ইসলাম শান্তির ধর্ম

ইসলাম শান্তির ধর্ম ইসলাম আমাদের ধর্ম এবং সঠিক পথ চলার রাস্তা । এই পেইজ এ লাইক দিয়ে পাশে থাকুন ধন্যবাদ।

*ভয়ংকর হিসাব*আপনি ঘুমাচ্ছেন,কিন্তু আমলের ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে যাচ্ছে।আপনি নামাজ পড়ছেন,আমল করছেন,তাও ফেরেশত...
17/04/2022

*ভয়ংকর হিসাব*
আপনি ঘুমাচ্ছেন,
কিন্তু আমলের ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে যাচ্ছে।
আপনি নামাজ পড়ছেন,আমল করছেন,
তাও ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে যাচ্ছে।
আপনি খাচ্ছেন, পড়াশোনা করছেন কিংবা চুপচাপ বসে আছেন,
তবুও আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখা হচ্ছে।
কিন্তু কেন??? অপরাধটা কি???
কারণ আপনি এখন কিছু না করলেও অনেকগুলো নন-মাহররমের চোখ আপনার ফেসবুকে আপলোড দেওয়া ছবি দেখে যাচ্ছে।
আপনার Tik Tok,
Likee তে আপলোড করা ভিডিও দেখে যাচ্ছে।
যখনই কেউ একজন আপনার ছবি-ভিডিও দেখছে, আমলের ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে দিচ্ছেন।
আপনি যদি মারাও যান তবুও আমলের ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখেই যাবেন।
সহজ কথায় ছবি-ভিডিও গুলো আপনার জন্য গুনাহে জারিয়া হিসেবে কাজ করছে।
আবার আপনি হয়তো কোন গান কিংবা মুভির লিংক শেয়ার করেছেন,
আপনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যতজন সেটা শুনেছে কিংবা দেখেছে সমপরিমাণ গুনাহ আপনার একাউন্টেও জমা হয়ে গেছে।
কি ভয়ংকর হিসাব!!!
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না।
অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’
(মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮০)
লাখ লাখ মানুষকে জাহান্নামি বানাচ্ছে- Facebook, Tik tok, Likee তে যারা সস্তা সেলিব্রিটি হওয়ার আশায় নেচে-গেয়ে ভিডিও আপলোড করেন, তাদের স্মরন করিয়ে দিতে চাই---
আপনি মারাও গেলেও কিন্তু ইন্টারনেটে আপনার ভিডিও গুলো থেকে যাবে। তখন যতো মানুষ এই ভিডিও গুলো দেখবে কবরে আপনাদের আযাব ততোই বাড়তে থাকবে!
সুতরাং এখনই ভেবে দেখুন,
হারাম ভিডিও কি আরো বানাবেন?
নাকি আযাব হতে বাঁচতে, সব হারাম ভিডিও ডিলিট করে দিবেন?
যে কোনো মূহুর্তে মালাকুল মউত আপনার সামনে হাজির হয়ে যাবে।
তখন কিন্তু খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে........
অন্য দিকে কেউ হয়তো এই সামাজিক মাধ্যম গুলোতে অন্যদের দীনের দাওয়াত দিচ্ছে, শিক্ষা মূলক পোস্ট দিচ্ছে,কুরআন-হাদীসের কথা শেয়ার করছে কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আমল শেয়ার করছে। তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদম উল্টো হতে থাকবে।
যতজনই তাদের মাধ্যমে কোনভাবে উপকৃত হচ্ছে কিংবা নতুন কিছু শিখে আমল করছে,অটোমেটিকেলি তাদের একাউন্টেও সমপরিমাণ নেকি সওয়াব জমা হয়ে যাচ্ছে।
কি সুন্দর হিসাব সুবহানাল্লাহ!
মৃত্যুর পরও তাদের এসব কাজ তাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কাজ করবে, তাদের কবর হবে শান্তিময়। ইন শা' আল্লাহ।
আচ্ছা আমরা কি চাইব এমন কিছু দুনিয়াতে করে যেতে,
যা কিনা মৃত্যুর পর কবরে আমাদের কষ্ট-আযাব প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিবে?
নাকি আমরা এমন কিছু রেখে যেতে চাইব,
যা প্রতিনিয়ত আমাদের নেকির পাল্লা ভারি করে দিয়ে আমাদের কবরটাকে শান্তিময় করতে থাকবে?
সিদ্ধান্ত টা কিন্তু আমাদের।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন‌!! 🖤

