20/05/2026
জীবন সহজ করতে হলে প্রচুর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার এবং আল্লাহর সাথে কথা বলার অভ্যাস করতে হবে।
রান্নাটা তাড়াতাড়ি হবে, বাচ্চা জ্বালাতন করবেনা, বাচ্চা কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে দিলে রাগ উঠবেনা এসমস্ত কিছু হওয়া না হওয়া তো আল্লাহরই হাতে।
কি হচ্ছেনা, কি পারছেন না, কোন জিনিসটা দরকার সব আল্লাহকে বলেন। রান্না করতে গিয়ে সময়ে কুলাচ্ছেনা? সাথে সাথে বলতে থাকুন আল্লাহ সহজ করে দাও, সময়ে বারাকাহ দাও। বাচ্চাকে খাওয়াতে গিয়ে মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে? বলতে থাকুন, আল্লাহ সাহায্য করো। মাথা ঠান্ডা করে দাও, আচরণে নম্রতা দাও, যতটুকু খেয়েছে ওর শরীর স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট করে দাও। আপনার সব কাজের হেল্পার যদি স্বয়ং আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা হয়ে যান তবে আপনার পেরেশানি কিসের?
যখন মনটাও কেও ভেঙে দিবে তখনও আল্লাহর কাছেই দুঃখের ঝাঁপি খুলে বসুন। জায়নামাজের মত এত উত্তম সঙ্গী আর কি আছে! স্বামী কথা দিয়ে কষ্ট দিলে বলবেন, আল্লাহ অন্তরের এই ক্ষত আপনি নিজ কুদরত দিয়ে মিটিয়ে দিন। আমি যে কষ্ট পেয়েছি তাকে সেই উপলব্ধি দিন এবং তাকে এমন মায়াবী ও মহব্বত করনে ওয়ালা বানিয়ে দিন যাতে আর কখনো এধরণের কথা বা কাজ দ্বারা কষ্ট না দেয়।
আল্লাহকে ডাকার, আল্লাহর দিকে সমস্ত ভার ন্যায্য করার ফায়দা কেমন এটা বুঝাতে হাদীসে কুদসীর একটা বর্ণনা দিয়ে শেষ করি। আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন, বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।
তাই উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে সব হালতেই আল্লাহকে ডাকতে থাকুন। বলার অভ্যাস করতে থাকুন। আল্লাহর সাথে বেশি কথা বলার সুন্দর একটা প্রভাব হলো, মন হালকা হয়ে যায়। দুনিয়ার চাপ পুরোপুরি কমে যাবে এমন না কিন্তু সেগুলো সামলানো সহজ লাগবে ইনশাআল্লাহ। কারণ তখন মানুষ নিজের শক্তির উপর না, আল্লাহর সাহায্যের উপর ভরসা করতে শেখে।©