Our Islamic Life

Our Islamic Life “প্রচার করো, যদি একটি মাত্র আয়াত ও হয়”।
--- সহীহ বুখারিঃ ৩৪৬

প্রশ্নঃ ৩৫৬৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কুরবানী আমার উপর ওয়াজিব হলে আমার পরিবারের কারোর নামে দেওয়া যাবে? যেমন ...
23/05/2026

প্রশ্নঃ ৩৫৬৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কুরবানী আমার উপর ওয়াজিব হলে আমার পরিবারের কারোর নামে দেওয়া যাবে? যেমন আমার ছেলের নামে দেওয়া যাবে?

উত্তর ::
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

শরিয়তের বিধান হল, আগে নিজের ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে হয়। তারপর সুযোগ থাকলে অন্যের পক্ষ থেকে নফল কুরবানী দেয়া যায়। (মাজমাউল আনহুর ০২/৫১৬)
সুতরাং আপনি আগে নিজের কুরবানী আদায় করুন। তারপর সুযোগ থাকলে ছেলের পক্ষ থেকে কুরবানী দিন।

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ وَجَد سَعَةً فلم يُضَحِّ فلا يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنا
‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (ইবনে মাজাহ ২১২৩, মুসনাদে আহমদ ৮২৭৩)
والله اعلم بالصواب

উত্তর দাতা:
শাইখ উমায়ের কোব্বাদী
সিনিয়ার মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুর রাশাদ, মিরপুর
খতীব, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ, মিরপুর

18/02/2026
28/07/2025

উত্তম কাজের প্রতিফল উত্তম পুরস্কার ছাড়া কী হতে পারে?

- (আর-রাহমান -৬০)

আইয়ামে বীদের সিয়াম।
04/05/2025

আইয়ামে বীদের সিয়াম।

আমি মিউজিক ছেড়ে দিয়েছিলাম,তারপর ভাবতাম কি করবো,কি কাজ করবো...?এক পর্যায়ে আমার অবস্থা এমন হলো যে,আমি আমার শেষ ১০০ রুপি বে...
30/04/2025

আমি মিউজিক ছেড়ে দিয়েছিলাম,তারপর ভাবতাম কি করবো,কি কাজ করবো...?
এক পর্যায়ে আমার অবস্থা এমন হলো যে,আমি আমার শেষ ১০০ রুপি বের করে আমার স্ত্রীকে দিয়ে দিলাম।তাকে বললাম, আগামীকাল থেকে আর কিছু চাইবে না, এখন আমার কাছে দেয়ার মত আর কিছু নাই।

আমার অবস্থা এমন হয়ে গেছিলো, উপরে আল্লাহ ছাড়া সেই মূহুর্তে আর কোন সহায় ছিলো না।
আমি মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের কাছে একবার একটা হাদীস শুনেছিলাম,
-যদি তুমি আল্লাহর জন্য কোন কিছু ছেড়ে দাও,আল্লাহ তোমাকে এর চাইতে অনেক গুন বেশী দিবে।

এই হাদীসের শব্দ গুলো আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল, আবার হতাশ হয়ে মাঝে মধ্যে চিন্তা করতাম আসলেই কি সু সময় আসবে?
পরক্ষনেই মাথায় আসতো, আল্লাহর নবীর কথা তো মিথ্যা হতে পারে না।

২০০২ সালের কথা বলছি, একদিন আমি মসজিদে বসে আছি, একজন ব্যক্তি এলেন আমার কাছে। উনি জিজ্ঞাসা করলেন ; ভাই তুমি বর্তমানে কি করছো?
আমি উত্তর দিলাম,বর্তমানে কিছুই করছি না।

