Sirat Inspire Movement

Sirat Inspire Movement সিরাতের আলোয় এগিয়ে চলি

মুসলিম পুনর্জাগরণের অগ্রদূত সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রহ.)তোফায়েল গাজালিপ্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএমপ্রিন্ট সংস্কর...
24/10/2025

মুসলিম পুনর্জাগরণের অগ্রদূত সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রহ.)
তোফায়েল গাজালি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে যেসব আন্দোলন মুসলিম সমাজকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিল, তার মধ্যে অন্যতম সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রহ.)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত তৌহিদভিত্তিক সংস্কার ও জিহাদি আন্দোলন। তিনি ছিলেন উনিশ শতকের শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অন্ধকারে এক আলোকবর্তিকা। তার লক্ষ্য ছিল, ইসলামের বিশুদ্ধ আদর্শ ফিরিয়ে আনা, শিরক-বেদাত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুসলমানদের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করা।

তখন উপমহাদেশে মুসলিম সমাজ গভীর ধর্মীয় অবক্ষয়ের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাব, পীর পূজা, কবর পূজা, বেদাত ও শিরক-এসব কুসংস্কার মুসলমানদের ইমান ও আমলের ভিত দুর্বল করে ফেলেছিল। মুসলমানদের রাজনৈতিক শক্তিও ভেঙে পড়ে। এ অন্ধকার সময়ে শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহ.) ও তার প্রিয় সহচর সাইয়েদ আহমদ বেরেলভী (রহ.) এক বিশুদ্ধ তাওহিদের দাওয়াত নিয়ে ছড়িয়ে পড়লেন।

সাইয়েদ আহমদ (রহ.) বিশ্বাস করতেন-বিশুদ্ধ তাওহিদ ও নবীজির সুন্নাহকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া মুসলিম সমাজের প্রকৃত উন্নতি ও পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়। তিনি ঘোষণা দেন : ‘ইসলামের নাম রেখে মুশরিকি আচরণ করা যাবে না; আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি শুধু মুখে নয়, জীবনের প্রতিটি কাজে প্রকাশ পেতে হবে।’

১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রায়বেরেলিতে জন্মগ্রহণকারী সাইয়েদ আহমদ (রহ.) শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় অনুপ্রাণিত ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী (রহ.) এর সান্নিধ্যে এসে ইসলামের সংস্কারবাদী ধারার সঙ্গে যুক্ত হন।

১৮২১ সালে তিনি হজব্রত পালনের উদ্দেশে মক্কায় যান। সেখান থেকে ফিরে এসে ইসলামি পুনর্জাগরণের স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করেন। তিনি সব জায়গায় প্রচার করতে থাকেন যে, মুসলমানদের ইমানকে বিশুদ্ধ করা ও সমাজে শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করা ফরজ।

তার সংস্কার আন্দোলন শুধু ধর্মীয় সীমায় আবদ্ধ ছিল না; বরং তা রাজনৈতিক ও সামরিক রূপও নেয়। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও শিখ শাসনের নিপীড়নে মুসলমানরা যখন অসহায়, তখন তিনি তাদের জাগিয়ে তুলতে আহ্বান জানান। পাঞ্জাব ও সীমান্ত অঞ্চলের মুসলমানদের সংগঠিত করে গঠন করেন ‘মুজাহিদ বাহিনী’ নামক একটি তাওহিদপ্রাণ ইসলামি বিপ্লবী দল।

এ জিহাদি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল-একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কুরআন ও সুন্নাহ হবে শাসনের ভিত্তি। ১৮২৬ সালে তিনি হিন্দুকুশ পর্বতমালা অতিক্রম করে পশতু অঞ্চলে চলে যান এবং বালাকোটকে কেন্দ্র করে জিহাদের ঘাঁটি স্থাপন করেন। তাকে ‘ইমামুল মুজাহিদিন’ বলা হয়।

সাইয়েদ আহমদ শহীদের আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তার সঙ্গী ও শিষ্য শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহ.)। ইসমাঈল (রহ.) ইসলামি চিন্তায় এক বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার প্রতিনিধি ছিলেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তাকউইয়াতুল ইমান’ মুসলমানদের হৃদয়ে তাওহিদের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। উভয়ে মিলিত হয়ে মুসলমানদের ইমান সংশোধনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার আন্দোলনও পরিচালনা করেন।

