02/06/2026
উবাই ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন:
একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আরয করলাম —
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার উপর অনেক বেশি দরূদ পড়ি। আমার দু’আর মধ্যে কতটুকু অংশ আপনার উপর দরূদের জন্য নির্ধারিত করবো?”
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন:
“যতটুকু তুমি চাও।”
আমি বললাম: “এক-চতুর্থাংশ?”
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন:
“যতটুকু তুমি চাও। তবে যদি আরও বেশি করো, সেটা তোমার জন্য আরও উত্তম।”
আমি বললাম: “তাহলে অর্ধেক?”
রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন:
“যতটুকু তুমি চাও। তবে যদি আরও বেশি করো, সেটা তোমার জন্য আরও উত্তম।”
আমি বললাম: “তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ?”
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন:
“যতটুকু তুমি চাও। তবে যদি আরও বেশি করো, সেটা তোমার জন্য আরও উত্তম।”
তখন আমি বললম:
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমি আমার সমস্ত দু’আ আপনার উপর দরূদে পরিণত করব।”
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন:
“ইযান তুকফ হাম্মুকা ওয়া ইউগফারু লাকা যম্বুকা।”
“তাহলে তোমার সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।”
— রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (শুআবুল ঈমান — ইমাম বায়হাকী রহ., হা/১৫৭৯ | তিরমিযী, হা/২৪৫৭ — হাসান)
এই ঘটনার পটভূমি
উবাই ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন আনসারদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ক্বারী এবং কুরআনের লেখক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনার ইচ্ছা পোষণ করতেন এবং তাঁর কাছ থেকে শুনতেন।
তিনি দু’আর মধ্যে নিজের জন্য চাওয়া, পরিবারের জন্য চাওয়া, দুনিয়া-আখেরাতের চাওয়া — সবকিছুকে একদিন সম্পূর্ণরূপে নবীজির (ﷺ) উপর দরূদে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানিয়ে দিলেন — যে ব্যক্তি তার সমস্ত দু’আর সময় নবীজির (ﷺ) উপর দরূদে ব্যয় করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত চিন্তার কাফলা নিজেই বহন করে নেন।
শিক্ষা
ইমাম বায়হাকী রহ. এই রেওয়ায়েতটি শুআবুল ঈমান নবীজি (ﷺ)-এর প্রতি ভালোবাসা ও দরূদ পাঠ ঈমানের শাখা অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে নবীজি (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ শুধু একটি আমল নয়, বরং এটি ঈমানের এমন একটি জীবন্ত শাখা — যা মানুষের জীবনের সমস্ত বোঝা আল্লাহর উপর সমর্পণ করে দেওয়ার সবচেয়ে সুন্দর পথ।
সূত্র: শুআবুল ঈমান — ইমাম বায়হাকী রহ. (হা/১৫৭৯) | তিরমিযী (হা/২৪৫৭) | আহমাদ (হা/২০৭৩৬) — হাসান
(ইমাম বায়হাকী রহ.: ৩৮৪–৪৫৮ হিজরী)