Surely To Allah We Belong and To Him We Shall Return, 2:156

Surely To Allah We Belong and To Him We Shall Return, 2:156 Assalamualaikum Wa Rahmatullahi Wa Barkatuhu. We are here to inspire you a little to turn to Allah.

07/12/2024

গতকাল রাতে খুব অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখেছি।

দেখলাম, আমি আর আমার দুই ভাই মিলে বাসে করে কোথায় যেন যাচ্ছি। বাসের জানালা দিয়ে বাম দিকে তাকাতেই দেখি অনেক বড় কয়লার পাহাড়। দূর থেকে দেখে সেটাকে কয়লার পাহাড়ই মনে হচ্ছিল।

স্বপ্নে যেহেতু সবকিছু লজিক অনুযায়ী হয়না, তাই একটু পরেই দেখলাম আমরা আর বাসে নেই। যেন ভেসে ভেসে যাচ্ছি। একটা ফুর্তি ফুর্তি ভাব।

এবার হঠাৎ করে কয়লার পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, কয়লার পাহাড়ের মাঝখানে পুরোটা আগুনের নদী।

লাল টকটকে৷ চারিদিকে শুধু লাভা আর লাভা। একটা একটা করে বড় বড় কয়লার চাই সেই নদীতে পড়ছে। লাভা ছিটকে ছিটকে উঠছে। আগুনের নদীর দিকে সোজা দৃষ্টি দিয়ে অনেক দূরে দেখতে পেলাম, আকাশের সূর্য যেন একটার পর একটা টপ টপ করে গলে গলে সেই নদীতে পড়ছে।

আমি মুহূর্তেই বুঝে গেলাম আমি দোযখ দেখছি। ঘুমের মধ্যেই প্রচন্ড ভয় পেলাম। মনে হলো যেন ছুটে পালিয়ে যাই, কিন্তু খেয়াল করে দেখলাম আমি ছুটে পালাতে পারছিনা। আমাকে সেই ভয়ঙ্কর আগুনের নদীর দৃশ্য দেখতে দেখতে যেতে হচ্ছে। এরপরে স্বপ্নে কি হয়েছিল তা স্পষ্ট মনে নেই কিন্তু এটুকু মনে আছে স্বপ্নটার অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ংকর।

প্রচন্ড আতঙ্ক নিয়ে এরপর আমার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমের পরে দেখলাম ফজরের আজান হচ্ছে।

আজকে সারাদিনই মনটা কেমন জানি হয়ে ছিলো।

এক মুরব্বির মুখে শোনা বয়ানের কথা সারাদিন মনে পড়ল।

তিনি বলেছিলেন, "বাবারা,কখনো খেয়াল করেছেন, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" সবচেয়ে সহজ জিকির? এই কথা বলতে গেলে মুখের ভিতর জিব্বা ছাড়া আর কিছুই নাড়াইতে হয়না। না দাঁত নড়ে, না ঠোঁট নড়ে। শুধু জিব্বাটাকে উপর নিচ করতে পারলেই হয়।

মুরব্বির কথা শুনে আমরা সবাই ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখলাম। আসলেই তো তাই।

আমাদের বিস্মিত মুখ দেখে মুরুব্বী বললেন, "তোমরা বলতো, আল্লাহতালা এটা কে উচ্চারণ করা এত সহজ বানাইলেন কেন?"

আমরা মুরুব্বী কে জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

তিনি বললেন, "যাতে বান্দা কোন রকম কষ্ট ছাড়াই মৃত্যুর আগের সেই ভয়াবহ মুহূর্তে লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ অনায়াসে বলতে পারে। এটাই কারণ৷ আর কিছু না"।

আজকে সারাদিন মনে হচ্ছিল আল্লাহ চায়, আমরা যেন জিতে যাই, হেরে না বসি।

মৃত্যুর ঐ সময়টায় আল্লাহ যেন মুখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বসায় দেন। দয়া করে, মায়া করে, এটুকু ভিক্ষা যেন তিনি দেন।

ঐ আগুনের নদীতে আমি যেতে চাই না।

এক মুহূর্তের জন্যও যেতে চাইনা।

এক মুহূর্তের এক কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ও যেতে চাই না।

