Ishaq

Ishaq কোরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ জ্ঞান পেতে পেতে পেজটি ফলো করে সাথে থাকুন।❤️

কারও মৃত্যুর কথা শুনে হাসি-তামাশা বা ঠাট্টা করা কিংবা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ভীষণ মূর্খতাপূর্ণ কাজ। যা শুধু মুসলমান নয়; ক...
16/05/2026

কারও মৃত্যুর কথা শুনে হাসি-তামাশা বা ঠাট্টা করা কিংবা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ভীষণ মূর্খতাপূর্ণ কাজ। যা শুধু মুসলমান নয়; কোনো মানুষের পক্ষেই শোভা পায় না। অন্যের মৃত্যুতে এমন আচরণ করলে নিজের মৃত্যুতেও মানুষ হাসতে পারে, সে বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। কেননা মানুষ হিসেবে আমার-আপনারও দোষ-ত্রুটি আছে। মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়া, কবর জেয়ারত করতে বলা হয়েছে হাদিসে, দোষ বর্ণনা নয়। যাতে আমরা মৃত্যুকে স্মরণ করে নেক কাজ করতে পারি।

হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, সবার উচিত—মৃত ব্যক্তির নেক কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃতদের নেক কাজগুলোর আলোচনা করো এবং মন্দ কাজের আলোচনা থেকে বিরত থাকো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০০)

মৃত ব্যক্তির ভালো কাজগুলো উল্লেখ করে তার জন্য দোয়া করা এবং দোষ-ত্রুটি গোপন করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এটি মুমিনের কর্তব্যও বটে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যে তার ভাইয়ের দোষ আড়াল করবে, কেয়ামতের কঠিনতম পরিস্থিতিতে আল্লাহ তার দোষও গোপন রাখবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম: ২৫১০, আহমদ: ২৭৪৮৪, ৮৯৯৫)

অন্যদিকে যারা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং ফাঁস করে, তাদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি, ভুলভ্রান্তি খুঁজে বের করো না। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় ও প্রকাশ করে দেয়, স্বয়ং আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেন তাকে নিজের বাড়িতেই লাঞ্ছিত করেন।’ (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের দোষ-ত্রুটিগুলো খুব সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আর এই সুযোগটি অনেকে গ্রহণ করে কারো মৃত্যুর পর তার দোষ-ত্রুটি প্রচার করার জন্য। কত জঘন্য আচরণ চিন্তা করুন! তারা মূলত নিজেরই ক্ষতি করে। তাদের জানা উচিত, ইসলামি শরিয়ায় মানুষ হলো এমন অনন্য সৃষ্টি, জীবিত হোক বা মৃত—একই সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। এটি তার অধিকার। ‘মানবসন্তান জীবিত বা মৃত হোক সম্মানের পাত্র বলে গণ্য হবে।’ (আল মাবসুত, ৫৯/২)

অতএব, মৃত ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা যাবে না। বরং তার ভালো কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। উপরন্তু দাফন-কাফন, গোসল, জানাজা ইত্যাদি সম্পন্ন করা মৃত ব্যক্তির অধিকার। এসব কাজ মর্যাদার সঙ্গে করতে হবে। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী একজন মুসলমানের প্রতি আরেক মুসলমানের ছয়টি অধিকার রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো কেউ মারা গেলে তার জানাজায় উপস্থিত হওয়া। (সহিহ মুসলিম: ২১৬২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৃত ব্যক্তির প্রতি উত্তম আচরণ করা, তার নেক কাজের আলোচনা করা, তার অধিকার নিশ্চিত করা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

গুনাহের কারণে যেসব ক্ষতি হয়:আল্লামা ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ তার আত-তিব্বু ওয়াল ফাওয়াইদ গ্রন্থে গুনাহের অনেক ক্ষতির কথা...
13/05/2026

গুনাহের কারণে যেসব ক্ষতি হয়:

আল্লামা ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ তার আত-তিব্বু ওয়াল ফাওয়াইদ গ্রন্থে গুনাহের অনেক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন:

• ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া।
• নিজের ভেতর শূন্যতা অনুভব করা।
• কাজকর্ম কঠিন হওয়া।
• শারীরিকভাবে নিজেকে দুর্বল অনুভব করা।
• আল্লাহর আনুগত্য থেকে বঞ্চিত হওয়া।
• কাজেকর্মে বরকত না থাকা।
• কাজকর্মে সমন্বয় না থাকা।
• গুনাহের কাজে অভ্যন্ত হওয়া।
• আল্লাহর ব্যাপারে গুনাহকারীর ভেতর উদাসীনতা তৈরি হওয়া।
• লোকজন তাকে অশ্রদ্ধা করে।
• জীবজন্তুও গুনাহকারীকে লানত করে।
• সে সর্বদা অপমানিত হতে থাকে।
• গুনাহকারীর অন্তরে সিলমোহর পড়ে যায়।
• লানতের শিকার হয়ে তার দুআ কবুল হয় না।
• তার কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
• তার আত্মমর্যাদাবোধ কমে যায়।
• লজ্জা-শরম চলে যায়।
• নিয়ামত দূর হয়ে যায়।
• আজাব আপতিত হয়।
• গুনাহকারীর হৃদয়ে সর্বদা ভয় বাস করে এবং সে শয়তানের বন্ধুতে পরিণত হয়। তার জীবনের যবনিকাপাত হয় মন্দের ওপর এবং পরকালীন শাস্তি অনিবার্য হয় অনন্তকালের জন্য।

