তারিখুল উমাম

তারিখুল উমাম ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধরিয়ে দেয়

আব্বাসি খলিফারা বিশেষ করে আল মামুন গ্রিক ভাষা থেকে দর্শন ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্রন্থাদি আরবিতে অনুবাদ করতে উৎসাহিত করে৷ য...
30/11/2025

আব্বাসি খলিফারা বিশেষ করে আল মামুন গ্রিক ভাষা থেকে দর্শন ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্রন্থাদি আরবিতে অনুবাদ করতে উৎসাহিত করে৷ যা এক সময় আধুনিক বিশ্বের ও ইউরোপীয় রেনেসাঁসের ভিত্তি হিসেবে কাজও করে।

খ্রিস্টান পণ্ডিতদের অনেকে তখন গ্রিক ও আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। বিশেষ করে হুনায়ন ইবনে ইসহাক ও তার শিক্ষার্থী পরিমন্ডল প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও পণ্ডিতদের রচনাসমূহ অনুবাদে অসামান্য ভূমিকা পালন করে। ৮৬১ থেকে ৮৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিভিন্ন খলিফার অধীনে বায়তুল হিকমার প্রশাসক হিসেবে কাজ করার সময় হুনায়ন ও তার দল অসংখ্য গ্রিক গ্রন্থ আরবিতে রূপান্তর করেন। গ্যালেন, ওরিবাসিয়াস, পল অব আইজিনা, হিপোক্রেটিস, হুফুস অব এডেসা, ডিওসকোরিডিস ও থিওমনেস্টস-এর মতো চিকিৎসাবিদদের রচনা যেমন তারা অনুবাদ করেন, তেমনি দার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটল, গণিতজ্ঞ ইউক্লিড, অটোলাইকাস, টলেমি, এবং আর্টেমিডর, নিকোলাস অব দামাস্কাস, আর্কিমিডিস, মেনেলাওস, আপোলোনিয়াস অব টায়ানা, আলেকজান্ডার অব অ্যাফ্রোডিসিয়াস, পোরফাইরি ও থেমিস্টিয়াসের রচনাও আরবিতে রূপান্তর করেন। এই বিশাল অনুবাদ কর্ম ইসলামী বিশ্বে গ্রিক জ্ঞানের বিস্তারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

এসব খ্রিস্টান পণ্ডিতরা গ্রিক ভাষা ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যে গভীরভাবে অভিজ্ঞ হওয়ায় মুসলিম দার্শনিকরা তাদের অতি মূল্যবান সহযোগী হিসেবে গণ্য করত। গ্রিক সাহিত্যকে আরবিতে অনুবাদের এই যৌথ উদ্যোগ আব্বাসীয় যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে—যে যুগকে আমরা আজ ইসলামের সোনালি যুগ বলে জানি।

পরবর্তীকালে এসব আরবি গ্রন্থ ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয় মাইকেল স্কটাসের মতো পণ্ডিতদের হাত ধরে। তিনি টলেডোতে কাজ করার সময় এভারোয়েসের Historia Animalium ও On the Soul–এর অনুবাদ করেন। একই সময়ে জেরার্ড অব ক্রেমোনা আরবি ভাষায় সংরক্ষিত টলেমির Almagest-কে ল্যাটিনে রূপান্তর করেন। সিসিলি ও ইতালিতেও এ ধরনের ল্যাটিন অনুবাদের নিদর্শন পাওয়া যায়। এই অঞ্চল দুটির মাধ্যমেই ইসলামী বিশ্ব থেকে ইউরোপে জ্ঞান আমদানিকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ তৈরি হয়। স্পেন ও ইতালি উভয়ই ইসলামী জ্ঞান (মুসলিমদের জ্ঞানতত্ত্ব) ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করে।

স্পেনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত টলেডো ইসলামী, খ্রিস্টান ও ইহুদি ঐতিহ্যের মিলনস্থলে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে ধ্রুপদি জ্ঞানচর্চার অন্যতম মহাকেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখানে গ্রিক, রোমান, পারসিক ও ভারতীয় বহু গ্রন্থ আরবি ও ল্যাটিনে অনূদিত হয়। জেরার্ড অব ক্রেমোনা ও অ্যাডেলার্ড অব বাথ এর মতো অনুবাদকরা বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের পণ্ডিতদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেন।

টলেডোর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ধ্রুপদি পাণ্ডুলিপিগুলো পশ্চিমা শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি জ্ঞানের— প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শনের মতো শাখায় এক বিশাল দরজা উন্মোচন করে দেয়। এসব অনুবাদ কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সেগুলো নকল করে সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে ইউরোপে বৈজ্ঞানিক বিকাশের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে মধ্যযুগীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিকাশেও প্রভাব ফেলে। টলেডো ও অনুরূপ জ্ঞানকেন্দ্রগুলো জ্ঞানবিনিময়কে গভীরতর করে ইউরোপের জ্ঞানতাত্ত্বিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। টলেডো এক ধরনের সাংস্কৃতিক–বৈজ্ঞানিক সংযোগস্থলে পরিণত হয়, যা ভবিষ্যতের জ্ঞানবিকাশের পথ সুগম করে।

অন্যদিকে সিসিলিতে ৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম বিজয়ের পর এবং ১০৯১ সালে নরমানদের পুনর্দখলের পর সেখানে নরমান–আরব–বাইজেন্টাইন সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় গড়ে ওঠে। নরমান শাসক রজার দ্বিতীয় মুসলিম সৈন্য, কবি ও বিজ্ঞানীদের তার দরবারে স্থান দিয়ে ইসলামী সংস্কৃতিকে সমর্থন জানান। এই সময় মরক্কোর ভূগোলবিদ মুহাম্মদ আল-ইদরিসি তাঁর বিখ্যাত ভূগোল গ্রন্থ The Book of Pleasant Journeys into Faraway Lands বা Tabula Rogeriana রচনা করেন, যা মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভৌগোলিক রচনা হিসেবে স্বীকৃত ।

