Radha Krishna Love Society

Radha Krishna Love Society নমস্কার!
আমাদের পেইজে আপনাকে স্বাগতম !

নমস্কার মিত্রগণ আমাদের এই পেজটি খোলার মূল উদ্দেশ্য সকলের মাঝে রাধা কৃষ্ণ প্রেম মাহাত্ম্য বিতরণ করা,,,সকলেই যেন কৃষ্ণ প্রেমের অনুসারী হয় এই কামনা করা পেজটি থেকে উপকৃত হলে অবশ্যই লাইক এবং ফলো করতে ভুলবেন না
হরে কৃষ্ণ প্রভুপাদ

আমাদের সনাতন ধর্ম মতে একটি আদর্শ ও পরিপূর্ণ জীবন গড়তে প্রত্যকেই দশবিদ সংস্কার মাঝে সঠিক জীবন গড়তে হবে। আসুন জেনে নিন এই ...
06/05/2026

আমাদের সনাতন ধর্ম মতে একটি আদর্শ ও পরিপূর্ণ জীবন গড়তে প্রত্যকেই দশবিদ সংস্কার মাঝে সঠিক জীবন গড়তে হবে। আসুন জেনে নিন এই দশবিদ সংস্কার গুলো কি- মনুষ্য জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণকর করে গড়ে তোলার লক্ষে প্রাচীন ঋষিরা অনেক ধর্মীয় আচার-আচরণ ও মাঙ্গলিক কর্মের নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলোকে হিন্দু ধর্মের ধর্মাচার ও সংস্কার বলে। এই সকল আচার-আচরণ ‘মনুসংহিতা’, ‘যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা’, ‘পরাশরসংহিতা’ প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রে পাওয়া যায়। স্মৃতিশাস্ত্রে ১০ প্রকার সংস্কারের উল্লেখ আছে। “মনুসংহিতা, যাজ্ঞবাল্ক সংহিতা পরাশর সংহিতা, প্রভূতি স্মৃতিশাস্ত্রে দশকর্মের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

প্রতিটি ধর্মই তার অনুসারীদের জন্যে কিছু রীতি – নীতি , আচার – অনুষ্ঠান । প্রতিপালনের উপদেশ বা নির্দেশ দিয়ে থাকে । এ সকল অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ;

( ১ ) কোন জীবকে জয়লাভে সাহায্য করা ।
( ২ ) জীবের সাহায্যে উচ্চ প্রজ্ঞাকে আমন্ত্রণ করা যেমন , মুনি ঋষিদের সাহায্য কামনা করা ।
( ৩ ) পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা ।

এই লক্ষ্য অর্জনে নানা প্রকার বস্তু , ক্রিয়াকলাপ , চালচলন ও শব্দকে এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যেন ফল লাভ সহজ ও দ্রুত হয় । সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে গর্ভ অবস্থা থেকে বিবাহ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দশটি সংস্কার কর্ম করার নিয়ম প্রচলিত আছে । শাস্ত্রীয় মতে একে দশবিধ সংস্কার বলা হয় । ‘জন্মনা ব্রহ্মণো জ্ঞেয়ঃ সংস্কারৈর্দ্বিজ উচ্যতে‘ (অত্রিংহিতা)। ব্রাহ্মণবংশে জন্ম হলেই ব্রাহ্মণ বলা যায় না এবং সংস্কার দ্বারা দ্বিজ পদবাচ্য হয়ে থাকে। সুতরাং সংস্কারগুলো লুপ্ত না হয়, সে জন্য সর্তক হওয়া উচিত। সংস্কার দশবিধ : ১, গর্ভাধান, ২. পুংসবন, ৩. সীমন্তোন্নয়ন, ৪. জাতকর্ম, ৫. নামকরণ, ৬. অন্নপ্রাশন, ৭. চূড়াকরণ, ৮. উপনয়ন, ৯ সমাবর্তন, ১০. বিবাহ। হিন্দুধর্ম বিশ্বাস করে , দেহে ব্রহ্ম প্রাপ্তির অনুকূল গুণের উন্মেষ করতে হলে দশবিধ সংস্কার বিধি অবশ্যই পালন করতে হবে । সংস্কার কার্যগুলো। সম্পাদিত হলে জনক – জননীর দোষ থাকলেও গর্ভাবস্থা থেকেই তা প্রশমিত হয়ে মানুষের দেহে ব্ৰহ্ম প্রাপ্তির অনুকূল গুণের উন্মেষ ঘটে ।

এগুলো আবার চার শ্রেণিতে বিভক্ত : ১. গর্ভ-সংস্কার, ২. শৈশব -সংস্কার, ৩. কৈশোর-সংস্কার, ৪. যৌবন-সংস্কার।
গর্ভ-সংস্কার: এই গর্ভ সংস্কারে ৩ টি সংস্কার নিয়ে এই গর্ভ সংস্কার। এগুলো হচ্ছে গর্ভাধান, পুংসবন ও সীমন্তোন্নয়ন।
শৈশব সংস্কার:এই শৈশব সংস্কারে ৩ টি সংস্কার কর্ম ধরা হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে জাতর্কম, নামকরণ ও অন্নপ্রাশন।
কৈশোর-সংস্কারঃ এই কৈশোর সংস্কারেও ৩ টি সংস্কার কর্ম ধরা হয়ে থাকে যা হচ্ছে চূড়াকরণ, উপনয়ন ও সমাবর্তন।
যৌবন-সংস্কারঃ যৌবন সংস্কারের মধ্যে আছে সবচেয়ে বড় সংস্কার যা বিবাহ নামে পরিচিত।

(কোনো কোনো মতে সমাবর্তন পৃথক সংস্কার নয়, এটি উপনয়নেরই অন্তর্গত। কোনো কোনো মতে নিষ্ক্রামণও পৃথক সংস্কার। কেউবা দশের চেয়ে সংস্কার মেনে শালাকর্ম, বেদারম্ভ প্রভূতিকেও আলাদা সংস্কার বলে থাকেন।)

১ম-গর্ভাধান: গর্ভাধানাদি সংস্কারের উদ্দেশে সত্ত্বগুণের উৎকর্ষ সাধন। এই মহৎ উদ্দেশ্য, সাধনের অভিপ্রায়ে প্রাচীন ঋষিগণ বেদ আলোচনা দ্বারা ঠিক করেছিলেন যে অস্থি, স্নায়ু, মর্জা, ত্বক, মাংস ও রক্ত-এই ষড়বিধ কোষের সংযুক্তিতে মানবদেহ সমুৎপন্ন,তন্মধ্যে তিনটি পিতৃশরীর হইতে এবং শোষক্ত তিনটি মাতৃশরীর হইতে উৎপন্ন হয়ে থাকে, এই জন্য জনক-জননীর দেহে যে সকল কোষ থাকে তাই সন্তানে সংক্রমিত হয়। এজন্য গর্ভাধান, গর্ভগ্রণযোগ্যতা ও তদুপযুক্ত সময় নিরূপন করতঃ সন্তানোৎপত্তিকালে যাতে জনক-জননীর মত পশুভাবাপন্ন না হয়ে সত্ত্ব-ভাবাপন্ন হয় তাই গর্ভধানের উদ্দেশ্য। অর্থাৎ পিতা-মাতার দেহে ও মনে যেসব দোষ- গুণ থাকে সেগুলো সন্তানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। এটা দেখে আর্য- ঋষিগণ গর্ভাধান বিধি প্রবর্তন করেছেন। শুভলগ্নে সন্তানের জন্মদানের জন্য যে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান তাকে গর্ভাধান। গর্ভসঞ্চারের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানকে বলা হয় গর্ভাধান। বর্তমানে এই সংস্কারের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে।

