Modern Hujur

Modern Hujur This page is for halal entertainment purposes. Please follow rules of Islam. Every good deeds are fr

নারীর স্বাধীনতা, নারী জাগরন, এক নারীতে আসক্ত পুরুষ এই টার্মগুলো শুনতে খুব চমকদার হলেও বাস্তবতায় এর কোনো অস্তিত্ব আসলে দু...
17/10/2023

নারীর স্বাধীনতা, নারী জাগরন, এক নারীতে আসক্ত পুরুষ এই টার্মগুলো শুনতে খুব চমকদার হলেও বাস্তবতায় এর কোনো অস্তিত্ব আসলে দুনিয়ার কোথাও নেই। নারীর স্বাধীনতা, নারীর জাগরণের জন্যে যারা আমৃত্যু লড়ে যায় খোজ নিলে দেখা যাবে তাদের বেশির ভাগের ঘরেই কোনো না কোনো নারী নির্যাতিত হয়। মজার বেপার কি জানেন এই সব আন্দোলনে কখনই তাদের মা বোন বউ বা মেয়ে কে দেখবেন না, কেনো যানেন এর ভেতরের কুতসিত সত্য টা তারা জানেন। এগুলোর নামে তারা আসলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা ছাড়া আর কিছুই চায় না। এরা খুব সুক্ষ্ম ভাবেই অতিরঞ্জিত করে এই টার্ম গুলো ব্যবহার করে হয় নাটক সিনেমা বা গল্পের মাধ্যমে। খুব সুক্ষ্ম ভাবে এরা নারীর মাথায় ধর্মের প্রতি একটা নিরব ক্ষোভ জাগিয়ে তোলে। এই যে এক নারীতে আসক্ত পুরুষের কথা যে এরা বলে, বাস্তবতায় এটা কি আদোও সম্ভব? আসলেই কি পুরুষ এক নারীতে আসক্ত হয়? যাদের আমরা ইতিহাসের পাতায় শ্রেষ্ঠ মানুষ বলি, যারা একমাত্র রবের ভালবাসায় মজে গিয়ে নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন উনারাও কিন্তু এক নারীতে স্বীমাবদ্ধ ছিলেন না, একাধিক স্ত্রী ছিলো উনাদের। তাই বলে কি আমরা উনাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলি, নাহ বরং আল্লাহ সুবহানুওয়াতালার পক্ষ থেকে দেওয়া পুরুষদের অধিকার এই বিষয়টা। আল্লাহ সুবহানুওয়াতালা কুরআনে কারীমে এমনি এমনি চার বিয়ের প্রসংগ আনেন নাই। উনি এমনি এমনি কিছুই করেন না। বরং আমরাই আমাদের সমাজ বা বিশেষ কিছু গোষ্ঠী চায় আমরা আমাদের রবের বিপক্ষে গিয়ে আমাদের জীবন টা বিষিয়ে তুলি।

https://m.youtube.com/watch?v=N1z5P_2c94c

আমাদের ইসলাম ধর্ম টা এমন যে "আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম, আমরা তাদের মত না যে বলবো শুনলাম কিন্তু মানলাম না। আমরা কখনই আমাদে...
10/06/2022

আমাদের ইসলাম ধর্ম টা এমন যে "আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম, আমরা তাদের মত না যে বলবো শুনলাম কিন্তু মানলাম না। আমরা কখনই আমাদের ইসলাম ধর্মের বিষয় গুলো তে যুক্তি দর্শন ব্যাক্ষা খুজি না, অন্য কারো সাথে তুলনা করি না। আমাদের জন্যে এই টুকুই যথেষ্ট যে আদেশ আমাদের রব দিয়েছেন।"
কিন্তু এখন কিছু মানুষ কিছু কাফের মুশরিকের কথার বিপরিতে তুলনা ও ব্যাখ্যা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কেনো ভাই, যেই বিষয় গুলোর ব্যাখ্যা আমাদের রব দিয়েছেব সেগুলোই আমাদের জন্যে যথেষ্ট। কোনো কাফের মুশরিকের কথায় আমাদের কিচ্ছু যায় আশে না। তাদের সেই যোগ্যতাই নাই, যে আমাদের ধর্ম কে বুঝবে। তারা যা বলে এর জন্যে তারা নিজেদেরই ক্ষতি করছে। তবে আমাদেরও উচিৎ পুরো পৃথিবীর মুসলিমের এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধ্যে যাওয়া।

(১) ‘জমিনের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে  যে আমার আজাব (নিঝুম) রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর ...
26/11/2021

(১) ‘জমিনের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে আমার আজাব (নিঝুম) রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে!’ (সুরা আরাফ : ৯৭)

(২) ‘আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনগুলো পাঠাই।’
(সূরা বনি ইসরাইল : ৫৯)

(৩) ‘যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং খুনখারাবি বাড়বে, তোমাদের সম্পদ এতো বাড়বে যে উপচে পড়বে।’ (বুখারি : ৯৭৯)

যখন কোথাও ভূমিকম্প হয় অথবা সূর্যগ্রহণ হয় কিংবা ঝোড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন মানুষের উচিত মহান আল্লাহর কাছে অতি দ্রুত তাওবা করা। তাঁর কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা!

পরকালীন সফলতাই প্রকৃত সফলতাসফলতা কে না চায়? সুস্থ বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষই সফল হতে চায় আপন কর্মে আপন ক্ষেত্রে। যেখানে...
11/11/2021

পরকালীন সফলতাই প্রকৃত সফলতা
সফলতা কে না চায়? সুস্থ বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষই সফল হতে চায় আপন কর্মে আপন ক্ষেত্রে। যেখানেই সে বিচরণ করে, সেখানেই সফলতা অর্জন করতে চায়। এ সফলতা ব্যক্তি, ক্ষেত্র, লক্ষ্যভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সফলতা অর্জনে দু’ধরনের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। একটি হলো ব্যক্তিগত সফলতা আর অপরটি হলো সমষ্টিগত বা দলগত সফলতা। সফলতা অর্জনের জন্য মানুষ বহুভাবে চেষ্টা করে থাকে। মেধা, শ্রম, সময়, সম্পদ সবকিছুই মানুষ সাফল্য অর্জনে বিনিয়োগ করে। কিন্তু যে সাফল্য অর্জনের পেছনে মানুষের এতো চেষ্টা-প্রচেষ্টা সেই সফলতার ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সমাজের বেশির ভাগ মানুষই সাফল্য অর্জনের সময় এবং ক্ষেত্র শুধু দুনিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করে। অথচ প্রতিটি মানুষই মরণশীল, মৃত্যুর পরেও একটি জীবন আছে, যে জীবন অনন্তকালের। সে জীবন সম্পর্কে জেনেও পরকালীন সফলতার হিসাব কেউ করে না। ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগির জন্য মানুষ যতটা না সময় শ্রম অর্থ ব্যয় করে তার সিকিভাগও যদি মানুষ পরকালীন সফলতার জন্য ব্যয় করতো তাহলে মানুষের ইহকালীন সফলতার পাশাপাশি পরকালীন সফলতাও নিশ্চিত করা যেত। কারণ পরকালীন সফলতাই প্রকৃত সফলতা।

মানুষের জন্য মৃত্যু অবধারিত এটি ১৪শত বছর আগে নাজিলকৃত মহাগ্রন্থ আল কুরআনেই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সূরা আনকাবুত : আয়াত ৫৭) আর মৃত্যুর পরেই মানুষের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। হিসাব করা হবে মানুষ সফল না ব্যর্থ। দুনিয়ার জীবনে বহু সফলতা অর্জনকারীও সেদিন ব্যর্থ হবে কারণ দুনিয়ার সফলতাই চূড়ান্ত সফলতা নয়। মানুষ তার জীবনকে খন্ডিত চিন্তা না করে যদি আখিরাতকে নিয়েই চিন্তা করে তাহলে প্রকৃত সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অগ্রসর হতে পারবে। মানুষের প্রকৃত সফলতা কিন্তু দুনিয়ার কর্মের ভিত্তিতেই নিরূপণ করা হবে। দুনিয়ার কর্মের ভিত্তিতেই যে চূড়ান্ত সফলতা অর্জিত হবে তার নাম জান্নাত আর ব্যর্থতার পরিণাম জাহান্নাম। দুনিয়ার জীবন যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, তাই এর সফলতাও ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃত সফলতা হচ্ছে আখেরাতের সফলতা। তাই কেউ যদি আখেরাতের অনন্ত অসীম জীবনে সফলতা ও মুক্তি না পায়, তাহলে দুনিয়াতে সে যতই সুখ বিলাসিতা ও আরামে কাটাক না কেন, সে সফল নয়। আর যদি কোনো মুমিন দুনিয়ার অস্থায়ী ও স্বল্পকালীন জীবনটাকে কষ্টের ভেতর দিয়েও কাটায়, কিন্তু আখেরাতে সে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামতরাজি লাভ করবে, তাহলে সে-ই সফল। হজরত আবু বকর (রা) বলেন, যারা আখেরাতের অন্বেষায় দুনিয়াকে একেবারে পরিত্যাগ করে বসে তারা সফলকাম নয়; বরং দুনিয়া ও আখিরাতে যারা সমভাবে অর্জন করতে সক্ষম হয় তারাই সর্বাপেক্ষা সফলকাম মানুষ।

