Ummah- উম্মত

Ummah- উম্মত It is an Islamic page with an aim to spread Hadith and ayath among all the muslims.Keep supporting.

আরাফার রোজা কোন দিন রাখতে হবে?এ ব্যাপারে মতানৈক্যের বিশ্লেষণ ও সমাধান:প্রথমেই বলে নিই: বর্তমানে আরবি চন্দ্রবছরের জিলহজ ম...
25/05/2026

আরাফার রোজা কোন দিন রাখতে হবে?
এ ব্যাপারে মতানৈক্যের বিশ্লেষণ ও সমাধান:

প্রথমেই বলে নিই: বর্তমানে আরবি চন্দ্রবছরের জিলহজ মাস চলছে। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে হাজিগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন। আরাফার দিনটিই হজের দিন। আর এর পরের দিন অর্থাৎ, জিলহজের ১০ তারিখ হলো ঈদের দিন।
❖ যেদিন রাখতে হবে আরাফার রোজা:
আরাফার রোজা কোন্ দিন রাখতে হবে, তা নিয়ে আলিমগণের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।
❑ প্রথম মত:
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’’
[ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৩৬]
খেয়াল করুন, উপরের হাদিসে ‘‘আরাফার দিনের রোজা’’র কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যেদিন আরাফার মাঠে হাজিগণ অবস্থান করেন।
আমরা জানি, আগামী ২৬শে মে (মঙ্গলবার) হাজিগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করবেন। তাই, বাংলাদেশের অধিবাসীরাও সেদিন রোজা রাখবেন। অর্থাৎ ২৫শে মে রাতে সাহরি খেয়ে ২৬শে মে (মঙ্গলবার) আরাফার রোজা রাখবেন।
শায়খ বিন বায (রাহ.)-সহ অনেক আলিমের মত এটি। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড লাজনা দায়িমা এবং মিসরের ফতোয়া বোর্ড দারুল ইফতার মতামতও এমন। [শায়খ আমিন ইবনু আবদিল্লাহর প্রবন্ধ (আল-আলুকাহ সাইট থেকে)]

❑ দ্বিতীয় মত:
আমরা জানি, জিলহজের ৯ তারিখে হাজিগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন। আলিমগণের অনেকেই বলেছেন, হাদিসে বর্ণিত ‘‘আরাফার দিন’’ ফ্রেইজটি দিয়ে মূলত জিলহজের ৯ তারিখ বুঝানো হয়েছে। কারণ ৯ তারিখেই হাজিরা আরাফায় অবস্থান করেন। তাই, নিজ নিজ অঞ্চল/দেশের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী জিলহজের ৯ তারিখে আরাফার রোজা রাখতে হবে। মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ এ ব্যাপারে মাসিক আলকাউসারে সুন্দর আলোচনা করেছেন। শায়খ ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-সহ অনেক আলিম এই মত দিয়েছেন। হানাফি মাযহাবের সিদ্ধান্ত এটিই। এই মতানুসারে, বাংলাদেশের অধিবাসীরা আগামী ২৬ শে মে রাতে সাহরি খেয়ে ২৭ শে মে
আরাফার রোজা রাখবেন।

তাহলে, আমরা দেখলাম: প্রথম মতানুসারে আরাফার রোজা সৌদি আরবের চন্দ্রের হিসাবে রাখতে হবে। সেটি হলো, ২৬শে মে, মঙ্গলবার। দ্বিতীয় মতানুসারে, নিজ দেশের চন্দ্রের হিসাবে রাখতে হবে। সেটি হলো, ২৭শে মে, বুধবার।

❑ সমন্বয় সাধন ও বিকল্প সমাধান:
(এই অংশটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন)
যেহেতু বিষয়টি ইখতিলাফি (মতভেদপূর্ণ), সেহেতু আমরা সতর্কতা হিসেবে দুই দিন রোজা রাখতে পারি। অর্থাৎ, সৌদির হিসাবে জিলহজের ৯ তারিখ, মঙ্গলবার (যেদিন হাজিগণ আরাফায় থাকবেন) এবং আমাদের দেশের হিসাবে জিলহজের ৯ তারিখ, বুধবার (অর্থাৎ, হাজিদের আরাফায় অবস্থানের পরের দিন)। তাহলে আমাদের আরাফার রোজা আদায় হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ ভাবে জানা জরুরি,
দুটো রোজাই আরাফার নিয়তে রাখা যাবে না। যেকোনো একটি আরাফার নিয়তে রাখতে হবে এবং অপরটি সাধারণ নফলের নিয়তে। কারণ আরাফার দিন একটিই, তাই আরাফার রোজাও একটিই। আরাফার নিয়তে দুটো রোজা রাখার সুযোগ নেই।

