Dawat-E-Tablige

Dawat-E-Tablige There is none other worthy of worship beside Allah and the Muhammad is the messenger of Allah

26/05/2026

বসরার সেই রাতে বৃষ্টি পড়ছিল। ছোট্ট একটি ঘরে একটি মোমবাতি জ্বলছে। সেই আলোতে একজন মানুষ বসে আছেন — চোখ বন্ধ, ঠোঁট নড়ছে। কাছে গেলে শোনা যেত — তিনি কাঁদছেন। শব্দ করে নয়, ভেতরে ভেতরে। এই মানুষটির নাম হাসান আল-বাসরী। বসরার মানুষ তাঁকে চেনে — কিন্তু এই রাতের কান্নার কথা কেউ জানে না।
হাসান আল-বাসরী রাহিমাহুল্লাহর জন্ম হয়েছিল মদিনায়, ৬৪২ সালে। তাঁর মায়ের নাম খায়রা — তিনি ছিলেন উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহার খাদেমা। ছোটবেলায় উম্মু সালামার ঘরে বড় হয়েছেন। সাহাবীদের দেখেছেন চোখের সামনে। হযরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার তাঁকে দোয়া করেছিলেন — ছোট্ট শিশু হাসানের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, “হে আল্লাহ, এই ছেলেকে দ্বীনের গভীর বোঝাপড়া দাও এবং মানুষ যেন তাঁকে ভালোবাসে।” ইমাম যাহাবী লিখেছেন — উমারের সেই দোয়া কবুল হয়েছিল।
কিন্তু এই গল্পটি শুরু হয় হাসান আল-বাসরীর জীবনের একটি বিশেষ রাত থেকে। তিনি তখন বসরায়। বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। সারা বসরা তাঁকে চেনে — তাঁর মজলিসে হাজারো মানুষ আসেন, তাঁর একটি কথায় মানুষ কাঁদে, তাঁর উপদেশে জীবন বদলে যায়। কিন্তু সেই রাতে তিনি একা বসে আছেন এবং কাঁদছেন।
পরদিন সকালে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ছাত্র এলেন — মালিক ইবনে দিনার। ইমাম যাহাবী লিখেছেন, মালিক ইবনে দিনার ছিলেন হাসান আল-বাসরীর সবচেয়ে প্রিয় ছাত্রদের একজন। তিনি উস্তাদের চোখ দেখে বুঝলেন — রাতে ঘুম হয়নি, কাঁদেছেন। জিজ্ঞেস করলেন — “কী হয়েছে?” হাসান আল-বাসরী কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর বললেন — “বসো।”
মালিক বসলেন। হাসান আল-বাসরী বললেন — “গতকাল মজলিসে আমি একটি কথা বলেছিলাম। মানুষ কাঁদল, প্রশংসা করল। ঘরে ফিরে রাতে যখন একা বসলাম — তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম। আমি যা বললাম, সেটা কি আমি নিজে মানি? আমার জীবনে কি সেটা আছে?” মালিক চুপ করে শুনছেন। হাসান আল-বাসরী বললেন — “উত্তর পেলাম না। সেই ভয়েই সারারাত কাঁদলাম।”
মালিক ইবনে দিনার বললেন — “কিন্তু শায়খ, আপনি তো সত্য কথাই বলেছেন।” হাসান আল-বাসরী বললেন — “সত্য কথা বলা আর সত্য কথা জীবনে আনা এক জিনিস নয়। যে কেবল বলে কিন্তু করে না — সে মানুষকে আলো দেখায় কিন্তু নিজে অন্ধকারে থাকে। এই অবস্থা আমি চাই না।” একটু থামলেন। তারপর বললেন — “তাই আমি ভয় পাই। প্রতিটি মজলিসের পরে ভয় পাই।”
মালিক ইবনে দিনার পরে এই ঘটনা তাঁর ছাত্রদের বলতেন। বলতেন — “সেই দিন আমি বুঝলাম — হাসান আল-বাসরী কেন এত বড়। বড় হওয়ার কারণ তাঁর ইলম নয়, তাঁর বাগ্মিতা নয় — বড় হওয়ার কারণ হলো তিনি প্রতিটি রাতে নিজেকে প্রশ্ন করতেন।”