শুধু বৈষয়িক কল্যাণ বা সফলতাই প্রকৃত সফলতা বা কল্যাণ নয়। এমনও তো হতে পারে যে, এক ব্যক্তি চূড়ান্ত গুমরাহির ধারক-বাহক ও পথপ্রদর্শক হয়েও দুনিয়ার জীবনে নানা ধরনের অপকর্ম করে খুবই সফল জীবন উপভোগ করবে। সবাই হয়তো তাকে সবচেয়ে সফল ব্যক্তি বলেই বিবেচনা করবে। আর প্রতি মুহূর্ত ফুলে ফলে বিকশিত হবে তার যাবতীয় অপকর্ম। কিন্তু তার এ সফলতা প্রকৃত সফলতার পরিচয় বহন করে না। বরং তার যাবতীয় কর্মতৎপরতা চরম ব্যর্থতার চূড়ান্ত দলিল। নৈতিক মানদন্ডে সে একজন অপরাধী। দুনিয়াতে অপরাধীকে আল্লাহ সাময়িক কালের জন্য অবকাশ দিয়ে থাকলেও পরকালে অবশ্যই তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহ্ তা’য়ালার বাণী, “আল্লাহ্ যদি মানুষকে তাদের সীমালঙ্ঘনের জন্য শাস্তি দিতেন, তাহলে ভূপৃষ্ঠে কোনো জীব-জন্তুকেই রেহাই দিতেন না; কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন।” (সূরা নাহল : ৬১) দুনিয়ার বাহ্যিক চাকচিক্যে সফল এই ব্যক্তিটিই পরকালীন জিন্দেগিতে অপরাধী হিসেবে শাস্তি পাবেই। আল কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তুমি বল! আমি যদি আমার প্রতিপালকের নাফরমানি করি, তাহলে ভয় করছি এক বড় (ভয়াবহ) দিনে আমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।” (সূরা আনআম : ১৫) তিনি আরো বলেন, “তারা কি চিন্তা করে না, একটি মহাদিবসে তাদেরকে পুনরায় উঠানো হবে? যেদিন সমস্ত মানুষ বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে।” (সূরা মুতাফ্ফিফিন : ৩-৪) অর্থাৎ কিয়ামতের দিনটিকে মহাদিবস হিসেবে উপস্থাপিত করে বলা হয়েছে, “সেদিন আল্লাহর আদালতে সকল জিন ও মানুষের হিসাব নেয়া হবে এবং একই সঙ্গে শাস্তি ও পুরস্কার দানের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ফয়সালা করা হবে।” অথচ এ ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই গাফেল। কুরআনে আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন, বল! “এটা এক মহা সংবাদ, যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ।” (সূরা সোয়াদ : ৬৭-৬৮) কাজেই পরকাল-উদাসীন ব্যক্তির বৈষয়িক উন্নতিই সফলতার মাপকাঠি নয়। সফলতা লাভকারী স¤পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন, “সেদিন যে ব্যক্তি শাস্তি থেকে রেহাই পাবে, আল্লাহ্ তার ওপর বড়ই অনুগ্রহ করবেন, আর এটাই হলো সুস্পষ্ট সাফল্য।” (সূরা আন’আম : ১৬)

পরকালে মহাদিবসে প্রতিটি মানুষকেই তার দুনিয়ার জিন্দেগির হিসাব দিতে হবে। সেদিন প্রশ্ন করা হবে না কে জিপিএ ৫, কে গোল্ডেন পেয়েছো, কে ডাক্তার হয়েছো, কে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছো বরং সেদিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত কোনো মানবসন্তানকে এককদমও সামনে এগোতে দেয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে হজরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আদমসন্তানকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এককদমও স্বস্থান থেকে নড়তে দেয়া হবে না। ১) তার জীবনকাল কিভাবে অতিবাহিত করেছে, ২) যৌবনের সময়টা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৩) ধনসম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছে, ৪) তা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৫) সে দ্বীনের যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছে সেই অনুযায়ী আমল করেছে কি না। অপর একটি হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরাইয়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, যেদিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন মহান আল্লাহ সাত ধরনের লোককে তার ছায়ায় আশ্রয় দেবেন- ১. সুবিচারক বাদশাহ, ২. ঐ যুবক যার যৌবন আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত হয়েছে, ৩. সেই নামাজি ব্যক্তি যার মন সদা মসজিদে আবদ্ধ থাকে এমনকি সে মসজিদ থেকে ফিরে আসার পর পুনরায় মসজিদে প্রত্যাবর্তনের জন্য ব্যাকুল থাকে, ৪. ঐ দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে অর্থাৎ যাদের একত্র হওয়া এবং বিচ্ছেদ হওয়া আল্লাহকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে, ৫. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে, ৬. যে ব্যক্তি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কোনো সুন্দরী যুবতী দ্বারা (প্রেম নিবেদন) আহূত হয়ে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, ৭. আর যে ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে যে তার ডান হাত কী দান করল বাম হাত তা জানে না। (বুখারি ও মুসলিম)

মানুষ যে পথে যে উদ্দেশ্যে নিজের যাবতীয় শ্রম, মেধা, অর্থ ও যোগ্যতা, কর্মক্ষমতা নিয়োজিত করে, পরিণামে যখন জানতে পারে যে, সেই পথ তাকে সোজা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে- যে পথে সে তার যাবতীয় মূলধন ও যোগ্যতা নিয়োজিত করেছে। এ পথে সে কোনোক্রমেই সাফল্য অর্জন করতে পারবে না বরং উল্টো তাকে মহাক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাহলে এই ধরনের ব্যক্তির তুলনায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বা অধিক ব্যর্থ আর কে হতে পারে? বর্তমানে যারা আল্লাহর বিধান ত্যাগ করে কৃত্রিম সফলতা অর্জনের পথে যাবতীয় কিছু বিনিয়োগ করছে, তাদের অবস্থাও অনুরূপ। পরকাল হবে না এবং পৃথিবীর জীবনের কোনো কর্মের হিসাব কারো কাছে কখনোই দিতে হবে না। এই চিন্তা-বিশ্বাস অনুসারে পৃথিবীতে জীবন পরিচালিত করেছেন, বৈধ-অবৈধের কোনো সীমা এরা মানেনি। যেকোনো পথে ধনসম্পদ অর্জন ও ব্যয় করেছে, জীবন-যৌবনকে দ্বিধাহীনচিত্তে আকণ্ঠ ভোগ করেছে। এসব লোকই পরকালীন জীবনে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। মহান আল্লাহ বলেন, প্রকৃতপক্ষে বড়ই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সেসব লোক, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ সম্ভাবনাকে মিথ্যা মনে করে অমান্য করেছে। (সূরা ইউনুস : ৪৫)

এই পৃথিবীতে মানুষ পরকালভিত্তিক জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হলেই কেবলমাত্র সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। কারণ একমাত্র পরকালের ভয় তথা পৃথিবীর যাবতীয় কর্মের ব্যাপারে আদালতে আখিরাতে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে, এই অনুভূতিসম্পন্ন লোকদের পক্ষেই এই পৃথিবীকে একটি শান্তির নীড় হিসেবে গড়া সম্ভব। আর যাদের ভেতরে সেই অনুভূতিই নেই, তারাই মানবসমাজের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের আসনে আসীন হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং এরাই হলো সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ব্যর্থ। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেসব লোক, যারা আল্লাহর সাথে তাদের সাক্ষাৎ হওয়ার খবরকে মিথ্যা মনে করেছে।” (সূরা আনআ’ম : ৩১) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে ঐ ব্যক্তিই সব থেকে সফলতা অর্জন করলো, যে ব্যক্তি তার গোটা জীবনকালব্যাপী আপন স্রষ্টা মহান আল্লাহর অনুগত হয়ে নিজের জীবন পরিচালিত করলো তথা সূরা আসরে বর্ণিত চারটি গুণ নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করলো। যদিও সে ব্যক্তি পৃথিবীতে চরম অভাবের ভেতরে জীবন অতিবাহিত করেছে তবুও সে তার স্রষ্টা মহান আল্লাহর দৃষ্টিতে সফলতা ও কল্যাণ অর্জন করেছে। আল্লাহ তায়ালা সূরা আসরে উল্লেখ করেন, “সময়ের কসম, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ তথা সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।” মোট কথা, পরকালে যারা সফলতা অর্জন করতে পারবে কেবলমাত্র তারাই সফল হবে আর পরকালে যারা ব্যর্থ হবে, তারাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত এবং এটাই স্পষ্ট দেউলিয়াপনা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “বলো প্রকৃত দেউলিয়া তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেকে এবং নিজের পরিবার, পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ভালো করে শুনে নাও, এটিই হচ্ছে স্পষ্ট দেউলিয়াপনা।” (সূরা আয্ যুমার : ১৫) আল্লাহ তা’য়ালা আরো বলেন, “প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা আজ কিয়ামতের দিন নিজেরাই নিজেদেরকে এবং নিজেদের সংশ্লিষ্টদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে।” (সূরা আশ শূরা : ৪৫)