তাদের এ সংগ্রাম ছিল শুধু রাজনৈতিক নয়-এটি ছিল ইমানের সংগ্রাম, আত্মশুদ্ধির সংগ্রাম এবং আল্লাহর পথে আত্মত্যাগের দাওয়াত।

১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোটের যুদ্ধ ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সেদিন সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.) ও শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহ.) শত শত সহযোদ্ধাসহ শিখ বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শাহাদতবরণ করেন। তাদের রক্তে সিঞ্চিত হয় উপমহাদেশের ইসলামি আন্দোলনের মাটি।

যদিও তাদের জিহাদ সামরিকভাবে সফল হয়নি, কিন্তু চিন্তার মঞ্চে তারা স্থায়ী বিজয় অর্জন করেন। তাদের রেখে যাওয়া তাওহিদভিত্তিক চেতনা পরবর্তী সময়ে শাহ ওয়ালিউল্লাহর চিন্তাধারায় নবজীবন পায় এবং পরোক্ষে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠা, তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি ধারা ও অন্যান্য সংস্কার আন্দোলনের বীজ বপন করে যায়।

সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)-এর সংস্কার আন্দোলনের ভিত্তি ছিল চারটি স্তম্ভের ওপর-বিশুদ্ধ তাওহিদ : আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে সাহায্য না চাওয়া, পীর পূজা ও কবর পূজা ত্যাগ। সুন্নাহর অনুসরণ : নবীজির জীবনধারাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করা। বেদাত পরিত্যাগ : ধর্মে নতুন সংযোজন বা বিকৃতি থেকে বিরত থাকা। শরিয়াহভিত্তিক সমাজব্যবস্থা : মুসলিম সমাজকে কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালনা করা। এ দর্শন পরবর্তীকালে ‘ওয়ালিউল্লাহি চিন্তাধারা’ হিসাবে স্বীকৃতি পায়।

সাইয়েদ আহমদ শহীদের আন্দোলন উপমহাদেশে মুসলিম আত্মপরিচয়ের পুনর্গঠন করে। তার অনুসারীরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় সংস্কার ও আত্মশুদ্ধির দাওয়াত ছড়িয়ে দেয়। তার চিন্তা ও রক্তজোয়ার থেকেই দারুল উলুম দেওবন্দের আলেমরা অনুপ্রাণিত হন ব্রিটিশবিরোধী ফতোয়া দিতে। মাওলানা শিবলী নোমানি, মওলানা আবুল কালাম আজাদসহ পরবর্তী মুসলিম চিন্তাবিদরা তার আন্দোলনের আদর্শকে বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে বিকশিত করেন।

তিনি প্রমাণ করে গেছেন, দাওয়াত, সংস্কার ও জিহাদ একে অপরের পরিপূরক। সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু ধর্মীয় প্রচার নয়, প্রয়োজনে আত্মত্যাগও জরুরি।

সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রহ.) ছিলেন একজন সংস্কারক, মুজাহিদ এবং আত্মনিবেদিত দাঈ। তিনি শুধু অস্ত্র হাতে লড়াই করেননি; বরং মানুষের মন থেকে শিরক-বেদাতের জং দূর করতে কলম ও কথার জিহাদও চালিয়েছেন। তার শাহাদত ইসলামি ইতিহাসে এক অনন্ত অনুপ্রেরণার নাম।

আজ যখন মুসলিম সমাজ আবারও বিভ্রান্তি, ভোগবাদ ও আত্মবিস্মৃতির ঘূর্ণিতে আবদ্ধ, তখন সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)-এর তাওহিদভিত্তিক আন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-‘সংস্কার শুরু হয় আত্মশুদ্ধি থেকে, আর মুক্তি আসে তাওহিদের পথে ফিরে গেলে।’

দুরুদ নিয়ে মদীনার এক ড্রাইভারের ঘটনা:মদীনায় একটি ট্যাক্সি ভাড়া নিলাম। ট্যাক্সি চড়তে গিয়ে লক্ষ্য করলাম ড্রাইভার একমনে গাড়...
07/07/2025

