Alhamdulillah- For Everything

Alhamdulillah- For Everything Alhamdulillah is a very short prayer that is repeated as devotional acts praising Allah.

22/05/2026

কুরবানী দেয়ার ক্ষেত্রে উত্তম হলো-
শরীক না হয়ে একাকী কুরবানী দেয়া।
প্রয়োজনে ছাগল দিয়ে কুরবানী করা।

শায়েখ আহমাদুল্লাহ দা বা

বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিনে আমলের একটি তালিকা তৈরী করেছি নিজের জন্যে আপনাদের জন্যেও।▪️শুরুতেই বলে নেই হাদীস অনুযায়ী 'আল্লাহ তা...
18/05/2026

বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিনে আমলের একটি তালিকা তৈরী করেছি নিজের জন্যে আপনাদের জন্যেও।

▪️শুরুতেই বলে নেই হাদীস অনুযায়ী 'আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই।’ (সহিহ বুখারী)

এই ১০ দিনের ফরজ ইবাদত অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদতের তুলনায় অধিক মর্যাদার। এই ১০ দিনের নফল ইবাদত অন্যান্য মাসের নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। [ইমাম ইবনু রজব, ফাতহুল বারি: ৯/১৫] [Collected from Nusus]

▪️প্রথমেই এ ব্যাপারে সতর্ক করতে চাই যে, যদি অনলাইনে এক্টিভ থাকেন তাইলে এই তালিকা অনুযায়ী আমল করতে না পারার সম্ভাবনাই বেশি।
বিশেষ করে যাদের অন্যান্য দায়িত্ব বা সন্তান আছে তাদের জন্য জরুরী হলো এই দিনগুলায় অনলাইন থেকে বিরতি নিয়ে আমলের চেষ্টা করা।
টাচ মোবাইল ও ইন্টারনেট আমাদের আমল কমানোর পিছে সবচেয়ে বেশি দায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তাই অনুরোধ থাকবে হয় ফেসবুক ইউটিউব ইত্যাদি চালানো পুরো অফ করেন না হয় টাইম ফিক্সড করে অল্প সময় চালান।

🌱 পুরোটা একবার অন্তত পড়ে নিজের অবস্থা সুযোগ অনুযায়ী করনীয় আমলের একটি তালিকা লিখার অনুরোধ থাকবে। যদি গুরুত্ব দিয়ে আমল করার চেষ্টা করতে পারি তাইলে ইনশাআল্লাহ পারব।

▪️প্রতিদিন সকালে এই নিয়ত করার চেষ্টা করবেন যে, 'হে আল্লাহ! আজকে যত ভালো কাজ করব যত ভালো আমল করব সবটা আপনার সন্তুষ্টির জন্য করতে চাই। প্রতিটা ভালো কাজ সাওয়াবের আশায় করতে চাই। আপনি তাওফীক্ক দান করুন।
কবুল করে নিন।

প্রতিটা বৈধ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়বেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বে থাকা প্রতিটা কাজেই ভালো নিয়ত করে সাওয়াবের আশায় করার চেষ্টা করবেন।

▪️৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ যত্নসহকারে ধীরেসুস্থে আওয়াল ওয়াক্তে বা অন্তত মাকরুহ ওয়াক্তের আগেই আদায় করবেন।
নামাজে মন বসুক না বসুক মোটেও তাড়াহুড়ো করে পড়বেন না। প্রতিটা সূরা তাসবিহ শুদ্ধভাবে খেয়াল করে উচ্চারণের চেষ্টা করতে হবে।
নামাজে কি কি পড়ছেন সেটাই শুধু খেয়াল করবেন।