২য়-পুৎসবনঃ গর্ভধানের পর দ্বিতীয় সংস্কার পুৎসবন। পুংসবন শব্দের অর্থ পুত্র সন্তানের উৎপত্তি। পুত্র সন্তান কামনা করে যে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে পুংসবন বলে। এটি গর্ভগ্রহণের তৃতীয় মাসের দশ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমতঃ যজ্ঞ করে স্বামী স্ত্রীর পেছনে দাঁড়ানোর পর তার কাঁধ স্পর্শ করে ডান হাত দ্বারা নাভিদেশ স্পর্শ করে এই মন্ত্র পাঠ করবেন, যথা-প্রজাপতিঋষিরনুষ্টুপচ্ছন্দো মিত্রবরুণ অগ্নিবায়বো দেবতাঃ পুংসবনে নিয়োগঃ। ওঁ পুংমাংসৌ মিত্রাবরূণৌ পুমাংসাবশ্বিনারুভৌ পুমানগ্নিশ্চ বায়ুশ্চ-পুমান গর্ভস্তবোদরে। অর্থাৎ- ‘সূর্য, বরূণ, অশ্বিনীকুমার যুগল, অগ্নি, বায়ু যেমন পুরুষ, তোমার গর্ভেও এইরূপ পুরুষেরই আবির্ভাব হোক॥’ স্বামীর মুখে এই মন্ত্রপাঠ শুনতে স্ত্রীর হৃদয় আনন্দে ভরে উঠবে এতে কোন সন্দেহ নাই, কারণ গর্ভিনী মাত্রেই কন্যা অপেক্ষা পুত্রের কামনাই বেশি করে থাকেন এই আনন্দাতিশয়বশতঃ গর্ভবস্থায় আলস্য, বমনাদি জনিত অবসাদ প্রভূতি বিদূরিত হওয়া এবং গর্ভপোষণের শক্তি যেন পুনরায় উদ্ভূত হওয়া অসম্ভব কিছু না। এছাড়াও পুংসবনে ফলদ্বয়যুক্ত বটগুঙ্গা, মাষকলাই যাবর সহিত গর্ভিণীর নাসিকা স্পর্শ করে শুঁকানোর পর ও নাসিকাতে তদ্রসনিক্ষেপের ব্যবস্থা করতে হয়। এ সকল দ্রব্যের যে গর্ভরক্ষা বিষয়ে বিশেষ শক্তি আছে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। আয়ুর্বেদর মতে বটফুল দ্বারা যোনিদোষ বিনষ্ট হয়। গর্ভাধানের মত এই সংস্কারটিও প্রায় হারিয়েই গেছে।

৩য়- সীমন্তোন্নয়ন বা সাধভক্ষণঃ গর্ভাবস্থায় তৃতীয় সংস্কার সীমন্তোন্নয়ন বা সাধভক্ষণ। গর্ভধারনের পর ৬ বা ৮ মাসে সীমন্তোন্নয়ন করা হয়। এর মূল কাজটি সীমান্ত বা সিথি তুলে দেয়া । এ হতে গর্ভিণী প্রসবকাল পর্যন্ত আর অনুলেপনাদিতে অনুলিপ্তা, শৃঙ্গারবেশে আসক্তা বা পতিগামিনী হয় না। শেষে পতিপুত্রবতী-নারীগণ বধুকে দেবীর উপরে উত্থাপিত করে পানি পূর্ণ পুকুর এ স্নান এবং মঙ্গল কর্ম সম্পাদন করবেন এবং বধুকে বলবেন, ‘তুমি বীর প্রসবিনী, জীববৎসা ও জীবপতিকা হও।’ এবং সবশেষে গর্ভিণী সেই কেশর ভক্ষণ করবেন। এটি আমাদের সমাজে বর্তমানে সাধ-এর অনুষ্ঠান বা সাধভক্ষণ নামে পরিচিত।

৪র্থ-জাতকর্ম : সন্তান ভূমিষ্ঠ হইবামাত্র এই সংস্কার করতে হয়। পিতা প্রথমত যব ও ব্রীহিচূর্ণি দ্বারা পরে স্বর্ণ দ্বারা ঘৃষ্টমধু এবং ঘৃত গহণ পূর্বক সদ্যেজাত সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করবেন। এতে যেসকল মন্ত্র উচ্চারিত হয়, তার প্রথম অংশে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও শেষাংশে বিপসন্তানের জন্য মেধা ও ধারণা শক্তির প্রার্থনা ছাড়া অন্যকোনকিছু মানে ধন সম্পদের প্রার্থনা করা হয় না। কেবল আয়ুর জন্য একবার মাত্র প্রার্থনা করা হয়। দ্রব্যগুণ বিচার করতে হলে দেখবেন স্বর্ণ দ্বারা আয়ুবর্ধন, প্রস্রাব পরিষ্কার ও রক্তের উর্ধ্ব গতি দোষ বিনষ্ট হয়। ঘৃতদ্বারা কোষ্ট পরিষ্কার, বল ও জীবনীশক্তির বৃদ্ধি হয়। মধু দ্বারা পিত্তকোষের ক্রিয়া বর্ধিত, মুখের লালা সঞ্চার এবং কফ নষ্ট হয়। অর্থাৎ জন্মের পর পিতা জব , যষ্টিমধু ও ঘৃত দ্বারা সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করে মন্ত্রোচ্চারণ করার মাধ্যমে জাতকর্ম সংস্কারটি পালন করা হত। এটিও আজকাল আর তেমন পালন করা হয় না।

৫ম-নামকরণ : সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার দশম,একাদশ, দ্বাদশ বা শততম দিবসে নামকরণ করতে হয়। বর্তমানে অন্নপ্রাশনের সময়ে এটি হতে দেখা যায় দেখা যায়। শৈশব সংস্কারের প্রথম সংস্কার সন্তানের নাম রাখার অনুষ্ঠানই নামকরণ সংস্কার।

৬ষ্ঠ-অন্নপ্রাশনঃ হিন্দুধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ উৎসব। দশবিধ শুদ্ধিজনক সংস্কারের অন্যতম একটি হচ্ছে অন্নপ্রাশন। অন্নের প্রাশন বা ভোজনকে অন্নপ্রাশন বলে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সন্তান যদি বালক হয়, তবে ৬ষ্ঠ কিংবা ৮ম মাসে এবং বালিকা হলে ৫ম কিংবা ৭ম মাসে অন্নপ্রাশন করতে হয়। এটিই মূখ্যকাল। যদি কেউ এই সময়ে অপারগ হয় তাহলে অষ্টম ও দশম মাস গৌণ কালেও অন্নপ্রাশন করতে পারে। এতে সন্তানের মামার উপস্থিতি বাঞ্চনীয়। এ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। নিমন্ত্রিত আত্মীয়েরা আশীর্বাদ সহযোগে সাধ্যমাফিক উপহারসামগ্রী প্রদান করে।

৭ম-চূড়াকরণ : গর্ভাবস্থায় সন্তানের মস্তকে যে কেশ উৎপন্ন হয় তা মুণ্ডনের নাম চূড়াকরণ। এরপর শিশুকে শিক্ষা এবং সংস্কারের পাত্রীভূত করা হয়। বর্তমানে চূড়াকরণের কাজটি অন্নপ্রাশনের দিন-ই করে ফেলা হয়। তাই এই অনুষ্ঠানটিও এখন আর আলাধা করে করা হয় না।