পরকালে বিশ্বাস স্থাপনের তাৎপর্য এই যে, যিনি পরকাল বিশ্বাস করে তার এমন এক মনমানসিকতা গড়ে ওঠে যে, সে প্রতিটি মুহূর্তে অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত রাখে যে, তার প্রতিটি গোপন ও প্রকাশ্য কর্মকান্ড রেকর্ড হচ্ছে এবং মৃত্যুর পরের জগতে এ সম্পর্কে তাকে মহান আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। মহান স্রষ্টা তার ওপরে যে প্রহরী নিযুক্ত করেছেন, তার দৃষ্টি থেকে কোনো কিছুই গোপন করা যাবে না। সে যদি কোনো অপরাধমূলক কর্ম করে থাকে তাহলে এর জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে- এ বিশ্বাস তার ভেতরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে বলেই সে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। আর যারা পরকাল অবিশ্বাস করে অথবা পরকালের প্রতি সন্দেহ পোষণ করে, তাদের চরিত্র হয় পরকাল বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ তারা বিশ্বাস করে যে, পরকাল বলে কিছুই নেই সুতরাং তাদের কোনো কর্মের ব্যাপারে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। পৃথিবীর জীবনে তারা যদি অবৈধভাবে জীবন- যৌবনকে ভোগ করে, অপরের অধিকার খর্ব করে অর্থসম্পদের স্তূপ গড়ে, দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থ অর্জনের জন্য দেশ ও জাতির ক্ষতি করে, জাতীয় সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে, ক্ষমতার বলে অধীনস্থদের অপরাধমূলক কর্মে জড়িত হতে বাধ্য করে, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে স্বৈরাচারী নীতি অবলম্বন করে দেশের জনগণের কণ্ঠরোধ করে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে তাদেরকে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য করে- তবুও তারা ভয়ের কোনো কারণ অনুভব করে না। কারণ তারা এ বিশ্বাসে অটল যে, মৃত্যুর পরে তাদের এসব হীনকর্মের জন্য কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না।

পৃথিবীর অতীত ও বর্তমান ইতিহাস সাক্ষী, এই পৃথিবীর বুকে এমন বহু জাতি উন্নতি ও সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করার পরও পরকালে জবাবদিহির অনুভূতি না থাকার কারণে তারা নিমজ্জিত হয়েছে নৈতিক অধঃপতনের অতল তলদেশে। পরকাল অবিশ্বাসের কারণে তারা নৈতিক অধঃপতনের অন্ধকার বিবরে প্রবেশ করে ন্যায়ের শেষ সীমা যখন অতিক্রম করেছে, তখনই তারা আল্লাহ তা’য়ালার গজবে নিপতিত এই পৃথিবী থেকে এমনভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে যে, তাদের নাম-নিশানা পর্যন্ত মুছে গেছে। পরকাল বিশ্বাস অন্যায়কারীর কণ্ঠে জিঞ্জির পরিয়ে দেয়, ফলে সে অন্যায় পথে অগ্রসর হতে পারে বিধায় অন্যায় পথ অবলম্বনকারীরা নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারীদেরকে করেছে অপমানিত, লাঞ্ছিত, অপদস্থ এবং আঘাতে আঘাতে তাদেরকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়েছে, ফাঁসির রশি তাদের কণ্ঠে পরিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার প্রপাগান্ডা চালিয়েছে এবং বর্তমানেও তাদের উত্তরসূরিদের আচরণে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এই শ্রেণীর লোক পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জীবনধারাকে নিয়ন্ত্রিত, সুশৃঙ্খল এবং উদগ্র কামনা-বাসনাকে দমন করতে অতীতে যেমন রাজি ছিল না বর্তমানেও রাজি নয়। নিজ দেশের জনগণ বা ভিন্ন দেশের জনগণকে নিজেদের গোলামে পরিণত করে তাদের ওপরে প্রভুত্ব করার কলুষিত কামনাকে এরা নিবৃত্ত করতে আগ্রহী নয়। নিজের স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও পরকালের প্রতি যথার্থ বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই হলো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণ। এদের সম্পর্কেই মহান আল্লাহ বলেন, প্রকৃত বিষয় এই যে, “যারা আমার সাথে আখিরাতে মিলিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পায় না এবং পৃথিবীর জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও নিশ্চিন্ত থাকে এবং যারা আমার নিদর্শনগুলোর প্রতি উদাসীন থাকে, তাদের শেষ আবাসস্থল হবে জাহান্নাম, ঐসব কৃতকার্যের বিনিময়ে যা তারা তাদের ভ্রান্ত মতবাদ ও ভ্রান্ত কর্মপদ্ধতি অনুসারে করেছে।” (সূরা ইউনুস : ৭-৮)

মহান আল্লাহর কাছে মানুষের চেষ্টা ও কর্মের বিনিময় লাভ করা নির্ভর করে দুটো জিনিসের ওপর। প্রথম হলো, মানুষের সমস্ত চেষ্টা-সংগ্রাম ও কর্মসাধনা হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর নির্ধারিত বিধান অনুসারে। আর দ্বিতীয়টি হলো, এই চেষ্টা-সংগ্রাম ও কর্মপ্রচেষ্টা ব্যাপদেশে পৃথিবীর পরিবর্তে আখিরাতের সাফল্যই হতে হবে প্রধান ও চরমতম লক্ষ্য। যে উদ্দেশ্যে কর্ম পরিচালিত হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল করে দেন এবং দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা কোনোরূপ কৃপণতা করেন না। কেউ যদি লোক দেখানোর জন্য, সম্মানের জন্য কিংবা শুধুমাত্র দুনিয়ার সাফল্যের জন্য কোনো কর্মপ্রচেষ্টা চালায় মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাকে দুনিয়াতেই অর্জন করিয়া দেন। তার এ অর্জন আখেরাতে সফলতার জন্য কোনো ভূমিকা রাখবে না। কারণ তার যা কাম্য ছিল, আল্লাহ পৃথিবীতেই তা দিয়ে দেন। সফলতা ও ব্যর্থতার প্রকৃত মানদন্ড যাদের জানা ছিল না বা যারা পৃথিবীর জীবনে সম্মান-মর্যাদা ও বিপুল ধন-ঐশ্বর্যের অধিপতি হওয়াকেই প্রকৃত সফলতা বলে বিশ্বাস করতো, তারা ধারণা করতো, লোকটি বড়ই সফল ব্যক্তি- লোকটি জীবনে সফলতা অর্জন করেছে। তারা আক্ষেপ করে বলতো, আমরাও যদি লোকটির অনুরূপ সফলতা অর্জন করতে পারতাম! ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত এই মূর্খ লোকগুলোর মূর্খতা দেখে হকপন্থীরা তাদেরকে বলতো, ‘তোমরা যাকে সফলতা বলে ধারণা করছো তা সফলতা নয়। প্রকৃত সফলতা হলো মহান আল্লাহ প্রতি ঈমান আনা এবং আমলে সালেহ্ করা। আর ঈমান আনা ও আমলে সালেহ্ করা কেবলমাত্র তাদের পক্ষেই সম্ভব, যারা ধৈর্যশীল।’ হকপন্থীরা কিভাবে ‘হক’-এর দাওয়াত দিয়েছিল, মহান আল্লাহ তা’য়ালা এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলেন, “কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলতে লাগলো, ‘তোমাদের অবস্থা দেখে আফসোস হয়। আল্লাহর সওয়াব তার জন্য ভালো যে ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, আর এ সম্পদ সবরকারীরা ব্যতীত আর কেউ লাভ করতে পারে না।” (সূরা কাসাস : ৮০)

মানুষের ভেতরে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, অর্থসম্পদ ও বিত্তবৈভবের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, অর্থসম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তিই হলো সম্মান এবং মর্যাদার মানদন্ড এই ভ্রান্ত ধারণার তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে সূরা আল ফজর-এর ১৭ থেকে ২০ নম্বর আয়াতসমূহে। ১৭ নম্বর আয়াতের প্রথম শব্দটিতেই বলা হয়েছে, ‘কাল্লা’ অর্থাৎ কখনো নয় বা এমনটি নয়। অর্থাৎ তোমরা যে ধারণা অনুসারে অর্থসম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তিকেই সম্মান ও মর্যাদা লাভের একমাত্র মানদন্ড বানিয়ে নিয়েছো, তা সত্য নয়। এসব বিষয় সম্মান ও অসম্মানের মানদন্ড কখনো হতে পারে না। কোন ব্যক্তির চরিত্র উন্নত না নিকৃষ্ট, তা বিবেচনা না করেই এবং এর মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে তা বিচার-বিবেচনায় না এনে একমাত্র অর্থসম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তিকেই সম্মান-মর্যাদা ও অপমানের মানদন্ড বানিয়ে নিয়েছো, এটা তোমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা আর বুদ্ধির দৈন্যতা ব্যতীত আর কিছুই নয়। দুনিয়াতে যেসব ছাত্র পরীক্ষা দেয় তারা পরীক্ষার রেজাল্ট পায়। মার্কশিটে প্রত্যেক বিষয়ের নাম্বার লেখা থাকে। সার্টিফিকেটে লেখা থাকে সে কোন গ্রেডে পাস করেছে। আখিরাতেও প্রত্যেকে নিজের আমলনামায় সব কিছু লেখা পাবে। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, “আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। (এবং তাকে বলা হবে) পাঠ কর তোমার কিতাব! আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমিই যথেষ্ট।” (সূরা বনি ইসরাইল : ১৩-১৪) “সেদিন প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলনামা দেখবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কৃতকর্মের ফল পাবে। চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। সেদিন তারা কামনা করবে যে, এ দিনটি যদি তাদের নিকট হতে অনেক দূরে অবস্থান করতো; তবে কতোই না ভালো হতো।” (সূরা আলে ইমরান : ৩০) এ প্রসঙ্গে আল্লাহ আরও বলেন, “সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে তোমাদের কোনো কিছু গোপন থাকবে না।” (সূরা আল হাক্কাহ : ১৮) মানুষ আমলনামা দেখে অবাক হয়ে যাবে। কারণ আমলনামায় ছোট বড় সব কিছু লেখা থাকবে। কে কখন কাকে সামান্য উপকার বা ক্ষতি করেছে। কে কখন সামান্য নেকি বা বদির কাজ করেছে সব কিছুই দেখতে পাবে। নিজের আমলনামা দেখে অপরাধীরা বলার চেষ্টা করবে, এসব অপরাধ আমি করিনি। ফেরেশতারা অতিরিক্ত লিখেছে। তখন আল্লাহ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বলবে, তোমরা সাক্ষী দাও। তখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষী দিবে এবং সব কিছু খুলে বলবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “আজ আমি এদের মুখে মোহর এঁটে দেবো তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।” (সূরা ইয়াসিন : ৬৫)

ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার ঘাম, শ্রম, ত্যাগেরই হিসাব বিশ্লেষণ করে সফলতার মাপকাঠি নিরূপণ করা হয়। কিন্তু সমষ্টিগত সফলতা অর্জনে দলের প্রত্যেকেরই প্রচেষ্টার খতিয়ান পর্যালোচনা করে সফলতা নিরূপণ করা হয়। সমষ্টিগত কোনো সাফল্য অর্জনে দলের সবারই প্রচেষ্টা কম বেশি থাকে। যখন সমষ্টির কোনো একজন দলগত সাফল্যে যথেষ্ট ভূমিকা না রাখেন তখন তার ব্যর্থতা সাফল্যের হাওয়ায় ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় কম প্রচেষ্টাকারী ব্যক্তিটিও সফল। বিপরীত দিকে সমষ্টিগত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও দলের কোনো ব্যক্তি যদি তার সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করেন তাহলে ব্যক্তি হিসেবে সমষ্টির ভেতর তিনি অবশ্যই সফল। যারা দ্বীন বিজয়ের সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করেন তারা যদি তাদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়ে দ্বীন বিজয়ের জন্য ভূমিকা রাখেন তাহলে দ্বীনের সাফল্য অর্জিত হোক বা না হোক ব্যক্তি হিসেবে নিশ্চিতভাবে তিনি সফল। কারণ দ্বীনের সাফল্য অর্জনের কর্মপ্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তার এই প্রচেষ্টার ফলাফল হচ্ছে তিনি পরকালীন জিন্দেগিতে জান্নাতের অধিকারী হবেন। আবার দ্বীন বিজয় হয়ে গেল কিন্তু ব্যক্তি দলের সাথে থেকেও তার জান্নাত অর্জন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলেন তাহলে তার গোটা জিন্দেগিটাই ব্যর্থ। কারণ আখিরাতের ব্যর্থতাই চূড়ান্ত ব্যর্থতা আর আখিরাতের সফলতাই চূড়ান্ত সফলতা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে পরকালীন সফলতা তথা জান্নাত-উপযোগী মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার তাওফিক দিন, আমিন।

“হ্যাপি বার্থডে, আরজু”- ঘড়ির কাটায় যখন ঠিক ১২ টা, তখন আরজুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে টেক্সট করেছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উ...
06/10/2021

“হ্যাপি বার্থডে, আরজু”- ঘড়ির কাটায় যখন ঠিক ১২ টা, তখন আরজুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে টেক্সট করেছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ম্যাসেজ সিন করেছে কিন্তু কোনো রিপ্লাই দেয়নি। আজকে যে আরজুর বার্থডে, সেটা আমি ছাড়া ভার্সিটির আর কেউ জানেনা। জানবেই বা কিভাবে? তার ফেসবুকের About এ জন্মদিনের তথ্য হাইড করা।

শীতের দিন এই সাজসকালে ক্লাসে যেতে মোটেই ভালো লাগে না। এটেন্ডেন্সের জন্য যেতে হয়। ঘুমঘুম চোখে ক্লাসে গেলাম। দেরী করে যাওয়ায় বসতে হলো একেবারে পেছনের সিটে। আরজু ছিলো সামনের সিটে বসা।

প্রথম ক্লাস শেষে এক ঘন্টার ব্রেক, তারপর পরের ক্লাস। সকালের নাস্তা করার জন্য শ্যাডোতে যাবো। আরজুর সাথে দেখা হলে আবার বললাম, “হ্যাপি বার্থডে, আরজু”। আমার উল্লাসের সাথে পাল্লা না মিলিয়ে সে পাল্টা জিজ্ঞেস করলো, “কই নাস্তা করতে যাবি, শ্যাডোতে?”

ব্যাটা আমার উইশের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছে। আমিও তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকলাম। আরজু আবার জিজ্ঞেস করলো, “বল না, রোজা ভাঙ্গার জন্য কোথায় যাবি?”

- রোজা ভাঙ্গা মানে?
- ‘Breakfast’ এর আক্ষরিক অনুবাদ করলে তো হয় রোজা ভাঙ্গা। হাহাহাহা।

ভাবছিলাম তার উপর রাগ করে থাকবো, সে এখন হাসাচ্ছে! চল শ্যাডোতে চাই। সিঁড়ি নামতে নামতে আরজু বললো, আজকে তোকে একটা মজার ঘটনা বলবো। মনে মনে বললাম, আমার বার্থডে উইশের রিপ্লাই দিচ্ছে না, উল্টো আমাকে গল্প শুনাচ্ছে। বিদ্রুপের সুরে বললাম, বলুন আপনার ‘মজার ঘটনা’।

- এই যে কয়েকদিন আগে ‘ক্রিসমাস’ গেল, খ্রিস্টানরা যেই দিনটিকে যিশু খ্রিস্ট্রের জন্মদিন বলে পালন করে, আসলে আগেকার খ্রিস্টানরা যিশুর জন্মদিন পালন করতো না।

সকাল সকাল আরজু এগুলো কী বলছে? ক্রিসমাস হলো খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, আর সে বলছে আগেকার খ্রিস্টানরা যিশুর জন্মদিন পালন করতো না! কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, কেন?

- কারণ, আগেকার খ্রিস্টানরা মনে করতো জন্মদিন উদযাপন করা হলো প্যাগানদের প্রথা [১]।

- কিন্তু জন্মদিনের প্রসঙ্গ উঠলেই তো অনেকে বলে, এটা ইহুদি-খ্রিস্টানদের প্রথা।
আরজু বললো, “না, এটা একটা ভুল ধারণা। খ্রিস্টানরা এই প্রথার প্রচলন তো করেই নি, বরং পূর্ববর্তী খ্রিস্টানরা জন্মদিন উদযাপন করাকে ঘৃণা করতো। তারা বলতো, পাপীরাই কেবল তাদের জন্মদিনে আনন্দ উদযাপন করে [২]। এমনকি বিখ্যাত ইহুদি বিশ্বকোষ ‘Encyclopedia Judacia’ অনুযায়ী, চিরাচরিত ইহুদি সংস্কৃতিতে জন্মদিন উদযাপনের রীতি খুঁজে পাওয়া যায় না [৩]।”

- তাহলে জন্মদিন উদযাপন করতোই বা কারা? আমি জিজ্ঞেস করলাম।

- জন্মদিন উদযাপনের সবচেয়ে প্রাচীন তথ্য পাওয়া যায় বাইবেলে। কিন্তু কে সর্বপ্রথম জন্মদিন উদযাপন করে এই তথ্য ইতিহাসে অনুপস্থিত। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, ফির’আউন তার জন্মদিন উপলক্ষে একটি ‘বার্থডে পার্টি’র আয়োজন করে [৪]। প্রাচীন গ্রীক, রোম, পারস্য, চীনেও জন্মদিন উদযাপন করা হতো। ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস পারস্যের ইতিহাস লিখতে গিয়ে লিখেন, পারস্যের লোকেরা নিজেদের জন্মদিনকে ঘটা করে উদযাপন করতো [৫]।

হাঁটতে হাঁটতে জন্মদিনের ইতিহাস শুনে শ্যাডোতে চলে আসলাম। আমার জন্য একটা স্যান্ডুইচ আর আরজুর জন্য ভেজিটেবল রুল নিলাম। গাড়ি পার্কিং এর জায়গাটি খালি। সেখানে রোদও পড়ছে। বোতলে পানি ভরে গাড়ি পার্কিং এর জায়গায় গেলাম। স্যান্ডুইচ-এ এক কামড় দিয়ে বললাম, “হ্যাঁ, কী যেন বলছিলি”।

