02/07/2025
আমি বলি জগন্নাথ দেব সম্প্রীতির ভগবান। কারণটা জেনে নিন।
আপনারা জানেন ভগবানের কাছে কোন ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু, জাতপাত নেই,তবুও এই জড় জগতে মানুষ নিজেদের স্বার্থের জন্য ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। ভগবানের কাছে এই ধরনের মনোভাবের কোন স্থান নেই, কিভাবে? এই জগন্নাথের লীলা থেকে বলছি।
নীলাদ্রি পর্বত থেকে যখন নীল মাধবকে পাওয়া গেল না,তখন রাজা ইন্দ্রাদুম্ন নিজের দোষের কথা চিন্তা করে ভাবতে লাগলেন, আমার অহংকারের কারণে আমি ভগবান কে হারিয়েছি। তাই আমি আর এই জীবন রাখবো না, তিনি প্রাণ ত্যাগ করার জন্য সংকল্প করলেন। সেই রাতেই ভগবান রাজা কে স্বপ্নে দৈব বাণী করলেন। হে রাজন, যেহেতু তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছ তাই আমি তোমার কাছে আসবো। তুমি মন দিয়ে আমার কথাগুলো শোনো, আগামীকাল যখন তুমি ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান করতে যাবে, তখন আমি তোমার কাছে দারু ব্রহ্ম রূপে আবির্ভূত হব। তখন সেই দারু ব্রহ্ম দিয়ে তুমি বিগ্রহ বানিয়ে আমার পূজা করো। স্বপ্নে আদিষ্ট হলে মহারাজ ইন্দ্রধূম্ন পরের দিন ব্রাহ্মমুহূর্তে যখন নদীতে স্নান করতে গেলেন,তখন তার মস্তকে স্পর্শিত হলো এক দারুব্রহ্ম। তা তিনি নদীর পাড়ে উঠিয়ে রাখলেন কিন্তু কোনোভাবেই তিনি ওই দারু ব্রহ্মকে নিজের চেষ্টায় নিয়ে আসতে পারেন নি। তখন তিনি খবর পাঠালেন মন্ত্রী নিকট। মন্ত্রী হাতি,ঘোড়া, অনেক পদাতিক সৈন্য মিলেও সেই দারু ব্রহ্মকে এক চুলও নড়াতে পারলেন না। হতাশ হয়ে মহারাজ চিন্তা করতে লাগলেন,কেন এ দারুব্রহ্মকে আমি নিতে পারছি না। হঠাৎ তিনি চিন্তা করলেন হ্যাঁ আমি একজনের পরামর্শ নিতে পারি, তিনি হচ্ছেন রাজ পুরোহিত বিদ্যাপতি। রাজ পৌরহিত বিদ্যাপতি রাজার অনুরোধে নদীর তীরে চলে আসলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এইযে, এখনো দারু ব্রহ্মকে উঠানো যাচ্ছে না। রাজ পুরোহিত ভগবানের ভক্ত বুঝতে পেরেছেন যে, এই নীলমাধব তার ভক্ত সবর (সবর মানে হচ্ছে "মুচি") রাজ বিশ্ববসুকে ছাড়া রাজমহলে যাবেন না। তখন সকলের শ্রদ্ধেয় পুরোহিত তিনি নিজে সেই সবর রাজ বিশ্বাবসুকে নিয়ে আসলেন। দারুব্রহ্মের দুই মাথায় দুইজন এবং মাঝখানে একজন ধরলেন। এখন এই তিনজনেই এই দারু ব্রহ্মকে নিয়ে যেতে লাগলেন। কি আশ্চর্য বিষয়, এতক্ষন তো হাতি, ঘোড়া, পদাতিক শূন্য সবাই মিলেও এই দারু ব্রহ্মকে এক চুল নড়াতে পারল না কিন্তু এখন কেন মাত্র তিনজনেই এই দারুব্রহ্মকে ধেই ধেই করে নিয়ে যেতে পারলো?
এইটাই জগন্নাথ দেব আমাদের সকলকে শিক্ষা দিয়েছেন। যতদিন আমরা এই জাত পাতের অহংকার থেকে মুক্ত হতে পারব না, ততদিন আমরা ভগবানকে লাভ করতে পারব না। জাত পাতের ভেদাভেদ মানুষের তৈরি ভগবানের তৈরি নয়।ভগবানের কাছে তো সবাই তার সন্তান।
তাই শ্রীল রূপগোস্বামী পাদ বলেছেন।
সর্বউপাধি বিনিরমুক্তাম ততপড়তেন নির্মলং।
ঋষিকেন ঋষিকেশো সেবনাং ভক্তির উচ্ছতে।।
সমস্ত উপাধি থেকে মুক্ত হয়ে যাও, এবং কৃষ্ণের সেবা করো। একটাই শুধু আমাদের পরিচয় হবে, আমরা সবাই শ্রীকৃষ্ণের সন্তান আমরা তার সেবক।
একজন মুচি, একজন ব্রাহ্মণ এবং একজন রাজা, তাদের কর্ম আলাদা কিন্তু সবাইতো এক ঈশ্বরের সন্তান। তাহলে ভেদাভেদ থাকবে কেন? তাই রাজা এবং ব্রাহ্মন যাওয়া সত্ত্বেও ভগবানকে আনতে পারেনি। সেই সবররাজ বিশ্বাবসুকে যুক্ত করার মাধ্যমে দারুব্রহ্ম রূপী ভগবানকে আনতে পেরেছিলেন।
যাদের মধ্যে এই জাতি বুদ্ধি রয়েছে, তারা কখনোই ভগবানকে লাভ করতে পারবে না। তাই আত্ম চেতনায় জাগ্রত হয়ে সবাই একসাথে জগন্নাথের সেবায় যুক্ত হোন। বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে,এক রেহেঙ্গে তো সেইভ রেহেঙ্গে, ভগবান বি মিলেঙ্গে। তাই আমি বলি জগন্নাথ হচ্ছেন সম্প্রীতির ভগবান। ইটিং ভগবানও বটে। জয় জগন্নাথ, হরেকৃষ্ণ।