▪️গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফরজ আদায় সবচেয়ে বড় আমল।
নিজের আচার ব্যবহার উত্তম করা এবং গীবত, বাজে কথা, ঝগড়াঝাটি থেকে বিরত থাকার চেষ্টা অনেক জরুরী।
গুনাহ থেকে বাঁচা ও ফরজ নামাজ যত্নসহকারে মন দিয়ে আদায়ের চেষ্টা সবচেয়ে বেশি করুন প্লিজ। আর কিছু করতে পারেন বা না পারেন।
কোনভাবেই ইচ্ছাকৃত নামাজ ছুটে যেন না যায় সেই চেষ্টা জরুরী।

▪️জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৯ দিন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রাখতেন।
যে যতদিন পারেন রোজা রাখতে পারেন। বিশেষ করে আরাফার রোজার ফজিলত পেতে ৯ জিলহজ্জ এর রোজা সবাই রাখবেন।
আমাদের দেশে ৯ জিলহজ্জ ২৭ মে তাই সেদিন সুযোগ থাকলে অবশ্য ই রোজা রাখার অনুরোধ থাকবে। যদি সৌদির আরাফার দিনেও রোজা রাখেন তাইলে নফল রোজার নিয়তে রাখবেন।
এ ব্যাপারে আলিমদের মাঝে মতভেদ আছে বটে তবে আমাদের আলিমদের মতানুযায়ী ই লিখেছি

▪️কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে আমি টার্গেট দিচ্ছি ১৫ পারা। যাদের সময় সুযোগ কম তাদের জন্য ১০ পারা। এক্ষেত্রে আজ জিলহজ্জ মাসের প্রথম দিন ১৯ মে থেকে শুরু করে ঈদের দিন মাগরীবের আগেই পড়ে শেষ করবেন।
যাদের ই সুস্থতা ও নামাজ পড়ার মত অবস্থা আছে তাদের এই ১০ দিনে কুরআন পড়ার একটা টার্গেট নেয়ার খুব খুব অনুরোধ থাকবে।
যে যার সময় সুযোগ অনুযায়ী পারা নির্ধারণ করে পাক্কা নিয়ত করে পড়া শেষ করার চেষ্টা করবেন।
একদিন পড়া কম হলেও আরেকদিন বেশি পড়ে নিলেই পারবেন ইনশাআল্লাহ।

গুরুত্ব দিয়ে কুরআন পড়ার নির্দিষ্ট টার্গেট নিলে কি হয় জানেন?
আর কোন নফল আমল হোক না হোক কুরআন পড়া হয় এবং কুরআন এর এক হরফের জন্য ১০ নেকি ফলে অনেক অনেক সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ এবং কুরআন তিলাওয়াত অন্যতম জিকির তো বটেই।
এছাড়া কুরআন পড়ার প্রভাব সুকুন দিলে টের পাবেন ই ইনশাআল্লাহ।

ব্যস্ততা বা এভাবে পড়া হবেইনা মনে হলে
অন্তত প্রতিদিন সকালে সূরা ইয়াসীন
ও রাতে সূরা মুলক পড়ার চেষ্টা করবেন।

[বোনেরা অনুগ্রহ করে পিরিয়ড/নেফাসের টাইমে কুরআন পড়বেন না। অধিকাংশ আলেম সাহাবী তাবেয়ী তথা সালাফদের মতে দলীল প্রমানের ভিত্তিতেই পড়া যাবেনা এটা অধিক গ্রহণযোগ্য মত। এই সময় গুলায় দুয়া ও বেশি বেশি জিকির করা দরুদ পড়ার টার্গেট রাখুন]

🌱 কুরআন পড়া বাদে আমি একদম সহজ কিছু আমলের কথাই বলব যেগুলো করতে বেশি সময় লাগেনা কিন্তু অনেক ফজিলত সাওয়াবের আমল। যতটুকু পারেন করবেন প্লিজ।

▪️জেগে থাকলে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হবার পর নিষিদ্ধ টাইম পার হলে দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ পড়বেন। যদি ঘুমিয়ে যান তাইলে সকালে যোহরের আগের নিষিদ্ধ টাইমের আগেই উঠলে দুই বা চার রাকাত চাশতের নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন।

