24/11/2024
দারসুল কুরআন
প্রত্যাশা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত দারস।
সূরাঃআল আসর
وَالْعَصْرِۙ
اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفِىْ خُسْرٍۙ
اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ ۙ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
অনুবাদঃ
সময়ের কসম, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা নয়,যারা ঈমান আনে ও সৎ আমল করে এবং যারা পরস্পরে সত্যের উপদেশ দেয় এবং উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের'। ( আছর,১-২-৩)
সংক্ষিপ্ত আলোচনাঃ
মহাগ্রন্থ আল কুরআনের একটি সংক্ষিপ্ত, অথচ অর্থপূর্ণ সূরা।এই সূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন যেঃ-
মানুষ যদি এই একটি মাত্র সূরা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে ও মনোযোগের সাথে পাঠ করে এবং অনুধাবন করে তাহলে এই একটি সূরাই যতেষ্ট।
মূল আলোচনাঃ
মহাগ্রন্থ আল কুরআনের এই মহান অর্থপূর্ণ সূরা আল-আছর থেকে আমরা আলোচনা করবো কে বড় ক্ষতি গ্রস্থ এবং কে ক্ষতিগ্রস্ত নয়।
০১.সময়ের কসমঃ-
কুরআন হাদিসের বিভিন্ন স্থানে সময়ের গুরুত্ব নিয়ে অনেক আলোচনা করা হয়েছে । এমনকি সময়ের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ স্বতন্ত্র সূরা নাযিল করেছেন।
যারাই পৃথিবীতে সময়ের মূল্যায়ন ও সৎ ব্যবহার করতে পেরেছে তাঁরা ইহকাল ও পরকালে সফল ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সময়ের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য অত্র সূরায় সময়ের কসম করেছেন।।
এমনকি সূরা আল লাইল এ মহান আল্লাহ বলেন, ' শপথ রাত্রির যখন তা আচ্ছন্ন করে, শপথ দিনের যখন সে আলোকিত করে।(আল লাইল-১,২)
অন্যত্র সূরা আদ্ব দ্বোহায় বলেন,
'শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর যখন উহা নিঝুম হয়'। ( আদ্ব দ্বোহা-১,২)
সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছেঃ-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তুমি সন্ধায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধার অপেক্ষা করো না '।
ছহীহ বুখারী, হা/৬৪১৬
ছহীহ ইবনে হিব্বান,হা/ ৬৯৮
মিশকাত,হা/ ১৬০৪
০২.নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিতঃ
কেউ অলসতা করে সৎ আমল না করার কারণে ক্ষতি গ্রস্ত হয়, কেউ আবার মন্দ কাজ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই সৎ উদ্দেশ্য সৎ আ'মল করেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রশ্ন হতে পারে সৎ আ'মল করে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিভাবে?
এর উত্তর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ বলেনঃ-
হে নবী! আপনি বলুন,আমি কি তোমাদেরকে সেসব মানুষদের সংবাদ দিব? যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।তারা সেসব মানুষ, যাদের পার্থিবজীবনের প্রচেষ্টা বিনষ্ট হয়। অথচ তারা মনে করে তারা সৎকর্ম করেছে'।( কাহফ,১০৩-১০৪)
কিছু কাজের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে অপরাধী সাব্যস্ত হয়। আবার কিছু কাজ করে মানুষ অজান্তেই ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। আবার অনেকেই আল্লাহর নিকট যালিম হিসেবে প্রমাণিত হয়।
অনেকেই আবার অজান্তেই মুশরিক হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ-
নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশিদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।
( মায়েদা:৭২)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেনঃ-
আর যারা বাতিলের প্রতি ইমান আনয়ন করে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত'।
(আন কাবুত-৬২)
আমরা অবশ্যই সুরা আছরের মাধ্যমে জানি, যারা মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, নেক আমল করে না, সত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, ধৈর্য ধারণ করে না তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
এখন আমরা জানবো যারা মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে, নেক আমল করে
সত্যের কথা ও বলে তারা কেন ক্ষতিগ্রস্ত!?
আপনারা অবশ্যই অবাক হচ্ছেন,তারা আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেন!?
নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ
যারা মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাদেরকে পরিক্ষা করবেন তার নেক আ'মল দ্বারা।
কেহ যদি মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে অথচ নেক আ'মল করে না,তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
এখন কেহ যদি নেক আ'মল করে, তার নেক আ'মল পরিক্ষা করতে হবে সূরা আছরের পরবর্তী আয়াত (যে সত্যের প্রতি আহবান করে, সত্য কথা বলে) দ্বারা।সে যদি নেক আ'মল করে অথচ সত্যের প্রতি আহবান করে না,সত্য কথা (হক) বলে না, তাহলে বুঝতে হবে সে ক্ষতিগ্রস্ত।
এখন কেহ যদি সত্য কথা বলে, সত্যের প্রতি আহবান করে তাকে পরিক্ষা করতে হবে সূরা আসরের শেষ আয়াত দিয়ে ( যারা ধৈর্য ধারণ করে/ ধৈর্য ধারণ করার আহবান জানায়)
কারণ হক কথা বললে অবশ্যই বিপদ আপদ আসবে, অনেকেই কটু কথা বলবে দুনিয়ার মোহ আনন্দ বিনষ্ট হবে সে জন্য অনেকেই ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না, এ জন্য তাকে পরিক্ষা করতে হবে ধৈর্য নামক গূণ দ্বারা।
সে যদি হক (সত্য) কথা বলে আবার ধৈর্য ধারণ করতে না পারে সেও ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ অনেকেই হক কথা বলেন আবার পিছিয়ে যান! ধৈর্য ধারণ করতে পারেন না, তারা ও ক্ষতিগ্রস্ত।
শিক্ষাঃ
০১।সময়ের মূল্যায়ন ও সঠিক ব্যবহার করতে হবে।
০২। মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।
০৩।তাগুতের / বাতিলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না।
০৪।শিরক করা যাবে না, এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে যাতে মনের অজান্তেই শিরক না হয়।
৫।নেক আ'মল সমূহ যথাযথ পালন করতে হবে।
০৬। সত্যের প্রতি আহবান ও সত্যের পথে থাকতে হবে।
০৭। ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
০৮। বিপদে আপদে মহান আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
আমিনুল হক রাহমানী
[তরুন দায়ী ইলাল্লাহ]
চেয়ারম্যান - Bangladesh young Quran birds Council