কিন্তু এই ঘটনার কিছুদিন পরে আরেকটি মুহূর্ত এলো — যা ইমাম যাহাবী আলাদাভাবে লিখেছেন। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ তখন ইরাকের শাসক। নিষ্ঠুর, রক্তপিপাসু — তাঁর নাম শুনলে মানুষ কাঁপে। হাজ্জাজ একবার হাসান আল-বাসরীর কথা শুনলেন — যে তিনি তাঁর জুলুমের সমালোচনা করেছেন মজলিসে। হাজ্জাজ রাগে অগ্নিশর্মা হলেন। সৈন্য পাঠালেন — হাসান আল-বাসরীকে ধরে আনতে।
সৈন্যরা এলো। হাসান আল-বাসরী তখন মজলিসে বসে আছেন। সৈন্যরা ঢুকল। সবাই বুঝল কী হতে চলেছে। মজলিসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু হাসান আল-বাসরী উঠলেন না, কাঁপলেন না, চেহারার রং বদলাল না। শুধু ঠোঁট নাড়লেন — নিজের মনে কিছু পড়লেন। তারপর সৈন্যদের দিকে তাকালেন। সৈন্যরা তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল।
সৈন্যদের নেতা এগিয়ে এলো। হাসান আল-বাসরীর সামনে দাঁড়াল। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল — কিন্তু বলতে পারল না। পরে সেই সৈন্য বলেছিল — “আমি অনেক মানুষকে ভয় দেখিয়েছি। কিন্তু সেদিন সেই বৃদ্ধের চোখের দিকে তাকিয়ে আমার ভেতরে কী হলো বুঝতে পারলাম না। মনে হলো — এই মানুষকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়।”
সৈন্যরা ফিরে গেল। হাজ্জাজকে বলল — “আমরা যেতে পারলাম না।” হাজ্জাজ অবাক হলেন। জিজ্ঞেস করলেন — “কেন?” সৈন্যরা বলল — “তাঁর চোখে এমন কিছু ছিল যা আমাদের থামিয়ে দিল।” হাজ্জাজ কিছু বললেন না। ইমাম যাহাবী লিখেছেন — হাজ্জাজ আর কখনো হাসান আল-বাসরীর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস করেননি।
পরে মালিক ইবনে দিনার জিজ্ঞেস করলেন — “শায়খ, সেদিন সৈন্যরা আসার সময় আপনি কী পড়েছিলেন?” হাসান আল-বাসরী বললেন — “বলছি। কিন্তু আগে বলো — আমাকে কি ভয় পেতে দেখেছিলে?” মালিক বললেন — “না।” হাসান আল-বাসরী বললেন — “আমি ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর ভয় পেয়েছিলাম — হাজ্জাজের ভয় নয়। যে আল্লাহকে ভয় পায়, আল্লাহ তার থেকে সব ভয় সরিয়ে দেন। আমি শুধু এটাই পড়েছিলাম — ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।’”
ইমাম যাহাবী সিয়ারু আলামিন নুবালায় লিখেছেন — “হাসান আল-বাসরী ছিলেন তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় বক্তা, সবচেয়ে গভীর চিন্তার আলেম এবং সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু মানুষ — কিন্তু সেই ভয় ছিল কেবল আল্লাহর। মানুষের ভয় তাঁর কাছে ছিল না বললেই চলে। এই কারণেই মানুষ তাঁকে সম্মান করত — কারণ যে আল্লাহকে ভয় পায়, পৃথিবীর আর কিছু তাঁকে দমাতে পারে না।”
হাসান আল-বাসরী ৭২৮ সালে ইন্তেকাল করলেন। বয়স হয়েছিল ছিয়াশি বছর। মৃত্যুর রাতে বসরার আকাশে তারা ছিল। ঘরে কেউ ছিল না — তিনি একাই ছিলেন। যেভাবে সারাজীবন রাত কাটিয়েছেন — আল্লাহর সাথে একা, কাঁদতে কাঁদতে। শেষ রাতটাও সেভাবেই গেল।
সূত্র: সিয়ারু আলামিন নুবালা — ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ
(খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৮৮ — ইমাম হাসান আল-বাসরীর জীবনী অধ্যায়)