▪️প্রতিদিন অজুর সময় মিসওয়াক করা এবং ঘুম হতে উঠেও করার চেষ্টা করবেন

মিসওয়াক একটা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মত আমল। এর ফায়দা ফজিলত অনেক।
যদি ভুলেও যান বা ব্যস্ততায় না হয় তবু প্রতিদিন একবার হলেও করার চেষ্টা করবেন।
মিসওয়াক ভিজিয়ে রাখবেন না।
করা হলে ঘরে এনে রাখবেন যাতে শুকিয়ে যায়। আর মিসওয়াকের নিয়ম ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখে নিতে পারেন আগেই।

▪️প্রতি ফরজ নামাজের পর পড়বেন

১০ বার سُبْحَانَ اللهِ
১০ বার اَلْحَمْدُ لِـلّٰـه
১০ বার اَللهُ أَكْبَرُ

(এটাও হাদীসে আছে এবং ৩৩ বার করে পড়ার আমল যারা করেন সেটাও হাদীসে বর্নিত)

▪️ সকাল সন্ধ্যায় ৩ বার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়া।
(সকাল সন্ধ্যার অন্যান্য মাসনুন আমল হেফাজতের দুয়া যা আগে পড়তেন সেসব তো পড়বেন ই। সবকিছু লিখছিনা আমি)

▪️সকালে ফজরের পর বা তখন ভুলে গেলে দিনেই ৩ বার পড়বেন-

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ : ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি
আদাদা খলক্কিহি ওয়া রিদ্ব- নাফছিহি ওয়া যিনাতা আরশিহি ওয়া মিদা-দা কালিমাত্বিহ।

সারা সকাল যিকিরের সাওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ ৩ বার পড়াতেই ভাবা যায়?
এত সহজে এত বেশি সাওয়াবের আমল নিয়মিত করার চেষ্টা করবেন অবশ্য ই।

▪️সকালে ও সন্ধ্যায় ১০ বার পড়বেন-

لا إِلٰهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা শারিইকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইং ক্বদিইর)

(ফজরের নামাজের সালাম ফিরানোর পরেই ঘাড় ঘুরানো ও কথাবার্তা বলার আগেই ১০ বার পড়বেন)

[যার সময় সুযোগ আছে দিনে ১০০ বার পড়ার অনুরোধ থাকবে। এটা অনেক অনেক বেশি সাওয়াবের আমল]

▪️সকাল এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বেন-
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ
(ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী)

[এটা সারাবছর ই মনে করে আমল করবেন অবশ্য ই। হাতেগুণে পড়লে অতি সহজ কিন্তু অনেক বেশি সাওয়াবের আমল তাই কখনোই বাদ দিবেন না।]

▪️সকালে এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়বেন বা একবার হলেও পড়বেন।

১০০ বার سُبْحَانَ اللهِ পড়া।
১০০ বার الْحَمْدُ لِـلّٰـهِ পড়া
১০০ বার اللهُ أَكْبَرُ পড়া।
১০০ বার لَا إِلٰهَ إِلَّا الله পড়া।

যদি হাতেগুনে পড়া হয় তাইলে দিনে অন্তত একবার এগুলা পড়তে মোটেও অত টাইম লাগেনা কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে সময়কে কাজে না লাগানোর জন্যেই আমাদের পড়া হয়না।

[জিলহজ্জের প্রথম দশকে এই তাসবিহ গুলো বেশি বেশি পড়ার ব্যাপারে হাদীস আছে তাই গুরুত্ব দিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকবে]

▪️রাতে সুরা মুলক পড়া।
কারো সুযোগ থাকলে সূরা সাজদাও পড়তে পারেন সাথে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই সূরা না পড়ে ঘুমাতেন না।

▪️ঘুমের আগে তাসবীহে ফাতেমি পড়া অর্থাৎ ৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ
৩৩ বার اَلْحَمْدُ لِـلّٰـه
৩৪ বার اَللهُ أَكْبَرُ
(নামাজের পর ১০ বার করে আর ঘুমের আগে এভাবে পড়াটা অনেক ফায়দা ও সাওয়াবের আমল তাই সব সময় ই গুরুত্ব দিবেন প্লিজ)