- জন্মদিনের ইতিহাস নিয়ে একটা বিখ্যাত বই আছে, Adelin Linton এর ‘The Lore of Birthday’। বইটির নাম শুনছিস?
- হ্যাঁ, তোর পড়ার টেবিলে দেখেছিলাম।

- এই বইতে লেখক লিখেন, জন্মদিনের সাথে জৌতিষশাস্ত্রের একটা গভীর সম্পর্ক আছে [৬]। কারণ, আগেকার গণকরা মানুষের জন্ম তারিখের হিসাব অনুযায়ী ভাগ্য গণনা করতো। ভাগ্য গণনা করার জন্য তাদের জন্ম তারিখ জানার প্রয়োজন হতো। এজন্য মানুষ জন্মদিন মনে রাখতো যাতে তার ভাগ্য গণনা করা যায়।

- আগেকার বলিস কেন? এখনও তো পত্রিকায় দেখবি প্রতিদিনের রাশিফল দেয়, সেটাও তো নির্ভর করছে জন্ম তারিখের উপর। এমনকি ফেসবুকেও দেখবি একটা ট্রেন্ড আছে, তোমার জন্ম এই তারিখে, তো তুমি এই হবে।

- বাই দ্যা ওয়ে, গণকের কাছে যাওয়া নিয়ে ইসলামের নির্দেশনা তো জানিস নিশ্চয়?
- হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে গণকের কাছে গিয়ে কোনো প্রশ্ন করলো তার চল্লিশ দিনের ইবাদাত কবুল হবে না [৭]।
- আর যে গণকের কথা বিশ্বাস করবে সে কাফির হয়ে যাবে [৮]।

স্যান্ডুইচ খেয়ে পানি খেলাম। আরজুর দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “তারমানে বলতে চাস, জন্মদিন অনুষ্ঠানের প্রথা প্যাগানদের থেকে এসেছে?”

এক ঢুক পানি খেয়ে আরজু বললো, “ইয়েস মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড, হিস্ট্রি টেল আল দিস। এমনকি জন্মদিন উদযাপনের পুরো অনুষ্ঠানের সাথে প্যাগানদের সংস্কৃতি জড়িত।”

মানে, মোমবাতি জ্বালানো, কেক কাটা, উইশ করা, গিফট দেওয়া সবগুলোই? আমি প্রশ্ন করলাম।

- হ্যাঁ, সবগুলোই। বার্থডে পার্টি, শুভেচ্ছা, জন্মদিনের উপহার দেওয়া এগুলোর উদ্দেশ্য হলো অশুভ আত্মা (Evil Spirit) থেকে আত্মরক্ষা [৯]। আগে মনে করা হতো, অশুভ আত্মা থেকে আত্মরক্ষা করার একটা মাধ্যম হলো জন্মদিন অনুষ্ঠানে পশুবলি দেওয়া।
জন্মদিন অনুষ্ঠানের মোমবাতি জ্বালানোর প্রচলন শুরু করে গ্রীকরা। গ্রীকরা প্রতি মাসের ছয় তারিখে তাদের দেবী Artemis (চন্দ্র এবং শিকারের দেবী) এর জন্মদিন উপলক্ষে গোলাকার কেক বানাতো যা দেখতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো মনে হতো এবং মন্দিরের বেদীতে মোমবাতি জ্বালাতো, যা দেখলে মনে হয় চাঁদের মতো দীপ্তি ছড়াচ্ছে [১০]। আর মোমবাতিকে মনে করা হতো সৌভাগ্যের প্রতীক [১১]। এজন্য অনেকসময় দেখবি, কারো জন্মদিন উপলক্ষ্যে যততম জন্মদিন ততোটি মোমবাতে জ্বালানো হয়। এক ফুঁ দিয়ে সবগুলো মোমবাতি নিভাতে পারলে মনে করা হয়, এটা সৌভাগ্য। অথচ না বুঝে কত বড় কুফরী করা হচ্ছে।

স্রেফ একটা জন্মদিন অনুষ্ঠানের পেছনে এতো এতো পৌত্তলিক সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে শুনে থতমত খেয়ে গেলাম। এবার আরজুকে জিজ্ঞেস করলাম, “বুঝলাম, তাই বলে কি জন্মদিনে উইশ করাও যাবে না?”

আরজু হাসলো। শুনলে অবাক হবি যে, এই শুভেচ্ছা জানানোর পেছনেও কাহিনী আছে। জন্মদিন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর প্রচলনের সাথে জাদুবিদ্যার সম্পর্ক আছে। মনে করা হতো, জন্মদিন অনুষ্ঠানে একজনের আত্মা তার কাছে ফিরে আসে। সেই অনুষ্ঠানের শুভকামনার উপর তার ভবিষ্যৎ এর ভালো-মন্দ নির্ভর করছে। সেদিন যদি সবাই তাকে শুভেচ্ছা জানায় তাহলে আত্মা সেই অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, আর সবাই যদি অশুভ কামনা করে তাহলে আত্মা সেই অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এজন্যই তো জন্মদিন অনুষ্ঠানে শত্রুদের নিমন্ত্রণ করা হয়না, কারণ তারা অশুভ কামনা করলে হিতে বিপরীত হবে [১২]।

খাওয়া শেষে মল চত্বর দিয়ে আমরা হাঁটছি। পরবর্তী ক্লাস শুরু হতে অনেকক্ষণ বাকি। জন্মদিন উদযাপনের এতো অজানা কাহিনী শুনার পর এখন যদি আরজুকে বলি, ‘আমিতো না জেনেই এগুলো পালন করছি, আর আমি তো প্যাগানদের মতো এতো কিছু মাথায় নিয়ে উদযাপন করছিনা’ তাহলে আরজু হয়তো রবার্ট ব্রাউনিং এর মতো বলবে, Ignorance is not innocence but sin.

ব্যাগের মধ্যে তিনটা বই আছে। র‍্যাপিং পেপার দিয়ে সাজিয়ে এনেছিলাম আরজুর জন্মদিনে উপহার দিবো বলে। জন্মদিনের মর্মবীণ শুনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার থেকে আর জন্মদিন পালন করবো না, কাউকে উইশও করবো না।
আরজুকে বললাম, তাহলে তো তুই জন্মদিনের গিফট পাবি না।

আরজু হেসে বললো, “জন্মদিনকে আমার কাছে একরকম ‘দিবস পূজা’ মনে হয়?”
- দিবস পূজা? কিভাবে? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
- এই দেখ, কাউকে যদি শুভেচ্ছা জানাতে চাস, আইমিন ধর তার জন্য দু’আ করতে চাস, তাহলে সেটা কেনই বা তার জন্মদিনেই হতে হবে? একদিন আগে পরে নয় কেন? কাউকে যদি তার জন্মদিনে ‘তোমার জীবন সুন্দর হোক, আল্লাহ তোমার ভালো করুন’ না বলে পরের দিন বলা হয় সে রাগ করবে। সে বলবে গতকাল (আমার জন্মদিনে) কেন এটা বলো নি!

- হাহাহা। আমাদের ক্লাসের সাকিবের ব্রেক-আপ হলোই তো এ কারণে।
- তাই নাকি? জানতাম না তো। আর এই গিফটের কথাই ধর, এটা এখন হয়ে গেছে টেকেন ফর গ্রান্টেড!
- Taken for granted?
- হ্যাঁ, টেকেন ফর গ্রান্টেড। আজকাল কেউ বন্ধুদেরকে ভালোবেসে উপহার দেয় না। জন্মদিন অনুষ্ঠানে দিতে হয় বলেই দেয়। আবার, এক বন্ধু তার জন্মদিনে গিফট পেলে সে আনন্দিত না হয়ে মনে করে, তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে তো গিফট পেতেই পারে। এটাতে অবাক হবার কী আছে? সেই আবার তার বন্ধুর জন্মদিনে তাকে গিফট দিয়ে পুষিয়ে নেয়।

আরজুর বলার পর বেশ কিছু ঘটনা আমার মনে পড়লো। একবার এক ফ্রেন্ড আরেক ফ্রেন্ডের জন্মদিনে একটা দামি ঘড়ি গিফট দিলো। তার যখন জন্মদিন আসলো, তখন তার ঐ ফ্রেন্ড তাকে একটা টি-শার্ট দিলো। হয়তোবা তখন তার কাছে টাকা ছিলো না, কিন্তু ঐ ফ্রেন্ডটি ট্রি-শার্ট পেয়ে খুশি না। বরং সে কম্পেয়ার করছে, সে কী দিলো, আর তার বন্ধুটি তাকে কী দিলো।

জন্মদিনে এই ধরণের গিফট দেওয়াকে আরজু নাম দিয়েছে Conditional Gift- শর্তসাপেক্ষে উপহার।

আরজু বলে চললো, “গিফট হতে হবে উইদাউট কন্ডিশন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে উপহারাদি বিনিময় করো, এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে’ [১৩]। আবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গিফটকে ‘তুচ্ছ’ বলে হেয় করতেও নিষেধ করেছেন [১৪]। আর এই যে জন্মদিন উপলক্ষ্যে খাওয়ানো হয়, পার্টি দেওয়া হয়, কেন ই বা সেটা জন্মদিন উপলক্ষ্যে হতে হবে রে ভাই? মানুষকে খাওয়ানোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামের মধ্যে সর্বোত্তম কাজ বলে অভিহিত করেছেন [১৫]। সেটা কেন বছরে একদিনই হবে, অন্যদিন হলে হবে না?”

