05/06/2024
⭕ যিলহজ্ব মাস কবে থেকে শুরু হবে.?
🔸 আরবী মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আগামী ০৭/০৮ ই জুন [শুক্রবার অথবা শনিবার] সন্ধ্যা থেকে যিলহজ্ব মাস শুরু হবে এবং ১৭/১৮ ই জুন পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হবে ইন শা আল্লাহ। তাই কবে চাঁদ উঠবে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা'য়ালার নিকট যিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর অন্য কোনো দিনের আমল নয়। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে সিয়াম পালন করো এবং অধিক পরিমানে তাসবীহ তাহলীল, যিকির আযকার (সুবহা-নাল্ল-হ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্ল-হ, আল্ল-হু আকবার) পাঠ করো। [মুসনাদে আহমাদ- ৫৪৪৬]
🔸 রাসূল ﷺ বলেন, যিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের প্রতিদিনের সিয়াম ১ বছরের সিয়াম সমতূল্য এবং প্রতিটি রাতের তাহাজ্জুদ লাইলাতুল কদরের তাহাজ্জুদের সমতূল্য। [জামে তিরমিযী- ৭৫৮]
🔲 যিলহজ্ব মাসে সর্বমোট কয়টি রোজা রাখতে হবে.?
🔹 সর্বমোট নয় দিনে নয়টি রোজা রাখতে হবে। সবগুলো রোজা রাখাই উত্তম। তবে সবগুলো রোজা রাখতে না পারলে সাধ্য মোতাবেক রোজাগুলো রাখার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্তত শেষের দুইদিন অথবা শেষের একদিন রোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে ইন শা আল্লাহ 💞✅
⭕ রাসূল সল্লল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
🔸 আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহ্র কাছে আশাবাদী যে, এতে তিনি পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। -[সহিহ মুসলিম হাদিস নং- ২৬৩৬]
🔹 যাদের রমজান মাসের কাযা রোজা বাকি রয়েছে, তারা প্রথমে কাযা রোজাগুলো রাখবেন। এরপরে শেষের একটি রোজা আরাফার রোজার নিয়তে রাখবেন।
🔲 আরাফার রোজাটি কবে রাখতে হবে.?
🔸 আরাফার রোজা সম্পর্কে হাদীসে পাকে “ইয়াওমে আরাফাহ” অর্থাৎ আরাফার দিনের কথা বলা হয়েছে। আর ইয়াওমে আরাফাহ হচ্ছে যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ। সুতরাং আরাফার রোজাটি রাখতে হবে যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখে।
🔹 সৌদি আরবের একদিন পরে বাংলাদেশে ঈদ হয়। তাই মুহাক্কিক আলেমগনের ফতুয়া হচ্ছে, বাংলাদেশে আরাফার রোজা রাখতে হবে যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ বাংলাদেশে ঈদের আগের দিন। কারন রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো অর্থাৎ ঈদ করো।” [সহীহ বুখারী- ১৯০৯]
⭕ রোযা রাখার জন্য কিভাবে নিয়ত করতে হবে.?
🔸 সাহরী খেয়ে মনে মনে স্মরণ করতে হবে যে, আমি যিলহজ্ব মাসের (নফল) রোজা রাখলাম অথবা রোজা রাখার নিয়ত করলাম। এছাড়া আরবীতে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ত করার প্রয়োজন নেই।
🔲 সাহরী না খেয়ে রোযা রাখা যাবে.?
🔹 সাহরী খাওয়া সুন্নত এবং ফজিলতপূর্ণ একটি সওয়াবের কাজ। তাই সাহরী খেতে না পারলেও রোজা রাখার নিয়ত করে ঘুমালে কিংবা ঘুম থেকে উঠে নিয়ত করে নিলে রোজা রাখা যাবে, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তাই সাহরীতে এক ঢোক পানি হলেও পান করা উচিত। আর রোজারত অবস্থায় ভুলক্রমে কিছু খেয়ে ফেললে এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
⭕ ঈদের আগের দিন রোযা রাখা হারাম.?
🔸 বছরে ৫ দিন রোযা রাখা হারাম। ১) ঈদুল ফিতরের দিন এবং ২) ঈদুল আযহার প্রথম ৪ দিন। অর্থাৎ যিলহজ্ব মাসের ১০,১১,১২,১৩ তারিখ রোজা রাখা হারাম। এছাড়া অন্য যেকোনো দিনই রোজা রাখা বৈধ তথা হালাল।
🔲 যিনি কুরবানী করবেন না তিনিও কি রোযাগুলো রাখতে পারবেন.?
