17/08/2025
চন্দ্রনাথ ধাম
জগৎের সকলের কল্যাণ কামনা করার আদর্শের ধারক সনাতনধর্ম। প্রাণী মাত্রই সুখী সমৃদ্ধ হোক, ইহা সনাতনধর্মের মূলমন্ত্র। সেজন্য, বৃহদারণ্যক উপনিষদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রচিত হয়েছে বিশ্বশান্তি মন্ত্র,
"ও৩ম্ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু
মা কশ্চিৎ দুঃখভাগভবেৎ।
ও৩ম্ শান্তিঃ ও৩ম্ শান্তিঃ ও৩ম্ শান্তিঃ"
অর্থাৎ, জগতের সবাই যেন সুখী হয়, সকলে যেন নিরাময় হয়, সকল মানুষ পরম শান্তি লাভ করুক, কশ্মিনকালেও যেন কেহ দুঃখ বোধ না করেন। ঈশ্বর আমাদেরকে আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক এই তিন প্রকার দুঃখ হতে শান্তি প্রদান করুন।
পৃথিবীতে ধর্ম একটি, তা সনাতন ধর্ম। প্রকৃতিগত ভাবে প্রত্যোকের মাঝে যে মনুষ্যত্ববোধ ও বিবেকবোধ জাগ্রত, ইহাই সে সত্য সনাতন বৈদিক ধর্মের মূলতত্ত্ব। তবে সনাতন ধর্ম ব্যতীত এ ধরিত্রীর মাঝে বিভিন্ন মত, পথের অনুসারী রয়েছে। সনাতন ধর্ম কখনো সে সকল মতের প্রতি বিদ্বেষ কিংবা ঘৃণা বা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব পোষণ করে না। কারণ, সমুদ্র যেমন তার বিশালতার মাঝে সবকিছুকে আপন করে রাখে, সেরুপ সনাতন ধর্মও সকল অমৃত সন্তানদের আপন মহিমায় আত্মিক মিত্রতায় আবদ্ধ রাখে। সেজন্য, সনাতন ধর্মে একমাত্র বলা হয়েছে বসুধৈব কুটুম্বকম অর্থাৎ, এ বিশ্ব এক পরিবার স্বরুপ।
সনাতন ধর্ম কোনো ভৌগোলিকভাবে সীমাবদ্ধ কোনো চেতনা নয় বরং এ আদর্শ সার্বজনীন, সার্বদেশিক, সার্বকালিক ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। তবে, দূর্ভাগ্যবশত সনাতন ধর্ম যদিও ধরিত্রীর সকলকে অমৃতের সন্তান কিংবা আত্মীয় হিসেবে সম্বোধিত করলেও, বহু নব্য আদর্শের ধারকগণ সনাতনধর্ম বিরোধী এক ভিত্তি প্রস্তুর রচনা করতে উদ্ধত। বারংবার, সনাতন ধর্মের উদারতা ও সহিষ্ণুতাকে পুঁজি করে বিরোধীমহল সনাতন সংস্কৃতিকে করেছে আঘাত, প্রচেষ্টা করেছে ধ্বংসের। মহান ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং সনাতনী বীরশ্রেষ্ঠদের বীরোচিত আত্মত্যাগ এবং জ্ঞানীদের মেধায় এ শাশ্বত সনাতন সংস্কৃতি ঘুরে দাড়িয়েছে।
সনাতন ধর্মে পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে সহস্র স্থাপনা এবং স্থান রয়েছে। যা সনাতনীদের গর্বিত ইতিহাস এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারণ করতে সহযোগিতা করে থাকে। যেমন অযোধ্যা নামক স্থান বা রামসেতু দ্বারা মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম এর রাম রাজ্য এবং মাতা সীতার উদ্ধার এর ইতিহাস স্মরণ হয়, কুরুক্ষেত্র দ্বারা মহাভারতের ইতিহাস, দ্বারকা কিংবা মথুরা দ্বারা আর্যশ্রেষ্ঠ যোগেশ্বর