আরজুর সাথে এই ব্যাপারে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই। আসলেই তো ভালো কাজকে স্রেফ একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে কেন।

- আমার মনে হয়, জন্মদিন উপলক্ষ্যে মানুষকে খাওয়ানো, সেদিন এক্সট্রা ইবাদাত করা এগুলোর সাথেও হয়তো কোনো ধর্মবিশ্বাস (ইসলাম ব্যতীত) জড়িত। ইহুদি রাব্বি Yissocher Frand এর মতে, কারো জন্মদিন হলো তার কাছে স্পেশাল দিন, এইদিন সে যা প্রার্থনা করবে সবই গ্রহণ করা হবে [১৬]। আর অ্যামেরিকার শয়তান উপাসকদের চার্চের প্রতিষ্ঠাতা এন্টন জান্দর লেভেই এর মতে, শয়তান উপাসকদের কাছে সবচেয়ে বড় দিন হলো একজনের নিজের জন্মদিন [১৭]।

কুয়াশাভেজা শীতের সকালে রোদ দেখলে আমরা আনন্দিত হই, রোদ পোহাতে ছুটে যাই, রোদের উষ্ণতায় আস্তে আস্তে শীতের আবহ কমতে থাকে। আমার কাছে এখন আরজুকে মনে হচ্ছে কুয়াশাভেজা শীতের সকালের একটু খানি রোদ। সেই রোদ সত্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

রেফারেন্সঃ
১। The World Book Encyclopedia, Volume 3, Page 416.
২। Origen. In Levit Hom viii in migne P.G. xii, page 495.
৩। Encyclopedia Judacia, Volume 4, Page 495.
৪। Bible, Genesis 40:20-22.
৫। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page, 12
৬। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page, 53
৭। সহিহ মুসলিমঃ ৫৭১৪।
৮। তারগিব তারহিবঃ ৪৫৮৯
৯। Funk and Wangalls Dictionary of Folklore, Volume 1, Page 144.
১০। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page 51-52
১১। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page 18-20
১২। The Lore of Birthday, Ralph Linton, Page 12
১৩। আদাবুল মুফরাদঃ ৫৯৭
১৪। সহিহ মুসলিমঃ ২২৬৯
১৫। সহিহ বুখারীঃ ১২
১৬। Archieve/ Kabbalas hatorah at three landmark Flatbush yeshivos
১৭। The Satanic Bible, Anton Szandor LaVey, Page 96

======
#জন্মদিনের_মর্মবীণ
লেখকঃ আরিফুল ইসলাম

আপু, আমি একজন পুরুষ হিসেবে বলছি। ধরুন আমি আপনার just friend best friend বা এমন কিছু। এবং আমার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে চলাফে...
16/09/2021

আপু, আমি একজন পুরুষ হিসেবে বলছি। ধরুন আমি আপনার just friend best friend বা এমন কিছু। এবং আমার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে চলাফেরা করেন।

কোনো এক যাত্রায় হয়তো আমি আপনার পিঠের বা ঘাড়ের কালো তিল টা দেখে ফেলতে পারি। আর আপনার পিঠের তিল আমার অন্তরে গেঁথে থাকতে পারে আজীবন। হয়তো কোনো একদিন স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যের পর মনে পড়ে যেতে পারে just friend এর সেই পিঠের তিল এর কথা। কিন্তু আমার প্রতি আপনার অগাধ বিশ্বাস। আমি আপনার দিকে বদনজর দিব না।

কথাবার্তার মাঝে আপনার দেওয়া মুচকি হাসি আমার আমাকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠতে পারে আপনার সেই মুচকি হাসি।

কোনো এক আড্ডার আসরে হঠাৎ আপনার বুকের ওড়না সরে গেলে আমার চোখ পড়তে পারে আপনার বক্ষদেশে। আমি হয়তো দেখেও না দেখার ভান করে থাকব। সেটা আপনি বুঝবেনই না। আমি তো ছেলে ভাল। আমি আপনার দিকে খারাপ দৃষ্টি দিব না। এটা আপনার বিশ্বাস। কিন্তু সেদিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমার মনে পড়তে পারে আপনার ওড়না সরে যাওয়ার দৃশ্যটা।

একসাথে চলার মাঝে আপনার হাত পা বা মুখমন্ডলের সৌন্দর্য আমার মনে গেঁথে যেতে পারে। আপনাকে বিদায় জানানোর পর আমি দেখে ফেলতে পারি পিছন থেকে আপনার হাঁটার দৃশ্য। আমি একাকী থাকলে বার বার চিন্তায় আসতে পারে আপনার পিছনের দৃশ্যটা।

আমরা পুরুষ জাতি খুব বেশি শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে থাকি। না চাইতেও আপনার সম্পর্কে অনেক চিন্তা চলে আসে। হয়তো আপনার কোনো ক্ষতি করি না। কিন্তু মাঝে মাঝে এসব খন্ডচিত্রগুলো অন্তরে উঁকি দেয়। আর এখান থেকেই কু-প্রবৃত্তির জন্ম হয়। এখন আপনি ঠিক করেন কি করবেন। আমার সাথে মিশে আমার নফস কে আপনার ছবিগুলো উপহার দিবেন নাকি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমার থেকে দূরে থেকে নিজেকে আমার কল্পনা থেকে নিরাপদ রাখবেন। সিদ্ধান্ত আপনার।

আপু, সবশেষে একটি কথা। কখনো কোনো পুরুষ এর উপর অগাধ বিশ্বাস রাখবেন না। বিশেষ করে নন মাহরাম এর উপর। মনে রাখবেন, যেই পুরুষ আপনাকে নীল শাড়ী তে কল্পনা করতে পারে, সেই পুরুষ আপনাকে পোশাক ছাড়াও কল্পনা করতে পারে।

I copied the idea but the writing is mine.
©Maynuddin Islam

উপরের কথাগুলো বিশ্বাস না হলে মেন'স সাইকোলজি নিয়ে, এই বিষয়ক সার্ভে গুলো নিয়ে স্টাডি করতে পারেন। আপনার কলিজার বন্ধুটিকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন(যদি সে সত্যবাদী হয়)।

রবের দিকে ফিরে আসুন তিনিই আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। জীবনে কোন কাজ আঞ্জাম।