10/10/2024

أَعُوذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বিওয়াঝহিল কারিম ওয়া সুলত্বানিহিল কাদিমি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম।’

অর্থ : ‘আমি মহান আল্লাহর কাছে; তাঁর মহানুভব চেহারার কাছে; তাঁর অনাদি-অনন্ত কর্তৃত্বের কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।’

দোয়াটি হাদিসের বর্ণনায় এভাবে এসেছে-

হজরত হায়াওয়াহ ইবনু শুরায়িহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হজরত উক্ববাহ ইবনে মুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলি, আমি জানতে পারলাম যে, আপনার কাছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশের সময় বলতেন-

أَعُوذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অতীব মর্যাদা ও চিরন্তন পরাক্রমশালীর অধিকারী মহান আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে।

হজরত উক্ববাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু (প্রশ্ন রেখে) বললেন, এত টুকুই?

আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’

(এবার) হজরত উক্ববাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘কেউ এ দোয়া পড়লে শয়তান বলতে থাকে যে, এ লোকটি আমার (অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা) থেকে সারা দিনের জন্য বেঁচে গেল।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মুসনাদে আহমাদ, বুখারি ও মসলিম)

মনে রাখা জরুরি

এ দোয়াটি শুধু মসজিদে প্রবেশের জন্য পড়ার দোয়াই নয় বরং সারাদিন শয়তানের আক্রমণ (অনিষ্টতা ও কুমন্ত্রণা) থেকে নিরাপদ থাকতে প্রতিদিন পড়া জরুরি। যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিতে প্রবেশ করতেই এ দোয়াটি পড়তেন। আর শয়তান সারা দিনের জন্য এ দোয়া পাঠকারী থেকে দূরে সরে যায়।

সুতরাং মুমিন মুসলমান প্রতিদিন যতবার মসজিদে প্রবেশ করবে ততবারই যদি এ দোয়াটি পড়া হয় তবে এ কথা সুনশ্চিত যে, শয়তান মানুষকে ধোঁকা দিতে পারবে না। বরং সে সারাদিনের জন্য শয়তানের অনিষ্টতা ও প্ররোচনা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবির শেখানো দোয়াটি পড়ার তাওফিক দান করুন। সারাদিন শয়তানের অনিষ্টতা ও কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একটা বাজপাখি সাউথ-আফ্রিকা থেকে ফিনল্যান্ডে উড়ে যাওয়ার সময় তার শরীরে কিছু ইকুইপমেন্ট বসানো হয়, আর এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে স্...
05/09/2024

একটা বাজপাখি সাউথ-আফ্রিকা থেকে ফিনল্যান্ডে উড়ে যাওয়ার সময় তার শরীরে কিছু ইকুইপমেন্ট বসানো হয়, আর এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে স্যাটেলাইট থেকে তার যাত্রাপথ।

পাখিটি ৪২ দিনে এই ১০,০০০কিলোমিটার পথ উড়ে পারি দিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন ২৩০ কিমি উড়েছে প্রায় সমান্তরালভাবে।

স্যাটেলাইটে তার রুটে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বড় জলাশয় বা সমুদ্র সামনে আসলে সে সেখান থেকে পথ পরিবর্তন করেছে যেন বিশ্রাম নিতে চাইলে স্থলভুমি পায়।

আবার, মিশর-সুদানের মরুভূমিকেও পাশ কাটিয়ে গিয়েছে যেন তৃষ্ণা পেলে পানির অভাবে না পরতে হয়।

কঠিন কঠিন এসব ম্যাপিং, রাউটিং, আল্টিটিঊড নলেজ সায়েন্টিস্টরা যুগের পর যুগ ধরে যেখানে ডেভেলপ করে, পাইলটদের এসব শিখতে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যায়,
এই ছোট্ট পাখিকে তাহলে কে শেখালো এতকিছু?

