Islam,Science & The Destruction Of Atheism

Islam,Science & The Destruction Of Atheism Salam to all. We work to supress Atheism & all Modernity In sha Allah.

❣️
15/05/2022

❣️

★RNA ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস এর ব্যর্থতা

আরএনএ ওয়ার্ল্ড থিওরিস্টরা পরামর্শ দেন যে যদি প্রথম স্ব-প্রতিলিপিকারী ( সেল্ফ রেপ্লিকেটিং) জীবন RNA-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, তাহলে এটির দৈর্ঘ্যের জন্য ২০০ থেকে ৩০০ নিউক্লিওটাইডের মধ্যে একটি অণুর প্রয়োজন হত।[12] যাইহোক, এমন কোন রাসায়নিক বা ভৌত আইন নেই যা এই নিউক্লিওটাইডগুলির ক্রম নির্দেশ করতে পারবে।[13]

বইঃ Origin of Life: An Unsolved Problem
লেখকঃ আসিফ মেহেদী
প্রকাশনীঃ দৃষ্টিকোণ
পৃষ্ঠাঃ ১২

Stay with us!
05/05/2022

Stay with us!

আস-সালামু আলাইকুম।

বস্তুবাদ নিয়ে আগামী ৬/০৫/২০২২ রাত ১০ঃ০০ টায় Faith and Theology লাইভ ডিবেইট নিয়ে আসছে।
টপিকঃ Theistic vs Materialistic Worldview ; Which is the best explanation?

আলোচনা করবেনঃ আসিফ মেহেদি এবং শাহিনুর ইসলাম।

সবাইকে লাইভটি দেখার আমন্ত্রণ রইলো।
আমাদের ওয়েবসাইটঃ https://faith-and-theology.com/

02/05/2022
নতুন পিডিএফ বই। রিভিউ আশা করছি। নামঃ Origin Of Life: An Unsolved Problem পৃষ্ঠাঃ ১৭ লিংকঃ https://cutt.ly/FGtDxQfপ্রাণের...
23/04/2022

নতুন পিডিএফ বই। রিভিউ আশা করছি।

নামঃ Origin Of Life: An Unsolved Problem
পৃষ্ঠাঃ ১৭

লিংকঃ https://cutt.ly/FGtDxQf

প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে সমসাময়িক মডেলসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

হ্যাপি রিডিং🥀

  ★ভৌত জ্যোতির্বিদ্যার উত্থান ★কার্টেসিয়ান ঘূর্ণিঃটাইকো ব্রাহের মহাজাগতিক ভূকেন্দ্রিক মডেলের ওভারল্যাপিং বৃত্তগুলি  অ্য...
16/04/2022



★ভৌত জ্যোতির্বিদ্যার উত্থান

★কার্টেসিয়ান ঘূর্ণিঃ

টাইকো ব্রাহের মহাজাগতিক ভূকেন্দ্রিক মডেলের ওভারল্যাপিং বৃত্তগুলি অ্যারিস্টটলীয় ধারণাগুলির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি করেছে। যদি ব্রাহে সঠিক হয় এবং গ্রহের কক্ষপথ একে অপরকে অতিক্রম করে তবে তারা স্থির থাকতে পারবে না।

রেনে দেকার্ত তার ১৬৪৪ সালে প্রকাশিত ❝Principia Philosophia❞ তে এই সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ডেকার্টেস সিস্টেমে, অ্যারিস্টটলের মতো, মহাবিশ্ব ছিল পদার্থে পূর্ণ, খালি স্থান বলে কিছু ছিল না। গতি ব্যাখ্যা করতে দেকার্ত বাড়তি অংশ হিসেবে ঘূর্ণি ধারণার প্রবর্তন করেন।দেকার্তের সিস্টেমে বিভিন্ন ধরণের উপাদান বা উপাদান একে অপরের সাথে ঘর্ষণের জন্য গঠিত। তার মডেলে তিনটি ভিন্ন ধরণের উপাদান অন্তর্ভুক্ত ছিল: আলোকিত, স্বচ্ছ এবং অস্বচ্ছ। আলোকিত ছিল সবচেয়ে ছোট ;তারাগুলি আলোকিত উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছিল। পৃথিবী এবং গ্রহগুলি ঘন অস্বচ্ছ বস্তু দিয়ে তৈরি হয়েছিল। গ্রহ এবং নক্ষত্রের মধ্যকার স্থানটি স্বচ্ছ দিয়ে তৈরি ছিল তিনি বলেছিলেন যে লুমনিয়াস এই ঘূর্ণিগুলির কেন্দ্রে অবস্থান করবে এবং স্বচ্ছ এবং অস্বচ্ছ উপাদানগুলি একে অপরের চারপাশে স্থানান্তর করতে থাকবে। এই স্থানান্তর স্বর্গে ( মহাকাশে) বস্তুর চলাচলের সৃষ্টি করেছিল।

★কার্টেসিয়ান ভোর্টিসের জনপ্রিয়তাঃ (১)

দেকার্তের ঘূর্ণি তত্ত্ব জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের জন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলির একটি সিরিজ সমাধান করেছে। কঠিন স্ফটিক গোলকের অ্যারিস্টটলীয় ধারণাগুলো অক্ষত রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। ডেসকার্টস "ঘূর্ণন তত্ত্ব" কে স্বর্গের (মহাকাশের) গতিবিধি ব্যাখ্যা করার জন্য একটি নতুন প্রক্রিয়া হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন এবং নতুন জ্যোতির্বিদ্যাকে সমর্থন করার জন্য একটি অন্তর্নিহিত তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, ঘূর্ণি সম্পর্কে ডেসকার্টের ধারণাগুলি মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে চিন্তা করার উপায় হিসাবে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছিল।