25/08/2021

▌ হাশরের মাঠে সম্মানিত ও অপমানিত হবে যারা
মিক্বদাদ ইবনে আসওয়াদা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামাতের দিন সূর্য মানুষের সন্নিকটে আনা হবে, এমনকি এক মাইল পরিমাণ দূরে হবে। তখন মানুষ তাদের আমল অনুসারে ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। ঘাম কারও গোঁড়ালি পর্যন্ত হবে, কারও হাঁটু পর্যন্ত হবে, কারও কোমর পর্যন্ত হবে, আবার ঘাম কারও মুখের লাগাম পর্যন্ত হবে’।[1] এই বিভীষিকাময় দিনে কেউ সম্মানিত হবে, কেউ লাঞ্ছিত হবে এবং কেউ অপমানিত হবে। নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো :
❏ হাশরের মাঠে সম্মানিত হবে যারা :
(১) ঈমানদার ও নেককার ব্যক্তি : ঈমান ও নেক আমল ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রকার ভয়াবহতা থেকে নিষ্কৃতি দিবে। মহান আল্লাহ বলেন مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا وَهُمْ مِنْ فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ ‘যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে সে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে’ (নামল, ৮৯)।
(২) আল্লাহভীরু ব্যক্তি : আল্লাহভীরু ব্যক্তিদেরকে ক্বিয়ামতের দিন অতিথিরূপে সমবেত করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন, يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا ‘সেদিন আমি দয়াময়ের কাছে মুত্তাক্বীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করবো’ (মারইয়াম, ৮৫)।
(৩) উত্তম চরিত্রের অধিকারী : উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি হাশরের মাঠে নবী (ছাঃ)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে। জাবের (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَىَّ وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّى مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلاَقًا ‘তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম এবং ক্বিয়ামতের দিন অবস্থানে আমার নিকটতম ব্যক্তিদের কিছু সেই লোক হবে, যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম’।[2]
(৪) ঋণ মওকূফকারী বা ঋণগ্রহীতাকে ঋণ আদায়ে অবকাশ প্রদানকারী : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ ‘যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে অক্ষম কোনো ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দিবে বা তাকে ক্ষমা করে দিবে, সেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার আরশের নিচে ছায়া দিবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না’।[3] অন্য হাদীছে এসেছে, আবু ক্বাতাদা (রাঃ) বলেন, আমি নবী (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিনের অস্থিরতা ও বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দেবেন, তাহলে সে যেন পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিকে অবকাশ দান করে অথবা তার ঋণ মওকূফ করে দেয়’।[4]
(৫) মুমিনের দোষ-ত্রুটি গোপনকারী ও মুমিনের প্রয়োজন পূরণকারী : ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেন, المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ القِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ ‘মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না এবং তাকে অত্যাচারীর হাতে ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের এক বিপদ দূর করবে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার বহু বিপদের এক বিপদ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন’।[5]
(৬) রাগ দমনকারী : রাগ দমনকারী ব্যক্তিকে হাশরের মাঠে আল্লাহ তা‘আলা হূর বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিবেন। মু‘আয ইবনে আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُنفِّذَه دعاهُ اللَّهُ على رؤوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ فِي أَيِّ الْحُورِ شَاءَ ‘যে ব্যক্তি ত্রেুাধ সংবরণ করে অথচ সে তা বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা রাখে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে এখতিয়ার দিবেন যে, সে যে কোনো হূর নিজের জন্য পসন্দ করে নিক’।[6]
(৭) মুআযযিন : ক্বিয়ামতের দিনে মুআযযিনের গর্দান সবচেয়ে লম্বা হবে। মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, الْمُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أعناقا يَوْم الْقِيَامَة ‘ক্বিয়ামতের দিনে সমস্ত লোকের চাইতে মুআযযিনের গর্দান লম্বা হবে’।[7]
(৮) রাতের অন্ধকারের মসজিদে যাতায়াতকারী : বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) বলেছেন,ب بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘রাত্রির অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াতকারী লোকদেরকে ক্বিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ জ্যোতির শুভ সংবাদ জানিয়ে দাও’।[8]
(৯) বিপদে সান্তনা দানকারী : বিপদে সান্তনা দানকারীকে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সম্মানের পোশাক পরাবেন। আমর ইবনে হাযম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُعَزِّى أَخَاهُ بِمُصِيبَةٍ إِلاَّ كَسَاهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ مِنْ حُلَلِ الْكَرَامَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যে ব্যক্তি তার মুমিন ভাইকে তার বিপদে সান্তনা দিবে, আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তাকে সম্মানের পোশাক পরাবেন’।[9]
(১০) সুন্দরভাবে ওযূকারী : সুন্দরভাবে ওযূকারীর ওযূর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্বিয়ামতের দিন চমকাতে থাকবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ ‘নিশ্চয় আমার উম্মতকে ক্বিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় ডাকা হবে, যে সময় তাদের ওযূর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে’। [10]
(১১) কুরআন পাঠকারী : আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِى الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا ‘ক্বিয়ামতের দিন কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি কুরআন পড়তে থাকো ও চড়তে থাকো। আর ঠিক সেইভাবে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে পড়তে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে পড়তে। কেননা (জান্নাতের ভিতর) তোমার স্থান ঠিক সেখানে হবে, যেখানে তোমার শেষ আয়াতটি খতম হবে’।[11]
(১২) মুমিনের সাদা চুল : মুমিনের সাদা চুল হাশরের মাঠে তার জন্য জ্যোতির কারণ হবে। আমর ইবনে শু‘আইব তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ فَإِنَّهُ نُورُ الْمُسْلِمِ তোমার সাদা পাকা চুল উপড়ে ফেলো না, কেননা (ক্বিয়ামতের দিন) তা মুসলিমের জন্য জ্যোতি হবে’।[12]
(১৩) আল্লাহর পথে যে লোক বুড়ো হয়েছে : আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِى سَبِيلِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘আল্লাহর পথে যে লোক বুড়ো হয়েছে, তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন একটি আলোকবর্তিকা থাকবে’।[13]
(১৪) আল্লাহর পথে জিহাদকারী : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَا مِنْ مَكْلُومٍ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ القِيَامَةِ وَكَلْمُهُ يَدْمَى، اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ، وَالرِّيحُ رِيحُ مِسْكٍ ‘ক্বিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত মুজাহিদ এমন অবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত ঝরবে, রক্তের রং হবে রক্তের মতো কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরির মতো’।[14]
(১৫) ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী : ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ক্বিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠ করতে করতে উঠবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানরত অবস্থায় অকস্মাৎ তার উটনী হতে পড়ে যান। এতে তার ঘাড় মটকে গেল (যাতে তিনি মারা গেলেন), তখন নবী (ছাঃ) বললেন, اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِى ثَوْبَيْنِ، وَلاَ تُحَنِّطُوهُ وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ، فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا ‘তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’কাপড়ে তাকে দাফন করো। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করবে না। কেননা, ক্বিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠবে’।[15]
(১৬) বিনয়ী পোশাক পরিধানকারী : মু‘আয ইবনে আনাস জুহানী (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا ‘যে লোক ক্ষমতা থাকার পরও আল্লাহর প্রতি নম্রতাবশত দামী জামা পরা ছেড়ে দিবে, তাকে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ সকল সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং ঈমানদারদের পোশাকের মধ্যে যে কোনো পোশাক পরিধান করার অধিকার দিবেন’।[16]
(১৭) বিশেষ সাত শ্রেণি : এ প্রসঙ্গে নিম্বোক্ত হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘সাত শ্রেণির লোককে আল্লাহ তার ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। তার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না- (ক) ন্যায়পরায়ণ শাসক। (খ) সেই যুবক যে আল্লাহর ইবাদতে বড় হয়েছে। (গ) সে ব্যক্তি, যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, সেখান থেকে বের হয়ে আসার পর তথায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত। (ঘ) এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর ওয়াস্তে পরস্পরকে ভালোবাসে, আল্লাহর ওয়াস্তে উভয়ে মিলিত হয় এবং তার জন্যই পৃথক হয়ে যায় । (ঙ) এমন ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার দুই চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দিতে থাকে। (চ) এমন ব্যক্তি, যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী আহবান করে আর সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। (ছ) এমন ব্যক্তি, যে গোপনে দান করে এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী দান করেছে’।[17]
❏ হাশরের মাঠে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে যারা :
(১) কাফের ও অপরাধী : ক্বিয়ামতের দিন কাফেররা মুখে ভর দিয়ে কেউ বোবা অবস্থায় কেউ বধির অবস্থায় উত্থিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন, وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا ‘আমি ক্বিয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মূক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়’ (বনী ইসরাঈল, ৯৭)।
(২) যারা ছালাত আদায় করে না : যারা ছালাত আদায় করে না, হাশরের মাঠে তাদের অবস্থা অতি ভয়াবহ হবে। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সিজদা করার নির্দেশ দিলে তারা সিজদা করতে অপরাগ হবে। আল্লাহ বলেন, يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ ‘সেদিন আল্লাহ তার পায়ের গোছা উম্মুক্ত করে দিবেন এবং তাদেরকে সিজদা করার আহবান জানানো হবে কিন্তু তারা সিজদা দিতে সক্ষম হবে না’ (কলম, ৪২)।
(৩) বিদ‘আতী : যারা দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত চালু করে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে ক্বিয়ামতের দিন একদল লোক আমার (হাউযে কাউছারের) সামনে হাযির হবে। এরপর তাদেরকে হাউয থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে, তখন আমি বলব, হে আল্লাহ! এরা আমার উম্মত। তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তোমার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে কী সব নতুন বিষয় সৃষ্টি করেছে, এ ব্যাপারে নিশ্চয় তোমার জানা নেই’।[18]
(৪) যারা যাকাত দেয় না : যারা যাকাত দেয় না, ক্বিয়ামতের দিন তাদের সম্পদ জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘যেসব ধনী লোক নিজেদের ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে না, ক্বিয়ামতের দিন তাদের এই সম্পদ জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের উভয় পাশে ও ললাটে দাগ দেওয়া হবে। তার শাস্তি বান্দাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ সময়কার একটি দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান’। [19]
(৫) সূদখোর : হাশরের মাঠে সূদখোরের পরিণাম অতি খারাপ হবে। মহান আল্লাহ বলেন, الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ‘যারা সূদ খায়, তারা ক্বিয়ামতের দিন দণ্ডায়মান হবে যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আঁছর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়’ (বাক্বারাহ, ২৭৫)।
(৬) অহংকারী : অহংকার আল্লাহর চাদর। যারা অহংকার করে, ক্বিয়ামতের মাঠে তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে। আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) তার পিতা থেকে, তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِى صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ ‘অহংকারী ব্যক্তিদেরকে ক্বিয়ামতের দিন ক্ষুদ্র পিঁপড়ার ন্যায় সমবেত করা হবে। তাদেরকে চারদিকে হতে অপমান ও লাঞ্ছনা ছেয়ে ফেলবে’।[20]
(৭) দ্বিমুখী ব্যক্তি : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ، الَّذِى يَأْتِى هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ ‘তোমরা ক্বিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা মন্দ লোক ঐ ব্যক্তিকে পাবে, যে দ্বিমুখী। সে এক মুখ নিয়ে এদের কাছে আসে এবং আরেক মুখ নিয়ে ওদের কাছে যায়’।[21]
(৮) অন্যায়ভাবে হত্যাকারী : হাশরের মাঠে নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে তার মাথা ও চুল ধরে নিয়ে এসে আল্লাহর কাছে অভিযোগ পেশ করবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, يَجِىءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاصِيَتُهُ وَرَأْسُهُ بِيَدِهِ وَأَوْدَاجُهُ تَشْخُبُ دَمًا يَقُولُ يَا رَبِّ هَذَا قَتَلَنِى حَتَّى يُدْنِيَهُ مِنَ الْعَرْشِ ‘ক্বিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি নিজ হাতে তার হত্যাকারীকে তার কপালের চুল ও মাথা ধরে নিয়ে আসবে। তার ঘাড়ের কর্তিত রগসমূহে রক্ত বের হতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! এ লোক আমাকে হত্যা করেছে, এমনকি সে তার হত্যাকারীকে নিয়ে আরশের নিকট পৌঁছে যাবে’।[22]
(৯) আত্মহত্যাকারী : আত্মহত্যা মহাপাপ। আত্মহত্যাকারী যে বস্তু দ্বারা নিজেকে হত্যা করেছে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। আবু যায়েদ সাবেত ইবনে যাহহাক আনছারী (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ عُذِّبَ بِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ ‘যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা নিজেকে হত্যা করলো, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারাই শাস্তি দেয়া হবে’।[23]
(১০) পেশাদার ভিক্ষুক : ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,لاَ لاَ تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ فِى وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ ‘তোমাদের কেউ কেউ মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে চাইতে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তার মুখম-লে গোশতের কোনো টুকরা অবশিষ্ট থাকবে না’।[24]
(১১) নিজের সন্তানকে অস্বীকারকারী : নিজের সন্তানকে অস্বীকারকারীকে আল্লাহ সমস্ত মানুষের সামনে অপমানিত করবেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ ‘যে পুরুষ তার সন্তানকে চিনতে পেরেও অস্বীকার করল, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার থেকে আঁড়ালে থাকবেন এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে তাকে অপমানিত করবেন’।[25]
(১২) একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে বে-ইনছাফকারী : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ ‘যার দুই স্ত্রী থাকা অবস্থায় একজনের প্রতি ঝুকে পড়ল, ক্বিয়ামতের দিন তাকে পঙ্গু অবস্থায় উপস্থিত করা হবে’।[26]
(১৩) বান্দার প্রতি যুলুমকারী : বান্দার প্রতি যুলুমকারীর হাশর অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যুলুম ক্বিয়ামতের দিন ভীষণ অন্ধকার রূপ ধারণ করবে’।[27]
যারা মানুষের উপর যুলুম করবে, তারা ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে নিঃস্ব হবে। নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র সে, যে ক্বিয়ামতের দিন ছালাত, ছিয়াম, যাকাতসহ বহু আমল নিয়ে উপস্থিত হবে এবং এর সাথে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে, তারাও থাকবে। সে তখন বসবে এবং তার নেক আমল হতে একে একে সবাইকে নেকী নিতে থাকবে। নেকী শেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহসমূহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে’।[28] অন্য হাদীছে এসেছে, ‘যুলুমকৃত বস্তু তার কাঁধের উপর থাকবে এমন অবস্থায় সে রাসূল (ছাঃ) -এর কাছে সাহায্য চাইবে। রাসূল (ছাঃ) বলবেন, আমি তোমার কিছুই করতে পারব না। আমি তো তোমাকে আল্লাহর বিধান পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি’।[29]
(১৪) ছবি-মূর্তি তৈরিকারী, মিথ্যুক, কারও গোপন কথা শ্রবণকারী : ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে দেখেনি, ক্বিয়ামতের দিন তাকে দু’টি যব দানার মাঝে সংযোগ সাধন করতে আদেশ করা হবে কিন্তু সে তা পারবে না। যে ব্যক্তি কোনো জনগোষ্ঠীর কথা শোনার জন্য কান পাতে যা তারা আদৌ পসন্দ করে না, ক্বিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো প্রাণীর ছবি তৈরি করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাতে প্রাণ দেওয়ার আদেশ করা হবে অথচ সে তার করতে পারবে না’।[30]
(১৫) বিশেষ তিন শ্রেণির মানুষ : এছাড়া হাশরের মাঠে অনেকে লাঞ্ছিত হবে, যাদেরকে নবী (ছাঃ) একত্রে উল্লেখ করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষের সাথে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না, তাদের দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলো: (ক) বৃদ্ধ ব্যভিচারী (খ) মিথ্যাবাদী রাজা (গ) অহংকারী গরীব’।[31] অন্য হাদীছে এসেছে, সেই তিন শ্রেণি হলো: (ক) যে মরুপ্রান্তরে অতিরিক্ত পানির মালিক কিন্তু মুসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না (খ) যে আছরের পর অন্য লোকের নিকট সামগ্রী বিক্রয় করতে গিয়ে মিথ্যা কসম খায় (গ) যে পার্থিব স্বার্থে রাষ্ট্রনেতার হাতে বায়‘আত করে’।[32] অন্য হাদীছে এসেছে, তারা হলো: (ক) টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলানো ব্যক্তি (খ) যে খোটা দেয় (গ) যে মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রয় করে’।[33] হাদীছে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তিন প্রকার লোক আছে যাদের প্রতিবাদী স্বয়ং আমি (ক) সে ব্যক্তি, যে আমার নামে অঙ্গীকারবদ্ধ হলো, পরে তা ভঙ্গ করল (খ) সে ব্যক্তি, যে স্বাধীন মানুষকে প্রতারণা দিয়ে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করে (গ) সে ব্যক্তি, যে কোনো দিন মজুরকে খাঁটিয়ে তার নিকট থেকে পুরোপুরি কাজ নিল কিন্তু তার মজুরী দিল না’।[34]
পরিশেষে, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে হাশরের মাঠের ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষা করেন এবং যে সমস্ত আমল করলে পরকালে লাঞ্ছিত হতে হবে তা থেকে দূরে রাখেন- আমীন!
.
[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৬৪।