▪️তাকবীরে তাশরীক পড়া

اَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ . لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ . وَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ. وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ

(আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার,
লা ইলাহা ইল্লাল্ল-হু, ওয়াল্ল-হু আকবার আল্ল-হু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ)

🌱 জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ বাংলাদেশে ২৭ মে ফজর থেকে ১৩ তারিখ (৩১ মে) আসর পর্যন্ত প্রতি নামাজের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।
নারী পুরুষ সবার জন্যেই তবে পুরুষ উচ্চ আওয়াজে বলবে নারীরা আস্তেই পড়বে।

🔹 যে সব দুয়া জিকিরের আরবি এবং উচ্চারণ লিখা এগুলো মূলত আরবিতে শুদ্ধ উচ্চারণ জেনেই পড়তে হবে।
বাংলায় উচ্চারণ পুরো সঠিক হয়না।
আর এই তালিকায় উল্লেখিত প্রতিটা জিকির তাসবীহের সংখ্যা হাদীস থেকেই জানিয়েছি।

▪️কাজের মাঝে যা যা পড়তে পারেন -

-বারবার তাকবীরে তাশরীক বা তাকবীর অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার পড়তে পারেন।
-তিনবার সূরা ইখলাস পড়তে পারেন
(যাদের নামাজ আছে তারা পড়বেন)
-কাজ করার সময় দরুদ পড়তে পারেন। এতে ইনশাআল্লাহ কাজ ও সহজ হবে।
- ঘরে চলতে ফিরতে এবং রাস্তাঘাটে টানা আস্তাগফিরুল্ল-হ বা তাকবীর
পড়তে পারেন।

▪️শেষে দুয়ার ব্যাপারে বলি।

এইসব দিনে দুয়ায় আল্লাহর কাছে নিজের প্র‍য়োজন ছাড়া ও সুস্থতা, নিরাপত্তা, শান্তি, ক্ষমা এবং পূর্ন হেদায়াত বেশি বেশি চাইবেন।
দুনিয়া আখেরাতের কল্যান চাইবেন।
নিজের ও আপনজনদের হেদায়াত প্রাপ্তি তাতে আজীবন অটল থাকা এবং ঈমানের সাথে ইজ্জতের সাথে উত্তম সহজ শহীদি মৃত্যু চাইবেন।
বারবার আল্লাহর কাছে খুব করে মাফ চাইবেন। আকুলতা নিয়ে গুনাহ থেকে হেফাজত ও ভালো হবার জন্য সাহায্য তাওফিক চাইবেন।
এবং বিশেষভাবে আল্লাহ ও তাঁর কালাম কুরআনের প্রতি আল্লাহ যেন অনেক মুহাব্বত বাড়িয়ে দেন ও মজবুত সম্পর্ক জুড়ে দেন এই দুয়া কইরেন প্লিজ।

-Jumana puspo
[একজন মুসলিম নারী]

▪️ কপি/ শেয়ার করতে পারেন।

18/05/2026

আলহামদুলিল্লাহ! আজ জিলহজ্জ মাসের প্রথম দিন। কে কে রোজা রেখেছেন ? আল্লাহ যেন আমাদের সকলের রোজা এবং নেক আমল কবুল করে নেন ! আমিন !!