আরাফার দিনে যদি কেউ সাধারণ নফলের নিয়তেও রোজা রাখে, তবে সেটি আরাফার রোজা হিসেবেই পরিগণিত হবে, ইনশাআল্লাহ। তাই, কেউ প্রথম মতটি অনুসরণ করতে চাইলে, মঙ্গলবারে আরাফার নিয়তে রোজা রাখবেন আর বুধবারে সাধারণ নফলের নিয়তে রাখবেন। কেউ দ্বিতীয় মতটি মানতে চাইলে, মঙ্গলবারে সাধারণ নফলের নিয়তে রাখবেন আর বুধবারে আরাফার নিয়তে রোজা রাখবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ, আরাফার রোজা হয়ে যাবে। কারণ এই দুটো দিনের যেকোনো একদিন আরাফাহ দিবস, এতে কোনো সন্দেহ কিংবা ভিন্নমত নেই। নিয়ত মুখে বলতে হবে না; অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। (এখানে দুই রোজার যে পদ্ধতি বলা হলো, সেটি তর্কসাপেক্ষ বিষয়। তবে, আমরা এটিকে সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী মনে করছি। (আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত)

পূর্ববর্তী নেককার ব্যক্তিগণ জিলহজের প্রথম ৯ দিনই রোজা রাখতেন। সুতরাং আরাফার রোজার জন্য সতর্কতা হিসেবে একাধিক রোজা রাখলেও ক্ষতি নেই; বরং একটি নফল রোজা অতিরিক্ত রাখা হবে। সম্ভব হলে তো জিলহজের প্রথম ৯ দিনই রোজা রাখা ভালো।
জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল অত্যন্ত মর্যাদার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে মহান এবং প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫৪৪৬; হাদিসটির সনদ সহিহ]
নফল রোজা তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। তাই, এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম।
❖ আরাফার দিনে হাজি সাহেবরা রোজা রাখবেন না; বরং অন্যরাই শুধু রাখবেন।
উম্মুল ফাদ্বল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফার দিন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখেছেন কি না তা নিয়ে লোকজন সন্দেহে পতিত হলো। আমরা তখন রাসুলের সাথেই ছিলাম। আমি তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম। তখন তিনি আরাফায় ছিলেন। তিনি (দুধটুকু) পান করলেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫২৫]
আমাদের যাদের সুযোগ আছে, তাদের আরাফার রোজা রাখা উচিত। এই দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘অন্যান্য দিনের তুলনায় আরাফার দিনে আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩১৭৯]

নুসুস থেকে সংগৃহীত ও পরিমার্জিত

25/05/2026

এই আরাফায়, সেই দোয়াগুলো করুন যা অসম্ভব মনে হয়। আল্লাহর জন্য কোনো কিছুই বড় নয়।

• আরাফার দিন আসছে। আপনার দোয়ায় ‘মগ্ন’ হওয়ার সময় এসেছে। আল-ওয়াহহাবের কাছে এমন কিছু চান যা অসম্ভব মনে হয়। নবী মুসা (আঃ) সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, সামনে এগোনোর কোনো পথ ছিল না, আর আল্লাহ তাঁর জন্য তা দু'ভাগ করে দিয়েছিলেন। তিনি আপনার জন্যও পথ তৈরি করে দিতে পারেন। সাহসের সাথে চান। সবকিছু চান।

• আরাফার দিন আসছে। আর-রাজ্জাকের কাছে আপনার কল্পনার বাইরের রিযিকের জন্য প্রার্থনা করুন। নবী মরিয়ম (আঃ) আল্লাহর কাছ থেকে এমনভাবে রিযিক পেয়েছিলেন যা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারেনি। তিনি আপনাকে এমন জায়গা থেকেও রিযিক দিতে পারেন যা আপনি কখনো আশা করেননি। সাহসের সাথে চান। সবকিছু চান।