স্বর্গকে ( মহাকাশকে) বর্ণনা করার এই পদ্ধতিটি একটি তাত্ত্বিক দর্শন হিসাবে কাজ করেছিল, কিন্তু বাস্তবে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ভাল ছিল না। অদূরদর্শীতে, দেকার্তের ঘূর্ণি একটি কোপারনিকান সূর্য কেন্দ্রিক তত্ত্বের অন্তর্নিহিত দর্শন হিসাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ভূমিকা পালন করেছিল, কিন্তু এই কাজের খুব কম ধারণাই অব্যাহত রয়েছে। ঘূর্ণি মডেলটি এই ধারণাটিকে এগিয়ে নিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল যে তারা নিজেই একেকটা সূর্য এবং এই সূর্যকে প্রদক্ষিণকারী বহু গ্রহ থাকতে পারে।

★নিউটনের প্রিন্সিপিয়া এবং সার্বজনীন মহাকর্ষের ধারণাঃ

আইজ্যাক নিউটনের ১৬৮৭ সালে প্রকাশিত (Mathematical Principles of Natural Philosophy) সাধারণত প্রিন্সিপিয়া হিসাবে পরিচিত, এটি প্রায়শই ভৌত বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলির মধ্যে একটি হিসাবে উল্লেখ করা হয়। যেখানে ডেসকার্টস তার ঘূর্ণি তত্ত্বের সাথে কীভাবে একটি সূর্য কেন্দ্রিক মডেল কাজ করতে পারে তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, নিউটন গাণিতিক আইনের একটি সেটে মহাজাগতিক একটি যান্ত্রিক মডেল অফার করেছিলেন।

১৬৬০-এর দশকে নিউটন কেপলারের গ্রহের গতির নিয়ম অন্বেষণ করেছিলেন। চাঁদের কক্ষপথ নিয়ে কাজ করে তিনি মোটামুটিভাবে এই ধারণাটি নিশ্চিত করেছিলেন যে বস্তুর উপর কাজ করার শক্তি বস্তুর মধ্যে দূরত্বের বর্গ দ্বারা বিপরীতভাবে হ্রাস পায়। অর্থাৎ, বস্তুগুলি একে অপরের যত কাছে থাকে ততই একে অপরের প্রতি টান পড়ে। যদিও প্রাপ্ত উপাত্ত গুলো তার ধারণাগুলি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে শক্তিশালী ছিল না এবং তিনি তার আবিষ্কারের বিশ বছর পর পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ করেননি।

১৬৮৪ সালে নিউটন জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন ফ্ল্যামস্টিডের কাছে বৃহস্পতির চাঁদের কক্ষপথের তথ্য চেয়েছিলেন। তিনি যে জিনিসগুলি জানতে চেয়েছিলেন তার মধ্যে একটি হল বৃহস্পতি শনির কক্ষপথকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনও প্রমাণ আছে কিনা। প্রশ্নটি মহাকর্ষের অন্তর্নিহিত সর্বজনীন তত্ত্ব সম্পর্কে নিউটনের বিকাশশীল ধারণাগুলির দিকে ইঙ্গিত করেছে। তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে একটি গ্রহ অন্য গ্রহকে টানছে কিনা।

★উইলিয়াম হার্শেল এবং স্বর্গের নির্মাণঃ

নিউটনীয় সৌরজগত বৃহত্তর নাক্ষত্রিক সিস্টেমের জন্য একটি মডেল অফার করেছিল। নক্ষত্রের বিন্যাস গ্রহের মতোই হতে পারে। তদ্ব্যতীত, নিউটনিয়ান সিস্টেম সাদৃশ্যমূলক একটি ডিস্ক গঠনের জন্য (মহাকাশের) একটি প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা প্রদান করে। গ্রহের গতি লাভের কারণ সহ নানা ধরনের প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য এই মডেল টি প্রস্তাব করা হয়।

১৮ শতকের শেষের দিকে, ইংরেজ অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেলের চালানো গবেষণায় শেষ পর্যন্ত একটি বৃহত্তম উপায়ে নাক্ষত্রিক সৃষ্টিতত্ত্বের মডেল পাওয়া যায়। তার আবিস্কারগুলো করা হয়েছিল তার নির্মিত বিশাল আকৃতির টেলিস্কোপ দ্বারা। তার ১৭৮৫ সালের গবেষণাপত্র "On The Construction Of The Heavens" এ লিখেছিলেন যে আমাদের মিল্কিওয়ে একটি খুব বিস্তৃত, শাখাবিশিষ্ট, বহু মিলিয়ন নক্ষত্রের যৌগিক সমষ্টি।

হার্শেল নক্ষত্রের স্তরে সৌরজগতের অবস্থান নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিলেন "আকাশকে 'গ্যাজিং' করে" অর্থাৎ বিভিন্ন দিকের তারার সংখ্যা গণনা করে। এই সংখ্যা নিয়ে হার্শেল যুক্তি দিয়েছিলেন, নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা সমান এবং সমানভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, প্রতিটি নির্দিষ্ট দিকে আমাদের গ্যালাক্সির প্রান্তের দূরত্বের সমানুপাতিক হবে। যৌক্তিকভাবে সঠিক হলেও, তার সময়কালে তার পদ্ধতিটি ব্যবহার করে মিল্কিওয়ের একটি সত্যিকারের ছবি পাওয়া যায় নি। কারণ তার টেলিস্কোপ আমাদের ছায়াপথের সবচেয়ে দূরবর্তী প্রান্তে থাকা সাধারণ তারাদের সনাক্ত করতে পারেনি।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে , হার্শেলের অনুমানমূলক সৃষ্টিতত্ত্ব অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তার অনুমানকে গ্রহণ করতে পারেননি যে তারার উজ্জ্বলতা সমান, যদিও তারার দূরত্ব অনুমান করার জন্য এটি একটি কার্যকরী পদ্ধতি হিসাবে প্রয়োজনীয় ছিলো।