আরও মজার কথা হল, হাই আল্টিটিঊডে উড়ার সময় এদের ১% এনার্জিও খরচ হয়না, শুধু ভেসে ভেসে, অনেক সময় ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও এরা শত শত মাইল পাড়ি দিতে পারে। এই নিখুঁত টেকনোলজি কিভাবেই বা এদের শরীরে এলো?
সুবহানাল্লাহ, মহান রবের কুদরত অপরিসীম।

28/01/2024
11/01/2024

হাজি আঃ ওহাব সাহেবের খাদেম মাওঃ ফাহিম সাহেব একটু আগে ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

19/12/2022

প্রখ‌্যাত দাঈ মাওলানা সাঈদ খান রহ. একবার সাথী‌দের জিজ্ঞাসা কর‌লেন, আচ্ছা, য‌দি সমস্ত মানুষ দী‌নের ওপর ও‌ঠে যায়, এবং সবাই আল্লাহঅলা হ‌য়ে‌ যায়, তখন কি দাওয়া‌তের কাজ কর‌তে হ‌বে?
কিছু সাথী বল‌লেন, না, ল‌াগ‌বে না। কারণ, যেই জন‌্য দাওয়া‌ত, সেটা তো হ‌য়ে গে‌ছে।
হযরত খান সা‌হেব রহ. বল‌লেন, আচ্ছা বলুন তো, এলাকার সমস্ত মানুষ য‌দি আযা‌নের পূ‌র্বেই মস‌জি‌দে উপ‌স্থিত হ‌য়ে যায়, তখন কি আযান‌ দি‌তে হ‌বে? লো‌কেরা বলল, জি, দি‌তে হ‌বে।
মুফতী সাঈদ খান সা‌হেব রহ. বল‌লেন : দাওয়া‌তের কাজও এমনই। সমস্ত মানুষ পাক্কা দীনদার হ‌য়ে যাওয়ার প‌রেও দীওয়া‌তের কাজ কর‌তে হ‌বে। এর নাম 'তাযকীর' বা স্মরণ ক‌রি‌য়ে দেওয়া, উপ‌দেশ দেওয়া। নতুবা মানুষ আবার গোমরাহ হ‌য়ে যা‌বে।
যথার্থই ব‌লে‌ছেন হযরত মুফতী সা‌হেব রহ.। কুরআন মাজীদ আমাদের সে কথাই ব‌লে‌ছে। সমস্ত মানুষ দীনদার হ‌য়ে যাওয়ার প‌রে এবং সারা দুনিয়ায় খেলাফত প্রতিষ্ঠা হ‌য়ে যাওয়ার প‌রেও দাওয়া‌তের কাজ কর‌তে হ‌বে। যেম‌নিভা‌বে ইকাম‌তে দীন ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন‌্য তার পূ‌র্বে ব‌্যাপক দাওয়া‌তের কাজ কর‌তে হ‌বে। বরং‌ খেলাফত প্রতিষ্ঠার অন‌্যতম লক্ষ‌্য হ‌লো 'আম‌রে বিল মারূফ নাহী আনিল মুনকার', যা দাওয়া‌তেরই ভিন্ন প‌রিভাষা। আল্লাহ তাআলা ব‌লেন :
اَلَّذِیۡنَ اِنۡ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَ اَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ نَہَوۡا عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَ لِلّٰہِ عَاقِبَۃُ الۡاُمُوۡرِ ﴿۴۱﴾
তারা এমন লোক যাদেরকে আমরা যমীনের বুকে প্রতিষ্ঠিত করলে সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর সব কাজের চুড়ান্ত পরিণতি আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে। (সূরা হজ : ৪১)
অন‌্যত্র ব‌লেন :
وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ یَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ﴿۱۰۴﴾
আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে, যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম। (আলে ইমরান : ১০৪)
এই আয়াত‌টি ওই সময় না‌যিল হয়ে‌ছিল, যখন মদীনা ও তার আশপা‌শে পু‌রোপু‌রি দীন কা‌য়েম হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল।
মোটকথা, দাওয়া‌তের কাজ খেলাফ‌ত প্রতিষ্ঠার আগেও লাগ‌বে, প‌রেও লাগ‌বে।
আল্লাহ তাআলা আমা‌দের তাওফীক দিন।