৮ম-উপনয়ন : উপনয়ন একটি হিন্দু শাস্ত্রানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হিন্দু বালকেরা ব্রাহ্মণ্য সংস্কারে দীক্ষিত হয়। হিন্দু ঐতিহ্য অনুসারে, উপনয়ন হিন্দু বালকদের শিক্ষারম্ভকালীন একটি অনুষ্ঠান। হিন্দুধর্মে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য বর্ণের জন্য উপনয়নের ন্যূনতম বয়স যথাক্রমে আট থেকে ষোল, এগারো হতে বাইশ ও দ্বাদশ হতে চব্বিশ বছর। উপনয়নকালে বালকদের ব্রহ্মোপদেশ শিক্ষা দেওয়া হয়।মনুস্মৃতি অনুযায়ী, এরপর তারা ব্রহ্মচারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে অবশ্য কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রেই উপনয়ন সংস্কার প্রচলিত। ব্রাহ্মণের ষোড়াশ বর্ষের পর সাবিত্রী পতিত হয়, সুতরাং উপনয়ন হয় না। তবে ব্রাত্যতাদোষের প্রায়শ্চিত্ত করে উপনয়ন দেওয়া যায়। অর্থাৎ উপনয়ণ সংস্কারে বিদ্যা শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীকে প্রথম গুরুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ‘উপনয়ন’ শব্দটির মানেই নিকটে নিয়ে যাওয়া। উপনয়ন অনুষ্ঠানে শরীরে যজ্ঞোপবীত বা উপবীত (চলিত বাংলায় পৈতে) ধারণ করা হয়। উপবীত প্রকৃতপক্ষে তিনটি পবিত্র সূতো যা দেবী সরস্বতী, গায়ত্রী ও সাবিত্রীর প্রতীক। উপবীত ধারণের সময় উপবীতধারী গায়ত্রী মন্ত্র শিক্ষা করে। উপনয়নের পর ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের দ্বিজ বলা হয়। দ্বিজ শব্দের অর্থ দুইবার জাত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রথমবার ব্যক্তির জন্ম হয় মাতৃগর্ভ থেকে; এবং দ্বিতীয়বার জন্ম হয় উপবীত ধারণ করে।

৯ম-সমাবর্তন : উপনয়ন শেষে গুরুগৃহে বাস করার রীতি আগে ছিল, পাঠশেষে গুরুর আদেশে গৃহে ফিরে আসত, তখন গার্হস্থ্য ধর্মরক্ষণোপযোগিতার জন্য এই সংস্কার নির্বাহ হইত। এখন সে প্রথা না থাকায়, উপনয়নের দিনেই এটি হয়ে থাকে। অধ্যায়ন শেষে গুরু কর্তৃক শিষ্যকে গৃহে ফেরার অনুমতি প্রদান উৎসবকে সমাবর্তন বলে।উপনয়ন শেষে গুরুগৃহে বাস করাই ছিল রীতি।সেখানে পড়াশুনা শেষ করে গুরুর অনুমতি নিয়ে গৃহে প্রত্যাগমন করতে হত।বর্তমান কালে সাধারণত গুরুগৃহে থেকে বিদ্যা বিদ্যাশিক্ষার প্রচলন নেই। সে কারণে এ সংস্কারটি এখন পালিত হয় না। তবে বর্তমানে ‘সমাবর্তন’ নামটি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্র বিতরণ উৎসব এখন সমাবর্তন উৎসব নামে উদযাপিত হয়। যারা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের উপাধি পত্র প্রদান উৎসবই পূর্বকালের গুরুগৃহ ত্যাগের উৎসব বলে মনে করা যেতে পারে।

১০-বিবাহ : যৌবনাবস্থায় একমাত্র সংস্কারই বিবাহ। বিবাহের দ্বারা পুরুষ সন্তানের পিতা হন। নারী হন মাতা । বিবাহের মাধ্যমে পিতা, মাতা, পুত্র কন্যা প্রভূতি নিয়ে গড়ে ওঠে একটি পরিবার। পরিবারে সকলে মিলেমিশে সুখ-দুঃখ ভাগ ও ভোগ করে জীবন-যাপন করে। বিবাহে যেমন কতকগুলো শাস্ত্রীয়বিধি বিধান পালিত হয়, তেমনি পালিত হয় কতগুলো লৌকিক ও স্থানীয় স্ত্রী- আচার।
বিবাহ উচ্চারণ করা হয় :-

যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম।
যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব।।

অর্থাৎ যদেতৎ=যেখানে, হৃদয়ং=হৃদয়, তব=তোমার, তদস্তু=সেখানে, হৃদয়ং=হৃদয়, মম=আমার, যদিদং=যেখানে, হৃদয়ং=হৃদয়, মম=আমার, তদস্তু=সেখানে, হৃদয়ং=হৃদয়, তব=তোমার ।
অর্থাৎ তোমার হৃদয় আমার হোক আমার হৃদয় তোমার হোক। এ মন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে গভীর ঐক্য গড়ে ওঠে। মনুসিংহতায় সেকালের অবস্থা অনুসারে ৮ রকমের বিবাহ- পদ্ধতির বর্ণনা আছে। যথা- ব্রাহ্ম, দৈব্য, আর্ষ, প্রজাপাত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ। কন্যাকে বিশেষ বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে স্বর্ণ অলংকার ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচর সম্পন্ন বরকে স্বয়ং আমন্ত্রন করে যে কন্যা দান করা হয় তাকে ব্রাহ্মবিবাহ বলে। “তোমরা উভয়ে সুখে গার্হস্থ্য ধর্মের আচরণ কর”- এই আর্শীবাদ করে যথাবিধি অলংকার ইত্যাদি দ্বারা অর্চনাপূর্বক বরকে যে কন্যা দান করা হয় তাকে প্রজাপত্য বিবাহ বলে।বিবাহের নানা প্রকার পদ্ধতি সেকালের সামাজিক প্রথাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। বিবাহ-পদ্ধতি সমূহের মধ্যে ব্রাহ্ম বিবাহ পদ্ধতিটিই শ্রেষ্ঠ।

সব জাতিরই এতে অধিকার আছে। পতি ও পত্নী উভয় মিলিত হয়ে যে ধর্মানুষ্ঠান করতে হয়, তা আমাদের শাস্ত্রে ভূয়োভূয়ঃ আদিষ্ঠ হয়েছে। বিবাহেই স্ত্রী পুরুষ এক হয়। শ্রুতি বলেছেন, ‘অস্থিভিরস্থীনি মাংসৈর্মাংসানি ত্বচা ত্বচং’। বিবাহের মন্ত্রেও ‘যদিদং‌ হৃদয়ং মম তদস্তু হৃদয়ং তব’ ইত্যাদি লিখিত আছে পরন্ত ‘স্ত্রীকো ধর্মমাচরেৎ’ ইত্যাদি স্মৃতিশাস্ত্র দ্বারা বিবাহিতা স্ত্রীকেই সহধর্মিণী বলা হয়েছে । অতএব এই বিবাহ যথাশাস্ত্র হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ব্রাহ্মণ ২৪, ক্ষত্রিয় ২৮, বৈশ্য ৩২ এবং শূদ্র ১৬ বছরের পর ৪৮ বছরের মধ্যে এই সংস্কারের অধিকারী। মতান্ত রে ব্রাহ্মণ সমাবর্তনের পরেই অধিকারী। কন্যার পক্ষে ৬ বছর ৩ মাসের পর ৭ বছর ৩ মাস এবং ৮ বছর ৩ মাসের পর ৯ বছর ৩ মাস পর্যন্ত প্রশস্তকাল।

বিশেষ জ্ঞাতব্য: দশবিধ সংস্কারের প্রত্যেকটাতেই নান্দীমুখ শ্রদ্ধ করতে হয়। এক দিনে সংস্কার্য (যাহার সংস্কার করা হবে) একের চেয়ে বেশি হলে সংস্কারক। পিতাকে একবার মাত্র নান্দীমুখ শ্রাদ্ধ করতে হবে। পিতার অভাবে যাদের সংস্কার তার প্রত্যেকেই পৃথকভাবে করবেন। নান্দীমুখ বা বৃদ্ধিশ্রাদ্ধের নিয়মাদি সকল সংস্কারেই একই রকম। বিবাহে পিতা সংস্কারক না হলেও প্রথম বিবাহে পিতাই বৃদ্ধিশ্রাদ্ধেই অধিকারী, দ্বিতীয়ত বিবাহে পিতা জীবিত থাকলেও যাঁর বিবাহ তিনিই বৃদ্ধিশ্রাদ্ধের অধিকারী। সংস্কার্যের (যাঁহার সংস্কার হবে তাঁর) অথবা সংস্কারের (যিনি সংস্কারকর্তা তাঁর) পিতামাতার মৃত্যুও পর সংবৎসের মধ্যে কোনো সংস্কারই অনুষ্ঠিত হয় না, যদি সংস্কারের মুখ্যকাল অতীত হবার সম্ভাবনা ঘটে তা হলে সংস্কারের পূর্বদিন অপকর্ষপিন্ডন করে সংস্কার করতে পারবেন। মুখ্যকালাতীত হলেও উপনয়নে ব্রাত্যসম্ভাবনায় ও বিবাহে কন্যার পৌঢ়াবস্থায় এবং অনাশ্রমী সম্ভাবনা হেতু অপকর্ষ করতে পরবেন।