অসাধারণ নতুন পর্যবেক্ষণ কৌশল, ফটোগ্রাফি এবং স্পেকট্রোস্কোপি, মহাজাগতিক প্রশ্নগুলির সমাধান করেছে। ১৮৩৫ সালে, বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক August Comte মন্তব্য করেছিলেন মানুষ কখনই তারার রাসায়নিক গঠন বুঝতে সক্ষম হবে না। তিনি শীঘ্রই ভুল প্রমাণিত হন, কারণ বর্ণালীবিদ্যা এবং ফটোগ্রাফি মহাজাগতিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে মানুষের বোঝার ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব এনে দিয়েছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান বিপ্লব ছিল, কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শুধুমাত্র নক্ষত্রগুলি কোথায় ছিল তা নয় কিন্তু তারা কী ছিল তাও নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে , হার্শেল যে বিশ্বদর্শন প্রবর্তিত করেছিলেন তা অ্যারিস্টটল বা এমনকি কোপার্নিকাসের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। মানুষ আর অগত্যা পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থান করত বলে ভাবতো না। আমাদের সৌরজগৎ অনেক বড় বড় নক্ষত্রের মধ্যে নিমজ্জিত, মোটামুটিভাবে ডিস্ক-আকৃতিরএকটি নাক্ষত্রিক সিস্টেম। সম্ভবত অসীম বিশ্বের অসীম নাক্ষত্রিক জগতের একটি মাত্র জগত আমাদের সৌরজগত।


রেফারেন্সঃ

1. Renati Des-Cartes Principia philosophiae.

2. Philosophiae naturalis principia mathematica. Newton, Isaac, 1642-1727.

A synopsis of the universe, or, the visible world epitomiz'd, 1742

★হিউম্যানিজম-  মানবতার আড়ালে শিরক  ও কুফরি মতবাদ__ ©️Asief Mehediমানবতাবাদী চিন্তা শুরু হয়েছিল প্রাচীন গ্রীসে। গ্রীক দা...
13/04/2022

★হিউম্যানিজম- মানবতার আড়ালে শিরক ও কুফরি মতবাদ__

©️Asief Mehedi

মানবতাবাদী চিন্তা শুরু হয়েছিল প্রাচীন গ্রীসে। গ্রীক দার্শনিক প্রোটাগোরাস বলেন, ❝ Man is the measure of all thing❞

অর্থাৎ, ‘মানুষই সব কিছুর মাপকাঠি।’

সে নিরিখে মানুষ হচ্ছে জগতের কেন্দ্রবিন্দু। প্রাচীন গ্রীকো-রোমান সংস্কৃতিতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ছিল মানবকেন্দ্রিক ও ইহজাগতিক। ‘রেঁনেসা আমল’-এ এয়ুরোপীয় পণ্ডিতগণ কর্তৃক ল্যাটিন এবং গ্রীক ভাষার বইপুস্তকগুলো পুনঃআবিষ্কারের ফলে এ মতবাদ আবার এয়ুরোপীয় সমাজে প্রচার হওয়া শুরু করে। মানবতাবাদের এই পুরো ধারণাই এসেছে চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতকে এয়ুরোপিয় রেঁনেসার হাত ধরে। আর এ চিন্তাধারার মারফতে সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে এয়ুরোপে আলোকায়ন আন্দোলন (Enligtenment movement) অনুপ্রাণিত হয়। মানবতাবাদের অনেকগুলো ঘরনা আছে। যেমন—সেক্যুলার মানবতাবাদ, ধর্মীয় মানবতাবাদ, রেনেসাঁস মানবতাবাদ, মার্কসীয় মানবতাবাদ ও উত্তর-মানবতাবাদ। সাধারণত, ‘মানবতাবাদ’ পরিভাষাটি দিয়ে ডিফল্টভাবে সেক্যুলার মানবতাবাদকে বুঝানো হয়।

হিউম্যানিজমের /মানবতাবাদের ধারণা অনুযায়ী মানুষের প্রকৃত অবস্থান বান্দা নয়; বরং স্বাধীন (autonomous) এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা (self- determined)। সেক্যুলারিজম খুব জোরেশোরে দাবি করে যে, ন্যায়ভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের জন্য আমাদের Humanity তথা মানবতার ভিত্তিতে ভাবা শিখতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ, পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। অর্থাৎ সমাজব্যবস্থার ভিত্তি এমন কোনো বিষয় হতে হবে, যেটা আমাদের সবার মাঝেই আছে। আর সেটা হলো "মানবতাবাদ"। পশ্চিমা বিশ্ব এই ধারণাকে ‘Human Rights ’ নাম দিয়ে একটি পৃথক ধর্ম বানিয়ে নিয়েছে। আর পুরো পৃথিবীকে তারা নিজেদের বানানো এই মাপকাঠি দিয়েই বিচার করে।