• আরাফার দিন আসছে। আল-ফাত্তাহর কাছে এমন দরজা খুলে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করুন যা অন্য কেউ খুলতে পারে না। নবী ইউসুফ (আঃ) আল্লাহর বিধানে কারাগার থেকে সম্মানে উন্নীত হয়েছিলেন। একটি মুহূর্ত আপনার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। সেই দোয়াগুলো করুন যা অসম্ভব মনে হয়।

• আরাফার দিন আসছে। আশ-শাফির কাছে এমন আরোগ্য প্রার্থনা করুন যা ডাক্তাররা ব্যাখ্যা করতে পারেন না। নবী আইয়ুব (আঃ) সবকিছু হারিয়েছিলেন, তবুও আল্লাহ তাঁকে আগের চেয়েও বেশি করুণা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহর নিরাময় করার জন্য কোনো কিছুই খুব বেশি ভাঙা নয়।

• আরাফার দিন আসছে। আপনার অন্তর যা নীরবে কামনা করে, তার জন্য আল-ওয়াদুদ প্রার্থনা করুন। নবী যাকারিয়া (আঃ) বৃদ্ধ বয়সে একটি সন্তান চেয়েছিলেন, এবং আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া (আঃ)-কে দিয়ে তার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। কখনো বিশ্বাস করবেন না যে আপনার দোয়া আল্লাহর জন্য খুব অসম্ভব।

• আরাফার দিন আসছে। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে আল-কাদির প্রার্থনা করুন। নবী ইব্রাহিম (আঃ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এবং আল্লাহ তা তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ যদি আগুনের প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারেন, তবে তিনি আপনার পরিস্থিতিও পরিবর্তন করতে পারেন।

• আরাফার দিন আসছে। কোনো দ্বিধা ছাড়াই আল-কারীম প্রার্থনা করুন। নবী নূহ (আঃ) বছরের পর বছর কষ্টের মধ্যে আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছিলেন, এবং আল্লাহ তাঁকে অকল্পনীয় উপায়ে রক্ষা করেছিলেন। আপনার ধৈর্য আল্লাহর দৃষ্টি থেকে কখনো অদেখা থাকে না।

এই আরাফায়, সেই দোয়াগুলো করুন যা আপনার কাছে অসম্ভব মনে হয়। আল্লাহর কাছে কিছুই অসম্ভব নয়।

25/05/2026

ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

“২৬ মে মাগরিবের পর থেকে ২৭ মে মাগরিব পর্যন্ত (৯ জিলহজ্জ/আরাফার দিন) '' আপনি নিজেকে ঘরে বন্দি করে ফেলেন। আরাফার দিন। দোয়া কবুলের দিন। ইচ্ছা মতো দোয়া করতে থাকেন। হালাল যা কিছু আছে সব চান আল্লাহর কাছে। জুতার ফিতাটা হইলেও চান। একটা কথা মনে রাখবেন, আল্লাহ ছাড়া এই দুনিয়াতে আপনার কেউ নাই। আপনার কেউ আছে ভাবতেছেন। কালকে হয়তো সে নাও থাকতে পারে। কাজেই দিল খুলে দোয়া করেন।

আরাফার দিনের দোয়া হচ্ছে সব থেকে বড় দোয়া। দোয়া কবুলের দিন। যার যা ইচ্ছা এই দিনে চেয়ে নেন। এমনো হতে পারে সামনের আরাফায় আপনি নাও থাকতে পারেন।

আর বেশি করে পড়বেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইং ক্বদীর।'

এমন কোনো নবী রাসুল নাই যে এই দোয়াটা পড়ে নাই। এটা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ দোয়া। নিজের প্রয়োজনীয় কিছু চাওয়ার আগে মাস্ট এই দোয়া ২০-৩০ বার পড়ে নিয়েন। এর বেশি পড়লে আরো ভালো। যত পড়া যায় এই দোয়া।

বাসে থাকেন, রিক্সায় থাকেন যেখানে খুশি থাকেন ওয়াশরুম ব্যতীত, মনে মনে অই দোয়াটা পড়তে থাকবেন।