উনি আমাকে বললেন, চলো আমরা কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি পার্টানারে। আমি ২৫ লাখ দিবো,আর তুমি দিবে ২৫ লাখ।
আমি রাজি হয়ে গেলাম। বাসায় এসে চিন্তা করছিলাম, আরে আমি যে রাজি হয়ে গেলাম এখন এই টাকা পাবো কোথায়?
মাথায় সারাদিন ঘুরতো,কি বিক্রি করবো, কার কাছে চাইবো। অবশেষে আমি পৈত্রিক জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে আমার পার্টানকে দিলাম।
আমরা কাপড় ক্রয় করলাম, রোজা এবং ঈদ টার্গেট করে সেগুলো দিয়ে জামা বানালাম।

কিন্তু আবারো আল্লাহর পরীক্ষায় পতিত হলাম।আমরা যেসব জামা বানিয়েছি সব গুলো জামার সাইজ এবং প্যার্টান ছোট বানিয়ে ফেলি। পাকিস্তানের বাজারে এই সাইজের জামা কেউ কিনতে চাইলো না।
মসজিদে এসে আল্লাহর কাছে সেজদায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করতাম, কি ভুল হয়েছে আল্লাহ?

আল্লাহ জবাব দিলেন অন্যভাবে ; একদিন পাকিস্তানের রাস্তায় আমি আর আমার পার্টনার কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, মানুষকে ডাকছি আমাদের ড্রেস গুলো কিনতে।
হঠাৎ দেখলাম, একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এসে আমাদের বললেন, আমার কিছু ছোট সাইজের সেলোয়ার আর কামিজ চাই। তোমরা ব্যবস্থা করে দিতে পারবে?
পাকিস্তানের বাজারে সব ড্রেস পাকিস্তানের মেয়েদের লম্বা অনুযায়ী বানানো হয়।আর বাংলাদেশের মেয়েরা কিছুটা শর্ট,তাই আমার ছোট সাইজের সেলোয়ার-কামিজ প্রয়োজন!

আমি আর আমার পার্টনার অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম কিছুক্ষন। আর আল্লাহর রাজিক কার কিভাবে নির্ধারিত হয়ে যায় তা সেদিন চিন্তা করছিলাম।
ঐ বাংলাদেশী ভাই আমাদের সব গুলো ড্রেস এক লটে কিনে নিয়ে গেলেন।

এতক্ষণ বলছিলাম,পাকিস্তানের এক সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পী জুনায়েদ জামসেদের গল্প।গল্পটি শুনেছি উনার এক লেকচার থেকে। যিনি মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের দাওয়াত পেয়ে মিউজিক ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় চলে এসেছিলেন।যশ,খ্যাতি,প্রাচুর্য সব পিছনে ফেলে একদম শূন্য হয়ে গেছিলেন। সেই জুনায়েদ জামসেদের হাত ধরেই পাকিস্তানে "খাদি" কাপড়ের ড্রেসের বিপ্লব শুরু হয়।মিউজিক ছেড়ে শেষ ১০০ রুপি স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া জুনায়েদ জামসেদের কাপড় তৈরির গার্মেন্টসে এক সময় কাজ করতো ১০ হাজার মানুষ।
করাচীতে সব চাইতে জনপ্রিয় কাপড়ের দোকান হয়ে উঠে জুনায়েদর ফ্যাশন হাউজ।

জুনায়েদ বলতেন, আমি মেয়েদের ড্রেস বানাই, কিন্তু মেয়েদের কোনদিন পন্য বিক্রির জন্য মডেল বানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতাম না। মেয়েদের ছবি এতটা মূল্যহীন নয় যে,আমরা মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে পন্য বিক্রি করবো।
রিজিকদাতা হলেন আল্লাহ, কোন মেয়ে,মডেল বা অভিনেত্রী নয়।

আমার মনে হতো, আমার ব্যবসায় আমরা দুইজন পার্টনার ছাড়াও তৃতীয় অংশীদার ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ।
আমার মনে হয়, আল্লাহ চান তার বান্দা আগে ঠিক হয়ে যাক, সহী লাইনে আসুক; তারপর উনি দায়িত্ব নিয়ে সেই বান্দার রিজিক ঠিক করবার দায়িত্ব নিয়ে নেন।