17/04/2022

‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানা, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’
অর্থ : হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর, আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। -সূরা বাকারা : ২০১
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ দোয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি সবচেয়ে বেশি করতেন।
দোয়ার ফজিলত
বিশিষ্ট তাবেয়ি হজরত কাতাদা (রহ.) সাহাবি হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, নবীজী (সা.) কোন দোয়া বেশি করতেন? উত্তরে আনাস (রা.) উপরোক্ত দোয়ার কথা জানালেন। তাই আনাস (রা.) নিজেও যখন দোয়া করতেন তখনই দোয়াতে উক্ত আয়াতকে প্রার্থনারূপে পাঠ করতেন। এমনকি কেউ তার কাছে দোয়া চাইলে তিনি তাকে এ দোয়া দিতেন। একদা তিনি মন্তব্য করেন, আল্লাহতায়ালা এ দোয়াতে দুনিয়া ও আখেরাতের সব কল্যাণ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা একত্রিত করে দিয়েছেন।
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) এক রোগী দেখতে গেলেন। তিনি দেখলেন, রোগী একেবারে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আল্লাহর কাছে কি কোনো প্রার্থনা করেছিলে? সে নিবেদন করল, হ্যাঁ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, হে আল্লাহ! আমার পরকালের শাস্তি আপনি আমাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। নবী (সা.) আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার ক্ষমতা কি কারো আছে? তুমি এখন থেকে এ দোয়া করতে থাক, রাব্বানা আতিনা...।’ দেখা গেল, এ দোয়ার বরকতে আল্লাহতায়ালা তাকে আরোগ্য দান করলেন।
অন্য আরেক বর্ণনায় আছে, নবী (সা.) রুকনে ইয়ামানি (কাবা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ) ও রুকনে আসওয়াদের (কাবা শরিফের দক্ষিণ কোণ) মাঝে উপরোক্ত দোয়া করতেন। তাই হজ ও ওমরার তাওয়াফকালে এ দোয়া পড়তে থাকা সুন্নত।
হাসানা শব্দের ব্যাখ্যা
বর্ণিত দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘হাসানা’ শব্দটি। বাংলায় এর অর্থ—সুখ, কল্যাণ, মঙ্গল ইত্যাদি। আল্লাহতায়ালা হাসানা শব্দকে দুনিয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন আবার আখেরাতের জন্যও ব্যবহার করেছেন। দুনিয়ার হাসানাকে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে হজরত আলী (রা.) বলেছেন, নেককার স্ত্রী। ইবনে উমর (রা.) বলেছেন, নেককার সন্তান ও জনপ্রিয়তা। হজরত কাতাদা (রহ.) বলেছেন, সুস্বাস্থ্য ও পর্যাপ্ত রিজিক। হজরত হাসান (রহ.) বলেছেন, দ্বীনী জ্ঞান ও ইবাদতের তওফিক। সুদ্দি (রহ.) বলেছেন, উপকারী সম্পদ। হজরত জাফর (রা.) বলেছেন, বুজুর্গদের সান্নিধ্য। আল্লামা আলুসি (রহ.) উপরোক্ত ব্যাখ্যাগুলো উদ্ধৃতি করার পর মন্তব্য করেছেন, ‘আসলে হাসানা একটি ব্যপক শব্দ। কল্যাণ ও সুখের নির্দিষ্ট একটি দিক বা উপকরণ এখানে উদ্দেশ্য নয়। বরং সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ সুখ ও কল্যাণ এখানে উদ্দেশ্য হবে। আমাদের পূর্বসূরি মুফাসসিররা হাসানার ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য উপরোক্ত মতগুলো পেশ করেননি। বরং তারা সহজে বুঝার জন্য উদাহরণ দিয়েছেন মাত্র।’
মোট কথা, দুনিয়ার হাসানা ও আখেরাতের হাসানা বলতে বুঝায়, মানুষের দুনিয়া ও পরকালের জীবনের সব প্রয়োজন পূরণ হওয়া এবং উভয় জীবনে সুখ, শান্তি ও আরাম-আয়েশে থাকা।
দোয়ার শিক্ষা
জীবনের উদ্দেশ্য বিবেচনাতে মানুষ তিনভাগে বিভক্ত। যথা—
১. কিছু মানুষ দুনিয়াকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য মনে করে। দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তি, সম্পদ, সম্মান, প্রতিপত্তি ইত্যাদি তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তারা যা কিছু করে সব কিছু দুনিয়ার স্বার্থে করে। এমনকি তারা যদি নামাজ পড়ে, হজ করে, জিকির করে, তাসবিহ পাঠ করে, মোনাজাত করে তবে এগুলোও দুনিয়ার জন্যই করে। যদি শোনে এ তাসবিহ পড়লে ধন বাড়বে তারা আগ্রহের সঙ্গে তা আমল করে। কিন্তু যদি শোনে এ তাসবিহ পড়লে আল্লাহ রাজি হবেন বা জাহান্নাম থেকে বাঁচা যাবে তবে এ আমল করতে তারা কোনো আগ্রহবোধ করেন না।
২. কিছু মানুষ দুনিয়ার সুখ চায় আবার আখেরাতের সুখও চায়। দুনিয়ার জন্যও তারা মেহনত করে আবার আখেরাতের জন্যও মেহনত করে। তবে আখেরাতের জীবন ও সুখ তাদের কাছে প্রধান বিষয়। যদি আখেরাত ঠিক রাখতে যেয়ে কখনো দুনিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে তারা দুনিয়ার ক্ষতি মেনে নিয়ে হলেও আখেরাত ঠিক রাখে। তারা দুনিয়ার সুখের জন্য আখেরাত ধ্বংস করতে রাজি না। হ্যাঁ, আখেরাত ঠিক রেখে দুনিয়ার যতটুকু সুখ, শান্তি লাভ সম্ভব ততটুকুর জন্য তারা আগ্রহী থাকে।
৩. কিছু মানুষ দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও প্রয়োজনকে অস্বীকার করে। দুনিয়ার জন্য কিছু করতে তারা রাজি না। এমনকি দুনিয়ার সুখের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করাকেও তারা মন্দ দৃষ্টিতে দেখে। আল্লাহর কাছে দুনিয়ার কোনো কিছু চাওয়াকে তারা তাকওয়া ও বুজুর্গির পরিপন্থী মনে করে।
পবিত্র কোরআনে কারিমের উপরোক্ত দোয়া ওপরে বর্ণিত প্রান্তিক দু’শ্রেণি থেকে পৃথক হয়ে দুই নম্বরে বর্ণিত মধ্যপন্থী হওয়ার শিক্ষা দেয়। এ দোয়া ওপরে বর্ণিত দু’ধরণের সঙ্কীর্ণ চিন্তা থেকে বের হয়ে এসে দুই নম্বরে বর্ণিত মুক্তচিন্তা লালনের শিক্ষা দেয়।
জাগতিক সুখকে একমাত্র লক্ষ্য স্থির করা বা তাকে প্রাধান্য দেয়া হবে মানব জীবনের সবচেয়ে চরম ভুল সিদ্ধান্ত। শুধু দুনিয়া লাভের বাসনা ও আকাঙ্ক্ষার নিন্দা করে সূরা বাকারার ২০০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা এমনটি করবে আখেরাতে তারা কিছুই পাবে না।’
আবার দুনিয়াকে একেবারে অস্বীকার করা, দুনিয়ার প্রয়োজনকে অস্বীকার করা ইত্যাদি কাজ হবে নবীদের সুন্নত ছেড়ে দেয়ার নামান্তর। কেননা, নবীরা আল্লাহর কাছে সন্তান প্রার্থনা করেছেন, বিয়ে করেছেন, হালাল উপার্জনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
যারা আখেরাতের জীবনের সুখ-শান্তিকে প্রাধান্য দিয়ে দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণের জন্য হালাল উপায় অবলম্বন করবে এবং উভয় জগতের সব প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, ‘তারা (দুনিয়া-আখেরাতে) তাদের আমলের বিনিময় পাবে।’ -সূরা বাকারা : ২০২