আরাফার দিনের এই কয়েক ঘন্টা কাজে লাগালে আপনার লাইফ চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। আজ থেকে, এখন থেকেই দোয়া শুরু করে দেন...।

বিঃদ্রঃ ৯ জিলহজ্ব হিসেবে বাংলাদেশে আরাফার রোজা হবে বুধবার। তবে যেহেতু জিলহজ্জের শুরুর দশক পুরোটাই ইবাদাতের তাই কেউ চাইলে বাংলাদেশ মঙ্গলবার/বুধবার দুই দিনই রেখে দিতে পারেন। ইখতিলাফ থেকেও বাঁচা গেল, রোজাও বেশি রাখা হলো।

এই রাতগুলোতে জেগে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করার চেষ্টা করবেন !

|| Islamic_Vibes ||

25/05/2026

আরাফাহ আসছে। আপনার দোয়ায় ‘মগ্ন’ হওয়ার এটাই সময়। আল-ওয়াহহাবের কাছে অসম্ভব কিছু চান। হযরত সুলাইমান [আঃ] এমন এক রাজ্য চেয়েছিলেন যা আর কেউ কখনো পাবে না। তিনি যদি তাঁকে রাজ্য দিতে পারেন, তবে তিনি আপনার পুরো ভাগ্যও নতুন করে লিখতে পারেন। লোভী হোন, সবকিছু চেয়ে নিন।

07/05/2026

❛ জুম্মাবার ❜

▪️সূরা আল কাহফ তিলাওয়াত
▪️দরুদ শরীফ পাঠ
▪️ইস্তেগফার এবং
▪️বেশি বেশি দোয়া বিশেষ করে
আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে।

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি!

( ﷺ )
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ

07/05/2026

অনেকের ধারণা, সূর্য উদিত হলেই কেবল দিন শুরু হয়। আদতে, ইসলামে দিন শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসারে, সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে নতুন তারিখ শুরু হয়।

এই যেমন, জুমুয়াহবার কিন্তু ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিন্তু অনেকের ধারণা মতে—আজ রাত হলো বৃহস্পতিবার রাত। ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজকের রাত বৃহস্পতিবার রাত নয়; আজকের রাত হলো জুমুয়াহর রাত।

তাই, জুমুয়াহ উপলক্ষে আপনার অগনিত দরুদ, অবারিত ইস্তিগফার ও সুরা কাহফের তিলাওয়াত আপনি ইচ্ছা করলে আজ রাত থেকেই শুরু করতে পারেন।

ধরুন, আজ রাতে ১০০০ বার দরুদ পাঠ শেষ করলেন। ১০০০ বার ইস্তিগফার এবং ১০০০ বার করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার। আজ রাতেই ধরা যাক সুরা আল কাহাফ তিলাওয়াত করে রাখলেন। নিদেনপক্ষে, অর্ধেক তো আগিয়ে রাখা যায়, তাই না?

যদি তা করতে পারেন, আগামিকাল ফযর ওয়াক্ত থেকে আপনি যে দরুদ, যে ইস্তিগফার, যে যিকিরগুলো করবেন, সবটাই আপনার কাছে মনে হবে বোনাস আমল। অর্থাৎ, টার্গেট আমল তো আপনার রাতেই শেষ হয়ে আছে৷ দিনের বেলা যা কিছুই করবেন, সবটাই বাড়তি।

যখনই আপনার মস্তিষ্ক এই সিগন্যাল পাবে যে, আমলের টার্গেট পূরণ করে আপনি ইতোমধ্যে বাড়তি জায়গায় প্রবেশ করেছেন, মস্তিষ্ক সেটাকে ‘রিওয়ার্ড’ হিশেবে গণ্য করবে এবং আরও বেশি করে আমলের মাঝে ডুবে থাকার প্রেরণা সৃষ্টি করবে।

জুমুয়াহর রাত তো শুরু হলো।
মস্তিষ্ককে বাড়তি প্রণোদনা দেওয়ার জন্য, আমরা কি আজ রাত থেকেই শুরু করতে পারি জুমুয়াহর আমল?