মনে রাখবেন, আল্লাহ নিজেই তো ঘোষণা দিয়েছেন;

" আর যে আল্লাহকে ভয় করে,আল্লাহ তার জন্য নিস্কতির পথ বের করে দিবেন, এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দিবেন।"

পাকিস্তানের তরুন সমাজের চিন্তার জগতে আলোড়ন তোলা জুনায়েদ জামসেদ ২০১৬ সালে বিমান দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন।যার গজল এখনো মুগ্ধ হয়ে শুনি।

[জুনায়েদ জামশেদের সাক্ষাৎকার থেকে]

From the river to the sea Palestine will be free inshaAllah.        #ফিলিস্তিন
07/04/2025

From the river to the sea
Palestine will be free inshaAllah.



#ফিলিস্তিন

রিযিকের বরকতের জন্য দোয়া ও আমল:দোয়া:১️. اللهم اكفني بحلالك عن حرامك وأغنني بفضلك عمن سواكউচ্চারণ: আল্লাহুম্মাক্‌ফিনি বিহ...
24/03/2025

রিযিকের বরকতের জন্য দোয়া ও আমল:

দোয়া:
১️. اللهم اكفني بحلالك عن حرامك وأغنني بفضلك عمن سواك
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাক্‌ফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওআগ্‌নিনি বিফাদলিকা আম্মান্‌ সিওয়াক।
অর্থ: "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার হালাল দ্বারা হারাম থেকে বাঁচাও এবং তোমার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে অন্যদের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে রক্ষা করো।"
(তিরমিজি ৩৫৬৩, হাসান সহীহ)

২️. اللهم إني أسألك علما نافعا، ورزقا طيبا، وعملا متقبلا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ‘ইলমান নাফি’আ, ওয়া রিযকান তইয়্যিবা, ওয়া ‘আমালান মুতাক্বাব্বালা।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।"
( ইবনে মাজাহ ৯২৫, সহীহ)

আমল:
১. আস্তাগফিরুল্লাহ বেশি বেশি বলা –
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং এমন উৎস থেকে তাকে রিযিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।"
(আবু দাউদ ১৫১৮, সহীহ)

২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা – রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি চায় তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং তার হায়াত দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।"
(সহীহ বুখারী ২০৬৭, সহীহ মুসলিম ২৫৫৭)

৩. তাওয়াক্কুল করা – আল্লাহ বলেন, "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তাঁর জন্য তিনিই যথেষ্ট।"
(সূরা তালাক, আয়াত নং ৩)

সাদাকাতুল ফিতর : জরুরি মাসায়েলযাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব==============================মাসআলা : প্রত্যেক মুসলিম নর-ন...
13/03/2025