প্রাককথন হলো কিভাবে এই ধারণা কে ভুল প্রমাণ করা যায়? " মানবতাবাদীদের মুল ভিত্তি হচ্ছে মানুষ ই জগতের কেন্দ্রবিন্দু। " সহসা কথাটি উগ্রে দিতে পারলেও এটির প্রমাণ /Burden of proof কিন্তু তাদের ঘাড়ে। প্রথমত হিউম্যানিজম বা মানবতাবাদ কে কখনো অবজেক্টিভ ভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। মানবতাবাদের ভিত্তি একমাত্র মানুষ। আর এই ভিত্তি সকলের জন্য এক নয় বরং এটি৷ ব্যাক্তিগত বিষয় এ পরিণত হয়। সব মানুষের সব ক্ষেত্রে আইডিওলজি তথা প্রজ্ঞা / চিন্তা কখনোই এক হবে না। দ্বিমত থাকবেই। সুতরাং মানবতার ভিত্তি বা স্ট্যান্ডার্ড কে প্রমাণের প্রচেষ্টা খুব যে ফলপ্রসূ হবে না তা বলাই বাহুল্য।

দ্বিতীয়ত, মানুষ কখনোই জগতের কেন্দ্রবিন্দু নয় বরং একজন স্রষ্টা রয়েছেন যিনি এই মহাবিশ্ব এবং আমাদের সৃষ্টি করেছেন তারই ইবাদত এ জন্য। মনোথিস্টিক গড/ একেশ্বরবাদী স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা বা অস্তিত্বে থাকা খুব জটিল বা অমুলক কিছু নয়। বরং আজ আমরা জানি স্রষ্টার অস্তিত্ব Axiomatic বা স্বতঃসিদ্ধ। [1]

এছাড়াও আমরা যৌক্তিক আলোচনার সাহায্যে সহজেই একটি কনক্লুশনে যেতে পারি মহাবিশ্ব স্রষ্টার দান এ নিয়ে। [2]

সুতরাং এটি এখন সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত আল্লাহ মহাবিশ্বের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, এবং তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদাতের জন্য। এবং আমরা যা করছি তার হিসাব দিতে হবে।

“God controls whatever exists in the heavens and on the earth, and He has power over all things.” (Al-Maidah, 5: 120)

“Men at all times are in need of God, and it is He alone Who is utterly free of need.” (Fatir. 35: 15)

“Man was created weak and
impotent.” (An-Nisa, 4: 28)

“Certainly you are accountable for what you do.” (An-Nahl, 16: 93

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে আমরা তথা মানবজাতি সৃষ্টি হয়েছি একজন স্রষ্টার "আবদ" বা গোলাম হিসেবে তার গোলামি করতে, আদেশ নিষেধ মেনে চলতে। সুতরাং এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে আমাদের তথা মানবজাতির মূল সত্তাগত অবস্থান হচ্ছে আমরা "আবদ" ( Servants) এবং "মানুষ" পরিচয় টা হচ্ছে আমাদের গোলামি বা আমলের প্রকাশের সেরা উপায় বা পন্থা। এজন্য আমাদের ইনসানিয়াত তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ইসলাম অনুযায়ী হবে। মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন,

‘যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।’ [সুরা আলি ইমরান, ৩ : ৮৫]

‘আল্লাহর কাছে একমাত্র দীন হল ইসলাম।’ [সুরা আলি ইমরান, ৩ : ১৯]

এছাড়াও নাস্তিক এন্ড্রো ব্রাউন যুক্তি দেখিয়েছেন যে নাস্তিকদের জন্যেও হিউম্যানিজম তথা মানবতাবাদ একটি অসম্ভব স্বপ্নই মাত্র কেননা মানবতাবাদ নিজেই একটি ধর্ম! [3]

সুতরাং নিজের ধর্ম পরিচয় বাদ রেখে হিউম্যানজম তথা মানবতাবাদের বুলি আওড়ানো অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়।

Reference:

[1]https://www.newscientist.com/article/mg21328562-000-the-god-issue-we-are-all-born-believers/

*https://www.nature.com/articles/ng1204-1241

[2https://personal.lse.ac.uk/ROBERT49/teaching/ph103/pdf/Craig_KalamCosmologicalArgument.pdf

[3]https://www.theguardian.com/commentisfree/andrewbrown/2012/oct/25/humanism-impossible-dream

https://engineering.purdue.edu/~zak/Walt.pdf

  ★গ্যালিলিও এবং টেলিস্কোপ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবন মহাবিশ্বে পৃথিবীর অবস্থান সম্পর্কে আমাদের বোঝার অগ্রগতিতে একটি গুর...
11/04/2022



★গ্যালিলিও এবং টেলিস্কোপ

দূরবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবন মহাবিশ্বে পৃথিবীর অবস্থান সম্পর্কে আমাদের বোঝার অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যদিও প্রমাণ রয়েছে যে টেলিস্কোপের প্রধানগুলি ১৬ শতকের শেষের দিকে পরিচিত ছিল, প্রথম টেলিস্কোপগুলি ১৬০৮ সালে নেদারল্যান্ডে তৈরি হয়েছিল। চশমা নির্মাতা হ্যান্স লিপারশে এবং জাকারিয়াস জানসেন এবং জ্যাকব মেটিয়াস স্বাধীনভাবে টেলিস্কোপ তৈরি করেছিলেন। রজার বেকন এবং ইসলামিক বিজ্ঞানীদের একটি সিরিজ, বিশেষ করে আল-কিন্দি (আনুমানিক ৮০১-৮৭৩ ), ইবনে সাহল ( ৮০১-৮৭৩), চশমা এবং অপটিক্স বিজ্ঞানের উন্নয়নের চারপাশে কারুশিল্প এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের একটি ঐতিহ্য থেকে টেলিস্কোপটি উদ্ভূত হয়েছিল। প্রথম দিকের টেলিস্কোপগুলি প্রাথমিকভাবে জরিপ এবং সামরিক কৌশলের মতো পৃথিবীর ভেতরকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত হত। গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি ছোট দলের সদস্য যারা স্বর্গের (মহাকাশের) দিকে টেলিস্কোপ ঘুরিয়েছিল। ১৬০৯ সালে "ড্যানিশ পরিপ্রেক্ষিত গ্লাস" সম্পর্কে শোনার পর, গ্যালিলিও তার নিজস্ব টেলিস্কোপ তৈরি করেছিলেন। তিনি পরবর্তীকালে ভেনিসে টেলিস্কোপটি প্রদর্শন করেন। টেলিস্কোপের প্রদর্শন তাকে আজীবন লেকচারশিপ দিয়েছে।