08/12/2022

রাসুল (সাঃ) এর ১৪০০ বছর আগে
বাণী আজ বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছে🥰
রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
“পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর
উপর পড়তে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে।”
– (সহীহ বুখারী ৫৩৭১)
বিজ্ঞান বলে,
পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে
হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের
প্রয়োজন হয়।
তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে,
তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন
রোগে আক্রান্ত হবে।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
“ভ্রু প্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত”
– (সহীহ বুখারী ৫৫১৫)
বিজ্ঞান বলে,
ভ্রু হলো চোখের সুরক্ষার জন্য।
ভ্রুতে এমন কিছু লোম থাকে যদি তা কাটা
পড়ে যায় তাহলে ভ্রুপ্লাগকারী পাগল হতে পারে,
অথবা মৃত্যুবরণও করতে পারে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া হারাম”
– (সহীহ বুখারী ৬১২৪)
বিজ্ঞান বলে,
ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার,
ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়।
ধুম্পান করলে ঠোট,
দাঁতের মাড়ি,
আঙ্গুল কালো হয়ে যায়।
যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায়
এমনকি স্মৃতিশক্তি ও কমে যায়।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম।”
– (মুসলিম ১৬৫৫)
বিজ্ঞান বলে,
স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা স্কিনের সাথে
মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়।
আর তার পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ
তার আগের স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলবে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত
হয়ে ঘুমাতে।
– (সহীহ বুখারী ৩২৮০)
বিজ্ঞান বলে,
ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পাম্প করে।
আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে ব্রেনের এনাটমি রস শরীরে প্রবেশ করতে পারে না,
যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।
রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
“তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ।”
– (সহীহ মুসলিম ৪৯৩ ও ৪৯৪)
বিজ্ঞান বলে,
দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার,
ফুস্ফুসের ইনফেকশন এবং ৪০ এর আগে
যৌবন হারানোর সম্ভবনা থাকে।
আল্লাহ্ সুবনাহু তায়ালা বলেন,
“আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা।
নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ।”
– (বনি ইসরাঈল ৩২) নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ (মাইদাহ ৯০)
বিজ্ঞান বলে,
পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল সম্পর্ক সহ বিভিন্ন
মাদকদ্রব্য নেশায় যদি কেউ জড়িয়ে পড়ে,
তাহলে তার ব্রেনের ফরেন্টাল এরিয়া পরিচালনা
করার ইনটেলেকচুয়াল সেলগুলো থরথর করে
কাঁপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়।
যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল ও অসুস্থের
মত জীবন পরিচালনা করে
এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
আল্লাহ বলেন,
“আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়,
তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক
যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।”
– (আরাফ ২০৪)
বিজ্ঞান বলে,
কুরআনের সাউন্ড ওয়েব শরীরের
সেলগুলোকে সক্রিয় করে,
অসুস্থতা আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং
ক্যান্সার রোগীদের।
আর ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে,
ঠিক যেমন ভাবে ফিউজ হওয়া ব্যাটারী কে সচল
আলহামদুলিল্লাহ 🥰🥰🥰🥰
আল্লাহ আমাদের সবাই কে বুঝার তৌফিক দান করুক আমীন

21/11/2022

***সুবহান আল্লাহ...খুব উপকারী একটা পোস্ট। যা আমি আগে কখনোও জানতাম না ... দয়া করে, আমার মৃত্যুর পর যারা আমার কবর দিবার জন্য যাবেন এইভাবে তালক্বীন করে সওয়াল জবাব শিখিয়ে দিবেন॥***

মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরে তালক্বীন করা সুন্নত। তালক্বীন করার কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।
হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন- আখেরী রসূল হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-
“যখন তোমাদের কোন মুসলমান ভাই ইন্তেকাল করবে তখন তাকে কবরে রেখে তার উপর ভালভাবে মাটি দিয়ে অর্থাৎ দাফন করে তার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে বলবে- “হে অমুকের সন্তান অমুক” তখন মৃত ব্যক্তি ইহা শুনবে কিন্তু কোন জবাব দিবেনা। তারপর বলবে- “হে অমুকের সন্তান অমুক” ইহা শুনে মৃত ব্যক্তি উঠে বসবে। অতঃপর আবার বলবে- “হে অমুকের সন্তান অমুক” ইহা শুনে মৃত ব্যক্তি বলবে কি বলছেন? (যদিও তার কথা শুনা যাবেনা) তখন তোমরা বলবে তুমি এই সময় বলো দুনিয়ায় থাকাকালীন অবস্থায় তুমি যার উপর কায়েম ছিলে) অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নাই, তিনিই একমাত্র প্রতিপালক। ইসলাম তোমার দ্বীন, হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমার নবী, কোরআন শরীফ তোমার পথ প্রদর্শক।
এসময় মুনকার এবং নাকীর একে অপরের হাত ধরে বলবে- এখান হতে চল, এর নিকট বসে কি করব? একেতো আখেরাতের দলীল শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে।
অতঃপর আল্লাহ্ পাক তার এই কথাগুলো লিখে নেন। অমুকের পুত্র অমুকের স্থলে মৃত ব্যক্তি ও তার মাতার নাম উল্লেখ করবে।
এক ব্যক্তি উঠে জিজাসা করল- ইয়া রসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তার মাতার নাম জানা না থাকে তখনু উপায় কি? হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন- তাহলে হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম-এর নাম উল্লেখ করে বলবে- হে হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামএর পুত্র অমুক।
আর কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে মাইয়্যেতকে দাফন করার পর উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ থেকে একজন প্রশ্ন করবে, من ربك.
উচ্চারণঃ মার রাব্বুকা?
অন্যান্য সকলেই বলবে- ربى الله.
উচ্চারণঃ রব্বিইয়াল্লাহু।
এরপর বলবে- ومن نبيك.
উচ্চারণঃ ওয়া মান নাবিয়্যুকা?
অন্যান্য সকলেই বলবে,
ونبى محمد صلى الله عليه وسلم
উচ্চারণঃ নাবিয়্যী মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর বলবে, وما دينك.
উচ্চারণঃ ওয়ামা দ্বীনুকা?
সকলেই বলবে, دينى الاسلام.
উচ্চারণঃ দ্বীনিয়্যাল ইসলাম।

হাদীস শরীফে রয়েছে, যখন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কবরে তালক্বীন দেয়া হয় তখন মুনকার ও নকীর ফেরেশতাদ্বয় পরস্পর পরস্পরের হাতে ধরে বলেন যে, তাকে প্রশ্ন করে কি হবে, তাকে তো সব শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। চল আমরা চলে যাই। অর্থাৎ তালক্বীনের কারণে সে সুওয়াল-জাওয়াব থেকে নিস্কৃতি ও নাযাত পায়। (সুবহানাল্লাহ্)

( দলীলসমূহঃ- ত্বাষ্কানী মুজামুল কবীর, বুলুগুল মারাম, ফিকাহুস সুনান, কবীরি, নূরুচ্ছুদুর, আরকানে আরবায়া, ফতওয়ায়ে রশিদীয়া, ইত্যাদি।)