17/04/2022

অজুর সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে কি?
রমজানে আমি একদিন দিনের বেলা রোজার কথা ভুলে গিয়ে ওযুর সময় স্বাভাবিকভাবে গড়গড়া করে কুলি করছিলাম। তখন গলার ভেতরে অল্প পানি চলে যায়।
এখন জানতে চাই, আমার কি ওই দিনের রোজা ভেঙে গিয়েছে? যদি ভেঙে গিয়ে থাকে তাহলে কি আমার ওপর ওই দিনের কাজা-কাফফারা উভয়টি আবশ্যক হবে, নাকি শুধু ওই দিনের রোজার কাজা আদায় করতে হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর হলো- প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার রোজার কথা স্মরণ ছিল না, তাই গড়গড়া করে ওযু করার সময় গলার ভেতরে পানি চলে যাওয়াতে আপনার রোজা ভাঙেনি। সুতরাং আপনাকে ওই দিনের রোজার কাজা-কাফফারা কোনোটিই আদায় করতে হবে না।
ভুলে পানাহার করলেও রোজা ভাঙে না
এছাড়াও আরও জেনে রাখা দরকার যে, ভুলে পানাহার করলে রোজা ভাঙে না। আর কেউ যদি ঘুমে পানাহার করে— তাহলে তো রোজা ভাঙার প্রশ্নই উঠে না।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল; সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১/২০২)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আছে, ‘যে রমজান মাসে ভুলে পানাহার করল, তার ওপর কোনো কাজা নেই; কোনো কাফফারাও নেই।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ০৮/২৮৮; হাকিম, হাদিস : ০১/৪৩০; সাহিহুল জামি, হাদিস : ৬০৭০)
আরও পড়ুন : কারও বদলি রোজা রাখা কি জায়েজ?
ফিকহের কিতাবে রয়েছে যে, পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়; যদি রোজাদারের এ কথা মনে থাকে যে; সে রোজা রেখেছে। সুতরাং কেউ যদি রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার ও সঙ্গম করে, তবে তার রোজা ভাঙবে না। অবশ্য, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হব। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ৩৬৫)
তথ্যসূত্র : মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ৯৫৮০; কিতাবুল আছল : ২/১৫০; বাদায়িউস সানায়ি : ২/২৩৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৩৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২০২; রদ্দুল মুহতার : ২/৪০১

রমজান মাসে শয়তান শিকলবন্দী থাকার পরও আমরা কেন পাপ করি..!!??সূরা ইবরাহিমের-২২ নং আয়াতে শয়তান বলে, "আমার তো তোমাদের উপর কো...
17/04/2022

রমজান মাসে শয়তান শিকলবন্দী থাকার পরও আমরা কেন পাপ করি..!!??
সূরা ইবরাহিমের-২২ নং আয়াতে শয়তান বলে,
"আমার তো তোমাদের উপর কোনো আধিপত্য ছিল না,আমি তোমাদের ডেকেছিলাম তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে।"
কুরআনের আরেক জায়গায় অর্থাৎ সূরা নিসা-৭৬ এ বলা হয়েছে শয়তানের কৌশল দূর্বল!
অর্থাৎ শয়তানের এই শক্তি নেই যে সে মানুষকে গুনাহ করাতে বাধ্য করবে! শয়তান শুধুমাত্র আমাদের ওয়াস-ওয়াসা দেয়!
রমজান মাসে যেহেতু শয়তান বন্দী থাকে তাহলে সে কিভাবে ওয়াসওয়াসা দেয় সেটা প্রশ্ন!?
একটি উদাহরণ দেয়া যাক...
"ধরুন একটি ফ্যান ফুল স্পিডে ঘুরছে! আপনি ফ্যানটি বন্ধ করলেন..!
আপনি ফ্যানটি বন্ধ করার সাথে সাথে কি সেটা একদম স্থির হয়ে যাবে?
কখনোই না!
বরং এটা আস্তে আস্তে স্থির হবে!
ঠিক তেমনিভাবে শয়তান আমাদেরকে সারাবছর ওয়াস-ওয়াসা দেয় কিন্তু হঠাৎ করে রমজান মাসে শিকলবন্দী হলেও তার সারা বছরের ওয়াস-ওয়াসার রেশ রমজান মাসেও থেকে যায় যার কারণে আমরা পাপে লিপ্ত হই!
নফসের দাসত্ব করি!
আবার সূরা নাস-৬ নং আয়াতে জ্বীনদের মধ্য হতে অথবা মানুষের কুমন্ত্রণা/অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া হয়েছে!
তার মানে পাপ কাজ বা কুমন্ত্রণা যে শুধু শয়তান দেয় তা নয়!
শয়তান যেমন জ্বীনদের মধ্যে হয় তেমনি মানুষের মধ্য থেকেও হয়!
মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক আছে যাদের কথাবার্তা শুনলে অন্তরে কুচিন্তা জাগ্রত হয়!
রমজান মাসে জ্বীন নামক শয়তানকে বন্দী করে রাখলেও মানুষ নামক শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয় না যার কারণে তাদের সান্নিধ্যে থেকে আমরা বিভিন্ন পাপে জড়িয়ে যাই!
সূরা আনআম-১১২ নং আয়াতেও আছে যে,
"মানব ও জ্বীনদের মধ্যে হতে শয়তান কিসিমের লোক,যারা ধোকা দেয়ার উদ্দেশ্য একে অন্যকে বড় চমৎকার কথা শেখাতো।"
আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো নফস!
তাই ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন..
❝বাহিরের শত্রু আমার কি ক্ষতি করবে?
যখন আমার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো আমার নফস!❞
লেখাঃ ✍️ Mariom Akter