তার প্রাথমিক সাফল্যের পর, গ্যালিলিও যন্ত্রটিকে পরিমার্জিত করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি যে প্রাথমিক টেলিস্কোপটি তৈরি করেছিলেন তা ছিলো (এবং এটির উপর ভিত্তি করে ডাচগুলি ছিল) তিন ব্যাসের বিবর্ধিত বস্তু। অর্থাৎ, এটি খালি চোখে জিনিসগুলির চেয়ে তিনগুণ বড় দেখায়। টেলিস্কোপের নকশা পরিমার্জিত করার মাধ্যমে তিনি একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা আট বার এবং অবশেষে ত্রিশ বার পর্যন্ত বড় করে দেখতে পারে।

গ্যালিলিওর শৈল্পিকভাবে আঁকা স্কেচ থেকে তৈরি চাঁদের খোদাই গুলো পাঠকদের চাঁদে একটি আমূল ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে উপস্থাপন করেছে। রেনেসাঁ শিল্পে গ্যালিলিওর প্রশিক্ষণ এবং chiaroscuro (আলো এবং অন্ধকার ছায়া দেওয়ার একটি কৌশল) বোঝার কারণে তিনি দ্রুত বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি যে ছায়াগুলি দেখছিলেন তা আসলে পাহাড় এবং গর্ত। তার স্কেচ থেকে, তিনি তাদের উচ্চতা এবং গভীরতা অনুমান করেছেন। এই পর্যবেক্ষণগুলি, শুধুমাত্র টেলিস্কোপের বিবর্ধক শক্তি দ্বারা সম্ভব, স্পষ্টভাবে প্রস্তাবিত অ্যারিস্টটলীয় ধারণা যে চাঁদ একটি স্বচ্ছ নিখুঁত গোলক তা ভুল ছিল। চাঁদ আর একটি নিখুঁত স্বর্গীয় বস্তু ছিল না; চাদের বৈশিষ্ট স্পষ্টভাবে পৃথিবীর টপোলজির সাথে বিভিন্ন উপায়ে অনুরূপ ছিল। "চাঁদের পৃথিবীর মতো একটি টপোলজি রয়েছে "এই ধারণা চাঁদে জীবন কেমন হতে পারে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার জন্ম দিয়েছিল। ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী টমাস হ্যারিয়ট, ( ১৫৬০-১৬২১)। ১৬০৯ সালের জুলাই মাসে গ্যালিলিওর এক মাস আগে টেলিস্কোপের মাধ্যমে চাঁদের প্রথম রেকর্ড করা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তাছাড়া, হ্যারিয়ট ১৬১২ বা ১৬১৩ সালে চাঁদের যে মানচিত্র তৈরি করেছিলেন তা গ্যালিলিওর চেয়ে আরও বেশি বিস্তারিত ছিলো। হ্যারিয়ট প্রথমে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, এবং তিনি যে মানচিত্রগুলি তৈরি করেছিলেন তাতে আরও তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু তিনি তার কাজকে বিস্তৃতভাবে বিতরণ করেননি।

★বৃহস্পতির চাঁদঃ

গ্যালিলিও নিত্যদিনের অভ্যাস বশে টেলিস্কোপে চোখ রাখলেন। বৃহস্পতির খুব কাছেই তিন তিনটি নক্ষত্র তার চোখে পড়লো, যার মধ্যে দুটি ছিল বৃহস্পতির পূর্বে আর একটি পশ্চিমে। পরদিন একই সময়ে তিনি একটু অবাক হয়েই লক্ষ্য করলেন নক্ষত্রগুলোর অবস্থানের বেশ খানিকটা পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যাপারটা তাহলে কী? গ্যালিলিও বুঝতে পারলেন এই ঘূর্ণায়মান নক্ষত্রগুলো আসলে বৃহস্পতির চারিদিকে আবর্তনকারী চাঁদ। ১৩ জানুয়ারি তিনি চতুর্থ চাঁদ আবিষ্কার করলেন। তার এই আবিষ্কার বিশ্ববাসীকে জানানোর তাগাদা অনুভব করে ১৬১০ এর মার্চে তিনি Sidereus Nuncius -এ তার পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করেন। প্রথমে গ্যালিলিও তার এই আবিষ্কৃত চাঁদের নাম দেন Cosmica Sidera. পরবর্তীতে জানা যায়, Simon Marius ঠিক এই সময়ে বৃহস্পতির চাঁদ আবিষ্কার করেছিলেন। সিমন ম্যারিয়াস নাম দেন লো, ইউরোপা, গ্যানিমেড, ক্যালিস্টো। গ্যালিলিওর আবিষ্কার বিরোধিতা করলো ‘বিশ্বজগতের কেন্দ্র পৃথিবী ‘ এই প্রাচীন ধারণাকে। সারা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো।

