15/07/2026
"মেয়ের জামাই তো পরের ছেলে"—এই কথা বলেই তার কাছে কোনো দাবি রাখেন না।
কিন্তু ছেলের বউ, যে-ও তো অন্যের মেয়ে, তার জন্য কেন এক্সপেকটেশনের পাহাড় বানিয়ে বসে থাকেন?**
মেয়ের জামাইকে বলেন, "ওদের সংসার, ওরা যেমন ভালো বুঝবে।"
আর ছেলের বউকে বলেন, "এটা করতে হবে, ওটা মানতে হবে, এভাবে চলতে হবে, সবাইকে খুশি রাখতে হবে!"
কেন এই দ্বিমুখী মানসিকতা?
মেয়ের জামাই যদি আপনার মেয়েকে সম্মান না দেয়, আপনার মেয়ের জীবন অসুখী হয়।
ঠিক তেমনি ছেলের বউ যদি প্রতিদিন অপমান, চাপ আর অবাস্তব প্রত্যাশার মধ্যে বাঁচে, আপনার ছেলেও কোনোদিন প্রকৃত সুখী হতে পারবে না।
সংসার টিকে থাকে ভালোবাসা, সম্মান আর পারস্পরিক সহযোগিতায়—একতরফা দায়িত্বে নয়।
আপনার ছেলেকে মানুষ করেছেন?
তাহলে দায়িত্ববোধ, সম্মানবোধ, সংসারের কাজ ভাগ করে নেওয়া, স্ত্রীকে মর্যাদা দেওয়া—এসবও তাকে শেখান।
আর যদি এতই সেবা, ত্যাগ, কর্তব্য, সহ্যশক্তি, মানিয়ে নেওয়ার আশা থাকে, তাহলে সেই প্রত্যাশার বোঝা নিজের সন্তানের কাঁধেই দিন।
অন্যের মেয়েকে "বউ" বানিয়ে বিনা বেতনের কর্মচারী, সেবিকা, পরিচারিকা আর সারাজীবনের পরীক্ষার্থী বানানোর অধিকার কারও নেই।
মনে রাখবেন—
**মেয়ের সুখ যেমন জামাইয়ের আচরণের ওপর নির্ভর করে, তেমনি ছেলের সুখও অনেকটাই নির্ভর করে তার স্ত্রীর মানসিক শান্তির ওপর।**
তাই প্রত্যাশার বস্তা অন্যের সন্তানের কাঁধে চাপিয়ে নয়, নিজের সন্তানকে মানুষ করেই একজন ভালো শ্বশুর-শাশুড়ি হওয়ার চেষ্টা করুন।