ক্রুসেডের সময়ও পশ্চিমা বিশ্ব ও লেভান্ট অঞ্চলের মধ্যকার জ্ঞানবিনিময় আরও গভীর হয়, যেখানে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ছিল মূল সেতুবন্ধন । লেভান্টের শহর যেমন আন্তিওক আরব ও ল্যাটিন সংস্কৃতির গভীর পারস্পরিক প্রভাবের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় খ্রিস্টান পণ্ডিত যেমন লিওনার্ডো ফিবোনাচ্চি, অ্যাডেলার্ড অব বাথ ও কনস্ট্যানটাইন আফ্রিকানুস— এরা মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে ভ্রমণ করে আরবি জ্ঞান অধ্যয়ন করেন। একাদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত বহু ইউরোপীয় ছাত্র আব্বাসীয়দের উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রে চিকিৎসাশাস্ত্র, দর্শন, গণিত, মহাকাশবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। যা ধীরে ধীরে ইউরোপীয় জ্ঞানতত্ত্ব সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে।

সম্রাট দ্বিতীয় খসরূর (৬০৭-৮ খ্রি.) রাজমুকুটে ১২০ পাউন্ডের (প্রায় দেড় মণ) নিখাদ স্বর্ণ ছিল। এত বড় মুকুট তিনি মাথায় দিয়ে থ...
09/06/2024

সম্রাট দ্বিতীয় খসরূর (৬০৭-৮ খ্রি.) রাজমুকুটে ১২০ পাউন্ডের (প্রায় দেড় মণ) নিখাদ স্বর্ণ ছিল। এত বড় মুকুট তিনি মাথায় দিয়ে থাকতেন, ব্যাপারটা এমন নয়। রাজমুকুটটি স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত এবং যমরূদ, ইয়াকুত ও মণি-মুক্তা খচিত ছিল৷ সম্রাটের মাথার উপর ছাদের সঙ্গে স্বর্ণের শেকলের সাথে লটকে থাকত৷ স্বর্ণের শেকলটি এত সূক্ষ্ম ছিল যে, একেবারে সিংহাসনের কাছাকাছি গিয়ে গভীরভাবে লক্ষ্য না করলে তা চোখেই পড়ত না৷ দর্শক দূর থেকে দেখতে পেত রাজমুকুট সম্রাটের মস্তকেই শোভা পাচ্ছে৷ আসলে মুকুটটি এত ভারী ছিল যে কারও পক্ষেই তা মাথায় ধারণ করা সম্ভব ছিল না।

বি.দ্র. উল্লেখিত অংশটি সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভী রহ.-এর বর্ণনা৷ এর বাস্তবতা খসরূর মুদ্রায় অঙ্কিত বিশালাকৃতির মুকুট দেখে কিছুটা ধারণা করা যায়৷ আর সাসানী সম্রাটদের ঈশ্বরের সন্তান মনে করা হতো৷ সাধারণ প্রজার ক্ষেত্রে একেবারে সামনে থেকে এই মুকুট দেখার সম্ভাবনাও কম ছিল৷ তাই স্বর্ণের শেকলটি আসলে কতটা মোটা ছিল সেটা নিশ্চিতভাবে বলা শক্ত৷

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তৎপর ছিলেন। এর মাঝে একটি ঘটনা বাংলায় বেশ প্রচলিত আছে৷ শিকার করতে গ...
08/06/2024

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তৎপর ছিলেন। এর মাঝে একটি ঘটনা বাংলায় বেশ প্রচলিত আছে৷ শিকার করতে গিয়ে দূর থেকে না বুঝে এক বিধবার ছেলেকে তিনি তীর মেরে আহত করেন। সেই বিধবা সূবর্ণগ্রামের বিচারকের কাছে অভিযোগ করেন। বিচারক যখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সুলতান গিয়াসউদ্দিনই সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তখন তিনি সুলতানকে বিচারালয়ে তলব করে পাঠালেন।

সুলতান আসলেন। বিচারে সুলতানের দায় সাব্যস্ত হলো৷ তিনি বিধবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন৷ বিধবা ভয়ে না সুলতানের উদরতায় বিস্মিত হয়ে কে জানে, ক্ষতিপূরণ মেনে নেন।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন সে ঘটনার পর কাজিকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোষাকের আড়াল থেকে তরবারি বের করে বললেন, “আজকে আপনি আমার প্রতি পক্ষপাত করলে আপনার মাথা কাটা যেত!” কাজিও হেসে তার পোষাকের আড়াল থেকে চাবুক বের করে বলেন, “আপনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচার এড়িয়ে যেতে চাইলে আমি আপনাকে শাস্তি দিতে কার্পণ্য করতাম না!”

ভাসানী একটা নাম যা বাংলার ইতিহাসে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবে৷ তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা৷ শুধু বাংলার ইতিহাসে না আন্তর্জাতিক...
31/05/2024

ভাসানী একটা নাম যা বাংলার ইতিহাসে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবে৷ তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা৷ শুধু বাংলার ইতিহাসে না আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার মতো নেতার দাপট ছিল৷ আজকের সময়ের ক্যুল ড্যুডরা গোলামী করতে ইংরেজদের মতো সেজে অফিস-বিদ্যালয়ে কাজ করে৷ ভাসানী সেখানে বাঙ্গালীর হাজার বছরের সংস্কৃতি লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর তার বিখ্যাত টুপি পরে বিশ্বের দরবারে নেতৃত্ব দিতে যেতেন। হিম্মত লাগে ভাই, হিম্মত!