★একটি দাগযুক্ত ঘূর্ণায়মান সূর্যঃ

সূর্য পর্যবেক্ষণে, গ্যালিলিও একটি"অসম্পূর্ণতা" লক্ষ্য করেছিলেন।তিনি সূর্যের দাগ( কলঙ্ক) আবিষ্কার করেছিলেন। সূর্যের উপর এই দাগগুলি পর্যবেক্ষণ করা প্রমাণ করে যে সূর্য আসলে ঘোরে। তদুপরি, ১৬১২ সালে ফ্রান্সেস্কো সিজ্জির পরবর্তী পর্যবেক্ষণগুলি প্রস্তাব করেছিল যে সূর্যের দাগগুলি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছিল। দেখে মনে হবে যে সূর্য, চাঁদের মতো, নিখুঁত গোলক ছিল না যা শিখেছিল ইউরোপীয়রা তাদের মহাবিশ্বের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হিসাবে।

এই সূর্যের দাগগুলি জেসুইট ধর্মযাজক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফ শেইনার (১৫৭৫-১৬৫০) দ্বারা স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। শেইনার ১৬১১ সালে সূর্যের দাগ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং ১৬১২ সালে তার ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন। তাদের কর্মজীবনে গ্যালিলিও এবং শিনার আবিষ্কারের জন্য কৃতিত্ব কাকে দেওয়া উচিত তা নিয়ে বিরোধিতা তৈরি হয়েছিলো। তাদের কারোরই অজানা নয় টমাস হ্যারিয়ট ১৬১০ সালে তাদের পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং জার্মান ধর্মতাত্ত্বিক ডেভিড ফ্যাব্রিসিয়াস এবং তার পুত্র জোহানেস সম্ভবত ১৬১১সালের জুনে তাদের অ্যাপারেন্ট ইয়ারাম কাম সোল কনভার্সিওন ন্যারেশিওর সাহায্যে আবিষ্কারের প্রকাশের জন্য শেনার এবং গ্যালিলিও উভয়কেই মারধর করেছিলেন ।তাদের প্রকাশনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়নি এবং এইভাবে তার সময়েও হেলিওসেন্ট্রিক মডেলের ধারণা অস্পষ্ট ছিল।

রেফারেন্সঃ
Opere di Galileo Galilei.1656. Rare Book & Special Collections division.

Aristotelian cosmology. Three Letters on Sunspots. (1613)

  ★হেলিওসেন্ট্রিক মডেলের উৎপত্তিকোপার্নিকাসকে প্রায়শই একাকী জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসাবে বর্ণনা করা হয় যিনি নির্বিচারে যুক্...
09/04/2022



★হেলিওসেন্ট্রিক মডেলের উৎপত্তি

কোপার্নিকাসকে প্রায়শই একাকী জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসাবে বর্ণনা করা হয় যিনি নির্বিচারে যুক্তি দিয়েছিলেন যে পৃথিবী নয়, সূর্যই মহাবিশ্বের কেন্দ্রে ছিল। জ্যোতির্বিদ্যায় কোপার্নিকাসের অবদান এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ যে এটাকে কোপার্নিকান বিপ্লব বলেও ডাকা হয়।

এই বিপ্লবের গল্পটি বিভিন্ন কারণে সমস্যাযুক্ত। প্রথমত, কোপার্নিসিয়াসের ধারনা যতটা অতীতের সাথে অমিল হয়েছে , ততটাই আধুনিক যুগের জ্যোতির্বিদ্যা এবং পদার্থবিদ্যার তুলনায় তার সমসাময়িকদের সাথে তার মহাজাগতিক মডেলের মিল বেশি। দ্বিতীয়ত, যদিও কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মডেল ছিল বিপ্লবী, এটি ছিল প্রাথমিক আধুনিক এবং নবজাগরণ উদ্ভাবনের একটি সিরিজের অংশ। উদাহরণস্বরূপ, টাইকো ব্রাহে অভূতপূর্ব মাত্রায় পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং তার নিজস্ব প্রতিযোগী মডেল তৈরি করেছেন। একইভাবে, জোহানেস কেপলার উপবৃত্তাকার কক্ষপথের জন্য গাণিতিক মডেল তৈরি করেছিলেন যা অ্যারিস্টোটেলিয়ান সৃষ্টিতত্ত্বের কিছু মূল এজাম্পশনকে চ্যালেঞ্জ করেছিল।

এসব অগ্রগতির দিকে ফিরে তাকালে ঠিক কার বিপ্লব হয়েছিল? অথবা, এই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রত্যেকেই স্বর্গের(মহাকাশের) মডেলিং এবং বোঝার চলমান ঐতিহ্যে কাজ করেছেন, সেখানে কি আদৌ কোনো বিপ্লব ছিল?

