Taqwah

Taqwah এটা একটি ইসলামিক পেজ। ধর্মীয় বানী পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

14/04/2026

যে কথাগুলো নিজেকে মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন --

১। আমার কি খুব আশাহত লাগছে নিজের ব্যপারে? ওয়েল, আল্লাহ চাইলে আমার একদম ভেঙ্গে যাওয়া অংশ থেকেও সবচেয়ে সুন্দর পরিশোধিত একটি অধ্যায় শুরু করিয়ে দিবেন। আল্লাহর রহমত থেকে আমি কখনো হতাশ হবো না। আমি আবার নতুন করে শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।

২। হয়তো আজকে আমার কোন কারণে খুব দুর্বল লাগছে। আমি যতই দুর্বল বোধ করি না কেন, আমার রবের সাহায্য ও শক্তি আমার দুর্বলতার চেয়েও অনেক বড়।

৩। আমার সব প্রশ্নের উত্তর আমি আজকে পাবো না। সব উত্তর আজকে না পেলেও সমস্যা নেই। কিছু দরজা সময় হলেই খুলবে। দুআ এবং সবর তো আমার জীবনের অলংকার।

৪। মানুষ আমার বর্তমান অবস্থাটুকু বাইরে থেকে সামান্যই দেখছে। আমার রব, আল্লাহ আমার পুরো পথটাই জানেন। তিনি আমাকে সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তিনি জানেন আমাকে কোথা থেকে কোথায় কল্যাণকর ভাবে পৌঁছে দিতে হবে, কোথায় গেলে আমার ক্লান্ত আত্মার শান্তি মিলবে, সবই তাঁর ইলমে আছে। আমি তাঁর উপরেই দৃঢ় তাওয়াককুল করলাম। আল্লাহর উপর ভরসা শুধু মুখে বললেই তো হবে না। আমি এবার আমল করলাম ইনশাআল্লাহ।

৫। আমার জীবনে অনেক বিষয়েই দেরিতে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন কিছুই ভুল সময়ে আসে না। আমি আল্লাহর টাইমিং এর উপর ভরসা রাখি, এই টাইমিংকে স্বাগত জানাই। আমি হতাশ না হয়ে আশা ধরে রাখি, ইনশাআল্লাহ।

—শারিন সফি আদ্রিতা

13/04/2026
13/04/2026

আমল করার ইচ্ছা আছে কিন্তু মনোযোগ দিতে পারছেন না। এই আক্ষেপটাই প্রমাণ করে আপনার মনে আল্লাহর ভয় আছে। সর্বপ্রথম কাজ হলো নিজের মনকে দুনিয়ার চিন্তা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দিকে ফিরানো। এরপর প্রতিটি আমল করার সময় এর সওয়াব এবং পরকালীন প্রতিদান নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন। কল্পনা করুন সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা, যখন কিয়ামতের কঠিন ময়দানে আপনার গুনাহগুলো আপনাকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই আপনার এই ছোট্ট আমলটি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আপনাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে।

গুনাহের ভারে হয়তো নিজেকে হাউজে কাউসারের অযোগ্য মনে হতে পারে, কিন্তু নিজের মাইন্ডসেট এমনভাবে তৈরি করুন যেন—আপনার এই আকুল প্রচেষ্টা দেখে প্রিয় নবীজি (সা.) দয়া করে নিজ হাতে আপনাকে এক পেয়ালা পানি পান করিয়ে দিচ্ছেন। সেই পানি পানের পর আপনার তৃষ্ণার্ত আত্মা পরম তৃপ্তিতে শীতল হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন, আপনার গুনাহ যদি আকাশ সমানও হয়, আল্লাহর রহমত সেই তুলনায় একবিন্দু ধূলিকণার মতো। তাই যত গুনাহই হয়ে যাক, কখনো হাল ছাড়বেন না। মুমিনের জীবনটা আসলে এমনই, চড়াই-উতরাই আর কষ্টে ঘেরা। এই নশ্বর দুনিয়ায় আমাদের অন্তর কখনো চিরস্থায়ী সুখ পাবে না; আমাদের আসল সুখ আর শান্তি তোলা আছে কেবল জান্নাতের জন্য।
©