16/04/2022

রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে কী?
অনেকে শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত। কেউ কেউ হয়তো নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই জেনে রাখা জরুরি যে, রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার করা জায়েজ কিনা? কারণ, অনেকে দ্বিধা-সংশয়ে ভোগেন— এবং এতে করে কষ্টও পান।
ইনহেলার ব্যবহার করা হয় মূলত শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে। বিশেষ পদ্ধতিতে মুখের ভেতরভাগে স্প্রে করতে হয়। এতে শ্বাসরুদ্ধ জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলের কষ্ট দূর হয়। যদিও স্প্রে করার সময় ওষুধটি গ্যাসের মতো দেখায়, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে এটি দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ। তাই মুখের ভেতরে স্প্রে করার কারণে রোজা ভেঙে যাবে।
মোদ্দাকথা, সালবিউটামল ও ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যায়। তাই রোজা অবস্থায় কেউ ইনহেলার ব্যবহার করে থাকলে, পরে রোজার কাজা আদায় করে দিতে হবে।
রোজা না ভেঙে কষ্ট থেকে রেহাই
তবে হ্যাঁ, মুখে স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুতু দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। এভাবে কাজ চললে বিষয়টি খুবই সহজ হয়ে যাবে। এতে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি রোজা ভাঙবে না।
অনেককে বলতে শোনা যায়— ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, তাই এতে রোজা ভঙ্গ হবে না। তাদের এ উক্তিটি সঠিক নয়। কেননা কেউ যদি ক্ষুধার তাড়নায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে অতি প্রয়োজনে কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে অতি প্রয়োজনে খাওয়ার কারণে ভেঙে যাবে। সুতরাং ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে রোজার কাজা দিতে হবে।
(সূত্র : ইবনে আবিদিন, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ৩৯৫; ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ৫/৪৫৯; হেদায়া ১/১২০)