১৫৪৩ সালে নিকোলাস কোপার্নিকাস পৃথিবী এবং সূর্যের স্থান পরিবর্তন করার প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি সূর্যকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন এবং পৃথিবীকে সূর্যের চারপাশে স্থাপন করেছিলেন। স্বর্গের( মহাকাশে) প্রতিদিনের গতির হিসাব করার জন্য, তিনি পৃথিবীকে তার নিজের অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণায়মান হিসেবে সেট করেছিলেন। গ্রহের অবস্থান গণনা করার জন্য, কোপার্নিকাস তার গ্রীক এবং ইসলামিক পূর্বসূরীদের মতো বিস্তৃত জ্যামিতিক পরিকল্পনা ব্যবহার করেছিলেন (ঐতিহাসিকরা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন ঠিক কোন উৎসগুলি তার ধারণাগুলিতে অবদান রেখেছে)। সূর্যকেন্দ্রিক মডেল দীর্ঘ-স্থাপিত বিশ্বাসের বিপরীত ছিল এবং অনেকের কাছে অকল্পনীয় বলে মনে হয়েছিল। এই কারণেই কোপার্নিকাস তার বইয়ের মুখবন্ধে লিখেছেন "পৃথিবীর গতি প্রমাণ করার জন্য লেখা তার মন্তব্যগুলি আলোকে দেওয়া উচিত কিনা তা নিয়ে তিনি দীর্ঘকাল দ্বিধা বোধ করেছিলেন।" যদিও, তার বন্ধুরা "প্রায়ই তাকে এই কাজটি প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেছিল। কোপার্নিকাস আশা করেছিলেন যে "আমার শ্রমগুলি চার্চের কমনওয়েলথেও কিছুটা অবদান রাখবে...কোপার্নিকাসের পদ্ধতিতে পৃথিবীর ঘূর্ণন নক্ষত্রের গোলকের ঘূর্ণনের পরিবর্তে নক্ষত্রের পর্যবেক্ষণ গতির কারণ হয়। এখন পৃথিবী আর অনন্য কিছু না। এটি সৌরজগতের অনেক অনুরূপ বস্তুর মধ্যে একটি মাত্র। পৃথিবী যদি অনেক অনুরূপ গ্রহের একটি হয় তবে অন্যান্য গ্রহেরও একই রকম বাসিন্দা থাকতে পারে আমাদের মতো। "প্রচুরতা" এর নীতি, যা প্রকৃতির কোনো অবাস্তব সম্ভাবনাকে স্রষ্টার ক্ষমতা হিসাবে ব্যাখ্যা না করে, বহুবিশ্বের বিশ্বাসকে আরও উৎসাহিত করে।

★জোহানেস কেপলারঃ
কেপলার একটি দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, কেপলার স্কলারশিপ, গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যা অধ্যয়নরত টিবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে জার্মানিতে) যোগদান করেন । লুথেরান মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছায় তিনি ধর্মতাত্ত্বিক বিদ্যালয়ে যান। শীঘ্রই তাকে গ্রাজ (বর্তমানে অস্ট্রিয়াতে) একটি স্কুলে গণিত পড়াতে বলা হয়।

যে তিনি প্লেটোনিক কঠিন পদার্থের উপর ভিত্তি করে তার কুইক্সোটিক বিশ্ব মডেলের কল্পনা করেছিলেন। তত্ত্বটি ভুল ছিল, কিন্তু এটি কেপলারের খ্যাতি এনে দিয়েছিল। টাইকো ব্রাহে ডেনমার্ক থেকে প্রাগে চলে আসার পর, কেপলার সেখানে তাকে দেখতে যান। কেপলার টাইকোর বিশাল পর্যবেক্ষণের ফলাফলগুলো কে স্বীকার করেছেন, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সঠিক। ১৬০১ সালে টাইকোর মৃত্যুর পর তিনি টাইকোর তথ্য এবং সম্রাটের অনুগ্রহ উভয়ই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। ব্রাহের তথ্য অধ্যয়ন করে, কেপলার যা পেয়েছিলেন তা পরবর্তীতে তার প্রস্তাবিত তিনটি আইন হিসাবে বিখ্যাত হয়েছে। কেপলার বিশ্বাস করতেন যে স্রষ্টা একটি সুশৃঙ্খল এবং সুরেলা বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। কেপলার তার প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক সিস্টেমের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, যা টলেমির সিস্টেমের কিছু জটিলতা এবং দার্শনিক ভিত্তিতে, সমস্ত কিছুর কেন্দ্রে ঈশ্বরের সাথে সূর্যের প্রতীকী ( sun as a God) পরিচয় সহ তুলে ধরেছিলেন।

অভিন্ন বৃত্তাকার গতিতে বিশ্বাস দুই সহস্রাব্দ ধরে পশ্চিমা জ্যোতির্বিদ্যার একটি মৌলিক দিক ছিল। ১৭ শতকের প্রথম দিকে এই বিশ্বাস ভেঙ্গে যায়। কেপলার, টাইকোর পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ভ্রমণ করে। কেপলারের তিনটি আইনের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম। এটি 1609 সালে কেপলারের নতুন জ্যোতির্বিদ্যা ❝Astronomia Nova❞ বইতে প্রকাশিত হয়েছিল ।

কেপলার গ্রহের গতির জন্য যে আইন খুঁজে পেয়েছেন তা পৃথিবীর কক্ষপথে সমানভাবে প্রযোজ্য।

★গ্যালিলিও গ্যালিলিঃ

গ্যালিলিও র বাবা তাকে মেডিসিন অধ্যয়ন করাতে চেয়েছিলেন, এবং তিনি পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্ষিপ্তভাবে তা করেছিলেন। কিন্তু গ্যালিলিও গণিত পছন্দ করতেন। তিনি পিসায় এবং তারপর ফ্লোরেন্সে বাড়িতে প্রাইভেট টিউটরদের কাছে পড়াশোনা করেছেন। শীঘ্রই তিনি গণিতের ব্যক্তিগত পাঠ দিচ্ছিলেন এবং পরে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত চেয়ারে নিযুক্ত হন। এখানে বলা হয় যে তিনি হেলানো টাওয়ার থেকে লোহার বল ফেলেছিলেন, অ্যারিস্টটলীয় দার্শনিকদের কাছে একটি পাবলিক চ্যালেঞ্জ হিসাবে, যারা বলেছিলেন যে ভারী বলগুলি দ্রুত নিচে পতিত হওয়া উচিত। অ্যারিস্টটলীয় অধ্যাপকরা গ্যালিলিওর প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন না এবং তিনি শীঘ্রই পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। গ্যালিলিও একটি টেলিস্কোপ তৈরি করেছিলেন এবং আশ্চর্যজনক আবিষ্কারগুলি তৈরি করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্বর্গ (মহাকাশ) অন্বেষণ করতে এই নতুন যন্ত্রটি ব্যবহার করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ১৬১০ সালের প্রথম দিকে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি তাদের নামকরণ করেছিলেন মেডিসিয়ান তারা, টাস্কানির গ্র্যান্ড ডিউক কোসিমো ডি মেডিসি-এর নামানুসারে। পরবর্তীতে ১৬১০ সালে গ্যালিলিও ফ্লোরেন্সে গণিতবিদ এবং দার্শনিক হিসাবে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড ডিউক এবং প্রধান গণিতবিদ হিসাবে শিক্ষাদানের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ফ্লোরেন্সে ফিরে আসেন।