হিন্দু ধর্মে হলুদ বা হরিদ্রা
হিন্দুদের জীবনে এমনকি ধর্ম মোতাবেক বিবাহ অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। মানুষকে পাপমুক্ত করে বিশুদ্ধ করবার জন্য হিন্দুদের যে দশবিধ সংস্কার আছে তার মধ্যে বিবাহ হচ্ছে শেষ বা চরম সংস্কার। বিবাহের মাধ্যমে যেহেতু একজন নারী পিতার বংশ ছেড়ে স্বামীর বংশে চলে আসে, সেজন্য হিন্দুনারীর পক্ষে বিবাহ-জীবন চরম একটা সন্ধিক্ষণ। এরূপ সন্ধিক্ষণে যাতে কোন বাধা-বিপত্তি না ঘটে তার উদ্দেশ্যেই হরিদ্রাগণপতির পূজা করে থাকে। হরিদ্রাগণপতি মানে হলুদ গণেশ, হিন্দু দেবতা গণেশের (গণপতি) একটি রূপ যার গায়ের রং হলুদ। গণেশের এই রূপটি তার ৩২টি সর্বাধিক জনপ্রিয় রূপের অন্যতম। তিনি আবার হলুদ রঙের কাপড় পরিধান করেন। পার্থিব চাহিদা পূর্ণ করার জন্য (বিশেষত যৌনজীবন-সংক্রান্ত বরলাভের জন্য) তার পূজা করা হয়। তাই হিন্দু সমাজ কল্যাণের আশায় বিয়ের সময় হলুদ কাপড় পরিধান করে এবং গায়ে হলুদ মাখে। যা হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি হিসাবে পালন করে থাকে।

নতুন কিছু জানতে ফলো করুন ।।

🌿✨ বৈতরণী নদীর কাহিনি হিন্দু ধর্মগ্রন্থে এক গভীর প্রতীকী বার্তা বহন করে। গরুড় পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে, মৃত্যুর...
14/03/2026

🌿✨ বৈতরণী নদীর কাহিনি হিন্দু ধর্মগ্রন্থে এক গভীর প্রতীকী বার্তা বহন করে। গরুড় পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা শেষ নয়, বরং শুরু হয় এক কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার অন্যতম রূপ হলো বৈতরণী নদী—যেখানে পাপী আত্মাদের ভয়ংকর স্রোত, বিষাক্ত প্রাণী ও যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে হয়।

🐂 গোদান ও মুক্তি
ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জীবনে ভক্তিভরে গোদান করেছেন, মৃত্যুর পর সেই গরুই আত্মাকে সাহায্য করে বৈতরণী পার করিয়ে দেয়। তাই গোদানকে মুক্তিদায়ক ও পুণ্যসঞ্চয়কারী মনে করা হয়।

🙏 বৈতরণী দানের গুরুত্ব
শ্রাদ্ধ বা মৃত্যুকালে বৈতরণী দান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে গরু (বা প্রতীকী গোদান), তিল, লোহা, কম্বল, জলপাত্র ও অন্ন দান করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দান আত্মার কঠিন যাত্রাকে সহজ করে এবং তাকে সদগতি দেয়।

✨ গভীর বার্তা
বৈতরণীর ভয়ংকর বর্ণনা আসলে আমাদের জীবনে ধর্ম, সত্য, দয়া ও পরোপকারের পথে চলার শিক্ষা দেয়।
✔ সত্য ও ধর্মের পথে চলা
✔ করুণা ও দয়া হৃদয়ে ধারণ করা
✔ দান ও সেবাকে জীবনের অংশ করা

কারণ মৃত্যুর পর ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য বা শক্তি কিছুই সঙ্গে যায় না—শুধু আমাদের কর্মই আমাদের মুক্তির পথ খুলে দেয়।

🌸 তাই প্রেমভরে বলুন—
জয় জয় শ্রী রাধে 🙏🙏

🕉️মৃত্যুর পর আত্মা প্রথম কাকে খোঁজে? ।             মা সন্তান নাকি ••••।                   জীবনসঙ্গী? ‼️•••••••••••••••••...
23/02/2026

🕉️মৃত্যুর পর আত্মা প্রথম কাকে খোঁজে?
। মা সন্তান নাকি ••••
। জীবনসঙ্গী? ‼️
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত্যু মানেই সবকিছু শেষ নয়, বরং এটি একটি পোষাক পরিবর্তনের মতো••••পুরানো দেহ ত্যাগ করে নতুন যাত্রার শুরু।
🌟গরুর পুরানে উল্লেখ আছে য়ে, •••মৃত্যুর পর আত্মা যখন দেহ ত্যাগ করে, তখন সে এক গভীর বিভ্রান্তি ও মোহের মধ্যে দিয়ে যায়। দেহ থেকে বিছিন্ন হওয়ার পর আত্মা তৎক্ষণাৎ যমলোকে চলে যায় না। গরুর পুরান অনুসারে, মৃত্যুর পর আত্মা কিছুক্ষন দেহের আশেপাশে অবস্থান করে।
এইসময় আত্মা অত্যন্ত ব্যাকুল বোধ করে।
🌿গরুর পুরানের নির্যাস থেকে যা বোঝা যায়, তা হলো••••মায়ার বন্ধন:আত্মা মুলত তাকেই প্রথম খোঁজে যার সাথে তার মায়ার টান বা আবেগীয় আসক্তি সবচেয়ে বেশি।
🌟পরিবারের সান্নিধ্য:-আত্মা সাধারণত তার প্রীয় কোনো স্থানে বসে তার পরিজনদের পর্যবেক্ষণ করে। সে দেখে তার মৃত্যুতে কারা সবচেয়ে বেশি শোকাতুর।
🌟তৃষ্ণা ও ক্ষুধা:-এইসময় আত্মা অত্যন্ত তৃষ্ণান্ত ও ক্ষুধার্ত থাকে। তাই সে তার তৃপ্তি বা সদগতির জন্য শাস্ত্রীয় নিয়ম(যেমন তর্পন বা পিন্ডদান)পালন করবে।
। গরুর পুরান মতে, মৃত্যুর পর আত্মা ১৩ দিন পর্যন্ত তার ফেলে আসা গৃহেই অবস্থান করে। এই সময়ে•••••সে তার সন্তানদের কর্ম ও আচরন লক্ষ্য করে।
। জীবনসঙ্গীর প্রতি তার দীর্ঘদিনের টান তাকে ঘরের মায়ায় আটকে রাখে।
। তবে শাস্ত্র বলছে, এই ১৩ দিন মূলত পিন্ড বা শ্রাদ্ধের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে। এই সময় সে বুঝতে পারে যে,,, এই পার্থিব জগতে তার আর কোনো স্থান নেই।
। 🌿১৩ দিন পার হওয়ার পর যমদূতেরা আত্মাকে যমলোকের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। তখন তার মা, সন্তান বা জীবনসঙ্গী •••• কাউকেই ছোঁয়ার সাধ্য থাকে না। শুরু হয় এক দীর্ঘ ৪৭ দিনের যাত্রা, যেখানে আত্মার একমাত্র সঙ্গী হয় তার জীবদ্দশায় করা 'কর্ম'।
। 🌿গরুড় পুরানের শিক্ষা অনুযায়ী,আত্মা মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে প্রীয়জনদের খুঁজলেও শেষ পর্যন্ত তাকে একাকী যাত্রা করতে হয়। আত্মা তখন বুঝতে পারে যে, কেউ তাকে আর দেখতে পারছে না, তখন সে ধীরে ধীরে পরমাত্মার দিকে এগিয়ে যায়।
। 🌿তাই জীবিত থাকাকালীন সৎ কর্ম এবং প্রীয়জনদের প্রতি দায়িত্ব পালনি হলো••••প্রকৃত ধৰ্ম। ‼️
। ধন্যবাদ 🙏