সাদাকাতুল ফিতর : জরুরি মাসায়েল
যাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব
==============================
মাসআলা : প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকীম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। –রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৯
মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করবে।
মাসআলা : কেউ রমযানের রোযা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। –বাদায়েউস সানায়ে ২/১৯৯
মাসআলা : ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবে, তার পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ কেউ যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না। –বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৫
যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব
===============================
মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। –ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩
মাসআলা : পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। –ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ৩৯৫
মাসআলা : মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। –কিতাবুল আছল ২/১৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩
মাসআলা : সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। –কিতাবুল আছল ২/১৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩
মাসআলা : বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।
নাফে‘ রাহ. বলেন–
كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِيهِ عَمَّنْ يَعُولُ مِنْ نِسَائِهِ.
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। –মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০৪৫৫
বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হল, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। –আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১০৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩
মাসআলা : নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সাদাকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। –মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩/৬৩; সহীহ বুখারী ১/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৯৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৪৩৯-৪৪০; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১০৪; হেদায়া ২/২২১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৩;
সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ
=====================
মাসআলা : হাদীসে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা : ১. যব, ২. খেজুর, ৩. পনির, ৪. কিশমিশ ৫. গম।
এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু এক সা‘ পরিমাণ দিতে হবে। কেজির হিসাবে যা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা সা‘ দিতে হবে। কেজির হিসাবে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম। এটা ওজনের দিক দিয়ে তফাৎ। আর মূল্যের পার্থক্য তো আছেই।
উল্লেখ্য, হাদীসে এ পাঁচটি দ্রব্যের যে কোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যে কোনোটি দ্বারা তা আদায় করতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে উচিত হল, যার উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য আছে, তার জন্য ওই হিসাবেই দেওয়া। যার সাধ্য পনির হিসাবে দেওয়ার, তিনি তাই দেবেন। এরচেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারেন। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন, তিনি আদায় করবেন গম দ্বারা।
আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে, কুরআনের নির্দেশনা–
مَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا فَهُوَ خَیْرٌ لَّهٗ.
[অবশ্য কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পুণ্যের কাজ করে (এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আরো বাড়িয়ে দেয়) তবে তার পক্ষে তা শ্রেয়। [সূরা বাকারা (০২) : ১৮৪]
–এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বড় বড় বিত্তশালী ব্যক্তিগণ যদি সাধারণ সম্পদশালীদের মতো একই মানের সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করে হাদীসে বর্ণিত খাদ্যদ্রব্য থেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করেন, তবে তা-ই উত্তম হবে।
তবে এটি ভিন্ন কথা যে, কোনো ব্যক্তি হাদীসে বর্ণিত যেকোনো খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করলে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে।
সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের পদ্ধতি
==========================
মাসআলা : হাদীসে বর্ণিত দ্রব্যগুলো দ্বারা যেমন সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়, তেমনি এগুলোর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যাবে।
কুররা রাহ. বলেন–
جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ : نِصْفُ صَاعٍ عَنْ كُلِّ إنْسَانٍ ، أَوْ قِيمَتُهُ نِصْفُ دِرْهَمٍ.
আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আযিয রাহ.-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা‘ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা। –মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৪৭০
বিশিষ্ট তাবেয়ী আবু ইসহাক রাহ., যিনি ত্রিশেরও অধিক সাহাবী থেকে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন–
أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطّعَامِ.
আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেয়ীগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি। –সহীহ বুখারী ১/১৯৪; উমদাতুল কারী ৯/৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৪৭২; কিতাবুল আছল ২/১৮০; ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৫
মাসআলা : চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। –মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০৪৭২; কিতাবুল আছল ২/১৮০; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১১৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/২৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৫৫
মাসআলা : একজন গরিবকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে। এমনিভাবে একাধিক ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। –বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৬৭
মাসআলা : বিদেশে অবস্থানরত কারো পক্ষ থেকে দেশে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে ঐ দেশের হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ এ দেশে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে সৌদি আরবের নির্ধারিত ন্যূনতম সদকায়ে ফিতরের মূল্য যদি আট শ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে এ দেশে সদকায়ে ফিতর আট শ টাকা আদায় করতে হবে। –বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৫
মাসআলা : অধীনদের সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থল ধর্তব্য হবে। সুতরাং যারা প্রবাসে থাকেন, তাদের না-বালেগ সন্তান দেশে থাকলেও প্রবাসের মূল্য হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। –বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/২৮৯
সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময়
=========================
মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজন ঈদের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। –সহীহ বুখারী, হাদীস ১৫০৯
অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। –সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৬০৬
আর নাফে‘ রাহ. থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ঈদের দুই-তিনদিন পূর্বে ফিতরা উসূলকারীর নিকট সাদাকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন। –মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ৩১৬
সুতরাং সাদাকাতুল ফিতর রমযানের শেষ দিকেই আদায় করা উচিত। এতে গরিব লোকদের জন্য ঈদের সময়ের প্রয়োজন পূরণেও সহায়তা হয়। –আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৭
মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। –কিতাবুল আছল ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদীর ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৮
সাদাকাতুল ফিতর যাদেরকে দেওয়া যাবে
==============================
মাসআলা : যাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। –আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৬৮
আত্মীয়স্বজনকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া
===============================
মাসআলা : নিজের পিতামাতা, দাদা-দাদি প্রমুখ ঊর্ধ্বতন এমনিভাবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়স্বজন গরিব হলেও তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবে না। তবে এর বাইরে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যেমন, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাগনে, চাচা-মামা, ফুফু-খালা শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদি গরিব অসহায় হলে তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। –কিতাবুল আছল ২/১৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৬৮
মাসআলা : সদকায়ে ফিতর শুধু গরিব মুসলিমদের হক। তাই কোনো অমুসলিমকে সদকায়ে ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে না। তবে তাদেরকে নফল সদকা দেওয়া জায়েয এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। –মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০৫১২; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৯
[সংকলনে : মাওলানা তাহের বিন মাহমুদ]
[ মাসিক আলকাউসার || রমযান ১৪৪৬ || মার্চ ২০২৫ ]
#রমাযানুল_মুবারক_মাসিক_আলকাউসার