[2]. তিরমিযী, হা/২০১৮; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৬৩৬। তিরমিযী, হা/২০১৮; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৬৩৬।

[3]. তিরমিযী, হা/১৩০৬।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৬৩; মিশকাত, হা/২৯০২।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪২; মুসলিম, হা/২৫৮০; মিশকাত, হা/৪৯৫৯।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৯৩; মিশকাত, হা/৫০৮৮।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/ ৩৮৭ মিশকাত, হা/ ৬৫৪।

[8]. আবুদাঊদ, হা/৫৬১; তিরমিযী, হা/২২৩; মিশকাত, হা/৭২১।

[9]. ইবনু মাজাহ, হা/১৬০১।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬; মুসলিম, হা/২৪৬; মিশকাত, হা/২৯০।

[11]. তিরমিযী, হা/২৯১৪; আবুদাঊদ, হা/১৪৬৪; মিশকাত, হা/২৩১৩।

[12]. আবুদাঊদ, হা/৪২০৪; মিশকাত, হা/৪৪৫৮।

[13]. তিরমিযী, হা/ ১৬৩৪; নাসাই, হা/৩১৪২; মিশকাত, হা/৩৩৮৫।

[14]. ছহীহ বুখারী, হা/ ৫৫৩৩

[15]. ছহীহ বুখারী, হা/১২৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১২০৬।

[16]. তিরমিযী, হা/২৪৮১।

[17]. ছহীহ বুখারী, হা/ ৬৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/২২৭০; তিরমিযী, হা/২৩৯১; নাসাঈ, হা/ ৫৭৮০।

[18]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫৮৫।

[19]. তিরমিযী, হা/২৪৯২; ছহীহ মুসিলম, হা/২১৮১।

[20]. তিরমিযী, হা/২৪৯২; মিশকাত, হা/৫১১২।

[21]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/৬০৫৮।

[22]. তিরমিযী, হা/৩০২৯; নাসাঈ, হা/৪০০৫; মিশকাত, হা/৩৪৬৫।

[23]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/৬১০৫।

[24]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/১৪৭৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৪০।

[25]. আবুদাঊদ, হা/২২৬৩।

[26]. আবুদাঊদ, হা/২১৩৩। ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৯; মিশকাত, হা/৫১২৩।

[27]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭৯; মিশকাত, হা/৫১২৩।

[28]. তিরমিযী, হা/২৪১৮।

[29]. মিশকাত, হা/৩৯৯৬।

[30]. ছহীহ ‍বুখারী, হা/ ২২২৫; তিরমিযী, হা/ ১৭৫৮; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/ ১৫৫২।

[31]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৬; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫৫২।

[32]. ছহীহ বুখারী, হা/২৩৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/ ৯৮৪৫।

[33]. তিরমিযী, হা/১২১১; নাসাঈ, হা/ ২৫৫৩; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৭৯৮।

[34]. ছহীহ বুখারী, হা/২২৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৫৪২; রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫৯৫।
_______________________________________________
লেখক: দেলোয়ার হোসেন
আলিম ১ম বর্ষ, চরবাটা ইসমাঈলিয়া আলিম মাদরাসা, সুবর্ণচর, নোয়াখালী
সূত্র: মাসিক আল-ইতিসাম
_____________________________________________________
আপনার যদি পোস্টটি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করুন। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম/২৬৭৪, ৬৮০৪]
আমাদের পোস্টগুলি কপিরাইট মুক্ত! সুতরাং আপনি চাইলে কনটেন্টগুলো হুবহু কপি করে ফেসবুক বা যেকোন মাধ্যমে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে প্রচার করতে পারেন বিনা অনুমতিতে।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
#জান্নাহ্

Address

Dhaka
1207

Telephone

+8801515291615

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Modern Hujur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Modern Hujur:

Share