তুলি মালা তিন প্যাচ ধারণের বিস্তারিত🙏🙏🙏👉🏻প্রশ্নঃ- গলায় তুলসী মালা কেন তিন প্যাঁচ দিয়ে পরতে হয়!এক প্যাঁচ দিয়ে পরতে নেই কে...
16/10/2025

তুলি মালা তিন প্যাচ ধারণের বিস্তারিত🙏🙏🙏👉🏻প্রশ্নঃ- গলায় তুলসী মালা কেন তিন প্যাঁচ দিয়ে পরতে হয়!
এক প্যাঁচ দিয়ে পরতে নেই কেন।
👉🏻উত্তরঃ- স্কন্দপুরাণে বলা হয়েছে-
যৎকন্ঠে তুলসী নাস্তি তে নরা মূঢ় মানসাঃ।
সুনো বিষ্ঠা-সমং চান্নং জলং চ মদিরা সমং।।

যে ব্যক্তি নিজের গলায় তুলসী মালা ধারণ করে না ওই মূঢ় ব্যক্তি যদি জল স্পর্শ করে তাহলে ঐজল মদের সমান হয়ে যায় আর যদি অন্ন স্পর্শ করে তাহলে সেই অন্ন রাজহংসের বিষ্ঠা (মল)সম হয়ে যায়।
তাই প্রত্যেক মানুষের তুলসী মালা পরিধান করা একান্ত কর্তব্য।

পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে--
স্নানকালে তু যস্যাঙ্গে,দৃশ্য তে তুলসী শুভাঃ।
সর্বতীর্থেসু স্নানং ভবতি তে নন সংশয়।।

যখন কোন মানুষ গলায় তুলসী মালা ধারণ করে স্নান করে তখন ওই তুলসীকে স্পর্শ করে জল সর্বাঙ্গে স্নান হয় ঐ ব্যক্তি এই পৃথিবীর সর্ব তীর্থ স্নানের পুণ্যফল প্রাপ্তি হয়ে যায়।

শ্রীল ব্যাসদেব গোস্বামী পদ্মপুরাণে এই সত্য কথা লিখেছেন এতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।

এবার তুলসী মালা কেন তিন প্যাঁচ দিয়ে গলায় ধারণ করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করা যাক!

শাস্ত্র-সম্মত ভাবে গলায় তিনি প্যাঁচ দিয়ে তুলসী মালা ধারণ করা কর্তব্য কারণ স্মৃতিশাস্ত্রে তিন প্যাঁচ দিয়ে তুলসী মালা ধারণ করার কথা উল্লাখ করা হয়েছে। তিন প্যাঁচ দিয়ে তুলসী মালা ধারণ করার সময় তিনটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হয়---

👉🏻১৷ প্রথম প্যাঁচ দিয়ে বলতে হয় আমি নিজেকে উদ্ধার করিব হরিনামের দ্বারা!

👉🏻২৷ দ্বিতীয় প্যাঁচ দিয়ে বলতে হয় আমি আমার পরিবারকে উদ্ধার করিব হরিনামের দ্বারা!

👉🏻৩৷ তৃতীয় প্যাঁচ দিয়ে বলতে হয় আমি যাহাকে দেখিব তাহাকে বলিব হরিনাম করিলে উদ্ধার হইবে এ হরিনামের দ্বারা।

তুলসী মালা প্রথম প্যাঁচ নিদের্শ করে সমন্ধ তত্ত্ব অর্থাৎ জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্য দাস, কৃষ্ণের সঙ্গে যে আমার নিত্য-সমন্ধ রয়েছে সেই সমন্ধকে স্মরণ করে গভীর প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

তুলসী মালার দ্বিতীয় প্যাঁচ নিদের্শ করে অভিধেয় তত্ত্ব অর্থাৎ কৃষ্ণের সঙ্গে যে একমাত্র সমন্ধ রয়েছে তাকে পাওয়া একমাত্র উপায় হল ভক্তি!
সমস্ত বৈদিক শাস্ত্র তাই ভগবদ্ভক্তির পন্থাকে অভিধেয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে তাই এই তুলসী দ্বিতীয় প্যাঁচ দিয়ে আমি যেন সেই শুদ্ধ ভক্তি লাভ করতে পারি।👏

তুলসী মালা তৃতীয় প্যাঁচ নিদের্শ করে প্রয়োজন তত্ত্ব সমস্ত জীবের একমাত্র প্রয়োজন হল কৃষ্ণ প্রেম লাভ করা।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই স-কলকে সেয়ার করবেন।
প্রনিপাত👏

সদা - সর্বদা শ্রীশ্রী রাধা ও কৃষ্ণের পাদপদ্মের কথা স্মরণ করুন তাহলে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আপনার জন্য বরাদ্দকৃত কার্য্য সম্পাদন করতে কোন ও অসুবিধা অনুভব করতে হবে না।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের কৃপার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হবে শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নামটিতে অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে কারণ শ্রীকৃষ্ণের নাম স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের থেকে আলেদা নহে---
ঐকান্তিক ভালবাসা এবং নিষ্ঠার সাথে এই নামগুলি জপ করুন তবেই আপনি চিন্ময় আনন্দ অনুভব করবেন।👏

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

পঞ্চমুখী হনুমান (পাঁচমুখী হনুমান) হলেন ভগবান হনুমানের এক বিশেষ তান্ত্রিক রূপ , এই রূপে তিনি পাঁচটি মুখে এবং দশটি হাতে বি...
15/10/2025

পঞ্চমুখী হনুমান (পাঁচমুখী হনুমান) হলেন ভগবান হনুমানের এক বিশেষ তান্ত্রিক রূপ , এই রূপে তিনি পাঁচটি মুখে এবং দশটি হাতে বিরাজমান , এই রূপটি বিশেষভাবে শক্তিশালী, রক্ষাকর্তা ও শত্রু নিধনের জন্য বিখ্যাত , হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, পঞ্চমুখী হনুমান রূপ ধারণ করেন মহাশক্তিশালী রাক্ষসদের বধ করার জন্য এবং বিভিন্ন দিক থেকে আসা বিপদ প্রতিহত করার জন্য।

পঞ্চমুখী হনুমানের পাঁচটি মুখের অর্থ ও শক্তি

১. হনুমান পূর্ব রামদূত - সাহস, ভক্তি, শক্তি
২. নারসিংহ - উত্তর বিষ্ণুর অবতার শত্রু বিনাশ, রক্ষা
৩. গরুড় - পশ্চিম বিষ্ণুর বাহন নাগ দোষ থেকে মুক্তি
৪. বরাহ / অগ্নি - দক্ষিণ বরাহ অবতার / অগ্নিমুখ অশুভ শক্তি দমন
৫. হযগ্রীব - ঊর্ধ্ব জ্ঞানের দেবতা বিদ্যা, বুদ্ধি, মনঃসংযম