রমাদান কেমন কাটলো? একজন আলিম প্রশ্ন করলেন।বললাম, আলহামদুলিল্লাহ ভাল। উত্তর শুনে একই প্রশ্ন আবার করলেন, কেমন কাটলো?উত্তর ...
05/03/2025

রমাদান কেমন কাটলো? একজন আলিম প্রশ্ন করলেন।
বললাম, আলহামদুলিল্লাহ ভাল।
উত্তর শুনে একই প্রশ্ন আবার করলেন, কেমন কাটলো?
উত্তর আগেরটাই দিলাম, ভাল আলহামদুলিল্লাহ।

কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললেন, সত্যিই ভাল কেটেছে? ভাল থাকার অর্থ তো হলো, আমার রমাদান এমন ভাবে শেষ হলো, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিয়েছেন। আমার গুনাহগুলো মিটে গিয়েছে। আমার রোজা তারাবী, আমার সব আমল তিনি কবুল করে নিয়েছেন।

এরপর নিজেই কাঁদতে লাগলেন। অঝোরে…
হাত উঠিয়ে তারপর দু'আ শুরু করলেন। দু'আর ভেতর আওড়াতে লাগলেন মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের সেই কথাগুলো—
আল্লাহ! বাচ্চারা খাতার মধ্যে আঁকাবাঁকা উল্টো পাল্টা নানা কিছু লিখে নিয়ে এসে বলে, আব্বু/আম্মু! দেখো আমি কত সুন্দর লিখেছি। বাবা মাও তার সাথে সাথে বলেন, সত্যিই তো বাবা! অনেক সুন্দর হয়েছে!
আল্লাহ!

আমাদের আমলগুলোও তো এমন। আমাদেরও মনে হয়, কত ভাল ভাল কাজ করেছি। কত সাওয়াব কামিয়েছি। কিন্তু তুমি তো জানো, আমাদের আমলের প্রকৃত অবস্থা। তুমি যদি পাকড়াও করো, আমরা কেউ বাঁচতে পারবো না।
আল্লাহ! মার চেয়েও তুমি বেশি ভালবাসো। বাবার চেয়েও বেশি মুহাব্বত করো। আমাদের সাথে সেই ছোট বাচ্চার মতই মুআমালা করো। মাফ পাওয়ার যোগ্য না হলেও মাফ করে দাও…

~ রিজওয়ানুল কবির (হাফি.)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নতুন চাঁদ দেখে যে দোয়া বলতেন...
01/03/2025

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নতুন চাঁদ দেখে যে দোয়া বলতেন...

Address

Uttara
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Our Islamic Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Our Islamic Life:

Share