বইঃ তাওবা করতে চাই কিন্তু...।

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনার একটি দু’আ কবুল করা হবে, তখন আপনি আল্লাহর কাছে কী চাবেন?ঠিক এরকমই একটি প্রশ্ন একবার আল্লাহর রাসু...
09/05/2026

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনার একটি দু’আ কবুল করা হবে, তখন আপনি আল্লাহর কাছে কী চাবেন?

ঠিক এরকমই একটি প্রশ্ন একবার আল্লাহর রাসুলকে (ﷺ) তার চাচা আব্বাস (রা.) ও করেছিলেন। অনুরোধ করেছিলেন, তাকে যেন এমন একটি দু’আ শেখানো হয়, যেই একটি দু’আই এত ব্যাপক অর্থপূর্ন হবে যে, সেটা যদি কবুল হয় তাহলে আর কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হবে না। রাসুল (ﷺ) তখন তাকে যে দু’আটি শিখালেন, তা হলো,

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ’আফিয়াহ’ চাই। দুনিয়া এবং আখিরাতে।

কী অর্থ ‘আফিয়ার’?

— আফিয়াহ অর্থ দু:খ কষ্ট থেকে মুক্ত থাকা।

— আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি আপনি সুস্থ থাকেন।

— আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি প্রয়োজন মাফিক রিযিক থাকে আপনার। যদি জীবনকে আপনি উপভোগ করতে পারেন, যদি আপনার সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকে সবধরনের অনিষ্টতা থেকে, আপনি আফিয়াহতে আছেন।

— যদি আপনাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদি দেয়া না হয় কোন শাস্তি বা আযাব, আপনি আফিয়াহতে আছেন।

সুবহানাল্লাহ! কত সংক্ষিপ্ত দু’আ, অথচ কী ব্যপক অর্থবোধক। আপনি আফিয়াহ চাচ্ছেন, তার মানে আপনি আল্লাহকে বলছেন, তিনি যেন আপনাকে বাঁচিয়ে রাখেন যে কোন যন্ত্রনা, কষ্ট, অসচ্ছলতা, ক্ষতি ও পরিক্ষা থেকে। দুনিয়া আখিরাতের যাবতীয় মুসিবত থেকে।

আব্বাস (রা.)- কে যখন রাসুল (ﷺ) দু’আটির কথা বললেন, তিনি প্রথমে উত্তর দিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এত ছোট দু’আ, আমি তো আরও বড় কিছু চেয়েছিলাম।

রাসুল (ﷺ) জবাব দিয়েছিলেন, প্রিয় চাচা! আল্লাহর কাছে আফিয়াহ চান। দেয়ার মত আফিয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
তথ্যসূত্রঃ সুনান তিরমিযি, ২৬৭৫ ও রিয়াদুস সালেহীন।
~ রিজওয়ানুল কবির (হাফি.)

আল্লহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ 🩵
08/05/2026

আল্লহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ 🩵

24/08/2024

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনে টাকার উৎস কি? এতো বড় প্রজেক্ট কাদের টাকায় চলে?

দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে সকলেই বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। শাইখ আহমাদুল্লাহ হুজুরের  আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনে আপনি পাঠাতে প...
23/08/2024

দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে সকলেই বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। শাইখ আহমাদুল্লাহ হুজুরের আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনে আপনি পাঠাতে পারেন আপনার অনুদান। আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অনুদান পাঠাতে এই লিংকটি ব্যবহার করুন: https://assunnahfoundation.org/

06/08/2024

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কেন এখন প্রয়োজন?
🎤Professor Mokhter Ahmad √

01/08/2024
প্রথমেই আমি ফরজ সালাত ত্যাগ করিনি। কোনো একদিন যোহরের ওয়াক্তে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে খেয়াল এসেছিল—আজ নফল টা বাদ দেই। প্রথমেই আ...
13/07/2024

প্রথমেই আমি ফরজ সালাত ত্যাগ করিনি। কোনো একদিন যোহরের ওয়াক্তে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে খেয়াল এসেছিল—আজ নফল টা বাদ দেই।