পঞ্চমুখী হনুমান পূজার উপকারিতা

কালো জাদু ও ভৌতিক সমস্যার সমাধান
শত্রু ও অপদ্রব্য থেকে রক্ষা
রাহু-কেতু গ্রহের দোষ নাশ
আত্মবিশ্বাস, সাহস ও শক্তির বৃদ্ধি
ঘর বা ব্যবসায় রক্ষাকবচ হিসেবে পূজা করা হয়

পঞ্চমুখী হনুমান জপ/পূজার নিয়ম

পবিত্র হয়ে লাল বা গেরুয়া পোশাক পরে হনুমানের ছবির সামনে বসুন

প্রদীপ জ্বালিয়ে হনুমান চালিশা বা পঞ্চমুখী হনুমান মন্ত্র জপ করুন
লাল ফুল, লাড্ডু, নারকেল ও সিঁদুর নিবেদন করুন

প্রতিদিন বা প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার এই রূপের পূজা করুন

এই মন্ত্র টি জব করুন ফল পাবেন

ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায়
পূর্বমুখে তু রামদূতায় নমঃ
উত্তরমুখে তু নারসিংহায় নমঃ
পশ্চিমমুখে গরুড়াস্যায় নমঃ
দক্ষিণমুখে মহাবীরাগ্নয়ে নমঃ
ঊর্ধ্বমুখে হয়গ্রীবায় নমঃ
ওঁ পঞ্চবদনায় হনুমতে নমঃ

জয় বজরংবলি, জয় শ্রীরাম, জয় হনুমান

 #হরেকৃষ্ণ ~ আসুন আমরা জানি মৃত্যুর পর মানুষের কি হয়?  #হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের মৃত্যুর পর শরীর ও আত্মার পথ আল...
13/08/2025

#হরেকৃষ্ণ ~ আসুন আমরা জানি মৃত্যুর পর মানুষের কি হয়?

#হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের মৃত্যুর পর শরীর ও আত্মার পথ আলাদা হয়ে যায়।

১. শরীরের অবস্থা

মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে দেহ জড় পদার্থে পরিণত হয়—পঞ্চভূতে (মাটি, জল, আগুন, বায়ু, আকাশ) মিলিয়ে যায়।
গীতায় (২.২২) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—

> যেমন মানুষ পুরোনো কাপড় ত্যাগ করে নতুন কাপড় পরে, তেমনি আত্মা পুরোনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে।
২. আত্মার যাত্রা

আত্মা কখনো মরে না, কেবল দেহ ত্যাগ করে। মৃত্যুর পরে আত্মা তার কর্মফল ও সংস্কার অনুযায়ী পরবর্তী গন্তব্যে যায়।

সৎকর্ম বেশি থাকলে — দেবলোক বা উচ্চতর জন্মলাভ।

পাপকর্ম বেশি থাকলে — নরক বা দুঃখজনক জন্মলাভ।

ভক্তি ও ঈশ্বরস্মরণে মৃত্যু হলে — মুক্তি পেয়ে ভগবানের ধামে প্রবেশ।

৩. যমদূত ও যাত্রা

গারুড় পুরাণে বর্ণিত আছে— মৃত্যুর পরে যমদূত আত্মাকে নিয়ে যমপুরীতে যান, সেখানে কর্মফল নির্ধারণ হয়। তবে ভগবান নামস্মরণে মৃত্যুবরণ করলে বিষ্ণুদূত এসে ভক্তকে নিয়ে যান, যমদূতের কোনো অধিকার থাকে না।
৪. নতুন জন্ম বা মুক্তি

যদি কর্মফল শেষ না হয়, আত্মা আবার জন্ম নিয়ে জীবনের চক্রে প্রবেশ করে (পুনর্জন্ম)।

যদি ঈশ্বরচরণে আত্মা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে, তবে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে মোক্ষ লাভ হয়।
মৃত্যু-পরবর্তী আত্মার যাত্রা গারুড় পুরাণ ও ভাগবত অনুসারে দিনভিত্তিক সম্পূর্ণ বি— মৃত্যুর পর প্রথম দিন থেকে ১৩ দিন পর্যন্ত কী কী ঘটে। রাধে রাধে 🌸🙏
গারুড় পুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবতের ভিত্তিতে মানুষের মৃত্যুর পর আত্মার প্রথম ১৩ দিনের যাত্রা বিস্তারিত ।
এটি মূলত হিন্দু ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা।

*******
_____________________
#মৃত্যুর পর ১৩ দিনের আত্মার যাত্রা

১ম দিন: (মৃত্যুর মুহূর্ত)

মৃত্যুর সাথে সাথে আত্মা দেহ ত্যাগ করে।

যারা ভক্ত, তারা নামস্মরণে থাকলে বিষ্ণুদূত এসে নিয়ে যান।

সাধারণ মানুষ বা যারা ভগবানের চেতনায় নেই, তাদের আত্মা প্রায়শই বিভ্রান্ত ও হতবাক অবস্থায় থাকে।

যমদূত আত্মাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন (যদি পাপকর্ম থাকে)।

২য়–৩য় দিন :

আত্মা তার চারপাশ দেখে, প্রিয়জনদের কান্না শুনতে পায় কিন্তু কিছুই বলতে বা স্পর্শ করতে পারে না।

আত্মা তখনও বুঝতে চেষ্টা করে যে সে শরীর ছেড়ে গেছে।

বাড়িতে শাস্ত্র অনুযায়ী শৌচ পালন হয়।

৪র্থ দিন :

গারুড় পুরাণে বলা হয়েছে—এই সময় আত্মাকে এক বিশেষ সূক্ষ্ম দেহ (যাত্রাদেহ) দেওয়া হয়।

সে যমপুরীর পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়।

যাত্রা শুরুর আগে আত্মা তার আগের জীবনের কাজগুলো স্মরণ করে।

৫ম–৯ম দিন :

আত্মার সামনে যমপুরীর পথে নদী, অরণ্য, পাহাড়, কণ্টকাকীর্ণ পথ আসে।

ভালো কর্ম করলে পথ সহজ হয়, পাপ করলে পথ কষ্টকর হয়।

আত্মার জন্য বাড়িতে প্রতিদিন পিণ্ডদান ও জলদান করলে পথের কষ্ট কমে।

১০ম দিন

আত্মা যমপুরীর নিকটে পৌঁছায়।

বাড়িতে এই দিনে দশক্রিয়া হয় — শাস্ত্র মতে, দেহের অবশিষ্ট সূক্ষ্ম সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

১১তম–১২তম দিন :

আত্মাকে যমরাজের সভায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে চিত্রগুপ্ত তার কর্মফল লিপি পাঠ করেন।

সৎকর্ম, পাপকর্ম ও ভক্তি অনুসারে পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ হয় —

দেবলোক

নরক

পুনর্জন্ম

বা মুক্তি।

১৩তম দিন :

গৃহে শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান হয়।

এটি আত্মার জন্য শেষ বিদায় ও পথের আশীর্বাদ।

এর পর আত্মা নির্ধারিত স্থানে চলে যায়।
ভক্ত আত্মা সরাসরি ভগবানের ধামে পৌঁছে যায়।
💡 বিশেষ কথা:
গারুড় পুরাণ বলছে, মৃত্যুর পর প্রথম ১৩ দিন আত্মার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তখন পরিবার যদি নামকীর্তন, ভগবৎ স্মরণ, গীতা পাঠ, ও পিণ্ডদান করে, আত্মার যাত্রা শান্ত ও কল্যাণময় হয়।

হরে কৃষ্ণ 🌸🙏

02/08/2025
 # সাত_পাকের_রহস্য / সাত পাক কেন ঘোরানো হয় --: :দুর্গাসহ যেকোনো প্রতিমাকে বিসর্জন অর্থাৎ জলে ডুবিয়ে দেওয়ার সময় সেই প্রতি...
10/07/2025