©আরিফ আজাদ

01/05/2026

দুনিয়াতে কারো জন্য বাঁচতে হয় না। না বাবা-মায়ের জন্য, না স্বামীর জন্য, না সন্তানাদির জন্য৷ এমনকি নিজের জন্যও নয়।

বাঁচতে হয় শুধুই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। নিয়তকে খালেস করে নিতে হয়, কাজকে সোজা করে ফেলতে হয় - সবকিছুকে একদিকে রেখে আল্লাহর হুকুমগুলোকে এগিয়ে রাখতে হয়।
এরপর? বাঁচাকে আল্লাহর জন্য বানিয়ে ফেললে কি আমি সুখ পেয়ে যাবো?

কখনো না। আল্লাহ কুরআনের কোথাও দুনিয়াতে সুখী হওয়ার আমল বা কৌশল বলেন নি৷ যত আমলই করে ফেলি না কেন, সুখ পাওয়ার সংকল্প কোথাও নাই। তাহলে?

আমি যখনই নিজেকে আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করে দিবো, বাকী সব ইহসাস আমার মাঝে কমে আসতে থাকবে, আল্লাহর মোহাব্বত আর তাঁর কাছে জবাবদিহিতার ভয় প্রবল হয়ে উঠবে, আমি পরীক্ষিত হতে শুরু করবো।

সূরা বাকারার ১৫৫ নং আয়াতে রাসূল ﷺ এর অনুসারীদের লক্ষ্য করে আল্লাহ বলছেন,
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ
وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ (155)

"আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো,
১. ভয় দিয়ে। (শত্রুর ভয়। যে কোন ধরণের শত্রু।)
২. ক্ষুধা দিয়ে। (রিযিকের সংকট)
৩. সম্পত্তি, ফল-ফসল ও জানের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে।
আর সবরকারীদের সুসংবাদ দাও।"

উপরের পরীক্ষাগুলো আমার উপর দিয়ে যাবে। আমি হারানোর বেদনায় ভুগবো, স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভুগবো, আমি অসুস্থ হবো, আমার রিযিক কমে আসবে, আমার সম্পত্তি হারিয়ে ফেলবো (হতে পারে সেটা কেউ দখল করার মাধ্যমে)। মোটকথা, বিভিন্ন রকমের দুনিয়াবী বালা আমার উপর দিয়ে যাবে।

আল্লাহ এটা আমাদের বলে দিয়েছেন। মানে এটাই স্বাভাবিক জীবন। একটা স্বাভাবিক জীবন মানে সেখানে পেরেশানি থাকবে, দুঃখবোধ থাকবে, শত্রুর ভয় থাকবে। জীবনকে এইভাবে মেনে নিতে হবে। আল্লাহর ফায়সালার ব্যাপারে সম্যক সজাগ থাকতে হবে। আমার উপর যে কোন সময় যে কোন বিপদ আসতে পারে। জীবন যে কোন সময় সরল থেকে জটিল হয়ে যেতে পারে। আমি যখন এইসব জানবো, বুঝবো; আমার জন্য কঠিন পরিস্থিতিও 'স্বাভাবিক' বলে সহজ হয়ে আসবে। এমনকি অর্থের অভাবে আপনজনের মৃত্যুতেও সবর করা সম্ভব হবে - আল্লাহ আমাকে অর্থ দেন নাই। ব্যবস্থা করার তাওফীকও নসীব করেন নাই। আমার উপর এই মুসীবত এইভাবেই আসার ছিলো। আমি কষ্ট পাচ্ছি, কিন্তু আল্লাহর ফায়সালায় নারাজ নই।

এইভাবে যখন আমরা নিজেকে বোঝাতে শুরু করবো। আল্লাহর বলে দেয়া যিন্দেগির মারহালাগুলো অন্তর দিয়ে গ্রহণ করতে শুরু করবো, আল্লাহ আমাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছেন।

দুনিয়ার সুখের? নাহ! এ তো ক্ষণস্থায়ী।
সুসংবাদ দিচ্ছেন জান্নাতের - যেখানে সুখ চিরস্থায়ী।

© Farheen Al Munadi

15/04/2026

‎আমি যখন থেকে প্রতিরাতে সূরা আল-ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত শুরু করলাম, শুরুতে ভাবতাম—এটা বুঝি সম্পদের জন্য। মনে হতো, হঠাৎ করে অনেক টাকা আসবে, রাতারাতি সফলতা মিলবে, জীবনে কোনো বড় পরিবর্তন ঘটে যাবে। কিন্তু এরপর যা হলো… তা আমাকে নীরব করে দিয়েছে।