দুরুদ নিয়ে মদীনার এক ড্রাইভারের ঘটনা:

মদীনায় একটি ট্যাক্সি ভাড়া নিলাম। ট্যাক্সি চড়তে গিয়ে লক্ষ্য করলাম ড্রাইভার একমনে গাড়ি চালাচ্ছে আর বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। আমি জানার জন্য একটু আগ্রহী হলাম।

কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম ড্রাইভার যিকির করছে। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মদ…পড়ছে। এতো আস্তে আস্তে যিকির করছে যে, বুঝার কোনো উপায় নেই। আমার বুঝতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।

গাড়ি থেকে নেমে ভাড়া দিতে যাবো। তখন কৌতুহলবশত তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা, তুমি যে সারাক্ষণ যিকির করো - দুরুদ পড়ো এর কোনো ফলাফল কি তুমি পেয়েছো? মানে, যিকির আর দুরুদের মাধ্যমে তোমার এমন কোনো লাভ কি হয়েছে যেটা তুমি আমাকে বলতে পারো?”

প্রশ্নটি করেছিলাম এটা জানার জন্য যে, যিকিরের ফলে সে কি কখনো দুর্ঘ'ট'নার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কিনা, কিংবা তার উপার্জনে বরকত আসছে কিনা।

কিন্তু, তার উত্তর শুনে আমি তাজ্জব বনে গেলাম!
সে বললো, “স্যার, আমি আল্লাহর বান্দা, আমি ব্যবসায়ী নই।”

আমি বুঝতে পারলাম না এর মানে কী?
সে বললো, “স্যার, ব্যবসায়ীরা কিছু করলে লাভ-ক্ষতির হিসাব করে। লাভ হলে ব্যবসা করে আর না হলে সেই ব্যবসা ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমি তো দুরুদ - যিকির করি রাসূলের উম্মত এবং ‘আল্লাহর বান্দা’ হিসেবে। এর বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে কী দিবেন না দিবেন সেটা চিন্তা করি না। আল্লাহর বান্দা হিসেবে যিকির করাকে আমার দায়িত্ব মনে করি। এর বিনিময়ে আল্লাহ যদি আমাকে কিছু দেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, না দিলেও আলহামদুলিল্লাহ।”

ড্রাইভারের কথা শুনে আমি মনে মনে ভাবলাম, কী সুন্দর চিন্তা তার। এমন বিনয়ী বান্দাকে নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন।

(ইংরেজি থেকে অনূদিত)
— সংগৃহীত

🌸 নবীজি ﷺ-এর রওজা মুবারক জিয়ারত✨ সফর নির্দেশিকা🕌 সফরের উদ্দেশ্য:নবীজি ﷺ-এর রওজা শরীফ জিয়ারত করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্র...
10/06/2025

🌸 নবীজি ﷺ-এর রওজা মুবারক জিয়ারত

✨ সফর নির্দেশিকা

🕌 সফরের উদ্দেশ্য:
নবীজি ﷺ-এর রওজা শরীফ জিয়ারত করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এতে নবীজি ﷺ-এর শাফায়াত পাওয়ার আশাবাদ সৃষ্টি হয় এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়।

🧭 ১. সফরের নিয়ত ও প্রস্তুতি:
সফরের শুরুতেই নিয়ত করুন: “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নবীজি ﷺ-এর রওজা শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা যাচ্ছি।”

সঙ্গে নিন পরিচ্ছন্ন পোশাক, আতর, কুরআন, দরূদ, ও প্রয়োজনীয় দোয়ার বই।

🕋 ২. পথে ও গমনকালে করণীয়:
যত বেশি সম্ভব দরূদ শরীফ পাঠ করুন।

মদীনার নিদর্শন (গাছ, ঘরবাড়ি) চোখে পড়লে বলুন:

“اللهم صلِّ على سيدنا محمد، اللهم انفعني بزيارته وتقبلها مني”

🚿 ৩. মসজিদে নববীতে প্রবেশের প্রস্তুতি:
গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরুন।

আতর ব্যবহার করুন।

প্রবেশের দোয়া:

“اللهم افتح لي أبواب رحمتك…”

🕌 ৪. মসজিদে প্রবেশ ও রওদা শরীফে সালাম:
রওদা শরীফে প্রবেশের সময় আদব ও নম্রতা বজায় রাখুন।
সালামের সময় দৃষ্টি নিচু, কণ্ঠ মৃদু, হৃদয় শ্রদ্ধায় ভরা রাখুন।

পূর্ণ সালাম দিতে না পারলে সংক্ষিপ্ত বলুন:

“السلام عليك يا رسول الله، جزاك الله عنا خيرًا”

যদি কেউ আপনাকে সালাম পৌঁছাতে বলে, তাহলে বলুন:

“السلام عليك يا رسول الله من فلان بن فلان…”

👥 ৫. খলিফাগণের রওজা:
রওজার ডানে এগিয়ে হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে সালাম দিন।

আরও ডানে এগিয়ে হযরত উমর (রাঃ)-কে সালাম দিন।

📿 ৬. রওজার সামনে দোয়া:
কিবলামুখী হয়ে নিজের, পিতা-মাতার, পরিবার ও উম্মতের জন্য দোয়া করুন।
রওজা ও মিম্বরের মাঝখানে (রওদা) দুই রাকাআত নামাজ আদায় করুন।

📌 ৭. রওদা শরীফের গুরুত্ব:
রওদা সম্পর্কে হাদিস:
“আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগান।”

🌳 ৮. বাকি‘ কবরস্থানের যিয়ারত:
দোয়া:

“السلام عليكم دارَ قومٍ مؤمنين…”

শুক্রবারে যাওয়া উত্তম।

🩸 ৯. উহুদের শহীদদের কবর যিয়ারত:
শুরু করুন হযরত হামজা (রাঃ) এর কবর থেকে—তিনি সায়্যিদুশ শুহাদা।

🕌 ১০. কুবা মসজিদ যিয়ারত:
শনিবারে কুবা মসজিদে যান।

হাদিস:

“কুবায় একবার নামাজ = এক উমরার সাওয়াব।”

⚠️ ১১. বিশেষ আদব ও আচরণ:
রওজা শরীফ ও মসজিদে নববীতে উচ্চস্বরে কথা বলা হারামসুলভ কাজ।

ঝগড়া, বিতর্ক, মোবাইলের আওয়াজ, উচ্চস্বরে হাসাহাসি—বর্জনীয়।

কুরআনের আদেশ:

“নবীর সামনে কণ্ঠস্বর উঁচু করো না, নতুবা তোমার আমল বরবাদ হয়ে যাবে।”
(সূরা হুজুরাত: ২–৩)

💠 ১২. নফল ইবাদত:
বেশি বেশি দরূদ শরীফ, ইস্তিগফার, তিলাওয়াত, সদকা।

ফজিলতের স্থানে ইতিকাফের নিয়ত করা সুন্নত।

🤲 ১৩. সফর শেষে:
সফর শেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন:

“আলহামদুলিল্লাহ যে, তিনি আমাকে এমন সফরের তাওফিক দিলেন।”

📘 টিপস:

সফর সংক্ষিপ্ত হলেও আত্মিকভাবে প্রস্তুত থাকুন।

নবীজি ﷺ-এর জীবনের শিক্ষা স্মরণ করুন এবং জীবনধারা সংশোধনের নিয়ত করুন।

পৃথিবীর হৃদয় থেকে আরব উপদ্বীপের প্রতি-সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদবি রাহিমাহুল্লাহুঅনুবাদ: মাহদি হাসানহে আরব উপদ্বীপ, আজ তোম...
25/05/2025

পৃথিবীর হৃদয় থেকে আরব উপদ্বীপের প্রতি
-সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদবি রাহিমাহুল্লাহু
অনুবাদ: মাহদি হাসান

হে আরব উপদ্বীপ, আজ তোমার সঙ্গে এক গভীর আলাপের সুযোগ পেলাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে তোমায়। যা বহুদিন ধরে হৃদয়ে লুকিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু জীবনের বিপর্যয় ও দুঃখ-কষ্ট আমাকে তা বলার অবসর দেয়নি। আজ সে কথা আমার হৃদয় অধিকার করেছে, আমার আত্মা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে; তাই আজ তোমার শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।