গ্যালিলিও চাঁদে টেলিস্কোপ ঘুরিয়ে যা দেখেছিলেন তার মতে পুরানো ধারণার জন্য এতটা বিরক্তিকর কিছুই ছিল না। চাঁদের পৃষ্ঠ সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণগুলি বিপ্লবী সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত করেছিল যে চাঁদ একটি মসৃণ গোলক নয়, যেমন বিশ্বাস অ্যারিস্টোটেলিয়ানরা বজায় রাখত।

❝চাঁদের পৃষ্ঠটি মসৃণ, অভিন্ন এবং সুনির্দিষ্টভাবে গোলাকার নয় যা অনেক সংখ্যক দার্শনিক পূর্বে বিশ্বাস করেন, তবে এটি অসম, রুক্ষ এবং গহ্বর এবং বিশিষ্টতায় পূর্ণ, পৃথিবীর মুখের মতো নয়❞

-গ্যালিলিও গ্যালিলি

Reference:

1. Mysterium Cosmographicum (The Cosmographic Mystery, 1596),

2. De revolvtionibus orbium cœlestium

3. De Nova stella, anni 1572 (New star discovered in 1572 by Tycho Brahe in the constellation Cassopeia.)

4. What Harry and Nelly discovered in the heavens. 1876, p.135. General Collections

5. Astronomia nova, 1609 [1968].

★ নাস্তিকতাবাদ নাস্তিকতার অর্থ হচ্ছে মরো। আমাদের বেচে থাকার কোন উদ্দেশ্য নেই। নাস্তিকীয় দর্শনে কোনোকিছু পরম ভালো বা মন্দ...
06/04/2022

★ নাস্তিকতাবাদ

নাস্তিকতার অর্থ হচ্ছে মরো। আমাদের বেচে থাকার কোন উদ্দেশ্য নেই। নাস্তিকীয় দর্শনে কোনোকিছু পরম ভালো বা মন্দ বলে নির্ধারণ করা যায় না। কারণ এক্ষেত্রে একটি স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ডের দরকার হয়। নাস্তিকদের ক্ষেত্রে এমন কোনো মানদণ্ড নেই—তাদের কারও কাছে মানদণ্ড হলো বিবেক, কারও কাছে সমাজের চল; এসবই পুরোপুরি আপেক্ষিক। এক সময়ে যা ভালো, অন্য সময়ে তা খারাপ হয়ে যায়; এক সমাজে যা ভালো অন্য সমাজে তা মন্দ বলে নিন্দিত হতে পারে। তাই বস্তুবাদী দর্শনে মূলত ভালো-মন্দ বলে কিছু নেই। স্রষ্টার অনুপস্থিতিতে কারও ভালো হতে চাওয়ার কোনো ভিত্তি নেই। স্যাপিয়েন্স পড়তে গিয়ে দেখি, নাস্তিক ইউভাল নোয়াহ হারারি বলেছেন :

মহাবিশ্বে কোনো দেবদেবী নেই, জাতি বলতে কিছু নেই, নেই কোনো অর্থকড়ি, টাকাপয়সা, মানবাধিকার বলে কিছু নেই, আর নেই কোনো আইন ও সুবিচার। এগুলো কেবল মানুষের সমষ্টিগত কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয় ।

YUVAL NOAH HARARI, SAPIENCE: A BIEF HSTORY OF HUMANKIND; P. 31

অর্থাৎ স্রষ্টার অস্তিত্ব না থাকলে ভালো-মন্দ নিয়ে নিশ্চিত জাজমেন্ট দেয়ার চেষ্টা অর্থহীন। তথাকথিত মানবতাবাদিদের মানবাধিকারের বুলি, আইন-সুবিচারের ধারণা, ভালো/মন্দের কথকতা এগুলো সব কল্পনা। বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির সুবিধার জন্য মানুষ এসব বানিয়েছে। যদি শুধু প্রকৃতিই সবকিছু হয় তাহলে ভালো যেমন অর্থহীন, মন্দও তেমনই অর্থহীন।

নোবেলজয়ী দার্শনিক জ্যাঁ পল সারত্রে’র উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ফরাসি লেখক এন্টোনি রোকুয়েন্টিন-এর ভাষায় বললে,

কথা কিন্তু সত্যি। আমি এমনটিই বুঝতে পেরেছি যে আমার বেঁচে থাকার কোনই অধিকার নেই। (বস্তুবাদ অনুযায়ী) আমার অস্তিত্ব ঘটেছে আকস্মিকভাবে। আমি মানুষ না হয়ে পাথত, গাছ কিংবা জীবাণু হিসেবে অস্তিত্বলাভ করতে পারতাম।… আমি চিন্তা করছিলাম… এই যে আমরা এই পৃথিবীতে খানাপিনা করে বেড়াচ্ছি আমাদের মূল্যবান অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু এ বেঁচে থাকার তো কোন কারণই নেই, একদম না।

JEAN PAUL SARTRE, NAUSEA. P. 162

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islam,Science & The Destruction Of Atheism posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Islam,Science & The Destruction Of Atheism:

Share