# সাত_পাকের_রহস্য / সাত পাক কেন ঘোরানো হয় --: :
দুর্গাসহ যেকোনো প্রতিমাকে বিসর্জন অর্থাৎ জলে ডুবিয়ে দেওয়ার সময় সেই প্রতিমাকে সাত পাক ঘোরানো হয়; এছাড়াও হিন্দুদের বিয়ের সময়ও বরের চারপাশে কনেকে সাত পাক ঘোরানো হয়।
এর কারণ ম্যাক্সিমাম হিন্দুই জানে না বা বলা যায় ৯৯% হিন্দুই জানে না।কিন্তু এর পেছনে রয়েছে গণিতের এক অসাধারণ তত্ত্ব, তত্ত্বটি জানলে আপনি যে অবাক হবেন।
তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সেই সাথে আরও অবাক হবেন, এই তত্ত্বের আবিষ্কারক ও প্রচলক আমাদের মুনি ঋষিদের জ্ঞানের পরিধি ও এ সম্পর্কে তাদের দূরদর্শিতাকে উপলব্ধি করলে।
যা হোক, রহস্য না বাড়িয়ে ভেঙ্গেই দিই তত্ত্বটি।
কোনো বিন্দুকে কেন্দ্র করে যখন তার চারপাশে একবার বা একপাক ঘোরা হয়, তখন ৩৬০ ডিগ্রী অতিক্রম করা হয়। এই ৩৬০ কে ১,২,৩,৪,৫,৬,৮ এবং ৯ দ্বারা নিঃশেষে ভাগ করা যায়, অর্থাৎ ৩৬০ কে ৭ ছাড়া ১ থেকে ৯ এর মধ্যে যেকোনো সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে কোনো অবশিষ্ট থাকে না; কিন্তু ৭ দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল ৫১ এর পরে ৩ অবশিষ্ট থাকে এবং ৫১ এর পর দশমিক নিলেও এই ভাগ অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে অর্থাৎ ৭ দ্বারা ৩৬০কে ভাগ করলে ভাগফল কখনোই শেষ হয় না, এককথায় ৭ দ্বারা ৩৬০কে ভাগ করা যায় না অর্থাৎ ৭ দ্বারা ৩৬০ অবিভাজ্য।
প্রতিমাকে বিসর্জনের সময় ৭ পাক ঘোরানো হয়, মানে সেই প্রতিমা এবং তার ভক্তদের মাঝে একটি অবিভাজ্য সম্পর্ক তৈরি করা হয়, যে সম্পর্ক কখনো ভাগ বা বিভক্ত হয় না বা হবে না; এভাবে দেব-দেবীদের সাথে হিন্দুদের একটি চিরকালীন সম্পর্কের কল্পনা করা হয়েছে।
এই একই ভাবনা বা থিম কাজ করে হিন্দুদের বিয়ের সময়,
যাতে বরের চারপাশে কনেকে সাত পাক ঘুরিয়ে বা বর কনে একসাথে সাত পাক ঘুরে---+
এতে করে বরের সাথে কনের অর্থাৎ স্বামীর সাথে স্ত্রীর একটি অবিভাজ্য সম্পর্কের বন্ধন তৈরি করা হয়, যে সম্পর্ক কখনো বিভাজ্য বা ভাগ হয় না অর্থাৎ শেষ হয় না। তাই হিন্দুত্বে তেমন অহরহ তালাক বা ডিভোর্স নেই এবং এ কারণেই হিন্দু মেয়েদের সাংসারিক জীবন নিশ্চিন্ত,
তাই অহরহ তালাক বা স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে বাপের বাড়ি বা রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ানোর সংখ্যা ২% ও নেই।
আর স্বর্ণের খাদ থাকার মত কিছু ত থাকেই যেগুলো নগন্য মাত্র।
আর এখানেই সনাতন ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব . . ......
. . . . . . . . প্রচারে -- উপেন্দ্র কুমার দেবনাথ . . .

ভগবান আমাদের মুখমন্ডল ও ঠোঁট দুটোকে ধনুকের মতো করে গড়েছেন—বস্তুত তার পিছনে শুধুই নকশার খেলা নয়, আছে এক গভীর তাৎপর্য।ধন...
14/06/2025

ভগবান আমাদের মুখমন্ডল ও ঠোঁট দুটোকে ধনুকের মতো করে গড়েছেন—বস্তুত তার পিছনে শুধুই নকশার খেলা নয়, আছে এক গভীর তাৎপর্য।
ধনুক দিয়ে যেমন তীর ছুঁড়ে শত্রুকে ঘায়েল করা যায়, তেমনি এই ঠোঁট নামক ধনুক দিয়েও মানুষ প্রতিনিয়ত ছুঁড়ে চলেছে কথার তীর।

এই ঠোঁট থেকে ছুটে যায় এমন কিছু শব্দ, যা এক নিমেষেই কাউকে আকাশে তুলে দেয় আবার কেউ কেউ সেই একই ঠোঁটের কথা শুনে চিরতরে ভেঙে পড়ে।
কথার এমন এক অসীম শক্তি আছে, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।

শুধু একটা কথা – “তুই কিছুই পারবি না” – এই একটা বাক্য কত মানুষকে ভেঙে দেয়।
আবার, “তুই পারবি, আমি বিশ্বাস করি” – এই কথাটাই কাউকে নতুন জীবন দিতে পারে।

ভেবে দেখো, ঠোঁটের আকৃতি ধনুকের মতো, আর জিভ হল যেন সেই তীর রাখার জায়গা। আর আমাদের মস্তিষ্ক হল সেই অদৃশ্য তীরন্দাজ, যে ঠিক করে কখন কোন তীর ছোঁড়া হবে – ভালোবাসার না ঘৃণার, সাহসের না অপমানের।

আর মজার ব্যাপার কী জানো?
এই ধনুক থেকে বেরোনো তীরগুলো আর ফেরানো যায় না!
তাই একটু ভাবো, একবার ঠোঁট খুলবে, তো ঠিক করো কী ছুঁড়বে—কথার মধু না বিষ!

ভগবান আমাদের মুখ দিয়েছেন আশীর্বাদ করার জন্য, উপহাস নয়।
ভালোবাসা ছড়ানোর জন্য, ঘৃণা নয়।
আর মানুষ হয়েছো তো? তাহলে ঠোঁট দিয়ে তীর ছোঁড়ো, কিন্তু লক্ষ্য যেন হয় কারো হৃদয় ভাঙা নয়, গড়া

"ঠোঁটের ধনুক শক্তিশালী, কিন্তু সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা হয় ভিতরে—তীর ছোঁড়ার আগে একটু ভাবা, সেটাই আসল বীরত্ব!"
হরে কৃষ্ণ 🙏🙏
#ভগবানশ্রীকৃষ্ণ
#রাধামাধব

゚viralシfypシ゚viralシalシ

আম্রপালী....আম্রপালী ছিলেন এমন একজন অনিন্দ্য সুন্দরী ; প্রায় ২,৫০০ বছর আগে রাষ্ট্র যাকে বানিয়েছিল নগরবধূ বা পতিতা। স্বাদ...
11/06/2025

আম্রপালী....

আম্রপালী ছিলেন এমন একজন অনিন্দ্য সুন্দরী ; প্রায় ২,৫০০ বছর আগে রাষ্ট্র যাকে বানিয়েছিল নগরবধূ বা পতিতা।

স্বাদের দিক থেকে অনেকের কাছেই 'আম্রপালী' আম খুবই প্রিয়। আকারে ছোট কিন্তু মিষ্টির দিক থেকে যেন সকল আমকে পিছনে ফেলে দিয়েছে 'আম্রপালী'। কিন্তু এই আমটার নামকরণ কোথা থেকে হল জানেন ?

আম্রপালী জন্মেছিলেন আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগে ভারতে। তিনি ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী। তার রুপে পাগল ছিল পুরো পৃথিবী আর এই রুপই তার জন্য কাল হয়ে ওঠে। যার কারণে তিনি ছিলেন ইতিহাসের এমন একজন নারী, যাকে রাষ্ট্রীয় আদেশে পতিতা বানানো হয়েছিল!