আমি তোমাকে নিয়ে কথা বলতে চাইনি, কারণ তোমার নিস্ক্রিয়তা, নেতৃত্ব থেকে সরে আসা এবং বিশ্ব থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার প্রবণতা দেখে আমি নিরুৎসাহ হয়েছিলাম। বলেছিলাম, দীর্ঘ রাত জেগে আমার জন্য সেবা করে এখন বিশ্রামে আছো তুমি—তবে কেন তোমাকে আবার জাগাবো? কিন্তু আজকের দুঃখ এত গভীর, এ বিপদ এত বিশাল যে, তোমার দ্বারস্থ না হয়ে উপায় নেই।

হে আরব, আজ তুমি লজ্জার দৃষ্টিতে আমাকে দেখছ, নিজেকে তুচ্ছ মনে করছ। তুমি আমার বৈজ্ঞানিক উন্নতি, ইলেকট্রিসিটি, পরমাণু শক্তির ব্যবহার, আকাশে উড়া, সমুদ্রে সাঁতার কাটা দেখে অবাক হয়ে ভাবছ—তুমি পিছিয়ে পড়েছ।

কিন্তু হে আরব! জানো কি, এই আকাশে উড়া মানুষ তার চরিত্রে এখনও শিশুর মতো, তার সমাজবোধে, তার লোভ আর সংকীর্ণতায়। সে চেহারা ও বাহ্যিক চাকচিক্যে মগ্ন, অথচ সত্য ও মূল্যবোধের প্রতি উদাসীন। যদি তুমি জানতে, আজও মানুষ সেই জায়গাতেই রয়ে গেছে যেখান থেকে তুমি তাকে ছেড়ে গিয়েছিলে। সে হয়তো আকাশে পাখির মতো উড়ে, জলে মাছের মতো ভাসে, কিন্তু এখনো মানুষ হয়ে মাটিতে হাঁটতে শেখেনি।

তুমি অবাক হচ্ছ আমার বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার, মুদ্রণযন্ত্রের কলরব, ও সাহিত্যের গতিশীলতা দেখে। কিন্তু সাবধান হও! এই সবের পেছনে লুকিয়ে আছে ব্যবসা, লোভ, ও মানুষের আত্মার শোষণ। বহু লেখক ও বুদ্ধিজীবী আজ কলম দিয়ে সমাজে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে, চরিত্র ধ্বংস করছে। তুমি বিস্মিত হতে পারো, কিন্তু সত্য এই যে—আমার তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ মনীষীরাও আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও উচ্চনৈতিকতায় তোমার সেই মরুবাসী আরবদের মতো নয়।

তুমি শুনছ রাজনীতিবিদদের মুখে বড় বড় কথা—স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, প্রজাতন্ত্র। অথচ আজ এই শব্দগুলো অনেকটাই খালি। এক সময় মানুষের কথা ছিল তার সম্মান; আজ তা নিছক স্লোগান। করুণা করো সেই মানুষদের উপর, যারা এই ফাঁকা বুলিতে ভরসা করে।

তুমি ভাবছ, আমি বেশ সুখ-শান্তি, আনন্দ ও আরাম-আয়েশে আছি। তাই আমাকে নিয়ে ঈর্ষা প্রকাশ করছ। অথচ হে আরব, আমি গভীর ব্যাধিতে আক্রান্ত। বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে ধোঁকা খেও না। আমি অসুস্থ। আমার হৃদয়ে ব্যথা, মাথায় যন্ত্রণা, চোখে অন্ধকার, রক্তে ক্ষরণ, আত্মায় অস্থিরতা। কখনো অভাবে কষ্টে মরি, আবার কখনো ভোগে পচে যাই। আমাকে চিকিৎসা দিচ্ছে এমন একদল চিকিৎসক—যারা এক রোগে অন্য রোগের ঔষধ দিচ্ছে। এক অত্যাচারের প্রতিকারে আরেকটি অত্যাচার চালু করছে। এক ভুলের বদলে ঘটাচ্ছে আরেক ভুল। ফলে আমার রোগ বাড়ছে—আরও ভয়াবহ হচ্ছে।

হে আরব উপদ্বীপ, শুনো...

