Alhamdulillah- For Everything

Alhamdulillah- For Everything Alhamdulillah is a very short prayer that is repeated as devotional acts praising Allah.

26/06/2026
26/06/2026

"মা বকেছে,মা পচা!"
"মাকে মেরে দেব!"
"মায়ের সাথে কথা বলবে না!"
এই কথাগুলো যারা বলেন, তারা হয়তো ভাবেন খুব আদর করছেন- বাচ্চার চোখে একদম হিরো হয়ে উঠেছেন 😒

আসলে তারা অজান্তেই একটি শিশুর মনে তার সবচেয়ে নিরাপদ মানুষটাকেই ছোট করে দিচ্ছেন।

একটা কথা মনে রাখবেন...
যে মা সারাদিন খাওয়ায়,স্নান করায়, রাত জেগে থাকে, ওষুধ খাওয়ায়, বিপদ থেকে বাঁচায়, দরকার হলে বকেও...
তার সম্মান, মর্যাদা, বাচ্চার মনে ও জীবনে সেই মায়ের সর্বোচ্চ স্থান নষ্ট করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?‼️😡

বাচ্চা একটু কাঁদলেই—
"মা খারাপ!"
"এসো, চকলেট দিই।"
"এই নাও মোবাইল, কার্টুন দেখো।"
এটা ভালোবাসা নয়।

এটা মাকে ভিলেন বানিয়ে নিজের জন্য বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা।

যে মানুষটা সারাদিন নিয়ম শেখায়, আপনি এক মিনিটে তাকে খারাপ বানিয়ে দিলেন!

তারপর আবার বড় হয়ে যদি বাচ্চা কারও কথা না শোনে, মোবাইল ছাড়া না থাকে, জাঙ্ক ফুড ছাড়া না খায়—ত!খন সেই মাকেই দোষ দেবেন? ঠিক তো

মনে রাখবেন, শিশুর সামনে মা-বাবাকে ছোট করা কোনো মজা নয়। এটা খুবই দায়িত্বহীন আচরণ।

ভালোবাসতে চাইলে বলুন—
"মা তোমার ভালোর জন্যই বকেছে। এসো, আমরা মায়ের কাছে যাই।"
এতেই শিশুও শান্ত হবে, মায়ের মর্যাদাও অটুট থাকবে।

একটা শিশুকে ভালোবাসতে গিয়ে, তার মাকে ছোট করবেন না।
কারণ, যে সন্তান তার মাকে সম্মান করতে শেখে না, সে বড় হয়ে কাউকেই সত্যিকারের সম্মান করতে শেখে না। 😣❤️‍🩹

( বিষয়টা চাইল্ড সাইকোলজি অনুযায়ী বাচ্চাকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে কমেন্টে লিখে দেবো প্লিজ পড়বেন 🙏)

25/06/2026
🌙 পবিত্র আশুরার রোজা 🌙আশুরা শুধু একটি দিন নয়, এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের স্মরণীয় শিক্ষা।রাসূলুল্লাহ ﷺ ...
24/06/2026

🌙 পবিত্র আশুরার রোজা 🌙

আশুরা শুধু একটি দিন নয়, এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের স্মরণীয় শিক্ষা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ আশুরার রোজা রাখতেন এবং উম্মতকে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। 🤍

আসুন, আমরা এই পবিত্র দিনে নফল রোজা রাখার চেষ্টা করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত কামনা করি। 🤲
আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ ক্ষমা করুন। আমিন। ❤️

#আশুরা #মুহররম #আশুরাররোজা #ইসলামিকপোস্ট #সুন্নাহ #আল্লাহররহমত

23/06/2026

স্ত্রীর পর্দা, নিরাপত্তা ও পৃথক বাসস্থানের অধিকার: ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামীর দায়িত্ব

বিবাহ শুধু দু’জন মানুষের একত্রে বসবাসের নাম নয়; বরং এটি একটি আমানত, দায়িত্ব ও পারস্পরিক অধিকার সংরক্ষণের চুক্তি। ইসলামে স্বামীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো স্ত্রীর দ্বীন, ইজ্জত, নিরাপত্তা ও পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বর্তমান সমাজে বহু পরিবারে যৌথভাবে বসবাসের কারণে নারীদের পর্দা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দেবর, ভাসুর বা অন্যান্য গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা অনেক সময় ফিতনা ও পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলামী শরীয়ত এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।

গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের ব্যাপারে ইসলামের সতর্কবাণী

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ؟ قَالَ: الْحَمْوُ الْمَوْتُ

অর্থঃ “তোমরা নারীদের নিকট (নির্জনে) প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকো।” তখন এক আনসারী সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! দেবর বা স্বামীর নিকটাত্মীয় সম্পর্কে কী বলবেন?’ তিনি বললেন, ‘দেবর (বা ভাসুর) তো মৃত্যুতুল্য।’
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস: ৫২৩২; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২১৭২

উলামায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, ‘মৃত্যুতুল্য’ বলার অর্থ হলো—এদের ব্যাপারে মানুষ সাধারণত অসতর্ক থাকে। ফলে শয়তান সহজে ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর পরিণতি অনেক সময় একটি পরিবারের ধ্বংস পর্যন্ত গড়ায়।

পর্দা কেবল মাথায় কাপড় দেওয়ার নাম নয়

অনেকেই মনে করেন, মাথায় ওড়না বা কাপড় থাকলেই পর্দা সম্পন্ন হয়ে যায়। অথচ শরীয়তের পর্দা এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا

অর্থঃ “মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ পায় তা ছাড়া।”
— সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১

পর্দার অন্তর্ভুক্ত হলো—

- গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ না করা।
- অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও হাসি-ঠাট্টা থেকে বিরত থাকা।
- নির্জনে অবস্থান না করা।
- চলাফেরা ও পোশাকে শালীনতা বজায় রাখা।
- ফিতনার আশঙ্কা সৃষ্টি করে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলা।

স্ত্রীর জন্য পৃথক বাসস্থানের অধিকার

ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন যে, স্ত্রীর মৌলিক অধিকারগুলোর একটি হলো এমন বাসস্থানের ব্যবস্থা, যেখানে তিনি নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারেন এবং নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ

অর্থঃ “তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস কর, সেখানে তাদেরও বসবাসের ব্যবস্থা কর।”
— সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৬

ইসলামী আইনবিদগণ এ আয়াত থেকে স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার প্রমাণ করেছেন।

যৌথ পরিবারে বসবাসের ক্ষেত্রে করণীয়

যদি কোনো কারণে যৌথ পরিবারে বসবাস করতেই হয়, তাহলে স্বামীর উচিত—

১. পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করা

স্ত্রীর জন্য এমন কক্ষ নির্ধারণ করতে হবে, যেখানে তিনি নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং গায়রে মাহরামদের অবাধ যাতায়াত না থাকে।

২. পৃথক বাথরুম ও গোসলখানার ব্যবস্থা করা

এটি শুধু পর্দার বিষয় নয়; বরং ব্যক্তিগত মর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

৩. প্রবেশের আদব নিশ্চিত করা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا

অর্থঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না অনুমতি গ্রহণ কর এবং অধিবাসীদের সালাম দাও।”
— সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৭

সুতরাং পরিবারের সদস্যদেরও অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করা উচিত নয়।

৪. আলাদা রান্না বা খাবারের ব্যবস্থা (প্রয়োজনে)

যদি পারিবারিক পরিবেশে দ্বন্দ্ব, অস্বস্তি বা পর্দা রক্ষার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আলাদা রান্না বা খাবারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

৫. নির্জনতা থেকে বিরত রাখা

দেবর, ভাসুর বা অন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর নির্জনে অবস্থান করা শরীয়তে নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ الشَّيْطَانُ ثَالِثَهُمَا

অর্থঃ “কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করবে না; কারণ তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।”
— সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস: ২১৬৫

বিয়ের পূর্বেই পরিকল্পনা করা জরুরি

অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের পর স্ত্রীকে এমন পরিবেশে রাখা হয় যেখানে তার জন্য পর্দা রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন। এতে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং দ্বীনি অনুশীলন ব্যাহত হয়।

তাই একজন দায়িত্বশীল মুসলিম যুবকের উচিত বিয়ের আগেই চিন্তা করা—

- কোথায় স্ত্রীকে রাখা হবে?
- পর্দার পরিবেশ থাকবে কি না?
- গায়রে মাহরামদের থেকে নিরাপদ ব্যবস্থা আছে কি না?
- পৃথক ঘর ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না?