26/03/2026

আকস্মিক মৃত্যু থেকে রক্ষার দোয়া:

আবুল ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) এই দোয়া পড়তেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারকি ওয়াল হারামি ওয়া আউজুবিকা আঁইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতনু ইংদাল মাওতি ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদি-গান।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছ থেকে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।

(আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫২; নাসায়ি, হাদিস : ৫৫৪৬), হাকিম, হাদিস : ১/৫৩১)

20/03/2026

আল্লাহ মুমিনের শক্তি তার অন্তরে রেখেছেন, তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নয়। তুমি কি দেখ না— একজন দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি প্রচণ্ড গরমের দিনে রোজা রাখছেন এবং রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকছেন, অথচ একজন শক্তিশালী যুবক তা পারছে না!

— ইমাম ইবনে ইজলান (রহি.)
[সূত্র : সিফাতুস সাফওয়াহ, ৩/৩৪১]

20/03/2026

“কিভাবে মুমিনের চোখ শুকনো থাকবে, যখন সে বিদায় দিচ্ছে এমন এক মাসকে—যার প্রতিটি মুহূর্ত রহমত ও মাগফিরাতে পরিপূর্ণ!”

—[ইবনু রজব আল-হাম্বলী রহ.]

07/02/2026

আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন,তখন তিনি তাকে আরামের পথে ছেড়ে দেন না। বরং তিনি তাকে নিয়ে যান কঠিন পরীক্ষার পথে—যেখানে অপমান আসে, নিজের দোষ না থাকা সত্ত্বেও কষ্ট এসে পড়ে ,আর একাকিত্ব নীরবে হৃদয়কে ভেঙে দেয়।
এগুলো শাস্তি নয়, অবহেলাও নয়।এগুলো আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ ব্যবস্থা—যার মাধ্যমে তিনি বান্দার অন্তরকে শুদ্ধ করেন।অহংকার ভাঙেন।আর তাঁকে নিজের নৈকট্যের জন্য প্রস্তুত করেন।
এই পথেই বান্দা শিখে—সব কথা বলা জরুরি নয়। সব জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।আর সব ব্যথার হিসাব এই দুনিয়ায় মেটাতে হয় না।
এই কঠিন পরীক্ষার মাঝেই জন্ম নেয় ধৈর্য,আর ধৈর্যের গভীরতা থেকেই জন্ম নেয় ক্ষমা।এই ক্ষমাই সেই দরজা,যার ওপার থেকে নেমে আসে অন্তরের শান্তি,আর খুলে যায় প্রকৃত মুক্তির পথ।
যে বান্দা ক্ষমা করতে পারে,সে আল্লাহর কাছে নিরাপদ।কারণ আল্লাহ ভাঙেন না—আল্লাহ গড়ে তোলেন,ঠিক তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী,ঠিক তাঁর ভালোবাসার মাপে।