16/04/2022

১৫ টি কারণে রোজা ভাঙে না (অথচ অনেকে মনে করে, এসব কারণে রোজা ভেঙে যায়)
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
(১) অনিচ্ছাকৃত বমি (মুখ ভরে হলেও) রোজা ভাঙবে না। তেমনি, বমি কণ্ঠনালীতে এসে নিজে নিজে ভেতরে ঢুকে গেলেও রোজা ভাঙবে না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তির বমি এসে গেছে তার উপর কাজা নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করেছে, তাকে কাজা আদায় করতে হবে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭২০; হাদিসটি সহিহ]
(২) শরীর থেকে রক্ত বের হলে, শিঙ্গা লাগালে বা কাউকে রক্ত দিলে রোজা ভাঙবে না।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমতাবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন (হিজামা করিয়েছেন), যখন তিনি রোজাদার। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৩৯]
আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, রোজা অবস্থায় হিজামা তথা শিঙ্গা লাগানোকে কি আপনারা মাকরুহ মনে করতেন? তিনি বলেন, ‘না। তবে এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়লে তা মাকরুহ হবে।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৪০]
সুতরাং, রোজা অবস্থায় রক্ত দিতেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ দুটোই সেইম। এমনটিই বলেছেন বিশিষ্ট আলিমগণ।
(৩) সুরমা, কাজল, সুগন্ধি ইত্যাদির দ্বারা রোজার কোন ক্ষতি হয় না। আনাস ইবনু মালিক (রা.) রোজাদার অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন। [ইমাম আবু দাউদের সুনান সূত্রে ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার: ১৩০৫; সনদ হাসান; ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, হাকিকাতুস সিয়াম, পৃষ্ঠা: ৪০-৪১]
ইমাম যুহরি (রাহ.) বলেন, রোজা অবস্থায় সুরমা লাগানোতে কোনো সমস্যা নেই। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ৯২৭৫; বর্ণনাটি সহিহ]
তেমনি, শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করলেও রোজা ভাঙবে না। [ইমাম আবদুর রাযযাক, আল মুসান্নাফ: ৪/৩১৩]
(৪) মশা, মাছি, ধুলাবালি, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলা বা পেটে ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ‘‘কারো গলায় মাছি ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না।’’ [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল মুসান্নাফ: ৬/৩৪৯; শায়খ ইবনু উসাইমিন, রমযান মাসের ৩০ আসর, পৃষ্ঠা: ১৫৩]
(৫) ভুলে কিছু পানাহার করলে রোজা ভাঙবে না। হাদিসে এসেছে, ‘‘যে রোজাদার ভুলে খেয়ে ফেললো বা পান করে ফেললো, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে; কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৩৩]
(৬) স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙে না।
কারণ স্বপ্নদোষ হওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না।’’ [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬]
(৭) রোজা অবস্থায় অজ্ঞান, বেহুঁশ বা অচেতন হলে রোজা ভাঙবে না। তাবিয়ি নাফে’ (রাহ.) বলেন, ‘(সাহাবি) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) একবার নফল রোজা অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে যান। কিন্তু এ কারণে তিনি রোজা ভঙ্গ করেননি।’ [ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৪/২৩৫]
(৮) ইবনু উমার (রা.) বলেন, ‘‘রোজা অবস্থায় মিসওয়াক—কাঁচা বা পাকা ডাল দিয়ে—করলে রোজার কোনো সমস্যা হবে না।’’ এমনকি ইফতারের পূর্বে মিসওয়াক করলেও অসুবিধা নেই। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল মুসান্নাফ: ৯১৭৩; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
[রামাদানে দিনের বেলায় টুথপেস্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এর কিছু স্বাদ মুখে পাওয়া যায়, ফলে এটি মাকরুহ। তবে, কেউ গিলে না ফেললে রোজা ভাঙবে না]
(৯) নাইট্রোগ্লিসারিন-জাতীয় ইনহেলারে রোজা ভাঙবে না, তবে ভেনটোলিন ইনহেলারে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এর কিছু অংশ খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে। [মাসিক আল কাউসার সূত্রে ‘রমযান মাসের উপহার’, মাওলানা হাবীবুর রহমান]
(১০) নাকে ড্রপ, স্প্রে ব্যবহারের পর তা যদি গলার ভেতরে চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। অবশ্য গলায় না গেলে বা স্বাদ অনুভূত না হলে রোজা ভাঙবে না। [মাজাল্লাতু মাজমা‘ইল ফিকহিল ইসলামি: ২/৪৫৪; মাসিক আলকাউসার সূত্রে ‘রমযান মাসের উপহার’]
(১১) খাবার ঠিকঠাক আছে কীনা তা বোঝার জন্য ঘ্রাণ নিলে রোজা ভাঙবে না। ইবনু উসাইমিন (রাহ.) বলেন, ‘খাবারের স্বাদ গ্রহণ করলে রোজা ভাঙবে না, যদি গিলে ফেলা না হয়।’ [রমযান মাসের ৩০ আসর, পৃষ্ঠা: ১৫৫]
তবে, বাধ্য না হলে এমনটি করা মাকরুহ। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহ.) বলেন, ‘প্রয়োজন ছাড়া খাবার চেখে দেখা মাকরুহ; তবে এতে রোজা ভঙ্গ হবে না।’ [ফাতাওয়া কুবরা: ৪/৪৭৪]
(১২) রোজা অবস্থায় নখ বা চুল কাটতে কোনো সমস্যা নেই। মেয়েরা হাতে-পায়ে মেহেদী দিলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। [শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিলের রিসালাহ]
(১৩) সহবাস ছাড়া স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হলে রোজা ভাঙবে না। তবে বীর্যপাত হওয়া যাবে না।
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজাদার অবস্থায় (স্ত্রীকে) চুমু খেতেন এবং তাদের সাথে (ঘনিষ্ঠ) মেলামেশা করতেন। তবে, নিজ আবেগ-উত্তেজনার উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিলো তোমাদের সবার চেয়ে বেশি।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯২৭]
ইবনু উসাইমিন (রাহ.) বলেন, ‘কিছু লোক আছে, যারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; তাদের দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তি ফরজ রোজা পালনকালে স্ত্রীকে চুম্বন করা, আলিঙ্গন করা ইত্যাদির মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে তাকে সাবধান থাকবে। আর যদি ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে জানে যে, সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তাহলে তার জন্য স্ত্রীকে চুম্বন করা ও জড়িয়ে ধরা জায়েয আছে; এমনকি ফরজ রোজার মধ্যেও।’
তবে, সাবধান! রোজা অবস্থায় দিনের বেলা উত্তেজনাবশত সহবাস করে বসলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে। তাই, এসব ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা চাই।
(১৪) রামাদানে রাতের বেলা সহবাস করতে কোনো অসুবিধা নেই। এমনকি সহবাসের পর গোসল না করে সাহরি খেয়ে ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর গোসল করলেও সমস্যা নেই। আয়িশা (রা.) ও উম্মু সালামা (রা.) বর্ণনা করেন যে, (রাতে সহবাসের ফলে) অপবিত্র থাকা অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফজর হয়ে যেতো; এরপর তিনি গোসল করতেন ও রোজা রাখতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯২৬]
তবে, ফজরের সময়টি খুব দীর্ঘ না। তাই, কোনোভাবেই যেন ফজরের ওয়াক্ত কেটে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
(১৫) গরমের কারণে, শরীর ঠাণ্ডা করতে কিংবা পিপাসা নিবারণ করতে একের অধিকবার গোসল করতেও সমস্যা নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই কাজটির প্রমাণ রয়েছে। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৬৫; হাদিসটি সহিহ]
#আলোকিত_রামাদান (দশম পর্ব)
আগের সকল পর্বের লিংক কমেন্টে পাবেন।

16/04/2022

রোজা রেখে ডায়াবেটিস মাপা যাবে কি?
রোজা রাখা অবস্থায় কি ডায়বেটিস মেশিন দিয়ে মেজার করা যাবে? উল্লেখ্য তাতে রক্তের প্রয়োজন হয় এবং সুঁই বা পিন জাতীয় জিনিস দিয়ে আঙ্গুল থেকে রক্ত নিয়ে মেপে দেখতে হয়। এমন অবস্থায় ডায়বেটিস মাপলে কি রোজা ঠিক থাকবে নাকি ভেঙে যাবে?
রমজানের রোজা আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান হলো সেই মাস, যাতে কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে— সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
এখন কথা হলো- রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ— যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোযা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোযা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়।
আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোযা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না— সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যেহেতু ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোঁটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ।
তথ্যসূত্র : সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৩৬, ১৯৪০; আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৭৩; কিতাবুল আসল : ২/১৬৮; মাজমাউল আনহুর : ১/৩৬০)