এই আগুনের নদীতে এক মুহূর্তের জন্য থাকা তো দূরের কথা এক মুহূর্তের জন্য আমি দেখতেও চাইনা।

এর চেয়ে আল্লাহ যেন আমাকে আরাফে অবস্থান করান।

আল্লাহ আমাকে মাফ করে দেন।

আমার মুখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বসায়ে দেন।

আল্লাহর কাছে আর কিচ্ছু চাই না।

কিচ্ছু না।

- Tasneem Ahsan

29/04/2024

আজকে সন্ধ্যার পর থেকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না,শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে এমন অবস্থা। আল্লাহ তুমি আমাদের ক্ষমা করো, স্বস্তি দাও

বৃষ্টি চাওয়ার জন্য দুয়া:

اَللّٰهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ، وَبَهَائِمَكَ، وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ، وَأَحْيِيْ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ
আল্লা-হুম্মাসক্বি ইবা-দাকা ওয়া বাহা-ইমাকা ওয়ানশুর রহমাতাকা ওয়া আহয়ি বালাদাকাল মায়্যিতা

হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাগণকে ও জীব- জন্তুগুলোকে পানি পান করান, আর আপনার রহমত বিস্তৃত করুন এবং আপনার মৃত শহরকে সজীব করুন।

আবূ দাউদ ১/৩০৫, নং ১১৭৮।
হিসনুল মুসলিম মোবাইল এ্যাপ

গরমের তীব্রতায় কিছু সুন্নাহ আমল বিস্তারিত কমেন্টে
19/04/2024

গরমের তীব্রতায় কিছু সুন্নাহ আমল
বিস্তারিত কমেন্টে

04/04/2024

: এই গানটা শুনছিলাম বুঝলি। গায়ে লিটারেলি কাঁটা দিল, কাঁটা! এত্ত সুন্দরও কেউ গায়! একদম ফিদা হয়ে গেলাম–
: চল।

বিব্রত হলেও হাসিটা এখনও মিলিয়ে যায়নি নাবিলার, ‘কই যাবি?’
নিহিতা ক্লান্তস্বরে বলল, ‘নামাজে।’

মুহূর্তেই মুছে গেল নাবিলার হাসি। নিহিতার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিসর্গশোভা দেখতে শুরু করল। নিহিতাও ছাড়ার পাত্র নয়, ‘যাবি না?’
: পরে।
: যাবি না।
: বললাম তো পরে।
: এই পরেটা তো কখনওই আসে না নাবিলা।
: তোর সমস্যাটা কী রে?

নিহিতা দুই কদম পিছিয়ে এসে বলল, ‘তোকে গত ছয় মাসের একটি দিনও নামাজের জন্য বলা বাদ রাখিনি। পাঁচ ওয়াক্ত না হোক, প্রতিদিন কমসেকম তিন ওয়াক্তে তোকে বলেছি আমার সাথে যেতে।’
: আমার শরীর ভালো নেই।

রাগে কেঁপে উঠল নিহিতা, ‘তোর মাসে কয়বার “শরীর ভালো নেই” হয়?’

জেদের কাছে হার মানে নাবিলার ধৈর্য, ‘তো? আমাকে জোর করে নামাজ পড়িয়ে তোর লাভ?’
: পড়লে লাভ ছিল। পড়বি না তাতে ক্ষতি নাই। কিন্তু মনে রাখিস, চার রাকাআত নামাজে এত অজুহাত তোর, অথচ গতকালকে ফলের গানের নতুন অ্যালবাম নিতে তুই ভোর পাঁচটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলি। তোর রুমভর্তি শুধু মার্কিন-কোরীয়-চীনা-থাই গায়কদের ছবি। তোর ফোনের ২০০ জিবি গান দিয়ে ভর্তি। তোকে সেদিন দেখেছি তুই এসব গায়কের ভাঁড়ানো অশ্লীল ভিড–
: একটা থাপ্পড় দিয়ে তোর গালের সব দাঁত ফেলে দেবার আগে আমার সামনে থেকে দূর হ!