18/05/2026

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন হলো — বছরের শ্রেষ্ঠ দশটি দিন, কারণ এই দিনগুলিতে সকল উম্মাহাতুল ইবাদাত তথা মৌলিক ইবাদত (সালাত, সিয়াম, হজ্জ এবং কুরবানি) সমূহের সন্নিবেশ ঘটেছে। কুরআনুল কারীমে সূরা আল-ফজরে আল্লাহ তা’আলা এই দশ দিনের শপথ করেছেন। এই দশ দিনের নেক আমলসমূহ আল্লাহ তা’আলার কাছে অত্যন্ত বেশী প্রিয়। এমনকি জি.হা.দের চাইতেও বেশি।

যিলহজের প্রথম দশকের আমল ও করণীয় মনে রাখতে পোস্টারটি সংরক্ষণে রাখুন।
18/05/2026

যিলহজের প্রথম দশকের আমল ও করণীয় মনে রাখতে পোস্টারটি সংরক্ষণে রাখুন।

18/05/2026
18/05/2026

বাংলাদেশে আজ ২৯ জিলকদ (১৮ মে)। আজ সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আজ সূর্যাস্তের আগেই নখ-চুল ইত্যাদি কেটে পরিচ্ছন্ন হয়ে নিই। জিলহজের চাঁদ দেখা গেলে আমরা আর নখ-চুল কাটব না। একবারে ঈদুল আজহার দিন কুরবানি করে এরপর আবার কাটা যাবে।

জিলহজের প্রথম দশকের আমল, ।শায়খ আহমাদুল্লাহজিলহজ মাস অতি সন্নিকটে। এ মাসের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রমজান মাসকে ই...
16/05/2026

জিলহজের প্রথম দশকের আমল, ।
শায়খ আহমাদুল্লাহ

জিলহজ মাস অতি সন্নিকটে। এ মাসের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে আমরা সবাই জানি। কিন্তু রমজানের বাইরে আরও একটি ইবাদতের বসন্তকাল আছে, সেটা আমরা খুব কম মানুষই জানি। সেই বসন্তকাল হলো জিলহজের প্রথম ১০ দিন। এই দিনগুলো আল্লাহর কাছে এত প্রিয় যে এই সময়ের আমলের মাধ্যমে একজন বান্দা সহজেই আল্লাহর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠতে পারে।

জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব ও ফজিলত মহান আল্লাহ সুরা ফজরের ২ নম্বর আয়াতে ১০ রাতের শপথ করেছেন। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে ১০ রাত বলতে জিলহজের প্রথম ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। আর স্বয়ং আল্লাহ যখন কোনো ব্যাপারে শপথ করেন, সেটার গুরুত্ব যে কতখানি, তার ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। এ ছাড়া সুরা হজের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তারা যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে নির্দিষ্ট দিনসমূহে। ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, নির্দিষ্ট দিন বলে এখানে জিলহজের প্রথম দশককে বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

রসুল (সা.) এই দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে যত প্রিয়, আর কোনো দিনের আমল তত প্রিয় নয়। সাহাবিগণ আল্লাহর পথে জিহাদের সঙ্গে এর তুলনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিহাদও এর সমতুল্য নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোনো কিছুই আর নিয়ে ফিরে এলো না।’ (বুখারি)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, এই দশকের বিশেষত্বের কারণ হলো এখানে ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের (ইমান, সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ) এক অনন্য সমন্বয় ঘটে, যা বছরের অন্য কোনো সময়ে সম্ভব হয় না।

জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ আমলসমূূহ :

১. অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করা (সুরা হজ, ২৮)।

২. নেক আমল ও ভালো কাজের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া। কেননা, মহান আল্লাহর কাছে অন্যান্য সময়ের আমলের চেয়ে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অধিক প্রিয় (বুখারি, ৯৬৯)।

৩. অন্য সময়ের তুলনায় এই দিনগুলোতে পাপকাজ পরিহারে অধিক সচেষ্ট থাকা (সুরা তাওবা, ৩৬)।

৪. সামর্থ্যবান হলে হজ করা। হজ ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের একটি। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ওপর হজ ফরজ। আবার কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া অন্য কিছ্ নয় মর্মে নবীজি (সা.)-এর সুসংবাদ রয়েছে (সুরা আলে ইমরান, ৯৭; তিরমিজি, ৮১০)।

৫. সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করা। মহান আল্লাহ বলেন, তুমি নিজ প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো (সুরা কাউসার, ২)।