প্রথমেই আমি যিকির বন্ধ করিনি। কোনো একদিন আসরের ওয়াক্তের পর মন বললো—আজ যিকিরের সংখ্যাটা কমিয়ে দেই।

প্রথমেই আমি কুরআনের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করিনি। কোনো একদিন এশার ওয়াক্তের পর ভেবেছিলাম—আজ সূরা মূলক না পড়ি।

প্রথমেই আমি আউয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায়ের অভ্যাস নষ্ট করিনি। তবে আযান কানে আসার পর কে যেন জানালো—অনলাইনের দাওয়াহ দেবার জন্য লেখাটুকু কমপ্লিট করে নেও।

প্রথমেই আমি নন মাহরামের ফিতনায় পড়িনি। কোনো একদিন লেখকের লেখা পড়া, লিস্টে নেওয়া অতঃপর ডে' তে রিপ্লাই করা। মন বললো—প্রয়োজনে কথা বলার ছাড় আছে।

আমি কোনো কিছুই প্রথমে করিনি। কেবল হিদায়েত ঘুড়ির সুতাকে কিছুটা ঢিল দিয়েছিলাম। আর আজ? সেই ঘুড়ি মুখ থুবড়ে মাটিতে পতিত হয়েছে। সেই যে নফল ছেড়ে আসলাম, ছেড়ে আসলাম যিকিরে মগ্ন থাকা, ছেড়ে আসলাম কুরআনকে—আজ তারাই আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। আমি এখনও শুনতে পাই;

'হাইয়া আলাস সালাহ
হাইয়া আলাল ফালাহ'

তবে সাথে-সাথে সালাতে দাঁড়াতে পারিনা, পারিনা নফলের হক্ব আদায় করতে কিংবা ফরজের। পারিনা মন খুলে যিকির করতে কিংবা কুরআনের পাতায় মশগুল হতে। আমি প্রথমেই ছাড়িনি.. চাইনি ছাড়তে! অথচ আজ কতখানি দূরত্ব; আমি আঁকড়ে ধরতে চাই তবু পা পিছলে যাই। আমি আমার অতীতে সুখী ছিলাম না, না আছি বর্তমানে। আমি নিজের ধ্বংস নিজেই করেছি—হেদায়েতের সুমিষ্ট স্বাদ, রহমতের ছায়া থেকে নিজেই নিজেকে সরিয়েছি। আর দাঁড়িয়ে আছি আপন ধ্বংসস্তূপের উপর! নির্বিকার, নির্লিপ্ত বোধহীন..

হেদায়েত পাওয়া যেমন কষ্টের বিষয় টিকিয়ে রাখাও ততোটা কষ্টসাধ্য। বেশি বেশি সেজন্য দোয়া করি উচিত।

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ

হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।
[সূরা আল-ইমরানঃ ৩:৮]

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِيْنِكَ

ইয়া- মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব ছাব্‌বিত ক্বল্‌বী ‘আলা- দীনিক

হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর অটল রাখো।
[ তিরমিযীঃ ৩৫২২ ]

আপনি ফেইসবুক‌ স্ক্রল করছিলেন,  হঠাৎ দেখলেন আপনার বেকার বন্ধুটি খুব ভালো একটি চাকরি পেয়ে গেছে। আপনি মনে মনে বলে উঠলেন, "...
08/07/2024

আপনি ফেইসবুক‌ স্ক্রল করছিলেন, হঠাৎ দেখলেন আপনার বেকার বন্ধুটি খুব ভালো একটি চাকরি পেয়ে গেছে। আপনি মনে মনে বলে উঠলেন, "আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহুম্মা বারিক! হে আল্লাহ, আমার বন্ধুটির আয় রোজগারে বরকত দিন এবং তাকে কর্মজীবনে অনেক উন্নতি করার তৌফিক দান করুন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

আপনার বান্ধবীর বিয়ের দাওয়াত পাওয়ার পর আপনি মন থেকে দোয়া করলেন, " হে আল্লাহ! আমার বান্ধবীর দাম্পত্য জীবন আপনি সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

আপনি পার্কে হাঁটছিলেন, দেখলেন ফুটফুটে একটি বাচ্চা খেলা করছে। আপনি বাচ্চাটির উদ্দেশ্যে দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! শিশুকে সুস্থ-সবল রেখে নেক হায়াত দান করুন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

বাসায় ফেরার সময় দেখলেন এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে আছে। আপনি তাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করার পর তার জন্য দোয়া করলেন, " হে আল্লাহ! আপনি লোকটিকে সুস্থতা দান করুন এবং তার জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট দূর করে দিন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"

আমি কিন্তু কোনো রূপকথার গল্প বলছি না। আমাদের সাথে ঠিক এমনটাই হয়। এই মর্মে একটি হাদিস আছে, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:
কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফেরেশতা তার দোয়ার সময় আমীন বলতে থাকেন। যখনই সে তার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করে, তখন ফেরেশতা বলেন, আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ। [সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৮৯৫]