১ মিনিট পড়ুন নবীর ঘটনা 😢আমার কলিজার নবী দয়ার নবী। আমরা তার উম্মত হয়ে কি কাজ করতেছি?একদিন লক্ষ করলেন মা আয়েশা সিদ্দিকা রা...
14/04/2022

১ মিনিট পড়ুন নবীর ঘটনা 😢
আমার কলিজার নবী দয়ার নবী।
আমরা তার উম্মত হয়ে কি কাজ করতেছি?
একদিন লক্ষ করলেন মা আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ আমাদের প্রিয় নবীর পূনির্মার মতো চেহারায় মাঝে হালকা হালকা কালো গর্তোর মতো দাগ দেখা যায়! তখন মা আয়েশা সিদ্দিকা নবীজিকে বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ এগুলো কি বসন্তের দাগ যদি বসন্তের দাগ হয়ে থাকে আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন আপনার এগুলো পরিষ্কার হয়ে যাক! তখন আমাদের দয়ার নবী মায়ার নবী চোখের পানি ফেলে বললেন এরে আয়েশা এই দাগের কথা জানতে চেয়ো না এ দাগের কথা মনে হলে আমার কলিজা মানে না 🥀এরে আয়শা " শুনো এগুলো বসন্তের দাগ নয় এগুলো হচ্ছে তায়েফের জমিনে যুবকদের পাথরের আঘাতের দাগ আমি যখন ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম তখন যুবকেরা আমাকে এক বার নয় ২বার নয় তিন-তিনবার পাথরের আঘাত করে বেহুশ করে দিয়েছিল এই দাগ সেই তায়েফের জমিনের পাথরের আঘাতে দাগ 🥀 তখন মা আয়েশা বললো হে নবীআপনি আল্লাহ'র কাছে দোয়া করুন তাহলে নিশ্চয়ই এই দাগ গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে " তখন আমাদের প্রিয় নবিজী আরো কাঁদতে লাগলে বললো
আয়শা না না এই দাগ আমি মুছবো না 🥀কাল যখন হাশরের মাঠ কায়েম হয়ে যাবে
আমার গুনাগার উম্মত গুলো নবী কই নবী
কই বলে খুঁজবে!! তখন আমি এই একেকটা দাগের উছিলায় আমার কোটি কোটি উম্মতকে পুলসিরাত পার করে দিবো
বন্ধুরা আমরা সেই নবীর উম্মত " যে নবী
আমাদের ছেড়ে জান্নাতে যাবে না 😢 তাই
হায়াত থাকতে পরোকালের জন্য কিছু করুন 🥀 যা আপনাকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাতে পারে যদি আল্লাহ দয়া
করে 🌼 তাই নামায পড়ুন সময় থাকতে✨

সাহরি দেরিতে খাবেন কেন?শেষ রাতের খাবারকে সাহরি বলা হয়। সাহরি শব্দের অর্থ ভোরের খাবার। রোজার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছা...
14/04/2022

সাহরি দেরিতে খাবেন কেন?
শেষ রাতের খাবারকে সাহরি বলা হয়। সাহরি শব্দের অর্থ ভোরের খাবার। রোজার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে পানাহার করা হয়, সেটাকে ইসলামের পরিভাষায় সাহরি বলে। রোজা রাখার নিয়তে সাহরি খাওয়া সুন্নত। সাহরি খাওয়ার অনেক ফজিলত হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টান আর মুসলমানদের রোজার মধ্যে শুধু সাহরি খাওয়াই পার্থক্য। অর্থাৎ তারা সাহরি খায় না আর আমরা সাহরি খাই।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৪৩; তিরমিজি, হাদিস : ৬৪২)
আল্লাহ তাআলা সাহরি খাওয়ার সময় সম্পর্কে বলেন—
...তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ রাতের কালো রেখা থেকে প্রভাতের শুভ্র রেখা তোমাদের কাছে প্রতিভাত না হয়...। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭)
সাহরি অত্যন্ত বরকতময় খাবার। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত আছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯২৩)
দেরি করে সাহরি খাওয়া সুন্নত
তবে একটু দেরি করে সাহরি খাওয়া সুন্নত। রাসুল (সা.) সবসময় শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বক্ষণে সাহরি খেলে রোজা রাখতে বেশি সহজ হয়। পাশাপাশি ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না।
পেটে ক্ষুধা না থাকলে সাহরির সময় দুই-একটি খেজুর খেয়ে নেওয়া উত্তম বা অন্য কোনো জিনিস খেয়ে নেবে। (হেদায়া : খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৮৬)
বিলম্বে সাহরি খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে কিছু চা, পানি, পান ইত্যাদি খেলেও সাহরির ফজিলত অর্জিত হবে। (হেদায়া : খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৮৬)
সাহরির সময় শেষ হয়ে গেছে কি না, এমন সন্দেহজনক সময়ে সাহরি খাওয়া মাকরুহ। (আলমগিরি : খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০১)
সাদাসিধে সাহরি উত্তম
সঠিক ক্যালেন্ডারে সুবহে সাদিকের যে সময় দেওয়া থাকে, তার দুই-চার মিনিট আগে খানা বন্ধ করে দেবে। এক-দুই মিনিট আগে-পিছে হলে রোজা হয়ে যাবে, তবে ১০ মিনিট পর খাওয়ার দ্বারা রোজা হবে না। (আপকে মাসায়েল : খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ২০১)
সাদাসিধে সাহরি গ্রহণ উত্তম। মহানবী (সা.)-এর সাহরি ছিল সাদাসিধা। আনাস (রা.) বলেন—
সাহরির সময় রাসুল (সা.) বললেন, আমি রোজা রাখব, খাবার দাও। আমি রাসুল (সা.)-এর সামনে খেজুর ও পানি পরিবেশন করলাম।’ অন্য এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনের উত্তম সাহরি শুকনো খেজুর।
আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৪৫
অনেকে সারা দিন রোজা রাখবে বলে সাহরিতে অত্যধিক খাবার গ্রহণ করে থাকে। যদিও অধিক খাবার গ্রহণে ব্যক্তির স্বাধীনতা আছে, কিন্তু মহানবী (সা.)-এর সুন্নত হলো সাদাসিধে সাহরি।
যেমন খাবার গ্রহণ অনুচিত
সাহরি ও ইফতারে কিছুতেই এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়, যা পরবর্তী সময় স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আবার এত অল্প আহারও করবে না যে রোজা রাখতে অসুবিধা হয়। কেননা স্বাস্থ্য-সচেতনতাও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর ইবাদত করার জন্য শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রয়োজন। তাই সুস্থ-সবল মুমিন আল্লাহর অধিক প্রিয়।
মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন—
দুর্বল মুমিনের তুলনায় শক্তিশালী মুমিন অধিক কল্যাণকর ও আল্লাহর বেশি প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯৪৫
অন্য হাদিসে আছে, ‘দুইটি নিয়ামতের বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষ অসতর্ক ও প্রতারিত— সুস্থতা ও অবসর।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ২৩৫৭)
চিকিৎসা গ্রহণ করা সুন্নত। তবে অসুস্থ হওয়ার চেয়ে সুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উত্তম। কারণ, রোগ প্রতিরোধ রোগ নিরাময়ের চেয়ে উত্তম।