নিহিতা বাকরূদ্ধ হয়ে গেল। তারপরেও যাওয়ার আগে বলল, ‘তোকে এতদিন অনেক মিষ্টি করে, অনেক আশার কথা দিয়ে বুঝিয়েছি। তুই শুনিসনি। আজকে আমি প্রথম কঠোর হলাম, সেটা হয়েও তো কোনও মিথ্যে বলিনি। তবু তুই আমাকে বের করে দিচ্ছিস। সত্যিই, তুই সব বুঝেও অন্ধ, পশুর চেয়েও অন্ধ! তোর রব তুই তোর নিজের নফসকে বানিয়েছিস। এটাই শেষ, আজ সালাত আদায় না করলে তুই আর আমার বান্ধবী না। তুই আমার কেউ না!’

‘…তারা নামায হারাল, আর প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।’¹
‘…তাদেরকে ডাকা হবে সেজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সিজদা করতে সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি হবে অবনত, অপমান-লাঞ্ছনা তাদের উপর চেপে বসবে। (দুনিয়াতে) তারা যখন সুস্থ ও নিরাপদ ছিল তখনও তাদেরকে সিজদা করার জন্য ডাকা হতো (কিন্তু তারা সিজদা করত না)।’²
‘সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য! তাদেরকে যখন বলা হয় (আল্লাহর সম্মুখে) নত হও, (তাঁর আদেশসমূহ পালনের মাধ্যমে) তখন তারা নত হয় না।’³
‘কীসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাল? তারা বলবে, “আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।”’⁴

নিহিতার কণ্ঠে এই সাতটা আয়াত থেকে থেকে কেবলই মনে পড়ছে নাবিলার।

‘ইশ! যদি সেদিনও নিহিতার কথা শুনতাম!’

বীভৎস সব সাপ আর বিচ্ছুর ছোবল খেতে খেতে ভাবতে থাকে কাফনে মোড়ানো নাবিলা।

--

এমন হয়, খারাপ কোনো একটা অভ্যাস আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী জেনেও ছাড়তে পারি না। বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ছাড়তে ‘চাই’ না। ইবাদাতে আলসেমি জমে, কখনো করিই না, কখনোবা খুশু-খুযু বলে কিছু থাকে না। হায়াতের উপর আমাদের অগাধ ভরসা। আমরা ভাবি, আরও দু’চার দশক আছিই তো বেঁচে, ইবাদাত করা যাবে ’খন। কিন্তু চারপাশে কতজন ভাগের দু’চার দশক বাকি রেখেই কবরে চলে যাচ্ছে, তা কি আমাদের অজানা? তবে কেন ভাবি যে ওদের মতো নিয়তি আমাদেরও হবে না?

আল্লাহর কাছে সমস্ত ইবাদাতের মধ্যে যৌবনের ইবাদাত সবচাইতে প্রিয়। এর কারণ হতে পারে যে এ সময় শক্তি-সামর্থ্য থাকে বেশি, কিন্তু শয়তানের হাতছানি থাকে ঘাপটি মেরে আনাচেকানাচে। যারা এতসব ওয়াসওয়াসা আর ফিতনার পরিবেশ সত্ত্বেও আন্তরিকভাবে ইবাদাত চালিয়ে যায়, তাদের সম্মান আর মূল্যবান সময় নষ্টকারীদের সম্মান কি এক হতে পারে?

তবে কি আমরা তারুণ্যের সবলতাকে কাজে লাগিয়ে ইবাদাতমুখী হব, না কি আশরাফুল মাখলুকাত হয়েও, একটা শয়তানের চক্রান্তের কাছে আবারও হেরে যাব বলুন তো?

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনো।’ তাই আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহ্গুলো ক্ষমা কর এবং আমাদের থেকে আমাদের মন্দ কাজগুলো বিদূরিত কর; আর নেক বান্দাদের মধ্যে শামিল করে আমাদের মৃত্যু ঘটাও।
[সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯৩]

--

¹সূরা মারইয়াম, আয়াত ৫৯।
²সূরা ক্বলাম, আয়াত ৪২-৪৩।
³সূরা মুরসালাত, আয়াত ৪৭-৪৮।
⁴সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪২-৪৩।
______________________
হাইয়া আলাস সালাহ

#রৌদ্রময়ী

03/04/2024

যেসব বিষয়ে আমরা ততটা চিন্তিত নই যতটা চিন্তিত হওয়া উচিত!