৬. কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির কোরবানি করার আগপর্যন্ত নখ, চুল, ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা (মুসলিম, ১৯৭৭)।

এ হাদিসে যদিও কোরবানিদাতাকে চুল, নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তবে বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই, তারাও ফজিলতপূর্ণ এ আমলটি করতে পারেন। এমনকি শিশুদেরও চুল-নখ কাটা থেকে বিরত রাখা উত্তম। (আবু দাউদ, ২৭৮৯; আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, ৭৫২০)

৭. অধিক পরিমাণে তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল পাঠ করা। অর্থাৎ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ পড়া। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর কাছে জিলহজের ১০ দিনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও প্রিয় আমল নেই। অতএব এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণে তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল পাঠ করো (আল-মুজামুল কাবির, ১১১১৬)।

৮. তাশরিকের দিনগুলোতে প্রত্যেক সালাতের শেষে বিশেষভাবে তাকাবিরে তাশরিক পাঠ করা। অর্থাৎ ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি নামাজের পর একবার ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ পাঠ করা (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৫৬৩১)।

৯. প্রথম ৯ দিন সিয়াম পালন করা। কোনো কোনো বর্ণনায় জিলহজের প্রথম ৯ দিনই সিয়াম পালনের নির্দেশনা পাওয়া যায়।

১০. আরাফার দিন বিশেষভাবে রোজা রাখা। কেননা, আরাফার দিনের রোজা রাখলে আশা করা যায় মহান আল্লাহ তার পেছনের এবং সামনের এক বছরের (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন (মুসলিম, ১১৬২)।

১১. ঈদের দিনের সুন্নাহসমূূহ পালন করা।

জুমার মিম্বর থেকে গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

15/05/2026
14/05/2026

Listen

14/05/2026

মেহমান হয়ে গিয়ে কষ্ট দিচ্ছেন না তো?

কারও বাসায় যাওয়া মানেই শুধু খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা না।
কারও ঘরে প্রবেশ করা মানে তার ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশ করা।
তার সময়, তার সামর্থ্য, তার গোপনীয়তা, তার ঘরের পরিবেশ—এসবের প্রতি সম্মান রাখা।

কিন্তু অনেক সময় আমরা মেহমান হয়ে গিয়ে এমন কিছু আচরণ করি, যা Host family-কে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।

কেউ ঘরে ঢুকেই বলে—
“ঘরটা এত ছোট কেন?”
“ফার্নিচার তো খুব পুরোনো।”
“বাচ্চাটা এত দুষ্ট কেন?”
“তোমার স্বামী কত ইনকাম করে?”
“এখনো বাচ্চা নাওনি কেন?”
“রান্নায় লবণ একটু কম হয়েছে।”
“বাড়িটা নিজের, নাকি ভাড়া?”

আমরা অনেক সময় ভাবি—এগুলো সাধারণ কথা।
কিন্তু যার ঘরে বলা হচ্ছে, তার মনে এগুলো কষ্টের দাগ ফেলতে পারে।

ইসলাম আমাদের শুধু নামাজ-রোজা শেখায় না; ইসলাম আমাদের মানুষের ঘরে যাওয়ার আদবও শেখায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না অনুমতি নাও এবং ঘরের লোকদের সালাম দাও।”
— সূরা আন-নূর: ২৭

দেখুন, ইসলাম অন্যের ঘরে প্রবেশের আগেই অনুমতি ও সালামের শিক্ষা দিয়েছে।
কারণ মানুষের ঘর তার নিরাপদ জায়গা।
সেখানে আপনার উপস্থিতি যেন তার জন্য রহমত হয়, চাপ না হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।”
— সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম

এই হাদীস মেহমানকে সম্মান করার কথা বলে।
কিন্তু মেহমানেরও দায়িত্ব আছে—যে ঘরে যাচ্ছে, সেই ঘরের মানুষকে কষ্ট না দেওয়া।

কারণ মুসলিমের পরিচয় হলো—তার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।”
— সহীহ বুখারী

আপনি কারও ঘরে গিয়ে যদি আপনার কথায় তাকে লজ্জা দেন, তুলনা করেন, খোঁচা দেন, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করেন—তাহলে আপনার জিহ্বা থেকে সে নিরাপদ থাকল কোথায়?