জনদরদী ছাড়াও ভাসানী ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা৷ তিনি যদি রাষ্ট্রক্ষমতার পাগল হতেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি সেটা অর্জন করতে পারতেন৷ ইতিহাস জুড়ে তার দূরদর্শী কাজকারবারের নজীর বহু৷ এর মধ্য থেকে দুইটা স্মরণ করি—

এক. ১৯৫৭ সালে কাগমারীর সম্মেলন ইতিহাসের পাতায় চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে৷ শুধু বাংলা নয়; বরং বিশ্বের ইতিহাসেও তার এই সম্মেলনের নজীর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই৷ কারণ, ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি নিজ দলের ক্ষমতাসীন নেতৃবৃন্দের নীতি ও কার্যকলাপের বিরোধিতা এবং তাদের আত্মসমালোচনার জন্য এই সম্মেলনে ডেকেছিলেন।

তখন তিনি বাংলার মানুষের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর করা অত্যাচার ও অবিচারের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ‘যদি বাংলায় তোমরা তোমাদের শোষণ চালিয়ে যাও, যদি পূর্ববাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের অধিকার স্বীকৃত না হয়, তাহলে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী! তোমরা আমাদের কাছ থেকে একটি কথাই শুনে রাখো, আসসালামু আলাইকুম! তুমি তোমার পথে যাও, আমরা আমাদের পথে যাব।’

বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের দার্শনিক তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন ভাসানী। এজন্য তৎকালীন আঁদরু-পেঁদরু বুদ্ধিজীবীগণ তাকে 'ভারতের চর' বলতেও দ্বিধা করেনি৷ তিনি সশস্ত্র যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন শুরু থেকে৷ বঙ্গবন্ধু যখন আপসের পথ খুঁজছিলেন ৭-ই মার্চ ভাষণের মাধ্যমে তখন ভাসানী ১৭ ই মার্চ চট্টগ্রামের এক জনসভায় বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন, “আপসের রাস্তা বাদ দিয়ে স্বাধীনতা-সংগ্রামে অংশ নাও, আপস করলে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী তা মানবে না৷” বাস্তবে হয়েছিলও এমনটাই। ১৩ বছর পূর্বেই কাগমারী সম্মেলনে তিনি যে দাবী উত্থাপন করেছিলেন তা ফুলে-ফেঁপে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়।

দুই. ১৯৭৬ সালে কথা৷ ভাসানী তখন জীবনের শেষ সময় কাটাচ্ছেন৷ ঠিক তখনই ভারতের সাথে শুরু হলো গ্যাঞ্জাম। ওরা বাংলার পানি আটকে দিয়েছে৷ কিন্তু ভাসানী তো জনগণের নেতা৷ তিনি কীভাবে বসে থাকবেন?! ডাক দিলেন লং মার্চের। ১৬-ই মে জনগণের নেতা ভাসানী রাজশাহী থেকে লাখ লাখ মানুষের লং মার্চ নিয়ে বের হন৷ ১৭-ই মে কানসাট পৌঁছান। সীমান্তে তখন ভারতীয় সেনারা অস্ত্রসজ্জিত৷ তারা নিরস্ত্র মানুষকে ফারাক্কা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাতে দেবেন না। লাখ লাখ মানুষের জীবনের মায়া করে তিনি সেখানেই দমে গেলেন৷ তবে হাল ছাড়লেন না৷ অগ্নিঝরা ভাষণে বললেন, “যদি এরপরও ভারত ফারাক্কা বাঁধ খুলে না দেয়, তাহলে তাহলে ভারতীয় পণ্য বর্জন শুরু করব।”

ভাসানী কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন না৷ তিনি ছিলেন জনগণের নেতা৷ আজ থেকে অর্ধশত বছর পূর্বে ভারতীয় আধিপত্য হটানোর জন্য জনগণকে যে পণ্য বয়কটের পরামর্শ দিয়ে গেছেন৷ আমরা আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছি৷ তিনি সমস্যা বুঝতে পেরেছিলেন এবং সাধ্যানুযায়ী সমাধানও দিয়েছিলেন৷ কিন্তু বাংলার জমিন উনার পর এখন পর্যন্ত এমন কোনো অবিসংবাদিত নেতাকে পায়নি যে নিজের জানের বিনিময়ে হলেও জনগণের চিন্তা করবেন।

একটি অভিশপ্ত জাতির উপাখ্যানঅভিশপ্ত জাতি শব্দটি শুনলে আমাদের মাথায় একটি জাতির কথাই ঘুরঘুর করতে থাকে তা হলো- ইহু দি জাতি। ...
08/11/2023

একটি অভিশপ্ত জাতির উপাখ্যান

অভিশপ্ত জাতি শব্দটি শুনলে আমাদের মাথায় একটি জাতির কথাই ঘুরঘুর করতে থাকে তা হলো- ইহু দি জাতি। মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় এই জাতিকে অভিশম্পাত করে আয়াত নাজিল করেছেন। কুরআনের ভাষায় তারা কাপুরুষ ও ভীত জাতি। মহান আল্লাহ তাআলা এই ব্যাপারে বলেন, “তারা সবাই মিলেও তোমাদের সাথে লড়াই করবে না। সুরক্ষিত জনপদ কিংবা দূর্গের দেয়ালের আড়াল থেকে লড়াই করার সাহস করবে।” - সুরা হাশর:১৪

কুরআনের কথার এই বাস্তবতাটা আমরা গত সাত দশক ধরে খুব ভালোভাবে দেখছি। আরব-ইজরাইলের বিখ্যাত সাত দিনের যুদ্ধেও তারা আকাশ পথ ব্যবহার করেছে। হাল আমলে হা মাসের আক্রমণের ফলে ইজরাইলের যে ভায়বহ বিপর্যয় নেমে এসেছে সেটার মোকাবেলাতেও তারা সরাসরি স্থল অভিযান চালানোর চেয়ে আকাশ বেছে নিয়েছে। এতে করে মূলত তাদের কাপুরুষতাই প্রমাণ হয়।