🟥আবদুল্লাহ ইবনু হানযালাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি জেনে শুনে এক দিরহাম বা একটি মুদ্রা সুদ গ্রহণ করলে ছত্রিশবার যেনা করার চেয়ে কঠিন হবে’ (আহমাদ, হাদীছ ছহীহ, মিশকাত হা/২৮২৫; বাংলা মিশকাত হা/২৭০১)।

🟥আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘সুদের পাপের ৭০টি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হচ্ছে মাতাকে বিবাহ করা’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৮২৬, হাদীছ ছহীহ)।

🟥আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘মানুষের উপর এমন একটি সময় আসবে, যখন মানুষ হালাল-হারাম উপার্জনে বিবেচনা করবে না’ (বুখারী, মিশকাত হা/২৭৬১)।

🟥কা’ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘হারাম খাদ্য দ্বারা পরিপুষ্ট শরীর জান্নাতে যাবে না’ (মিশকাত/২৭৮৭ ; বাংলা ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাঃ/২৬৬৭)।

🟥সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আজ রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, দু’ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানে লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায় তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খণ্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখেছেন, সে হল সুদ খোর।(সহিহ বুখারী, ২০৮৫)

Source : Al Hadith app by IRD

29/03/2024

শুক্রবারে হানিফ পরিবহনে উঠলাম। আমার কোণাকুণি সামনের সিটে বসেছেন হুজুরটাইপ একজন লোক। তিনি বাস ছাড়ার পরপরই সুপারভাইজারকে বললেন ভাই আমি জুমা পড়বো। নামাজের খুতবার আগে দাঁড়াবেন। সোয়া একটায় দাঁড়ালেই চলবে।

বাস যখন চৌদ্দগ্রাম বাজার পার হচ্ছে তখন সোয়া একটা। তিনি উঠে গিয়ে সুপারভাইজারকে বললেন "ভাই সোয়া একটা বাজে। দাঁড়ান না! খুতবা না শুনলে জুমা সম্পূর্ণ হয় না!"
আমার তখন চোখে ঘুম ঘুম ভাব। হালকা করে কানে বাজছে ভদ্রলোকের সাথে সুপারভাইজারের বাতচিত। শুধু সুপারভাইজার না আরো কয়েকজন যাত্রী বলছে নামাজ দেড়টায়। একটা পঁচিশে দাঁড়ালেই হবে।

বাসের সে যাত্রীদের মত আমরা অনেকেই জুমার নামাজ পড়াটাকে দায়সারা গোছের বানিয়ে ফেলেছি। শুক্রবার দুপুরে খুতবার শেষ দিকে মসজিদে ঢুকি ও ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর কত দ্রুত মসজিদ থেকে বের হওয়া যায় সে রাস্তা খুঁজি।

আমি চোখ খুলেই বললাম সুপারভাইজার সাহেব, বাস দাঁড় করান। ওযু করার একটা সময়ও লাগবে তো! ভদ্রলোক বললেন আমার ওযু আছে ভাই।

অন্যদের অব্যাহত একটা পঁচিশ দাবির মুখে আমার কন্ঠ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। বাস ড্রাইভার একটা পঁচিশে দেখেন রাস্তার পাশে মসজিদ পাচ্ছেন না! আরো মিনিট তিনেক পর ফেনীর ফতেহপুরের দিকে একটা মসজিদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। ততক্ষণে নামাজ প্রায় শেষ! ভদ্রলোক দৌড়ে গিয়ে নামাজ ধরতে ধরতে ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়েছেন!
বাসে এতগুলো পুরুষ মানুষ। কারো কোন বিকার নেই শুধু ওই ব্যক্তি ছাড়া। আমি বাসের জানালা দিয়ে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে তাকে নামাজ আদায় করতে দেখছি। জুমা মিস করে ফেলায় সম্ভবত জোহরের নামাজ আদায় করছিলেন।