অথচ এখন অনেকেই কবরে তালক্বীন দেয় না। তাল্কীন দিতে হয় , এ বিষয় জানেই না—
CP

19/10/2022

"এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।"
দোষী যুবককে নিয়ে খলীফার দরবারে নিয়ে এসেছেন । তারা তাদের পিতার হত্যার বিচার চান।
খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে জিজ্ঞেস করলেন যে তার বিপক্ষে করা অভিযোগ সত্য কিনা। অভিযোগ স্বীকার করল যুবক। দোষী যুবক সেই ঘটনার বর্ণনা নিজেই দিলঃ এভাবে
তাহলে শুনুনঅনেক পরিশ্রমের কাজ করে আমি বিশ্রামের জন্য একটি খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। অভিযোগকারী এই দুই ব্যক্তির বাবাকে আমার মৃত উটের পাশে পেলাম। সে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং তার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে এক পর্যায়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি। ফলে সে সেইখানেই মারা যায়। যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"বিচারে যা সিদ্ধান্ত হবে মেনে নিব।
বাদী’রা জানালেন- "আমরা এর মৃত্যুদণ্ড চাই।" সব শুনে হযরত উমর (রা) অপরাধী যুবককে বললেন, "উট হত্যার বদলে তুমি একটা উট দাবি করতে পারতে, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছ। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।" নওজোয়ান বললো, "আমার কাছে কিছু ঋণ ও অন্যের রাখা কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছু দিন সময় দিতেন, আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋণগুলি পরিশোধ করে আসতাম।"
খলিফা হযরত উমর (রা) বললেন, "তোমাকে এভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমায় সাময়িক সময়ের জন্য যেতে দিতে পারি।“ নওজোয়ান বললো, "এখানে আমার কেউ নেই যে আমার জিম্মাদার হবে।" যুবকটি তখন নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
এই সময় হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত একজন সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি হবো ঐ ব্যক্তির জামিনদার। তাকে যেতে দিন।" আবু যর গিফারীর (রা) এই উত্তরে সভায় উপস্থিত সবাই হতবাক। একে তো অপরিচিত ব্যক্তি, তার উপর হত্যার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী! তার জামিনদার কেন হচ্ছেন আবু জর!
খলিফা বললেন, "আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত নওজোয়ানকে মুক্তি দেয়া হলো। জুম্মার আগে নওজোয়ান মদীনায় ফেরত না আসলে নওজোয়ানের বদলে আবু যরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।" মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবু যর গিফারী (রা) চলে গেলেন নিজ বাড়িতে।
দেখতে দেখতে জুম্মাবার এসে গেল। নওজোয়ানের আসার কোনো খবর নেই। হযরত উমর (রা) রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন আবু যর গিফারির (রা) কাছে। পত্রে লিখা, আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে, আইন মোতাবেক আবু যর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর যেন সময় মত জুম্মার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হন। খবর শুনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা। একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবু যর গিফারী আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন।
জুমার পর মদীনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে হাজির। সবার চোখে পানি। কারণ দন্ডপ্রাপ্ত যুবক এখনো ফিরে আসেনি। জল্লাদ প্রস্তুত।
জীবনে কত জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না জল্লাদ। আবু যরের মত একজন সাহাবী সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদানকারী খলিফা উমর (রা) নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয় তাঁর ভারাক্রান্ত। তবু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর (রা) তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর (রা) এর দিকে এগুচ্ছেন আর কাঁদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে রেখেছে।
এমন সময় এক সাহাবী উচ্চ স্বরে জল্লাদকে বলে উঠলেন, "হে জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ দেখ কে যেন আসছে। হতে পারে ঐটা নওজোয়ানের ঘোড়ার পদধুলি। একটু দেখে নাও।" ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এ সেই নওজোয়ান।
নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে বললো, "আমীরুল মুমিনীন, মাফ করবেন। রাস্তায় যদি আমার ঘোড়া পায়ে ব্যথা না পেত, তবে যথা সময়েই আসতে পারতাম। বাড়িতে গিয়ে আমি একটুও দেরি করিনি। বাড়ি পৌঁছে গচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি। তারপর বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আমার জামিনদার ভাইকে ছেড়ে দিন আর আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কেননা কেয়ামতের দিন আমি খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না।"
আশেপাশের সবাই একেবারেই নীরব। চারিদিকে একদম থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কী হতে চলেছে! যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিলো সবাইকে।
খলিফা হযরত উমর (রা) যুবককে বললেন, "তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, তারপরেও কেন ফিরে এলে?" উত্তরে সেই যুবক বলল- "আমি ফিরে এসেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।"
এবার হযরত উমর (রা) হযরত আবু যর গিফারী (রা) কে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কেন না চেনা সত্যেও এর জামিনদার হলেন?" উত্তরে হযরত আবু যর গিফারী (রা) বললেন, "পরবর্তিতে কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান বিপদে পড়েছিলো, অথচ কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।"
এমন কথা শুনে, হঠাৎ বৃদ্ধের দুই সন্তানের মাঝে একজন বলে উঠল, "হে খলীফা, আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা অভিযোগ তুলে নিলাম।"
হযরত উমর (রা) বললেন, “কেন তাকে ক্ষমা করে দিচ্ছ?” তাদের এক ভাই বলে উঠলো, "কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে নিজেই স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।"
[হায়াতুস সাহাবা-৮৪৪]

Address

Dhaka
1100

Telephone

+8801982945904

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dawat-E-Tablige posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Dawat-E-Tablige:

Share