ইহু দিরা তাদের বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ঐতিহাসিক এবং ঐশ্বরিকভাবে অভিশপ্ত। তারা সর্বদা নবী-রাসুল এবং আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।এখনও তারা আন্তর্জাতিক গৃহীত সিদ্ধান্ত, চুক্তি ও শর্তের কোনো তোয়াক্কা করেনা। তারা ফিলিস্তিনে বোমা হামলার সময় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করছে। অথচ তারা নিজেরাই এই কেমিক্যাল ব্যবহার করবে না বলে ইতোপূর্বে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিল। ওয়াদা ভঙ্গ করা তাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “তাদের চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আল্লাহর আয়াতের সাথে কুফুরি এবং অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করার কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরে গোমরাহির সিল মেরে দিয়েছেন।”- সুরা নিসা: ১৫৫

উপরোক্ত আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর প্রিয় নবীদের হত্যা করার জঘন্য তৎপরতা চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, তাদের স্বার্থের পরিপন্থী যে কোনো লোককে হত্যা করা তাদের দ্বারা সম্ভব। নিষ্ঠুরতা ইহুদিদের প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। তারা ২ জন নবীকে হত্যা করেছে এবং আরেকজনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়। তাদের এই পৈশাচিক মনোভাব এখনও বিদ্যমান। তারা হযরত ইয়াহইয়া আ.-কে হত্যা করে তার ছিন্ন মস্তক তাদের বাদশাহর রক্ষিতাকে উপহার দেয়। স্বয়ং মুসা আ.-এর ওপর তারা ভীষণ নির্যাতন চালিয়েছে। হযরত ঈসা আ.-কে তারা ক্রশে বিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছে। নাম না জানা আরো অনেক নবীকে তারা হত্যা করেছে।তারা শুধু তাদের স্বজাতি নবীদের হত্যা করেই বসে থাকেনি। আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ স.-কেও একাধিকবার হত্যা করার চেষ্টা করেছে।

চুক্তি ভঙ্গ করা, নবীদের বারবার হত্যা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ স.- কে হত্যার চেষ্টার কারণে ইহু দিদের সাথে মুসলিমদের বহু পুরোনো শত্রুতা রয়েছে।সর্বপরি মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাদের ব্যাপারে একাধিকবার সতর্ক করে বিভিন্ন জায়গায় আয়াত নাজিল করেছেন। সুতরাং
ঐশ্বরিক বিধান হিসেবেও মুসমানদের ইহু দিদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা একটি অত্যাবশকীয় বিষয়। ঠিক এভাবেই খ্রিস্টানদের সাথে ইহু দিরা শত্রুতা পয়দা করে নিয়েছে৷ ইহুদিরা হযরত ঈসা আ.-এর হত্যার সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে ফেলেছিল৷ মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা ঈসা আ.-কে উর্ধ্বাকাশে নিয়ে যান৷ আর খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইহুদিরা ঈসা আ.-কে হত্যা করেন। বিশ্বাসের অবস্থা ভিন্ন হলেও জাতিগত শত্রুতার অবস্থান এক৷

ইহু দিরা এমন এক জাতি যার যাদের সাথে পৃথিবীর কোনো জাতি ভালো সম্পর্ক ছিল না৷ তারা নিজের স্বার্থের উপর আঘাত আসার সম্ভাবনা মনে করলে মিত্রদের সাথে শত্রুতা করতেও দ্বিধা করত না৷ এজন্য তাদেরকে বিশ্বের ভাইরাস বললে অত্যুক্তি হবে না৷ প্রতিটি জাতিই তাদের উপর অতিষ্ঠ ছিল এবং এখনও আছে৷

ফিলিস্তিনে ইজ রাইল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পূর্বে ইহু দিদের কোনো রাষ্ট্র ছিল না৷ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার মতো সেই সক্ষমতা ইহু দিদের ছিল না৷ ইহু দিরা যে সকল নবীদের সম্রাট বলে গণ্য করে নিজেদের উচ্চাবস্থানে বসানোর চিন্তা করে তারা (আম্বিয়া আ.) মূলত মুসলিমদের নবী৷ তাদের নবুওয়াতের পর্যায়ক্রমিক ধারা আখেরি নবী মুহাম্মদ স.-এর উপর শেষ হয়েছে৷ ইহু দিরা মুহাম্মদ স.-কে স্বীকার করে না এবং ইসলামি শরীয়তে বিশ্বাসও করে না৷ সে হিসেবে ই হু দিরা তাদের দাবীতে বৈধতার কোনো অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম নয়৷

ইহু দিদের উপর জার্মানদের চালানো হত্যাযজ্ঞের কথা কম-বেশি সবাই জানি৷ শুধু জার্মানিতেই না রাশিয়া ও ইউক্রেনে তখন কম করে হলেও ১৫ লাখ ইহুদি হত্যা করা হয়েছিল সে সময়৷ বলা যায় তাদের পরিকল্পনা ছিল ইউরোপকে ইহু দি মুক্ত করার৷ ঠিক এই সময়টাতে ব্রিটেন এবং আমেরিকায় এন্টিসেমিটিজমের মনোভাব প্রকাশ পেতে থাকে৷ পুরানো শত্রুতার জের আবারও ফুটে উঠতে থাকে তাদের মধ্যে। ইউরোপীয় ও আমেরিকান খ্রিস্টানরা আরেকটি গণহত্যা চালিয়ে দিতে যেকোনো সময় শুরু করতে পারে বলে হচ্ছিল৷ ঠিক এই সময়টাতে ইহুদিদের ত্রাণকর্তা হিসেবে ব্রিটিশদের আগমন হয়৷