এতক্ষণ বাস একটা পঁচিশে দাঁড়াতে বলা লোকগুলো দ্রুত আশেপাশে চা দোকান খোঁজা শুরু করলো। কেউ কেউ বেনসন সিগারেট না পাওয়ায় বিরক্ত। গ্রামের দোকানে বেনসন না পাওয়া শীর্ষক হতাশা শুনলাম দুজনের গলায়। একজন বিস্কুট কীভাবে পাঁচ টাকা পিস হয় তা নিয়ে দোকানদারের সাথে ঝগড়া করছে। এক মহিলা বাচ্চার জন্য চিপস কিনতে এসেছেন। শুকনা সুপারি দিয়ে পান খাচ্ছেন দু'জন। আর আমি জানালা দিয়ে ওই আল্লাহর বান্দাকে দেখছি।
সুপারভাইজার তখন ইমাম সাহেব কেনো নামাজ তাড়াতাড়ি শুরু করেছেন এটা নিয়ে রাগে গজগজ করছেন!

দশ মিনিট পর বাস ছাড়লো। সুপারভাইজার বারবার লোকটাকে শুনিয়ে বলছিলো : "আইজকা আগে দাঁড়াই গেছে ইমাম সাব।"

আমি ভেবেছিলাম ভদ্রলোক খুব রেগে যাবেন। আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি একটা কথাও বলেননি। শুধু মাথা নিচু করে নিজের আসনে বসে ছিলেন। আমার কোণাকুণি সামনের সিটে বসেছিলেন বলে আমি তাকে দেখছিলাম।

পুরোটা পথ আর মাথা তোলেননি। সুপারভাইজারও আর কিছু বলেননি। শুধু মসজিদ্দা স্কুল পার হওয়ার সময় বলেছিলেন আমাকে রয়েল সিমেন্ট কোম্পানির সামনে নামাই দিয়েন। ভদ্রলোক উঠে সামনে যাচ্ছিলেন। সুপারভাইজার তার ব্যাগটা হাতে নিয়ে বললো ভাই কিছু মনে করিয়েন না!

লোকটা আমাকে সর্বোচ্চ অবাক করে দিয়ে সুপারভাইজারের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কাঁপিয়ে দুই চোখে পানি ঝরিয়ে দিয়ে বললো -“ভাই জুমার নামাজটা পড়তে পারলাম না!"

একজন বাবা তার দুই দশক ধরে লালিত পালিত একমাত্র কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় "আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো" বলতে যেভাবে কাঁদে একজন মানুষ এক ওয়াক্ত জুমার নামাজ পড়তে না পেরে যেনো তেমন আবেগেই কথাটা বললো!

এই ঘটনারটার পর আমি নিজেকে নিয়ে ভাবিঃ
ঐ ভদ্রলোক যে জান্নাতের স্বপ্ন দেখেন, আমিও সে একই জান্নাতের স্বপ্ন দেখি। তাহলে আমাদের মধ্যে এত পার্থক্য কেন! কিভাবে সম্ভব যে আমরা দুইজন একই জান্নাতে অবস্থান করবো ?

22/03/2024

দুরুদ যে নগদ ফলাফল নিয়ে আসে, তার আরেকটি প্রমাণ এই ঘটনা।
লিখেছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র Nahid নাহিদ। এটি পড়লে দুরুদের প্রতি আপনার একিন আরও বাড়বে ইনশাআল্লাহ। আমি হুবহু কপি করলাম।

১৯ তারিখ সিলেট থেকে কুমিল্লা আসি। নিয়ত ছিল বাসায় এসে পরিবারের সাথে ইফতার করার।

১১.১০ এ বাস ছাড়লো। বাস সাধারণত ৭/৮ ঘন্টা সময় নেয়। মনে ক্ষীন আশা ছিল বাসায় এসে ইফতার পাওয়ার। সেই আশায় গুড়েবালি দিল বাসের চালক ও সুপারভাইজার মহোদয়।

বিখ্যাত তুরাগ বাসের ন্যায় 'রাস্তায় কাওকে ফেলে যাবো না' নীতিতে আগাতে আগাতে যেখানেই যাত্রী পাচ্ছিল সেখানেই থামাচ্ছিল আর মাঝে দুইবার যাত্রাবিরতির নামে ব্রেক তো ছিলোই (নর্মালি একবার দেয় ব্রেক)।