কারণ একজন স্ত্রীকে শুধু ভরণ-পোষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং তার ঈমান, পর্দা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও স্বামীর অন্যতম বড় দায়িত্ব।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

অর্থঃ “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস: ৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৯

---লেখাঃ আইন উদ্দিন আইনী
:
#হাদিস

20/06/2026

Jara bacchder gaye haat tulen tader jonno!

19/06/2026

Ghorer bou beyadop!!!

16/06/2026

ইসলামি বর্ষপঞ্জির বারোটি মাসের প্রতিটিই স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী। তবে এর মধ্যে চারটি মাস এমন, যাদের সম্মান সৃষ্টির আদিকাল থেকেই আল্লাহ তাআলার বিধানে সুনির্দিষ্ট। হিজরি বর্ষের সূচনা মাস ‘মুহাররম’ সেই সম্মানিত চারটি মাসের অন্যতম— যাকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাস বলে অভিহিত করেছেন।

সময়ের পরিক্রমায় আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে আরেকটি নতুন হিজরি বছর। এই মুহূর্তটি আত্মসমালোচনা, তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ।

🔷 হিজরি সনের ঐতিহাসিক পটভূমি

হিজরি সনের সূচনা ইসলামের ইতিহাসের এক মহাঘটনাকে কেন্দ্র করে — রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মক্কা থেকে মদিনায় ঐতিহাসিক হিজরত। হযরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে, হিজরতের সতেরো বছর পর, আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর উত্থাপিত তারিখ-বিভ্রান্তির প্রশ্নটি একটি পরামর্শ সভায় আলোচিত হয়। হযরত আলী (রা.)-এর প্রস্তাবক্রমে হিজরতের বছরটিকে ভিত্তি ধরে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সন গণনা শুরু হয়।

হিজরি সন নিছক একটি আরবি ক্যালেন্ডার নয় — এটি মুসলিম উম্মাহর সামষ্টিক আত্মপরিচয়ের ঐতিহাসিক দলিল। রমাদানের সিয়াম, হজ্জের সময়, যাকাতের হিসাব, ঈদ, আশুরার সিয়াম— ইসলামের প্রতিটি মৌলিক ইবাদত এই চন্দ্রবর্ষের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পৃক্ত। তাই বিজ্ঞ স্কলারগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, হিজরি সনের হিসাব সংরক্ষণ করা মুসলিম সমাজের উপর ফরজে কেফায়া।

অথচ গভীর পরিতাপের বিষয় এই যে, সমকালীন মুসলিম সমাজের বৃহত্তর অংশ রমাদান ও ঈদের বাইরে হিজরি তারিখ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। যে ব্যক্তি হিজরি তারিখের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখে না, সে অজান্তেই আল্লাহর নির্ধারিত বরকতময় মুহূর্তগুলো থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে ফেলে।

🔷 মুহাররমের অতুলনীয় মর্যাদা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি— আল্লাহর কিতাবে, সেদিন থেকে যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন।’ (সূরা তাওবাহ: ৩৬)

এই চারটি মাসের মর্যাদা কোনো পরিবর্তনীয় বিধান নয়— এটি সৃষ্টির আদিমুহূর্ত থেকে সময়ের কাঠামোতে অন্তর্নিহিত একটি আসমানি ব্যবস্থা। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন — রমজানের পর সর্বোত্তম সিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের সিয়াম। (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)

