Ishaq

Ishaq কোরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ জ্ঞান পেতে পেতে পেজটি ফলো করে সাথে থাকুন।❤️

06/06/2026
কারও মৃত্যুর কথা শুনে হাসি-তামাশা বা ঠাট্টা করা কিংবা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ভীষণ মূর্খতাপূর্ণ কাজ। যা শুধু মুসলমান নয়; ক...
16/05/2026

কারও মৃত্যুর কথা শুনে হাসি-তামাশা বা ঠাট্টা করা কিংবা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ভীষণ মূর্খতাপূর্ণ কাজ। যা শুধু মুসলমান নয়; কোনো মানুষের পক্ষেই শোভা পায় না। অন্যের মৃত্যুতে এমন আচরণ করলে নিজের মৃত্যুতেও মানুষ হাসতে পারে, সে বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। কেননা মানুষ হিসেবে আমার-আপনারও দোষ-ত্রুটি আছে। মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়া, কবর জেয়ারত করতে বলা হয়েছে হাদিসে, দোষ বর্ণনা নয়। যাতে আমরা মৃত্যুকে স্মরণ করে নেক কাজ করতে পারি।

হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, সবার উচিত—মৃত ব্যক্তির নেক কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃতদের নেক কাজগুলোর আলোচনা করো এবং মন্দ কাজের আলোচনা থেকে বিরত থাকো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০০)

মৃত ব্যক্তির ভালো কাজগুলো উল্লেখ করে তার জন্য দোয়া করা এবং দোষ-ত্রুটি গোপন করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এটি মুমিনের কর্তব্যও বটে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যে তার ভাইয়ের দোষ আড়াল করবে, কেয়ামতের কঠিনতম পরিস্থিতিতে আল্লাহ তার দোষও গোপন রাখবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম: ২৫১০, আহমদ: ২৭৪৮৪, ৮৯৯৫)

অন্যদিকে যারা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং ফাঁস করে, তাদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি, ভুলভ্রান্তি খুঁজে বের করো না। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় ও প্রকাশ করে দেয়, স্বয়ং আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেন তাকে নিজের বাড়িতেই লাঞ্ছিত করেন।’ (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের দোষ-ত্রুটিগুলো খুব সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আর এই সুযোগটি অনেকে গ্রহণ করে কারো মৃত্যুর পর তার দোষ-ত্রুটি প্রচার করার জন্য। কত জঘন্য আচরণ চিন্তা করুন! তারা মূলত নিজেরই ক্ষতি করে। তাদের জানা উচিত, ইসলামি শরিয়ায় মানুষ হলো এমন অনন্য সৃষ্টি, জীবিত হোক বা মৃত—একই সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। এটি তার অধিকার। ‘মানবসন্তান জীবিত বা মৃত হোক সম্মানের পাত্র বলে গণ্য হবে।’ (আল মাবসুত, ৫৯/২)

অতএব, মৃত ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা যাবে না। বরং তার ভালো কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। উপরন্তু দাফন-কাফন, গোসল, জানাজা ইত্যাদি সম্পন্ন করা মৃত ব্যক্তির অধিকার। এসব কাজ মর্যাদার সঙ্গে করতে হবে। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী একজন মুসলমানের প্রতি আরেক মুসলমানের ছয়টি অধিকার রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো কেউ মারা গেলে তার জানাজায় উপস্থিত হওয়া। (সহিহ মুসলিম: ২১৬২)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৃত ব্যক্তির প্রতি উত্তম আচরণ করা, তার নেক কাজের আলোচনা করা, তার অধিকার নিশ্চিত করা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

গুনাহের কারণে যেসব ক্ষতি হয়:আল্লামা ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ তার আত-তিব্বু ওয়াল ফাওয়াইদ গ্রন্থে গুনাহের অনেক ক্ষতির কথা...
13/05/2026

গুনাহের কারণে যেসব ক্ষতি হয়:

আল্লামা ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ তার আত-তিব্বু ওয়াল ফাওয়াইদ গ্রন্থে গুনাহের অনেক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন:

• ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া।
• নিজের ভেতর শূন্যতা অনুভব করা।
• কাজকর্ম কঠিন হওয়া।
• শারীরিকভাবে নিজেকে দুর্বল অনুভব করা।
• আল্লাহর আনুগত্য থেকে বঞ্চিত হওয়া।
• কাজেকর্মে বরকত না থাকা।
• কাজকর্মে সমন্বয় না থাকা।
• গুনাহের কাজে অভ্যন্ত হওয়া।
• আল্লাহর ব্যাপারে গুনাহকারীর ভেতর উদাসীনতা তৈরি হওয়া।
• লোকজন তাকে অশ্রদ্ধা করে।
• জীবজন্তুও গুনাহকারীকে লানত করে।
• সে সর্বদা অপমানিত হতে থাকে।
• গুনাহকারীর অন্তরে সিলমোহর পড়ে যায়।
• লানতের শিকার হয়ে তার দুআ কবুল হয় না।
• তার কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
• তার আত্মমর্যাদাবোধ কমে যায়।
• লজ্জা-শরম চলে যায়।
• নিয়ামত দূর হয়ে যায়।
• আজাব আপতিত হয়।
• গুনাহকারীর হৃদয়ে সর্বদা ভয় বাস করে এবং সে শয়তানের বন্ধুতে পরিণত হয়। তার জীবনের যবনিকাপাত হয় মন্দের ওপর এবং পরকালীন শাস্তি অনিবার্য হয় অনন্তকালের জন্য।

বইঃ তাওবা করতে চাই কিন্তু...।

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনার একটি দু’আ কবুল করা হবে, তখন আপনি আল্লাহর কাছে কী চাবেন?ঠিক এরকমই একটি প্রশ্ন একবার আল্লাহর রাসু...
09/05/2026

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনার একটি দু’আ কবুল করা হবে, তখন আপনি আল্লাহর কাছে কী চাবেন?

ঠিক এরকমই একটি প্রশ্ন একবার আল্লাহর রাসুলকে (ﷺ) তার চাচা আব্বাস (রা.) ও করেছিলেন। অনুরোধ করেছিলেন, তাকে যেন এমন একটি দু’আ শেখানো হয়, যেই একটি দু’আই এত ব্যাপক অর্থপূর্ন হবে যে, সেটা যদি কবুল হয় তাহলে আর কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হবে না। রাসুল (ﷺ) তখন তাকে যে দু’আটি শিখালেন, তা হলো,

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ’আফিয়াহ’ চাই। দুনিয়া এবং আখিরাতে।

কী অর্থ ‘আফিয়ার’?

— আফিয়াহ অর্থ দু:খ কষ্ট থেকে মুক্ত থাকা।

— আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি আপনি সুস্থ থাকেন।

— আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি প্রয়োজন মাফিক রিযিক থাকে আপনার। যদি জীবনকে আপনি উপভোগ করতে পারেন, যদি আপনার সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকে সবধরনের অনিষ্টতা থেকে, আপনি আফিয়াহতে আছেন।

— যদি আপনাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদি দেয়া না হয় কোন শাস্তি বা আযাব, আপনি আফিয়াহতে আছেন।

সুবহানাল্লাহ! কত সংক্ষিপ্ত দু’আ, অথচ কী ব্যপক অর্থবোধক। আপনি আফিয়াহ চাচ্ছেন, তার মানে আপনি আল্লাহকে বলছেন, তিনি যেন আপনাকে বাঁচিয়ে রাখেন যে কোন যন্ত্রনা, কষ্ট, অসচ্ছলতা, ক্ষতি ও পরিক্ষা থেকে। দুনিয়া আখিরাতের যাবতীয় মুসিবত থেকে।

আব্বাস (রা.)- কে যখন রাসুল (ﷺ) দু’আটির কথা বললেন, তিনি প্রথমে উত্তর দিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এত ছোট দু’আ, আমি তো আরও বড় কিছু চেয়েছিলাম।

রাসুল (ﷺ) জবাব দিয়েছিলেন, প্রিয় চাচা! আল্লাহর কাছে আফিয়াহ চান। দেয়ার মত আফিয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
তথ্যসূত্রঃ সুনান তিরমিযি, ২৬৭৫ ও রিয়াদুস সালেহীন।
~ রিজওয়ানুল কবির (হাফি.)

আল্লহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ 🩵
08/05/2026

আল্লহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ 🩵

Address

Dhaka
1234

Telephone

+8801721816879

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ishaq posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share