথাবার্তা থেকে চুপ থাকা স্বর্ণ।

★হজরত সুফিয়ান সওরী (রহ.) বলেন, দীর্ঘ চুপ থাকা ইবাদতের ভাণ্ডার ।

★হজরত সুফিয়ান সাওরী (রহ.) বলেন, ইবাদতের শুরু; চুপ থাকা। অতঃপর ইলম হাসিল করা, এরপর তা মনে রাখা। তারপর তার ওপর আমল করা। সবশেষে তা শেয়ার করা।

15/08/2022

জীবনসঙ্গীর জন্য দুআটা এমন হোক!

হে রব!
আমায় এমন কাউকে দান করুন, যিনি দুনিয়া ও আখেরাতে আমার সঙ্গী হবে। আমাকে দ্বীনের পথে আগলে রাখবে। খুব করে ভালোবাসবে। এমন ভালোবাসা, যা পছন্দ করেনআপনি এবং আপনার রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

হে রব!
উত্তম জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দিন। যে হবে আপনার রঙে রঙ্গিন। আর ভালোবেসে রাঙিয়ে দেবে আমাকেও আপনার রঙে।

ওগো রব!
বাহ্যিক দ্বীনদারিত্ব অনেককেই আজ ঘায়েল করে বসেছে। উপরে দ্বীনদারিত্বের মোড়কে নিজেকে আগলে নিলেও, দিলে দ্বীনদারিত্ব আগলে নিতে পারেনি অনেকে। এমন লোক থেকে রব আমাকে হেফাজত করুন। এমন জীবনসঙ্গী দান করুন, যিনি দ্বীনদার, আর আমাকেও দ্বীনদার বানিয়ে আপনার পথে হাঁটতে শেখাবে।

হে অন্তরের মালিক!

ইলমহীন অন্তর একদম শূন্য। যেকোনো সময় শয়তান ধোঁকা দিতে পারে। এমন একজন জীবনসঙ্গী আমাকে দান করুন, যিনি দ্বীন পালনের মতো সঠিক জ্ঞান রাখে। এমন জ্ঞান যা সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করে না। ঈমান ধ্বংস করে না। যার ইলম নিজেকে দ্বীনের পথে রাখতে পারে না তার থেকে আমাকে হেফাজত করুন!
এমন একজনকে দান করুন, যিনি শুধু ইলমের অধিকারী না, আমলেরও করেন যথাযথ পাবন্দি।

হে কা'বার মালিক!

ফিতনা ভরা যোগে একাকী ঈমান আগলে বাঁচা কঠিন।
হে পরওয়ারদিগার! এমন কাউকে দান করুন, যিনি ফিতনা থেকে আমাকে আগলে রাখবে। নিজেও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকবে।
আমি যে একাকী আর ফিতনার সাথে লড়তে পারছি না মালিক!
আমাকে আপনার পছন্দের কাউকে মিলিয়ে দিন, যিনি শুধু আমাকে ভালোবাসবে না, সাথে আপনাকেও ভালোবাসতে শেখাবে। রব আমি যে আপনাকে ভীষণ ভালোবাসতে চাই! চাই প্রিয়মানুষটাকে সঙ্গে নিয়ে আপনার সিজদায় মন ভরে কাঁদতে।

হে আরশের অধিপতি!
এমন কাউকে দান করুন, যার মাধ্যমে পৃথিবীতে আসবে নেক সন্তান! যে হবে ইলমের ময়দানে আলিমগণের রাহবার আর জি-হা-দের ময়দানে মু-জা-হিদদের সিপাহসালার!

হে মালিক!
আমাদের এমন সন্তান দান করুন! যে জন্ম দেবে আপনার ঘর মসজিদে আকসা উদ্ধারকারী সন্তান। যে হবে গজওয়াতুল হিন্দের অংশীদার।

হে রব!
দ্বীনের পূর্ণতা দানে আমার জীবনসঙ্গীকে উত্তমরূপে আমার জীবনে মিলিয়ে দিন। সে যেন হয় সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। যাকে দেখে এক দেখায় আমার মন ভরে যাবে। আর তখন আপনার দুয়ারে কৃতজ্ঞতা আদায় করে বলব—মালিক আলহামদুলিল্লাহ! আমি জিতেছি, চাওয়া জিনিসটা থেকেও আপনার কাছে ভীষণ বেশি পেয়েছি। 💗

13/08/2022

❝একটা সুন্দর মোনাজাত❞ 🤲

🌸.ইয়া আল্লাহ!!আমি জানিনা অতীতে কতটা পাপ করেছি, কতো ভুল করেছি জেনে না-জেনে, কত মানুষকে কষ্ট দিয়েছি, কত ওয়াক্ত নামাজ কাজা করেছি, কার কার নামে গীবত করেছি, কার কার নামে সমালোচনা করেছি, কত কি দেখে হিংসা করেছি! আসতাগফিরুল্লাহ্।

🌸·ইয়া আল্লাহ!! আপনি এখন আমাকে এমনভাবে তৈরি - করুন যাতে এসব থেকে আস্তে আস্তে মুক্তি পেতে পারি। আমাকে আলোর পথ দেখান, আমার মনে ইসলামের প্রেম বাড়িয়ে দিন। আমার মনে আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ভালবাসা এনে দিন। ইসলামকে জানার ইচ্ছা বাড়িয়ে দিন।

🌸ইয়া আল্লাহ!! কোনো বিপদ আসার আগেই আমাকে তা থেকে রক্ষা করুন। আমাকে বদনজর থেকে রক্ষা করুন। আমাকে পাপ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

🌸- ইয়া আল্লাহ, আমার ঈমান বৃদ্ধি করে দিন, আমার মনকে নরম বানিয়ে দিন, আমাকে বেশি বেশি তওবা করার তৌফিক দিন। আমাকে হেদায়েত দান করুণ। আমীন 🤲🖤

12/08/2022

'দুনিয়াতে গুনাহের শাস্তির সবচেয়ে কঠিনতম দিক হচ্ছে, ঈমান দুর্বল হয়ে যাওয়া। মুনাজাতের স্বাদ চলে যাওয়া। তাহাজ্জুদ নসীবে না জোটা। কুরআনের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়া। ইস্তেগফার কমে যাওয়া।'

- শায়খ আতিক উল্লাহ (হাফি.)

03/08/2022

তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে ধৈর্যশীল দাবি করতে পারবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি এমন কিছুর সাথে মানিয়ে চলতে পারবে, যার সাথে মানিয়ে চলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তোমার নেই।

—শায়খ সালমান আল আউদাহ।

01/08/2022

আল্লাহ্ জানেন আপনি ক্লান্ত, আপনার চারপাশের পরিস্থিতির কারণে আপনি অনেকবেশি বিষন্ন। আপনার উপর দিয়ে যা যাচ্ছে; আপনি যত কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সবকিছুর জন্যই দাঁতে দাঁত চেপে সবর করুন। শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করুন।

আপনার এই সবর, এই ভরসার উত্তম থেকে ও উত্তম প্রতিদান কি আল্লাহ আপনাকে দিতে পারেন না? অবশ্যই দিতে পারেন। একদিন এতবেশী দিবেন যে আপনি শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারবেন না।

নিশ্চয়ই যা কিছু হচ্ছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হচ্ছে। আল্লাহ্ জানেন আপনার জন্য কোনটা সঠিক। নিশ্চয়ই তিনি উত্তর পরিকল্পনাকারী।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Spread To ISLAM posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share