11/11/2025
হযরত খাজা শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)
-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-
কথিত আছে তিনিই হুজুর খাজা গরিবে নেওয়াজ (রহ.) এর দাদা পীর শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)
শাহ শরীফ জিন্দানীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) ছিলেন চিশতিয়া তরিকার একজন সুফি সাধক।
নাম: শাহ শরীফ জিন্দানী। তিনি নুরুদ্দিন নামেও পরিচিত ছিলেন।
জন্ম ও মৃত্যু: তাঁর জন্ম আনুমানিক ১০৯৮ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের জান্দানাহ নামক শহরে এবং তিনি ১০ নভেম্বর ১২১৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
আধ্যাত্মিক ধারা: তিনি চিশতিয়া তরিকার ১৩তম ধারা এবং খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দাদা পীর অর্থাৎ উসমান হারুনী-এর পীর ছিলেন।
🗺️ সিরাজগঞ্জের সঙ্গে সংযোগ :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামে করতোয়া নদীতটে তাঁর মাজার শরীফ অবস্থিত। এই মাজারকে কেন্দ্র করে তাঁর ধর্মীয় প্রভাব ও ঐতিহাসিক কিংবদন্তি প্রচলিত।
কিংবদন্তি ও ইসলাম প্রচার :
কথিত আছে- হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) সে সময়কার নওগাঁ অঞ্চলের অত্যাচারী রাজা ভানুসিংহ এর অপকর্মের কথা শুনে এখানে আসেন। তিনি অলৌকিকভাবে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে সর্প পরিবেষ্টিত হয়ে কালী মন্দিরের সামনে উপস্থিত হন। এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে রাজা ভানুসিংহ ভয়ে পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে সপরিবারে আত্মবিসর্জন দেন।
এরপর হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) নওগাঁ জয় করেন, কালী মন্দিরের মূর্তি অপসারণ করে সেখানে খানকাহ স্থাপন করেন।
তিনি নতুন ইসলাম গ্রহণকারীদের নিয়ে একটি দল গঠন করেন এবং চলন বিলের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত দেন।
ঐতিহাসিক মসজিদ :
তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই আস্তানার কাছেই ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে (৯৩২ হিজরী) গৌড়াধিপতি সুলতান নসরত শাহ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট শাহী মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
৫০০ বছরেরও অধিক পুরোনো এই মসজিদটি আজও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান।
বার্ষিক ওরশ মোবারক :
প্রতি বছর চৈত্র মাসের প্রথম বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার এই মাজার শরীফে তিন দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই ওরশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে।
Copy