আমি এসেছি তোমার দ্বারে, আমার ব্যথা নিয়ে, আমার দুঃখ নিয়ে, আমার আত্মার নগ্নতা নিয়ে। তুমি কি আবার সেই আগের মতো আমাকে বাঁচাবে? তুমি কি আজও পারো সেই পুরোনো শক্তি দিয়ে আমাকে জাগিয়ে তুলতে, যেভাবে একদিন মহানবীকে পাঠিয়ে তুমি বিশ্বকে আলোর পথ দেখিয়েছিলে?

ধোঁকা খেও না এই বেলুনের মতো ফাঁপা সভ্যতা ও প্রযুক্তি দেখে—এই আকাশচুম্বী অট্টালিকা, বিমান, রেল, যন্ত্রপাতি দেখে। এগুলো আমার আত্মার বিকল্প নয়। আমি আজ সব কিছু ছেড়ে দিতে রাজি, যদি তুমি আমাকে ফের সেই ঈমান দাও, যা হারিয়ে আমি আজ মৃতের মতো।
হে আরব, তোমার কাছে আমার সবকিছু উৎসর্গ করতে পারি—শুধু চাই সেই বিশ্বাস, যে বিশ্বাস তোমার কোলে জন্ম নিয়েছিল এক ‘উম্মী’ নবীর মাধ্যমে। যে বিশ্বাসে মানুষ জেগে উঠেছিল। মরুভূমির বুকে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। আজ সেই পথেই ফিরে যেতে চাই আমি—তোমার কাছে চাই আবার সেই সত্য।

আমার হাতে অসংখ্য প্রযুক্তি, কিন্তু আমি জানি না এগুলো কীভাবে ব্যবহার করব। আমি জানি না জীবন কেন? কী তার উদ্দেশ্য? কে এই সৃষ্টিকর্তা? কেন সৃষ্টি করলেন তিনি এই বিস্ময়কর জগত? আমার এই যন্ত্র, শক্তি, প্রযুক্তি—সবই মূল্যহীন, যদি আমি পথ না জানি, লক্ষ্য না জানি। আর লক্ষ্য কেউই জানাতে পারেনি নবীদের ছাড়া।

তাই এসো, হে ওহির ভূমি! হে ঈমানের জন্মস্থান! এসো, আমরা একত্র হই। আমি তোমাকে দেব গতি, প্রযুক্তি, বাহ্যিক শক্তি—তুমি দাও আমাকে উদ্দেশ্য, অর্থ, আত্মা, বিশ্বাস। আমি দেবো চাকা—তুমি দাও পথ! আমার জ্বলন্ত সমাজের আগুন নেভাও মুহাম্মদ ﷺ এর এক দমকা হাওয়ায়। যা আবার নতুন জীবন দিতে পারে, মানবতাকে পুনর্জন্ম দিতে পারে। একবার যেমন করেছিলে প্রথম হিজরী শতকে, সেই আগুন থেকে স্বর্গ নির্মাণ করে।

তুমি আজ আমাকে দিচ্ছ তেল, যা দিয়ে চলে আমার ইঞ্জিন। আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু হে আরব, আমি চাই এর চেয়েও মহামূল্যবান কিছু—তুমি দাও আমাকে পথের চাকা, যা আজ কাদায় আটকে আছে, যাকে উদ্ধার করতে পারেনি দার্শনিক, বিজ্ঞানী কিংবা নেতা। তুমি পারো। কারণ তোমার আছে সেই শেষ নবীর শিক্ষার দীপ্ত আলো।

সবশেষে নিবেদন করছি, তুমি আমার একটি অংশ, হে আরব। আমার ভালো-মন্দ সব তোমাকেও ছুঁয়ে যায়। তুমি চাইলেও আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারবে না। তাই যদি আমাকে সাহায্য করো, নিজেকেই করবে; আর যদি ফিরিয়ে দাও, তবে নিজের বিরুদ্ধেই ক্ষতি ডেকে আনবে।

