26/12/2024
জয়গুরু 🙏🙏🙏 পুরুষোত্তমজননী শ্রীমনোমোহিনীদেবী। গল্প,,, (১১)
শত্রুব্যক্তিকে সেবাদানের বিষয়ে জননীদেবীর আর একটি ঘটনা বলিতেছি। একদিন শ্রীশ্রীমার জননী কৃষ্ণসুন্দরীদেবী কন্যাকে বলিতেছিলেন, ---"মনু, তুই যে ওদের বাড়ীতে ঔষধ -পথ্য দিস, ওরা কিন্তু আমাদের ভীষণ শত্রু মনে করে। ঈশ্বর না করুন, যদি দৈবাৎ কোন দুর্ঘটনা ঘটে ওরা কিন্ত তোকেই দোষী করবে।" মাতৃদেবীর সরল মনের সহজ কথাগুলি শুনিয়া মনোমোহিনীদেবী বলিলেন,-- "মা, যে যা কিছু বলুক না, তাতে আমার কি যায় আসে? আমি তো আমাকে জানি। আমার কর্তব্য আমি করে যাব। আমি বুঝি----যদ্যপি নির্দোষী তুমি, কারে তব ভয়। দু:স্থদের প্রতি মনোমোহিনীদেবীর চিরদিনই অতীব স্নেহাশীলা ছিলেন। কত বিপন্না বিধবা রমণী তাঁহার আশ্রয়ে থাকিয়া জীবন কাটাইয়াছে, তাহার অবধি নাই।হিমাইতপুর, কাশীপুর, নাজিরপুর, প্রতাপপুর প্রভৃতি চতুষ্পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীদের তিনি আপন পরিজনের মত পরমাত্মীয় বলিয়া মনে করিতেন। প্রতিবৎসর শারদপূজার সময় তিনি পর্যাপ্ত পরিমাণ ধুতি, শাড়ি, ছোট জামা-প্যান্ট প্রভৃতি খরিদ করিয়া আনিয়া দরিদ্র পল্লীবাসীদের মধ্যে বিতরণ করিতেন। আপন পরিবার -পরিজনদের বস্ত্রাদি সংগ্রহের আগ্রহের চেয়ে গ্রামের দু:স্থ শিশু, নারী, ও বৃদ্ধদের কাপড়চোপড় যোগাইবার জন্য তিনি সমধিক চেষ্টা করিতেন। তিনি বলিতেন,-- "আমার পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা পরমপিতার দয়ায় কোনরকমে হবে, কিন্ত যারা দিনান্তেও একবার পেট ভরে খেতে পায়না, তাদের তো দেখবার কেউ নেই। বর্ষার বারিপাতে বস্ত্রের অভাবে, শীতের প্রকোপে, ক্ষুধার তাড়নায় এবং রোগের যাতনায় দরিদ্র গ্রামবাসীরা যাহাতে কষ্ট না পায় সেজন্য সর্বদা ব্যাকুল থাকিয়া তিনি তাহাদের দু:খমোচনে যত্নবতী থাকিতেন। তাঁহার এইরুপ অঢেল করুণালাভে চতুষ্পার্শের শত শত বিপন্ন হিন্দু মুসলমান সর্বদা সঞ্জীবিত রহিয়াছে। জীবনের শেষদিন পর্য্যন্ত মনোমোহিনীদেবী এইভাবে অনুসন্ধিৎসু সেবায় দুর্গত পারিপার্শ্বিকের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করিয়া গিয়াছেন।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏 ❤️❤️❤️ বন্দেপুরুষোত্তমম্ ❤️❤️❤️ 🙏🙏🙏🙏🙏🙏