ব্রিটিশরা যে ঠিক ইহু দিদের মুক্তি দিয়েছে এটা বলা শক্ত৷ তারা মূলত ইহু দিদের মতো ঘুণ পোকা থেকে বাঁচতেই ফিলিস্তিনে ইজরা ইল প্রতিষ্ঠা করেছে৷ তারাও ইহু দিদের সম্পর্কে একেবারে কম জানে না৷ দীর্ঘ একটা সময় ইহু দিদের নিয়েই বাস করতে হয়েছে তাদের৷ স্বভাব চরিত্র খুব ভালো করেই জানে৷ ব্রিটিশরা এটা ঠিকই বুঝতে পেরেছিল মুসলিমদের সাময়িকভাবে শতধা বিভক্ত করা গেছে ঠিকই; কিন্তু এদের ব্যতিব্যস্ত না রাখতে পারলে আবার একত্রিত হয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালাবে৷ তাই মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করার জন্য তাদের এমন একটা জাতি প্রয়োজন ছিল যারা মুসলিমদের ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে এবং সরাসরি পশ্চিমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে৷ তাদের ভাবনা মতোই ইহু দিরা ঠিকঠাক অবস্থানে ছিল৷ অনেকে বলে ইহু দিদের টাকা বিনিময়ে ব্রিটিশ ও অন্যান্য দেশ তাদের সাহায্য করেছে৷ এটা আংশিক সত্য হলেও রাষ্ট্র কায়েমের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী কারণ নয়৷ যাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার শক্তি ছিল তাদের ইহু দি মেরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও ছিল৷

ইহু দিরা যে অন্য রাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া অচল সেটা আমরা কয়েক দশকের যুদ্ধ থেকে ভালোই টের পেয়েছি৷ বর্তমান সময়ের যুদ্ধ বিশ্লেষণ করলেও এমনটা বোঝা যায়৷ ছোট্ট হা মাসের উপর্যুপরি আক্রমণেই আমেরিকা তাদের প্রায় সবকিছু নিয়েই ইজ রাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ বিজাতি হওয়ার পরেও আমেরিকার পাশে দাঁড়ানোর অর্থ হচ্ছে মুসলমানদের সাথে সাধারণ শত্রুতা৷ আল্লাহর রাসুল স.-এর হাদিসে আছে যে, কাফেররা এক জাতি৷ কিন্তু আফসোসের ব্যাপার মুসলিমরা স্বজাতি হওয়ার পরেও তার ভাইদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না৷ ইহু দি খ্রিস্টানরা মুসলিমদের শত্রু হিসেবে গণ্য করলেও মুসলিম রাষ্ট্র নায়করা তাদের শত্রু বলে মনে করছে না৷

মধ্যপ্রাচ্যে ইজ রাইল টিকিয়ে রাখতে যা করা প্রয়োজন তার সবই পশ্চিমারা করবে৷ ইজরা ইলকে মুসলিম রাষ্ট্র নায়কদের কাছে একটি মূর্তমান আতঙ্ক হিসেবে কায়েম রাখতে চায় তারা৷ যাতে জাতিগত সংগঠিত হওয়ার আগে মুসলিমদের সকল পরিকল্পনা নস্যাৎ করা যায়৷ আফসোসের ব্যাপার হলো পরিকল্পনা তো দূরের কথা পরিকল্পনাস্থাপনকারী রাষ্ট্র নায়কই মুসলিমদের নেই।

সুলতান মাহমুদ গজনবী ভারত অভিযান কালে একবার কাংড়া পাহাড়ে অবস্থিত নগরকোট দুর্গে আক্রমণ করে বিজয় লাভ করেন। বলা হয় এই অভিযান...
24/08/2023

সুলতান মাহমুদ গজনবী ভারত অভিযান কালে একবার কাংড়া পাহাড়ে অবস্থিত নগরকোট দুর্গে আক্রমণ করে বিজয় লাভ করেন। বলা হয় এই অভিযান নাকি দেশ জয়ের উদ্দেশ্যে নয় বরং হিন্দু নৃপতিদের বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে ছিল৷ ঐতিহাসিক কাসিম ফিরিশতার মতে এই দুর্গ জয় করে সুলতান ৭ লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা, শত মন খাঁটি সোনা, ৭ শ মন স্বর্ণ ও রৌপ্যপাত, দুই হাজার মন অপরিশোধিত রূপা ও ২০ মন মণিমুক্তা লাভ করেন৷

ছবিতে নগরকোট দুর্গ।

সাইয়েদ কুতুব রহ.-এর জীবনী পাঠ করলে একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘ একটা সময় সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরি...
21/08/2022

সাইয়েদ কুতুব রহ.-এর জীবনী পাঠ করলে একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘ একটা সময় সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরি ছাড়তে চাইলে তার ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি। কেননা, তার মেধার প্রয়োজন ছিল সরকারের। বলা যায়, প্রায় ১৮ বছর বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই চাকরি করে গেছেন।

এই কুতুব-ই একটা সময় বিপ্লবী ধারায় চলে আসলেন। এবং তার ফাঁসির রায়ে হয়ে যাওয়ার পর যখন তাকে সরকার থেকে শিক্ষামন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিল, তখন তিনি তা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করলেন। অথচ তার কর্মজীবনে দীর্ঘ একটা সময় তিনি ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে সংগ্রাম করতেন। তিনি চাইলে তখন শিক্ষামন্ত্রী হয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করার একটা সুযোগ নিতে পারতেন।

সরকার কর্তৃক শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আরেকটি অবস্থা দেখা যায়। এখন প্রস্তাব করা হয় হাসান আল হুদাইবী রহ.-কে সরিয়ে তাকে মুর্শিদুল আমের দায়িত্ব গ্রহণ করতে। তিনি তিনি সরকারের এই প্রস্তাবও ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। অথচ এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে ইখওয়ানের নিভু নিভু আন্দোলনে আগুন জ্বালানোর সুযোগ পেতেন।

সাইয়েদ কুতুব রহ.-এর এই দৃঢ়তা আমাদের বড় ধরনের একটা শিক্ষা দেয়। তা হলো, কখন কোন অবস্থা দাওয়াতের জন্য উপযোগী। অধুনা নামধারী ইসলামিস্টরা বাতিলের সাথে হিকমাহর নামে আপোষ করে। অথচ এখানে স্বীয় দ্বীন ও ঈমানের ক্ষতি ব্যতীত লাভের ছিঁটেফোঁটাও দেখা যায় না।

ইমামুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ.-এর বাড়ি।
26/07/2022

ইমামুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ.-এর বাড়ি।

১৯৪৯ সনের ফেব্রুয়ারী মাসের এক রাতের কথা।আমি খলিল আমার কাছে এসে বললেন, বান্নাকে কায়রো থেকে দূরে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা...
25/07/2022

১৯৪৯ সনের ফেব্রুয়ারী মাসের এক রাতের কথা।
আমি খলিল আমার কাছে এসে বললেন, বান্নাকে কায়রো থেকে দূরে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা দরকার। পাপিষ্ঠরা তকে হত্যা করার পাঁয়তারা করছে।
তার সঙ্গে আমি সরাসরি যোগাযোগ করার কোনো উপায় পাচ্ছিলাম না। আমার ভাইও তখন গ্রেফতার। ফলে আমি ব্যক্তিগতভাবে শহিদ ইমামের সঙ্গে সাক্ষাত করার চেষ্টা করি। তার সঙ্গে দেখা করতেই যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে তার উপর গুপ্তআক্রমণের খবর পাই। তাকে হসপিটালে নেওয়ার কথা শুনি। অতঃপর খুব দ্রুত তার অবস্থার অবনতির সংবাদ পাই। আর তিনি শহিদ হয়ে তার রবের কাছে চলে যান—নবী, সিদ্দিক, শহিদ, এবং সালেহদের সাথে মিলিত মিলিত হতে। তারা কতোই-না উত্তম সঙ্গী!

— কারাবাসের দিনগুলি, জায়নাব আল গাজালি৷ পৃ: ৪২

মুনাজারা আহ্বানে ইমামুল আসর আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ.-এর তাৎক্ষণিক উত্তরমাওলানা সাখরাবী লিখেন, শাহ সাহেব রহ. বর্ণনা করেন, ...
24/06/2022

মুনাজারা আহ্বানে ইমামুল আসর আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ.-এর তাৎক্ষণিক উত্তর

মাওলানা সাখরাবী লিখেন, শাহ সাহেব রহ. বর্ণনা করেন, মিরাঠে এক মৌলবি সাহেব গাইরে মুকাল্লিদ ছিল। সম্ভবত তার নাম মৌলবি আহমদুল্লাহ। এই গাইরে মুকাল্লিদ মৌলবি সাহেব প্রায় সময় হানাফিদের সাথে ঝগড়া করত এবং মুনাজারার আহ্বান করত। মিরাঠে শাহ সাহেবের প্রসিদ্ধি একটি মুনাজারার কারণে হয়েছিল; যা কয়েকদিন আগেই গোলাওটি নামক স্থানে সংঘটিত হয় এবং গাইরে মুকাল্লিদরা পরাজিত হয়ে বৈঠকের পরপরই পালিয়ে যায়। সে মুনাজারায় দেওবন্দের বড় বড় উলামায়ে কেরামের সমাবেশ ঘটেছিল।

মিরাঠের দুই ব্যক্তি মৌলবি আহমদুল্লাহর কাছ থেকে মুনাজারার আহ্ববানের পত্র নিয়ে দিল্লির সোনালি মসজিদে এশার নামাজের আগে গিয়ে উপস্থিত হন। এবং শাহ সাহেব রহ.-কে মুনাজার পত্র দেখান। হযরত সেই রাতেই মিরাঠের উদ্দেশ্যে দিল্লি থেকে রওনা হয়ে যান এবং রাতের শেষভাগেই মৌলবির মহল্লার মসজিদে অবস্থান করেন। মিরাঠের যে দুই ব্যক্তি সাথে ছিল, তাদের একজন আরেকজনকে বলল, শাহ সাহেবের সাথে তো কোনো কিতাব নেই!

অপরজন উত্তরে বলল, কিতাবের কোনো প্রয়োজন হবে না।

যখন ভোর হলো, তখন ফজর নামাজ মসজিদেই পড়লেন। মৌলবি নামাজে উপস্থিত ছিল। নামাজ শেষে শাহ সাহেব রহ. মৌলবির সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, এ লেখাটি কি আপনার? সে উত্তরে বলল, জী আমার। শাহ সাহেব রহ. বললেন, বিসমিল্লাহ! আমি প্রস্তুত, বসে যান। মাসআলা নির্দিষ্ট করুন, যে মাসআলাই আপনি চান অবলম্বন করুন এবং শুরু করুন।

মৌলবি বলল, আপনিই শুরু করুন। শাহ সাহেব রহ. বললেন, ইমামের পেছনে ফাতেহা পড়ার মাসআলা আপনার ধারণায় সবচেয়ে বেশি মজবুত। সেটা শুরু করব নাকি অন্য কোনো মাসআলা; যা আপনি বলবেন।

উত্তরে সে বলল, এই মাসআলাটি সম্পর্কেই বলুন।

নামাজে যারা উপস্থিত ছিল তারাও বসে গেল। এছাড়া যারা খবর পেল তারাও আসলো।

হযরত বললেন, আমি শুরু করছি। তবে আমার পক্ষ থেকে একটা শর্ত আছে যে, যতক্ষণ না আমি শেষ করব, মাঝখানে কোনো কথা বলবেন না। যে প্রশ্ন এবং আপত্তি হবে তা পরে বলবেন।

হযরত শাহ সাহেব রহ. লাগাতার দুই ঘন্টা ফাতেহা খলফাল ইমামের মাসআলার ওপর বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করেন। পক্ষ-বিপক্ষ মজবুত এবং দুর্বল কোনো হাদিস কিতাবের হাওয়ালাসহ উল্লেখ করা ব্যতীত বাদ দেননি। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর বললেন, এবার আপনি যা বলার বলুন।