‎আমি হঠাৎ ধনী হয়ে যাইনি। ঘুম থেকে উঠে টাকার পাহাড় দেখিনি, কিংবা কোনো তাৎক্ষণিক সাফল্যও আসেনি। বরং এর চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান কিছু ঘটেছে। আমি টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করে দিয়েছি। বিল, ডেডলাইন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অকারণ ভয়—সব ধীরে ধীরে কমে গেছে। অন্যদের তথাকথিত “সাফল্য”র সঙ্গে নিজেকে তুলনা করাও ছেড়ে দিয়েছি। আমি শান্তিতে ঘুমাতে শুরু করেছি। আমার হৃদয় হালকা হয়ে এসেছে।

‎প্রতিটি সকাল শুরু হয় এক অচেনা প্রশান্তি নিয়ে। চ্যালেঞ্জ আসলেও এখন আমি তা মোকাবিলা করি দৃঢ় বিশ্বাস, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা নিয়ে। তখনই আমি বুঝেছি— বারাকাহ আসলে কী। এটা সবসময় বস্তুগত লাভ নয়। অনেক সময় সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো— আল্লাহ যা দেন আমাদের হৃদয়কে: শান্তি, সন্তুষ্টি আর নির্ভরতা। তাই আজ রাতে যখন তুমি সূরা আল-ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত করবে— করো তোমার হৃদয়ের জন্য। করো সেই শান্তির জন্য, যেটার পেছনে তুমি ছুটছো। করো সেই ভরসার জন্য, যা অনিশ্চয়তার পথে তোমাকে বহন করবে। নিয়ত নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে, আশার সাথে তিলাওয়াত করো।

‎আর দেখো— কীভাবে ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তাগুলোকে তোমার হৃদয়ের বারাকাহতে রূপান্তর করে দেন।

14/04/2026
09/04/2026

সলাতুল হাজাত এর নগদ ফলাফল।

একজন অন্ধ লোক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য রাসুল ﷺ এর নিকট এসে দুয়া চাইলো। রাসুল ﷺ তাঁকে ধৈর্যের পরামর্শ দিলেন।

কিন্তু লোকটি বললো, "এটি আমার জন্য বিরাট কষ্টের"। রাসুল ﷺ তাঁকে বললেন, "তাহলে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ো। অতঃপর বলো:

اللَّهمَّ إنِّي أسألُكَ وأتوجَّهُ إليكَ بنبيِّكَ محمدٍ نبيِّ الرحمةِ
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি ও মনোনিবেশ করছি, রহমতের নবী, আপনার নবি মুহাম্মাদ এর মাধ্যমে।

يا محمدُ إنِّي أتوجَّهُ بكَ إلى ربِّي في حاجَتي هذه فتَقضى , وتُشفعُني فيه وتشفعُهُ فيَّ
হে মুহাম্মাদ! আমি আপনার মাধ্যমে আমার রবের কাছে আমার প্রয়োজন পেশ করছি।
হে আল্লাহ আমার ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন ও প্রয়োজন পূরণ করুন।

এই দোয়া কয়েকবার করার পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ওই লোকটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন।

(সহিহ ইবনু খুযাইমা: ২/২২৫, আত তারগীব: ১০১৮, তাহকীকে আলবানি রহ: সহিহ)

যেকোনো প্রয়োজন পূরণ করার জন্য এই নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়ার নাম সলাতুল হাজাত।
এই নামাজ যে কোনো সূরা দিয়ে পড়া যায়।
নামাজ শেষে নিজ প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে বললে তিনি তা প্রদান করেন।

এই হাদিস থেকে অনেক উলামায়ে কেরাম রাসুল ﷺ এর ওসিলা নিয়ে দু'আ করাকে জায়েয বলেছেন। আল্লাহু আ'লাম।

নামাজ শেষে নিজ প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে, নিজ ভাষায় যেকোনো দু'আ করতে পারবেন। উপরের দু'আটি করা জরুরি নয়।

— আবদুল্লাহ আল মনসুর

#সীরাহ

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ummah- উম্মত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Ummah- উম্মত:

Share