আমাদের সমাজটা হিংসা-বিদ্বেষে ভরে গেছে। আমরা অন্যের ভালো সহ্য করতে পারিনা। কারো ভালো দেখলে দোয়া করা তো দূরের কথা বরং অনেকে অন্যের সুখ নষ্ট করার জন্য কালো জাদুও করে! অথচ আল্লাহর দেওয়া বিধান কতই না চমৎকার! অন্যের ভালো চাইলে, অন্যের জন্য ভালো দোয়া করলে, তাতে বরং নিজেরই উপকার হয়। কেননা, ফেরেশতাদের দোয়া তো কখনো বিফল হয়না।

এই সুন্দর হাদিসটি না জানার কারণেই হয়ত অনেকে মনে এখনো হিংসার ময়লা রয়ে গেছে। তাই পোস্টটি কপি বা শেয়ার করে সবার কাছে রাসুল (ﷺ)-এর বাণী পৌঁছে দিন। কে জানে?হয়ত আপনার করা একটি শেয়ারই অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে!

⚠️ যেসব গুনাহ অভিশাপের পাত্র বানায়বিভিন্ন গুনাহের জন্য রাসুল (ﷺ) অভিসম্পাত করেছেন। যেসব দুর্ভাগা বান্দা-বান্দী এসব গুনা...
28/06/2024

⚠️ যেসব গুনাহ অভিশাপের পাত্র বানায়

বিভিন্ন গুনাহের জন্য রাসুল (ﷺ) অভিসম্পাত করেছেন। যেসব দুর্ভাগা বান্দা-বান্দী এসব গুনাহ করে থাকে তারাও এই লানত ও অভিসম্পাতের ভাগিদার হয়। সংক্ষেপে তাদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. যেসব নারী নিজেদের শরীরে ট্যাটু বা উল্কা অংকন করে, যারা সেই ট্যাটু লাগিয়ে দেয় এবং যেসকল নারী পরচুল বা নকল চুল ব্যবহার করে ও যারা সেই নকল চুল লাগিয়ে দেয়।
২. যারা সুদী লেনদেন করে, যারা সেই লেনদেন লিখে দেয় এবং যারা এর ওপর সাক্ষী থাকে।
৩. অপরের সম্পদ যে চুরি করে।
৪. মদ্যপায়ী, মদ প্রস্তুতকারক, মদের ব্যবসায়ী, মদ বিক্রির অর্থভোগকারী এবং মদের পরিবেশক।
৫. যে ব্যক্তি নিজ পিতা-মাতার ধ্বংস কামনা করে।
৬. যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো নামে পশু জবাই করে।
৭. যে-সকল পুরুষ নারীর বেশ ধারণ করে এবং যে-সকল নারী পুরুষেরসাদৃশ্য গ্রহণ করে।
৮. যে ব্যক্তি সমাজে কোনো বিদআত শুরু করে অথবা কোনো বিদআতকে প্রশ্রয় দেয়।
৯. জীব ও প্রাণির চিত্রাংকনকারী।
১০. সম-কামী।
১১. বিকৃত রুচির যেসকল মানুষ পশুকাম করে।
১২. যে ব্যক্তি নিজের পিতা-মাতাকে গালি দেয়।
১৩. যে ব্যক্তি পশুর মুখে আঘাত করে।
১৪. যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের ক্ষতি করে কিংবা কোনো ষড়-যন্ত্র করে।
১৫. যেসকল নারী কবর যিয়ারত করে, যারা কবরে সিজদা দেয় বা মোমবাতি জ্বালায়।
১৬. স্ত্রীর পশ্চাদ্দেশে যৌ'ন সম্ভোগকারী।
১৭. সাহাবীদেরকে নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করে।
১৮. যে ব্যক্তি নারীদের পোষাক পরে অথবা যে নারী পুরুষদের পোষাক পরে।
১৯. ঘুষখোর, ঘুষদাতা ও ঘুষের মধ্যস্থতাকারী। উল্লিখিত এ সকল প্রকারের লোকের জন্য আল্লাহর রাসূল বদদুআ ও অভিসম্পাত করেছেন।
২০. এ ছাড়া নবীজি এ ইরশাদ করেছেন, যেই স্ত্রী স্বামীর সাথে রাগ করে তার সাথে এক বিছানায় রাত্রি যাপন করে না, আল্লাহর ফিরিশতা রাতভর সেই নারীকে লানত করতে থাকেন।
২১. আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে ইশারা করে কথা বলে, ফিরিশতারা তার ওপর লানত বর্ষণ করেন।

বই: রূহের খোরাক।
লেখক: ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)

Address

Kuril 157/1B
Dhaka
1234

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ishaq posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share