উত্তরে সে বলতে লাগল যে, আমার তো কিছুই মনে নেই।

শাহ সাহেব রহ. বললেন, এর উপর আবার হাদিস জানার দাবি করেন।

সে বলল, আমি তো দাবি করিনি।

শাহ সাহেব বললেন, তাহলে লিখে দিন আমার হাদিস জানার ব্যাপারে কোনো দাবি নেই।

মোটকথা, সে লিখে দিল না। শাহ সাহেব বললেন, নিঃসন্দেহে যারা ইমামদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে না আল্লাহ তাআলা তাদের স্মরণশক্তিকে বিলুপ্ত করে দেন।

এটা জুমার দিন ছিল। তিনি জুমা মিরাঠে আদায় করলেন। পুরো শহরে ধীরে ধীরে এই মুনাজারার কথা ছড়িয়ে পড়ল। লোকেরা জুমার পর জামে মসজিদে শাহ সাহেবের চারপাশে জড়ো হয়ে বলতে লাগল, যথারীতি মুনাজারা করে তার থেকে লিখিত নেওয়া হোক। লোকদের বিশাল দল শাহ সাহেব রহ.-কে নিয়ে মৌলবি আহমদুল্লাহর মহল্লার মসজিদে গিয়ে পৌঁছেন। মৌলবি টালবাহানা করে পুলিশ ডাকালেন। বিশৃঙ্খলার ভয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর সমাবেশকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। এ ঘটনা স্বয়ং শাহ সাহেব রহ.-এর জবান থেকে শোনা।

— আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ. জীবন ও কর্ম

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।তুরস্কের মজলুম মুসলমানদের জাগরণের মহানায়ক, বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার, রজব তৈ...
24/06/2022

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তুরস্কের মজলুম মুসলমানদের জাগরণের মহানায়ক, বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার, রজব তৈয়ব এরদোয়ান সহ তুরস্কের সকল শীর্ষ নেতার ধর্মগুরু, শায়েখ মাহমুদ এফেন্দি ইনতিকাল করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।
শাইখ মাহমুদ আফেন্দি রহ: সম্পর্কে জানতে নিচের লেখাটি পড়তে পারেন।

হযরত শাইখুল ইসলাম মাহমুদ আফেন্দী রাহি.
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ধর্মীয় মুরুব্বী।
রজব তাইয়্যেব এই শায়খ এর খাস শাগরেদ, হযরত মাহমুদ আফেন্দি যে আকিদা ও মাযহাবের (হানাফী) অনুসারী, এরদোয়ানও একই আকিদা ও মাযহাবের অনুসারী। শায়খ মাহমুদ আফেন্দি হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানুতুবির রহ. আকিদা অন্তরে লালন করেন, যা তিনি তার বিভিন্ন কিতাবে নানা সময় উল্লেখ করেছেন।

কামাল আতাতুর্ক এক ভাষনে বলেছিলো, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার সামনে দাঁড়িয়ে আমি তুরস্কের সভ্য সমাজের জনগণকে জাগতিক ও আধ্যাত্মিকতা লাভের জন্য আলেমদের নির্দেশনায় চলতে দিতে পারি না। তুর্কি প্রজাতন্ত্র শেখ, দরবেশ ও অনুসারীদের দেশ হতে পারে না। সর্বোৎকৃষ্ট রীতি হল সভ্যতার রীতি। মানুষ হওয়ার জন্য সভ্যতার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করাই যথেষ্ট। দরবেশ প্রথার নেতৃবৃন্দ আমার কথার সত্যতা বুঝতে পারবেন এবং তাদের খানকাহগুলো গুটিয়ে নেবেন ও স্বীকার করবেন যে তাদের রীতিগুলো পুরনো হয়ে গেছে।

কামাল আতাতুর্কের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সেখানকার নকশেবন্দিয়া তরিকার অনুসারী গণ প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের প্রতিবাদের আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তারা সরকারের বিভিন্ন কার্যালয় অবরোধ করেন, গুরুত্বপূর্ণ শহর অভিমুখে যাত্রা করেন৷ কামাল আতাতুর্ক সরকার তাদের এই প্রতিবাদকে বিদ্রোহ আখ্যা দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, নেতাদের ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়, বিরোধী রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে, কার্যত এক সময় তুরস্কের মাটিতে সেক্যুলার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সকল সক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায়।

কামাল আতাতুর্কের তুরস্কে যখন মসজিদগুলো মিউজিয়াম হয়ে যায়। মাদরাসাগুলোর যাবতীয় সম্পত্তি সরকার ক্রোক করে নেয়, ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে ধর্ম-চর্চা নিষিদ্ধ করা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বোধে-বিশ্বাসে এতোটাই সেক্যুলার হয়ে যায় যে, তারা ইসলামের নামও শুনতে প্রস্তুত নন। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, ব্যক্তিজীবনেও তারা ইসলামের বিধি-নিষেধ মানতে প্রস্তুত নন।
এমন একটি জাতিকে কীভাবে ইসলামের পথে আনা যায়? এক্ষেত্রে দাওয়াতের অপেক্ষাকৃত কোমল ও ধীর এবং দীর্ঘমেয়াদী পথটাই যে যথোপযুক্ত ছিল।

তুর্কি উলামায়ে কেরাম শহর ছেড়ে চলে যান প্রত্যন্ত অঞ্চলে অজ পাড়াগাঁয়ে। তারা সেখানে গাছের নিচে বাচ্চাদের কুরআন শেখানোর কাজ শুরু করেন। এমনকি সৈন্যদের দেখলে সাথে সাথে তারা ক্ষেতে নেমে কৃষিকাজ শুরু করে দিতেন।