কারও বাসায় গেলে কিছু আদব খুব জরুরি—

১. ঘরের জিনিস নিয়ে মন্তব্য করবেন না
কার ঘর কেমন, কার ফার্নিচার কেমন, কার সামর্থ্য কত—এসব নিয়ে মন্তব্য করা আদবের মধ্যে পড়ে না।

২. ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না
আয়, সন্তান, দাম্পত্য, ঋণ, বাড়ি, চাকরি—এসব বিষয় মানুষ নিজে না বললে জিজ্ঞেস না করাই ভালো।

৩. খাবারের দোষ ধরবেন না
রান্না পছন্দ না হলেও চুপ থাকা উত্তম।
যে মানুষ আপনাকে খাওয়াচ্ছে, সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সম্মান করছে।

৪. বাচ্চাদের সামনে অপমান করবেন না
কারও সন্তানকে অন্যের সামনে ছোট করা বাবা-মায়ের জন্যও কষ্টের, সন্তানের জন্যও অপমানজনক।

৫. বেশি সময় বসে Host-কে কষ্ট দেবেন না
সব ঘরের কাজ, ক্লান্তি, ব্যক্তিগত সময় থাকে।
মেহমান হয়ে গিয়ে সময়ের আদব রাখতে হয়।

৬. ঘরের ভেতর তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন না
কোন রুমে কী আছে, কে কী করছে—এসব কৌতূহল নিয়ন্ত্রণ করা আদব।

৭. যাওয়ার আগে ভালো কথা বলুন
“আল্লাহ বরকত দিন”, “আপনারা কষ্ট করেছেন”, “খুব ভালো লাগল”—এমন কথাগুলো ঘরের মানুষকে আনন্দ দেয়।

মনে রাখবেন—
মেহমান হয়ে যাওয়া শুধু আপনার অধিকার না; এটা আপনার আখলাকেরও পরীক্ষা।

আপনি কারও ঘর থেকে বের হওয়ার পর যদি তারা স্বস্তি পায়—“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো মানুষ এসেছিলেন”—তাহলে আপনি সুন্দর স্মৃতি রেখে গেলেন।
আর যদি তারা বলে—“ওরা এলে খুব Pressure লাগে”—তাহলে ভাবার বিষয় আছে।

আমরা অনেক সময় ইবাদতে যত সতর্ক, মানুষের অনুভূতিতে তত সতর্ক না।
কিন্তু মানুষের কষ্ট দেওয়া ছোট বিষয় না।

আজ থেকে কারও বাসায় গেলে নিজের জিহ্বাকে একটু বেশি পাহারা দিন।
প্রশ্ন কম করুন।
দোয়া বেশি করুন।
মন্তব্য কম করুন।
ভালো কথা বেশি বলুন।

কারণ সুন্দর ব্যবহারও দাওয়াহ।
আর আপনার আদব দেখে মানুষ ইসলামকে সুন্দরভাবে অনুভব করতে পারে।

আজকের Action plan:
কারও বাসায় গেলে ৩টি জিনিস Avoid করুন—
ব্যক্তিগত প্রশ্ন, খাবারের সমালোচনা, ঘর নিয়ে মন্তব্য।

আর ৩টি জিনিস করুন—
সালাম, দোয়া, কৃতজ্ঞতা।

কারও বাসায় গেলে কোন আচরণটা সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর লাগে—ব্যক্তিগত প্রশ্ন, খাবারের দোষ ধরা, ঘর নিয়ে মন্তব্য, নাকি বেশি সময় বসে থাকা?
:
#হাদিস

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alhamdulillah- For Everything posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share