আম্রপালী বাস করতেন বৈশালী শহরে। বৈশালী ছিল প্রাচীন ভারতের গণতান্ত্রিক একটি শহর, যেটি বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের অর্ন্তগত।
মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালীকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান। তার আসল বাবা-মা কে ইতিহাস ঘেঁটেও তা জানা যায়নি। যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালী। সংস্কৃতে আম্র মানে আম এবং পল্লব হল পাতা। অর্থাৎ, আমগাছের নবীন পাতা।

কিন্তু শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আম্রপালীকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তার রুপে চারপাশের সব মানুষ পাগল হয়ে যান। দেশ-বিদেশের রাজপুত্রসহ রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে যান। নানা জায়গায় থেকে তাকে নিয়ে দ্বন্দ, ঝগড়া আর বিবাদের খবরও আসতে থাকে। সবাই তাকে একনজর দেখতে চান, বিয়ে করতে চান। এ নিয়ে আম্রপালীর মা-বাবা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। তারা তখন বৈশালীতে সকল গণমান্য ব্যক্তিকে এর একটি সমাধান করার জন্য বলেন। কারণ, সবাই আম্রপালীকে বিয়ে করতে চান। তখন বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে বৈঠকে বসে নানা আলোচনার পর যে সিদ্ধান্ত নেন তা হল, আম্রপালীকে কেউ বিয়ে করতে পারবেন না। কারণ তার রুপ। সে একা কারো হতে পারে না। আম্রপালী হবে সবার। সে হবে একজন নগরবধু, মানে সোজা বাংলায় পতিতা।

এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ইতিহাসে এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে পতিতা বানানো হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল! আম্রপালী সে সভায় পাঁচটি শর্ত রাখেন....

(১) নগরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় তার ঘর হবে।
(২) তার মুল্য হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা।
(৩) একবারে মাত্র একজন তার গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন।
(৪ ) শক্র বা কোন অপরাধীর সন্ধানে প্রয়োজনে সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার তার গৃহে প্রবেশ করা যাবে।
(৫) তার গৃহে কে এলেন আর কে গেলেন- এ নিয়ে কোন অনুসন্ধান করা যাবে না।

সবাই তার এসব শর্ত মেনে নেন। এভাবে দিনে দিনে আম্রপালী বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তার রুপের কথাও দেশ-বিদেশে আরও বেশী করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার। শোনা যায়, তার স্ত্রীর সংখ্যা নাকি ৫০০ ছিল! নর্তকীদের নাচের এক অনুষ্ঠানে তিনি এক নর্তকীর নাচ দেখে বলেছিলেন, এ নর্তকী বিশ্বসেরা।
তখন তার একজন সভাসদ বলেন- মহারাজ, এই নর্তকী আম্রপালীর নখের যোগ্য নয় !
বিম্বিসারের এই কথাটি নজর এড়ায়নি। তিনি তার সেই সভাসদের থেকে আম্রপালী সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে তাকে কাছে পাবার বাসনা করেন।
কিন্তু তার সভাসদ বলেন, সেটা সম্ভব নয়। কারণ, তাহলে আমাদের যুদ্ধ করে বৈশালী রাজ্য জয় করতে হবে আর আম্রপালীর দেখা পাওয়াও এত সহজ নয়। দেশ-বিদেশের বহু রাজাসহ রাজপুত্ররা আম্রপালীর প্রাসাদের সামনে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। কিন্তু মন না চাইলে তিনি কাউকে দেখা দেন না।

এত কথা শুনে বিম্বিসারের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে গিয়ে আম্রপালীকে দেখে আসবেন। কি এমন আছে সেই নারীর মাঝে, যার জন্য পুরো পৃথিবী পাগল হয়ে আছে!
তারপর বহু চড়াই উৎরাই শেষে তার আম্রপালীর সাথে দেখা করার সুযোগ আসে। আম্রপালীর প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে। কিন্তু দেখা করতে গিয়ে রাজা চমকে উঠেন, এত কোন নারী নয় ; যেন সাক্ষাৎ পরী ! এ কোনভাবেই মানুষ হতে পারেন না। এত রুপ মানুষের কিভাবে হতে পারে!
কিন্তু অবাক রাজার জন্য আরও অবাক কিছু অপেক্ষা করছিল। কারণ, আম্রপালী প্রথম দেখাতেই তাকে মগধ রাজ্যের রাজা বলে চিনে ফেলেন এবং জানান... তিনি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বহু আগে থেকেই।
এই কথা শুনে রাজার বিস্ময়ের সীমা থাকে না।
রাজা সাথে সাথে তাকে তার রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু আম্রপালী জানান, তার রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবেন না। উল্টো বহু মানুষের জীবন যাবে। রক্তপাত হবে। তাই রাজাকে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেন।
কিন্তু বিম্বিসার বৈশালী আক্রমন করে আম্রপালীকে পেতে চান । ওদিকে আম্রপালী তার নিজের রাজ্যের কোন ক্ষতি চান না। তাই তিনি রাজাকে তার নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠান এবং বৈশালীতে কোন আক্রমণ হলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এদিকে বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুও আম্রপালীর প্রেমে মগ্ন ছিলেন। তিনি বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন এবং আম্রপালীকে পাওয়ার জন্য বৈশালী রাজ্য আক্রমণ করে বসেন। কিন্তু দখল করতে সক্ষম হননি এবং খুব বাজেভাবে আহত হন। পরবর্তীতে আম্রপালীর সেবায় সুস্থ হয়ে গোপনে তার নিজের রাজ্যে ফেরত যান । সেদিনও আম্রপালী অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন।

এত নাটকীয়তার পর শেষের দিকে এসে কি হল? গৌতম বুদ্ধর সময়কাল তখন। গৌতম বুদ্ধ তার কয়েকশ সঙ্গী নিয়ে বৈশালী রাজ্যে এলেন। একদিন বৈশালী রাজ্যের রাবান্দা থেকে এক বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর মনে ধরে গেল। তিনি ভাবলেন, দেশ-বিদেশের রাজারা আমার পায়ের কাছে এসে বসে থাকেন আর এত সামান্য একজন মানুষ। তিনি সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস তার কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করলেন। সবাই ভাবলেন, বুদ্ধ কখনই রাজি হবেন না। কারণ, একজন সন্ন্যাসী এমন একজন পতিতার কাছে থাকবেন; এটা হতেই পারে না। কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাকে রাখতে রাজি হলেন এবং এটাও বললেন, আমি শ্রমণের (তরুণ সে সন্ন্যাসীর নাম ছিল) চোখে কোন কামনা-বাসনা দেখছি না। সে চার মাস থাকলেও নিষ্পাপ হয়েই ফিরে আসবে- এটা আমি নিশ্চিত!

চার মাস শেষ হল। গৌতম বুদ্ধ তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে যাবেন। তরুণ শ্রমণের কোন খবর নেই। তবে কি আম্রপালীর রুপের কাছেই হেরে গেলেন শ্রমণ? সেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তরুণ শ্রমণ ফিরে আসেন। তার পিছনে পিছনে আসেন একজন নারী। সেই নারীই ছিলেন আম্রপালী। আম্রপালী তখন বুদ্ধকে বলেন, তরুণ শ্রমণকে প্রলুব্ধ করতে কোনও চেষ্টা বাকি রাখেননি তিনি। কিন্তু এই প্রথম কোন পুরুষকে বশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী। তাই আজ সর্বস্ব ত্যাগ করে বুদ্ধের চরণে আশ্রয় চান তিনি।

পরে সব কিছু দান করে বাকী জীবন গৌতম বুদ্ধের চরণেই কাটিয়ে দেন ইতিহাস বিখ্যাত সেই রমণী আম্রপালী!
সংগৃহীত 🙏

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Radha Krishna Love Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share