সেই তালিবুল ইলমদেরই একজন মাওলানা মাহমুদ আফেন্দি নকশেবন্দী হাফি.। জন্ম ১৯২৯ সালে। শায়খ মাহমুদ আফেন্দী নকশেবন্দী হানাফী মাজহাবের অনুসারী। উলূমে হাদিস, ও উলুমে ফেকাহ্ এর উপর উচ্চতর ডিগ্রিধারী। দেওবন্দী চিন্তা চেতনা ও মানহাযের উপর চলেন। তিনি খানকার মাধ্যমে দ্বীনি খিদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাহমুদ আফেন্দির মুরিদান। যারা বিভিন্ন দেশেই দ্বীনের খেদমত করছেন। ইউরোপেও রয়েছে তাঁর খানকাহ্। সেখানে আফেন্দির প্রতিটি খানকা যেন সালতানাতে উসমানীয়ার এক একটি মারকায।
তিনি যেভাবে কষ্ট করে দীনি ইলম অর্জন করেছেন। তেমনিভাবে নিজেও গ্রামেগঞ্জে এভাবে ছাত্রদের দ্বীন শিখিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় শায়খ মাহমুদ আফেন্দি ছাত্রদের আঙুলের ইশারায় সারফ-নাহু শেখাতেন এবং হাতের ইশারায় মাসআলা মাসায়িল শেখাতেন। এখনও তুরস্কে কিছু জায়গায় এ পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয়।

এক সময় শায়খ আফেন্দি এ মিশন নিয়ে শহরমুখী হন। সেখানে একটি পুরাতন মসজিদ ছিল। তিনি সেখানে অবস্থান করা শুরু করলেন এবং দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন। চল্লিশ বছর ধারাবাহিক এভাবে মানুষদের দ্বীন শেখান।

আঠারো বছর পর্যন্ত কেউ তার পেছনে সৈন্যদের ভয়ে প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার সাহস করতে পারেনি। তবে সময়ের সাথে সাথে কিছু কিছু মানুষ সাহস করে তার পেছনে জামাতে নামাজ পড়া শুরু করে। এই বুজুর্গের মেহনতের ফলে একসময় সব মসজিদে আজানের সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়ে একসাথে নামাজ আদায় করেন। দারুল উলূম দেওবন্দ ও আকাবিরে দেওবন্দকে শায়খ মাহমুদ আফেন্দি হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা করেন এবং তাদের আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। তিনি হজরত কাসেম নানুতবি রহ.কে চৌদ্দশ শতাব্দীর ‘মুজাদ্দিদ’ বলে থাকেন৷

মাহমুদ আফেন্দি হাফিজাহুল্লাহ তুর্কি ভাষায় কুরআনে কারিমের আঠারো খণ্ডের বিশাল এক তাফসির লেখেন। যার নাম ‘রুহুল ফোরকান’ এ কিতাবের চতুর্থ খণ্ডের ৭২৪ পৃষ্ঠায় মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রহ. কে ‘শায়খুল মাশায়েখ’ ও শায়খুল হাদিস যাকারিয়া কান্দলভী রহ. কে ‘ইমাম’ ‘মুহাদ্দিস’ ও ‘আল্লামা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শায়খুল ইসলাম শায়খ মাহমুদ আফেন্দিকে তুর্কিতে দ্বীনি শিক্ষা প্রচার প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ইমাম কাসেম নানুতবি এওয়ার্ড’ দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। তুরস্কে অনুষ্ঠিত আলেমদের এক সম্মেলনে সায়্যিদ আরশাদ মাদানি হা.ফি. বলেন, শায়খ মাহমুদ আফেন্দি হলেন তুর্কির কাসেম নানুতবি।

দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাওলানা কাসেম নানুতুবি রহ. যেভাবে উলামায়ে কেরামের একটি বিশাল বিপ্লবী কাফেলা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন, তা হলো, যেহেতু দেশের জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসন- দুটোই ইসলাম থেকে শত ক্রোশ দূরে সরে গেছে, কাজেই সেক্যুলার প্রশাসনের বিরুদ্ধে শতভাগ বিদ্রোহে না গিয়ে
(১) জনগণকে যথাসম্ভব ধর্মের পথে ফিরিয়ে আনা৷ (২) ব্যক্তিউদ্যোগে, নিরবে-নিভৃতে-সংগোপনে খালিস ধর্মীয়শিক্ষা যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখা।
(৩) আধুনিক সমাজব্যবস্থার ভঙ্গুর, ঠুনকো ও দুর্বল দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে সেক্যুলার মহলের বুদ্ধিবৃত্তিক মোকাবেলা করা॥
যেভাবে উলামায়ে কেরাম রাজধানী দিল্লির মাদরাসাগুলো গুটিয়ে চলে যান দেওবন্দ ও সাহারানপুরের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে। শুরু করেন সব ধরনের দৃষ্টি এড়িয়ে ইকামতে দ্বীনের নতুন মেহনত।

সেক্যুলারপন্থিরা মহান শায়খের উপর বহু আক্রমণ করেছিল, নব্বইয়ের দশকে একজন দরবারী মুফতীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, ২০০৭ এও এক ভয়ঙ্কর হামলা হয়, আল্লাহর রহমতে তিনি সেই যাত্রায়ও বেঁচে যান৷ পাঠক নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, আয়া সোফিয়ার ফাতহুম মুবিন বা প্রকাশ্য বিজয়ের মূল চাবিকাঠি এই মহান শায়েখ।

ইতিহাস সাক্ষি, যুগে যুগে ইসলামের আলো যখন নিভু নিভু হয়ে যায় তখনই এ ধরণের আধ্যাত্মিক ধর্মীয় মনিষীগণের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেহনতের বদৌলতে ইসলামের আলো পুনর্জাগরণ সৃষ্টি করে, তুরস্কের ভুমিতেও একদিন পুরোদস্তুর ইসলামের আলো জ্বলে উঠবে, তুরস্কবাসী ফিরে পাবে তাদের হারানো ঐতিহ্য ইনশাআল্লাহ।

- সংগৃহীত।

Address

Dhaka

Telephone

+8801623535666

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তারিখুল উমাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share