17/01/2026

পরকালের চিন্তায় যাদের ঘুম আসতো না
বিখ্যাত তাবিঈ আতা আল-খুরাসানি (রহি.) রাতের শেষভাগে অঝোরে কাঁদতেন এবং নিজের পরিবারকে জাগিয়ে বলতেন, "ওঠো! অজু করে নামাজ পড়ো। এই রাত শেষ হয়ে গেলে কেবল আফসোসই বাকি থাকবে।"
ইমাম সুফিয়ান সাওরি (রহি.) রাতের গভীরে হঠাৎ আঁতকে উঠতেন এবং চিৎকার করে বলতেন, "জাহান্নামের আগুন আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না!"
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) যখন কারাগারে ছিলেন, তখনও তিনি চিন্তিত ছিলেন তাঁর আমল কবুল হলো কি না তা নিয়ে।
ফুযাইল ইবনে ইয়ায (রহি.) রাতের অন্ধকারে নিজের দাড়ি ধরে ডুকরে কাঁদতেন এবং বলতেন, “হায় ফুযাইল! হাশরের ময়দানে যখন আমলনামা খোলা হবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে?”
মানসূর ইবনুল মুতামির (রহি.) টানা ৪০ বছর রাতের বেলা কাঁদতেন। তাঁর কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ভাবত তাঁর ঘরে হয়তো কেউ মারা গিয়েছে। তাঁর মা বলতেন, “বাবা, একটু ঘুমাও।” তিনি উত্তর দিতেন, “মা, কবরের দীর্ঘ ঘুম তো সামনেই আছে!”
ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহি.) বিছানায় শুয়েই লাফিয়ে উঠতেন এবং বলতেন, “জান্নাতের নেয়ামত আর জাহান্নামের আজাবের কথা মনে পড়লে এই নরম বিছানায় আমার ঘুম আসে না।”
আসলে তাঁদের কাছে দুনিয়া ছিল কেবল একটি মুসাফিরখানা, আর রাত ছিল প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে কান্নার মাহফিল। আমাদের মতো গাফেল-ভাবে রাত কাটানোর কথা তাঁরা চিন্তাও করতে পারতেন না।
তথ্যসূত্র:
সিয়ারু আলামিন নুবালা — ইমাম যাহাবী (রহ.)
হিলয়াতুল আউলিয়া — আবু নুয়াইম আসফাহানি (রহ.)
উয়ুনুল হিকায়াত — ইবনুল জাওযী (রহ.)
সংগৃহিত
#হাদিস

16/12/2025

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
"কোনো একদিন হযরত জিবরাঈল (আঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে বসে ছিলেন। হঠাৎ প্রচন্ড একটি শব্দ শোনা গেলো । হযরত জিবরাঈল (আঃ) নিজের মাথা উচু করে বললেন, এটা আকাশের সেই দরজা খোলার শব্দ যা আজকের পূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। উক্ত দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন, যিনি ইতোপূর্বে আর কখনো পৃথিবীতে আগমন করেননি । সে ফিরিশতা নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, আপনার জন্যে দুটো নূরের সুসংবাদ রয়েছে। সূরাতুল ফাতিহা এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত উক্ত দুটো নূর । যা আপনার পূর্বে অন্য কোনো নবীকে প্রদান করা হয়নি। সূরা ফাতিহা এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত থেকে একটি অক্ষরও পড়ে আল্লাহ তা'য়ালার কাছে আপনি যা কিছু প্রার্থনা করবেন তা প্রদান করা হবে ।”
(মুসলিম, হাদীস নং- ৮০৬)
👉নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব হতে তিনি দু‘টি আয়াত নাযিল করছেন। সেই দু‘টি আয়াতের মাধ্যমেই সূরা আল-বাক্বারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দু‘টি আয়াত তিলাওয়াত করা হয় শাইতান সেই ঘরের নিকট আসতে পারে না।
(তিরমিজি— ২৮৮২)
👉আয়ফা' ইবনু ‘আবদিল কালা‘ঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরয করল,হে আল্লাহর নাবী(ﷺ)! কুরআনের কোন্ আয়াত এমন, যার বারাকাত আপনার ও আপনার উম্মাতের কাছে পৌঁছতে আপনি ভালবাসেন? তিনি (ﷺ) বললেন, সূরা আল বাকারাহ্’র শেষাংশ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে তা এ উম্মাতকে দান করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোন কল্যাণ নেই যা এতে নেই।
(মিশকাত— ২১৬৯)
👉জুবায়র ইবনু নুফায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূরা আল বাকারাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন দু’টি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এ আয়াতগুলোকে শিখবে। তোমাদের রমণীকুলকেও শিখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায়। (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণলাভের দু‘আ।
(মিশকাত— ২১৭৩)
👉হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, এটা আমার জানা নেই, উপযুক্ত বয়সের এবং জ্ঞান-বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন কোনো মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যে, রাতে ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত তিলাওয়াত করে না। (তাফসীরে ইবনে কাসীর,)

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Taqwah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Taqwah:

Share