06/01/2025
জয়গুরু 🙏🙏🙏পুরুষোত্তমজননী শ্রীশ্রীমনোমোহিনীদেবী। গল্প.........(১৭)।
সঙ্ঘভ্রাতা শ্রীভূষণচন্দ্র চক্রবর্তী নিজ জীবনের নিন্মোক্ত ঘটনাটি বিবৃতি করিয়াছেন। "শ্রীশ্রীমা ছিলেন আমাদের সবারই মা। কাহারও অসুখ বিসুখ হইলে তিনি মোটেই স্থির থাকিতে পারিতেন না। যতক্ষণ না রোগীর রোগযন্ত্রণার উপশম হইত, তিনি স্বস্তি পাইতেন না। একবার একটা বিষব্রণের যন্ত্রণায় আমার সমস্ত মুখ ফুলিয়া বিরুপ আকার ধারণ করে, কথা বলিবার শক্তি রহিত হয়। শ্রীশ্রীমার নিত্যকার অভ্যাস ছিল, -- রাত্রিযোগে তিনি একটা লণ্ঠন বা টর্চ লাইট লইয়া আশ্রম পল্লীর বাড়ী বাড়ী ঘুরিয়া সকলের ভালমন্দের খবর লইতেন। সেদিন রাত্রিশেষে শ্রীশ্রীমা আমাদের বাড়ীর দিকে আসিয়া আমাকে নাম ধরিয়া ডাকিতে ডাকিতে আমার ঘরে আসিয়া ঢুকিলেন। তিনি আমার স্ত্রীর কাছে শুনিলেন, আমি ব্রণের ভীষণ যন্ত্রণায় সারারাত্র একটু ঘুমাই নাই এবং কোন কথাও বলিতে পারি না। মা মশারি তুলিয়া টর্চ দিয়া আমাকে ভাল করিয়া দেখিলেন।আমার মুখমণ্ডলের বীভৎস ভয়ংকর অবস্থা দর্শনে তাঁহার মস্তকে যেন বজ্রপাত হইল, তিনি আঁৎকাইয়া উঠিলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পাগলের মত ছুটিয়া গিয়া শ্রীশ্রীঠাকুরকে ঘুম হইতে জাগাইয়া তুলিয়া তাঁহার নিকট আমার অবস্থা সবিস্তারে বলিলেন এবং তন্মুহুর্থে একজন ডাক্তার লইয়া আমার কাছে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তাঁহার বিশেষ নির্দেশে এবং তত্ত্বাবধানে আমার যথারীতি চিকিৎসা ও শুশ্রূষা চলিতে লাগিল। বেশ কিছুদিনে আমি আস্তে আস্তে নিরাময় হইয়া উঠিলাম। যতদিন আমি অসুস্থ ছিলাম, শ্রীশ্রীমা প্রত্যহ দিবারাত্র অসংখ্যবার আমাকে দেখিতে আসিতেন, ওষধপত্র ও পথ্যাদি সম্বন্ধে বিস্তারিত সংবাদ লইতেন, আমার শয্যাপার্শ্বে বসিয়া নানা বিষয়ে মধুর আলাপনে আমাকে উৎফুল্ল রাখিবার কত প্রয়াস পাইতেন! আমি সম্পূর্ণ সারিয়া না উঠা পর্য্যন্ত শ্রীশ্রীমা আমার জন্য কিরুপ ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন, স্বচক্ষে দেখিয়া অবাক বিষ্ময়ে অভিভূত হইয়াছি।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏 ❤️❤️❤️ বন্দেপুরুষোত্তমম্ ❤️❤️❤️ 🙏🙏🙏🙏🙏🙏