13/06/2020
রবের দিকে ফিরে আসুন।
আমি আপনি সবাই খুব আনন্দের সাথে জীবনযাপন করছি এখন। এতটাই আনন্দের সাথে জীবনযাপন করছি যে, এর একটু পর কি হতে পারে সে চিন্তাটুকুও মাথায় আসে না। প্রতি নিয়তই খুঁজে বেড়াচ্ছি সুখের অস্থিত্ব। নিত্য নতুন সুখ খুঁজতে গিয়ে অনেকে হয়তো পাড়ি জমাচ্ছি কষ্টের সাগরে।
দুনিয়ার মোহ আমাদের এতটাই আকৃষ্ট করে বসে আছে যে, আখিরাত নামক একটা জীবন আছে সেটার কথা আমরা বেমালুম ভুলে যায়। ঘুম থেকে উঠার পর থেকে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সারাটা দিনই আমরা দুনিয়াবী জিনিস খুঁজে বেড়ায়। আমাদের সারাদিনের চাওয়া পাওয়ার মধ্যে আখিরাত নামক বিষয়বস্তুটির উল্লেখ থাকে না বললেই চলে।
আমাদের সবার হাতেই চব্বিশ ঘন্টা আছে। সেই চব্বিশটা ঘন্টাকে আমরা চব্বিশ রকম দুনিয়াবী কর্মকান্ড দিয়ে শেষ করে দিচ্ছি। অথচ মাত্র একটি সেকেন্ড খরচ করার আগে একটু ভেবে দেখিনা যে, এই চব্বিশটা ঘন্টা আমাদের কে দিয়েছেন? তিনি হলেন আল্লাহ। কিন্তু যে আল্লাহ আমাদেরকে না চাইতেই চব্বিশটা ঘন্টা দিয়েছেন, সেই আল্লাহকে কি আমরা সারাদিনে মিলে একটি ঘন্টাও সময় দিচ্ছি? না দিচ্ছি না। কারণ আমাদের হাতে সময় নেই। এ প্রসঙ্গে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের বলছেন-
"হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি (অন্যান্য কাজ হতে) অবসর হও এবং ইবাদতে মন দাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর করব না।" [তিরমিযি: ২৪৬৬, ইবনে মাজাহ: ৪১০৭ (সহিহ)]
আমরা আল্লাহর ইবাদতে মন দিচ্ছি না এবং তাঁর নিকট কিছু চাচ্ছি না, তাইতো তিনি আমাদের হাত ব্যস্ততায় ভরিয়ে দিয়েছেন। আর যদি আমরা তাঁর ইবাদতে সময় ব্যয় করি, তাহলে দেখব ব্যস্ততা যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের সময় যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কাজগুলোও যেন তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে।
সুতারাং দয়া করে আপনার রবকে কিছুটা সময় দিন। একটু চিন্তা করুণ, মনে করুন এই মূহূর্তে আপনার ৫০০টাকা প্রয়োজন খুব দরকারে। আমি আপনাকে ধার দিলাম। টাকাটা পেয়ে আপনি অনেক খুশি হলেন। আমাকে ধন্যবাদও জানালেন। এরপর আপনার যে কাজে টাকাটা প্রয়োজন ছিল, সে কাজটিও সম্পূর্ণ হলো। তারপর আপনি খুশি হয়ে পরবর্তীতে আপনি নিশ্চয় আমাকে ঐ ৫০০টাকার সাথে কিছু টাকা নাস্তা করার জন্যও দিবেন।
অথচ দেখুন আল্লাহ আপনাকে না চাইতেই চব্বিশ ঘন্টা দিয়েছেন। তার প্রতিদান হিশেবে উনি সারাদিনে পাঁচ বারে মিলে মাত্র একটি ঘন্টা(এর চেয়ে একটু কম বা বেশিও হতে পারে) চাচ্ছেন আপনার কাছে। আর আপনি প্রতিদিনই অমান্য করে যাচ্ছেন।
একটু ভেবে দেখুন, আপনি প্রতিদিন উনার আদেশ অমান্য করে যাচ্ছেন। তারপরও উনি কিন্তু আপনার রিজিক বন্ধ করে দিচ্ছেন না। আপনাকে এত তাড়াতাড়ি মৃত্যুও দান করছেন না। কারণ তিনি আপনার তওবার জন্য অপেক্ষারত। তিনি আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন আপনি এতবেশি পাপ করা সত্ত্বেও উনার দয়া থেকে বঞ্চিত না হোন। দুনিয়ার মানুষের কথা চিন্তা করুণ, আপনি কারো আদেশ পালনে বাধ্য থাকলে এবং সে আদেশ অমান্য করলে, উনি আপনাকে একবার মাফ করবেন, এর পরের বার কিন্তু ঠিকি আপনাকে গালাগালি করবেন। অথচ দেখুন আপনি হাজারবার আল্লাহর আদেশ অমান্য করা সত্ত্বেও উনি আপনাকে কিছু বলছেন না, বরং আপনাকে সুসংবাদ দিয়ে জানাচ্ছেন, উনার দয়ার ব্যাপারে হতাশ না হতে। উনাকে ডাক দিলেই উনি আপনার ডাকে সাড়া দিবেন। তিনি বলেন,
"তোমরা আমাকে ডাক, নিশ্চয় আমি সাড়া দিব।"
----সূরা আল মুমিন-৬০।
"নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।"
----সূরা আল ইমরান-০৯।
একবার ভাবুন, আপনাকে তিনি কতটুকু ভালোবাসলে এমন সুসংবাদ দিবেন? এমন ভালোবাসার কথা আমি আপনি কল্পনাও করতে পারব না। সুতারাং দয়া করে ফিরে আসুন আপনার রবের দিকে। ওয়াল্লাহি আপনি কখনো ব্যর্থ হবেন না।
"হে আমার রব! আমিতো কখনো আপনাকে ডেকে ব্যর্থ হইনি।"
---সূরা মারইয়াম-০৪।