(বাইনাল আলামি ওয়াল জাযিরাতিল আরব-বই থেকে। কারওয়ানে জিন্দেগিতে এই বই সম্পর্কে পড়ছিলাম। তখন বইটি খুলে দেখার আগ্রহ জাগে। এই অংশটি এমন টানে যে, অনুবাদ করার ইচ্ছা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করতে পারিনি)।

23/05/2025

শিল্পী : আদনান

মদিনা শুধু একটি শহর নয়, এটি এমন এক মহান সত্তার বসবাসস্থল, যার ওসিলায় রহমত বর্ষিত হয়, যার মাধ্যমে ইবাদত গ্রহণ হয়। মদিনায় ...
23/05/2025

মদিনা শুধু একটি শহর নয়, এটি এমন এক মহান সত্তার বসবাসস্থল, যার ওসিলায় রহমত বর্ষিত হয়, যার মাধ্যমে ইবাদত গ্রহণ হয়। মদিনায় এসে রওজা শরিফে সালাম দিলে তা উত্তর পায়, রওজার পাশে দোয়া কবুল হয়। মদিনার সঙ্গে রয়েছে মুমিনের ইমান, প্রেম, কলেমা ও মুক্তির এক অদ্ভুত সম্পর্ক। মদিনা মুনাওয়ারা এমন এক শহর, যেখানে হৃদয়ের সর্বোচ্চ শান্তি, আত্মার গভীর আনন্দ ও প্রেমের অপরিসীম আবেগ বিরাজ করে।

এ শহরটি নবীর শহর, নবীর স্মৃতি, নবীর আদর্শের মূর্ত প্রতীক। যুগে যুগে যে ভালোবাসার দ্যুতি ছড়িয়েছে, তা আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন থেকে যায়। মদিনা মুনাওয়ারা একটি অনুভূতি, একটি প্রেমের নাম, যা প্রতিটি মুমিনের আত্মাকে জড়িয়ে ধরে। এখানে আসা মানেই নিজেকে নবায়ন করা, জীবনের নতুন করে অর্থ খোঁজা।

মদিনা মুনাওয়ারা ইসলামের ইতিহাসের এক অমূল্য রত্ন, যা যুগে যুগে মুমিনদের হৃদয়ে অম্লান ভালোবাসার প্রতীক হয়ে থাকবে, নবী (সা.)-এর স্মৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে, অবিরত আলোকিত করবে পথচলার প্রত্যেক ধাপ। এ পবিত্র ভূমি, যেখানে শান্তি, ইমান, ও আত্মিক মুক্তি একসঙ্গে বাস করে, সেই মদিনার প্রতি মুমিনের ভালোবাসা চিরন্তন, অবিনশ্বর।

মুমিন হৃদয়ের গভীরতম ভালোবাসার প্রতীক মদিনা। এখানে শুয়ে আছেন প্রিয় নবী মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)। তার কারণেই এ শ....

সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টের কার্যক্রম গতিশীল করতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিতকুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িতে সিরা...
18/05/2025

সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টের কার্যক্রম গতিশীল করতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িতে সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আজ একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় দায়িত্বশীল ওলামায়ে কেরামের সক্রিয় উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে সংগঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্ট কুড়িগ্রাম জেলার আমির মুফতি আমির হামজা। তিনি সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য ওলামায়ে কেরামও কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত প্রদান করেন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে মতৈক্যে পৌঁছান।

বৈঠকে সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টের সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমকে গ্রামীণ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

17/05/2025

দাওয়াতী কর্মশালা। আলোচক: মুফতি সুহাইল আহমদ। নাজেমে উমুমি, সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টে

16/05/2025

দাওয়াতী কর্মশালা। ১৫ মে ২০২৫। উত্তরখান, ঢাকা।

সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টের উদ্যোগে রাজধানীর উত্তরখানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাওয়াতী কর্মশালা অনুষ্ঠিত।
15/05/2025

সিরাত ইনস্পেয়ার মুভমেন্টের উদ্যোগে রাজধানীর উত্তরখানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাওয়াতী কর্মশালা অনুষ্ঠিত।

Address

Madical Rood, Chanpara, Uttarkhan, Dhaka;
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sirat Inspire Movement posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share