'শাহরুল্লাহ' — এই সম্বোধনটিই মুহাররমের শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। পবিত্র কাবাকে "বাইতুল্লাহ", সালেহ ﷺ -এর উটনিকে ‘নাকাতুল্লাহ’ এবং জাহান্নামের আগুন কে ‘ নারুল্লাহ’ বলা হয়েছে। আল্লাহর সাথে সম্বন্ধ স্থাপন করা হয় কেবল তখনই, যখন সেটা অনন্য মহিমা ও পবিত্রতার অধিকারী। মুহাররমকে 'আল্লাহর মাস' বলে এই মাসকে এক অনন্য উচ্চতায় সমাসীন করা হয়েছে।

🔷 এই মাসে আমাদের করণীয়

কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুহাররম মাসে একজন মুমিনের সামনে পাঁচটি মূল করণীয় স্পষ্ট হয়:

১. সিয়ামের মাধ্যমে ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া।
বিশেষত ১০ মুহাররম তথা আশুরার দিনে এবং তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী একটি দিনে সিয়াম পালন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আবু কাতাদাহ রা. বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আশুরার সিয়ামের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)

২. নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রাখা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন জানতে পারলেন যে ইহুদিরাও আশুরার দিনে রোজা রাখে, তখন তিনি ঘোষণা করলেন — আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমি ৯ তারিখেও রোজা রাখব। (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪) রাসূল ﷺ এর এই নির্দেশনা সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ইসলাম অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুকরণ থেকে মুসলিম উম্মাহকে সর্বদা স্বাতন্ত্র্যতা রক্ষার নির্দেশ দেয়।

সুতরাং ৯ ও ১০ মুহাররম একত্রে রোজা রাখা শুধুমাত্র আমল নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিম হিসেবে লালন করা আবশ্যক।

পাশাপাশি হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর সভ্যতা ও সংস্কৃতিগত স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম অকাট্য দলিল। খ্রিস্টানদের যেমন নিজস্ব ইংরেজি সন রয়েছে, তেমনি মুসলিমদের রয়েছে হিজরি সন। তাই এই নতুন হিজরি বর্ষের সূচনায় কোনো অপসংস্কৃতির অনুকরণ না করে, ৯ ও ১০ মুহাররম একত্রে রোজা রাখা এবং হিজরি তারিখ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের মুসলিম পরিচয়ের গৌরব ও স্বাতন্ত্র্যকে সমুন্নত রাখার সংকল্প করা উচিত।

৩. তাওবা ও ইস্তিগফারে সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করা।
এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা একটি সম্প্রদায়ের তাওবা কবুল করেছিলেন। (তিরমিজি: ৭৪১) এই মাসটি ক্ষমা ও আত্মসমর্পণের মাস — এই সুযোগকে অবহেলায় হাতছাড়া করা কোনোভাবেই বিবেকসম্মত নয়।

৪. সকল প্রকার পাপাচার থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা।
হারাম মাসে পাপের ভার ও পরিণাম উভয়ই অধিকতর গুরুতর। কুরআনের নির্দেশ — "এই মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।" — এই আদেশ আমাদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা।

৫. আত্মসমীক্ষা ও আত্মপুনর্গঠনের সংকল্প গ্রহণ করা।
হিজরি নববর্ষের সূচনা জীবনের সামগ্রিক গতিপথ পুনর্বিবেচনার এক সুবর্ণ মুহূর্ত। বিগত বছরের আমল ও চরিত্রের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে নতুন বর্ষে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করাই হিজরি নববর্ষের প্রকৃত শিক্ষা।

যে উম্মত তার নিজস্ব বর্ষপঞ্জির প্রতি উদাসীন, সে উম্মত আল্লাহর নির্ধারিত বরকতের মৌসুমগুলো থেকে অনিবার্যভাবে বঞ্চিত হয়। আসুন, এই মুহাররমে কেবল আচারিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ না থেকে এই মাসের প্রকৃত দাবিগুলো পূরণে সচেষ্ট হই। তাওবার মাধ্যমে অতীতকে পরিশুদ্ধ করি, সুদৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতকে আল্লাহমুখী করি।

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য মুহাররম মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা আপনার সম্মানিত মাসগুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে এবং আপনার দিকে তাওবার সাথে প্রত্যাবর্তন করে। আমিন।

16/06/2026

Toxic parenting ki islam allow kore?

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alhamdulillah- For Everything posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share