বাজে তখন বিকাল ৫.২৫। গুগল ম্যাপে চেক করলাম আলেখারচর বিশ্বরোডের দূরত্ব। দেখলাম এখনো ৩২ কিমি দূর, এস্টিমেটেড টাইম ৫০ মিনিট।

আলেখারচর থেকে বাসায় আসতে আরো ১৫/২০ মিনিট। মানে বাসায় এসে আর ইফতার করা হচ্ছে না। যেই ইফতার পাওয়ার জন্য এত প্ল্যান করে টিকেট কাটলাম, শেষ পর্যন্ত ট্রেন মিস দিলাম সেই ইফতার হাতছাড়া হয়ে যাবে দেখে। অনেক মন খারাপ হচ্ছিল।

অবচেতন মনে জ্যামে বসে বাসের জানালা দিয়ে রাস্তার ধারে দোকানিদের ইফতার বিক্রি দেখছিলাম।

হঠাৎ Abdullah Al Monsur ওস্তাদ এর একটা কথা মনে পড়ে গেল। ওস্তাদ এর যতগুলো বয়ানে বসার সুযোগ হয়েছে ওস্তাদকে প্রায়সময় একটা কথা বলতে শুনেছি :

"যখন অনেক মন খারাপ থাকবে, ডিপ্রেসড ফিল হবে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে তখন বেশি বেশি দরূদ শরীফ পড়বেন। দেখবেন ইন্সট্যান্ট রেজাল্ট পাবেন ইনশাআল্লাহ। এটা একটা পরীক্ষিত আমল।"

ভাবলাম আমলটা করেই দেখি। আল্লাহ চাইলে তো সবই সম্ভব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাকে মনের নেক বাসনার কথা বলে দরূদ শরীফ পড়া শুরু করলাম।

নেক্সট ৩০ মিনিট আমার সাথে যা হলো আমি হয়তো সারাজীবন সেটা ভুলতে পারবো না।

যে বাস চালক এতক্ষন তুরাগ বাসের নীতিতে আগাচ্ছিলেন উনি হঠাৎ এনা বাসের ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস নীতিতে আগানো শুরু করলেন। ওনার হেল্পার ওনাকে যতবার যাত্রী নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাস থামাতে বলতেসিল উনি ততবারই বলতেসিলেন "ইফতারের টাইম। আগে যাত্রীদের ইফতারের আগে কুমিল্লা পৌঁছায়ে দিয়ে লই।"

উনি আর কোনো স্টপেজে থামলেন না।

আলেখারচর নেমেই সিএনজি রিজার্ভ করলাম।সিএনজি মামা তো আরো তুফান। আমি তো গতি দেখে ভয় পেয়ে গেসিলাম না জানি এক্সিডেন্ট করে বসে। বাসার কাছাকাছি এসে মামাকে বললাম:

"আপনি তো আমারে ভয় পাওয়ায়ে দিছিলেন। এত স্পিডে কেও টানে!" উনি বললেন "মামা ইফতারের টাইম। আপনারে ইফতার এর আগে পৌঁছায়ে দেওয়ার লাইগা এমনে টানছি।"

আল্লাহ এর কসম আমি ইফতারের ১০ মিনিট আগে বাসায় আসছি। সুবহা'নআল্লাহ। সিএনজি থেকে নেমে কয়েক সেকেন্ড মাথা হ্যাং হয়ে ছিল। কিভাবে সম্ভব হইলো।

যেখানে আমি বাসে বসে এস্টিমেট করতেসিলাম ইফতারের ১৫/২০ মিনিট পর বাসায় ঢুকবো, আমি দেখি ইফতারের ১০ মিনিট আগে বাসায়।

এসব ঘটনায় নিজের ঈমান অনেক বেড়ে যায়।আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর উপর বিশ্বাস এর লেভেল বহুগুণ বেড়ে যায়।

কখনো দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে দরূদ শরীফ পড়ার আমলটা করে দেইখেন। আল্লাহ চায়তো মিরাকেল ঘটতে দেখবেন ইনশাআল্লাহ।

✍️Abdullah Al Monsur

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তাঁর দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর জন্য দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Surely To Allah We Belong and To Him We Shall Return, 2:156 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share