ইয়া মাবুদ আপনিই তো সেই সত্তা, যিনি কখনোই মৃত্যু বরন করবেন না, ইয়া রব আপনি ই তিনি যিনি কখনোই হতাশার সাগরে আমাদের নিমজ্জিত...
14/04/2022

ইয়া মাবুদ আপনিই তো সেই সত্তা, যিনি কখনোই মৃত্যু বরন করবেন না, ইয়া রব আপনি ই তিনি যিনি কখনোই হতাশার সাগরে আমাদের নিমজ্জিত করেন না, ইয়া মওলা আপনি ই তো মালিক, আপনি ই রহমান, আপনিই রাহীম, আপনি ই গাফুর, আপনি ই গাফফার!!!
ইয়া আল্লাহ আপনার এই বিশাল সাগর, বিশাল পাহাড়, আপনার এই দো জাহানের থেকেও যদি বিশাল কিছু থেকে থাকে সেটা হচ্ছে আমার পাপ, আমার গুনাহ!! কিন্ত আমার গুনাহের থেকে একটা জিনিস ই বড় আর সেটা হচ্ছে আপনার রহমত আপনার দয়া!!! মাবুদ এই রমজানে আপনি যাঁদের ক্ষমা করে দিবেন তাঁদের মধ্য অবশ্যই আমাকে রাখবেন!!!
ইয়া আমার অভিভাবক আপনার শোকরিয়া, রহমত,বরকত, প্রশংসা, ঋন তো কোনদিন গুনে গুনে শেষ করা যাবে না!! তবুও আল্লাহ আপনার সন্তুষ্টির জন্য সিয়াম, নামাজ, কুরআন কে নিয়ে আঁকড়ে থাকি!! মাবুদ জানি হয়ত নামাজে মনযোগ হারায়ে ফেলে ভুল করে বসি, হয়ত সিয়াম পালন করতে গিয়ে আপনার নিষেধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে ফেলি, হয়ত কুরআন পড়তে গিয়ে উচ্চারণে কত শর ভুল করি!!
মাবুদ আমরা তো বান্দা আমরা তো ভুল ই করব!! আপনি তো ক্ষমাশীল!! ও আমার রব ক্ষমা করে দিন আল্লাহ, ক্ষমা করে দিন!! কবুল করে নিন আল্লাহ আপনার সন্তুষ্টির জন্য আদায় করা সালাত, সিয়াম ও কুরআন তেলাওয়াত!!!
ও আমার রব আপনি আমাদের হঠাৎ শাস্তি দিয়েন না, ভয়াবহ অসুখে ফেলে দিয়েন না, রিযিকের অভাবে ভাসিয়ে দিয়েন না!! আল্লাহ এমন কোন অসহনীয় যন্ত্রণা দিয়েন নাহ!! ইয়া আল্লাহ!!!! আমরা তো গুনাহগার আর ক্ষমার খনি টা তো আপনার কাছেই!! ওহ আল্লাহ!! আপনার ঝুড়ি থেকে এক ফোঁটা ক্ষমা আমাকে দিলে তো আপনার ক্ষমার সাগর দয়ার সাগর কমে যাবে না!! আল্লাহ রহম করুন মাবুদ ক্ষমা করে দিন!!
ইয়া আল্লাহ হয়ত সারাটাক্ষন শুধু অভিযোগ আর আবদারের ঝুলি নিয়েই থাকি আপনার কাছে!! ইয়া রব আমার এই মনেও আপনার জন্য অসীম ভালোবাসা রয়েছে ইয়া রাব্বে কারিম!! তবুও আল্লাহ শয়তানের উস্কানী আর নিজের নফস কে সামলাতে না পেরে পাপে জড়িয়ে যাই মাবুদ!! কিন্ত আমি তো জানি আমার মাবুদ তো দয়ার বাদশা!! ক্ষমার বাদশা!! মাফ করে দিন আল্লাহ!!
আমাদের অল্প সংখ্যক লোকদের মধ্য গননা করে নিন!! জান্নাতের জন্য উপযুক্ত না করে মৃত্যু দিয়েন না!! আপনার অস্বাভাবিক বিশাল জান্নাতের এক কোনায় আমায় একটু জাইগা দিয়েন মাবুদ!!! মাবুদ কবরের সাপ -বিচ্ছু থেকে হেফাজত করুন, ইয়া রব সেই ফেরেশতা থেকে হেফাজত করুন যিনি কানে না শুনে চোখে না দেখে শুধু আযাবের জন্য রয়েছেন!!! ইয়া আল্লাহ!! ইয়া রব!! ইয়া যালযালালি ওয়াল ইকরাম!! ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়ুম!!! আপনার সুন্দর সুন্দর নামের ওসীলা করেই আমাদের মাফ করে দিন!! মৃত্যু র সময় স্বজোরে আয়তুল কুরসি ও কালেমা পড়ে মৃত্যু বরন করার তওফিক দিয়েন রাব্বে কারিম!!!!