🔹 জ্বী, এই রোযাগুলো হচ্ছে নফল। কুরবানী করা কিংবা না করার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই কুরবানী না করলেও রোযাগুলো রাখা যাবে ইন শা আল্লাহ।
⭕ যারা কুরবানী করবেন তারা চুল, নখ, অবাঞ্চিত পশম ইত্যাদি কবে কাটবেন.?
🔸 যারা কুরবানী করবেন তাদের জন্য সুন্নত হচ্ছে, যিলহজ্ব মাস শুরু হওয়ার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত চুল, নখ, অবাঞ্চিত পশম কোনো কিছু না কাটা। তাই এই আমলটি করতে হলে যিলহজ্ব মাস শুরু হওয়ার পূর্বে [অর্থাৎ আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই] সব কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিতে হবে ইন শা আল্লাহ।
🔲 তাকবীরে তাশরীক কি.?
🔹 তাকবীরে তাশরীক হলঃ-
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ،
وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ ﻭ ﻟِﻠّﻪ الحَمْدُ
“আল্ল-হু আকবার আল্ল-হু আকবার লা~ ইলাহা ইল্লাল্ল-হু,
ওয়াল্ল-হু আকবার আল্ল-হু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ”
⭕ তাকবীরে তাশরিক কখন পাঠ করতে হবে.?
🔸 প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষ সকলের উপর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব এবং একাধিকবার পাঠ করা মুস্তাহাব। পুরুষেরা উচ্চস্বরে এবং মহিলারা নিম্নস্বরে তাকবীরটি পাঠ করবেন।
🔲 কোন ওয়াক্ত থেকে কোন ওয়াক্ত পর্যন্ত তাকবীরটি পাঠ করতে হবে.?
০৯ যিলহজ্জ = [ফজর+যোহর+আসর+মাগরিব+ইশা]
১০ যিলহজ্জ = [ফজর+যোহর+আসর+মাগরিব+ইশা]
১১ যিলহজ্জ = [ফজর+যোহর+আসর+মাগরিব+ইশা]
১২ যিলহজ্জ = [ফজর+যোহর+আসর+মাগরিব+ইশা]
১৩ যিলহজ্জ = [ফজর+যোহর+আসর = ২৩ ওয়াক্ত]
🔹 সর্বমোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর পুরুষেরা উচ্চস্বরে এবং মহিলারা নিম্নস্বরে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করবেন।
⭕ কুরবানীর সাথে আকিকা দেওয়া যাবে.?
🔸 জ্বী, কুরবানীর সাথে আকিকা দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে কুরবানীর পশু কেনার পূর্বেই আকিকার নিয়ত করতে হবে। আর গরু কুরবানীর ক্ষেত্রে ছেলের জন্য ২ অংশ এবং মেয়ের জন্য ১ অংশ ধরতে হবে।
🔹 তবে আকিকার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্তানের মঙ্গল কামনা করা। সন্তান জন্মের ৭ দিনের দিন আকিকা করা হচ্ছে সুন্নত। আর যিনি কুরবানী করতে পারেন তিনি চাইলে একটু কষ্ট করে (আলাদাভাবে) আকিকাও করতে পারেন। তাই সুন্নত পদ্ধতি হলো ৭ দিনের দিন আলাদাভাবে গরু কিংবা ছাগলের মাধ্যমে আকিকা করা।
🔲 সাহরি, ইফতারের সময়সূচী কিভাবে জানতে পারবো.?
🔸 নামাজ, রোজা, সাহরী ও ইফতারের সময়সূচী জানার জন্য সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য ২ টি এপ্স হচ্ছে “মুসলিম ডে” এবং “মুসলিম বাংলা”। তাই এই ২ টি এপ্স অনুসরণ করা যেতে পারে। এই এপ্সগুলোতে চাঁদ অনুযায়ী নিয়মিত নামাজ, সাহরী ও ইফতারের সময়সূচী জানিয়ে দেওয়া হয়।
⭕ যারা প্রবাসে থাকেন তারা কবে থেকে এই রোজাগুলো রাখবেন.?
🔹 আপনারা যারা দেশের বাহিরে থাকেন, তারা সেই দেশের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে রোজাগুলো রাখবেন।
🔲 আমলের নিয়তে এবং দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে লিখাটি কপি করে এবং ছবিটি সেভ করে নিজ নিজ আইডি, স্টোরি এবং গ্রুপগুলোতে পোষ্ট করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।
🔸 এতে করে যতজন মানুষ আপনাদের উছিলায় আমলগুলো সম্পর্কে জেনে আমল করতে পারবে তাদের আমলের সম-পরিমান সওয়াব আপনাদের আমল নামাতেও লিপিবদ্ধ করা হতে থাকবে ইন শা আল্লাহ 💝✅