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ... জেনে রেখো! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকা...
14/04/2022

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ... জেনে রেখো! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবু তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনই তোমার উপকার করতে পারবে না। আর যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবু তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনই তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং দপ্তরসমূহ শুকিয়ে গেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

 #লেখাটা_পড়তে_গিয়ে_খুশিতে_কান্না_চলে_আসলো!জান্নাতীরা জান্নাতে নিজ গৃহে অবস্থান করবেন । এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নাড়বে। দর...
13/04/2022

#লেখাটা_পড়তে_গিয়ে_খুশিতে_কান্না_চলে_আসলো!
জান্নাতীরা জান্নাতে নিজ গৃহে অবস্থান করবেন । এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নাড়বে। দরজা খুলে দেখবেন একজন ফেরেস্তা দাঁড়িয়ে । তিঁনি বলবেন ‘চলো আল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালার সাথে দেখা করে আসি।
তিনি তখন খুবই উল্লসিত হয়ে বের হয়ে এসে দেখবেন খুব সুন্দর একটা বাহন তাঁর জন্য প্রস্তুত । বাহন ছুটে চলবে খুব বিস্তৃত নয়নাভিরাম মাঠ দিয়ে যা স্বর্ণ আর মণি মুক্তা খচিত পিলারে সাজানো ।
জান্নাতিরা খুব পরিতৃপ্তি নিয়ে ছুটবে । এমন সময় আলো দেখবে আলোর পর আরো আলো । তারপর আরো আলো ।
জান্নাতীরা তখন উল্লসিত হয়ে ফেরেস্তাদের জিজ্ঞেস করবেন ‘ আমরা কি আল্লাহকে দেখেছি ?’
না, আমরা সে পথেই ছুটছি । ফেরেস্তা বলবেন ।
হঠাৎ জান্নাতীরা শুনবেন গায়েবী আওয়াজ -
* আস সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল জান্নাহ *
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা স্বয়ং সালাম দিচ্ছেন জান্নাতীদের ।
খুবই আবেগময় হবে সে মুহূর্তটা !!!
আল্লাহু আকবার ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার সালামের জবাবে তখন জান্নাতীরা বলবেন,
আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময় এবং আপনা হতেই শান্তি উৎসারিত হয়।। আপনি বরকতময় হে মহান ও সম্মানের অধিকারী ।
তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা জিজ্ঞেস করবেন,
তোমরা কি খুশী ? তোমরা কি সন্তুষ্ট ?
ও আল্লাহ, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে আমাদের আপনি জান্নাত দিয়েছেন ! আমরা অসন্তুষ্ট হই কি করে !
জান্নাতীরা জবাব দিবেন ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তখন জিজ্ঞেস করবেন,
তোমাদের আর কি চাই ?
তখন জান্নাতীরা (আলহামদুলিল্লাহ ) বলবেন- আর কিছু চাই না ।
না না । আজ তো দেয়ার দিন । আমি আরও দিব । বলো কি চাই ।
তখন জান্নাতীরা (আলহামদুলিল্লাহ ) সমস্বরে বলে উঠবেন-
ও আল্লাহ, আমরা আপনাকে দেখতে চাই ।
আপনাকে দেখি নি কখনও । আপনাকে আমরা ভালবাসি ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তখন পর্দা সরিয়ে দেবেন ।
সৃষ্টি এবং স্রষ্টা মুখোমুখি । চোখ বন্ধ করে একটু চিন্তা করুন । সারাজীবন দুনিয়াতে যাকে ডেকেছেন । যাকে না দেখে চোখ দুটো অঝোরে কেঁদেছেন । কাউকে না বলা আপনার একান্ত কথাগুলো যাকে বলেছেন । খুব বিপদে কেউ নেই পাশে, কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন।
পকেট ফাঁকা, ঘরে খাবার নেই, অনিশ্চিত উৎস থেকে খাবারের ব্যবস্হা যিনি করেছেন । কত চাওয়া, মাকে বলেন নি, বাবাকেও না , রাতের আঁধারে কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন ।
কত অপরাধ করেছি, কেউ দেখে নি । একজন দেখেছেন কিন্তু গোপন রেখেছেন । বারবার ভুল করেছি, যিনি মাফ করে দিয়েছেন, অদৃশ্য ইশারায় সাবধান করেছেন। মমতাময়ী মা, আমার আদরের সন্তান, প্রিয়তমা স্ত্রীর ভালবাসা দিয়ে অদৃশ্য ভালবাসায় আমাকে যিনি ভালবেসেছেন সবচেয়ে বেশী । সবচেয়ে আপন, সুমহান সেই প্রতিপালকের মুখোমুখি ...
সাহাবীদের প্রশ্নের জবাবে নবীজী বলেছেন , পৃথিবীতে আমরা যেমন চাঁদকে স্পষ্ট দেখি , আমরা আল্লাহ সুবহানুওতায়ালাকে তেমনি দেখব । ইনশাআল্লাহ ।
এ যে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়ামাহ্ !
ইয়া আল্লাহ - স্বল্প সংখ্যক সেই মহা সৌভাগ্যবানদের তালিকায় আমাদের নামটা যোগ করে দিন ।
আমিন 🤲

Address

Uttara Sector: 9
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলাম শান্তির ধর্ম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share